ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১০

পৃথিবী তুমি আমায় নির্বাণ দাও
অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, প্লীজ
আমি পরিত্রাণ চাই।
এর বিনিময়ে তুমি চাইলে কেড়ে নিতে পারো
একটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার।
আমি কিংবা আর কেউ তাতে কিছু মনে করবে না।
শুধু দু'একজন সর্বংসহা হয়তো তোমার মতো করেই কাঁদবে,
যেভাবে কেঁদে কেঁদে তুমি নিজের নির্বাণ খুঁজে ফেরো।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৯

১.
আমাদের অফিসের সামনে একটা চা’ওয়ালা কাকা আছে। আমি কাকাই বলি। কাকা এই ৭৫+ বয়সেও প্রোডাক্টিভ। তার সবচেয়ে ছোট ছেলেটা নটরডেম স্কুলে পড়ে। ওয়ান বা টু’য়ে মনে হয়। পিচ্চিটা খুব্বি কিউট। পিচ্চিরা এমনিতে কিউট'ই হয়। এইটা আবার মাঝে মাঝে বাপের দোকানে বসে ক্যাশ সামলায়। আর বাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা বানায়। দেখতেই ভালো লাগে। আমি গেলেই এই পিচ্চির মাথাটায় পাঁচ আঙ্গুলে একটা চাপ দিই। সে মনে হয় বুঝতে পারে না, এটা তাকে ‘আদর’ করা হইসে। খানিকটা বিরক্তি নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে।
কাকা’র অন্যান্য ছেলেগুলোও দোকানে বসে। তার কি দেরীতে বিয়ে হয়েছিলো কিনা, কে জানে! তার একটা ছেলেকেও আমার বয়েসী দেখি না। অথচ আমার বাবার চেয়ে অন্তত ২০ বছরের বড় হবেন বয়সে।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৮

Don2-Stills.jpg

হিন্দি সিনেমা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। যেটা ডন-২ দেখে আমার মনে হলো। শাহরুখ খান একটা ভালো থ্রিলার করতে চাচ্ছিলো অনেকদিন ধরেই। রা-১ মার খেয়ে গেলো। বেচারার বোধহয় মন খারাপ ছিলো এজন্য। ওকে আবার আমি ভালো পাই তো খুবই, তাই আমারো মন খারাপ ছিলো। তো ডন-২ দেখে আমার মন খারাপ কেটে গেছে। এখন ওর কি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

সবচাইতে যেটা মজা পাইলাম, সিনেমায় বর্ণ বা অন্যান্য থ্রিলার থেকে নোট তো নেয়া হয়েছেই; পরিচালক এমনকি ক্যাসল অভ ক্যালিয়োস্ত্রো'র দিকেও হাত বাড়িয়েছেন। ভালো নকল দেখে দেখে লেখা প্রশ্নের উত্তরগুলোও আসলে ভালো মার্কস্‌ই পায়। আর উল্টা রেসিং মনে হয় বলিউডে এইবারই প্রথম দেখলাম। অবশ্য এই ব্যপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না আমি। স্বীকার করে রাখলাম।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৭

বিকালের দিকে যখন একটা আবিররঙা আলো কংক্রীটের বীমগুলোর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আমার শরীরের কাছাকাছি এসে গড়াগড়ি খেতে চাইতো, তখন আমি একটু পাশে সরে বসতাম। নরম আদুরে আলোটাকে স্পর্শ করতে দিতাম না আমার শরীর, কারণ ওর স্পর্শ পাওয়ার মতো নরম নয় আমার চামড়া। আমার খসখসে সরীসৃপ শরীরটা চাইলে এ আলোর পুরোটাই চুষে নিতে সক্ষম। নিয়ে চারদিকে চাইলে নামিয়ে দিতে পারে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। এমনিতেও প্রতিদিন একটা নির্ধারিত সময়ে এখানে অন্ধকার নেমে আসে। তবে আমি চাইলে সেটা নামিয়ে দিতে পারি বেশ কিছুটা আগেই কিংবা যেকোন অনাকাঙ্খিত সময়ে। চাই না কখনো। কারণ তাহলে হয়তো মার খেয়ে যাবে, প্রতিদিন এখানকার আবির-আলোয় বসে কয়েকটা মানুষের যে কাজগুলো করার পরিকল্পনা থাকে, সেগুলো।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৬

এই যে এখন একটা বিচ্ছেদ হলেই তোমার চেহারাটা নিয়ে
কনফিউজ হয়ে যাই,
বিশ্বাস করো আর নাই করো
এমন একটা সময় তুমি আর কখনোই ফিরে পাবে না।
এটা একটা ওয়ান’ন ওনলি।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৫

আসলে যখন তুমি জানো, লাগাম নামের একটা বস্তু তোমার হাতে আছে
তখন তুমি উড়ে বেড়াতে পারো এবং স্কাই ডাইভ দিতে পারো।
ট্যানডেম মাস্টার হতে পারো।
আর চাইলে পাপুয়া নিউগিনিতে স্কুবা ডাইভার হয়ে
সমুদ্রতলার আকোরিয়ামটা দেখে কাটিয়ে দিতে পারো দিন।

কিন্তু মনে রেখো জীবন তোমাকে কখনো দেবে না ঋণ।
তাই যদি সত্যি তোমার মনে হয়, তুমি এ কাজগুলো করতে পারো;
তাহলে আসলে বসে থেকে সময় নষ্ট করো না।
---

কবিতা : মিথ্যা কবিতা

শীতে কাবু হয়ে আছে চারিদিক। একদম চারিদিক। মাঝে মাঝে মনটা এত খারাপ হয়ে থাকে! কোনো কারণ ছাড়াই। অজস্র চিন্তা ভীড় করে আসে মাথায়। ইচ্ছেই হয় না, সেসবের কোনোটা নিয়ে ভাবতে। খালি পালাই পালাই করতে থাকি। কিন্তু পালিয়ে আসলে যাবো কই? যেখানে যাই, পৃথিবী ধাওয়া করে। সে সবসময় হাতে একটা ইট নিয়ে প্রস্তুত। আমার মাথায় আঘাত করার জন্য। সেটাও কোনো কারণ ছাড়াই।
বন্ধুত্ব একটা দারুণ ব্যপার। ভালো বন্ধুরা আপনাকে কখনো অপ্রস্তুত হতে দেবে না। যদি কোনো কারণে তাদেরকে আপনার জন্য চূড়ান্ত অপ্রস্তুতও হতে হয়, তাও চেষ্টা করবে আপনাকে সেটা কোনোভাবে বুঝতে না দিতে। যদি আপনি কষ্ট পান? তখন যে ওদের আরো কষ্ট হয়। আমার কপালটা খুব ভালো। এমন বন্ধু আমার কোটি কোটি আছে। আছে আসলে দু'একজনই। কিন্তু তারা দু'একজনই কোটি কোটি মানুষের সমান।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৪

আমরা এখনো কেউ কারো নই
তাই কথা না বলে চুপচাপ সময় কাটাতে পারি না একদমই।
আমার চলে যাওয়ার পরেও যে পাঁচ-ছ’ বছর তুমি একলা থাকবে,
আমি জানি তখন আমরা একে অপরের কিছু একটা হয়ে উঠবো।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৩

এসো আরো দুই বছর আমরা একে অপরকে ইমপ্রেস্ করি,
তারপর নাহয় হাত ধরার পর্বে যাবো।
কারণ পরিচয়ের প্রথম দিকের দিনগুলির মতো সময়
আর ফিরে পাওয়া যায় না।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ২

পার্কের ভেতরে ঢুকেই আপনি যে লাল ইট বিছানো চওড়া আইল্যান্ডটা দেখতে পাবেন, সেটা আপনার বসার জায়গা। আপনার সঙ্গে যদি বান্ধবী থাকে তাহলে আপনি এখানে বসতে পারেন। যদি না থাকে তাহলে তো আরো ভালো, বসে একটা সিগারেট ধরান। কি কি কাজ বাকী আছে সেটার একটা লিস্ট মনে মনে তৈরি করা শুরু করুন। আপনি যদি একটা ফোন করতে চান এবং কাউকে এখানে আসতে বলতে চান, তাহলে বেশি ভিতরে না গিয়ে আইল্যান্ডের শুরুর দিকেই কোথাও বসুন। যাকে আসতে বলতে চান তাকে বলুন, ছবির হাটে চলে আসতে। সে ছবির হাটে পা দিয়েই আপনাকে দেখতে পাবে। আর যদি কোনোদিন ভাগ্যক্রমে ওস্তাদের মুড-টুড বেশি ভালো থাকে, তাহলে হয়তো আপনি এমন কাউকে নিয়ে এখানে উত্তেজিত ভঙ্গিতে ঢুকে পড়বেন, যাকে বলার জন্য অনেকগুলো কথা আপনার মাথার ভেতরে ঠেলাঠেলি করতেসে। কিন্তু আপনি জানেন, প্রিয় সময়গুলো সবসময়ই খুব দ্রুত কাটে। এবং আপনি এও জানেন, আজো না-বলা থেকে যাবে অধিকাংশ কথাই। তখন আপনি মনে মনে খুশি

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ

লাইকানথ্রপ হবার সুবাদে
আমি প্রতি ফুলমুনে
একবার করে ভাবতাম,
যদি আমি একজন স্বাভাবিক মানুষ হতাম
তাহলে আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মেয়েটির ঠিকানা ছিলো।
---

রিটায়ার্ড হার্ট পোস্টটার বদলে

ভারতের একটা ম্যাগাজিন আছে, এফএইচএম। একটু ইয়ে ধরনের ম্যাগাজিন আর কি। তবে দু'চারটা স্টোরি পড়ে মনে হলো ম্যাগাজিনের মূল কন্টেন্ট হচ্ছে- ফ্যাশন টুলস, ফ্যাশন আইডিয়াজ আর ফ্যাশন ইউটিলিটিজ। বিক্রি-বাট্টা বাড়ানোর জন্য তাদের স্ট্র্যাটেজী হচ্ছে বিভিন্ন নায়িকাদের রগরগে ছবি দিয়ে কভার পেজ করা। এছাড়া বিভিন্ন গসিপ বা খবরকে মসলা-টসলা মিশিয়ে ভালো ট্রিটমেন্টও দেয় দেখলাম।

একটা অসম্পূর্ণ গল্প

প্রথম দেখার কালে বন্ধু
কথা দিয়াছিলে...

স্কুলজীবনে যে ক'জন বালিকার প্রতি মন থেকে অনুরাগ অনুভব করেছিলাম, তাদের মধ্যে হৃদিতা আর টুয়ী ছিলো সবচে' দারুন। দুঃখের কথা; শেন ওয়ার্ন আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল সমসাময়িক হওয়ায়, ম্যাকগিলের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারে নি ইতিহাস। তেমনি টুয়ীর প্রতিও সুবিচার করতে পারি নি আমি। পরবর্তীতে এ দুঃখ ভুলতে পেরেছিলাম, হৃদিতার বিয়ের অনুষ্ঠানে টুয়ীর সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াতে। তখনও 'বিয়া হইসে তাতে কি/ হলুদে তো গিয়েছি' গান বের হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই মন ভার হয়ে থাকার কথা। ছিলোও।

সেই সময় টুয়ীকে দেখে তাই নিজেকে মনে হয়েছিলো, দ্রুতগামী কোনো জাহাজের পাশে লাফিয়ে লাফিয়ে পাল্লা দিতে থাকা একটা উড়ুক্কু মাছ। মেয়েরা অনেক অসাধারণ প্রকৃতির হয়। হৃদিতার সঙ্গে ভাব করার মতো একটা গর্হিত অপরাধকেও টুয়ী সেদিন অকপটে মাফ করে দিয়েছিলো।

ভালোবাসি তোমায় তাই জানাই গানে

কালো বর্গের উপর সাদা রং-এর নির্মাণে নির্বাণ লাভ করেছে কী-বোর্ডের স্ট্রোকগুলো। কেন এই পৃথিবীজুড়ে শুধু মারামারি, হানাহানি আর খুনোখুনি? কিছুটা শান্তির সঙ্গে যদি বসত গড়তে পারতাম, তাহলে নিশ্চিন্ত মনে একটা দোয়েলের বা ফড়িং-এর জীবন কাটাতাম। আমার শ্বাসনালী দিয়ে সেই স্বপ্ন প্রবেশ করে না কখনো। কারণ বাতাসে পোড়া গন্ধ। মানুষের ফুসফুস পুড়ছে নিরন্তর। আর হৃৎপিণ্ডগুলো হাপরের মতো দম দিয়ে যাচ্ছে তাতে। আমি যখন আর সহ্য করতে পারতাম না, তখন একছুটে তোমার কাছে চলে যেতাম। পালিয়ে থাকতে চাইতাম, তোমার ছোট্ট ভেজা ভেজা মায়াবী আঙ্গুলগুলোর মাঝে। তোমার পলকা কাঁধে মাথা রেখে দূর দিগন্তে হারিয়ে যেতাম।

অথচ কি অসীম শক্তি যে ছিলো ওই কাঁধের, তা কেবল আমিই জানি। পৃথিবীর মতো এতবড় শত্রুর হাত থেকেও আমায় আড়াল করে ফেলতে তুমি। বাঁচিয়ে দিতে। মুঠোভরা বেঁচে থাকার রসদ দিয়ে দিতে আমার জন্য। এত শক্তি কোথায় পেয়েছিলে মেয়ে?

গল্প: যে কারণে বিশ্বাস হারানোর ক্ষমতা হারিয়েছি

জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব ক্লাসরুম ছিলো একটাই। রুমটার নাম ছিলো হাজার আটাশি। এখন হাজার আটাশি অনেক আধুনিক চেহারা পেয়েছে। কিন্তু এক সময় সেখানে কেবল তক্তার তৈরি একটা প্ল্যাটফর্ম এবং তার ওপরে ছিলো অতি পুরোনো ধাঁচের একটা ডায়াস। পড়ানোর জন্য ব্ল্যাকবোর্ড আর সাদা চকই ছিলো স্যার-ম্যাডামদের একমাত্র ভরসা। তখন আমরা পশ্চিমমুখো হয়ে বসে ক্লাস করতাম। এখন সবাই পূর্বদিকে মুখ করে বসে এবং পড়াশোনা হয় প্রজেক্টরে-প্রজেক্টরে। স্যারেরা সবসময় ল্যাপটপ নিয়ে ক্লাসে আসেন। যেটা আমাদের সময় হাতেগোণা দু'একজন আনতেন।

আমাদের বাসা থেকে ইউনিভার্সিটির দুরত্বটা কখনোই বাড়ে নি। কিন্তু বছর বছর বেড়েছিলো রিকশার ভাড়া। প্রথম প্রথম আমি ২০ টাকা করে যেতাম। একদম কলাভবনের দোরগোড়া পর্যন্ত। বন্ধু তোজা নাকি একবার ১৫ টাকাতেও গিয়েছিলো। এই ভাড়াটা শেষতক ৪০ টাকায় গিয়ে ঠেকলো। এরপর কি হয়েছে আমি জানি না।