ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

মাছরাঙাটাকে কিছুটা পথ সঙ্গ দিয়েছি আমি

নিষিদ্ধ অনিষিক্ত একটা জীবন আছে আমার। বন্ধুহীন, একাকীত্বময়। একাকীত্ব্টা আবার এমন যে এটা নিয়ে বড়াই করতেও ইচ্ছে হয় না। শুধু রিক্ত ও রক্তাক্ত নিজেকে দেখে মাঝে মাঝে ভাবি, এটা কাকে দেখতে পাচ্ছি?
অনেকদিন আবার এমনভাবে নিজেকে খুঁজি, যেন জানিই না আমি কোথায় আছি। কখনো হয়তো প্রত্যেকটা বন্ধুর ব্যপারেই করার মতো অভিযোগ থাকে আমার কাছে। তখন নিজেকে সবচেয়ে গরীব মনে হয় এবং তারপর গরীবদের মতো করেই রাস্তা ছেড়ে দিই সময়কে।
আশার কথা এই যে, পথশেষে এখানে কোনো আশার প্রদীপ নেই। প্রদীপ থাকলে হয়তো যে আলোটা বের হতো, সেটাকে একটা নাম দিতে হতো। কিন্তু কোনো নাম দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

গল্প: এক মধ্যদুপুরে মনে পড়া টানা বারান্দা

ন্যান্সি যে স্লাগোকে ভালবাসে, সেই কথাটা সেদিন সমুদ্রের বালুর ওপরে লেখার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু ঢেউ এসে বার বার লেখাটা মুছে দিয়ে যাচ্ছিলো। দেখে আমার খুব মজা লাগলো। এই দুইটা কমিক চরিত্রকে আমার দারুণ লাগে। আমার বন্ধু আছে ন্যান্সি নামে। সে অবশ্য কমিকের ন্যান্সি হলে আমি স্লাগো হতে রাজি নই। বন্ধুদের সঙ্গে ভালবাসাবাসি করলে নাকি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। আসলেই সত্য কি না কে জানে। ছোটবেলায় তো ক্লাসমেটদের প্রেমে ধুমধাম পড়ে যেতাম। ওদের অনেকে ভালোবন্ধুও ছিলো। সে সময় কখনো মনে হয় নি বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বড় হওয়ার কত যে জ্বালা!

কবিতা: পরাগায়ন ও শিষ্টাচার

নিজেকে তীব্র আগুনের দিকে ছুটে চলা একটা পতঙ্গ মনে হচ্ছে। যে দ্রুতগতিতে নিজের ভস্মীভূত পরিণতির দিতে ধাবমান। ভালো লাগছে এই ভেবে যে, অবশেষে নিজের জন্য নিরন্তর খারাপ লাগতে থাকাটাকে দূরে সরিয়ে দিতে পেরেছি। এখন শুধুই অপেক্ষা। এবং এই নিষ্ঠুর আমাকে দীর্ঘদিন ধারণ করার জন্য কৃতজ্ঞতা। সময়, প্রকৃতি আর ভূখন্ডের প্রতি।
কবিতাকে আমি সহজ মনে করি না। আমার কবিতা লেখার অপচেষ্টাগুলো কখনো সফল হয়েছে, এমন দাবিও করি না। যে কারণে ব্যর্থতার দায়টুকু মাথা পেতে নিতেও আপত্তি নেই।

রাত্রিনা তোমার শারীরিক সৌন্দর্য্যও
ঐশ্বর্যময়, সর্বত্র ধন-সম্পদের ছড়াছড়ি
উদয়াস্ত আমি যদি কোনো ঠোঁট চাই
পাওয়ার জন্য, তোমার নধর
ঠোঁট দু’টোই চাইবো।
যদি কখনো কাউকে দেখে আমার
জড়িয়ে ধরে বুকের উত্তাপ
অনুভব করতে ইচ্ছা হয় তো সে তুমি।
কখনো হয়তো তোমার বুকে
খেলা করতেও ইচ্ছে হতে পারে,
কারণ আমার বাহুলগ্না ছাড়া
আর কোনো অবস্থাজনিত

একঝাঁক ইচ্ছে ডানা যাদের আজ উড়তে মানা

একদিন দেখবো আলো আঁধারের শেষ যেখানে
আসবেই দখিন বাতাস আকাশের বার্তা নিয়ে,
একঝাঁক ইচ্ছে ডানা যাদের আজ উড়তে মানা
মিলবেই তাদের অবাধ স্বাধীনতা।

যেখানে তোমার আমার কোনো কথা নেই কথা নেই কোথাও থামার
ঠিক নেই ঘরের হদিস শুধু আছে পথ কতদূর নেই তা জানা
দুঃখ নেই কিছু সেখানে
নেই সুখ খোঁজবার কোনো দায়
প্রয়োজন নেই কারো একা বসে ভাববার একটু বাঁচার উপায়,
কেঁদো না বন্ধু আমার গাও গান নিয়ম ভাঙার
এ গানের শেষেই আছে ভোরের আকাশ,
একঝাঁক ইচ্ছে ডানা যাদের আজ উড়তে মানা
মিলবেই তাদের অবাধ স্বাধীনতা।

দূর্দান্ত একটা লিরিক। গানটা প্রায়ই আনমনে গুনগুন করার চেষ্টা করি।

আরো একটা গান। এটা ডুয়েট, শিরোনাম হচ্ছে; কই যাও একলা একলা?

Dancing where the stars go blue

ভালবাসা তারপর দিতে পারে গত বর্ষার সুবাস

কষ্টগুলোর শিকড় ছড়িয়ে
ঐ ভয়ানক একা চাঁদটার সাথে,
স্বপ্নের আলোতে যাবো বলে
যখন চোখ ভিজে যায় রাতে

ভালবাসা তারপর দিতে পারে
গত বর্ষার সুবাস,
বহুদিন আগে তারাদের আলো
শূন্য আঁধার আকাশ।

প্রখর রোদে পোড়া পিঠ
আগুনের কুণ্ডে শেঁকা হাত
শিশির ছোঁয়া পাবে হাসি
অন্ধকারে কেটে যাবে রাত,

ভালবাসা তারপর দিতে পারে
গত বর্ষার সুবাস,
বহুদিন আগে তারাদের আলো
শূন্য আঁধার আকাশ।

অর্ণবের সঙ্গেই সাধারণত এটা বেশি ঘটে। ওর এক-একটা গান মাঝে মাঝে নিউরণের ভেতরে চলে যায়। সেখান থেকে সেগুলোকে বের করে নিয়ে আসার কাজটা সহজ হয় না কখনোই।
---

গল্প: লিহীন

(খুনোখুনি, রক্তপাত আছে লেখায়...)

রওশনের মতো বুনো আর হিংস্র মনের ছেলে এ পৃথিবীতে অনেক কম জন্মেছে। যারা জন্মেছে তাদের বেঁচে থাকা সবসময়ই মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, কলুষিত করেছে এবং সবশেষে মানুষ বাধ্য হয়েছে তাদের প্রতি নিষ্ঠুর হতে। এদেরকে মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যের নিমিত্ত হয়ে পৃথিবীতে আসা একধরনের প্রাণী হয়তো বলা যায় কিন্তু মানুষ বলা যায় না। প্রকৃতি নিজের কোনো এক অদ্ভুত খেয়ালেই এদেরকে মানুষ বানিয়ে পাঠায় না।

চট্টগ্রাম শহরে সিডিএ বলে একটা এলাকা আছে। সেটার ১২ নম্বর রোডের একদম শেষ মাথায় রওশনদের বাড়ি। জায়গাটা খুব ঘিঞ্জিমতো, যেখানে ওদের বাড়ির পাশ দিয়েই চলে গেছে শহরের বড় বড় স্যূয়ারেজ ড্রেনগুলোর একটি। সেটাকে ওরা বড় নালা বলে।

গল্প: একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়

শেষ পর্যন্ত সে আমাকে তার বাসায় নিয়েই গেল। প্রথমে সে বলছিলো; ভয় নেই, মারবো না। সে সময় আমি ভয় পাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমার মতো একটা ইনোসেন্ট ছেলেকে এভাবে জোরজবরদস্তি ব্যচেলর ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়ার আর কি অর্থ থাকতে পারে? জানতে চাচ্ছিলাম তার কাছেই। সে হাসিমুখে কেবলই বলছিলো, আরে কিছু না। আপনি আজকে নিয়ে দু’দিন আমাকে বাসা পর্যন্ত লিফট দিলেন। সৌজন্যের খাতিরেও তো আমার উচিত আপনাকে এক কাপ চা খাওয়ানো। আমি প্রবল বেগে মাথা নেড়ে নেড়ে দিনে-দুপুরে চা খাওয়ার ব্যপারে আপত্তি জানাচ্ছিলাম। ও সেটা কানেই তুলছিলো না। দিনে-দুপুরে সর্বত্র বসে চা খেতে পারবেন, শুধু আমার ফ্ল্যাটে গিয়ে চা খেতে বললেই আপত্তি?

অন্তহীন অন্ধকারের আরক্তিম অস্তিত্ব

em xobby.jpg

ই বাজাতাম

ছেঁড়া তালপাতা, জন লেননের সোচ্চার ভালবাসা আর বব ডিলানের অভিমান একসঙ্গে মিক্সচারের মধ্যে ঢেলে দিয়েছি। আজকে একটা ক্রাশ বানাবো। এক মগ ক্রাশ সহকারে বসে একটা সময়, সেটার হয়তো একঘন্টা-দেড়ঘন্টা এরকম লিমিট থাকবে; সেই সময়টা পার করবো। বাস্তব জীবনে আমার তেমন কোনো বন্ধু-বান্ধব নেই। যাদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হয়। খোঁজখবর রাখা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থার অনেক ধরনের কুফল আছে জানি। তাও এ ধরনের ব্যবস্থা মেনে নিতে আমার খুব বেশি খারাপ লাগে না। ক্রাশটায় দেয়া হবে প্রচুর পরিমাণে চিনি। সঙ্গে মিন্ট থাকতে পারে। খুবই অল্প পরিমাণে। আর দু’এক টুকরো ধইন্যাপাতা। কতভাবেই না মানুষের জীবনটা কাটে? কখনও হয়তো মানুষ মানুষকে বলে ‘তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না একদিনও’; আবার পরে দেখা যায় দু’জনের দু’জনকে ছাড়া খুব চলে যাচ্ছে। ভালো কে কম বেসেছিলো? কেউ জানে না নিরপেক্ষ উত্তর।

আমারই গাছের শেকড় আমায় সালোকসংশ্লেষণের জন্য গিলে নেয়

em.jpg
নদীর জলে ক্রমাগত বৃষ্টি ঝরে পড়ছে। আমার ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকের ভেতর ডুবে থাকা জানালাটার একটা কপাট নষ্ট। কেয়ার ঝোপের পাশের কপাটটাই নষ্ট। তাই কেয়াফুলের দিকে বার বার চোখ চলে যায়। আমি চাই না প্রিয় ফুলটিকে দেখতে। কিন্তু ঘুরে ফিরে আমার চোখ ওদিকেই চলে যায়। তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকি।

শুভ সকাল প্রিয়

ribbs.jpg
শুভ সকাল প্রিয় বাংলাদেশ। প্রিয়তমা রাজধানী। আগে বোধহয় পত্রিকায় একটা কলাম প্রতিদিন চোখে পড়তো, সুপ্রভাত বাংলাদেশ- বা এমন একটা কিছু। অনেক দিন সেই কলামটা দেখি নি। সচেতনভাবে খুঁজি নি যদিও, তবু মনে হয় সেই লেখাটা এখন আর লেখা হয় না। এরকম একটা শুভকামনা অবশ্যই একটা দেশের জন্য প্রতিদিন সকালে দরকার। এতে দেশের দিনটা শুরু হয় ভালোভাবে, খুশিমনে।

গল্প: নীলামনির গল্প


পাচ্ছি না একটুও শান্তি। নীলামনিকে সেদিন স্বপ্নে দেখলাম। দেখলাম কি, সে আমাদের বাড়ির একটা ঘর ভাড়া নিয়েছে। স্বপ্নে তো কতকিছুই দেখা যায়। আমি দেখলাম, এক ঘুঘু ডাকা স্তব্ধ দুপুরে ও ঘুমিয়েছে কিংবা ঘুমোনোর ভান করছে এমন সময় আমি গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেছি। ধরে বিছানার ওপরে দুইটা পাক দিয়েছি। তারপর হুটোপুটি শুরু করে দিয়েছি দু'জনে মিলে। নাকের সঙ্গে নাক ঘষছি আর দুইজনই খুব হাসছি। ও আমাকে বজ্জাত, হাড়কেলো ইত্যাদি বলে বলে কিল দেয়ার আর রাগ দেখানোর চেষ্টা করছে। আমি একসময় দুইহাতে ওর হাত দু'টিকে বালিশের দু'পাশে ঠেসে ধরে আটকে দিলাম। ওর আর তখন নড়াচড়া করার কোনো উপায় থাকলো না। কিন্তু ভীষণ লজ্জা পাচ্ছিলো বলে তাকিয়ে ছিলো অন্যদিকে। আমি অবশ্য চেষ্টা করেও ওর দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। নীলামনির মতো অনিন্দ্যসুন্দরী মেয়ে আমি আগে কখনো দেখি নি। পরে কখনো দেখবো এমনও মনে হয় না। ওর ঠোঁট থেকে আমার ঠোঁট তখন ঠিক এক ইঞ্চি দূরে। একটা রিনরিনে হাসির শব্দ ভাসছিলো অনেক দূরে কোথাও। আর আমি ওর বুকের ভেতর চলতে থাকা তোলপাড় স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিলাম।

না হলে তিনি হয়তো কান্না চাপতে চাপতে বলার চেষ্টা করতেন

যদি বলি বিষয়টা সাপোর্ট করতে পারলাম না, তাহলে হয়তো কেউ কেউ আপত্তি করবেন। গরীব মানুষ- এই জিনিসটা আমাদের সেন্টিমেন্টকে ভালোই নাড়া দেয়। একবার কোনোভাবে গরীব হয়ে পড়তে পারলেই তার জন্য সাত খুন মাপ। মাপ না হলেও সাজা কমবে অন্তত সত্তুর ভাগ। আমি গরীবিয়ানা সম্পর্কে বিষোদ্গার করতে চাই না। নিজেও সারাজীবন নিচু মধ্যবিত্ত জীবন যাপন করেছি। আজো অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি। তাই গরীব হলে কেমন লাগে সে সম্পর্কে একেবারে ধারণা নেই, তা বলবো না।

শুভ জন্মদিন তানবীরা'পু

mohananda.jpg

শুভ জন্মদিন তানবীরা'পু। আমি সারাদিন একবারও আপনাকে উইশ করার সুযোগ পাই নি। অথচ দুপুর থেকে জানি আজ (এতক্ষণে সেটা ইয়েস্টারডেও হয়ে গেছে) আপনার জন্মদিন। মৌসুম দেখলাম প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে। যেটা নিশ্চিতভাবেই আমার জানানোর কথা। যাক্ বেটার লেট দ্যান নেভার।
কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি কি আমাকে ভুলে গেলেন? জন্মদিনে কি কি গিফট পাইলেন? ভাইয়া কি দিলো? পিচ্চি কি দিলো? আর আপনি কি করলেন? কেমন কাটলো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী? এই জিনিসগুলো সামনাসামনি বসে চা-বিড়ি সহকারে আলোচনা করতে পারলে বোধহয় ভালো লাগতো।

বিচ্ছিন্ন আমি, আমার পানির বোতল, লাইটার, অ্যাশ ট্রে

ব্লগিং মিস করতেসি। ভালোভাবেই। এ ব্যপারেও পুরোনো একটা কথাই বলবো। আমার কোনো কিছুতে খারাপ লাগে না। মৃত্যূ ছাড়া পৃথিবীর প্রত্যেকটা বিষয়ের ভেতর থেকে আমি আনন্দ খুঁজে নিতে পারি। আর আমি বিশ্বাস করি, আনন্দ জিনিসটা সংক্রামক। এটা ক্ষনিকের জন্য হলেও মানুষকে তার সবগুলো দুঃখ একসঙ্গে ভুলিয়ে দিতে পারে। তবে এ কথাও সত্য, ব্লগিং এমন একটা বিষয় যেটা সত্যিই পোড়ায়।
মানুষের জীবন ক’দিনের? বন্ধু নাম নাই আর শর্মির সঙ্গে একদিন কথা হচ্ছিলো। জীবন নাকি দুইদিনের। দুইদিন বিষয়টা আসলে কি? ষাট বছরকে কেন দুইদিন বলছি? তখন আমার মনে হলো, মারা গেলে ‘পিসি’র সুইচের মতো সত্যি সত্যিই যদি কোনো সুইচ পারমানেন্টলি অফ হয়ে যায়’ তাহলে কি আসলেই এই সবকিছুর কোনো মূল্য থাকে?