ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর

মাঝে মাঝে গভীর ভাবের কথা ভাবতে হয়। কারণ আর কোনো কাজ থাকে না হাতে। বসার জায়গাটা থেকে ২০ বা ২৫ ডিগ্রি কোণে সামনে তাকালে এক চিলতে ছায়া রংএর কাঁচ ও তারপরে আকাশ দেখা যায়। সাদা-নীল আকাশটি অন্ধকার করে নেমে আসছে একটি গোধূলী। এটাকেই কি সন্ধ্যা বলা যায়? সময়টা কেমন মন উদাস করানো। এমন সময়ে অনেক কথা মনে পড়ে যায়। আমি নিশ্চিত সে কথাগুলো সকালের ঘুম ভাঙা তাড়াহুড়োয় কিংবা দুপুরের কাজের ফাঁকের নিরিবিলিতে মনে পড়ে না। আসলেই সময়গুলো মানুষের মনে কত শক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

গল্প: আমি তো দিয়েছিলাম তোমায় কৃষ্ণচূড়া ফুল

পথচলা মঙ্গলময় হোক।
-আচ্ছা হবে। তোমাদের স্থবিরতাও ফলপ্রসূ হোক। একেকজন সোলার প্যানেলের মতো আরাম সংগ্রহ করে করে নিজের ভেতর জমিয়ে রাখো।
শুধুই নিজের সুখের চিন্তা। আমার ভেতরে যে বেড-বাগ বাসা বুনেছে, সে খবর আছে?
-তাই নাকি? কই এখনো টের পাই নি তো। বলো নি কেন?
বলি নি, দেখতে চেয়েছি তুমি নিজে নিজে বোঝো কি না। তোমার সিংহাসনের কতটুকু যত্ন তুমি আসলে নাও, সেটা কি জানো?
-বেড বাগরাও আলাপ করতে আসে নি। ওদের তো যুদ্ধ'র প্রস্তুতি নিয়ে চলে আসার কথা।
তুমি ভালো বন্ধু নও বলে কি অন্যরাও তাই? আমরা সবসময় তবু যেন তোমার কোনো কষ্ট না হয় সে চেষ্টা করি। তাই বিবি'দের দেখা পাও নি।
-আচ্ছা তোমাদের তাহলে রোদে রেখে যাই। রাতে ওষুধ এনে লাগিয়ে দেবো, কি বলো?
না টানাটানির দরকার নেই। শুধু ওষুধটা মনে করে নিয়ে এসো। আর ভালো থেকো। যাও তোমার দেরী হচ্ছে।

সেই রঙিলাজনের জন্য

১.
সেদিন ক্যাপ্টেন ববি আর মেজর অনন্তের ঝগড়া হয়ে গেছে। সামনা-সামনি ক্রসফায়ারে দু'জনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। অবশ্য যৎসামান্য ঘটনা থেকে এ গুলিকাণ্ডের উৎপত্তি। ছুটির দিন দুপুরে ক্যাপ্টেন বড় বড় গলদা চিংড়ির দোপেয়াজা রেধেঁছেন। ঝাল ঝাল করে। তাই খেতে খেতে মেজর বললেন, এরপরে ইয়েমেন।
সঙ্গে সঙ্গে প্রবল দ্বিমত আসলো ক্যাপ্টেনের দিক থেকে। মোটেও না, এরপরে সুদান। মেজর বললেন, আলী আব্দুল্লাহ সালেহ্ ৩২ বছর ধরে দেশটায় একনায়ক হয়ে আছেন। ক্যাপ্টেন প্রতিবাদ করলেন, তাতে কি? ওমর হাসান আল বশিরও ২১ বছর ধরে দেশটায় দুঃশাসন চালিয়ে যাচ্ছেন।

কবিতা: নমশূদ্রের প্রপঞ্চ

অনন্ত তুমি জানো
তোমাকে কতখানি ভালোবেসে পুড়ে গেছে এই অস্তিত্ব?
কতবার
খুলেছিলো দুই চোখ
এবং বন্ধ হয়ে গেছে।
কতবার
মুখোমুখি হয়ে যাবার
জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি
ঘন্টার পর ঘন্টা।
কতবার
আমার প্লেলিস্টে চন্দনার সেই গান
রিপিট করেছে।
সে প্রতিটি বার আমাকে কুঠারাঘাত করেছে।
আমি কি ওক গাছ, বলো?
সে নিউরণগুলোকে নিয়ে
নাইলনের জালের মতো
কেটে বসেছে মগজে বার বার,
আমি কি প্যাসকেলের সেই বল, বলো?
পিরামিড কিছু বলে
শোনো আকাশটা সসীম নয়,
একদিন ভেঙ্গে যাবে আয়নাটা।
আসলেই জীবন কি থেমে থাকে না?
তাহলে ভীষণ কষ্ট হবে।
বাঁচবো কিভাবে?

মোজাইকের সাদা, কালো আর লাল পাথরগুলো

সেবার কোট ডি’ ভোয়ায় জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ে যাবার সময়, এক যৎসামান্য ফাঁকা জায়গায় কোনো বলা-কওয়া ছাড়াই যখন আমাদের হেলিকপ্টার থামানো হলো, তখন বেশ খানিকটা অবাক হয়েছিলাম। অবশ্য আমাদের ক্যপ্টেন কারণটা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাখ্যা করলেন। অনাকাঙ্খিত এ বিরতির জন্য দুঃখ-টুঃখ প্রকাশ শেষে তিনি যে কৈফিয়ত দাখিল করলেন, তা মূলতঃ কারিগরী ত্রুটি সারানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার মতো অজপাড়াগেঁয়ে মূর্খের সে কারণ বোধগম্য হলো না। শুধু বিলম্বটুকু মেনে নিলাম খুশিমনে। আফ্রিকার জঙ্গলেও কোনোদিন পর্দাপণের সুযোগ পাবো, এত অচিন্ত্যনীয়।

প্রিয় কাঠবিড়ালীরা হারিয়ে গেছে

এই বৃষ্টিভেজা রাতে তুমি নেই বলে/ সময় আমার কাটে না। আর্টসেলের অর্থহীন একটি গান। একই গানে বলা হয়েছে বৃষ্টিভেজা রাত ও বসন্তের সন্ধ্যার কথা। ধরে নিচ্ছি বসন্তের রাতে বৃষ্টি হয়েছে। তাহলে অবশ্য বেশ রোমান্টিক একটি আবহাওয়া তৈরী হয়। আমি সে আশায় এখনো শীতের কম্বল গুছিয়ে ফেলি নি। কোনো একদিন বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায়। তুমি আর আমি কম্বলের ভেতর থেকে কচ্ছপের মতো মাথা বের করে ইনটু দ্য ওয়াইল্ড দেখবো।
২১-এ ফেব্রুয়ারির বিকেলে চার ফোঁটা বৃষ্টি হয়েছিলো। ঠিক চার ফোঁটা না, মনে হয় চার কোটি আশি লাখ ফোঁটা। গড় হিসেবে আমার ভাগে যা পড়ার কথা কাকতলীয়ভাবে পড়েছেও তাই। কমও না, বেশিও না।
সেদিন বসে বসে মৌতাতের আরেঞ্জমেন্ট করছি, শুনলাম একটা ছেলে একটি মেয়েকে বলছে, এই সম্পর্কটা চুকলে তো ভালোই। জিমে গিয়ে ব্যায়াম শুরু কইরা দিমু।

আমার উপকূলে ভেঙ্গে পড়া ঢেউগুলো

আমাকে একটু বলবেন কেন আপনি যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের জগতে ডুবে যান, তখন একটা সুখী প্রান্তর দেখতে পান না? যেখানে উঁচু-নিচু মসৃণ সবুজ ঘাসের জমিন আর ছোট ছোট নীল জলের দীঘি থাকে। থাকে ঝাউগাছের সারি। একটা গলফ্ স্টিক থাকে আপনার হাতে। থাকে একটা সাজানো বল। আপনাকে বলটা মারতে হবে। কেন পারেন না?
মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে রেখে যায় একটি কথা। মানুষের অন্তিম প্রাপ্তিটা কি? সেটা কি জীবনের শেষ মূহুর্তে পাওয়া যায়? মনে হয় না। একেবারে আক্ষরিক অর্থেই যাকে বলে শেষ মূহুর্ত, সেসময় ভালো কিছু দেয়া প্রকৃতির স্বভাববিরুদ্ধ। প্রকৃতি একটা ভালোকে সৃষ্টি করে অনেক পরিকল্পনা করে। যার জন্য সেই ভালোটি তৈরী, সে নিজে সেটা উপভোগ না করা পর্যন্ত তা মহাকালে মিলিয়ে যেতে পারে না।

র সবা

ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভা চলছে মধুর গোলঘরে। ক্যম্পাসে ছাত্রলীগের শিবির পেটানো কর্মসূচির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার ব্যপারে একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মিথুন সেদিন বাংলা বিভাগে গিয়ে কালা এনামুলদের সঙ্গে এক শিবির পিটিয়ে এসেছে। পিটিয়ে কলাভবনের দুইতলা থেকে স্লোগান দিতে দিতে নেমেছে, একটা-দুইটা শিবির ধড়, সকাল-বিকাল নাস্তা কর। জামাতি-শিবির-রাজাকার, এই মূহুর্তে বাংলা ছাড়।
ঘটনা রাফি, মাসুদ, অভিনু জানে। জানে অভিও। যে ছেলেটাকে পেটানো হয়েছে, ওকে পেটানোর পরিকল্পনা ছিলো মিথুনেরই। ওরা ছাত্র ইউনিয়নের ছেলে হলেও নিজেদের একটা হিটলিস্ট করেছে। সেই লিস্টে যারা যারা আছে তাদের সবাইকে ক্যম্পাস থেকে এই চান্সে পিটিয়ে বের করে দেয়া হবে। বাংলার ওসমানী মুহসীন হল শিবিরের এজিএস।

ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক হালিমা খাতুনের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা

মেট্টিকুলেশন পাশ করেছি সেই ১৯৪৭ সালে। সে সময় মেয়েদের জন্য কাজটা খুব সহজ ছিলো না। পড়া-শোনার অভ্যাসটা তৈরী হয়েছিলো তখনই। অনেক ধরনের বই পড়তাম। বিপ্লবী বই, সে আমলের লেখকদের বই; আরো অনেক কিছু। আজ তোমরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পড়ছো তার মৃত্যূর সত্তুর বছর পর। আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম তার লেখা প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে ফেলার।

আরো আছে। সে আমলে পঞ্চপান্ডবের নাম শুনলে ঘাবড়ে যেতেন অনেক বাঘা বাঘা সাহিত্যিক। আমার কাছে প্রথাবিরোধী এই লেখক গোষ্ঠীকেও অনেক আকর্ষণীয় মনে হতো। আসলে সাহিত্যচর্চার কাজটি খুব সহজ নয়। আমি এখন পর্যন্ত শিশুদের জন্য ৫০টি বই লিখেছি। কিন্তু আজো নিজেকে লিখিয়ে বলে দাবী করার মতো স্পর্ধা আমার হয় নি। খুব গুরুত্বসহ নিজের লেখার যত্ন না নেয়া হলে সাহিত্যিক হওয়া সম্ভব নয়। আজ-কাল অনেকেই এ কাজকে পেশা হিসেবে নেবার সাহস দেখাচ্ছে। আমাদের সময়ে তেমনটি হবার জো ছিলো না।

গল্প: সেদিনও কিভাবে কিভাবে যেন ঠিকই

লিফটের ঝকঝকে কাঁচে নিজের চেহারাটা নিবিড়ভাবে একটু পর্যবেক্ষণ করে নিই। সঙ্গের মানুষগুলোকে খানিকটা উপেক্ষা করেই গালের মাঝ বরাবর উঁকি দিতে থাকা ব্রণটাকে একটু টিপে দেখি। নাহ্ এখনো শক্ত হয়ে আছে। কিছু বলা যাবে না। বললে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যাবে। অবশ্য আমি জানি, ব্রণগুলো ঠিক ইন্টারভিউএর দিন ছাড়া আর কোনোদিন ওঠে না। তাই এ নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়ে অগ্রসর হতে হয়।
চুলগুলোও একটু দেখে দেখে ঠিক করে নিলাম। এরপরে হয়তো আর সে সুযোগ মিলবে না। এসব কর্পোরেট হাউজের ভাবগতিক সবসময়ই আমার কাছে বড় দুর্বোধ্য। হয়তো কোনো মিটিং রুমের মতো জায়গায় ঘন্টাখানেক সটান বসে থাকার পর ডাক আসবে জনাকয়েক লোকের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার। আরেকবার চুল ঠিক করার সুযোগ না পাওয়াই স্বাভাবিক।

গল্প : রাইডিং

ছোটবেলায় খেলনার পোকা ছিলাম। আমার একটা রেলগাড়ির সেট ছিলো। সেটা কলেজে যখন হোস্টেলে থাকতাম তখন চুরি হয়ে যায়। আমি বুঝি না আমার চেয়েও কোন্ বড় খেলনার পোকা বের হলো, যে কলেজে উঠেও রেলগাড়ির সেট দিয়ে খেলতে চায়। তবে আমার সাদা এফওয়ান রেসিং কারটা এখনো আছে। মাঝে মাঝে চারটা পেন্সিল ব্যাটারী লাগিয়ে চালাই। রিমোট টিপে কন্ট্রোল করি।

এখন আর ছোটবেলার মতো খুব মজা করে হয়তো খেলি না, কিন্তু অভ্যাসবশে একটা কাজ করতে ভালোই লাগে। বিশেষতঃ যখন মন খারাপ লাগে, তখন মনটাকে পজ্ করে রাখার জন্য এরকম দু’চারটে অভ্যাস থাকলে মন্দ না।

ছোটবেলার কথা ভাবতে আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগে। আমি এক সময় ছোট ছিলাম। যখন দুই হাত সামনের দিকে করে মুখ দিয়ে হুন্ডার মতো ভু ভু শব্দ করতে করতে পাড়াময় দৌড়াতাম। আমার সঙ্গে আরো দুইটা ছেলে দুইটা মেয়ে দৌড়াতো। আমাদের সবার পরনে শুধু লাল, কালো নানা রংয়ের হাফপ্যান্ট।

কিন্তু প্রথম বাণীটাতেই আটকে গেলাম

বিশ্ব ভালবাসা দিবসের অনুষ্ঠান ইদানীং বেশ খোলাখুলিভাবেই টিভিতে দেখানো হচ্ছে। স্কুলের বেঞ্চে ইউনিফর্ম পড়া ছেলে-মেয়ের বসে গল্প করা দেখে ভাবি, আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন এটা অচিন্ত্যণীয় ছিলো যে; প্রেমিকার সঙ্গে নিরিবিলিতে একটু বসলাম আর টিভি ক্যমেরা সেখানে হাজির হয়ে গেল, আর আমরাও সে দৃশ্য নির্দ্বিধায় সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী হতে দিলাম।
যাক সে কথা, মতিঝিল আমার খুবই প্রিয় একটি এলাকা। ওর সঙ্গে আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। একটা ব্যপার প্রায়ই ঘটে, যে জিনিসগুলোর সঙ্গে আমি স্যূট করি সেগুলো চমৎকারভাবে জীবনে মানিয়ে যায়। যেগুলোর সঙ্গে স্যূট করতে পারি না সেগুলোকে খাপ খাওয়ানো সাধারণত সহজ হয় না।

আমার নয় কিছুই

একটা ঘটনা ঘটেছে। সেদিন রাতে ফ্লাক্সের পানি শেষ হয়ে গেলে ডাইনিং টেবিলে পানি আনতে গিয়েছিলাম। এই সামান্য কাজের জন্য লাইট জ্বালাতে ইচ্ছে করে না কখনোই।
সুন্দর পরিপক্ব একটি নিঝুম রাত, এরমধ্যে একটা টিউবলাইট জ্বালিয়ে চারিদিকে কৃত্রিম আলো ঢেলে দেয়ার কি অর্থ হতে পারে? এই ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে ফিল্টার থেকে পানি ভরছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, ফ্লাক্সের তলা অলৌকিকভাবে ফুটো হয়ে পানি নিচে আমার পাএর ওপর গিয়ে পড়ছে। ঠিক সে সময় আমি ঘরের ভেতর বেশ কয়েকটা নিঃশ্বাস পড়ার শব্দ শুনলাম। এবং একটা অসমাপ্ত শব্দ, নান্।
এরপরে স্বাভাবিক বুদ্ধিতে যা মাথায় আসে তা হলো, ভয়ে একটা চিৎকার দেয়া। মনে হচ্ছিলো এখনো মুখের পেশীগুলো বিবশ হয়ে যায় নি। সর্বশক্তিতে একবার আপনজনদের আমার বিপদের কথা জানিয়ে দিতে পারলেই আমি বেঁচে যাবো। চিৎকার দিলাম কিন্তু শব্দ হলো না। বুঝতে পারলাম, গলা দিয়ে আর স্বর বেরুচ্ছে না।

আমার নয় কিছু

একটা ঘটনা ঘটেছে। সেদিন রাতে ফ্লাক্সের পানি শেষ হয়ে গেলে ডাইনিং টেবিলে পানি আনতে গিয়েছিলাম। এই সামান্য কাজের জন্য লাইট জ্বালাতে ইচ্ছে করে না কখনোই।
সুন্দর পরিপক্ব একটি নিঝুম রাত, এরমধ্যে একটা টিউবলাইট জ্বালিয়ে চারিদিকে কৃত্রিম আলো ঢেলে দেয়ার কি অর্থ হতে পারে? এই ভাবতে ভাবতে অন্ধকারে ফিল্টার থেকে পানি ভরছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, ফ্লাক্সের তলা অলৌকিকভাবে ফুটো হয়ে পানি নিচে আমার পাএর ওপর গিয়ে পড়ছে। ঠিক সে সময় আমি ঘরের ভেতর বেশ কয়েকটা নিঃশ্বাস পড়ার শব্দ শুনলাম। এবং একটা অসমাপ্ত শব্দ, নান্।
এরপরে স্বাভাবিক বুদ্ধিতে যা মাথায় আসে তা হলো, ভয়ে একটা চিৎকার দেয়া। মনে হচ্ছিলো এখনো মুখের পেশীগুলো বিবশ হয়ে যায় নি। সর্বশক্তিতে একবার আপনজনদের আমার বিপদের কথা জানিয়ে দিতে পারলেই আমি বেঁচে যাবো। চিৎকার দিলাম কিন্তু শব্দ হলো না। বুঝতে পারলাম, গলা দিয়ে আর স্বর বেরুচ্ছে না।

ইন্টারভিউ

লিফটের ঝকঝকে কাঁচে নিজের চেহারাটা নিবিড়ভাবে একটু পর্যবেক্ষণ করে নিই। সঙ্গের মানুষগুলোকে খানিকটা উপেক্ষা করেই গালের হনুর ওপর উঁকি দিতে থাকা ব্রণটাকে একটু টিপে দেখি। নাহ্ এখনো শক্ত হয়ে আছে। কিছু বলা যাবে না। বললে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যাবে। অবশ্য আমি জানি, ব্রণগুলো ঠিক ইন্টারভিউএর দিন ছাড়া আর কোনোদিন ওঠে না। তাই এ নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।
চুলগুলো একটু ঠিক-ঠাক করে নিলাম। এরপরে হয়তো আর সে সুযোগ মিলবে না। এসব কর্পোরেট হাউজের ভাবগতিক সবসময় বড় দুর্বোধ্য আমার কাছে। হয়তো কোনো মিটিং রুমের মতো জায়গায় ঘন্টাখানেক সটান বসে থাকার পর ডাক আসবে জনাকয়েক লোকের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার। আরেকবার চুল ঠিক করে নেবার সুযোগ না পাওয়ার আছে প্রচুর সম্ভাবনা।