ইউজার লগইন

জেবীন'এর ব্লগ

একাকীকথন ১

হু হু করে বাস চলছে। পাশের সিটে বসে আছে উকিলের মুহুরীসাব। আচঁলের খুটঁটা সতর্কতার সাথে বুকের কাছে ধরে মুমিনা বেগম ভাবছে সামনের দিনগুলোর কথা। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে, মুখে কোন শব্দ নাই। এই টাকা ক'টা ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে, জানতে পেরেছে বাড়ি গেলে উকিলসাব আরো পন্চাশ হাজার দিবেন। এই দিয়ে শুরু করতে হবে আগামীর পথচলা। চরে এখন বাদাম, সয়াবিনের খন্দ চলছে সেগুলোতে কিছু টাকা লাগাতে হবে, আর সাথে কিছু জমি বন্ধক নিতে পারলে আসছে ধানের মৌসুমটাতে কিছু লাভের মুখ দেখবে, নিজের তো জমি-জিরাত কিছুই নাই। এসব করার পর চেষ্টা করবে বাছুর কেনার। এই করেই গড়তে হবে নাতিটার আসছে ভবিষ্যতের পথ। এখন ও পড়ছে কেলাস থ্রিতে, ইচ্ছা আছে ফাইপ পাস করানোর, তারপর একবেলা গন্জ্ঞের চা-দোকানে কাজে দেয়ার। কত কিসিমের লোকজন আসে ওখানে, দিন-দুনিয়ার চাল শিখবে, অন্যবেলা লেখা পড়া করলে করুক।

একাকীকথন ২

ইচ্ছে ছিলো দক্ষিনমুখী একটা বারান্দা হবে, আয়েশ করে সকালের চায়ের ওম নিতে নিতে পারিপার্শিক খবরাদি জানা যাবে, অলস কোন দুপুরে বারান্দা পেরিয়ে রোদেলা হুটহাট এসে পড়বে শোবার ঘরটায়। সাধসাধ্য দু’টাই থাকা স্বত্তেও বাড়ির গা ঘেষে দরদর করে দালানকোঠা উঠে পড়ায় সেই আশায় গুড়ে বালি। নিজে যেমন এতটুকু জায়গায়ও না ছেড়ে ফ্লাট তুলেছেন ঠিক তেমনি পাশের প্লটের জনও, তাও স্বস্তি এটুকুই যে পূর্বদিকটা রাস্তা বিধায় তাতে বারান্দা করে বসার যোগার হয়েছে।

নানান ভাবনার রৌদ্রজ্জ্বল সকালটা বিষাদে ছেয়ে দিলো দিনের পত্রিকাটা। দু’টা ভিন্ন ধাচেঁর খবর “মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটা নারী নির্যাতনের বিচারের দাবীতে সোচ্চার জনতা” আর “গণধর্ষনের শিকার জনৈকা”। কিছুপর বিষাদ ছাপিয়েও অবাক লাগল এই আশ্চর্য মিল এতো দিন পর উপলব্ধি হলো বলে, এটা সম্ভব হয়েছে ঐ খবর দু’টো পাশাপাশি কলামে ছিলো বলেই।

এম্নিই ...

সোনার দাম হু হু করে বাড়ছে, মেয়েটারও বিবিএ ফাইনাল সেমিস্টার চলছে, হাতে আছে বেশ ভালো কয়েকটা প্রস্তাব। সব ভেবেচিন্তে পরিকল্পনা করেই এগুচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। ঘরের নতুন ফার্নিচার তৈরী করা, গয়না গড়িয়ে রাখা আর দুজন ছেলের পরিবারের সাথে জানাশোনা করা শুরু করলেন, পরীক্ষা শেষ হতেই মেয়ে বিয়ে দেবেন। এতোকিছুর শরীরটা যে বেশ খারাপ হতে শুরু করছিলো আমলেই আনেননি বাবাটা। কিন্তু জানুয়ারীর ঢাকা এসে গেলেন মোটেই চেনাজানা নয় শুধুই বারডেমের মতো বড় জায়গার গ্যাস্ট্রোলজির বড়ো ডাক্তারের কাছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এন্ডোস্কপি কতো কি করে জানা গেলো কিচ্ছু নয়, শুধু গ্যাস্টিকের সমস্যা, ভালো হয়ে যেতে সময় নেবে না।

ওর আর কাছে যেতে চাই না আমি

আমি হসপিটাল খুবই অপছন্দ করি, ভয় না তবে কি একটা অস্বস্থি কাজ করে তাই পারতপক্ষে যাওয়া হয় না আমার। বোন-ভাইয়েদের বাচ্চা হলো, আমি ওদের দেখেছি বাসায় আসার পর। সৃষ্টিকর্তার অসীম করুনায় হাতে গোনা দু’একবার ছাড়া আমাকে যেতেই হয়নি হসপিটালে। সেই আমিই যখন ভর্তি হলাম ছোট্ট একটা অপারেশনের জন্যে খুবই বিরক্তিকর অবস্থায় পড়লাম। ব্যাথাবেদনার একটুও স্মৃতি নাই আমার ঐ বিষয়টায়, তবে অম্লান হয়ে আছে যে মূহুর্তটা থাকবে সারাজীবনই। পোষ্ট অপারেটিভে সাধারনত বাইরের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না, তবে ভাইয়ার বন্ধুস্থানীয়রা ছিলো বিধায় আম্মা-আব্বা গেলেন আমায় দেখতে, গলার স্বরে বুঝতে পারলাম উনাদের উপস্থিতি তবে চোখ মেলে দেখতেই পারছিলাম না সিডেটিভের ঘোরে। প্রথম চোখটা মেলে দেখলাম ওর মুখটা, অবাক হয়েছিলাম এখানে কি করে এলো “ও”!

দৈনন্দিনতা

বহুব্রীহি নাটকে দেখেছিলাম বাচ্চারা বাবাকে জিজ্ঞেস করছে, “বাবা আমরা স্বাধীন হতে চাই’, আর স্বাধীন হয়ে কাপড় খুলে চলতে চাই!”

স্বাধীনতা কি নির্লজ্জতা শেখায়? স্বাধীন হলেই যথেচ্ছাচার করা কি সম্ভব নাকি শোভনীয়? উলটো স্বাধীনতার সাথে দায়িত্ববোধটাই চলে আসে সামনে, নিজের ব্যবহারেই আরো বেশি যত্নশীল হতে হয়। আমি স্বাধীন তাই বলেই যার তার সাথে যেমন তেমন চলে জীবনকে উপভোগ্য করে তুলবো, এতে কার কি আসে যায়। একটা মূহুর্তের খাতিরে হাজারো মিথ্যের ঝাপি খুলে বসে, সেই ক্ষনিকের আনন্দটুকু পেলাম না হয়, কিন্তু সেই মিথ্যের বেড়াজালে যাদেরকে জড়িয়ে ফেলি, একটা ক্ষমা প্রার্থনাই তো তাদের সব বেদনা মুছে ফেলতে পারে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কালিমা যেই দমবন্ধ করা প্রকোষ্ঠে অন্যদের ফেলে দেয় এক ক্ষমাতেই তা থেকে বেরিয়ে আনা সম্ভব হলে মানুষ মহামানবের পর্যায়ে পৌছেঁ যেত।

দাম্পত্যঃ আহা, উত্তাপ কতো সুন্দর তুই থার্মোমিটারে মাপলে!!

দিল্লী’র লাড্ডু আসলেই খেতে কেমন তা কেউ পরিষ্কার করে জানায় না। সবাই কেবল দাম্পত্যের সাথে তুলনা দিতে গিয়ে টেনে আনে দিল্লী কা লাড্ডুর কথা যেটা নাকি খেয়েও পস্তাতে হয় আবার জেনে শুনে না খেয়েও গতি নাই কারুরই। লাড্ডুটা খাওয়া মেয়েটা যে পুরুষটি তাকে বিয়ে করতে চায় তাকে সারাজীবন মনে রাখে। আর ভাবে একআধটু উল্টোপাল্টা থাকলেও বিয়ের পর হাজব্যান্ড বদলে যাবে, কিন্তু তা হয় না। আবার উলটো ক্ষেত্রে বরটা সেসব নারীকে আজীবন মনে রাখে যাদের সে বিয়ে করেনি। আবার মনে করে প্রেমিকা স্ত্রী হওয়ার পরও একই রকম থেকে যাবে, কিন্তু, হায়! স্ত্রী বদলে যায়।

আমাদের, তুমি আমি

কথোপকথনঃ

- কি সারাদিন খালি প্রশ্ন! এতো প্রশ্ন আসে কোত্থেকে তোমার?

- বলো না, মন যে ছুয়েঁছি তা কি পুরোটাই? ভালোবাসো আমায়?

- “সখি ভালোবাসা কারে কয়
একি শুধু এক ধোকাঁ নয়?”

- “এই যে হৃদয় উপড়ানো ভালোবাসা,
একি নিতান্তই দু’দিনের খেলা,
নাকি সেই সে অনুভূতি, যা চিরকাল থাকে না বলা!!”

- তোমার আরো বলার বাকি আছে নাকি, দিনমান এতোবার বলছো তাও!!

- “চিলতে রোদে পাখনা ডোবা,
মুচকি হাসে শহরতলী
রোজ সকালে পড়ছে মনে,
সেই কথাটা কেমনে বলি?”

- “অনেক সুখের মাঝে যখন ভূতেরা পিঠে কিলায়,
ভালোবাসি বলে মানুষ অবলীলায়!”

- হুহ! বেশি বুঝো তুমি! তাইতো একবার বলেই শেষ!

- হ্যাঁ, যেটা বলার বলেছিই তো, আর কি?

পিঠাপিঠির ভালোবাসা

মা ঘরের কাজে ব্যস্ত, তার চেয়ে পাহাড়সম ব্যস্ততায় ডুবে আছে একবছর দশমাসের নওশীন। দাদার সাথে চাচাতো ভাইদু'টাকে স্কুল থেকে আনতে যেতে হবে, ছোটচাচুর সাথে সময়মতো নিচে গিয়ে পানির মটার ছেড়ে পানি তুলতে হবে, বুয়া এলে তার পেছন পেছন ঘরে ঘরে ঘুরা আর দীদাকে পান খাওয়ায় সঙ্গ না দিলে কি করে চলবে সব!

পোলিশ ডিভোর্স!!

পোলিশ একলোক আমেরিকা যাবার পর বিয়ে করলো এক আমেরিকান মেয়েকে। যদিও লোকটা ইংরেজীতে মোটেই ভালো না, কিন্তু তারা সুখেই ঘরসংসার করছিলো।

একদিন হন্তদন্ত হয়ে উকিলের কাছে হাজির হয়ে ভদ্রলোক যত সম্ভব দ্রুত তার ডিভোর্সের ব্যবস্থা করতে বললেন। উকিল জানালো পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ডিভোর্স পাওয়া যেতে পারে, তাই কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেনঃ

      - আপনার কি কোন গ্রাঊন্ড আছে?
      - হ্যাঁ, এক একর জমি আর ছোট্ট একটা বাড়ি।

   

সম্পূর্ন রঙ্গিন "বন্ধু বেঈমান" সিনেমার পোষ্টার

picture3431copy.jpg

পুরা জমজমাট কাহিনী! সে এক

১১৭৭২৯ আর সেই নয়টা মাস

- “খবরদার! সরাতে না মানা করেছি ওটা।”

- “হুহ! কিচ্ছু করা যায় না ছাতার এই মেশিন দিয়ে তাও রেখে দিছেন, এত্তো করে বলছি এটাকে স্টোররুমে রাখি, তা না অকাজের জিনিসটা রাখতে হবে একদম সামনে!”

- “যতন না করলে রতনও চমকায় না, মুছে পুছে রাখবি, ঠিকই কাজ দেবে। এতো ভালো মেশিন আজকাল তৈরীই হয় না, আজ ৪০ বছরেও চলছে এটা। আর সবচেয়ে বড়ো কথা এটার সাথে জড়িয়ে আছে আমার কতো স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধের সেই কষ্টের সময়ও তোদের বাপ-দাদাও পারেনি আমার কাছ থেকে এটাকে দূরে রাখতে।”

বুদ্ধিমানের প্যাচালী

অনেকগুলা খালাতো-মামাতো-চাচাতো ভাইবোন থাকলে অনেক প্যাচ লাগে যেমন মজাও হয় তেমনি, একেকবারের আড্ডায় শুরু হয় কাউকে নিয়ে পচাঁনি দেয়া, তাতে বের হয় কতো কতো না জানা কাহিনী! সাধারনত একজনের একের বেশি কাহিনী থাকে না তবে ব্যতিক্রম ও থাকে। তেমনি এক আড্ডায় পাওয়া এক কাজিনের কাহিনী, যা কি না দেখা গেলো ছোটকাল থেকেই ঘটনাবহুল! Laughing out loud

উৎসর্গ ও উদ্দেশ্য মেসবাহ য়াযাদ আর বিধেয় আমরা আমরাই

খোচাঁনিঃ যখন তখন ধুমধারাক্কা আড্ডা দিতে দিতে সেটা পিকনিকের রূপ নেয়া কোন ব্যাপারই না, কিন্তু আমরা সব্বাইরে নিয়ে পিকনিক করার পক্ষপাতী। গোপনের কাজকারবার নাই এবি’র, নাই কোন সূত্রধর ও! শুনছি, কানে কানে কথা বলে কাইন্যা আর তার বৌ!  Wink   তাই কোন কাইন্যার বৌয়ের থুক্কু গোপনীয় সুত্রের দোহাই দিয়ে কাজী’সাব যা বলিলেন তার ধিক্কার জানাই!  আমরা জ্বলুনি’ওলা পাব্লিক না তাই আমাদের ছোট্ট ছোট্ট মজার আড্ডাও বিশাল আনন্দময় হয়ে হজম হয়... 8)  আর কারো কারো বিশাল  ঘুরান্তিসের সুযোগ এলেও লোটা-কম্বল সম্বল হয়ে পড়ে!  Tongue

 মূলঃ মেসবাহভাই এককালের শ’দেড়েক মানুষ ভরা জাহাজ নিয়া হারিয়ে যাওয়া প্রতিথযশা গামছা গলায় দেয়া কাপ্তান! হুটহাট করেই কতো কতো পিকনিকের কার্য সম্পন্ন করে ফেলেন উনি। শুধু কি তাই, সারা পিকনিক মাতায়ে রাখতে উনি সিদ্ধহস্ত! সেই মেসবাহভাইকে গতক’দিন যাবত হন্যে হয়ে খুজঁছি আমরা। উনার ফেসবুকের পাতা ভরে আছে সেই খোজঁ দা সার্চ- এর প্রমানে।   Stare কিন্তু আমরা সিষ্টেম্যাটিক্যালি এগিয়ে যাই নাই, কারন উনারে ফেসবুকে মেসেজ দিলে সেটা মোবাইলে এসএমএস করে জানাইতে হয় এবং ফোন করে বলতে হয় ওটা দেখার জন্যে!   Shock   তো মেসবাহভাই, আপনি যেখানেই আছেন জলদি এই লেখাটা পড়েন আর ডিসেম্বরেই পিকনিকের জন্যে কি কি করা দরকার তার বুদ্ধি/ব্যবস্থা দেন। বাকীরা যে যেমনে পারেন মেসবাহভাই'কে জানান দেন। Cool

 শেষকথাঃ একটা দারুন সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আনন্দময় পিকনিক করার জন্যে প্রয়োজন সবার একাত্নতা। তাই বন্ধুরা সব্বাই টাকা জমানি শুরু করেন। আমরা ডিসেম্বরের শেষদিকে পিকনিকে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ। ভেন্যু যথাযথ সময়ে জানানো হবে। Party

নারী -" ডান হাতে খড়গ জ্বলে, বাঁ হাত করে শংকাহরণ"

যুগ যুগ ধরে কোমলতার প্রতীক রুপে মানা হয় নারীকে। নমনীয়তার কোন কথা উঠলেই উপমা হয়ে আসে নারী। আজন্ম লালিত ধ্যান ধারনার মমতাময়ী বাহক। এই সুনির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে কেউ কেউ যে বেরিয়ে আসতে চায় না তা নয়, তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি, প্রতিকূলতার সামঞ্জস্যকর সুব্যবস্থাপনাতে মুষ্টিমেয়রাই উদ্ভাসিত হতে পারে পাদ-প্রদীপের আলোয়। অনেকক্ষেত্রে এরাই সুপরিচিত হন ইস্পাত কঠিন রমনীতে। কাজের পরিব্যপ্তি, সিদ্ধান্ত নেয়ার দৃঢ়তা, পরিস্থিতির সাথে চলার ক্ষমতাই সমাজে নারীকে প্রতিস্থাপিত করে কঠিন মানবী রুপে। ঠিক যেন “ ডান হাতে খড়গ জ্বলে, বাঁ হাত করে শংকাহরণ ”।

ইতিহাসের পাতায় ঠাইঁ করে নেয়া অনেকের মাঝে তেমনই অনমণীয় নারী হিসেবে পাওয়া যায় হাতশেপসুৎ, এলিজাবেথ I, মাতাহারি আর মার্গারিট থ্যাচারের নাম।

হাতশেপসুৎ - রানী নয় ছিলেন যিনি রাজা!

ইচ্ছাঘুড়ি'র শুভ জন্মদিন

একসময় সবার জন্মদিনে তার দেয়া শুভেচ্ছাগুলো হতো অনন্য, কারন সে যে শুভেচ্ছা জানাতো গান গেয়ে! একেতো সেই সুদূর থেকে দেশের বন্ধুটাকে ফোন দিতো সেই আনন্দের সঙ্গে সাথের গাওয়া গানটা থাকতো বোনাস! তবে গানওলা গানই তো গাইবে এ আর নতুন কি? 8)