ইউজার লগইন
ব্লগ
বর্শায় গাঁথা জাহানারা বেগমের আঁচল
সরু গলিটার শেষ মাথা থেকে ছোট ছোট পা ফেলে জাহানারা বড় গলিটায় এসে একটু জিরিয়ে নেবে কিনা ভাবছে। তাকে আরো ৪০০ মিটারের মত হাঁটতে হবে। প্রাচীন শরীর সব সময় কথা শুনতে চায় না। জাহানারা বেগমের বয়স যতটা না তাকে দেখলে তারচেয়েও বয়স্ক লাগে। নিঃসন্তান বিধবা তিনি, নিকটাত্মীয় বলতে দুটো ভাই, তারাও থাকে অনেক দুর। একই শহরে থেকেও যে অনেক দুরে চলে যাওয়া যায় এই মহাব্যস্ত হরিয়ে যাওয়ার শহরে সেটা জাহানারা খুব ভালোই জানে।
নিঃসন্তান হওয়ায় স্বামীর সাথে তার দাম্পত্য জীবন খুব একটা সুখকর ছিলো না কোন কালেই, স্বামী মারা যাবার পর জাহানারার চট্টগ্রামে তার বাপের বাড়িতে চলে আসে, দুই ভাইয়ের কেউ এ বাড়িতে আর থাকে না, ভাড়া দিয়ে নিজেরা আলাদা আলাদা সংসার পেতেছে শহরের অভিজাত এলাকায়। বাড়িটির নোনা ধরা দুটো রুম জাহানারার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়, ভায়েরা মাস শেষে কিছু টাকাও লোক মারফত প্রতিমাসে পাঠায়, সেটা দিয়েই তাঁর ভালোভাবেই দিন চলে যায়।
গল্প: রাতজাগা তারারা দেখে নি দিনের আলোয় পাখির উড়ে যাওয়া
মুনিয়া পাখিটা তার নরম তুলতুলে শরীর নিয়ে আমার হাতে উঠে আসছিলো। সেটার টুকটুকে ছোট্ট পা, নখের মিষ্টি খোঁচা- আমাকে আনন্দময় সুড়সুড়ির অনুভূতি দিচ্ছিলো। নির্নিমেষ চোখে দেখছিলাম, পাখিটাকে আমি চিনি। এটা প্রিয়’দের বাসা থেকে এসেছে। ওর সবচে’ ছোট্ট বোনটা মুনিয়া পাখি পুষে। আমি গেলেই সে পাখিগুলোর খাঁচার কাছে আমাকে নিয়ে যায়। আমি পাখিগুলোকে নিজ হাতে দানা খাওয়াই। পাখিরা যখন হাতের তালু খুটে খুটে দানা খায়, তখন আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু অবুঝ পাখিটার তো তা বোঝার কথা নয়। তাহলে সেটা পথ চিনে চিনে আমার বাসায় উড়ে এসেছে কিসের টানে?
শহীদ আমিনুল হক(গোলাভাই)কে হত্যা করতে একটি গুলিও খরচ করেনি শান্তিবাহিনী ও তার দোসরেরা।
শহীদ আমিনুল হক(গোলাভাই)কে হত্যা করতে একটি গুলিও খরচ করেনি শান্তিবাহিনী ও তার দোসরেরা। কারন গুলির অনেক দাম।??!!!!
১৯৭১, ৭মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ৮মার্চ রেডিওতে প্রচারিত হলে তা সম্পূর্ন রেকর্ড করেন শহিদ আমিনুল হক (গোলাভাই)। এই রেকর্ডই তার জীবনে নিয়ে আসে নির্মম পরিনতি। তিনি জানতেন বাংলার স্বাধীনতা চাইবার জন্য তাকে যে কোন মূহূর্তে প্রাণ দিতে হবে। তার জন্য তিনি প্রস্তত ছিলেন। যেমন প্রস্তত ছিলেন তার বড় ভাই শহিদ জহুরুল হক, শহিদ ডাঃ জিকরুল হক । (এই নিবেদিত প্রাণ বাঙ্গালী পরিবারটির এই ব্যাক্তিদের নাম উচ্চারন করার আগে বিহারী বা বঙ্গালী যে কেউ শহিদ শব্দটি অবশ্যই ব্যাবহার করে। ) কিন্তু তিনি বা তার পরিবারের বা তার সময়কার সৈয়দপুরবাসী কেউ কল্পনা করেনি কি নির্র্মম পরিনতি তার জন্য আপেক্ষা করছে। সেই সময়ের সৈয়দপুরকে যারা দেখেছেন, তারা সেই কথা ভাবলে আজও শিউরে উঠেন।
নিজের সম্পর্কে লিখুন - ১
আমরা বন্ধু ব্লগের ব্লগাররা তাদের নিজেদের সম্পর্কে কি বলেছেন আসুন দেখি, আর তাদের সম্পর্কে পড়ে পাবলিকের মনে তৎক্ষনাত কি প্রতিক্রিয়া হয় - আসেন সেটাও দেখি ;

ভাস্কর- মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয় -
ভাই এদ্দিনে বুঝলাম আপ্নে কেন দিনের বেলা ঘুমাইয়া কাটান ( জনগণের কাছে থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা জানি যে আপনি সারাদিন ঘুমিয়ে কাটান) : গলা হৃদয় গলে যাওয়া আইস ক্রিমের মতই আকাইম্মা, কেউ নিতে চায় না। আপ্নের দিনের বেলা বাইর হওয়া ঠিক না। ( এদ্ভাইস- ভাইজান হৃদয়্টা দিনের বেলা ফ্রিজে রেখে দিলেও পারেন )।

সামছা আকিদা জাহান-যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
আপা তাইলে হুদাহুদি ম্যাচ বাত্তি পুরান কেন? তয় আফনে একবার না পারিলে দেখ শত বারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

জেলবন্দী মানুষ কিংবা দেয়ালবন্দী আমি
১))
প্রায় চৌদ্দ বছর পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে হাঁফ ছেড়ে নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে খেয়াল করলাম, উজ্জ্বল আলোতে চোখ জ্বালা করছে। হাঁফ ছাড়ার কথা ভুলে গিয়ে, আমি চোখের দুর্দশা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। অথচ প্রথমেই আমার ছেলের কথা মনে হওয়া উচিত ছিল কিংবা আমার বৃদ্ধ মা কিভাবে সংসারের ঘানি টানছে সেই বিষয়ে উদগ্রীব হয়ে বাসায় ছুটে যাওয়া উচিত ছিল। ছেলের কথা মনে হলো, অনেক পড়ে। এর মাঝে মুক্ত বাতাসে,মুক্ত মানুষ হয়ে চা খেলাম আয়েশ করে।
তখন খেয়াল হলো- আমার জন্য জেলগেটের বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে নেই। দাঁড়ানোর কথা ছিল না,আমি প্রত্যাশাও করি নি। মা ছাড়া গত চৌদ্দ বছরে কেউ যোগাযোগ করে নি খুব একটা। তাই ফুলের মালা নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে এটা ভাবার মতো বোকা আমি না। তবু হয়ত অবচেতন মন কিছু একটা চাইছিল।
পুরোন ঢাকার ঘিঞ্জি রাস্তাগুলো যে আরো ঘিঞ্জি হয়েছে সেটা বুঝতে না বুঝতেই পেছন থেকে শুনতে পেলাম-
আব্বা, বাসায় চলেন। অনেক রোদ উঠছে আজকে।
রেডিমেড কমেন্ট সংগ্রহ
সবাই খালি সিরিয়াস পোস্ট দেয়! হাসিঠাট্টামশকরা উইঠা গেল নাকি দুনিয়া থিকা?

------এর হাতে যখন মাইক
আমার বাসার সামনে একটি মসজিদ আছে । প্রতি শুক্রবার সেখানে খুতবা পাঠ হয়। বাধ্য হয়ে তাদের বক্তৃতা শুনতে হয়। বিশেষ যখন বারান্দায় যাই তখন শুনতেই হয়। আমি বিভিন্ন ওয়াজে দেখেছি সেখানে ৮০% থাকে মহিলাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। এই মসজিদে প্রতি শুক্রবার মোটামুটি এই বিষোদ্গারটা কম বেশী থাকবেই।
বুকের দুধের আইসন্ক্রিম ?
অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে কতজন কত কিছুই না করছে । তাদেরই একজন ব্রিটিশ নারি ভিক্টোরিয়া হিলে । তিনি তাঁর দুধ বিন্ক্রি করেছেন লন্ডনের একটি কোম্পানির কাছে । আর এ কোম্পানি সেই দুধ দিয়ে আইসন্ক্রিম বানাচ্ছে ! যার নাম ' বেবি গাগা' । ১০আউন্স দুধের জন্য হিলে পাচ্ছেন ১৫ পাউন্ড । আর বেবি গাগা খেতে ন্ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ১৪ পাউন্ড ।
"নেভার লেট মি গো"
কোনো কোনো ছবি দেখে হঠাৎ বিষন্ন হোয়ে যাই, কাজুও ইশিগুরোর "নেভার লেট মি গো" উপন্যাসের চলচিত্রায়ন দেখেও একই রকম বিষন্ন হলাম। যদিও উপন্যাসের পরিসরে যেভাবে বিষয়টা উঠে আসা সম্ভব ছবিতে সেভাবে অনেক কিছুই উপস্থাপন করা সম্ভব না, মাঝে মাঝে শব্দ ছবির চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে, আমার এমনই ধারণা।
ধর্ম বিক্রি বন্ধ করতে হবে
আমি ঢাকায় বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছি সংস্কৃতিমনা পরিবারে। যেখানে গান-বাজনা-নাচ-বিতর্ক কোন কিছুতে বাধা নেই। নির্বিকারভাবে তিন ভাইবোনের যা করতে ইচ্ছে হতো তাই করতে পেরেছি। কারও খাবার প্লেটে ভাত বেশি আর কারও প্লেটে কম এই বিষয়টির সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় ‘মিনা কার্টূনের’ মধ্য দিয়ে। সেই কার্টূনে দেখেছি মিনাকে মাছের ছোট টুকরা দেয়া হয় আর মিনার ভাইকে দেয়া হয় বড় টুকরো। সমাজ সচেতনার নানান উদ্যোগ মাঝে মাঝে শিশুদের মনে আটকে যেতে পারে। আমার মনেও আটকে গিয়েছিল। একজন মার কাছে সন্তানের বিভেদকরণ অত্যন্ত ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে। ভাবতেই পারি না আমার মা অথবা বাবা তার সন্তানকে ছেলে- মেয়ে ভাগে ভাগ করে নিবেন।
কালবেলার সেই মাধবীলতা

মাধবীলতার কথা মনে আছে? সেই যে অনিমেষের মাধবীলতা।
একটা সময় গভীর প্রেমে পড়েছিলাম মাধবীলতার। মাধবীলতা যদিও আমার প্রথম প্রেম ছিল না। প্রথম প্রেম ছিল মেমসাহেব। জীবনে একজন মেমসাহেব থাকবে, তার প্রেরণায় আমি বিরাট কিছু হয়ে যাবো তাও যে ভাবিনি তা নয়। কিন্তু মেমসাহেবের মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হতো। এদিক থেকে নিমাই ভট্টাচার্য বেশ নিষ্ঠুর। এরপরে প্রেমে পড়েছিলাম সুনন্দার। চলতি পথে কোনো এক সুনন্দার সাথে হঠাৎ দেখা হওয়ার কথা খুব ভাবতাম। কিন্তু চারুদত্ত আধারকারের বঞ্চনার জন্য সুনন্দা কতটা দায়ী সে বিতর্ক এখনো আমার মনে রয়ে গেছে। এর পর প্রেমে পড়ি মাধবীলতার। আহা! মাধবীলতা।
হ য ব র ল - ৪
২০১০ সালের শেষ লগ্নে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিষ্টের প্রায় ৬০% মানুষের স্টেটাসটি এরকম ছিলো যে “২০১০ সালের মত এমন খারাপ বছর যেন আর দেখতে না হয়”। আসলেই কি তাই হচ্ছে? ২০১১ সালের শুরু থেকে চারিদিকে কেবল মৃত্যু আর মৃত্যু। মাত্র এপ্রিল মাস শুরু, এই তিন মাসের মাঝে চেনা পরিচিতদের মাঝে প্রায় ৭-৮টি মৃত্যু সংবাদ।
১. আমার এক চাচী (আব্বার কাজিনের ওয়াইফ), আগুনে পুড়ে গিয়ে ঝলসে যাওয়া দগদগে শরীর নিয়ে কষ্ট করলেন। মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করলেন টানা দুই মাস। কিন্তু শেষমেশ কিছুদিন আগে পরাজিত হলেন মৃত্যুর কাছে।
২. কিছুদিন আগে সিলেটে এক তরুনী তার ঘরের কাজের মেয়েটি সহ খুন হলেন। অনেকেই হয়তো খবরটি জানেন, পেপারে পড়েছেন। সেই মেয়েটিও আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সামান্য ৩০ হাজার টাকার জন্য কত নৃশংস ভাবে মৃত্যু হলো তার। সেদিন তার নিকটাত্মীয়র কাছে শুনলাম পুরো কাহিনী। মারা যাওয়ার পর আটদিন তার লাশ পরে ছিলো ঘরের মেঝেতে। আটদিন? মৃত্যুও তো শান্তি দিলো না মানুষটাকে।
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি
হঠাৎ ডান হাতে চাপ বোধ হলো। কোনভাবে দূর করতে পারছি না। মনে হলো নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। মাংসের মধ্যে কিছু একটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। চাকা চাকা পিন্ড জোট পাকাচ্ছে। ভয় পেয়ে গেলাম, প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছি না তো!
মাউস ধরতে গিয়ে বিপত্তি। একমাত্র নাতিটা এ নিয়ে বেশ কথা শোনায়। “এখনও তুমি মাউস ব্যবহার করো? কবে যে একটু আধুনিক হবে! সেই পুরানো ওয়েবে পড়ে আছো ত্রিশ বছর যাবত!” কিন্তু মেমরী স্ক্রিনে তেমন সুবিধা পাই না। মাউস, কীবোর্ড চেপে এখনও শান্তি মেলে। হাতের ভেতরে জোট পাকানো ক্লাস্টার গুলো আলগা হলো। মাংস আর রক্তের মধ্যে স্বাভাবিক ত্বরণ শুরু হয়েছে।
যৌনতার ইতিহাস আর কিছু যৌনসর্ম্পকের ভিডিও বিষয়ক আলোচনা...
সূচনা:
“সিফফিনের যুদ্ধ ও আমিনীর হরতাল”
দুটো ঘটনাই অতীতের, একটা সুদূর অতীত আরেকটা নিকট অতীতের। গত দুই দিন ধরেই আমার মন কেবল খচ খচ করছে, তাই খচখচানি থামানোর জন্য লিখতে বসলাম।
১) সিফফিনের যুদ্ধঃ-
সময়ঃ- জুলাই মাস, ৬৫৭ খৃষ্টাব্দ।
স্থানঃ- সিফফিন, ইউফ্রেটিস নদীর তীর, ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা।
প্রথম পক্ষঃ- হজরত আলী- (ফাতিমার স্বামী ও নবীজির জামাতা, বহুল পরিচিত, তাই অধিক পরিচয়ের দরকার আছে বলে মনে করছিনা)।
দ্বিতীয় পক্ষঃ- হযরত মাবিয়া – (পিতা আবু সুফিয়ান, মাতা- হিন্দা, এই সেই হিন্দা যিনি নবিজীর চাচা আমির হামজার হৃদপিন্ড কাঁচা চিবিয়ে খেয়েছিল। আর আবু সুফিয়ান- যিনি সারা জীবন নবীজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শেষ বয়সে প্যাদানির ডরে মুসলমান হয়ে পিঠ বাঁচানোর জন্য নিজের মেয়েকে নবীর সাথে বিয়ে দেন। মাবিয়ার আরো একটা বড় পরিচয় আছে, তিনি হলেন বহুল পরিচিত ‘ইয়াযিদ’- মানে এযিদের পিতা)।