ইউজার লগইন
ব্লগ
পুনম পাণ্ডের শরীর আর সোসাইটির পুরুষালী ক্রিকেট চর্চা...
এক.
ভারতে একসময় পুরোহিতগো মনোরঞ্জনের লেইগা সেবাদাসী থাকতো। প্রার্থনালয়গুলিতে এইসব নারীরা বাস্তবিক উৎসর্গীত হইতো ঈশ্বরের উদ্দেশে। পুরুষ শাসিত সমাজ এমনই প্রবঞ্চনার গল্প লিখছে নারীর জন্য। পুরোহিত ব্রাহ্মণরা অবলা নারীগো সামনে ঈশ্বরের প্রতিনিধির মতোন দাঁড়াইতো, ব্রাহ্মণের কাছে সমর্পিত হয় যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর টাইপ কনসেপচ্যূয়াল একটা স্টেইট তৈরী কইরা ম্যানিপ্যুলেশান চলতো দিনের পর দিন। এইসব নারীরা যখন মনোরঞ্জনের সামর্থ্য হারাইতো তখন আর তাদের স্থান হইতো না ঐ মন্দিরে, তারা তীর্থস্থানে গিয়া অনিশ্চিত অপেক্ষা শুরু করতো আসল ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওনের।
মিক্স মশল্লা-১
*
মানুষের ভিতর দায়িত্ববোধ নামের জিনিসটা কবে কিভাবে জন্মাবে ভাবতেই থাকি। আর মাঝখান দিয়ে সময় যেতে থাকে। একটা সো কল্ড দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে বারবারই দায়িত্বহীনের মত আচরণ পেতে থাকলে টার দায়িত্বশীলতা নিয়ে আমার ভিতরে প্রশ্ন জাগে। সেই মানুষটার উপর কোনো কাজের ভার দিয়ে আদতেই কি রিলাই করা যাবে কি না এরকম একটা চিন্তা কাজ করতে থাকে।
বৃষ্টির গন্ধ
উৎসর্গঃ আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাইকে, যার “বৃষ্টি, বৃষ্টি বিলাস, বৃষ্টি কোলাজ” লেখাটা পড়ে আমারো লিখতে ইচ্ছে হল
১
আমার তখন ১৬ বছর বয়স, কিন্তু তখনো শিশুর মতই রাগ করতাম। একদিন বাবার সাথে রাগ করে ভাত খাইনি, শুতেও যাইনি, আমার ঘরের লাগোয়া বারান্দায় বসে ছিলাম। হঠাৎ রাতে মুষল ধারে বৃষ্টি এল, সে যে কি বৃষ্টি ! কি আর বলব ! একদম আকাশ ফাটা বৃষ্টি ! মনে হচ্ছিল গোটা দুনিয়াটা তলিয়ে যাবে আজকের বৃষ্টিতে। আমি ভিজে যাচ্ছিলাম কিন্তু তবুও ঠাঁয় বসে রইলাম, মনে মনে ভাবলাম ভিজলে ভিজব, তবুও আজ রাতে শোব না, সারারাত এভাবে ভিজে ভিজে যদি জ্বর হয় তবে খুব ভাল হবে, আমার বাপের উচিত শাস্তি হবে ইত্যদী ইত্যাদী।
তাহলে ঐ কথাই রইলো, দেখা হবে সবার সাথে.. (updated)
“ভালো বন্ধু খুজে পাওয়া বড় কঠিন”। আসলেই? হয়তো।
কিন্তু, আমি জীবনের একটা সময়ে এসে অনেক সহজেই একগাদা ভালো বন্ধু এক সাথে পেয়ে গেছি। সেই সাথে ঐ একগাদা বন্ধু'র মাঝে থেকে পেয়েছি তাকে, যাকে আজ জীবন সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছি। আর আমার জীবন সঙ্গীর সাথে পথ চলার সিদ্ধান্তে সাক্ষ্য রেখেছিলো আমার সেই একগাদা বন্ধু। তারপর সময়ের সাথে সাথে সেই একগাদা বন্ধু’র তালিকায় যুক্ত হলো আরও একগাদা ভালো বন্ধু। এই দল আবার আমার এবং আমার জীবন সঙ্গীর ভালোবাসা’র ছোট্ট একটি নতুন অংশের সাক্ষ্য হয়ে থেকেছে প্রতিনিয়ত। সেই ভালোবাসা’র ছোট্ট অংশটি’র আমার মাঝে বেড়ে ওঠা, এই পৃথিবীতে তার আগমন, তার নামকরন.. এরকম প্রতিটা আনন্দ-বেদনার মুহুর্তে সাক্ষ্য দিয়েছে আমার এই একগাদা বন্ধু। সাথে আগের একগাদা বন্ধু'রা তো ছিলোই।
বৃষ্টি, বৃষ্টি বিলাস, বৃষ্টি কোলাজ
অনেকদিন পর শহরে বৃষ্টি নেমে এলে ভাবি, কতোদিন পর আজ বৃষ্টি হলো! কতোদিন! কতো কথা মনে পড়ে, কতো স্মৃতি! বৃষ্টি মানেই যেন ছোটবেলা, গ্রামের পথ, মায়ের কোলের মধুময় ওম।
২
ক্রিকেট স্মৃতি :: রাবণের পুনর্জন্ম পর্ব
ক্রিকেট খেলাটা বুঝতে একটু দেরীই হয়ে গেল , দোষটা অবশ্য আমার নয় , দোষটা ক্রিকেট না চেনা পৃথিবীর সে অংশের, যেখানে আমি দীর্ঘদিন কাটিয়েছি ।
ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম পত্রিকার পোকা , খেলার পাতাগুলি পড়তে পড়তে যেমন উইপোকার মত কাটতাম , তেমনি খেলার রেজাল্ট মুখস্থ করে , খাতায় লিখে বা কাউকে বলে জাবর কাটতাম গরুর মত।
৯৪ সালের কথা , ভোরবেলা ইত্তেফাক আসত , আমি জীবনে প্রথম বাংলা পত্রিকা পড়ছি । ইত্তেফাক বরাবরই খেলার খবরে ফাঁকি দিত , দেশের বাইরের খেলাধুলা নিয়ে যা এক আধটা খবর থাকত সেটাও ক্রিকেট নিয়ে । খবর পড়ে পড়ে ক্রিকেট জ্ঞান বাড়াতে মনযোগ দিলাম ।
টুকটুক গল্প-২
আজ সকালটা একদম ম্যারমেরা লাগছিলো। গতকাল সকালটা ছিলো স্পাইসি। ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বের হয়ে দেখি পেয়ারা গাছে দুটো শালিক পাখি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দেখেই মনটা ফুরফুরা হয়ে গেলো। ভাবলাম আমিও একটু গাল ফুলাবো কিনা। আমার এক বোনকে এই কথা বললে সে বলত, শালিক পাখিও আরেকজনের সাথে গাল ফুলায়, আর তুই? সেই গাল ফোলানোর সুযোগ আর পেলাম না, টেবিলে গরম গরম চিতই পিঠা, আম্মা জলদি মুখ ধুয়ে খেতে তাড়া দিলেন।আম্মা বাথরুমে পড়ে হাত ভাঙলেন দু সপ্তাহ আগে
। নিজে নিজে কিছুই করতে পারেন না, তাতে কি!
লেডি গাগা'র চুল পড়ার সংবাদে কার কী আসে যায়!
সেলিব্রিটি হলে জীবন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে মনে হয়। আজকে মনে হয় সারা পৃথিবীর প্রায় সব পত্রিকায় একটা কমন খবর ছাপা হইছে। খবরটার গুরুত্ব কতোটুক সেইটা আমি টের পাই নাই অবশ্য, কিন্তু আজকের যূগের খবরের বাণিজ্যধর্মী আচরনে বেচা বিক্রী না থাকলে নিশ্চিত কোনো খবর ছাপে না। কমন খবরটা হইলো লেডি গাগার চুল পইড়া যাইতেছে। সে তার ফ্যাশনের জন্য চুলে মাত্রাতিরিক্ত রঙ ব্যবহার করছে এতোদিন আর তার ইফেক্টে এখন চুল পড়তেছে দেদারসে। সে নাকি রঙ মাখা চুল নিয়াই বিছানায় শুইয়া পড়তো। এই খবরে লেডি গাগার ক্ষতি হইলো না লাভ হইলো এই বিবেচনা করতে গিয়া মনে পড়ে...নিউজ মানেই এখন একজন সেলিব্রিটির জীবনের উন্মোচন। লেডি গাগা চুল রঙ করে রাখেন এইটা সংবাদ হিসাবে বেশ চটকদার...কারণ এই রঙের বাস্তবতা তাকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা কইরা ফেলে। কিন্তু চুল পড়ার ঘটনাটা কিভাবে তার সেলিব্রিটিসূলভ গ্রহণযোগ্যতায় কতোটা সহযোগিতা করে?
সেনাবাহিনী কি কোন রাজনৈতিক দলের অংগ-সংগঠন?
গত কয়েকদিন ধরে আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে ‘আমার সেনাবাহিনী আমার গর্ব’ নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। গতকাল দেখলাম, অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আই’তে প্রচার করা হল। এতে সেনাসদস্যদের প্রাত্যহিক জীবনের কঠোর প্রশিক্ষণ, পেশাগত কর্তব্য পালন ও সেনাবাহিনীর ইতিহাসসহ অন্যান্য বিষয়াদি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, মহান স্বাধীনতার মাস ও স্বাধীনতা দিবসের চল্লিশতম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হচ্ছে।
কাউকে আশার আলো দেখা শেখাতে হবে না
ব্লগে লিংক দিয়ে ঢোকা যাচ্ছিলো না। ভয়ংকর এক সাইটে চলে যাচ্ছিলাম বার বার। আশার আলো। মানুষকে যে আশার আলো দেখাতে হচ্ছে, মানুষ যে নিজে নিজে দেখতে পাচ্ছে না; এটাই একটা ভয়ংকর ব্যপার।
তবে এনজিও'গুলোকে আমি সমর্থন করি। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এককভাবে বড় কিছু করতে পারে না। সবারই হয়তো আলাদা আলাদা ক্ষমতা থাকে, কেননা মানুষের ক্ষমতা অসীম। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে ক্ষমতা অব্যবহৃত পড়ে থাকে।
ছোটবেলায় একটি নীতিকাহিনী পড়েছিলাম। দশের লাঠি একের বোঝা। গল্পটা পড়ার পর থেকে আমি একটা আশা নিয়ে বেঁচে আছি। একদিন হয়তো পৃথিবীর কাউকে আশার আলো দেখাতে হবে না। সবাই নিজে নিজেই সেটা পারবে।
চোখ
আমাকে একটা চোখ ধার দিবে? আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে। লাল লাল তাজা মানুষের রক্ত। আমার হাত এখন জীর্ণ-শীর্ণ আর বৃদ্ধ। আমি রক্ত মুছতে পারি না। রক্ত গাল বেয়ে বেয়ে পড়ে আমাকে ভিজিয়ে দেয়, আমার গাল,ঠোঁট,গলা এখন রক্তস্নাত। এমনকি তোমার দেয়া শার্টগুলো ভিজে ভিজে যখন শক্ত হয়ে যায়,আমি কেবল ব্যথিত চোখে দেখি তাদের নীরব মৃত্যু। আসলে দেখি না। যখন দেখতে যাই,শক্ত হয়ে যাওয়া শার্ট আবার ভিজতে শুরু করে।
আমাকে নতুন কিছু শার্ট দিবে? তোমার দেয়া শার্ট ছাড়া আমি কিছু পড়তে পারি না। পুরোনো হয়ে যাওয়া শার্টগুলো কত জায়গায় ছিড়ে গেছে,ধুতে ধুতে হয়ে গেছে ঘর মোছার কাপড়ের মতো। একদিন তো ভুল করে কাজের ছেলেটা একটি শার্ট দিয়ে ঘর মুছতে শুরু করল। আমি নীরবে শুধু চেয়ে দেখি, শার্টগুলোর অপমৃত্যু। আসলে চেয়ে দেখতে পারি না। আমার চোখ দিয়ে কেবল রক্ত পড়ে।
জলভেজা পাহাড়ে উদাসী মেঘের ভেলা
পিরীতে সাজায়েছি রো বাসরের বাঁশি
সুরে সুরে সুরোমালা ভেতরে ফাঁকি
চোর আর প্রহরী অথবা প্রহরী আর চোর...
চোর আর প্রহরীর কাহিনী ইতিহাসের নিয়ম মতোন পাল্টে যায়। কখনো সখনো তারা একে অন্যের পোশাক পরে দেখতে চায় জীবনের অন্যপ্রান্তে কে কতোটা সুখে আছে, কিম্বা দুঃখ এলে কতোটা জলস্রোত ভেসে যায়, ভাসায় পারিপার্শ্বরে। আমার এইবারের চোর আর প্রহরীর গল্পে বা কবিতায় অতএব সেই রূপ বদলের খেলা দেখবার চেষ্টা করলাম।
.
.
.
.
.
চোর কি কেবলি চোর রয়ে যায়!
প্রহরী কি কেবল প্রহরী রবে আজীবন!
আমাদের গ্রামে চোর সবে এলো
প্রহরীর ভূমিকায় অভিনয় শিখে।
চাকুরীহীন প্রহরী এইবার তবে
চোর হয়ে কাটাবে জীবন কিছুকাল...
চোর জানে কিরম কৌশলে সিঁদ কাটা হয়
প্রহরী জেনেছে ঘরের আদ্যপান্ত।
এবার প্রহরী আকা চোর, যিনি ছিলেন আগের জমানায়
চোর, তিনি চোর আকা প্রহরীর সাথে শুরু করলেন
চোর পুলিশ, চোর পুলিশ খেলা...
চোর তাই অযথাই জেগে রয়
আর গোপনে পেরেছে গালি
প্রহরীর মায়রে চুদি তার চোখ বুজে এলে...
হ য ব র ল - ২
১। আজ সারাদিন আকাশ’টা খুব মেঘলা ছিলো, সেই সাথে সারাদিন ছিলো প্রচুর বাতাস। দুপুরেও রুম অন্ধকার দেখে রুমের জানালা খুলে দিলাম। ঠান্ডা বাতাস এসে মখে ঝাপ্টা দিলো, কি যে ভালো লাগছিলো, বলে বুঝাবার নয়। ভালো লাগা'কে আরেকটু বেশি অনুভব করার জন্য ফোন দিলাম টুটুল’কে। ভাবলাম এত সুন্দর দিনে তার সাথে একটু রোমান্টিক আলাপ-সালাপ করি
। হঠাৎ নিজের মধ্যে কই থেকে এই ভাবোদয় হইলো বুঝলাম না। অবশ্য বুঝাটা জরুরি মনে করলাম না।
তো ফোন করে বললাম, “বাহির’টা দেখছো? কি সুন্দর। এই সুন্দর দিনে তুমি অফিসে। আজ অফিস ফেলে আমার সাথে রিক্সা দিয়ে ঘুরতে ইচ্ছা করছে না?" 
টুটুলের উত্তর “এইদিনে? নাহ!"
আমি তো খুব কষ্ট পেলাম। আবার বললাম, “একটুও ইচ্ছে করছে না? দেখো না বাইরে কি সুন্দর বৃষ্টি”।
টুটুল কিচ্ছুক্ষন চুপ থেকে, “ঠিক দেখতেছো তো? আমি কিন্তু দেখতেছি বাইরে কটকটা রোদ।”
হায়রে মোর কপাল! এত্তদিন পর একটু রোমান্টিক হইতে চাইলাম, তাও এই প্রকৃতি’র রঙ বদলের চিপায় পইরা হইলো না। 
আমার আকাশে প্রচুর বৃষ্টি আর টুটুলের আকাশে প্রচুর রোদ খেলা করছিলো।
রিকল অফ সাম মেমোরীস আফটার ম্যাট্রিক
ম্যাট্রিক থিওরি শেষ হইছে, প্রাক্টিকাল বাকি। এর ভিত্রে গেলাম বড় খালার বাড়ি বেড়াইতে। খালার বাড়ি সর্বহারা প্রধান এলাকায়। খালু সাবে আবার ওই গেরামের এক টাইমের জমিদারও আছিলো। খালতো ভাই-বইনগুলা সব আমার থিকা দশ বিশ বচ্ছরের বড়। মজার একটা হিসাব দেওন যায়, আমার আমার মা আর আমার বড় খালার বড় মাইয়া সেম বয়সের। যাই হউক। ঐ টাইমটা আছিলো গরমের টাইম। মজাসে আম-কাঁঠাল খাইতেছি, পুকুরে দাপাইতেছি, বিকালে ক্রিকেট খেলতে খেলতে দৌড় পাইড়া চইলা যাইতেছি পাশের আখের খেতে। সব হইতেছে আমার ভাইস্তা ভাতিঝাগো লগে। বড় ভাতিঝা সেই টাইমে নয়া নয়া বিয়া করছে, ছোটডি আমার এক ইয়ার জুনিয়ার। এই ভাতিঝাগো গেরাম সূত্রের ইয়ার-দোস্তগোর কাছেও আমি বাই ডিফল্ট চাচা হইয়া গেছি। বেশ জুয়ান জুয়ান পোলাপাইনে যখন চাচা-চাচা কইয়া ডাকে, শুনতে খুব একটা খারাপ ফিলিংস লাগেনা।