ইউজার লগইন

গল্প কিংবা ......

ভিষন ভীড়ের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে কোন মতে জামা দেখে বের হয়ে এসেছে রীনা। কয়েকটা দোকান দেখে শেষ পর্যন্ত একটা জামা পছন্দ হোল তার। সব দোকানে গিয়ে দেখে সেলসম্যানরাও বেশ আনন্দ সহকারে ব্যস্ততার উপভোগ করছে । আশে পাশে ভীড় উপচে পড়ছে যেন। কেমন একটা উৎসব উৎসব ভাব চারিদিকে। প্রকৃতিও সেরকম - ঠান্ডাও না এখন , আবার গরম ও না। যে কোন উপ্লক্ষ্যেই এখন সবাই নতুন জামা কিনে , রীনাও তাই কিনতে বের হয়েছে।

বেলা গড়ে দুপুর , রোদের ঝাঁঝ টা একটু বাড়ছে রাস্তায় , তাও রিকশায় বসে দখিনা বাতাসে হুট ফেলে ওড়নার আঁচল উড়িয়ে যেতে ভালোই লাগছে রীনার। পাশে মুখ গম্ভীর করে মা বসে আছে। ঘুরাঘুরি করে ক্লান্ত তার উপর রিকশার হুট না তুলে যেতে হচ্ছে মেয়ের জন্য। গরমে আর রাগে লাল হয়ে আছে তার ফর্সা মুখটা।

মিরপুর রোদ ধরে বেশ কয়েকটা বুটিকের দোকান , সেখানেই সকাল থেকে ঘুরাঘুরি এখন মোহাম্মদপুরে বাসায় ফিরছে মা-মেয়ে। সাত মসজিদ রোডে ঢুকতেই দেখে প্রচুর জ্যাম, পুরা রাস্তাই যেন আটকে আছে। কোন নড়াচড়া নাই গাড়ীর। মাঝে মাঝে অযথাই গাড়ী গুলো বিকট হর্ন বাজাচ্ছে। রীনার চেহারা মধ্যে একটু হতাশা চলে আসে জ্যাম দেখে। ভাবছিল তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়েই বিকালে আবার বের হবে বন্ধুদের সাথে বই মেলায়। এরকম জ্যাম থাকলে কতক্ষনে পৌছাবে কে জানে !!!

রিকশাওয়ালাও চুপ করে বসে আছে সবার মত । মাথা দিয়ে দর দর করে ঘাম পড়ছে তার। কোমরে বাঁধা গামছা দিয়ে সেই ঘাম মুছে আবার কোমরে বেঁধে রাখে গামছা টা।

খানিক পরে জ্যাম ছুটে । হর্ন বাজিয়ে, রিকশার বেল বাজিয়ে উল্লাস করতে করতে ছুটে রাস্তার গাড়ী-রিকশা গুলো। রীনারাও বাসায় পৌছে নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক পর, হাতে বর্ণমালা আঁকা জামার প্যাকেট। রীনাও আর সবার মত চেতনার উৎসবে উজ্জিবিত হয়ে জামা কেনে ।

****************

রীনা আর তার বান্ধবীরা এসেছে বই মেলায়। বই মেলায় আসতেই কেমন উৎসবের ঘ্রান পায় চারিদিকে। টিএসসি তে বিশাল জটলা , আড্ডা চলছে। একদল ছেলে ঢোল, মন্দিরা, গিটার দিয়ে গান ধরেছে সেখানে। তাদের ঘিরে গান প্রিয় লোকদের জটলা। আশে পাশের সবাই গলা মিলাচ্ছে তাদের সাথে। টিএসসি কি হাতের ডান পাশে রেখে এগুলেই নানান জিনিসের পশরা নিয়ে রাস্তার মধ্যে দোকানীরা। সাথে ইন্ডিয়ান বইয়ের বাংলাদেশী ছাপাখানায় ছাপানো বইয়ের দোকান রাস্তায়। এটাও মনে হয় বই মেলার অংশ। রীনা প্রায় প্রতিদিনই খবরে বইমেলার খবরটুকু দেখে, গতকালও দেখছিল তখন এক চ্যানেলের রিপোর্টার বলছিল - বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসবের মাস - ফেব্রুয়ারী ...... ইত্যাদি ইত্যাদি। খবরে অবশ্য মেলার বাইরের এইসব দোকানের খবর তো আর দেখায় না , তাই বুঝতে পারেনি বাইরে এত কিছু নিয়ে বসেছে দোকানীরা। এইসব দেখে ভাবে যে দরকার হলে বই না কিনে এইখান থেকে টুকিটাকি কিছু কিনবে ।

মেলায় প্রচুর মানুষ , যত না বই কিনছে তার চেয়ে আড্ডাই জমছে বেশী। এক পাশে গান চলছে । মন্টাই ভালো হয়ে রীনার । আগে কেন আসলো না মেলায় আফসোস করতে করতে মেলায় ঘুরে , বই এর পাতা নেড়ে নেড়ে দেখে। ২/১ টা বই কিনে নিয়ে বের হয় মেলা থেকে। বের হবার সময় বাইরে থেকে আরো কিছু জিনিস-পাতি কিনে বান্ধবীরা মিলেই রওনা দেয় বাড়ীর উদ্দেশ্যে।

*************

শিহাব গভীর রাতে বাড়ী ফিরছে কয়দিন । আগে এরকম দেরী করে বাড়ী ফিরলে বাবা অবশ্য বকা ঝকা করতেন , এখন করেন না। জানেন যে ছেলে একুশে উপলক্ষ্যে শহীদ মিনারের সামনে আলপনা আঁকছে , দেয়ালে নানান লিখা লিখছে। শিহাবের বাবা উৎসাহ দেন ছেলেকে এইসব কাজে সব সময়। দেশের জন্য কাজ করছে ছেলে ভাবতেই বুক ভরে যায় তাঁর। তিনিও নিয়ম করে প্রভাত ফেরী তে যান প্রতিবছর।

শিহাবের বাবার এক বন্ধু ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক ছিলেন। প্রতি বছর এই ফেব্রুয়ারী এলেই তার ডাক পড়ে, তোড় জোড় শুরু হয় অথচ সারা বছর তাঁর কেমন কাটে খবর রাখারও প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর কতগুলো কাজ আটকে আছে ঘুষ দিচ্ছে না বলে , সরকারের উচু পর্যায়ে আবেদন করেও কাজ হচ্ছে না, সরকারী কর্মকর্তার কাছে তার সেই পরিচয়ের কোন মূল্য নাই । অথচ সরকারই আবার তাকে আমন্ত্রন পত্র পাঠায় প্রতি বছর একুশের অনুষ্ঠানে - আফসোস করে বলছিলেন সেদিন তিনি।

শিহাব আর্ট কলেজে ভর্তি হয়েছে গত বছর। নিয়ম করেই আর্ট কলেজের ছেলেরা ২১শে' উপলক্ষ্যে আলপনা আঁকে শহীদ মিনারে , দেয়ালে নানান লেখে লিখে ফুটিয়ে তোলা বাংলা ভাষার গুনগান। বেশ কয়দিন ফূর্তিতে কাটে এই কয়দিন। কেমন নৈশ কালীন পিকনিক পিকনিক ভাব আছে কাজের মধ্যে। সাথে চলতে থাকে বিরামহীন ধূমপান আর মাঝে মাঝে কল্কে তে বিশাল টান নিয়ে "দম" নেয়া। গুন গুন করে হিন্দি গানের গাইতে গাইতে চারুকলার ছেলে-মেয়েরা আলপনা আঁকে ভাষা শহীদদের মিনারে।

শিহাব তার কলেজের সামনের ফুল দোকানে বলে রেখেছে আগে ভাগেই তোড়া একটা আলাদা করে রাখার জন্য। এখন আবার আগে ভাগে অর্ডার না দিলে পাওয়া যায়না , আবার ব্যবসায়ীরাও টু-পাইস কামানোর ধান্ধায় থাকে এই উপলক্ষ্যে। সব খানেই কেমন ফূর্তির আবহ।

****************

কোন এক কালে কয়েকটা "বোকা ছেলের বোকামীর" কারনেই ফেব্রুয়ারী মসে উৎসবের উপলক্ষ্য দেশের পেয়েছে সবাই। সেটাই প্রানভরে উপভোগ করছে সবাই এখন।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মুক্ত বয়ান's picture


উপ্লক্ষ্যে

কঠিন বানান হইছে!!! Tongue out

সাঈদ's picture


Sad বানান্ডাই চৌক্ষ্যে পড়লো ...

নাহীদ Hossain's picture


সবকিছু দেইখা তো সেইরকমই মনে হইতেছে......হায়রে ভাষা।
খুব ভাল লেখা হইছে।

সাঈদ's picture


তোরে ধইন্যাপাতা ।

টুটুল's picture


হুমম

সাঈদ's picture


হুমমমমম...

শাওন৩৫০৪'s picture


....তারপরও আপনে খুব মোলায়েম ভাষায় লেখহছেন..

২১'র দিন আমাদের এইখানে এক মজা হৈছে...ছেলেপেলে চাঁদা তুইলা, শহীদ-মিনার বানাইয়া দিয়া, প্লেয়ারে হিন্দি গান ছাইড়া মজা নিতাছিলো...আমি অবশ্য বুঝিনাই, ঐ কাজটা তারা আশাপাশের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যই করতাছিলো, নাকি এতদিনের এতকথার পরও, লাউ এখনো কদুই রৈয়া গেছে?? ..

সাঈদ's picture


আমরা আসলেই এইটাকে আনন্দ উৎসবের উপলক্ষ্য বানায়ে ফেলেছি ভাই।

নরাধম's picture


 

 হুমমম......।

১০

সাঈদ's picture


হুমমমমমম...

১১

জ্যোতি's picture


হুমমম......।

১২

সাঈদ's picture


আরো বড় হুমম।

১৩

তানবীরা's picture


মানুষকে দোষ দেই না। নিজের মেয়েকে ঠিক করে বাংলা শিখাতে পারছি না, পুরো বিদেশি উচ্চারনে বাংলা বলে যায়। ব্যর্থতো বটেই

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।