ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

গল্প: বিলের পদ্মফুলের ক্ষেত্রে হয়তো প্রাসঙ্গিক

একটা দারুণ ব্লগ ছিলো। সেখানে ছিলো চাঁদের হাট। এক অনন্ত রাতের গভীর আকাশে বসেছিলো ভরাপূর্ণিমার চাঁদের হাট। আমি ছিলাম সেই ব্লগটার মডারেটর। লোকজনকে বলা ছিলো, কোনো গণ্ডগোল করা চলবে না। লোকজন কোনো গণ্ডগোল করতো না। তারা খুবই মজা করতো। আমি চুপ-চাপ বসে দেখতাম, সবাই কি করে। কারণ এই কাজটাই ছিলো সবচে' সহজ। এটা করতে গিয়ে আমি ভাবনার কাজটাও চালিয়ে নিতে পারতাম পুরোদমে। কোনো কিছু নিয়ে ভাবা হচ্ছে আমার প্রথম কাজ। এবং আমি ঠিক করেছি কখনো জীবনে কোনো কাজ করবো না। কেবল ভাববো। একেকজন মানুষ একেকভাবে চিন্তা করতেই পারে। তাই না? ইনটু দ্য ওয়াইল্ডে কি দেখাইসে?
নিয়া যখন একটা পোস্ট দিতো তখন আমি মাঝে মাঝে কয়েকজনের কমেন্ট সাময়িক বন্ধ করে দিতাম। ওরা আক্রোশে লাফালাফি ঝাপাঝাপি করতো। আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খেতে চাইতো। কিন্তু কোনোকিছুতেই আমি ওদেরকে নিয়ার ব্লগে কমেন্ট করতে দিতাম না।

গল্প: কপট চোখ রাঙানিসমৃদ্ধ একটা ছোট্ট কথোপকথন

পেশাজীবনের শুরুর দিকের ঘটনা। ইশরাত আমাকে দেখলেই দৌড় দিতো। খুব আশ্চর্য হতাম। ও'ও রিপোর্টার। কিন্তু কোথায় কাজ করে সেটা কোনোদিন জানার সুযোগ পাই না। অ্যসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার পর আমি বেশ ক'দিন কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মূহূর্তের মধ্যে সে ফুড়ুৎ হয়ে গেছে। এবং কিছুটা যেন আমাকে নজরে রেখেই ফুড়ুৎ হয়ে গেছে। হয়তো একদম কাজ শেষে আমি নোটবুকটা বন্ধ করার জন্য একটু নিচের দিকে তাকিয়েছি। ওটা ব্যগে পুরে ওকে গিয়ে কথাটা জিজ্ঞেস করবো, কিন্তু চোখ তুলে দেখি নেই।
কারণটা কি আমি বুঝতে পারতাম না। একদম প্রথমদিন আমি ঠিক ওর পাশের সিটটায় গিয়ে বসেছিলাম। ওকে তখনো দেখি নি। পুরা হলে ঐ একটাই সিট খালি ছিলো। আমি বসার পর খেয়াল করলাম, এতক্ষণ আসলে অন্যকেউ ওর পাশে বসার সাহস পাচ্ছিলো না। এই সিটটাকে লাস্ট চয়েজ হিসেবে ধরে রেখে সবাই একে একে বসেছে। তারপর আমি ঢোকার সময় কেবল ওটাই খালি ছিলো। কোনোদিকে না তাকিয়ে বসে পড়েছি।

রঙ্গন ঝোপের পরে টুপুর-টাপুর বৃষ্টি ঝরে

১.
সেদিন তানবীরা'পু বলেছে, মানুষ মানুষকে ভালবাসবে এতে চেতার কি আছে? আইনটা চালু হওয়ার পর থেকে মেসবাহ ভাই সেটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেসে। কাজটায় আমার পূর্ণ সমর্থনও আছে। কারণ আমি লীনা আপুর সঙ্গে একমত। ভালোবাসা পবিত্র জিনিস।
২.
কবে যেন একটা মহল্লায় গিয়েছিলাম। সেটা একটা গাছ-গাছালিতে ভরা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত মহল্লা। সেই সন্ধ্যায় একটা ঝুম বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর মহল্লায় কেউ ছিলো না। আমি একা একা বসেছিলাম এক কাপ চা হাতে।
তখন যে রকম স্নিগ্ধ নীরব একটা অনুভূতি মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো, তেমন সবসময় করে না। যেন একটা জমাট বরফের টুকরা আস্তে আস্তে গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। আমি খুব নিবিড়ভাবে নিজের সঙ্গে বসে বসে সময় কাটালাম। মানুষ তার জীবনে কয়টা সন্ধ্যা নিজের সঙ্গে কাটাতে পারে?
৩.

গল্প: কালবৈশাখী

পর্ব-১

পাচ্ছি না একটুও শান্তি। নীলামনিকে সেদিন স্বপ্নে দেখলাম। দেখলাম কি, সে আমাদের বাড়ির একটা ঘর ভাড়া নিয়েছে। স্বপ্নে তো কতকিছুই দেখা যায়। আমি দেখলাম, এক ঘুঘু ডাকা স্তব্ধ দুপুরে ও ঘুমিয়েছে কিংবা ঘুমোনোর ভান করছে এমন সময় আমি গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেছি। ধরে বিছানা ওপরে দুইটা পাক দিয়ে দিয়েছি। তারপর হুটোপুটি শুরু করেছি দু'জনে মিলে। নাকের সঙ্গে নাক ঘষছি আর দুইজনই খুব হাসছি। ও আমাকে বজ্জাত, হাড়কেলো ইত্যাদি বলে বলে রাগ দেখানোর আর কিল দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি দুইহাতে ওর হাত দু'টিকে বালিশের দু'পাশে ঠেসে ধরে আটকে দিলাম। ওর ঠোঁট থেকে তখন আমার ঠোঁট ঠিক এক ইঞ্চি দূরে। একটা রিনরিনে হাসির শব্দ তখনও দূরে কোথাও ভাসছিলো। আমি সে সময় ওর বুকের ভেতরকার তুমুল তোলপাড় স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিলাম।

কবিতা: সহস্র সারস পাখি আকাশের আঙিনায়

জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। এবারে গ্রীষ্মের শুরুতে প্রকৃতি অনেক প্রসন্ন ছিলো। প্রতিদিন ঝড় না হলেও, এক-আধবার বাতাস ছাড়তো ঠিকই। এখন সেটা একটু কমে এসেছে। দু'তিন দিন গরমে অসহ্যও লেগেছে। কিন্তু অসহ্য হতে পেরে খারাপ লাগে নি।

ঝড় শুরু হলেই আমি রাস্তায় নেমে যাই। প্রকৃতিদেবীর এই উপহারটির সঙ্গে আসলে কোনোকিছুর তুলনা চলে না। এখন আবার মনে আরেকটা ইচ্ছা তৈরী হয়েছে। একটা ভীষণ ঝড়ের মধ্যে রমনা পার্কে গিয়ে বসে থাকবো। সোহরাওয়ার্দী পার্কের প্রতি বর্গইঞ্চি চিনি। ঝড়ের সময় কি হয়, কে কই আশ্রয় নেয়, কোন দিকে তাকিয়ে বাতাসের কীর্তিকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়; সব জানি। অথচ ঠিক উল্টোদিকেই রমনা। তার কিচ্ছু চিনি না!

মনেরো বাগানে ফুটিলো ফুল রে

তৌকির আহমেদ আমার প্রিয় অভিনেতা। নাটকের ক্ষেত্রে। ছোটবেলায় তার নাটক দেখতাম তো, ওই সময়ের আবার কিছু ভিন্ন ব্যপার-স্যপার আছে। বয়োঃসন্ধিকালে কাউকে একবার 'দিল' দিয়ে ফেললে সেটা ফেরত পাওয়া কঠিন। তৌকিরের রূপনগর এবং আরো কিছু হিরোইক অভিনয় সে সময়েই দেখা। কি আর করা।
একই সময়ে খালেদ খান নামে এক ভদ্রলোক ভিলেনের অভিনয় করতো। যে কারণে তাকে কখনোই ভালো চোখে দেখতে পারি নি। এটাকে কি বলা যায়? দিল দিয়ে ফেলার উল্টোযুক্তি? কাউকে একবার চিনে রাখলে সর্বনাশ। জীবনেও আর ভোলার সুযোগ নেই। হতে পারে।
তৌকির আহমেদের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা মনে মনে পোষণ করতাম। কিন্তু দেখা হলে যদি হতাশ হই? তাই কখনো তাকে সামনাসামনি দেখার চেষ্টা করি নি। কৈশোরবেলার একজন নায়ককে বাঁচিয়ে রেখেছি এভাবেই। কিন্তু ইদানীং একটা বিষয় ভাবছি, ঘটনা যদি স্কারলেট জোহানসনের ক্ষেত্রে হয়, তখন কি করবো?

গল্প: নির্মাণাধীন

আমি যেখানে এসেছি জায়গাটার নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় যেমন ছিলো। এখানে বেশিদিন হয় নি এসেছি। গত কয়েক বছরে আমার বন্ধু-বান্ধব কমতে কমতে একদম শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে প্রায়। এখানে যারা থাকে তাদের কারো সঙ্গে এখন আর যোগাযোগ নেই। করতে ইচ্ছেও করে না। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালবাসি।

এই ব্যস্ত থাকাই নিয়ে এসেছে ভিন্ন গোলার্ধের এই জায়গাটায়। এখানে একা একা থাকি, তাতে সমস্যা হয় না। কোনো কাজ করি না, তাতেও কেউ কিছু বলে না। নিজের মতো কাটাতে মজা পাই কারণ এখানে প্রায় সবাই'ই আমার মতো। একটু গরীব আর একটু লাগামছাড়া।

সেদিন মেয়েটির সঙ্গে দেখা হলো অদ্ভুত এক জায়গায়। আমি মাঝে মাঝে করি কি, কোনো একটা পাবে চলে যাই। ছেলেপিলেরা হৈ-হুল্লোড় করে। আমি নিজের মতো বসে থাকি। সান্তুরি সময় কাটাই।

অন্তরমাঝে তুমি শুধু একা একাকী

সকাল ছয়টা। হোটেল রূপসী বাংলার সামনে গিয়ে রিকশা থেকে নামলাম। পল্টন মোড়ে একটা নিউ রূপসী বাংলা হোটেল আছে। সেটা না, আমি নেমেছি পুরোনো শেরাটন হোটেলটার সামনে। স্টারউড গ্রুপ যাকে ছেড়ে যাওয়ার পর, নতুন নাম হয়েছে রূপসী বাংলা। আশা করছি নামের পাশাপাশি সেবার মানেও সৌন্দর্যবৃদ্ধি ঘটবে।

আমি ক্ষণকাল সেই নৌকায় সওয়ার হয়েছি মাত্র

"শরীরই শ্রেষ্ঠতম সুখের আকর। গোলাপের পাপড়ির ওপর লক্ষ বছর শুয়ে থেকে, মধুরতম দ্রাক্ষার সুরা কোটি বছর পান ক’রে, শ্রেষ্ঠতম সঙ্গীত সহস্র বছর উপভোগ ক’রে যতোখানি সুখ পাওয়া যায়, তার চেয়ে অর্বুদগুণ বেশি সুখ মেলে কয়েক মুহূর্ত শরীর মন্থন ক’রে।"
কি কথা! এরকম করে বলে দেয়ার মতো মানুষ আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে হুমায়ুন আজাদ স্যারের সব লেখা আমি পড়ি নি। পড়ে পরে বলতে পারবো, তিনি নেই বলে কি অসহায় মানবজীবন কাটাতে হবে? নাকি নতুন একটা ওয়ে-আউট খুঁজে নিতে পারবো।

গল্প: লি মোমেন্ত উ কিলকু শুঝ কমেন্স

দেখতে দেখতে চেহারাটা হনুমানের মতো হয়ে উঠলো।

মানুষের চেহারায় হনুমান ভাব ফুটে ওঠে অনিয়মিতভাবে বড় বড় দাঁড়ি রাখলে এবং সে সময় গালের হনু বেশিমাত্রায় উঁচু হয়ে গেলে। আমি এমন মানুষও দেখেছি যার পুরো শরীরটা পেটা, মুঠোর মধ্যে হাতের চ্যপ্টা হাড়গুলোর বেড় পাওয়া যায় না, দুই কাঁধ দুইদিকে নেমেছে তো নেমেছেই, সামনের দৃষ্টিপথ পুরোপুরি আড়াল করে তারপর থেমেছে। কিন্তু চোখের নিচে দু'টো হনু উঠেছে খাড়া পর্বতের মতো। সবকিছু ছাপিয়ে সবার আগে চোখে পড়ে।

লুকানো সংকট

ইয়াহু মেইলের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট) ডেভিড ম্যাকডুয়েল সেদিন বলছিলো, ভাই আমরা কিছু চরম চরম ফিচার লাগিয়েছি আমাদের আপগ্রেড ভার্সনে। এতে তাড়াতাড়ি মেইল করতে পারবেন, আনলিমিটেড স্পেস পাবেন, আরো সহজে আপনার এ্যকাউন্ট ইউজ করতে পারবেন; অনেক কিছু করতে পারবেন।
আমি মুখটা অন্যদিক ঘুরিয়ে রাখলাম। কি পেইন! আমি কি চেয়েছি কোনো বাড়তি সুবিধা? শুধু যে সিস্টেমটায় আমি স্বচ্ছন্দ্য, সেটা বানচাল না হলেই হলো। কিন্তু ডেভিড একটা নচ্ছার। বীমা কোম্পানীর লোকগুলোর মতো পিছে লেগে থাকে। যদিও আমাদের দেশে বীমা কোম্পানীর চেয়ে বেশি দৌরাত্ম্য এমএলএম কোম্পানীর লোকদের। আসলে আমরা তো সবসময় পশ্চিম থেকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে থাকি, তাই ওদের পঞ্চাশ বছর আগেকার পুরোনো আমের আঁটি নিয়ে বসে আছি এখনো।

টুপুর-টাপুর বৃষ্টি ঝরে রঙ্গন ঝোপের পরে

১.
সেদিন তানবীরা'পু বলেছে, মানুষ মানুষকে ভালবাসবে এতে চেতার কি আছে? আইনটা চালু হওয়ার পর থেকে মেসবাহ ভাই সেটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতেসে। কাজটায় আমার পূর্ণ সমর্থনও আছে। কারণ আমি লীনা আপুর সঙ্গে একমত। ভালোবাসা পবিত্র জিনিস।
২.
কবে যেন একটা মহল্লায় গিয়েছিলাম। সেটা একটা গাছ-গাছালিতে ভরা পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত মহল্লা। সেই সন্ধ্যায় একটা ঝুম বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর মহল্লায় কেউ ছিলো না। আমি একা একা বসেছিলাম এক কাপ চা হাতে।
তখন যে রকম স্নিগ্ধ নীরব একটা অনুভূতি মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো, তেমন সবসময় করে না। যেন একটা জমাট বরফের টুকরা আস্তে আস্তে গলে পানি হয়ে যাচ্ছে। আমি খুব নিবিড়ভাবে নিজের সঙ্গে বসে বসে সময় কাটালাম। মানুষ তার জীবনে কয়টা সন্ধ্যা নিজের সঙ্গে কাটাতে পারে?
৩.

একরত্তি ছেলেটার জন্য মন খারাপ

২৩ বছরের আলেক্জান্ডার সুপারট্রাম্পের জন্য মনটা খারাপ লাগছে। অসাধারণ একটা ছেলে ছিলো। গ্রাজুয়েশন শেষ করে বেরিয়ে পড়েছিলো পৃথিবীর পথে। নিজের উপার্জিত প্রায় ২৪ হাজার ইউএস ডলার দান করে দিয়েছিলো অক্সফামে।
সেই ছেলেটাকে পছন্দ হয়ে গিয়েছিলো। মুভিটা (ইনটু দ্য ওয়াইল্ড) অনেকে হয়তো বান্ধবীকে নিয়ে কম্বলের নিচে শুয়ে শুয়ে দেখতে খুব একটা পছন্দ করবে না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে একটা সেইরকম পরিবেশে এই মুভিটা শেষ করে বেশ কিছুক্ষণ হতবাক হয়ে বসে থাকা যায়। এ প্রসঙ্গে নাম নাই'কে কি একটা ধন্যবাদ দেবো? কেননা দুই ঘন্টা ২৮ মিনিটের মুভিটা একবার অর্ধেক দেখে, কেন যেন রেখে দিয়েছিলাম। অন্যান্য মুভি দেখছিলাম, কিন্তু ওটা শেষ করছিলাম না। সে একদিন তাগাদা দিলো!

বৃষ্টিকথা

মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমার পড়াশোনা খুবই সীমিত। কিন্তু তা বলে আগ্রহ সীমিত এমন ভাবা যাবে না। বরং মনস্তত্ত্ব বুঝতে চেষ্টা করাটা আমার একটা শখ বলা যেতে পারে। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম মজার বিষয় আছে। লেখক হুমায়ুন আহমেদ নেত্রকোণার কুতুবপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। কি মনে হলো, একদিন তিনি ঘুরে দেখতে গেলেন সেই স্কুল। সঙ্গে নিয়ে গেলেন কিছু চাবি।
সেসব চাবি দিয়ে তাঁর দরজা খুলে দেয়ার ইচ্ছে ছিলো। শিশুদের জন্য সৌভাগ্যের দরজা। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে সেখানে দেখলাম সবসময় বেশ ব্যস্ত। মাইকে একটা কথাও বলার শুরুতে ‘অ্যাই শোনো আমি কিন্তু আজ কথা বলতে আসি নি’ বলে শুরু করছেন। অ্যাই শব্দ দিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে তিনি সম্বোধন করছেন। তারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

গল্প: পানকৌড়ি বা ঘাসফড়িঙ না দেখেই কেটে গেছে প্রায় ছয়টি বছর

খেলার কাজটি ভালো পারতাম জন্মের পর থেকেই। আব্বু-আম্মু কিংবা আর সবার কোলে কত যে খেলেছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তখন সবাই কোলে নিয়ে আমার খেলা দেখতেও মজা পেতো। আমিও সবার কোলে উঠে অনেক মজা পেতাম। এর কিছুকাল পর যখন একটু দৌড়াতে শিখেছি তখন জীবনের প্রথম সত্যিকারের খেলার সরঞ্জাম উপহার পেলাম। সে সময় স্কুলে যাওয়ার কোনো বালাই ছিলো না বলে দৌড়-ঝাপেরও কোনো সীমা-পরিসীমা ছিলো না। দিনের যখন খুশি, যেখানে খুশি শুরু হয়ে যেতাম। শুধু আম্মুজানের চোখের আড়াল হওয়ার পারমিশনটুকু ছিলো না। তাতে কোনো অসুবিধা হতো না। বাবা’র সরকারী চাকুরীর সুবাদের প্রাপ্ত বিশাল বাড়িটিতে অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছিলো হাত-পা দুইদিকে যতদূর যায় ততদূর ছড়িয়ে দৌড়ানোর সুযোগ। আজ-কালকার ঈশ্বরের আশীর্বাদেরা সে সুযোগ কতটুকু পায়, জানি না।