ইজতেমার বয়ান ও বেয়ান
[আগামী বছর থেকে নাকি ইজতেমা ২ বার হবে । একটু চিন্তায় আছি, আখেরী মোনাজাত কি ২ বার হবে নাকি?? যাই হোক , একটা ইজতেমা নিয়ে স্মৃতি আমরা বন্ধু জন্য দিলাম, আগেও প্রকাশ করেছিলাম অন্য ব্লগে। ]
আমাদের বাড়ীর কাছে এক ভাবী থাকতেন। খুবই আড্ডাবাজ ধরনের আর হাসতে পারতেন যেমন, হাসাতেও পারতেন। মাঝে মাঝে বাসায় এসে বড় বোনের সাথে গল্প করতেন। একবার ইজতেমা শেষ হবার বেশ কয়েকদিন পর এলেন বাসায়। সেবার ইজতেমায় ঐ ভাবির মা ও শ্বাশুড়ী গেছিল বয়ান শুনতে। ইজতেমার পাশেই তার কোন এক আত্মীয়র বাসায় উঠছিল, সেখান থেকেই নাকি বয়ান শুনছে। আখেরি মোনাজাতের পর দুই বেয়ান বাড়ী এসে ভাবির ওখানে উঠলেন। ইজতেমা থেকে আসার পরদিন ঐ ভাবীর সাহেবের কাপড় চোপড় ধুয়ে দেয়া হয়েছিল। সেখানে তার আন্ডারওয়্যার ও ছিল কয়েকটা । কাপড় শোকানোর পর তুলতে গিয়ে দেখে ২ টা আন্ডারওয়্যার নাই। নাই তো নাই। কোথাও নাই। সারা বাড়ীতে খোঁজা হল , কোথাও নাই। না পেয়ে কয়দিন পর আন্ডারওয়্যার এর কথা ভুলে গেল বাড়ীর সবাই। আর ভাবীর মা কয়দিন পর তার দেশের বাড়ী চলে গেল। ভাবীর শ্বাশুড়ী ভাবীদের সাথেই থাকতেন। তিনি রয়ে গেলেন ছেলের বাড়িতেই।
কিছুদিন পর ভাবী দেখেন যে তার শ্বাশুড়ী গোছল করে কাপড় নেড়ে দেবার সময় তার স্বামীর ঐ হারানো আন্ডারওয়্যার দুইটার একটা নেড়ে দিচ্ছে। ভাবী দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞাস করলেন শ্বাশুড়ী কে - এই আন্ডাওয়্যার কই পেলেন ?
তার শ্বাশুড়ী যা উত্তর দিল তা হল , ইজতেমার বয়ানে কোন এক হুজুর বলেছেন , মেয়েদের ও আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করা উচিৎ । তাই শুনে তারা তা ব্যবহার করবেন ঠিক করেন কিন্তু বাসায় এসে তারা লজ্জায় কাউকে না বলতে পেরে তার ছেলের আন্ডারওয়্যার চুরি করেছে।সেদিন যখন আন্ডারওয়্যার নেড়ে দেয়া হয়েছিল সেখান থেকে ২ টা আন্ডারওয়্যার চুরি করে ২ জন বেয়ান নিয়ে নিয়েছে।





বুঝতেছিনা ইজতেমা বিষয়ক পোস্টের টপিক ঘুরায় সাইড-টপিকে নেয়া ঠিক হবে কিনা...
আচ্ছা মনে যখন উঠছে বইলাই ফেলি। এক বাসায় বেড়াইতে গেছি নানীরে নিয়া, সে বেজায় রসিক। ফ্ল্যাটের বারান্দায় দড়িতে কাপড়চোপড় শুকাতে দেয়া, সেইখানে পুরুষের আন্ডারওয়্যারটির সাইজ ব্যাপক। নানী সেইটা দেখায়া বলে, "কোন্ ফুটা মাজা'র আর কোন্ ফুটা ঠ্যাঙের, এই ব্যাডা ক্যাম্নে বুঝে?"
পোষ্ট থেইকা কমেন্ট উমদা।
...হাসতে হাসতে মৈরা গেলাম...
হাঃহাঃহাঃ গল্প উমদা হৈছে মাগার শানে নুযুল বুঝি নাই।
মিসাইলাম্নি
শানে নুযুল নাই, গল্প না, সত্য ঘটনা ।
হা হা হা হা হা হা... ব্যাপক হইছে
মজা পাইলাম
হুমায়ুন ফরিদীর কমান্ডার ছিনেমায় আন্দুচোরার নাম শুনছি....এই মাত্র আন্ডু চুরার নাম শুনছি....
আন্ডু চোরা - ভালই নাম দিছেন।
ব্যাপক মজার
লেখাটা সাঈদভাই হাল্কা টোনেই লিখেছেন, সবাই মজা পাচ্ছে, আমারও নির্মল আনন্দের একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। কিন্তু সবকিছুর পরও মন থেকে একটা খোঁচা যাচ্ছে না।
আমাদের দেশে সাধারণ মহিলাদের, বিশেষ করে বয়স্কদের, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ন্যূনতম ক্ষমতাটুকু আছে কিনা (অথবা, সামাজিক বা পারিবারিক ব্যবস্থা তাকে সেটা দিয়েছে কিনা) এই ঘটনাটি তার প্রমাণ। একান্ত নিজস্ব পরিধেয় বিষয়ে তাকে জ্ঞান পেতে হয় পুরুষ হুজুরের কাছ থেকে। আর সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর জন্য সামান্য দুএকটা কথা বিনিময়ের সঙ্গী তার নেই। কী করুণ এই অসহায়ত্ব, কী বীভৎস এই নিঃসঙ্গতা!
দিলেন তো হাই থট ঢুকাইয়া । ধুর , কিচ্ছু ভালা লাগেনা।
সরি সাঈদভাই...
ঠাট্টা তো করেছিই, তারপরও মনের মধ্যে খোঁচা দিচ্ছিলো তো...
সরি হবার কিছু নেই আপু , বিষয় টা নির্মম বাস্তব , তাই বয়স্ক লোকরা সামএন যারে পায় তারেই বলা শুরু করে - সেই ১৯৫৬ সালে , তখন আমি ক্লাস ফাইভ কি সিক্সে ...
হাহাপগে।
তবে নুশেরাপুর উল্লেখিত অসহায়ত্বও ঠিক। শিক্ষার অভাবের জন্যই কি? আমার তো তাই মনে হয়।
অফটপিক: ইজতেমায় মহিলাদেরকে "আন্ডারউইয়ার" পড়তে বলার কোনই সম্ভাবনা নেই!! ওখানে এসব বিষয় আসার প্রশ্নই নেই। মনে হয় ভদ্রমহিলা ভুল বুঝেছেন অথবা অন্য কোন হুজুর বলেছেন।
আমি বলতে পারবো না কোন বিষয়ে বয়ান হয় ইজতেমা তে, আমি কোনদিন যাইনাই।
হয়তো পোশাক নিয়ে কোন বয়ানের সময় কথা প্রসঙ্গে বলে থাকতে পারেন ।
জট্টিল!
ইজতেমা দেখি বিয়াফক উপকারী চীজ
মন্তব্য করুন