বিশ্বকাপ টুকিটাকি ।
১।
বিশ্বকাপ আরম্ভ হবার বেশ আগে দেখি বেগম রোকেয়া স্মরনীতে কার্পেটিং হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম ওটা বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে। সাথে সাথে পাশের ফুটপাত গুলো ঠিক করা হলো , হকার দের কে সরিয়ে দেয়া হলো । অর্থাৎ বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে মিনিমাম মানদন্ডে জায়গা টা ঠিক ঠাক করলো, আর আমরা তার থেকে আরো নিম্ন অবস্থায় এখানে বসবাস করছি। এই সময়েই দেখলাম বসবাসের অনুপোযোগী শহরের মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয়।
২।
বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ঢাকায় ভিক্ষুক মুক্ত করা হয়েছে। ভিক্ষুক দের উৎপাত সরকারের চোখে পড়ে তাহলে !!! কিন্তু সরকার কিছুই করে না এ ব্যাপারে !!! বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ঢাকার বস্তি গুলো সরিয়ে ফেললে আরো ভালো হত। ঢাকা চকচকে শহরে পরিনত হত।
৩।
ভাবলাম , যাই শহর কি রকম সাজিয়েছে বিশ্বকাপে, দেখে আসি। বের হলাম, দেখলাম। রাস্তার পাশে বিশাল ছবি , রিকশা, ক্রিকেটার দের ছবি , পাখি ময়ুর - ইত্যাদি দেখে বুঝলাম এটা আসলে - ইসলামী ব্যাংক বিশ্বকাপ ক্রিকেট হচ্ছে, আই সি সি ক্রিকেট বিশ্বকাপ না ।
দেশে কি আর কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না ?
৪।
পুরো শহর লাইটিং করেছে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে, দেখতে খারাপ লাগছে না। কিন্তু লাইটিং করার দরকার কি , সেটা বুঝলাম না। রাস্তার ক্ষত গুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা ?
আচ্ছা , কোন বিদেশী এসে যদি গুলশানের কোন হোটেলে উঠে এবং মীরপুরে যেতে চায়, খেলা দেখার জন্য , তখন কোন ট্যাক্সি ক্যাবের খোঁজ করলে, যে সব ট্যাক্সি এসে দাঁড়াবে, ভাঙ্গা চোরা, ময়লা, দূর্গন্ধযুক্ত ক্যাব , তা দেখে বেচারা কি ভাববে ????
৫।
বাংলাদেশ ভারত ম্যাচের টিকেট তুলতে গেলাম । সে এক বিশাল ভয়াবহ অবস্থা। ২ দিন আগে থেকেই লোকজন এসে সিরিয়াল দেয়া শুরু করেছে সেখানে। কেউ জানেনা কি হবে , কিভাবে টিকেট দিবে। সারাদিন চিলে কান নিয়ে গেছের মত চিলের পিছনেই ঘুরলো সবাই। রাত্রে এল আইসিসি থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত এক এড এজেন্সি, টিকেট দেবার বুথ গুলোর সামনে সাইনবোর্ড লাগাতে। উপস্থিত লোকজন তারে ঝাড়ি মেরে দিল তাড়িয়ে ।
৬।
ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ। টসে জিতে সাকিব নিল বোলিং। তাই দেখে স্টেডিয়ামের একজন বিজ্ঞ দর্শক বললো - আসলে ভারত কে জিতিয়ে দেবার জন্য আমাদের সরকার থেকে নির্দেশ আসছে বলেই সাকিব বোলিং নিয়েছে। দর্শকের মন্তব্যে আমি বাক হারা হয়ে গেলাম । এত বুদ্ধি !!!!
৭।
স্টেডিয়ামে বাইরে থেকে খাবার নেয়া নিষেধ ছিল ম্যাচের দিন। ফলে ভিতরে অবস্থিত কে এফ সি তে বিশাল সিরিয়াল। দুপুর ২ টায় অর্ডার দিয়ে খাবার পেলাম সন্ধ্যা ৬/৩০ এ। আর ২ লিটার পেপসির দাম ছিলো - ২২০ টাকা, ২ লিটার পানি ১০০ টাকা।
৮।
খেলা দেখে বের হয়ে দেখি স্টেডিয়াম ক্যাম্পাসে আর্মির ২ টা ট্যাঙ্ক নিয়ে রেডি হয়ে আছে আর্মির লোকজন। তাই দেখে এক বন্ধু বললো - দেখছস, মশা মারতে কামান আনছে।
৯।
ভিতরে সিগারেট নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। তাই জুতার ভিতরে করে নিয়ে গিয়েছিলাম সিগারেটের প্যাকেট। আমার শরীরের ভারে তা পুরো চ্যাপ্টা। তাই-ই টানলাম স্টেডিয়ামের ব্যালকনি তে। ২০ টাকা দিয়ে একটা গোল্ডলিফ কেনার থেকে তো অনেক ভালো !!!





খেলা দেখতে গেছেন আন্তর্জাতিক মানের আর আন্তর্জাতিক হারে জিনিষের দাম দিবেন না সেইটা কি ঠিক? ঐখানে সবকিছুর রেইট ঠিক করা হইছে ডলার অনুপাতে...ভাগ্য ভালো ডলার লইয়া যাইতে কয় নাই...
টিকেট কাটা ত যেন ছিল ভিসা পাওয়ার মতই অবস্থা।
আল্লাহ বাচাইছে ডলার নিতে কয় নাই।
ছবিটা ফাটাফাটি তুলছ। নীচের ডানপাশের ক্রিকেটারের মূর্তিটা পুরা আসলে কম্লিট হত।
ঠিক করে দিলাম, ঐ মূর্তি সহই তুলেছিলাম, এখানে আপলোডানোর সময় সাইজ টা ঠিক করি নাই। দুঃখিত আছি।
বাংলাদেশ তারপরও একটা কিছুর আয়োজন করছে, এই বা কম কি? ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসনের পাকাপাকি ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশের জনবান্ধব মানসিকতাও দীর্ঘমেয়াদি হোক। সাঈদ ভাইএর পোস্ট বিরতিগুলো স্বল্পমেয়াদী হোক।
সেটাই কিন্তু ইসলামিক ব্যাংক এর এরকম বিজ্ঞাপণ খুবই দৃষ্টিকটূ লেগেছে ।
কিন্তু বাংলাদেশ যে সুন্দর আয়োজন করতে পারছে, ভেন্যু গুলো বাদ হয় নাই - সেটা বড় পাওনা।
আমাদের সরকার পয়সা ওয়ালা হইলে এরা এই কাজ করতে পারতো না।
সরকারের পয়সা থাকবো না কোনদিন কিন্তু তাই বলে দেশে আর কারো পয়সা আছিলো না ????
আর কোন ব্যাংক আছিলো না ? সরকার এদের এপ্রুভ করে ক্যামনে ????
এদের কমিশনের অঙ্ক বড় ছিলো মনে হয়
ছবিটা আপনার তোলা! ম্রাত্মক!
সন্দ না ভ্রাত, মনে হয় আমি কেনু এমন ছবি তুলতে পারিনা
ছবিটা আসলেই সুন্দর ।
সবাই ছবি দেয় আর বাহবা পায়। আমি না হয় ছবি তুলতে পারি না, তাই বইলা কি সাধ-আহলাদ নাই। আমিও একটা ছবি দিলাম।

আগেই বলছি, আমার পছন্দ ওপেন পিঠ। আর এর সঙ্গে যুক্ত যদি হয় ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট?
মাসুম ভাইয়ের চয়েজে পছন্দ আছে
মাসুম ভাই আর কিছু ওপেন হয় না ???
নাউজুবিল্লাহ মিন....
তবে ছবিটা সুন্দর আছে। আর্টিস্টিক।
লাইটিং করার দরকার কি , সেটা বুঝলাম না।
ছবি নিয়া সন্দু আছে।নিজে তুলছেন?সত্য?তাইলে আপনি ছবি তুলার প্রোগ্রামে পলাইয়া থাকেন কেন?
হ ঘাড়ে ব্যাথা আমার হইছিলো
আপনের তো ক-ত কিছু হয়!হইতেই থাকে।
কাল আইসেন খেলা দেখতে সবাইরে নিয়া।
গেলে কি খাওয়াইবেন ? আমার আবার এক জায়গায় দাওয়াত আছে , দুপুর, রাত , পরদিন সকালের খাওন সহ খেলা দেখার ব্যবস্থা।
এইটা ছাইড়া কি যাইতে পারুম !!!!
দুপুরে খাইয়া বিকালে আসবেন লুকজনরে নিয়া।তারপর রাতে গিয়া আবার খাবেন। ওকিজ?
একজন নিজে হাতে বানানো কাবাব খাওয়াইপে কইছে।
কন কি এইডাও তো মিস করন যায়না তৈলে ।
যারা যারা কালকে খেলা দেখতে যাবেন, আমাকে হাই করবেন টিভি ক্যামের সামনে
ছবি সুন্দর হইছে ফটুগফফর ভাই
আপনার বর্ননা ভাল লেগেছে।
ভাগ্য ভালো আর বেশী গবেষণা করেন নাই!
(মাসুম ভাইয়ের দেয়া ছবিটা জাক্কাস হয়েছে। কিন্তু মেয়েটার মাথার অক্টোপাস কেন!)
সবই কপাল
দেশের মাটিতে খেলা, স্টেডিয়ামে যাইতে পারলাম না! ২১" লার্জ(!) স্ক্রীনেই খেলা দেখতাছি
মন্তব্য করুন