ইউজার লগইন

মিতুল'এর ব্লগ

হারাতে হারাতে যতটুকু পেয়েছি, তার শেষও বুঝি আর রাখা গেল না

(ক)

যতীশ কে দেখেছি,
যতটুকু প্রশস্ত তার শরীর
প্রায় কাছাকাছি ঢোলটি নিয়ে চওড়া হাসিতে ভাসতে ভাসতে, ভাসাতে ভাসাতে
উৎসবে রং চড়াতে চলেছে।

এই দিনগুলোয়,
ঢাকের শব্দের রঙধনু মাখাতে মন্ডপে মন্ডপে আমরা যতীশের পাশেই,
যারা বন্ধু ছিলাম, লাড্ডু হাতে মুখ মিষ্টিতে ব্যকুল হতে হতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যেতো !

কখনো শুনিনি জাত-অজাত, মুসলিম-হিন্দু,
কাঁধে কাঁধ মিলিযে কাঠের যে শিল্ডটা জিতে এনেছিলাম
এখনো তা সেলফে সাজানো, সাক্ষী দেবে সময়ের,
মাঝে মাঝে ছুঁয়ে দেখি, আনন্দে আত্মহারা হই।

যতীশ, তোর ঘুড়ি উড়ানো দেখে আমি এতটাই মোহিত যে,
ওটাই আমার ধ্যান হয়ে গেল এক সময়,
স্কুল ফাঁকি দিয়ে সুতোয় মান্জা মেরে নেমে পড়তাম
তোকেই বধ করতে।
বধ হতে কখনোই কষ্ট পেতে দেখেনি তোকে,
চুপিসারে হাসি হাসি মুখে লাটাই-সুতো গুটিয়ে ঠিক সরে পড়তি।
তোদের বাড়ীর পশ্টিমে ঢালু জমিটার পাশেই যে বুড়ো কড়ই গাছ শিকড় ছড়িয়ে,
তার উপর বসে কাঁচা আম খাওয়ার ধুম,
মাসিমা ঠিক নুন- মরিচ ডলে দিত, বলতো, নে কাঁচা আমে মাখিয়ে নে।
প্রায়ই মার্বেলের বয়্যামটা বের করে দিব্যি লেগে পড়তাম খেলতে,

সহজ পাঠ

(১)

জানি না।
জানলেও, মানি না
লাল, নীল, সবুজ যাই দেখি, মিশাই
সাদা আমার প্রিয়, সাদাতেই হারাই।

(২)

নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম একটা, একসময়
বন্ধ খামের গায়ে, ভুল অক্ষরে নাম আমার, বুঝিনি।
পাশাপাশি যিনি, ভুলের মাতমরত
তাকে দিয়ে বলেছিলাম, ‘আপনার জন্য”।
সেই শেষ, কিছু শুরুর আগেই।

(৩)

তোমাকে বলিনি কখনো ? লুকোচুরিতে আমার ভীষন ভয় !
এমনি এক কানামাছি খেলার ফাঁকে
হারিয়েছিলাম আমার শখের সোনালী ট্রয়।

(৪)

যতদূর যাও, থাক যেখানেই, যার কাছাকাছিই,
মনে রেখ, দুজনে বেশ পাশাপাশি, হেঁটে হেঁটে
রমনার এবাকে ওবাকে
বকুল কুড়িয়েছিলাম একদিন।

(৫)

যা লিখি, পাঠাই। নুপুর কিনেছি একটা জানাই

জানি, খুব যত্নে, গুছিয়ে,
প্রায় সবই একে একে সাজাও।
মাঝে মাঝেই এদিক সেদিক উলটে পালটে পড়,
চুল বাঁধ, ঠোঁট রাঙাও,

এখন এই সময়, আমি ও তোমরা

অনেকদিন আকাশ ছুঁইনা,
হাঁটি নিঃশব্দে ছায়ায়। লুকিয়ে যতটুকু শিকড় ছড়ানো যায়, ছড়াই,
বাধা এলে গুটিয়ে ফেলি গন্তব্য, একে বেঁকে এগলি ওগলি পেরিয়ে খুব সাবধানে ফিরে আসি।
কখনো বা কেউ কিংবা দুজনে বসে খুনসুটিরত, নির্লজ্জ ভারী শব্দ সকল,
কোন কোনদিন দিব্যি কাউকে বলতে শুনি নিষিদ্ধ আহবান,
জমে জমে নীলে ছেঁয়েছে জমিন, তাকাই না।

ক্ষয়ে যাওয়া মেরুদন্ড নিয়ে হামাগুড়িতেও বড় কষ্ট আজ
ছোবল হানতেও ভুলে গেছি অনেকদিন কিংবা
আমার থেকেও বিষধর যে জন তাকে খেলতে দেখতেই ভাল লাগে আজকাল।
জল, সবুজ ছাপিয়ে যে লাল ছড়ায় পশ্চিমে,
তার কাছাকাছি হলেও,ও পাশে থাকলেও,
মাথা নিচু, চুপ, কোন কবিতা পড়ি না ।

মাঝে মাঝে এসবেও বড় ক্লান্ত,
পথ চলতে, মাটি খুড়তে বড়ই অস্বস্তি হয়
পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হয়,
বড্ড অচেনা কোন শ্বাপদের রক্তাক্ত নখর শান্ত কিছুটা,
স্থির সাময়িক
বড় কোন লক্ষ্যের জন্য।

শিমূলে শিমূলে বিলম্বিত যাত্রা আমার ও একটি দূরপত্র

(১)
শিমূলে শিমূলে বিলম্বিত যাত্রা আমার,
তারপর দীর্ঘ অনুশোচনা
ব্যর্থতার গ্লানী নিয়ে শোকের নাচানাচি
এবং আমি হঠাৎই বর্নহীন হয়ে যাই।

(২)
অল্পপোঁড়া চাঁদ সবে জ্যোৎস্না ছড়াচ্ছে সর্বত্র
সামনে আবছাযা সুপুরী বাগান,
আামি এবং তারাগুলো।
তুমি বললে “ভুলে যেও”।

আমিতো আর নিষ্ঠুর হাতে গোলাপ ছাঁটতে পারি না।

(৩)
প্রিয়,
তোমাকে শেষ কখন কোথায় দেখেছিলাম মনে পড়ে না আর।
যদিও, যখন তখন তোমাকে নিখুঁত ভাবতে কষ্ট হয় না এখনো।

লাল একটা গোলাপ পাঠিয়েছিলে একদিন, মনে পড়ে?
কেন পাঠিয়েছিলে জিজ্ঞেস করা হয়নি কখনো,
শীত-কুয়াশা ছাপিয়ে কতদিন তোমার জানালা ঘেষে ঠিক হেটে গিয়েছি রাত্রিতে,
যদি দেখা হয়, দেখা পাই আশায়।
মজাটা হল, তুমি চেয়েও দেখনি কখনো, তাতে কী হেসেছি মনে মনে।
কখনো বা শীতের কোমল রোদ ছায়ায় পুকুর ধারে দাড়িয়ে
সিঁদুরে লাল শেওলা বাতাসের ছোঁয়ায় জড়ো হওয়া দেখতে দেখতে মৃদু হাসতে তুমি।

তবুও ফিরে আসুক

(১)
তবুও ফিরে আসুক

সবুজ, মাটি ফাটল ধরলো হঠাৎ,
আর তুমি উঠে আসলে অবলীলায়।

কী ছিলনা না তোমার,
মাটি ছিল, পতাকা ছিল
অদৃষ্ট দেখার মোটা ফ্রেমের
একজোড়া স্বচ্ছ কাঁচ ছিল,
আর, ছিলাম আমরা।
ছিল এত,
তারপরও তোমাকে লুকাতে হয়েছিল, এ’ কটি বছর,
দিন ও রাতের খেলায তুমি নিশ্চিত পলাতক ছিলে।এবং
তুমি দেখলে না
লাল বৃত্ত আরও গাঢ় হয়েছে এ’ কদিনে।

তুমি এসেছো ?
ভুলে যেও না
ভরা পদ্মা এখন শুধুই বালি, এবং
তুমি শুধুই ছবি।

(২)
সম্প্রসারিত

বন্ধু,
তুমি কি খুঁজিতেছ,
অনেকগুলো বছর পর
অন্যের ছায়া হইতে তুমি
যে প্রতিমা তৈরী করিয়া আনিয়াছ
তোমার নিজস্ব ভূমির সহিত তাহার মিল কোথায়?

তুমি ক্রমশঃ দূরে চলিয়া যাইতেছ।

তবুও ফিরে আসুক

(১)
তবুও ফিরে আসুক

সবুজ, মাটি ফাটল ধরলো হঠাৎ,
আর তুমি উঠে আসলে অবলীলায়।

কী ছিলনা না তোমার,
মাটি ছিল, পতাকা ছিল
অদৃষ্ট দেখার মোটা ফ্রেমের
একজোড়া স্বচ্ছ কাঁচ ছিল,
আর, ছিলাম আমরা।
ছিল এত,
তারপরও তোমাকে লুকাতে হয়েছিল, এ’ কটি বছর,
দিন ও রাতের খেলায তুমি নিশ্চিত পলাতক ছিলে।এবং
তুমি দেখলে না
লাল বৃত্ত আরও গাঢ় হয়েছে এ’ কদিনে।

তুমি এসেছো ?
ভুলে যেও না
ভরা পদ্মা এখন শুধুই বালি, এবং
তুমি শুধুই ছবি।

(২)
সম্প্রসারিত

বন্ধু,
তুমি কি খুঁজিতেছ,
অনেকগুলো বছর পর
অন্যের ছায়া হইতে তুমি
যে প্রতিমা তৈরী করিয়া আনিয়াছ
তোমার নিজস্ব ভূমির সহিত তাহার মিল কোথায়?

তুমি ক্রমশঃ দূরে চলিয়া যাইতেছ।

আমাদের ইস্কুল

(১)

বিয়ে বাড়ী। বেসামাল হৈচৈ।খাওয়া এখনো শুরু হয়নি। দোতালায় কনেকে সাজানো হচ্ছে। কনে সাজবে, বিয়ে পড়ানো হবে তারপর খাওয়া। এটা বরের বাবার হুকুম। আমরা বর যাত্রী। কাজেই বরের বাবার হুকুমের বিপরীতে কউ সচল হ’ল না। এদিকে বর বসে আছে গোমড়া মুখে। বিয়ে করতে এসে এত দুখী থাকতে দেখিনি কাউকে, কখনো। বর থাকবে হাসিখুশি। কনের বান্ধবীরা খুনসুটি করবে আর বর চাপা হাসিতে তাদেরকে প্রলুব্ধ করবে, এটাই বিয়ের চিরচেনা রূপ। কে জানে পুরনো প্রেমিকার কথাই মনে পড়ে গেছে কীনা। উনি বয়সে বড় বলে জিজ্ঞাসা করতেও পারছি না। বরের বন্ধুরা এদিক সেদিক কনের বান্ধবীদের নজরে পড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যদিও কোন ফল হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরে নিরিবিলি এসে বসেছি দোতলা উঠার সিড়িটার কাছেই।সবে স্কুলে যেতে শুরু করেছে এরকম বাচ্চা কয়েকটা ছেলে-মেয়ে একবার সিড়ি দিয়ে উঠছে একবার নামছে।ফুটফুটে একেকটা। মায়াকাড়া।

আমি অপারগ তোমায় বাঁচাতে, জেনো।

অনেকতো হল,
এবার ভেঙ্গে ফেলার পালা।ভেবেছো কিছু ?

প্রায় ৪০ টি বছর এদিক সেদিক, এগলি ওগলি ঘুরে ক্লান্ত হওনি যদিও,
হারাওনি শ্রী এতটুকু বরং ক্রমশঃ বর্ধিত,
হৃষ্টপুষ্ট উরুযুগল আরও হয়েছে দৃঢ়,
দৃঢ় এবং কাঙ্খিত সর্বজনে ।
তারপরও বলছি, ফিরে এসো।এখনি, পিছু হটো,
আজ রাত্রীর পর-কিংবা অল্প কিছু দূরেই, ঐ গলিটার মোড়েই, আড়ালে,
তুমি বেহাত হবে তোমার।
দীর্ঘ সময়ের সাধনায় বাগানো শিশ্ম উঁচিয়ে
ঠিক ওত পেতে আছে, ওরা।

এখনো সময় কিছু বাকী, ফিরে এসো, লুকিয়ে পড়ো,
কিংবা যদি, দিনের মধ্যবয়সে যাও মিশে মিছিলে,
কাঁচের চুড়ি ভেঙ্গে বজ্রমুষ্ঠিতে ঝরাও রক্ত,
ধরাও কাপন ঔ সভ্যতার (!) বুকে।হানো আঘাত।ভাঙ্গো সংস্কার।
কিংবা করি আহবান
“তীর্থে যাব, যাবে ?”
যদিও আমি অপারগ তোমায় বাঁচাতে, জেনো।

একটা কোশ্চেন ও একটি কবিতার জন্ম

মাসুম ভাইয়ের একটা প্রশ্ন,
“ডিকশনারি সামনে নিয়া কবিতা লিখতে হয়? নাকি এসব কঠিন কঠিন শব্দ এমনিতেই কবিরা জানেন ?” মাসুম ভাইয়ের এই কথাটা নিয়েই মজার একটা রেসিপির কথা মনে পড়ে গেল (আজকাল রেসিপি নিয়াও বেজায় হুল্লোর)।

কবিতা লেখার রেসিপি:

একটি বাংলা ডিকশনারি, একটি বড় পেরেক, একটি হাতুরী, একটি কলম ও
কাগজ (পরিমানমত)

লিখন প্রনালী:

প্রথমে ডিকশনারিটি টেবিলে রাখুন, কেউ কিছু মনে না করলে মেঝেতে রাখলেও চলবে।
পেরেকটি সুবিধামত ডিকশনারিটির যেকোন জায়গায় ধরুন যেন সূচালো মাথাটা ডিকশনারিটির সাথে লাগানো থাকে।
এবার হাতুরী দিয়ে পেরেকটির অপর মাথায় সজোরে বাড়ি দিন (আঘাত অর্থে), দিতেই থাকুন যতক্ষন না ডিকশনারিটি এফোড়-ওফোড় হয়ে যায়।
এবার পেরেকটি উঠিয়ে ফেলুন।
ডিকশনারিটির যে অংশে ছিদ্র হয়েছে সেই অংশের (ছিদ্রাংশের) শব্দগুলো নির্বাচন করুন।

অশ্লীলতা ছাড়া ভালবাসা আছে কোথায়, বল ?

তুমি অচল হয়ে গেছ ভেবে কষ্ট পাচ্ছ অহর্নিশ কিংবা
বাতিল ভেবে কষ্ট দিচ্ছ নিজেকে,
লাল কিংবা নীল, যা ইচ্ছা- দিয়ে
সাজাতে চেষ্টা করছো তোমার পরিধি, বর্তমান,
যা অনেকেরই সুগত অতীত হয়ে প্রাঞ্জল
ভেসে বেড়াচ্ছে অদৃশ্যে অহরহ।

বন্ধুরা তোমাকে “৬৯ মডেল বলে নির্মম বাক্য ব্যয় করে- আর তুমি
চোখে কৌতূহল জাগিয়ে বিশ্বাস্য হাসিতে মৃদু প্রতিবাদ ক’র।
অথচ, এই তোমাকেই তুলনীয় করে অনেকেই তো হয়েছে (হচ্ছে)সুখ্যাত নায়ক,
পার্শ্ব চরিত্রে তুমি অভিনয় করে যাচ্ছ চমৎকার,
ভেবেছ, এ তোমার সর্বশেষ প্রাপ্য অঢেল।
প্রায়শই এ হাট থেকে ও হাটে বিক্রি হচ্ছো তুমি, আর
অসংখ্য প্রতিবিম্ব হয়ে ভোগ্য হয়ে উঠছো প্রতিনিয়ত,
ভেবেছ, যদি নাই পার নিস্বার্থের আগুনে সবাইকে ছিন্ন ভিন্ন করতে, তবে,
তোমাকেই তুমি পুড়ে ছাই করতে থাকবে এবং
সবার উপর প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে ভেবে,
দুচোখে কান্নার ঝড় তুলবে।

তোমাকে দেখে সত্যই হাসি পায়, ভীষণ !

সৃষ্টির ধ্বংস এবং একটি পানকৌড়ীর মৃত্যু

(১)
সৃষ্টিকর্তা ধ্বংস করে তার সৃষ্টি দিয়েই

কে তুমি?
বলতে পার তুমি ধ্বংসের নও?
আমি তো রাত দিন শুধু ধ্বংসের উন্মত্ততা দেখি, শুনি রণবাদ্য।
দেখি আহাজারি নাগাসাকির বুকে,
দেখি শুন্য স্তনে বসনিয়া মুখ গুঁজে থাকে,
রক্তাক্ত নির্যাসে ভরে উঠে স্তন শীর্ষ।
ভালবাসা হয় শত খন্ডিত,
প্রেমিক তার প্রেমের পবিত্রতায় হয় পতিত।
বাহ্যত স্বতী স্বাধ্বী,
স্বামীর অগোচরে খুলে আঁচল।
সম্পদ, ক্ষমতার উত্তাপ পেতে নিহত হয় আমার ভাই, নূর হোসেন,
আমার মা ধর্ষিতা হয় আমারই সামনে।
আহ…..

কী গভীর তোমার ধৈর্য্য।
ধৈর্য্য নাকি স্থবির তোমার চেতনা?
তুমি জান সবই, নাকি কর ভান।(আমি ক্ষমাপ্রার্থী)

সৃষ্টিকর্তা,
তুমি কি ধ্বংস হও না তোমার সৃষ্টির ধ্বংসে?

(২)
পানকৌড়ীর মৃত্যু হয়

কুয়াশা জড়ানো ঈষদোষ্ণ রাত্রী শেষের
খোলা রাজপথে
নগ্ন আমি হাটি।

অন্ধকার কাব্য

“ প্রতিদিন সন্ধ্যায়
সবার অলক্ষ্যে নিঃশব্দে
একটি পথহারা প্রজাপতির সুন্দর ডানা দুটো আচমকাই ভেঙ্গে ফেলি।
সে সারারাত ব্যথিত থেকে
ডানা দুটো নিঁখুত জোড়া লাগায়
পরের সন্ধ্যায় আবার ডানা ভাংগি।
সারাদিন ব্যর্থতারই প্রতিশোধ নেই, বারবার।“ দাবি পৌরুষের।

নারীত্ত্বেও কি শুদ্ধতা উপযুক্ত ?
কর্ষণের সন্ধানে বেহাত হওনি কেউ?
চেপে যাওনি কান্না পেতে অন্ধকার? ভাবনি গল্প, সাদা-কালোর কিংবা রঙ্গীন ফিসফাস? কখনই?
শুননি কোথাও, ” তুমি ভালবাসি নামধারী এক প্রকাশ্য পতিতা”।

এখানে ওখানে, সর্বত্রই
আশংকা, ধ্বংস করার অদম্য ইচ্ছা
আর সুখ বোধ
এবং মৃত্যু।

তুমি থেকে আমি, আমি থেকে শূন্য

(১)

লাবণ্যে বাঁধন সুপ্ত শঙ্খ কথক
দৃশ্যত তার ক্লান্তি বিলাস অলক্ষ্যে হৃদয় হরক,
শাস্ত্রে তার অচিন্ত্য আকার
মরণে মাহাত্ম্য শুধু যে আমার,
সীতা সে যে কর্তব্যে অনড় সৃষ্টি
দেখ দেখ, ঝরছে সবুজ এবং বৃষ্টি।

(২)

অপেক্ষায় ছিলাম জলে ছায়া ভাসিয়ে।
সে এসেছিল। তারপর শুধু জল-ছায়ার নিপুন উথাল পাতাল।
কেউ পূর্ন নয়-
কিছু না কিছু হারাতেই হয়।

(৩)

কে যেন বলেছিল “তুমি সুন্দর”
সেই সুন্দর পোড়ার সুগন্ধে
আমি উল্লাসে ফেটে পড়ি।
শুধু তুমিই নির্বিকার।

(৪)

আমার জন্য কেউ কাঁদে না,
কেউ না !
আমিও না।
শুধু , পান্ডুলিপি পুড়ে
ধূসর রঙ এর শোক হয়ে যায়।

(৫)

”কেমন আছ ? “ জেনে কী হবে ?
এখন যাবার সময়।

(৬)

এমনওতো হতে পারে,
ফিরে এস দেখবে
ঘাস ফুল হ’য়ে আছি।

প্লিজ, ছিঁড়ে নিও
খোঁপায় গুঁজে নিও।

সভ্যতার মৃত্যু

থেমে থেমে শোক হয়ে আসে অব্যর্থ নিশানে।
আশাতীত সভ্যতার অপ্রতুল বক্ষ মর্দনে, ওরা
তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে নিষিদ্ধ প্রণয়ের,
কেউ বা পুলকে বাহবা দেয় প্রকাশ্যে অসাড় মানবতায়।
ক্ষত বিক্ষত, জ্বলে উঠা মাটি সুযোগ্য মেঘ খুঁজে পেতেই মৃত হয়ে যায় নিমিষেই
ঘুরে ফিরে জীবন টেবিলে টেবিলে
কচিৎ, বেয়নেটে চিরে দুভাগ হয়
প্লেটে উঠে আসে হৃদপিন্ড, উঠে আসে সদ্য বিবাহিতার কঙ্কণের নিষ্পাপ সুখ।
গোগ্রাসে মিশে যাওয়া গাঙচিল
শুভ্র পালক ছেড়ে একাত্ম হয় কিশোরীর কেটে নেয়া যুগল স্তনের সাথে।
কখনো বা সত্যে প্লাবিত হয় ভাটা (অস্বাভাবিকে),বিক্ষুব্ধ হয় পদ্মা, নীল
খন্ডিত মিছিলে ধেয়ে চলে উজানে
হিসেবের উন্মত্ততায় শুরুতেই শেষ হয় মনন।
রন্ধ্রে জেগে উঠা শ্লোগান বারুদের ঝংকারে থেমে যায়
ঝরে মুষ্টিবদ্ধ হাত, ভাসে রক্তে
নীল, পদ্মায় ভেসে যায় কত শত কফিন
এবং
সভ্যতার মৃত্যু দেখি সভ্য মানুষেরই হাতে।

বিষন্ন সংগম

হায়রে, হয় এমনই সব।

এই যেমন,
এই বাবলা-সবুজের আড়ালে
দ্বিগন্ত হারালো রং,
স্বন্ধ্যা তাড়িয়ে নিয়ে গেল পাখিদের,
অন্ধকার চিৎকারে বলল, “ যাও, ঘরে ফিরে যাও”,
বলল, কার্যতঃ নির্বাক থাকতে সকাল অবধী।
স্নিগ্ধ হাসনাহেনাকে বলল, ছড়িয়ে দিতে বিষন্ন সংগম।
আমাতে তোমাতে সকল প্রস্তুতি শেষে,
অতল অন্ধকার ফুড়ে গহীন কালো জন
কাঙ্খিত সপ্ন বাসরে হানে এক বিষধর ছোবল,
নীলে নীলে ভেসে যায় শুদ্ধ বেনারসী।
এবং, ঐ জ্যোৎস্না ছায়ার জোনাকীরা নিঃশব্দে উঠে যায় বিবিধে।

হায়রে, হয় এমনই সব।

হায়রে, এমনই সময় আমার,
হাটু মুড়ে নির্বাক চেয়ে থাকা।