হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ - ১
১
মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, কিন্তু আসলে গাধাকেই পছন্দ করে।
২
পুঁজিবাদের আল্লার নাম টাকা, মসজিদের নাম ব্যাংক।
৩
সুন্দর মনের থেকে সুন্দর শরীর অনেক আকর্ষণীয়। কিন্তু ভণ্ডরা বলেন উল্টো কথা।
৪
হিন্দুরা মূর্তিপূজারী; মুসলমানেরা ভাবমূর্তিপূজারী। মূর্তিপূজা নির্বুদ্ধিতা; আর ভাবমূর্তিপূজা ভয়াবহ।
৫
শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে। শামসুর রাহমান বোঝেন না কার সঙ্গে পর্দায়, আর কার সঙ্গে শয্যায় যেতে হয়।
৬
আগে কারো সাথে পরিচয় হ’লে জানতে ইচ্ছে হতো সে কী পাশ? এখন কারো সাথে দেখা হ’লে জানতে ইচ্ছে হয় সে কী ফেল?
৭
শ্রদ্ধা হচ্ছে শক্তিমান কারো সাহায্যে স্বার্থোদ্ধারের বিনিময়ে পরিশোধিত পারিশ্রমিক।
৮
আজকাল আমার সাথে কেউ একমত হ’লে নিজের সম্বন্ধে গভীর সন্দেহ জাগে। মনে হয় আমি সম্ভবত সত্যভ্রষ্ট হয়েছি, বা নিম্নমাঝারি হয়ে গেছি।
৯
‘মিনিষ্টার’ শব্দের মূল অর্থ ভৃত্য। বাঙলাদেশের মন্ত্রীদের দেখে শব্দটির মূল অর্থই মনে পড়ে।
১০
আগে কাননবালারা আসতো পতিতালয় থেকে, এখন আসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
১১
জনপ্রিয়তা হচ্ছে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। অনেকেই আজকাল জনপ্রিয়তার পথে নেমে যাচ্ছে।
১২
উন্নতি হচ্ছে ওপরের দিকে পতন। অনেকেরেই আজকাল ওপরের দিকে পতন ঘটছে।
১৩
ব্যর্থরাই প্রকৃত মানুষ, সফলেরা শয়তান।
১৪
আমাদের অঞ্চলে সৌন্দর্য অশ্লীল, অসৌন্দর্য শ্লীল। রুপসীর একটু নগ্নবাহু দেখে ওরা হৈ চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখিরিনির উলঙ্গ দেহ দেখে ওরা একটুও বিচলিত হয় না।
১৫
পরমাত্মীয়ের মৃত্যুর শোকের মধ্যেও মানুষ কিছুটা সুখ বোধ করে যে সে নিজে বেঁচে আছে।
১৬
একটি স্থাপত্যকর্ম সম্পর্কেই আমার কোনো আপত্তি নেই, তার কোনো সংস্কারও আমি অনুমোদন করি না। স্থাপত্যকর্মটি হচ্ছে নারীদেহ।
১৭
প্রতিটি দগ্ধ গ্রন্থ সভ্যতাকে নতুন আলো দেয়।
১৮
বাঙলার প্রধান ও গৌণ লেখকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রধানেরা পশ্চিম থেকে প্রচুর ঋণ করেন, আর গৌণরা আবর্তিত হন নিজেদের মৌলিক মূর্খতার মধ্যে।
১৯
মহামতি সলোমনের নাকি তিন শো পত্নী, আর সাত হাজার উপপত্নী ছিলো। আমার মাত্র একটি পত্নী। তবু সলোমনের চরিত্র সম্পর্কে কারো কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু আমার চরিত্র নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
২০
বাঙালি মুসলমানের এক গোত্র মনে করে নজরুলই পৃথিবীর একমাত্র ও শেষ কবি। আদের আর কোনো কবির দরকার নেই।
(সংগৃহিত)





অসংখ্যবার পড়েছি কিন্তু যতবার পড়ি মজা পাই।
চন্চল আশরাফের লেখা- 'আমার হুমায়ুন আজাদ' পড়ে দেইখেন, চরম একটা বই।
মডু আইলো বলে!!!
তাড়াতাড়ি নিজের কিছু কথা জোড়া দিয়ে দেন এই যেমন শামসুর রাহমান কোন নায়িকার সাথে টিভিতে দেখা গেছিলো এই সব আর ্কী।
এই লেখাটা অন্য ব্লগে প্রকাশিত হলে এখানে প্রকাশিত হতে পারবে না জনিত নীতিমালায় পড়েনা। কোনো বই থেকে এমন ধরণের লেখা আসতেই পারে। এটা কপিপেস্ট এর নীতিমালায়ও পড়েনা।
এটা কোন কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশিত নয় । বই থেকে উদ্ধৃত ।
তারমানে আমি কোন বই থেকে পুরা কপি করে এখানে পেস্ট করে পোস্ট দিতে পারবো!!! ভালোই তো। আমি তাইলে ভুল বুঝেছিলাম।

এই লেখার কন্টেন্ট একটু খেয়াল করো, ট্রেডিশনাল কোনো লেখা নয় এটি। অন্য বই থেকে হুবহু তুলে দেয়া আর হুমায়ুন আজাদের প্রবচন তুলে দেয়া এক অর্থ বহন করে না। দার্শনিক এই উক্তিগুলো বহুল পঠন দাবী করে। এর কিছু কিছুতো রীতিমত রোমহর্ষক। সাঈদ, বই এর কয়েকটি প্রবচন বাছাই করে তুলে দিয়েছে- পড়ে কিন্তু ভালোই লাগছে রাসেল। উদরাজী ভাই থাকলে বলতেন- মজা লুটো
আমি নিজেও মজা লুটেছি লীনাদি।
আমার কাছে মনে হয়েছে এই প্রবাদ প্রবচন গুলো নিয়ে একটু আলাপ আলোচনা করলে ভালো হতো সেই কারনে বলা।আমার প্রথম কমেন্টে সেটা বলেছিও।
সাঈদ আলোচনা করে নাই তো কি হৈছে, আসো আমরা আলোচনা করি-
এইটা নিয়া তোমার অভিমত কী?
আপনে শুরু করেন।আমি আসতেছি।আর নাম্বার ধরে ধরে শুরু করেন পরে সাঈদ ভাইরে বল্বো সেইগুলো পোস্টে এড করে দিতে কী কন??

আজকাল আমার সাথে কেউ একমত হ’লে নিজের সম্বন্ধে গভীর সন্দেহ জাগে। মনে হয় আমি সম্ভবত সত্যভ্রষ্ট হয়েছি, বা নিম্নমাঝারি হয়ে গেছি।
আজকাল তো কেউ কোনো ইস্যুতে একমত হয় না। জামাই-বৌ, মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব সব সারাদিন লাঠালাঠি করে
কঠিন বাস্তবতায় নিজের উপর থেকেও আত্মবিশ্বাস উঠে গিয়েছে।
এটা বইয়ে যেমন আছে তেমনি কিছু কমিউনিটি ব্লগেও প্রকাশিত । হু আ এর লেখা আমার অনেক প্রিয় একটা সংকলন । বার বার পড়ি । তবে কপি পেস্ট আমারো পছন্দ নয় । দয়া করে এগুলোর তাত্পর্য নিয়ে ভেবে দেখবেন । একেবারে হুবহু না তুলে দিয়ে এ থেকে আপনার অভিমত নিয়ে ও লিখতে পারতেন ।
আমি অবশ্য কোন কমিউনিটি ব্লগে দেখি নাই। লিঙ্ক টা কি দেয়া যাবে ?
ই লেখা গুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রবন্ধে তাঁর উক্তি হিসাবে এসেছে , সেটাকেই সংকলিত আকারে দিয়েছি এখানে।
মেয়েরা সাধারণত মেধাবী, চৌকস ছেলের সাথে প্রেম করে, বিয়ে করে বেকুব টাইপ কাউরেই
ছেলেরা মেধাবী, রুচিশীল মেয়েদের সাথে প্রেম করে, বিয়ে করে, 'সহজ সরল', বড়লোকের কন্যা আর ড্যাশিং সুন্দরীদের
তাদের লেখাপড়া না করলেও সমস্যা নাই, ঘরকন্যা জানলেই চলবে।
"তাদের লেখাপড়া না করলেও সমস্যা নাই, ঘরকন্যা জানলেই চলবে"-- বরং লেখা পড়া না জানলেই ভাল। "ড্যাশিং সুন্দরীর" ঘরোয়া আর নামাজী হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সত্য কথাই বলেছেন লীনা আপু ।
জীবন থেকে নেয়া।
আগে কারো সাথে পরিচয় হ’লে জানতে ইচ্ছে হতো সে কী পাশ? এখন কারো সাথে দেখা হ’লে জানতে ইচ্ছে হয় সে কী ফেল?
সবাই যে ভাবে বি এ , এম এ , এম বি এ , সি এ আরো নানা পাশ দিতেছে চাকরীর লাইগা ।
মনীষীরাও কতো নিম্ন ক্ষুদ্র হতে পারেন, তার প্রমান এই লাইনটুকু, ছিঃ
তাঁরাও তো মানুষ, মহামানব না ।
সেটাই তাঁরা বারবার প্রমান করেন
একটা ছোট বই আছে এইটা নিয়ে।কিনে হারিয়ে ফেলছি কিন্তু আবার পড়ে মুখস্ত করে নিলাম!
গুড জব।
মন্তব্য করুন