দূরের মানুষ - কাছের মানুষ [গল্প - ৪র্থ পর্ব]
- আজ ১৪ মিনিট দেরী , কালকের থেকে।
- বাহ! সময়ের হিসাব রাখেন দেখি। অপেক্ষায় থাকেন এই সময়ের ?
- ঠিক অপেক্ষা না , আবার অপেক্ষা বলতে পারেন। সংসারের কাজ সেরে এই সময়টুকু এমনিতেই অলস সময় কাটে বিশ্রামে। সেই সময় টুকু একজনের সাথে কথা বলে একাকীত্ব কাটাই, কথা বলে। নিজের সাথেই নিজে কথা বলি , আপনার সময়টুকু নষ্ট হয় মাঝে।
- খুব হতাশ মনে হয়। আপনার স্বামী-সন্তান নিয়ে তো মনে হয় সুখে আছেন, ভালো আছেন।
- সুখ !!! বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে শাহানা ফোনের এপাশ থেকে। ভালো আছি হয়তো, যদি ধরেন তিন বেলা খেতে পাওয়া , প্রয়োজনে টাকার অভাব না থাকা - এইসব নিয়ে ভালো আছি। কিন্তু সুখ যে আসলে কোথায় সেইটাই ধরতে পারলাম না ।
- সুখ টা মনে। মনে মনে ধরে নিন সুখে আছেন, তাহলে সুখে থাকবেন ।
- মনে মনে ধরলেই সুখ হয়ে যায় ? আপনি কি পারবেন ধরে নিয়ে সুখী হতে ? এই আরোপিত সুখ বয়ে নিয়ে কতদিন চলতে পারবেন ? বাদ দেন , আপনার কথা বলেন। বিয়ের ব্যাপারে কতটুকু অগ্রগতি হল ?
- আরোপিত সুখ !! ভালো বলেছেন তো। আর বিয়ে !! বুলে আবিদ কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে। সে কাউকে বলতে পারেনা কেন বিয়ের প্রতি তার বিতৃষ্ণা জন্মেছে। এখানেও সে বলতে চায়না সে কথা। "ভাগ্যে থাকলে হবে বিয়ে।"- খানিকটা ঠাট্টাচ্ছলে আবিদ বলে।
- শুনেন , ঠাট্টা করেই যতই এড়িয়ে যাননা কেন , কোন কিছু আছে , যা চেপে যেতে চাইছেন।
- তেমন কিছুই না , আরেকদিন বলবো।
- ঠিক আছে। আজ তাহলে রাখি। আপনি অফিসের কাজ করেন।
- এত জলদি রাখবেন যে আজ। ঠিক আছে , কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। পরে কথা হবে।
- আসলে খুব ক্লান্ত লাগছে, বুয়া আসেনাই আজ, সব কাজ শেষ করতে হয়েছে একার হাতে তাই আর কি। কাল কথা হবে।
- ওকে , রাখি তাহলে । ভালো থাকেন।
বলে আবিদ ফোন টা রেখে দেয়। কাঁচের দেয়াল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে মানুষগুলোর ছায়া তার স্বপেন্র মতই কয়েকগুন লম্বা হয়েছে বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের আলোয়। একটু পর জীবনের মত ধূসর হয়ে গোধূলী নামবে।
আবিদ হাতের কাজ গুলো শেষ করে অফিসে একা বসে।
অফিস শেষ হবে , ক্লান্ত পাখির মত বাসায় ফিরবে সে।
কাজ শেষ করে চুপ করে বসে থাকে, বাসায় ফিরতে হবে, নিচে ড্রাইভার অপেক্ষা করছে, বাইরে পিওন ছেলেটা হয়তো অপেক্ষা করছে, তার বের হবার জন্য, তারাও বাসায় ফিরবে । হঠাৎ করেই তার মনে হয় কেন সে বাসায় ফিরছে ? এটা তোর আপন বাসা না। বানিয়ে নেয়া বাবা-মা'র বানানো বাসাই আজ তার কাছে পরম সত্য। শাহানার কথা মনে পড়ে - আরোপিত সুখ। আসলেই তো আমরা আরোপিত সুখ নিয়ে বসবাস করি।
আবিদ আস্তে আস্তে বের হয় তার রুম থেকে। অফিস পুরা ফাঁকা পড়ে আছে , সবাই চলে গেছে কাজ সেরে, শুধু পিওন ছেলেটা বসে আছে। ছেলেটার এক হাত নেই, ভিক্ষা করতো রাস্তায়, তাকে ধরে এনে এই চাকরিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে সে। সেই খুশীতে ছেলের বাবা এসে আবিদের পায়ে এমনভাবে পড়েছিল তার পরের দিন যেন সে মানুষ না , দেবতা। দেবতা হবার কোন ইচ্ছা নাই তার।
ছেলেটিও কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আবিদ বের না হওয়া পর্যন্ত অফিস ছেড়ে যায়না।
কৃতজ্ঞতা না ভালোবাসা , ঠিক কখনও খেয়াল করে নাই সে।
আজও যথারীতি খেয়াল না করেই সে বের হয়ে রওনা দেয় বাসার অভিমুখে।





আরো একটু বড় দিয়েন। টেনশনে থাকলাম কি হয় পরের পর্বে জানার জন্য।
বড় তো দেয়া যাবেনা, ওস্তাদের মানা আছে।
এই পর্বটা পড়ে আমার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল।
দাদা , শেয়ার করার যোগ্য হইলে দিয়া দেন।
আসলেই তো আমরা আরোপিত সুখ নিয়ে বসবাস করি।
সেটাই
সেটাই ভাই।
আরোপিত সুখ !!

কথাটা পছন কর্লাম
আবিদ বিয়া শাদী করেনা কে? বিস্তারিত জানতে চাই
চলুক
আবিদ বিয়া করে না কেন , শীঘ্রই জানতে পারবা।
তাড়াতাড়ি পরের পর্ব দেন সাঈদভাই
।ইনশাল্লাহ দিব।
পরের পর্ব কই
যন্ত্র ও চাকুরী নিয়া দৌড়ের উপরে আছি বলে পরের পর্ব দিতে দেরী হইতেছে।
পড়ে যাচ্ছি।
আমি ধইন্যা।
মন্তব্য করুন