কক্সবাজার - অন্য চোখে দেখা
কক্সবাজার গেলাম কিছুদিন আগে, যদিও এর আগে ১০/১১ বার গেছি । কারণ একটাই - সাগরের ডাক। এই ডাক থেকে দূরে থাকতে পারিনা বেশিদিন, দৌড়াতে হয় তাই কিছুদিন পর পর। সেই ১৯৯৫ সালে প্রথম গেলাম কক্সবাজার, যে মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছি সাগরের ঢেউ, এখনো চোখ বুজলে তা শুনতে পাই যেন।
যখন প্রথম গেলাম কক্সবাজারে - তখন চিটাগাং - কক্সবাজার রাস্তা তৈরীর কাজ চলছিল , জায়গায় জায়গায় ভাঙ্গা রাস্তা - ঝাকাইতে ঝাকাইতে আমাদের নিয়ে গেল কক্সবাজার।
এত হোটেল মোটেল ছিল না, ছিলনা তেমন সুবিধা। মোটেল প্রবাল এর ডরমেটরি তে আমরা ৫ বন্ধু ছিলাম এক সাথে। লাবনী পয়েন্টে কয়েকটা দোকান - তাও বেড়ার কিংবা কাঠের, কাঠের পাল্লা - অল্প কিছু রিকশা। আর হোটেলে খেতে গেলে ভাতের সাথে শুটকী ভর্তা আর ডাল ফ্রী।
সব কিছু পাল্টেছে, কক্সবাজার আর থেমে থাকবে কেন ? এখন কত সুযোগ, কত সুবিধা, গভীর রাত অব্দি সৈকতে বসে থাকা যায় , সৈকতের বেলাভূমিতে গড়ে উঠা রেস্টুরেন্টে বসে সাগরের ঢেউয়ের তালে তালে খাওয়া দাওয়া করা যায়। মারমেইড ক্যাফের মত ইকো - রিসোর্ট হয়েছে বীচের পাশে।
কিন্তু এবার কক্সবাজারের অন্য কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে , যে অভিজ্ঞতা আগেও ছিল, এখন কয়েকগুন বেড়েছে। এগুলোর দিকে নজর না দিলে বিদেশী কোন ট্যুরিস্ট আসবে না কক্সবাজারে। অবশ্য এদিকে নজর দেবার মত সময় বা কই আমাদের সরকার বাহাদুরের !!!
১। বাস থেকে নামতেই চারপাশে ঘিরে ধরবে রিকশা, টমটম (ব্যাটারী চালিত গাড়ী) । এমনকি নড়া চড়া করার জায়গা পর্যন্ত দিবে না এই রিকশাওয়ালা। তারপর কোন হোটেলে যাবার কথা বললেই নায্য ভাড়া থেকে কয়েক গুন ভাড়া হাঁকবে। যার কাছ থেকে যেমন নিতে পারে - এমন অবস্থা।
২। হোটেল থেকে যাচ্ছি বীচে , ৪ জন বন্ধু, সবার চোখে সানগ্লাস। বীচের রাস্তায় উঠতেই সানগ্লাসের দোকানী সানগ্লাস বিক্রীর জন্য হাঁক ডাক শুরু করে দিল। একে অন্যের দিকে তাকাতে নিশ্চিত হলাম , আমাদের চোখে সানগ্লাস আছে।
৩। বীচে যাব, ক্যামেরা থাকবেনা, তাতো হবে না। সাথে নাইকন ডি সিক্সটি ক্যামেরা। তারপরেও বীচের ক্যামেরাম্যান ছবি তোলার জন্য পিছে পিছে ঘুরতে লাগলো নাছোড়বান্দার মত। আজব হয়ে তাকালাম আমার নিজের ক্যামেরার দিকে, ওদের কি চোখে পড়েনাই ???
৪। বীচে আপনি হয়তো একটা ছাতা ভাড়া করে বসবেন, মিনিট না ঘুরতেই আসবে - চা- কফি, ডিম সিদ্ধ, ঝাল মুড়ি, শামুক ঝিনুকের গয়না,আর শো পিসের হকার, আমড়া, আচার , স্পেশাল বীচের গাড়ী তে চলার অফার, ঘোড়ায়(!!!) চড়ার অফার, স্পীড বোটে চড়ার অফার সহ আরো অনেক অফার। তারপর ভিক্ষুক তো আছেই। প্রতি মিনিটে একজন করে আসবে এসব অফার নিয়ে। ক্রমাগত হাত নাড়াতে হবে আপনাকে অথবা না করতে হবে। শুধু না বললে হবে না কোন কোন ক্ষেত্রে জোর গলায় না বললেও এরা যায় না। আপনার সীটের সামনেই দাঁড়ায়ে থাকবে ভ্যান গাড়ী নিয়ে লোকজন - বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে - একসময় বিচে বসার মুডটাই যাবে নষ্ট হয়ে যাবে।
৫। রাত্রে গেছি বীচে, জোৎস্না দেখব বলে। রাত বাজে ১২ টা - তখনো দেখি চা কফি, ডিম , শামুক ঝিনুকের জিনিস্পত্রের হকারদের উৎপাত। একসময় বিরক্ত হয়ে চলে আসি।
৬। কক্সবাজারের এঞ্জেল ড্রপ রেস্টুরেন্টের বেশ নাম ডাক হবার পর তার পাশে আরো ৩ টা একই ধরনের রেস্টুরেন্ট গরে উঠেছে। এখানে এরকম স্থাপনার করার অনুমতি আছে কি না জানিনা তবে এদের খাদ্য দ্রব্যের দাম দেখি আমাদের ঢাকার ৫ তারকা হোটেলের থেকেও বেশী। মানুষ সেই খাবার খাচ্ছে প্রবল উৎসাহে। দেশের মানুষের হাতে অনেক টাকা, বুঝাই যায়।
৭। কক্সবাজারের মানুষ মনে হয় টাকা ছাড়া অন্য কিছুই বুঝে না এখন। আমরা মহেশখালীতে গেলাম, ঘাটে নামতেই রিকশা ছেঁকে ধরলো। ৪০০ টাকায় ঘুরায়ে আনবে মহেশখালীর স্পট। পরে ১০০ টাকায় রফা হলো। ফিরে আসলাম কক্সবাজারে । আসা যাওয়া ছিল স্পীড বোটে। এসে স্পীড বোট থেকে নেমে এক নৌকায় পা দিয়ে ঘাটে উঠতে হলো। সেই নৌকায় পা দেয়া বাবদ জনপ্রতি ২ টাকা করে দিতে হলো।
এত বড় য়ার এত সুন্দর বীচ যদি অন্য কোন দেশে থাকতো, এইটা দিয়েই সেই দেশ বিশাল ধনী হয়ে যেত - মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানী যাবার সময় এই কথাই কেবল চিন্তায় আসছিল।
কবে যে আমাদের এই বীচ তা বিশ্বমানের হবে , কে জানে !!!





তাইলে হালায় কক্সবাজারেই যামু না।
আমি গোয়ার বীচে গেছি। বিচ দেখে চরম হতাশ হইছিলাম। আমাদের মতো টানা বীচ ওদের নাই। সেই ছোট ছোট বীচকে কেন্দ্র করেই গোয়ার এতো নামডাক। সেই তুলনায় কক্সবাজার বিশাল কিছু। কিন্তু..........
আমিও গেছি গোয়ার বীচ গুলোতে, ওখানে আপনি আরামে বসে থাকতে পারবেন, কেউ যন্ত্রনা দিবে না, রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, শহর টা পরিষ্কার , রয়েছে মাস্তি করার সব কিছু।
এবার বীচে এত কাক দেখেছি(কারণ বীচ পরিষ্কার রাখলেও আশে পাশে চরম নোংরা) আর সন্ধ্যার পর মশার কামড় খেতে হয়েছে এত, আর যামুইনা কক্সবাজার ঠিক করেছি।
সাঈদ ভাইয়ের কথাগুলো ঠিক। কক্সবাজারটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আসলে বিষয়টা এখন বুঝতে পারছে না। অনেকটা সোনার ডিম দেয়া হাঁসটার পেট কেটে সব ডিম একবারে বের করে নেয়ার মতো মানসিকতা। এভাবে চললে হবে না।
কক্সবাজার বেড়িয়ে এসে একজন লেখক এসব অভিজ্ঞতা না লিখে অবশ্যই ভালো কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারতেন। এমন কিছু লিখতে পারতেন যে পড়তে পড়তে চলে যেতাম এক ভিন্ন জগতে। কিন্তু তা না করে, কি পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হলে তিনি এভাবে লিখেন, সেটা সবার ভেবে দেখা উচিত।
সেরকম লেখার ইচ্ছা ছিল, হিসাব করে জোৎস্না রাত দেখে গেলাম কিন্তু চরম বিরক্ত হয়ে ফিরে এসেছি ।
হিসাব করে জোছনা দেখে গেলেন, কক্সবাজারে ? আপনি মিয়া জিনিস একখান ! যাবেন সেন্টমার্টিন তা না, গেলেন কক্সবাজারের হাঁটে...
শীতকালে ইনশাল্লাহ যাবো সেন্ট মার্টিনে, জোসনা হিসাব কইরা। তাবু-চুলা সব ঠিক। যাস্ট দৌড়াইতে বাকী।
গরম ছিল বলে সাহস করিনাই সেন্টমার্টিনে যাবার।
নতুন কারো সাথে পরিচয় হলে যখন জিজ্ঞাসা করে তোমাদের দেশ কিসের জন্য বিখ্যাত? তখন সবার আগে বলি কক্সবাজারের কথা।কিন্তু আমি জানি আমরা কক্সবাজারটাকে কি করে রেখেছি।
আমি ২০০৮ এ গিয়েছিলাম সাঈদভাইয়ের মতোই অভিজ্ঞতা ছিলো।
এক দোকানে গেছি,ব্যাটা আমারে খুব চেনা চেনা লাগছে বলে প্রথমে খুব পটালো।দিয়ে যখন বার্মিজ লুংগী চাইলাম সে আমারে বার্মিজ লুংগী বের করে দিল।আমি যখন উনারে বাবুরহাট,নরসিংদী লেখা স্টিকার বের করে দিলাম, সে তখন হাসে আর বলে সরি ভাই ভুল হয়ে গেছে। একজন বিদেশী যদি এটা ধরতে পারে তখন আমরা জাতি হিসাবে বাটপার আর টাউট ছাড়া আর কিছুই হবো না।এটা কেও বুঝে না।
আসলেই কক্সবাজারে টাউট আর বাটপার ছাড়া আর কিছু চোখে পরে না ।
তাইলে হালায় কক্সবাজারেই যামু না।
মারমেইড ক্যাফেতে গিয়ে দেখতে পারেন ।
সাঈদ ভাই যাওয়ার ঠিক আগের সপ্তাহে আমি গেছিলাম কক্সবাজারে ।।।
বর্তমান অবস্থা দেইখা যথেষ্ট বিরক্ত হইছিলাম, যা সাঈদ ভাই লেখে দিছেন।।।।।।।।। ।
তারপরেও হয়তো আবার যামু
যাও , বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত যাইতে থাকো।
হকারগুলো এমনই যে আপনি সঙ্গীর সাথে কী বলছেন তা যাতে শুনতে পায় তেমন দূরত্বের বাইরে যাবে না। এদের কারণেই এসমস্ত জায়গাগুলোতে দ্বিতীয়বার যাওয়ার কথা ভাবতে পারি না। তেমন জায়গাগুলোতে ব্যক্তিগত বলতে আর কিছুই থাকার জো নেই।
একমত। চরম বিরক্ত হইছি ভাই এসব দেখে।
কক্সবাজারের ( মূলত স্থানীয় ) মানুষগুলো চরম ভাবে ট্যুরিস্ট আনফ্রেন্ডলি, এটা তাদের মজ্জাগত মানসিকতা। এটা দূর করা না গেলে কামের কাম কিছুই হবে না।
ঠিক। আর তারা বাইরের লোকদের উপর চরম বিরক্ত প্রকাশ করে সাথে ২ পাইস কামানোর ধান্ধা নিয়া থাকে।
কয়েক বছর আগে ইরানী দম্পতি এসেছিলেন মুসলিম দেশের বিচ বলে। এক সময় ইরানে কর্মরত বাংলাদেশী চিকিতসক বন্ধুর কথা ধরে এ দেশে এসেছিলেন তারা। কক্সবাজার শহরের ছিনতাইকারীরা কর্তব্যকাজ সেরে অন্তঃসত্তা মহিলাটির পেটে লাথিও মারে। থানা থেকে ততোধিক দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা পার করে চট্টগ্রামে এসে প্রেস কনফারেন্স করেন তারা।
সাঈদভাইর অভিজ্ঞতা/পর্যবেক্ষণ দুঃখজনক হলেও মর্মান্তিক সত্য।
এসবের উন্নতি না করলে যতই চিল্লাই সব চেয়ে বড় বীচ - লাভের লাভ কিছুই হবে না।
২০০১ সালে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড । আমাদের কোর্স-কোঅর্ডিনেটর অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাদের একটা সী-বীচ (নাম ভুলে গেছি) দেখাতে নিয়ে গেলেন । দেখে হতাশ হলাম প্রথমেই ।কক্সবাজারের সাথে তার তুলনাই করা চলে না । সেথানে আমরা যে বহিরাগত তাই-ই মনে করবার অবকাশ ছিল না । আমরা আমাদের মত সেখানে সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার অনেক পরে ঘরে ফিরেছিলাম । এরপর গিয়েছিলাম আর একটা সী-বীচে -- এর নানান সুখ্যাতি (?) শুনেছিলাম আগেই । পাতাইয়া যাবার আগেই তাই সঙ্গীদের সতর্ক করেছিলাম, এমনকি আমাদের কোর্স-কোঅর্ডিনেটরও সকলকে বারবার সাবধানবাণী শুনিয়েছিলেন । রাত ১২টার পরেও সেখানে আমরা নির্বিবাদে ঘুরেছি, কোন বিপত্তি ঘটেনি । অথচ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সী-বীচের কি দুর্দশা !
"তাইলে হালায় কক্সবাজারেই যামু না।" --বলা ছাড়া আর উপায় কি ?
ওদের বীচ গুলা ছোট কিন্তু মার্কেটিং আর সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত - এই দিয়েই প্রচুর টাকা ইনকাম করছে দেশ আর আমাদের অবস্থা আসলেই - তাইলে হালায় যামু না .।।। অবস্থা
দুইটা ৭ নম্বরে দেখি প্রশ্ন আর উত্তর!!
পরের ৭ নম্বরের বড়লোক হওনের উত্তর আগের ৭ নম্বরে!!!!
দেশ বড়লোক হবার কথা বলেছি।
লোড শেডিং এর ভয় নিয়ে লেখা তো, তাই তাড়াহুড়া করে লিখেছি।
আমাদের দিয়ে হবে না!
ঠিক। হইলে এতদিনেই হইতো।
সাঈদ ভাইর বর্ণনার কক্সবাজার দেখবার জন্যই একবার কক্সবাজার যাবো ভাবছি।
ঘুরে আসুন, নিজ চোউক্ষে দেখে আসুন সব।
কবে যে আমাদের এই বীচ তা বিশ্বমানের হবে , কে জানে !!!
আদৌ হবে কী না তাও জানিনা
আমি কক্সবাজারে গিয়েছি অসংখ্যবার। এখন আর ভালো লাগে না। না লাগার কারণগুলো আপনিই বলে দিয়েছেন।
আমার আর যাওয়ার ইচ্ছা নাই ওদিকে, আমিও অসংখ্য বার গেছি ।
এটা মোটামুটি ডিফল্ট কেস যে ট্যুরিস্ট প্লেসে ফটকা বেশি থাকে। ভারতের সব ফটকা যেমন থাকে আগ্রায়। আমাদের কক্সবাজার সেইরকম একটা উদাহরণ।
আমি প্রায়ই যাই, তবে কোনবারই এমন বাজে অবস্থার শিকার হই নাই। অবশ্য আমরা বড়সড় গ্রুপ যাই প্রতিবার, সুতরাং ঝামেলা তেমন হয় না। তবে নোংরা বীচের কথা সত্যি।
কক্সবাজারের দুই নম্বর বীচটা এখন তুলনামূলক একটু ভাল সিকিউরিটির দিক দিয়ে, হোটেলের গার্ড থাকে। তবে ঐখানে ভীড়টাও বাড়ছে দিন দিন।
বউ নিয়ে যান, মজা বুঝবেন।
আমার মেয়েটা এখন পর্যন্ত কক্সবাজার দেখেনি। ভাবছিলাম সহসাই নিয়ে যাবো।আমাদের আর সব ভাল কিছুর মতো কক্সবাজারটাও হয়তো নষ্টদের সম্পূর্ণ দখলে চলে যাবে একদিন। গর্ব করার মতো কিছুইকি আর বাকী থাকবেনা?
আহা । তবুও একবার ঘুরে আসুন, বাজারি বীচ এ না গিয়ে মারমেইড রিসোর্ট বা হিমছড়ি হলিডে ইন্ এ থাকতে পারেন, খরচ একটু বাড়বে কিন্তু শান্তি পাবেন বীচে গিয়ে।
আমি অসংখ্যবার কক্সবাজার গিয়েছি আরো অসংখ্যবার যাবো, আর এসব কারনেই যাবো। অন্য দেশের বীচে গিয়ে বসে থাকলে কেউ খোঁজ করে না, এখানে একটু পর পর কি সুন্দর ডাক খোঁজ করে এসে, আপা এইটা খাইবেন, আপা ঐ কিনবেন, আহা কি মমতা। গান পর্যন্ত শুনাইতে আসে। আট নম্বর পয়েন্ট সাঈদ ভাই, কেউ গান শুনাইতে আসে নাই?
পুরীর বীচেতো গরুর গোবর পর্যন্ত আছে। অবশ্য ওদের নেটিভ বীচ আর ফরেন বীচ আলাদা।
আমি কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবন খুব ভালুবাসি
ওহ্ , গান শোনানোর প্যেন্ট মিস হয়ে গেছে।
যাক একজন পাওয়া গেল এইসব কারণে যেতে চায়। প্রবাসে থাকেন বলেই হয়তো এইসব যন্ত্রণা কিউট লাগে।
ট্যুরিস্টদের বিরক্ত করার ব্যাপারটা সত্যি। যতক্ষন পর্যন্ত আপনার মুখ থেকে চিটাগাঙের আঞ্চলিক টানের কথা বের না হচ্ছে- ততক্ষন পর্যন্ত গোটা কক্সবাজারের রিকশাওয়ালা-হকার-দোকানদার ধরে নেয় যে, আপনি 'বইঙ্গা'- আপনাকে 'ছিল' দেয়াটা তাদের কর্তব্য-কর্মের মধ্যে পড়ে।
আর বিদেশী হলে তো কথাই নেই। এমনিতেই তো প্রতি বছর একবার-দু'বার যাই। ২০০৬ এ এক নরওয়েজিয়ান বন্ধুর সাথে গিয়েছিলাম। মার্কেটে গিয়ে দোকানিদের বিরক্তি টের পেলাম। সারমর্ম হলো- 'বদ্দা, আপনি সাথে থাকায় বেশি দাম চাইতে পারতেছি না; এরা বিদেশী-অনেক টাকার মালিক। এদের থেকে টাকা না নিলে ক্যাম্নে!!'
আর ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে তো অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত। যার যেখান দিয়ে ইচ্ছে ব্যবসায়িক অবকাঠামো গড়ে তুলছে-নিয়ম-নীতির বালাই নেই-নোঙরা পরিবেশ।
এর মধ্যেও ছুটে যাই-
এত বড় টানা বীচ আর কোথায় পাবো!
ঠিক কথা।
এরপর গেলে লাবনী বা কলাতলী পয়েন্তে আর না। ইনানীর দিকে যেতে ছোট ছোট কিছু রিসোর্ট হয়েছে (যদিও গলা কাটা দাম) ঐদিকেই যাবো।
"তাইলে হালায় কক্সবাজারেই যামু না।" --বলা ছাড়া আর উপায় কি ? হুদাভাই'র লেখা থেকে লাইনটা ধার করলাম।
আমিই তো ওটা ধারে নিয়েছি !
আমি প্রত্যক্ষদর্শী। তো আর বেশি কথা না বলি।
আমিও প্রত্যক্ষদর্শী। অনেক জলাছে কক্সবাজারের লুকেরা..
কক্সবাজার কেন যান?
- আর কোথাও যাবার জায়গা নাই
- আর কোথাও এত মানুষ ধারণের ক্ষমতা নাই
- আর কোথাও যাবার জন্য এত যানবাহন নাই
আমি কক্সবাজার প্রথম যাই ১৯৮৫ সালে। আদিম সৈকত ছিল ওটা। তখনো কলাতলী লাবনী গড়ে ওঠেনি। সেই আদিম বীচ ঝাউবন দেখে মুগ্ধ হইছি। বেড়ার হোটেলে খেয়ে বিপুল আনন্দ পেয়েছি। ঘুরে বেরিয়েছি নিশ্চিন্তে টুরিষ্ট মনোবৃত্তি ছাড়াই। রিকশাওয়ালার টুরিষ্ট চিনে নাই তখনো, কক্সবাজার টুরিষ্ট সিটির তালিকায় ওঠেনি তখনো।
আজকাল ভুড়ি ভুড়ি ফাইভস্টার হোটেলের সাইনবোর্ডে ঢেকে যাচ্ছে সমুদ্র সৈকত। কিন্তু এত ফাইভস্টার হোটেলে থাকার মতো লোক কোত্থেকে আসবে সেটা নিয়ে কেউ ভাবছে কিনা জানা নেই। আপাততঃ সবাই পকেট ভারী করছে বাড়তি আয় সমর্থ মধ্যবিত্তদের পকেট ছেচে।
নিয়ম করে তবু বছর বছর কক্সবাজার যাই। বিস্বাদ খাবার খাই। সমুদ্রের ময়লা পানির বদলে হোটেলের শাওয়ারে গোসল সারি। সৈকতের অপরিচ্ছন্নতায় বিরক্ত হই। এদিক ওদিক ঘুরি, ধোয়া ওড়াই। ফিরে আসার দিন হোটেল বয়ের তাড়া খেয়ে ব্যাগ নিয়ে হোটেলের লবিতে বসে থাকি বারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত।

আর কক্সবাজার যাইতেছি না
২০০৯, ১৯৯৭, ১৯৬৮ তিনবার গেছি কক্সবাজারে । ১৯৬৮-এর মত ভাল আর লাগেনি কখনও । আর সে সুযোগ নেই । সে ভাল লাগার স্মৃতিও বিস্মৃতির নাগালে ।
কক্সবাজারের ( মূলত স্থানীয় ) মানুষগুলো চরম ভাবে ট্যুরিস্ট আনফ্রেন্ডলি, এটা তাদের মজ্জাগত মানসিকতা। এটা দূর করা না গেলে কামের কাম কিছুই হবে না। মাহবুব সুমন ভাইয়ার সাথে একমত।
মন্তব্য করুন