ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

যদি তুমি যাও, আমিও তোমার সঙ্গে যাবো

১.

এক ধরনের মানুষ আছে; যারা কোনকিছুর সাতে কিংবা পাঁচে থাকেন না, বিশেষতঃ যখন দীঘির জলের মতো স্থির হয়ে থাকে জীবন। যখন চারিদিকে চলতে থাকে শান্তির বাতাস।

তবে কোনো গন্ডগোল হলে এঁরাই কিন্তু সবার আগে মানুষের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে এগিয়ে আসেন। মাদাগাস্কার ইস্কেপ টু আফ্রিকা'তে মেলমিন চরিত্রটা ঠিক এমনই লেগেছিলো আমার কাছে। যদিও মেলমিন মানুষ না, একটা জিরাফ। তবে ওর চালচলন, কথা-বার্তা, চিন্তা আর প্রেমে পড়ার ধরণ মানুষের মতোই।

এ্যনিমেশন আমার কাছে একটা আশ্রয় কেন্দ্রর মতো। যখন আর পারি না, আমি ওর কাছে আশ্রয় নিই। আমার সবচে' প্রিয় এ্যনিমেশন ওয়াল-ই। মাঝে মাঝে নিজেকে ওয়াল-ই'ই মনে হয়। বুড়ো, জং ধরা, অসম্ভব কিউট কিন্তু ব্যাকডেটেড একটা রোবট; পৃথিবী পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর সেখানকার জঞ্জাল সাফ করা এবং সেগুলো জমিয়ে আকাশছোঁয়া কিউব বানানো যার ডিউটি।

গল্প: কোনো এক ফেব্রুয়ারির রাতে একসাথে

শিখা অনির্বাণকে চোখের সীমানায় রেখে পার্কের এক সবুজ ঢালে সাধনা করতে বসেছিলাম। যদিও শান্তি করে বসার উপায় ছিলো না। আশপাশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্ধকার খোঁজার দৃষ্টিকটু রেষারেষি দেখে বিরক্ত হতে হচ্ছিলো। ওদের পিছে আবার বোলতার মতো বোঁ বোঁ করছে বখাটে ছেলের দল। সুযোগ পেলেই হয়তো একটা কমেন্ট পাস্ করে দেয় কিংবা পাশে বসে বিকট স্বরে গানের মহড়া শুরু করে, খুবই বিচ্ছিরি ব্যাপার।
যদিও বিচ্ছিরি লাগার কিছু নেই। হিসেব অনুযায়ী আমার তখন চার-পাঁচটা পরগাছা জুটিয়ে আপনমনে সাধনায় ডুবে থাকার কথা। পার্কে পরগাছা পাওয়া কোনো কঠিন ব্যপার না।

অপচেষ্টায় ব্লান্ট

একদিন সাব-ওয়েতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাউনটাউনের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। অফিস যেতে হবে, অসংখ্য ফাইল জমে আছে, সেগুলোকে কুপোকাৎ করতে হবে। বাড়িতে ফোন করি না অনেকদিন। কবে যে এ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবো জানি না। মাথার ভেতর ঘুরছে হাজারটা চিন্তা।
হঠাৎ চোখের সামনে আকাশ থেকে নেমে আসা অ্যঞ্জেল দেখতে পেলাম এবং স্তম্ভিত হলাম। ওর ঠোঁটের কোণার সত্যিকারের মিষ্টি হাসিটুকু প্রায় মাথা খারাপ করে দিলো। কিন্তু খুবই দুঃখের কথা, শী ওয়াজ উইদ আনাদার ম্যন। মেয়েটি যে সত্যিই প্রাণে মেরে রেখে গেছে তার প্রমাণ পেলাম, যখন দেখলাম সারারাত আর আমার চোখে ঘুম আসলো না। খুবই কষ্টের একটা রাত ছিলো সেটা। ট্রেনের কাঁচের ওপাশ থেকে সে আমার দিকে যে হ্যলো-হাসিটা দিয়েছিলো, সেটা ভুলতে পারছিলাম না।

পেছনে অশরীরি হাত

একটা মাস চলে গেল। চুপচাপ কোনোকিছুর পরিবর্তন না ঘটিয়ে, কেটে পড়লো কোনো দুঃখ-কষ্ট ছাড়াই। আমিও নির্লিপ্ততার দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। মাথার ভেতর খেলছিলো শুধুই অনগ্রসরতার খতিয়ান; কিছুক্ষণ টানা ঘুষালাম, শক্ত কংক্রীটের মেঝেতে।
টাইএর নটটা পর্যন্ত খুলতে চাচ্ছে না। একটা জড়বস্তুও গলায় ফাঁস হয়ে আটকে বসতে চাইছে। খুব করে অনুভব করছি জীবনের দেয়াল বাওয়ার সময়টির অনুপস্থিতি। জীবনে একটা পর্যায়ে দেয়াল বাওয়ার মতো উচ্চমানের একটি কাজ করতাম। এখন চেষ্টা করলে হয়তো অমন পারবোও না। কিন্তু ওয়ান্স আপন আ টাইম, পারতাম।

কবিতা: সমাচার

একটা খবর হচ্ছে, একজন একদিন একজনকে
লুকিয়ে ফেলেছিল বুকের ভেতরে,
তারপর ভুলে গেছে।

স্থান ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতিপর্বে
গোলাপের মতো ফুটলেও
তার স্বামী সেদিন
মুগ্ধ হয় নি ততখানি,
যতখানি হয়েছিলো পড়শীরা।
অথচ অভাজনের
কখনো
সাধ মেটে নি।

ভেজা চন্দনে আগুন ধরে নি
সৎকার হয় নি একটা লাশের,
সেটা বৃষ্টিশেষের
ছন্নছাড়া রোদে, সিক্ত
সময় পেরিয়ে
আর নিজেকে খুঁজে পায় নি।

তারপর গুমোট ঊষ্ণতা বুকে ধরে একজন
মেঘেদের দলে মিশে যায়, আর
কন্ঠসম অপ্রাপ্তির ফেনাগুলো
উপকূলে আছড়ায়।

চলছে এভাবেই,
সুখবর এই যে;
এখনো সে সকালে ঘুমায়
দিনে গাত্রদাহ অনুভব করে
রাত জেগে ডেরায় ফেরে
অশালীনরকম কুকড়ে থাকে,
ভেতরে খুন্তি-শাবলের চাঁড়
পড়তে থাকে অনবরত
শক্তিধর ডায়াফ্রামটা
তবু অক্ষত,
যেন অনুভব না করলে
বা তাকে নিয়ে না ভাবলেই
ভুলে থাকা যায় সবকিছু।

অথচ তারপরও অকারণে আমাকে সে প্রশ্নটা করে আবারো
মাঝে মাঝেও কি তাকে মনে পড়ে না অন্যকারো?
---

তখন আমার বুকের রক্ত জমে যায়

একটি প্রথম দিন সম্পর্কে যদি কেউ আমাকে বলতে বলে তাহলে আমি তৃষার সঙ্গে প্রথমবার দেখা হওয়ার কথা বলবো। আমি দেখলাম আমার সামনের টেবিলে আগুনের মতো একটা মেয়ে এসে বসেছে। পেছনে বসার কারণে শুধু পিঠ, হাত আর ঘাড় দেখতে পাচ্ছিলাম। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম সেগুলোও কথা বলে।
ক্লাস শেষ হওয়ার পর যেটা একটা ইনট্রোডাকটরী ক্লাস ছিলো ফার্স্ট ইয়ারের, আমি ওকে সামনা-সামনি দেখলাম। স্টাক শব্দটার বাংলা বোধহয় তব্দা খাওয়া হবে, পুরোপুরি দুইটা তব্দা খাইলাম। একটা খাইলাম, মনীষা কৈরালার মতো সামনের দুইটা দাত একটার ওপর একটা ওভারল্যাপ করেছে দেখে। হাসলে ঝর ঝর করে মুক্তো পড়ে। আরেকেটা তব্দা খাইলাম মেয়েটা সারাক্ষণ হাসছে, এটা দেখে।

গল্প: জো সুই পাঘদু'

দেখা যাচ্ছে জীবনের গণ্ডিটা আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। ডাইনোসর যুগের একটা ঘটনা মনে করে প্রায়ই পুলকিত হই। একবার ১০ মিনিটের নোটিশে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম। ডাইনিং টেবিলের ওপর অসমাপ্ত একটা চিরকুট রেখে। যেটাতে লেখা ছিলো, বাইরে গেলাম।
এ বাহির সেই বিকেল কিংবা বেলাশেষে বাহিরে যাওয়া নয়। জুতা-ব্যগ গুছিয়ে নিয়ে চুপ-চাপ কেটে পড়া। যে বন্ধুদের প্ররোচনায় রাত তিনটায় ঘর থেকে বেরিয়ে এক সপ্তাহ পর ফিরেছিলাম, সে বন্ধুদের কেউই আজ বেঁচে নেই। কেউ স্ত্রী’র নীচে, কেউ বিদেশে আবার কেউবা শিল-পাটা না পেয়ে কাগজ-কলম পিষতে গিয়ে পূর্বের জীবন থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।
অথচ একটা মহাসময় ছিলো, যখন শেখের টেকের ছয়তলা বাড়িটার ছাদে টাংকির ওপর ছয়জন সারারাত; সম্ভাব্য প্রত্যেকটা কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছি। রাশি রাশি আনন্দ দু’হাত ভরে উঠে এসেছে। নিশ্ছিদ্র রাত কখন কোন ফাঁক দিয়ে বের হয়ে গেছে, রোদ উঠে গায়ে জ্বালা ধরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত টের পাই নি।

কবিতা: বেরসিক

বিশ্ব ইজতেমায় জু্ম্মার নামাজ পড়ে আসা এক বন্ধু সেদিন জানালেন, নামাজ শেষে ভীড় দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এত মানুষ আর এত মানুষ, হাঁটতে হাঁটতে একবার কোনমতে পড়ে যেতে পারলেই কেল্লা ফতে। আর উঠতে হবে না। পেছনের তিন-চার মাইল লম্বা প্রবল জনস্রোত টেরও পাবে না, পায়ের নিচে কিছু পড়লো কি না!
আমি অবাক হলাম। মানুষ যেখানে ওস্তাদের কাছ থেকে রহমত আদায় করার জন্য গেছে, সেখানে একজন যদি পায়ের তলে পড়ে যায়, তাকে ধরে উঠিয়ে দেয়া কি সবার দায়িত্ব না? একটাও এমন দুর্ঘটনা ঘটলে, সেই দেশে কি আরো কোনোদিনো ইজতেমা কবুল হয় কি না কে জানে।

গল্প: কিউব রুট ২৭

ক্যন্টনমেন্ট কলেজ হিসেবে যতই ভালো হোক, এখানকার কিছু টিচার যে নিতান্ত খাটাশ; সেটা একবাক্যে স্বীকার করবে যেকোন কালের, যেকোন ব্যচের তাবত স্টুডেন্ট। এমনকি স্টুডেন্টরা শুধু নয়, ক্যন্টিনের মামা বা দারোয়ান চাচা বা মালিচাচা বা আর যারা স্টাফ আছে সবাই তাই করবে।
এর কারণ আছে। এ কলেজের অধিকাংশ টিচার সরাসরি কেম ফ্রম আর্মি কিংবা আর্মি ফ্যমিলি। মানসিকতাটাই তাই ভিন্নরকম। তবে নিয়ম-শৃংখলা শিক্ষার কথা যদি বলা হয়, ক্যন্ট. পাবলিকের উপরে আর কিছু নাই।
আবার নিয়ম-শৃংখলা আসলে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়ে তর্ক করতে গেলেও বিপদ, আমার মতো বাউন্ডুলেরা আজীবন নিয়ম-শৃংখলার বাইরেই রয়ে গেল। কই তাও তো একদিনের জন্যও পৃথিবীটা একমূহুর্ত থমকালো না।

কইলজার ভিতর গাত্থি রাইখুম তোঁয়ারে

ইদানীংএর কোনো এক নাটকে কাকে যেন গুন গুন করে একটা গান গাইতে শুনেছিলাম। তাও এক লাইন মাত্র। সেই একলাইনই গেঁথে গিয়েছিলো মনের ভেতর। একেকটা গান একবার শোনা শুরু হলে সেইটা শুনতে শুনতে ছিবড়ে না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ি না। ওইদিন ব্লগার নাম নাইএর গান পোস্ট দেখে আফসুস হইলো। আমারো খুবই গান পোস্ট দিতে ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না। এই গানটা সালমা'র গলায় খেলছেও ভালো,
সিনার লগে বাঁধি রাইখুম
কি নিয়ে আলাপ করি সেটা বুঝতে পারছি না। নাটকের কথা বলা যায়। বাংলা টিভি নাটকগুলো বেশ ভালো হচ্ছে। আমার কখনো নায়িকাদের প্রতি স্থায়ী ভালবাসা জন্মায় না। কারণ স্থায়ীত্ব দেখা দিলে বার বার প্রিয় নায়িকা চেঞ্জ করা সমস্যা। এটা শুধু নাটকে না, মুভির ক্ষেত্রেও।

অপেক্ষা

অ্যশ-ট্রে'টা এতো ভরে উঠেছে যে আর একটা ফিল্টারও ও'র ভেতর গুঁজে দেয়া যাচ্ছে না। এটা একদিনে হয় নি, দিনে দিনে হয়েছে। তিল তিল করে জমতে জমতে আজ ও উপচে পড়া শুরু করেছে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি।
হাঁড়কাপুনি শীত কয়টা দিন খুব কাবু করে রেখেছিলো। ব্লগ ছাড়া আর কোথাও যেন একবিন্দু উষ্ণতা নেই। আসলে এমন শীতের সঙ্গে পরিচয় নেই তো, যে কারণে প্রথম ধাক্কায় বলা যায়; সব্বাই বেশ কাবু হয়ে পড়েছিলাম।
আমি ১০-১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করে নিতে পারি। এই তাপমাত্রায় শীতের আমেজটা বেশ পাওয়া যায়। এ সময়ে পড়ার জন্য কালো জ্যকেট আমার খুব পছন্দ। ছেলেদের মনে হয় সবারই একটা কালো জ্যকেট থাকে। মেয়েদের যেমন সবারই একটা লাল শাড়ি।

গল্প: কার ছবি নেই

১.
বাংলাদেশ ব্যংক কলোনী হাই স্কুলটা আগ্রাবাদের ব্যংক কলোনীর ভেতরে অবস্থিত। জায়গাটা পনেরো-ষোলো বছর আগে যেরকম ছিলো, স্বাভাবিকভাবেই এখন আর সেরকম নাই। কলোনী-গেটের মুখে ইদানীং লাইব্রেরী'টা চোখে পড়লো। এইখান থেকে ১৩ টাকা দিয়ে চাচা চৌধুরী কেনা হতো। কমিকগুলোর নতুন পাতা ওল্টানোর অনুভূতিটা মনে পড়ে গেল। কখনো কখনো একটা কমিক কিনেই হাঁটতে হাঁটতে পড়ে ফেলা হতো। আবার কখনো 'পড়ে ফেললেই শেষ হয়ে যাবে' ভেবে ইচ্ছে করে দেরী করা হতো। অনেকদিন পর সায়ানের সে কথাগুলো মনে পড়ে গেল, তিতলিকে নিয়ে এখানে এসে।

শিশুকালের কথা ও কবিতা: একদিন আমি

কবিতা পোস্টানো অবশ্যই বিপদজনক একটা কাজ। তারপরও কবিতা পোস্ট করে যাচ্ছি। অপূর্ণতাকে ছাড়িয়ে যাবার নিরন্তর অপচেষ্টা চালানোর এই বিষয়টা আমার ভেতরে কিভাবে আসলো একটু ব্যাখ্যা করি, ছোটবেলায় মোগলি নামের একটা কার্টুন সিরিজ খুব প্রিয় ছিলো। সে সময় খুব মনে মনে চাইতাম একটা বুমেরাং পেতে। পরে টিনটিনেও অনেককে বুমেরাং মারতে দেখেছি। এ জীবনে বুমেরাং পাওয়ার শখ পূরণ হয় নি আজো। পূরণ হয় নি এরকম আরো অনেক শখ। তারপরও সময় থেমে থাকে নি। একবিন্দুও ছাড় দেয় নি কাউকে। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে ল্যন্ডস্কেপে আঁকা দূরের উইন্ডমিলটার মতো। সেখানে বোধহয় সময়ের এত টানাপোড়েন নেই। ছবির উইন্ডমিলটা সারাজীবন একরকমভাবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। আমি ওটাকে হিংসে করি। ভীষণ রকম।
আমার ভেতরে হিংসা প্রচুর। কেউ একটু ভালো লিখলেও আমার খুব হিংসে হয়। মনে হয়, আমি কেন পারি না? এই 'আমি কেন পারি না'ই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সারাজীবন ধরে।

গল্প: ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে, তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে

ঢাকা ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, দুইতলা। বেটি ফ্রাইডেনের দ্য ফেমিনিন মিসটিক বইটার মধ্যে নাক, চোখ, কান, মন সব ডুবিয়ে হারিয়ে গেছে তিতলি। মেয়েটার আর ক'দিন পরে সিক্সথ্ সিমেস্টার ফাইনাল। পড়াশোনার ভীষণ চাপ, দেখলেই বোঝা যায়। ওকে একটু দুর থেকে দেখতে দারুণ লাগছে! চেয়ারের ওপর দুই পা তুলে আশপাশের, টেবিল, মোটা ডিকশনারি, জানালার কাঁচ, বাইরের কুয়াশা, পুরো পরিবেশটাকে কেমন জমিয়ে নিয়ে বসে পড়ছে মেয়েটা।
সায়ানের ইচ্ছে করলো, পেছন থেকে গিয়ে ওর দুই গালে নিজের দু'হাতের চারটা-চারটা ঠান্ডা আঙ্গুল ছোঁয়াতে। তবে লাইব্রেরীর মধ্যে এই কাজটা করা ঠিক হবে না। আশপাশের পন্ডিতেরা বিরক্ত হতে পারে। যদিও পন্ডিতদের বিরক্তি ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না, তবুও একটু টেকনিক্যল সমস্যা আছে বলে চাইলেই আদর করে ওর গালে হাত ছোঁয়ানো যাচ্ছে না। কয়দিন ধরে মেয়েটা ভেতরে ভেতরে কেমন একটা রাগ পুষে রেখেছে এবং সেটা বোঝা যাচ্ছে। আগে সেই রাগটা ভাঙানো দরকার।

গল্প: ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে, তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে

ঢাকা ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, দুইতলা। বেটি ফ্রাইডেনের দ্য ফেমিনিন মিসটিক বইটার মধ্যে নাক, চোখ, কান, মন সব ডুবিয়ে হারিয়ে গেছে তিতলি। মেয়েটার আর ক'দিন পরে সিক্সথ্ সিমেস্টার ফাইনাল। পড়াশোনার ভীষণ চাপ, দেখলেই বোঝা যায়। ওকে একটু দুর থেকে দেখতে দারুণ লাগছে! চেয়ারের ওপর দুই পা তুলে আশপাশের, টেবিল, মোটা ডিকশনারি, জানালার কাঁচ, বাইরের কুয়াশা, পুরো পরিবেশটাকে কেমন জমিয়ে নিয়ে বসে পড়ছে মেয়েটা।