ইউজার লগইন

জেবীন'এর ব্লগ

হুদাহুদাই ...... মোটেই নাহ!

আমার বন্ধুভাগ্য খুবই চমৎকার! কারুর জন্যে কিচ্ছু করতে না পারা, কিবা অনেক গুনী মানুষগুলোর ভিড়ে একদমই অকাজের আমি’টার ভাগ্যে অনেক সময় নিজেই অবাক হই। গৌতমের লেখাটা পড়ছিলাম, পড়ে লাগলো এই আন্তর্জালিক ক্ষেত্রের বন্ধুগুলো কি আষ্টেপৃষ্টেই না জড়িয়ে আছে জীবনের চলার পথে! এই মানুষগুলো কেবল কথার পিঠে কথা ছুড়ে দিয়েই নয়, কাজেও ধারেকাছেই থাকেন। হয়তো আমার গন্ডিটা ছোট্ট বলেই বলতে পারছি এমনটা।

একাকীকথণ (৩)

ধানের শীষগুলোর উপর দিয়ে বাতাস খেলে যাচ্ছে কি সুন্দর, ওরা এই কাত হয়ে যাচ্ছে বাতাসের তোড়ে আবার ঝিলিক দিয়েই মাথা সোজা করে দাড়াচ্ছে। ক্ষেতের কাছে ভরা রোদ্দুরের মাঝে এই পুরানোগাছের কাছটাতে ছায়া রইবেই জানতাম, আরো জানতাম এখানে এসে ক্ষয়ে যাওয়া গাছের গুড়িটাতে বসলেই গা ঠান্ডা করা বাতাসে জুড়াবেই মন। কিন্তু তাও কতোদিন পর আসা হলো এখানটায়, নিজেকে এখন দু’দন্ড শান্তি দিতেও মন টানে না, কেবল কষ্টগুলোকে ঠেঙ্গিয়ে দিন পার করাই যেন জীবন, কান্নাও এখন বিলাসিতা।

হুদাহুদাই (৫)

আঙ্গুলের কড়ায় গুনতে গেলে মাত্র আট, সংখ্যায় খুবই নগন্য। কিন্তু এই দু’গন্ডা মাসের সময়টাতেই দুই ঈদ, পুজা আর ক্রীসমাস পার করলাম এখানে। রোজাতে ইফতার-সেহেরির সময় উল্লেখ করা অনেক ক্যলেন্ডার, দাওয়াত পেলেও রোজার সেই আমেজটা স্বাভাবিক ভাবেই একদমই পাইনি। ইফতারে আজান শুনতাম অনলাইনে ইন্সটল করা আজান সফটওয়ার দিয়ে আর সেহেরি ঘড়ি দেখে। দাওয়াতগুলো ইফতারির চেয়ে শো-অফই বেশি লেগেছে, তা সবার সাজগোজ কিবা টেবিলে খাবারের পদের বাহুল্যই বলেন। দাওয়াতে পরিবারের কোন সদস্য যদি না আসে, তার জন্যে খাবার প্যাক করে দেয়ার একটা রীতি চালু আছে এখানে, দেখে বেশ লাগলো, কারন ছোট থেকেই মা-খালাদের দেখতাম এমনি করে দাওয়াত শেষে খাবার প্যাক করতে বসছেন।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের .....“ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”

এ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চকর, ভূতুড়ে নাকি রহস্য ভরা গল্প কি বলবো ভেবেই পাচ্ছি না, একদম সঠিক নামই দেয়া হয়েছে এর “অদ্ভুতুড়ে সিরিজ”! এই সিরিজেরই এক গল্প “ষোল নম্বর ফটিক ঘোষ”। ফটিক নামটা পড়লেই লাগে কিশোরোপযোগী কোন গল্প! হ্যাঁ, তাইই, তবে মূলত গ্রামের পটভূমিতে লেখা এই সিরিজের গল্পগুলোর মজায় ডুবে যেতে আপনার বয়েস কোন বাধাই হবে না, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা এই গল্পগুলো এমনই।

মুর‌্যাল এলো এই বসন্তে বইমেলাতে! - ছবি ব্লগ

ss

প্রথম সংকলন ফুরিয়ে যাবার পর গতকাল বইমেলায় ফাল্গুনের বসন্ত বাতাসে সব এলোমেলো করে দিতে এলো "মুর‌্যাল"

ss
টিভি ক্যামেরাও কাভার করতে এসে গিয়েছিলো মুর‌্যালের আগমনীকে, কিন্তু আমাদের 'বিষাক্ত মানুষ' দখল করে ফেললো ফুটেজ! শত হলেও মডেল বলে কথা!

ss
ধন্দে পড়বেন না, বিজ্ঞাপন তৈরী বাদ দিয়ে ভাস্কর'দা টুথপেষ্টের বিজ্ঞাপনে নামেননি, মুর‌্যাল'কে নিয়ে উনার প্রানোচ্ছল প্রতিক্রিয়া!

ss
মুর‌্যাল হাতে পেয়েও জনৈক শেয়ার ব্যাবসায়ীর এলোমেলো চাহুনি!

হুদাহুদাই (৪)

উপহার দেও, উপহার। অপরকে আর নিজকে, সে দেওয়াও আনন্দ, নেওয়াতেও। ক্ষমা করে দেওয়াতে কিবা বিস্মৃত হয়ে যাওয়াতেই সকল আনন্দ নিহিত। কিন্তু দেয়া নেয়ার এই খেলাতে ভীষন অপটু যে! হাসিতো সংক্রামক কিন্তু দূঃখের অনুভূতিও কি তাই? তবে একটাকে ভালোবাসি অপরটাকে কেনইবা ডরাই! আমার ঘরের দক্ষিনা জানালা দিয়ে আম-কাঠাল গাছের ফাকঁ দিয়ে কেবল একফালি না, উঠান জুড়ানো জোছনা দেখা যেত। এখনতো দিব্যদৃষ্টিতে জোছনা দেখি না, ঘোর লাগা আলোতে আর অহেতুক খুশিতে ভাসতে পারি না। দেখার আর অনুভবের বিষয়টাতে এতো বৈপরীত্ব কেন হয়? এখন হঠাৎ অজান্তেই মন জোছনাময় হয়, সব ভার হয়ে যায় । আজ আবার তেমনি জোছনা, আজ আবারও মন ভালোনা।(লাল্ভাইর কথা এটা, পড়েই আসলে মন ভার হয়ে গেছে।)

শেখার মজা!

ছোট্টবেলাতে সহজ উপায়ে পড়া মুখস্ত করার কতো যে বুদ্ধি বের করা হতো। সব টিচারই ধরে কেবল ঠোটস্থ করাতেন না পড়া, কেউ কেউ ছিলেন বুঝাতেন, আর যেন সহজে পড়া মনে ধরে তাই কিছু মজার মজার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। কিন্তু সাধারনত প্রাইভেট টিউটর কিবা কোচিং-এর স্যাররাই এমনটা করতেন। স্কুলে থাকতে একেকবার একেকজনা এইসব রকমারি পদ্ধতি হাজির করে বাহবা কুড়াতাম। সরল অঙ্ক, ইতিহাস, গনিত সব বিষয়েরই কিছু না কিছু এমনি সহজ উপায় ছিলো। “বাবার ইলো বার জ্বর, সারিলো ষধে!” লাইনটা থেকে একবারেই ইতিহাসের সম্রাটদের নাম ক্রমানুসারে মনে রাখতে পারতাম। বাবর> হুমায়ূন>আকবর> জাহাঙ্গীর> শাজাহান>ঔরংজেব। পুরো মুঘল সাম্রাজ্যের হোতারা পরপর একলাইনে হাজির!

হুদাহুদাই (৩)

সেই যে একটা গান আছে না, “পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে”, কিবা “... শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে, লাল-লাল নীল-নীল বাত্তি দেইখা পরান জুড়াইছে!” আমার চারপাশের সব পালটে গেলেও, হরেক চোখ ধাঁধাঁনো সব দেখেও কিছুই নতুন চমকদার লাগে না, মনে স্বস্থি আসে না। এখানে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিষন্নতা ভর করেছে, প্রায়শই এই বিষন্ন আমিটাকে বিরক্ত লাগছে। যাই দেখি লাগে, এসব তো আমার না, আমি এখানকার না। কোন ভাগ্যদোষে এসে পড়লাম এখানে!

প্রামান্যচিত্রঃ 'অপরাজেয় বাংলা'

bangal.jpg

অপরাজেয় বাংলা আমাদের অতি চেনা স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। দীপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই তেজস্বি তরুনতরুনী ত্রয় আমাদের কাছে কেবল মাত্র তিনটি মুর্তিই নয়, স্বাধীনতার কালে অন্যায়ের প্রতিবাদে গর্জে উঠা আমাদের যুবসমাজের প্রতীক এটি। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের স্মারক - দুই যোদ্ধা-পুরুষ,সঙ্গে শুশ্রূষার প্রতিরূপ এক নারীর এ ভাস্কর্যটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে আন্দোলন প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। আজো যেকোন প্রতিবাদের স্থানই হয়ে উঠে এই অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ, মূর্তিত্রয়ের চোখে কালো কাপড় বেধেঁও জানানো হয় অহিংস প্রতিবাদ।

ক্যানবেরা; তাতে ঘুরাফেরা ...

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে প্রতি বসন্তকাল উদযাপন করা হয়ে থাকে ফুলের উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে, যার নাম Floriade। টিউলিপ ফুলের মেলার কথা শুনলেই মনে ভেসে উঠে “সিলসিলা” মুভির সেই গানের দৃশ্য। ফুলের সারি অতটা বিস্তৃত না হলেও অনেক অনেক টিউলিপ ফুলের সমাহার ঘটানো হয় এই “ক্যানবেরা ফুলের উৎসবে”। এবারের উৎসবের থিম ছিলো “এ ফিষ্ট ফর দা সেন্স’স”। সেই ১৯৮৮ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আরম্ভ হয়, যার মূল আকর্ষনই হচ্ছে রংবেরঙ্গের হাজারে হাজার টিউলিপ ফুল। মাসব্যাপি চলা এই মেলায় ফুল প্রদর্শনীর পাশাপাশি পুরো সময় জুড়ে নানান বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, নানান জাতের আর্টের - গাছ, খাবার, গ্লাস, ফুলের ডিজাইন ইত্যাদির প্রদর্শনী,সার্কাস, বাচ্চাদের জন্য মজার মজার ইভেন্ট এবং আরো অনেককিছু, যা কেবল দিনেই নয় রাত জুড়েও চলে। ক্যানবেরার কমনওয়েলথ পার্ক এই ফুলের উৎসবের সময় দিনরাত আলোকিত থাকে অনন্য সাজে।

হুদাহুদাই (২)

প্লেনে যাতায়াত ভাড়ার সাথে খাবার আর অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সুবিধাদির খরচ যোগ করা থাকে - এটাই সাধারনত হয়ে থাকে। কিন্তু ধরুন যদি প্লেনে বসে খিদে পেলেই খাবার কিনতে হচ্ছে কিংবা টয়লেটে যাবার তাগিদে প্রতিবারই আপনাকে পকেটের পয়সা দিতে হচ্ছে, কেমন লাগবে ব্যাপারটা? খাবার মানলাম আপনি কিছু না কিছু বয়ে নিয়ে যেতে পারেন সাথে করে কিন্তু টাট্টিখানার কি ব্যবস্থা করা সম্ভব? প্রথম যখন জানলাম প্লেনে এমন হাস্যকর ব্যবস্থা সত্যিই আছে, হাসবো না অবাক হবো বুঝেই উঠিনি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একজন জানালো, এই ব্যবস্থা আছে ''ফ্লাইমি'' নামের ইউরোপের এক এয়ারলাইন্সে!

হুদাহুদাই (১)

কোন মহিলা প্রথম বিদেশযাত্রা নিয়ে ভ্রমণকাহিনী লিখেছিলেন?

সম্পর্কের টানাপোড়েন

সেদিন রাতে ঘরে ফেরার পর আমার স্ত্রী যখন রাতের খাবারের জন্যে ডাকলো, আমি তার হাত ধরে বললাম, “কিছু বলার ছিলো তোমায়”। ও কিছু না বলে চুপ করে খাবার খাওয়া শেষ করলো। আমি আবারো ওর চোখের কষ্টের ছোয়াঁ লক্ষ্য করলাম। কি ভাবে কি বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কিন্তু আমাকে যে বলতেই হবে যা আমার মনে চলছে।

“আমি তালাক চাইছি” - মনস্থির করে কথাটা তুললাম। অবাক হলাম যখন দেখলাম রেগে উঠার পরিবর্তে ও মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলো, “কেন?” প্রশ্নটা না শোনার ভান করে এড়িয়ে যেতে চাইতেই রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে হাতের চামচ ছুড়েঁ চিৎকার করে বলে উঠলো “তুমি মানুষ নও!”

সুখ তুমি কি বড়ো জানতে ইচ্ছে করে

সুখ নিয়ে কতজনের কতো কথকতা। ভালো নাই, চারিদিক খাঁ খাঁ, মন সে এক তলাবিহীন ঝুড়ি কিছুতেই ভরে না, সব থেকেও ঠিক যেন কি নাই নাই - ইত্যাকার হাহাকারে প্রকম্পিত চারিধার। কেউ বিষন্নতার শেকড়ঁ সন্ধানে মেঘবালকের সাথে বন্ধুত্বতার অভিপ্রায়ে আছেন। কেউ আবার “তোমার লগে হইলো না প্রেম অপেক্ষাতেই হইলো সার, আমার হৃদয় হইলো তোমার গোলাপ গাছের জৈবসার!” ভাব নিয়ে রাতদিন হাপিতেষ্য করে তেনাতেই সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস এতেই মজে আছেন।

সুখি হবার পন্থা কি, আদৌ কি আছে নিরন্তর সুখি হবার উপায়? যতই অবারিত পেয়ে যাই তবুও অধরার পানে ছুটেই না পাওয়ার হাহাকার নিয়েই যেন সবার দুঃখবিলাস। বিলাসী আমিও, অনেক উচ্চমাত্রার। কে জানে এই বিলাসী হওয়াটাও সুখের কোন রুপ কিনা!

বাস রে বাস!!

অফিস থেকে যখন গাড়ি পাইনি, বাসই ছিলো ভরসা। বাসে যাতায়াত করার কথা শুনে একবন্ধু বলেছিল, “আহা, এবার দেখবা কতো ধাক্কাধাক্কিতে ওস্তাদ আর ঝগড়াটি তুমি”। আসলেই একেকদিন একেক কান্ড দেখতাম, ধাক্কা দিয়া বাসে ওঠা আগে সিটে বসা নিয়া। সবাই নিরুপায়, আর সবারই অফিস যাবার তাড়া থাকে, আরামে যাবার ইচ্ছে থাকে। বাসে ঝগড়াতে যোগ না দিলেও মজা করে সেইসব দেখাতেই আমার বিমলান্দ।

এখন ঢাকার বাসে মেয়েদের জন্যে ৯টা সিট বরাদ্দ করেছে সরকার। যদিও পাবলিক বাসে দেখিনি এটা, কিন্তু টিকিট কাটা বাসগুলোতে ডানদিকের ৯টা সিট মেয়েদের জন্যে রাখা হয়। বাসের গায়ে ডান পাশে লেখা থাকে “মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধিদের জন্যে বরাদ্দকৃত”। এই বরাদ্দকৃত সিটের ব্যাপারে অনেকেই ওয়াকিবহাল এখন, তবু হরহামেশাই ঝামেলা বেধেঁ যায়।