এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম [গল্প!]
জুবায়ের সাধারন কোন মেয়েকে ভালোবাসলে হয়তো এরকম হৈ চৈ হোত না। একটা ছেলে , একটা মেয়েকে ভালোবাসতেই পারে , এটাই চিরাচরিত নিয়ম কিন্তু জুবায়েররের ভালোবাসার কারনে যখন কলেজের হোস্টেলের অন্য বাসিন্দাদের কেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল , তখনই সেটা আর সাধারন দশ-পাঁচটা ভালোবাসার গল্পের মত থাকেনি।
টাঙ্গাইলের কোন এক কলেজে পড়তে আসা জুবায়ের কলেজের হোস্টেলে উঠে। সদ্য কলেজে পড়ুয়া ছেলেদের মতই তখন নিজেকে পাঁখা লাগানো অবস্থায় আবিষ্কার করে সে। সেই পাঁখায় ভর করে উড়ে বেড়ায় শহর জুড়ে। পড়াশুনা তখন ট্রাংকে তোলা কাপড়ের সাথে তালাবদ্ধ করে সে থাকে আড্ডা নিয়ে ব্যস্ত, সুন্দরী মেয়েদের দেখলে প্রেমময় দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকা নিয়ে। সমবয়সী একদল ছেলেদের পেয়ে হোস্টেল জীবনের যতটুকু সুবিধা আদায় করা যায়, সবটুকুই সে আদায় করে নেয় বছরখানেক এর মধ্যে।
এরই মাঝে জুবায়ের নিজের পুরুষত্ব ফলাতে টাঙ্গাইলের বিশাল বারাবণিতা পাড়ায় আসা যাওয়া শুরু করে। টাকা দিয়ে জৈবিক সুখ ভাড়া করে সে! দিনের পর দিন, নিশিথ রাতে চলে সেই সুখ ভাড়া নেয়া-দেবার পালা।
এই ভাড়া দেয়া নেয়া করতে করতেই একদিন সেই পাড়ার একজনের সাথেই মন দেয়া নেয়া হয়ে যায় তার। হয়তো তার মাঝে খুঁজে পেয়েছে তার প্রেম। তাকে পাবার জন্যই জুবায়ের মরিয়া হয়ে প্রায় প্রতি রাতেই সে পাড়ায় যায়, রাতভর সুখ টুকু নিয়ে বা সুখ টুকু দিয়ে সকালে ঢুলু ঢুলু চোখে ফিরে আসে হোস্টেলে।
একদিন শেয়ার করে বন্ধুদের সাথে তার জীবনের প্রথম ভালোবাসার কথা। শুনে কেউ কেউ চোখ কপালে তুলে কেউ বা নির্লিপ্ত ভাবে চলে যায় তার নিজের খাটে, কি দরকার এই ঝামেলায় জড়ানোর - এই ভেবে। দুইএকজন যারা বন্ধুর ভালো চায়, তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে কোন পাড়ার মেয়েকে ভালো না বাসতে।
কিন্তু সেটা ভালোবাসা বলে কথা। সেখানে যুক্তি অবদমিত হয় আবেগ দ্বারা, যেখানে আবেগের প্লাবনে বাস্তবতা , সমাজ সব কিছুই ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছা করে । আর বয়সটাই তো এমন !!!
জুবায়েরও এর ব্যতিক্রম না। তার ভালোবাসা ও ভালোবাসার নিশি কথন চলতে চলতে একসময় সেই "পাড়ার" মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে আসে সে, উঠে হোস্টেলে। মেয়েটা সাধারন ঘরের মেয়েনা বলেই হয়তো কেউ ভ্রূ কোঁচকায়, কেউবা প্রশংসা করে জুবায়েরের। তার সঙ্গী সাথীরা বরন করে নেয় তাদের এই ভালোবাসা। ক্ষনিক উৎসবে ভাসে হোস্টেলে থাকা ছেলেগুলো।
তাদের সেই উৎসবের রঙে হঠাৎ করেই দেখে হোস্টেল ঘিরে ফেলেছে বারাবণিতা পাড়ার পোষা মাস্তান , দালাল আর হঠাৎ করেই সমাজ সংস্কারক বনে যাওয়া একদল মানুষ - যারা পাড়ার কোন মেয়েকে মানুষ ভাবতে পারেনা। তুমুল তর্ক বিতর্ক, তারপর একসময় হোস্টেল ছাত্র বনাম সেই ঘিরে ধরা লোকদের সংঘর্ষ।
এ যেন ট্রয় নগরীর কাহীনি কে হার মানানো।
সেই গন্ডগোলের ভিতরেই জুবায়ের ও তার ভালোবাসাকে নিরাপদে পার করে দেয় তার বন্ধুরা। এই গন্ডগোল বাড়তে থাকার এক পর্যায়ে কলেজের প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য টিচারগণ এসে শান্ত করে দুই পক্ষকে। সংঘর্ষ থামে, কোলাহল থামে। চাঁপা নিরবতায় ঘোষনা করা হয় - জুবায়ের কে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হোল এই কাজের জন্য।
জুবায়ের সেদিন তাকে নিয়ে সোজা চলে আসে ঢাকায়। ঢাকার এত মানুষের ভিড়ে কে চিনবে তাকে কেবা জানবে মেয়েটির পরিচয় !!! মিশে যেতে বেশীক্ষন লাগে না তাদের এই জনস্রোতে। ঢাকায় এসেই তারা কাজী অফিসে উপস্থিত হয়, ধর্ম ও সামাজিক মতে বিয়ে করে স্বীকার করে নেয় তাদের ভালোবাসা কে। বিয়ে করলে হয়তো ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।
এখানেই গল্প টা শেষ হতে পারতো, যদি এটা কোন সিনেমা হোত কিংবা কোন নাটকে।
এখানেই শেষ হয়নাই এই গল্পের।
বিয়ের পর তারা আর দশজন দম্পতির মতই হয়তো তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিল। একরুম ভাড়া করে ঢাকার কোন এক সস্তা থাকার স্থানেই তারা তাদের সংসার শুরু করেছিল। চেষ্টা তদবির করে এক গার্মেন্টসে কাজ ও জুটায় জুবায়ের। তার চোখে তখন বিশাল স্বপ্ন। জোড়াতালির সংসারে, না খেয়ে থাকা দিনের শেষেও তাই বিজয়ী সৈন্যের মত গর্বিত হাসি তার।
খুবে বেশী দিন লাগে নাই তার এই হাসি মিলাতে। কয়েক মাস পরেই তাদের ভিতর দেখা দেয় কলহ - বিবাদ। কলহ বিবাদ থেকেই মাস ছয় ঘুরতে না ঘুরতেই বিবাহ বিচ্ছেদ!!!
পরিশিষ্টঃ সেই বিয়ের এক বছর পর জুবায়েরের হাত ধরে চলে যাওয়া সেই মেয়েকে টাঙ্গাইলের সেই বারাবণিতা পাড়ায় আবার দেখা যায়, সেই একই ভাবে .......





সত্যিকারের ভালোবাসা যে খুঁজে পায় সে এই পৃথিবীতে অনেক ভাগ্য নিয়ে আসে ।
আসলেই ভাই, কথা সত্য ।
হুমম। জীবন এরকমই।
আড্ডার জন্য এইখানেও ধন্যবাদ জানাই গেলাম সাঈদ লিটন ভাই।
অয়েল্কাম। কিন্তু লিটন যুক্ত করার মাজেজা কি ভাই , বুঝলাম্না।
হুমম;
ঝোকের মাথায় অন্যরকম হওয়া সহজ; কিন্তু সেটা বয়ে চলা কঠিন
সেটাই। বয়ে চলা আসলেই কঠিন।
ঝোকের মাথায় অন্যরকম হওয়া সহজ; কিন্তু সেটা বয়ে চলা কঠিন
ঝাজা
একটা ব্যতিক্রম দেখতে খুব ইচ্ছে করে।
দেখা সহজ না .।
ঠিক.।
ব্যতিক্রম কিছু দেখতে ইচ্ছা করে।দেখা মেলা ভার।
হুমমমমম ......
হুমমম কি?হুমান কেন?ঘুমান গিয়া , যান।
হুমাইছি এই কত্ত !!!
সাঁঝু তো একটা অসাধারন কথা কৈছে....."সত্যিকারের ভালোবাসা যে খুঁজে পায় সে এই পৃথিবীতে অনেক ভাগ্য নিয়ে আসে ।"
পুরাপুরিই গল্পটার থীমের সাথে যায়....
আসলেই অনেক ভাগ্য নিয়ে আসে ভাই, আসলেই।
"সত্যিকারের ভালোবাসা যে খুঁজে পায় সে এই পৃথিবীতে অনেক ভাগ্য নিয়ে আসে ।"
গল্পের কনক্লুশন এটাই
ঠিক বলেছেন ভাই।
গল্পটা চক্রকে সম্পন্ন করেছে। চমৎকার!
ধন্যবাদ দাদা।
নীড়দার সাথে একমত।
চক্র সম্পন্ন হইলো
ধন্যবাদ কি দিতাম ?
ভুলটা জুবায়ের করসে, কারন এখানে সে যা করসে তাঁর আবেগ দিয়ে করসে,যা কখনোই ভালো কিছু দিতে পারে ন।।
আবেগ দিয়ে কখনোই ভালো কিছু হয় না।।
আবেগ দিয়ে কখনোই ভালো কিছু হয় না।।
মেয়েটাকে আবার পাড়ায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত হয় নি লেখকের
মন্তব্য করুন