ইউজার লগইন
ব্লগ
আমি অপার হয়ে বসে আছি
গান শুনে মনের পরিবর্তন ঘটে, এটা পুরোনো কথা । অনুভূতির স্কেল কমে বাড়ে গান শুনে । যতক্ষন প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনছিলাম, বেশ ভালো ছিলাম । যেই লালন ধরলাম, ব্যাস
মন খারাপ হতে লাগলো, অযথাই । উদাস হয়ে ভাবছিলাম মানুষ এতো দৌড়ায় কেন? সবসময় কেবল দৌড়চ্ছে । পরে যখন হুশ হল, আতলামি ছেড়ে আবার গান শুনতে বসলাম । সাথে টুকটাক ফেসবুকে ক্লিক ।
ফ্রেন্ডলিস্টে এক বান্ধবী আছে, এখন দেশের বাইরে । ওর কথা ভাবলাম । কোথাকার মানুষ কোথায় ঘুমুচ্ছে । এই মেয়েটা ছিল প্রেমকুমারী । পিচ্চিকাল থেকে একজনের সাথে প্রেম করেছে । সেই প্রেম চলা অবস্থায় আরো কয়েকজনের সাথে প্রেম করেছে । সবদিক এমন সুন্দর করে সামলে চলা মেয়ে আমার কাছে চরম বিস্ময়ের বস্তু ছিল ।
সাপ... ভয়....!!
ধন্যবাদ। মৃদুল ভাইকে। সেদিন শুক্কুরবারে অদ-ভুতুড়ে আড্ডা না শুরু করলে কখনোই স্মৃতি হাতড়ে এই গল্প বের হতো না। মাঝে মাঝে এসে নিজের কিছু গল্প বলে যাই। কড়া বা কঠিন কথা বলতে পারিনা, গল্প ছাড়া। কি আর করা।
শুনুন, নতুন গল্প।
তখন আমার দেড় বছর। সিলেটে গিয়ে বিখ্যাত বন্যায় পুরো পরিবার আটকে গেছি। বেশ পিকনিক পিকনিকভাব। বিশেষ করে আমার বড় বোন খুশিতে আটখানা। ইশ্কুলে ক্লাস করতে হচ্ছেনা। আমিতো তখন দুধভাত। কোন কিছুই বোঝার উপায় নেই। ছোটবেলা থেকে একটি অভ্যাসে ছিলাম সেটা হলো বাউণ্ডেলপনা।
হামাগুড়ি, গুড়ি-গুড়ি পায়ে হাটা..যেই পন্থাই হোক না কেন, উঠোন-টুঠোন পেড়িয়ে কই কই পই পই করে চলে েযতাম আল্লাহ মালুম।
আমাদের বাড়ির পাশেই কিছু দূরে একটি বিরাট আকারের তেতুল গাছ ছিল। দূরে মানে বাড়ির সীমানা লাগোয়া।
রিক্যাপচারিং পাস্ট -৩
তো কথা হলো বরিশাল থেকে স্টিমারে চড়ে খুলনা গিয়েছিলাম এবং এই আনন্দদায়ক ঘটনাটা আমার বিস্মৃতিতে থাকবে সেটা হতে পারে না। যেভাবে হোক, নদী খুড়ে বা স্টিমার খুড়ে হলেও স্মৃতি প্রকোষ্ঠে জমা করতে হবে। মনে থাকার প্রক্রিয়াটা বেশ জটিল, কোন থিউরি কাজে লাগে না। একসময় মনে হতো যা হৃদয়ে দাগ কেটে যায় তাই কেবল মনে থাকে। আমার বিজ্ঞ ও আতেলায়িত পরিচিতকরা 'মনে কি থাকে' আর 'কি থাকে না' প্রসঙ্গে কোন একটা বিষয়ের সাথে ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতম যোগাযোগের সম্বন্ধ আছে বলে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এর কোনো কাঠামো নেই, নিদিষ্ট ধরণ বুঝতে আমি অক্ষম। স্টিমারের দুটো বিশালকায় চাকা দেখে বিস্ময়াভিভূত আমার মুহূর্তটা না হয় বুঝলাম দাগ কেটে থাকার মত, কিন্তু এর চেয়ে ঠুনকো বিষয়ওতো মনে থাকে। আর পুরা স্টিমার যাত্রাটাই বেমালুম ভুলে যাবো তা হতে পারে না এবং হতে দেয়া যাবে না।
চির নিদ্রার প্রেরণা
ছড়িছে দেখ চারিদিকে ভাবনা
উড়িছে ছাই বাসনার রসনা
রক্ত ও অশ্রুর সাধ একাকারে লবন
আকাশে উড়িছে দেখ ভাসমান লেবানন।
উড়জাহাজও আছে অসমান সাগরে ও আকাশে
নদীতে তাকধুম তাকধুম নাচে জলজ জাহাজ
বইতে পারেনা ভার চিৎকারে জমেছে বরফ
উৎসে ফেরার চিন্তা আর করেনা চেতনা।
কোথাকার আবু হবে কাবু কাবুলের পথে
রথ দেখে কলা বেচে চরকার ছুরি
নিজেরই অজান্তে যদি ঢুকে পরে কেউ রাতের অজান্তায়
গুহার আহার শেষ হলে বেছে নেবে চির নিদ্রার প্রেরণা।
গল্প: পরোপকারী কাঁচপোকার ভিউফাইন্ডারে চড়ে কাটানো একটি দিন
আমি ছোটবেলা থেকেই কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের। যে কারণে বাসায় কারুর সঙ্গে আমার সেই সখ্যতাটি নেই, যেটি বাবা-মাএর সঙ্গে থাকে ছেলের কিংবা ভাইএর সঙ্গে থাকে ভাইএর। নিজের মতো করে বড় হয়েছি। নিজের মতো করে পাশ দিয়েছি। এখন নিজের মতো করে দিন কাটাচ্ছি। খারাপ লাগে না বটে। আবার মাঝে মাঝে খানিকটা একাকীত্ব অনুভব করি।
মধ্যবিত্তের সংসারে আমার কিছু বিলাসীতার অভ্যাস আছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধূমপান। সেই কাজটি করার জন্য যা ব্যায় হয় সেটুকু নিজেই আয় করি। এছাড়া সংসারে একটি বাড়তি মানুষ থাকার কিছু খরচ আছে। সে খরচও নিজে জোগাই। এর বাইরে তেমন কোনো কাজ করি না। শুয়ে শুয়ে ভাবি। ছোটভাইটা মাঝে মাঝে এসে জ্বালাতন করে। ও-ও খানিকটা আমার মতো। চুপ-চাপ প্রকৃতির। কিন্তু চুপ-চাপ থাকার লাভ কি- সেটা সে জানে না। তাই আমাকে পেলে কখনো হয়তো জানতে চায়, ভাইয়া এত চুপ করে থাকিস কেন?
সময়ের ডায়েরী-১
এক
দেশে থাকতে আমার বসের মাসের অন্তত দু'সপ্তাহ কাটতো ওয়াশিংটনে। প্রতিবার দেশে ফিরেই কি করবেন সেটা মোটামুটি মুখস্থ হয়ে গেল । উস্কখুস্ক চুল আর লালাভ চোখ নিয়ে প্রথম মিটিংয়ে বলবেন -- "আমার জেটল্যাগ কাটেনি"। বারবার শুনতে শুনতে জেটল্যাগ খাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা হালকাভাবে মাথাচাড়া দিল।
মাসুম ভাইয়ের জন্মদিন ও একটি ফোন কল...

খঃ হ্যালো, কি অবস্থা ?
গঃ হ্যালো..এইতো..
খঃ শোন, যে জন্য ফোন করলাম, জানো তো আজকে মাসুম ভাইয়ের জন্মদিন ।
গঃ হুম্মম..জানি তো..
খঃ ব্যাপার হল, আমাকে “ক” ফোন করেছিল । আজকে রাত্রে নাকি মাসুম ভাই জন্মদিন উপলক্ষে তার অফিসের কাছের পাঁচ তাঁরা হোটেলে এবি’র কয়েক জনকে ডিনার করাবে..
গঃ তাই নাকি..আমাকে তো বললো না..
খঃ আরে ব্যাপার না, আমাকেও তো বলে নাই । তাতে কি । অবশ্য “ক” আমাকে যেতে বলেছে, আমি কি না গিয়ে পারি? তাছাড়া, আমি গেলে মাসুম ভাই খুশীই হবে । “ক” অবশ্য আমাকে ছাড়া আর কাউকে বলে নাই । তুমিও চল, মাসুম ভাই খুশী হবে ।
গঃ আচ্ছা..ঠিক আছে..
কঃ তাহলে, মাসুম ভাইয়ের অফিসের নিচে ঠিক সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে ।
গঃ আচ্ছা..
মাসুম ভাইয়ের জন্মদিন, দলে দলে ভোট দিন

(পোস্টার সৌজন্য: নজরুল ভাই)
অনেক দিন পরে এবিতে ঢুকলাম
ঢুকেই দেখি মাসুম ভাইয়ের জন্মদিন
শুভ জন্মদিন মাসুম ভাই
পার্টি চাই পার্টি চাই 

মাসুম ভাই ভালো মানুষ পার্টি চাইছি না করতে পারব না
কিন্তু মাসুম ভাইরে কি গিফট করা যায়?
এই নিয়া চিন্তায় চিন্তায় নাজেহাল
গরিব মানুষ
পকেটে টাকা পয়সা থাকে না
কি গিফট দেই?
আল্লাহ বলছেন বুদ্ধিমানদের ঘরজামাই থাকতে হয় না
তাই বিশেষ একটা বুদ্ধি পাইলাম
মাসুম ভাই বড়লোক মানুষ
এসব বৈষয়িক গিফট দিয়া তারে সন্তুস্ট করা যাইবো না
তারে দিতে হবে বিশেষ গিফট
কি গিফট দেয়া যায়? ভোট 
মাসুম ভাই ইলেকশনে খারাইছে
আমগো মাসুম ভাই
অর্থনীতিবিদ মাসুম ভাই
মৃত্যুঞ্জয়
হঠাৎ করেই মাথাটা হালকা মনে হচ্ছে। ঘাড়ের উপর মাথাটা স্থির থাকতে চাইছে না। মাথাটা যেন হয়ে গেছে বাতাস ভর্তি বেলুন। সোজা হয়ে থাকতে পারছে না । নিজের ভারে একদিকে হেলে পড়ছে। জোর করে সোজা রাখতে চাইলাম, না রাখা যাচ্ছে না। শরীরটা নিস্তেজ হয়ে আসছে। মাথাটা হাত দিয়ে সোজা করে রাখবার জন্য দুই হাত দিয়ে ধরতে চাইলাম। হাত আমার নিয়ন্ত্রনে নেই, হাত উপরে উঠলো না। আমি হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়লাম। বসার সময় মনে মনে বলছি সাবধানে বসতে হবে, খুব সাবধানে।
চোখ মেলে দেখি সামনেই সাদা রঙের চাপা দেয়াল। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। দেয়ালে ধোঁয়াটে সাদা আলো। মোম এর আলো কি? এত উপরে মোমের আলো কেন? আমি কোথায়? আবার সব আধাঁর । ধীরে ধীরে আঁধার কেটে গেল।
রিক্যাপচারিং পাস্ট -২
মনে কেনো পড়বে না! পড়তেই হবে। একাশি সালের ঘটনাও মনে আছে। এরও আগে কোথায় ছিলাম সেসবেরও কিছু কিছু মনে আছে। কিন্তু এমন মনে পড়ায় চলবে না। আমার চাই প্রতিটা দিনক্ষণের হিসাব। চব্বিশ ঘন্টার হিসাব। ষাট মিনিটের হিসাব। সেকেন্ডের হিসাব না হলেও চলবে। থাক..মিনিটের হিসাবেরও দরকার নেই।
ক্লাস থ্রিতে যে স্কুলটাতে ভর্তি হলাম সেটা বিশেষ পছন্দ হয়েছিলো। সরকারী প্রাইমারী স্কুলের বেহাল দশার থেকে সেটা হয়তো উন্নতর ছিলো। অবশ্য এটা এখন মনে হতেই পারে। এর তিনবছর পরে সে স্কুল যখন ছাড়লাম - আর কখনই যাওয়া হয়নি, অথচ বড় হতে হতে দেখলাম চারদিকে কেবল রঙহীন প্রাইমারী স্কুলের ছড়াছড়ি। সম্ভবত এর আগের স্কুলটার তুলনায় সবুজ, সুন্দর আর খোলামাঠের হওয়ায় ভালো লেগে গেছিলো।
মাসুম ভাই এর জন্মদিনে শুভেচ্ছা
আমাদের অনেক প্রিয় বন্ধু, প্রিয় ব্লগার মাসুম ভাই এর আজ জন্মদিন। কততম তা জানি না। তবে শত বছর ধরে মাসুম ভাই এমনই থাকুক সেটাই চাই। এত অন্তরিক, নিরহংকারী, ভালো মানুষ, খুব ভালো বন্ধুর এই শুভদিনে শুধুই প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তা যেনো মানুষটাকে সুস্থ রাখেন, প্রিয়জনদের মাঝে প্রিয়জনদের ভালোবাসায় রাখেন যুগ যুগ ধরে। জন্মের এই শুভক্ষণ শতবর্ষ ধরে ফিরে আসুক সবার ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে


দুই বার্থডে বয় মাসুম ভাই আর শুভ কেক কাটছে সাথে জ্বীন লীনাপা

দৃই মামাকে জস্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসা মাধূর্য
এলোমেলো কিংবা উল্টাপাল্টা
নদী ভরা কূলে কূলে , খেতে ভরা ধান ।
আমি ভাবিতেছি বসে কী গাহিব গান ।
১.
বরং বাবার কথা বলি। আমার বাবা গ্রামে মানুষ, ম্যাট্রিক পাশ করে বরিশালে এসেছিলেন বিএম কলেজে পড়তে। এর পর চাকরি হয় পাকিস্তানের বিমান সংস্থা পিআইএতে। জীবনটা সে সময় সহজ ছিল। চাকরি পেয়ে বিয়ে করেন, আমার মা তখন ১৩ বছরের। আমার বাবার পোস্টিং ছিল করাচীতে, ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় চাকরি ছেড়ে দেন। পাকিস্তানিদের অধীনে চাকরি আর করার সেই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সাহসী ছিল বলা যায়। কারণ আমার বাবা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যাওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। আমরা তখন তিন ভাই বোন। সুতরাং অনিশ্চিত একটি জীবন ছিল আমার বাবার সামনে। যুদ্ধের সময় আমাদের নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আমার বাবা। বাবা ঢাকায় কিভাবে ছিলেন আমি জানি না। আশ্চর্য, একদিনও বাবার কাছে সেটা জানতে চাইনি।
মুক্তিযুদ্ধ ও একটি পরিবার
ছোট্ট শহর বগুড়া, যেখানকার কতশত মধুর স্মৃতি আমাকে জড়িয়ে রেখেছে পরম মমতায়। সেই ছোট বয়সে নানাবাড়ির (জলেশ্বরীতলা) পাশের বাড়ির দুই বোনকে আমার রূপকথার পরীর মত মনে হতো, শাহানাআপু- সোমা আপু একই রকম দেখতে, চেহারার এত মিল যে আমার শিশু চোখ তাদের ঠিকমতো নির্ণয় করতে পারতো না- কোনটা কে। তারা দুই বোন দুই ভাই, দাদা-দাদী আর ফুপুর কাছে থাকতো ।স্কুল শিক্ষিকা সেই ফুপুকে যে ওরা কী ভয় পেত (আমরাও ভয় পেতাম)! সেই ফুপুই তাদের অভিভাবক, আমার মনে প্রশ্ন ছিল ওদের মা-বাবা কোথায়?তারপর একদিন সেই প্রশ্নের জবাব পেলাম-তখন অতকিছু বুঝি নাই কিন্তু মনটা বিষাদে ভরে গিয়েছিল। যত বড় হয়েছি সেই বিষাদ বেদনাও বেড়েছে ,মনে হয়েছে দেশের মানুষের তাদের কথা জানা দরকার কিন্তু কিভাবে?
রিক্যাপচারিং পাস্ট -১
ফিরে যাবার চেষ্টা করছি অতীতে। যত অতীতে যাওয়া যায়। একদম দিনক্ষণ, মুহূর্তের পুনর্জাগরণ ঘটাতে প্রানান্তকর ঘেটে যাচ্ছি। যেমন কিছু স্মৃতি আমার মাথা থেকে বিলকুল হারিয়ে গেছে।
এই যেমন বরিশাল থেকে একবার আমরা খুলনা গেলাম স্টিমারে। প্রথম। সেই সালটা কত ছিলো? মনে নেই। মনে করার চেষ্টা করতে গিয়ে দুটো সাল মাথায় এলো, ১৯৮২/১৯৮৩। এর ভেতর থেকে সঠিক সালটা বেছে নিতে হলে আরো একটু মাথা ঘামাতে হবে।