ইউজার লগইন

একটি উপন্যাসের গল্প

অন্তু অনেক ক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাতের পাশের রেলিঙে হেলান দিয়ে।

সামনে দিয়ে অজস্র লোক আসা যাওয়া করছে কেউ দ্রুত পায়ে কেউ আস্তে ধীরে, ভীড় সামলে । সবারই প্রচন্ড তাড়া, সবারই বাসায় যেতে হবে কিংবা কর্মস্থলে কিংবা যার কোথাও যাবার যায়গা নেই তাকেও হয়তো যেতে হবে নতুন করে বানিয়ে নেয়া ঠিকানায়।

কয়েকটা ভিক্ষুক এই ভীড়ের মধ্যেও হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ বা বসে আছে সামনে থালা পেতে। বসে থাকা ভিক্ষুক টা সুরে সুরে কলেমা পড়ে ভিক্ষা চাইছে । অন্তু দেখছিল তাকে , কি সুন্দর কলেমার ব্যবহার ভিক্ষাতে !!!! হয়তো এতে মানুষের মন গলবে , কিছু টাকা পয়সা পড়বে ওর থালায় !

তখন ভর দুপুর, সূর্য যেন উজাড় করে তাপ ঢালছে ভালোবেসে। সূর্যের ছড়ানো তাপ গিলে খেয়ে নিচের পিচ ঢালা রাস্তা আবার উগড়ে দিচ্ছে উপরে। তাপের ছড়াছড়ি শহর জুড়ে, ছুটে চলা গাড়ীদের বিকট হর্ণের শব্দ খেলা করছে , মানুষের কোলাহল - কোন কিছুই নতুন নয় অন্তুর কাছে তবুও দিনটা আজ নতুনই তাঁর কাছে।

ঘেমে ভিজে যাওয়া মুখ মুছতে মুছতে অন্তু একবার দূরের ওভারব্রীজের দিকে তাকায়। ওভারব্রীজের উপরে গিয়ে বসতে পারলে ভালো হতো , একটু ছায়া পাওয়া যেত সাথে হয়তো হালকা বাতাস। ঢাকা শহরের বাতাসও এখন পুড়ে গেছে, গায়ে লাগলে গরম ছ্যাকা খাওয়া ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। ঘামে পুরো শরীর ভিজে, শরীরের সাথে লেপ্টে আছে তাঁর টি শার্ট টা, কপাল থেকে বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে কানের গোড়া দিয়ে । অন্তু আবার মুছে ঘাম, ওভারব্রীজের দিকে হাঁটতে আরম্ভ করে।

ওভারব্রীজের উপর দিয়ে লোকজন যার যার মত , যার যার প্রয়োজনে যাচ্ছে , পায়ের নিচে দিয়ে দ্রুতযান গুলো ধীরে ধীরে যাচ্ছে জ্যাম পেরিয়ে। শুধু অন্তু চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার দিকে মুখ করে। তার আজ কোন তাড়া নেই , কোন ঠিকানাও নেই।

ঠিকানা তাঁর কোন সময়েই ছিল না। ছোট বেলায় বাবা-মা'র ডিভোর্স , বাবা চলে গেছে ভারতে একেবারেই আর মা'কে নিয়ে গেছে তার বাবা বাড়ীর লোক, সেখানে ওর যাওয়া নিষেধ। বুদ্ধি হবার পর সামনা সামনি কোনদিন দেখেনি সে তার বাবা মা'কে।

অন্তুর বাবা মা আলাদা হয়ে যাবার সময় তাদের যার যার ধর্ম ও সাথে নিয়ে গেছে তারা। তার বাবা ছিল হিন্দু আর মা মুসলমান । মা'র কারনেই হয়তো তার নামের মধ্যে মুসলমান ভাবটা আছে। কিন্তু অন্তু ভালো করেই জানে সে, না হিন্দু না মুসলমান। জীবন যাপনের জন্য ধর্ম টা খুব জরুরী না হলেও কলেজে ভর্তির সময় ধর্মীয় পরিচয় দিতে গিয়ে সেদিন একটু খটকাই লেগেছিল তার।

অন্তু দাদাবাড়ীতে থেকেছে কিছুদিন । তারপর দাদা মারা গেলে এক বোনের বাসায় বড় হয়েছে।যে বোনের বাসায় ছিল এতদিন, সেখানেও আর ঠাঁই নাই আজ থেকে অন্তুর, আর দাদাবাড়ীতেও যাবার উপায় নাই তার।

উপরের দিকে তাকায় সে। মাথার আকাশের উপর বিশাল ছাঁদ । সেই ছাঁদের নিচে কোথাও না কোথাও আশ্রয় তার হবেই কিন্তু এই জীবন কি সে চেয়েছিল? সেকি পৃথিবীতে আসতে চেয়েছিল নিজের ইচ্ছায় ?

প্রতিটা মানুষের জীবন একটা অসম্পূর্ন উপন্যাসের মত । সেই উপন্যাস গ্রন্থের কোন এক পাতায় হয়তো অন্তুর কাহিনী ছোট করে লেখা থাকবে, হয়তো তার পূর্ণাঙ্গ জ়ীবন কিংবা এখনই শেষ করে চাওয়া তার জীবনের কাহিনী।

হয়তো কেউ পড়বে কিংবা কেউ পড়বে না সেই পাতা।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


যেমন, আমার আগে পড়ে গেছে ১১ জন। কোনো মন্তব্য করেনি...। অভাগা অন্তু Sad

সাঈদ's picture


হ আসলেই অভাগা অন্তু Sad

তানবীরা's picture


সাঈদ, ভালো হয়েছে কিন্তু এর পরের পর্ব হতে পারে।

আপনার রম্যগুলোই বেশি ভালো, এতো দুঃখ নিয়ে লিখলে কেমন যেনো আপনাকে অচেনা লাগে। মনে হয় অতীব দুঃখ বুকে ধরে মুখে হাসি নিয়ে ঘুরছেন

সাঈদ's picture


মনে হয় অতীব দুঃখ বুকে ধরে মুখে হাসি নিয়ে ঘুরছেন

কি জানি, সত্য হইতে পারে কথাটা ।

রাসেল আশরাফ's picture


তাতাপু@অহনা কেমন আছে?ওর গল্প পাচ্ছি না কেন?ও কি জানা যাত্রার জন্য তৈরী হচ্ছে বলে পর্বি আসতে দেরী হচ্ছে?

সাহাদাত উদরাজী's picture


চুপচাপ পড়ে গেলাম।

সাঈদ's picture


চুপচাপ পড়লেন কেন ভাই ????

রাসেল আশরাফ's picture


মনে হয় অতীব দুঃখ বুকে ধরে মুখে হাসি নিয়ে ঘুরছেন

কিসের দুঃখ সাঈদ ভাই?????

অন্তুর কাহিনী পড়তে ইচ্ছা করছে।পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দেন।

সাঈদ's picture


পরের পর্ব তো নাই ভাই .। Puzzled

১০

রাসেল আশরাফ's picture


ভাব ধরলেন??????ভাল।ধরেন.।।।

১১

সাঈদ's picture


পরের পর্ব মাথায় নিয়া তো লিখি নাই Sad

১২

জ্যোতি's picture


সাঈদ ভাই, এত দুঃখ কষ্ট রেখে রম্য লেখেন।এইগুলা মনে জমাচ্ছেন কেন?

১৩

সাঈদ's picture


রম্য তো দেই, সবাইও দেয় । সবই থাকুক ব্লগের পাতায়।

১৪

জ্যোতি's picture


ব্লগের পাতায় কি খালি থাকে? এইগুলা তো আপনার মধ্যেও থাকে সবসময়।

১৫

সাঈদ's picture


আমার লেখা দিয়েই না হয় ভরলো কিছু।

১৬

জ্যোতি's picture


সাঈদ ভাই, আমি বলতে চাইছি শুধু তো ব্লগের পাতায় কথাগুলি থাকে না, আপনার মনেও গেড়ে বসে থাকে।

১৭

সাঈদ's picture


নাহ , আমার মন ভালো আছে ।

১৮

চাঙ্কু's picture


শেষ হইয়াও হইল না শেষ । আফসুস।
মানুষের পরিচয়ের ক্ষেত্রে ধর্মটা এখনও কেন ব্যাপক গুরুত্বপূর্ন বুঝি না । Sad

১৯

সাঈদ's picture


সেই , ধর্মটা এখনও বিরাট বাঁধা ।

২০

শাওন৩৫০৪'s picture


শুধু ধর্ম? হাহা, অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে, সবার পরিচয়ে...বেশ একটা পারমুটেশন কম্বিনেশন দিয়া একটা মানুষ অফিসিয়ালি ডিসটিন্কট হৈতে পারে, যতদিন না নিজের কোনো একটা পরিচয় হয়। আবার অল্প কয়জন মানুষেরই তো শুধু নিজস্ব পরিচিতি হয়, বাকীরা পারমুটেশন কম্বিনেশন লাইফ....
দু:খের কিছু নাই। এট্টু ইনহইুম্যান, কিন্তু ভবিতব্য আরকি।

২১

সাঈদ's picture


সেটাই । নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত হবার দিন শেষ।

২২

মুক্ত বয়ান's picture


পরের পর্ব কি আসবে??

২৩

সাঈদ's picture


সেরকম চিন্তা করি নাই এখনও , ভাই।

২৪

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


মাত্রই শুরু হইলো মনে হয়...শেষে আবার যেন একটু জোর করেই শেষ করার চেষ্টা

২৫

সাঈদ's picture


আসলে অনুগল্পের মত করে লেখার চেষ্টা করেছি আর কি ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।