ইউজার লগইন
ব্লগ
জীবিকা অথবা জীবন- ১১, ১২, ১৩
১১
সেদিন শহিদ মিনার থেকে ফিরে আসার পর মনু মিয়ার জীবনটা যেন আরো জটিলতার ঘেরাটোপে আটকে গেল। সবার আগে ঘোড়াগাড়ি থেকে নেমে গেটে ধাক্কা দিতেই ভেতর থেকে কেমন হুটোপুটির শব্দ ভেসে আসে। সে যেন মৃদু কথাবার্তাও শুনতে পেলো বলে মনে হলো। তাই সে আরো জোরালো আর দ্রুত শব্দ তোলে গেটের ধাতব পাতে। সেই সঙ্গে খানিকটা চিৎকার করে ডেকে ওঠে, আজগর বাই! ওই আজগর বাই! হুনছেন
খানিক পর আজগর গেট খুলে সবাইকে একই সঙ্গে দেখতে পেয়ে কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তরা আইতে না আরো দেরি হওনের কথা আছিলো? কথা বলার সময় জিভের আগায় শব্দগুলো যেন জড়িয়ে যায় আজগরের।
পেছন থেকে সালমা বেগম ধমকে উঠে আজগরকে বললেন, এতক্ষণ কি করতাছিলি?
আজগরকে অকস্মাৎ দিশেহারা মনে হয়। কেমন এক শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে
সূর্যরাঙ্গা পরানপুর
আমার এক বন্ধু আছেন নিউ ইয়র্কে থাকেন-- স্বভাবে মধ্যবিত্ত, অভাবে গল্পকার, কিভাবে কিভাবে যেন ফিল্ম পরিচালকও। সবচেয়ে বড় পরিচয় তার, সে হইলো ব্যাপক আড্ডাবাজ। আগে প্রায় দেখা সাক্ষাত হইতো এখন দূরে থাকি বিধায় ফোনে কথা হয় মাঝেসাঝে। উনি সুযোগ পাইলে পচানি দিতে ছাড়েন না আমাকে, "শুনেন শুনেন... কেবল তো আইসেন, ৫ বছর কাটুক ঢাকার নামটাও মুখে নিবেন না। কি নাই এই শহরে। ঢাকার জন্য কান্দেন ক্যান। আপনি হইবেন বিশ্বনাগরিক, ঢাকা ঢাকা করলে চলবো?"
গল্প: বাক্সবহির্ভূত পুতুল
ইংলিশ রাজ্যের ফুটপাথে কেউ গ্লাভস্ না খুললে তার সঙ্গে হ্যন্ডশেক করা হয় না। আমেরিকার পথেও একজন ভদ্রলোক কখনোই গ্লাভস্ না খুলে কোনো সুন্দরীর সঙ্গে হ্যন্ডশেক করে না। তবে দু'দেশেই অপেরা কিংবা উচ্চমার্গীয় পার্টি কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোয় গ্লাভস্ না খুলেই অনেকে কাজ চালিয়ে দেয়। এটা হচ্ছে ডিমান্ড অভ সিচুয়েশন। মানবসমাজে প্রচলিত এই হ্যন্ডশেকের রীতিটা আমার কাছে বেশ উপাদেয় ও স্বাস্থ্যকর মনে হয়। এতে মানুষে মানুষে ঘনিষ্ঠ যোগসাজশ ঘটে। কেননা দু'জন মানুষের মধ্যে স্পর্শ বিনিময়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে-মাংসে একটা সুক্ষ্ণ দ্যোতনা সৃষ্টি হয়, যা মানুষকে সামান্য হলেও প্রভাবিত করে।
আমি নিজে অনেক বড় বড় বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছি হ্যন্ডশেকের কল্যাণে। আবার মজার অনেক ঘটনাও আছে হ্যন্ডশেক নিয়ে। দুনিয়ায় কখনো কখনো চূড়ান্ত আনপ্রেডিক্টেবল এবং আউট অভ বক্স প্রকৃতির মানুষের দেখা পাওয়া যায়। নিয়া ছিলো তেমনই একজন মানুষ। ওর সঙ্গে চমৎকার একটা সম্পর্ক হয়তো হতোই না, যদি প্রথমদিন হ্যন্ডশেক নিয়ে একটা গণ্ডগোল আমাদের মধ্যে না হতো।
রিক্যাপচারিং পাস্ট -৭
কিছু ভাবার না পেয়ে বা ভাবতে গিয়ে আটকে গিয়ে বৃক্ষ গুনতে শুরু করলাম। নদীর বুক চিড়ে দৌড়ে যাবার তাড়া নেই ভাসমান যানের, কেউ একজন গিয়ে বলে এসেছে ক্যাপ্টেনকে ধীরে চলতে। বড় নদী ছেড়ে সুন্দরবনের ভেতর থেকে প্রবাহিত শাখা নদীতে। দিবস-সায়াহ্নে নির্জনতা প্রখর হয়ে ওঠে। অভূতপূর্ব গুঞ্জন আছড়ে পড়লো - দিবসের কোলাহল তাড়িয়ে। সূর্যালোকের কিরণ সশব্দ বিচ্ছুরিত হয়, আর আঁধারের থাকে কোমল শব্দমালা। হরিদ্রা বর্ণের কোঠরে সবুজাভ সংমিশ্রণ যেন দূর্দান্ত ক্যানভাস তৈরী করেছিলো। এক, দুই থেকে হাজার ছাড়িয়েও ক্লান্তিহীন গণনা চলছিলো আমার।
যতো দোষ রিকশা ঘোষ!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জানিয়েছেন, ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা থেকে পর্যায়ক্রমে রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হবে। রিকশা উঠিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মূলত যানজটের কথা উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ উক্তির মাত্র দুদিন আগে ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরা ধুন্ধুমার কাণ্ড করেছে। রামপুরা-মগবাজার-মৌচাক ব্যস্ত সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে, গাড়ি ভাংচুর করেছে। পরদিন ভাঙা গাড়ির আরোহী, কান্নারত ও ভয়ার্ত এক শিশুর মানবিক আবেদন-সমৃদ্ধ ছবি ছাপা হয়েছে প্রায় সবকটি শীর্ষ দৈনিকে। এ ছবি দেখে নাগরিক সমাজ স্বভাবতই বিহ্বল হয়েছেন; বোধকরি কান্নারত শিশুর জায়গায় নিজের কিংবা পরিচিত কোনো শিশুর মুখাবয়ব কল্পনা করে শিউরেও উঠেছেন।
গোলাপবালা....

জানো তো, ভালোবাসা কেমন?
আমার হাতের এই গোলাপবালাটার মতোন
চিরযৌবনা, যুগে যুগে বারে বারে ফিরে আসে
সেই একই রূপ নিয়ে, একই আবেদন নিয়ে...
চিরসুন্দরী...
মা'র যুগেও যা, মেয়ের যুগেও তা....
রঙীন... জ্বলজ্বলে...দগদগে...
গোলাপবালা'র সৌন্দর্য্য পুরনো হয়না....
ভালোবাসারও...... ।।
মাঝে মাঝে শুধু সাদা-কালোয় হারিয়ে যায়
রক্ত লাল ভালোবাসা....
--
শিরোনামহীন/ পুত্তলিকা/ পুতুল
১৯শে এপ্রিল ২০০৯, রাত ১টা ৩৯।
ছবি : পুতুলের হাত 
[কবিতাটা জেবীন আপার জন্য পোস্ট করলাম]
হ য ব র ল - ৩
১. আজ বেশ কিছুদিন যাবৎ নিজেকে কেমন জানি অগোছানো লাগছে। সবই ঠিক আছে। বাবা-মা, ছেলে-স্বামী, ভাই-বোন, সংসার – সব ঠিক আছে। কোন কিছুতেই তেমন কোন অসুবিধে নেই, তবুও কেন এমন লাগছে আমি জানিনা।
২. আমার জীবনের বেশি’র ভাগ সময় আমি ঘর কুণোই ছিলাম। বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো এগুলোতে খুব পাগল কখনই ছিলাম না। এমনকি বৃষ্টি’তে ভেজা, অজানা উদ্দেশ্যে হেঁটে বেড়ানো, এগুলোর জন্যও নিজের মধ্যে কখনো কোন আকর্ষন বোধ করিনি। কিন্তু আজ-কাল কেন জানি এই সমস্ত কিছু আমাকে খুব টানে। এগুলো’তে ডুবে থাকতে খুব ইচ্ছে করে আমার। কিন্তু কেন করে, আমি জানিনা।
৩. আমি খুব ছোটবেলা থেকেই খুব জেদী স্বভাবের। না এটা আমার কোন গুন না। এটা আমার একটা দোষই বলা যায়। কিন্তু আমি এরকমই। একটা সময় চেষ্টা করেছিলাম নিজেকে বদলাতে। সেই চেষ্টা’র ফলে আমার জেদ করার পরিমানটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু জেদ এর গভীরতা কমেনি। মানে জেদ করিনা করিনা, কিন্তু যখন মাথায় জেদ চাপে তখন সব শেষ। তবে এখন আর সেই জেদ দমানো’র চেষ্টাও ছেড়ে দিচ্ছি আস্তে আস্তে। কারন, আমার জন্য যেহেতু দুনিয়ার কোন নিয়ম বদলায় না, তাহলে আমি কেন “দুনিয়া কি মনে করবে” ভেবে নিজেকে বদলাবো?
আমার সোনালী হলুদ সূর্য ডোবার কিনারায়
মাঝে মাঝে সিরিয়াস রকম উইয়ার্ড (weird) অবস্থা তৈরী হয়। ভদ্রলোকী-অভদ্রলোকী কোনো কাজ করেই মন ওঠে না। এমন হলে খুব নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে যাই। কেননা আমার দু'টো মুখোশ আছে। দু'টোই যখন আমাকে আড়াল করতে ব্যর্থ হয় তখন ভেতরে ভেতরে অস্থির না হয়ে পারি না। অস্থিরতা কমাতে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম সেদিন। 'না না আজকে আমি জামাইএর সঙ্গে বাইরে যাবো। তুমি চলে যাও।' দ্রুত স্থানত্যাগ করলাম।
সে সময় কেন জানি মাথার ভেতর তিন পাগলের হলো মেলা গানটি বাজছিলো। লালন সাঁইএর তিন গুরু- শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রী নিত্যানন্দ ও অদ্বৈত আচার্য। পনেরো শতকে জন্ম নেয়া তিন বাউন্ডুলে। আবার তিন বৃহত্তম মানবপ্রেমিক। আমার পরিচিত আরো দুই মানবপ্রেমিক হচ্ছেন, স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ। এরা আবার উনিশ শতকের মানুষ। মনে পড়ে গেল একটি গল্প।
জামাই- বৌ
(বৈদেশী আপা তানবীরারে উৎসর্গ...)
বেচারী মহিলারা
জামাইয়ের গায়ে হাত তুললে – নর নির্যাতন
জামাই বৌয়ের গায়ে হাত তুললে – নারী নির্যাতন
জামাইকে কারো সাথে দেখে ফেললে – আইজ তোমার এক দিন কী আমার দুই দিন
জামাইকে কারো সাথে দেখে ফেলে কিছু না বললে – অসম্ভব বিষয়
জামাই ঘরের বাইরে থাকলে – অফিসের নামে লটর পটর
বৌ ঘরের বাইরে থাকলে – শপিং
জামাই ঘরের ভিতরে থাকলে – সারাদিন ঘ্যান ঘ্যান কাওয়ালী
জামাই বাচ্চাদের বকলে – পাষাণ
বৌ বাচ্চাদের বকলে – শাষণ
জামাই বউদের চাকরী করতে না দিলে – সন্দেহবাতিকগ্রস্ত/হিংসুটে
বউদের চাকরী করতে দিলে – বউয়ের দেমাগ বাড়তে সাহায্য করা
জামাই মায়ের কথা শুনলে – বেকুব
জামাই বউয়ের কথা শুনলে – ভেড়া
চলচ্চিত্র রিভিউ: হাজারো খাওয়াশেই এ্যায়সি (২০০৩)

ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে গৃহপরিচারিকারে ধর্ষণের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত শাইনি আহুজার ভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরের খবরটা পত্রিকার এক কোনায় পইড়া থাকলেও আমার নজরে পড়লো। বিষয়টা আকষ্মিক। ভারতীয় সিনেমার খুব বেশি ভক্ত না হওয়ায় শাইনি আহুজা নামের এই অভিনেতার নাম আগে কখনো শোনা হয় নাই। কিন্তু সাত বছরের দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত এই ধর্ষক পুরুষের সাজারে যখন সালমান খান কিম্বা ফারহান আখতারের মতোন তারকারা লঘু পাপে গুরু দণ্ড বইলা পত্রিকাতে বিবৃতি দিলো তখন একেবারেই অভ্যাসবশতঃ তারে নিয়া ইন্টারেনেটে খোঁজাখুঁজি শুরু করলাম।
হ্যাপি ম্যান''স ডে
বেচারা পুরুষরা
মেয়েদের গায়ে হাত তুললে – জালিম
মেয়েরা তাদের গায়ে হাত তুললে – বুজদিল
বউকে কারো সাথে দেখে ফেলে কিছু বললে – জেলাস
বউকে কারো সাথে দেখে ফেলে কিছু না বললে – মিনমিনে
নিজে কারো সাথে বের হলে – বেঈমান
ঘরের বাইরে থাকলে – আওয়ারা
ঘরের ভিতরে থাকলে – অকর্মা
বাচ্চাদের বকলে – জালিম
বাচ্চাদের না বকলে – দায়িত্বহীন
বউদের চাকরী করতে না দিলে – সন্দেহবাতিকগ্রস্ত
বউদের চাকরী করতে দিলে – বউয়ের কামাইয়ে চলা
মায়ের কথা শুনলে – বাবু
বউয়ের কথা শুনলে – হাবু
একটি হিন্দী চেইন মেইলের অনুবাদ। সময়ের স্বল্পতা'র জন্যে ছন্দ মিলাতে পারিনি। 
কেউ মিলিয়ে দিলে আপডেট করে দিবো। তবুও পুরুষজাতিকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুললাম না 
আমার আমি
আমি আসলে খুবই অপদার্থ কিসিমের পাবলিক। ভালো কোন কাজ, ভালো কিছু ধরে রাখতে পারি না। গান, পড়ালেখা, লেখালেখি কোনটাই জীবনে ঠিক করে করলাম না। অথচ সুযোগের আমার অভাব ছিলো না। এখন যে আমার জীবন বা সুযোগ কোনোটা শেষ হয়ে গেছে তাও না। কিন্তু ওই যে বললাম আমি অপদার্থ।
মাঝে মাঝেই মনে হয় একটু পদার্থ হওয়া দরকার। কিন্তু পদার্থ হওয়ার জন্য তেমন কিছুই করি না। মা-বাবা, ভাই-বোন, বোনের জামাই- ভাইয়ের বউ সবাই এত্ত এত্ত ভালোবাসে আমাকে। অথচ কারও জন্যই আমার তেমন কিছু করা হয় না। বাসায় সবার ছোট হওয়াটাই যে আমার এত ভালোবাসার কারণ তাও না। সব বাসাতেই কেউ না কেউ ছোট থাকে। কিন্তু আমার মত এত আদরে কেউ থাকে না।
কিছুদিন আগে একটা "এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম" এর জন্য গিয়েছি ইন্টারভিয়ু্ দিতে। আমাকে বলা হলো - “তোমার জীবনের এমন কোনো একটা ঘটনা বলো যেটা তোমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিলো এবং কিভাবে তুমি সেটা ফেস করেছিলে”।
আজ আমায় চলে যেতে দাও
আজ আমায় চলে যেতে দাও
আমি আবার একটু নতুন করে বাঁচতে চাই
আরেকবার জীবনটাকে শুরু করতে চাই
কতদিন ভোর হওয়া দেখিনা, কাশবনেও যাইনা কতোকাল
শেষ কবে বৃস্টিতে ভিজেছিলাম মনে ও নেই...
খুব ইচ্ছে করে আজকাল, খুব খুব...
আবার সেই উদ্দাম জীবনটা ফিরে পেতে
আবার সেই হারিয়ে যাওয়া "আমি" কে খুঁজে পেতে
জীবনটাকে নতুন করে সাজিয়ে, নিজের জন্য বাঁচতে
আজ আমাকে ধরে রেখনা, আজ আমায় কোন বাধা দিও না
দোহাই লাগে, আমায় চলে যেতে দাও...
~ পুতুল
৫ই এপ্রিল ২০১১
রাত ১২-৪৫ এর দিকে
সিলেট
এটি একটি প্রেমের গল্প হতে পারত
রেল-লাইনের স্লিপারের প্রতি কোনোকালেই আমার আগ্রহ ছিল না। কোনোদিন পথের প্রয়োজনে হয়ত রোদ জর্জরিত দুপুরে দৌড়ে, কখনো হেঁটে পার হয়েছি অসমান্তরাল সমাজের সাথে বেমানান সমান্তরাল দু’টো পাত ধরে। আজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যখন কোনো রিকশা পাচ্ছিলাম না, ওদিকে হাতে সময় কম- তাই শর্টকার্ট হিসেবে রেললাইনের পথটাই বেছে নিলাম।
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে কেবল। জন-মানুষহীন রাস্তায় কেবল মিহি দানার মতো আলো। এই আলোর মতোই যেন আমার অস্তিত্ব; তবে কখনো পরিপূর্ণ হয়ে ফোটে না,ফুটলে সন্ধ্যা হয়ে যায় তাড়াতাড়ি, অথচ আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় আছি, একটি পবিত্র আলোর জন্য, যে আলোতে আমার কদাকার মুখের মুচকি হাসি হঠাৎ করেই নিভে যাবে না, নিভলেও নেভার জন্য পর্যাপ্ত সময় আমাকে দেবে,যেন আমি মানিয়ে নিতে পারি।
নাম দর্শনের মাজেজা : দুই
নাম ছাড়া যে কোন কিছু চলছেই না তার কারণ কি?
আসলে এখনকার দিনের নাম রাখা কর্মসূচির দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখি যে, সন্তানটি জন্ম নেবার পূর্বেই তারা সন্তানটির জন্যে একটি নাম ঠিক করেন অনেক ক্ষেত্রে একাধিক নামও রাখা হয়। তারপর বাচ্চাটি পৃথিবীতে আসে এবং সকলে যখন তাকে একটি নির্দিষ্ট নামে ডাকে তখন বাচ্চাটিও উক্ত নামে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। প্রাচীনকালে অর্থাৎ এই নাম রাখার আদি পর্যায়ের দিকে যখন আমরা তাকাই তখন কিন্তু জন্মাবার পূর্বেই এইভাবে এখনকার মতো নাম ঠিক করা হতো না। তারা প্রথম সন্তানটির কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করতেন, তার স্বভাব দেখতেন এবং তারপর তার একটি নাম-ধাম ঠিক করতেন। এইখানে পাঠককে একটা জিনিষ জানিয়ে রাখতে চাই যে, আদিতে নাম রাখার সাথে ধামও ঠিকঠাক রাখতে হতো। নামের ব্যাক্তিটি কোথায় থাকবে সে ব্যপারটা নিশ্চিত করতে হতো।এবং এখনও ধাম ঠিক করতে হয়,তবে অবশ্যই জন্মাবার অনেক পরে করা হয়।