মুঘলে আযম - শেষ পর্ব
অষ্টম দৃশ্যঃ
সম্রাট আকবর পকেট থেকে বের করা স্বর্নের চেইন টা আনারকলির দিকে বাড়াইয়া ধরিলেন।
সম্রাট আকবরঃ তোমার নাচের জন্য ইনাম । আর এই চেইন নিয়ে এক্ষুনি বের হয়ে যাও রাজপ্রাসাদ থেকে। নর্তকি হয়ে তুমি শাহজাদার দিকে হাত বাড়ায়েছো !! সাহস কম তো কম না তোমার।
আনারকলিঃ চৌধূরী সাহেব !!! টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায়না। আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু ফকির না। ভুলে যাবেন না চৌধূরী সাহেব, রাজা-প্রজা গরূ ছাগল সবার রক্ত লাল। লাগবে না আপনার স্বর্নের চেইন। চৌধূরী সাহেব , আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে সেলিম কে আমি ভালোবেসেছি । দেহ মন সব দিয়ে দিয়েছি তাঁকে । সেলিম ছাড়া আমি একদিন বাঁচবো না ।
(
সম্রাট আকবরঃ খামোশ। সম্রাট কে তুমি চৌধূরী সাহেব বলো !!!
আনারকলিঃ (ফিস ফিস করে) সব দোষ সাকিবের । কেন যে সকালে ওর সিনেমা দেখতে গেছিলাম
সেলিমঃ বাবা, আনারকলি কে তুমি এভাবে বলতে পারলে? I love her. I love her
সম্রাট আকবরঃ চুপ বেদ্দপ। মুখে মুখে কথা ।
সম্রাটের ঝারি খেয়েই সেলিম মুখ নিচু করে বাহির হইয়া গেল প্রাসাদ ছাড়িয়া। আনারকলিকে বেয়াদবির কারনে সম্রাট তাহাকে বাহির করিবার আদেশ করিলেন।
আনারকলি রক্তিম মুখে রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া তৎক্ষণাৎ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন কড়িয়া ফেলিলেন। প্রেসক্লাবে সেই গভীর রাত্রিতে আনারকলির ব্রিফিং কভার করিবার জন্য প্রিন্ট মিডিয়া, টিভি মিডিয়া, রেডিও মিডিয়ার লোক গিজগিজ করিতে লাগিলো। ঠেলিয়া ধাক্কাইয়া তাহারা আনারকলির সম্মুখে যাইয়া মাইক্রফোন বসাইবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হইলো যেন।
আনারকলি কাঁদিয়া কাঁদিয়া সবিস্তারে তাহার উপর অকথ্য নির্যাতনের বর্ননা প্রদান করিতে লাগিলো। বক্তব্য শেষে টেবিলে মাথা রাখিয়া ডুকরে কাঁদিয়া উঠিলো সে।
নবম দৃশ্যঃ
আনারকলির উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে পরদিন সম্মিলিত নারী সমাজ , নারী আন্দোলনের ব্যাক্তিত্বরা এক মানব বন্ধনের আয়োজন করিল। সকাল দশ ঘটিকায় মানব বন্ধন আরম্ভ হইবার কথা থাকিলেও নেত্রীরা পার্লার হইতে সাজিয়া আসিতে দেরী করার ফলে তাহা বেলা এক ঘটিকায় আরম্ভ হইলো। সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড লইয়া সকলে দাড়াইয়া হাতে হাত রাখিয়া আনারকলির উপর সম্রাটের নির্যাতনের বিচার চাহিয়া বিক্ষোভ প্রদর্শন করিতে লাগিলো। প্রতিবাদ স্বরুপ তাহারা নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা ব্যবহার করিয়া সম্রাট কে ভৎসর্না করিতে লাগিলো।
তাহদের প্রতিবাদের ফলে উপায়ন্তর না দেখিয়া সম্রাট মন্ত্রীসভার বিশেষ বৈঠক আহ্বান করিলেন। মন্ত্রীসভার বৈঠকে আনারকলির ইস্যু সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব লইয়া আলোচনা হইল।
সভাশেষে বীরবলের উপদেশে সম্রাট ফখরুদ্দিন ও মইনুদ্দিন নামক দুই ব্যাক্তি কে তাহার দরবারে ডাকিয়া পাঠাইলেন।
তাহাদের সহিত দীর্ঘক্ষন শলাপরামর্শ করিয়া আনারকলি কে গৃহবন্দি করিবেন বলিয়া ঠিক করিলেন। উক্ত দুই ব্যাক্তি নারীদের গৃহবন্দি করিবার ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তাহারা সম্রাট কে নারীদের বন্দি করিবার পর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা কি হইতে পারে, তাহা সবিস্তারে বর্ননা করিলেন। সম্রাট তাহাদের কথা মনযোগ সহকারে শুনিয়া সাব্যাস্ত করিলেন - আনারকলি কে গৃহবন্দি করিবার পর শাহজাদা সেলিম কে পুনরায় দেশের বাইরে পাঠানোই উত্তম।
সম্রাট আনারকলিকে গ্রেফতার করিয়া একখানা গৃহে বন্দি করিলেন। পত্রিকা অফিস ও শাহজাদা কে জানাইয়া দেয়া হইলো - আনারকলি র্যাব এর ক্রস ফায়ারে পড়িয়া মারা গিয়াছে।
দশম দৃশ্যঃ
আনারকলির মৃত্যু সংবাদ শুনিবা মাত্রই শাহজাদা সেলিম ই মেইল করিয়া সেনাবাহীনির এক অংশ কে খেপাইয়া তুলিয়াছে। সেনাবাহিনীর সেই অংশ ক্যু করিবার জন্য প্রস্তুতিও লইতেছিল। কিন্তু তাহাদের অংশের একজন সেনা অফিসারের পেটে কথা না রাখিবার অসুখের কারনে তাহা ফাস হইয়া যায়। ফলে ক্যু করিবার প্রস্তুতি লইতে না লইতেই উহা ব্যার্থ হইয়া যায়। রাজা ঢোল পিটাইয়া রাজ্যময় সেই ফাস হবার গল্প প্রচার করিতে থাকে।
সম্রাট শাহজাদা কে আটক করিয়া বিলাত যাইতে আদেশ করে। আদেশ পাইয়া, অবস্থা বেগতিক দেখিয়া সেলিম বিলাতের পথে যাত্রা করিল।
যাইবার কালে facebook এ status এ লিখিলো "anarkoli suckzz" ।
আর আনারকলিকে সম্রাট চুপি চুপি গৃহবন্দি হইতে মুক্ত করিয়া পাঠাইয়া দিলেন সৌদি আরব, যেন সে সাচ্চা মুসলমান হইয়া জীবন যাপন করিতে পারে।
এভাবেই সমাপ্ত হইলো একটি প্রেমের করুণ পরিনতি । তাহাদের মিলন হইলো না আর।
===== সমাপ্ত======
মুঘলে আযমের আসল কাহিনী জানতে এখানে ক্লিক করুণ





সারা ঘর মুইছা আইসা দুয়ারে আছাড় খাইলেন ভাইজান।
শেষটা বড্ড তাড়াহুড়া মনে হলো/। যেটা আপনার কাছ থেকে আসা করি নাই।
আমি রাসেলের পিছনে দাড়াইলাম
রি-রাইট করেন
হুম। তাড়াহুড়া করেই শেষ করেছি। ধৈর্য্য হইতেছিল না ।
আবার লিক্লাম , থ্যাঙ্কস কইলো না পাষান জনগণ
পড়লাম কেবল। এখন অনেক ভালো হয়েছে। থ্যাঙ্কু সাঈদ ভাই।জনতার কাতারে আসার জন্য।
অয়েল্কাম
কে আপ্নেরে মাথার দিব্যি দিছে যে জলদি শেষ করতে হবে লেখা? এমুন হুড়মুড় করে সমাপ্তি টানার দরকার নাই। ঠিক মতো করেন!
জয়িতা ম্যাডাম

এই দুইন্যাত কেউ যদি আমার কথা শুনত তাইলে ইতিহাস এরম থাকত না, রাসেল চাচা।
বেচারি
কেউ কথা শুনেনা
খাইছে !!!
এইডা কুনু হইলো? হুররর! এডিট করেন চাচামিয়া। কাহিনীটা পড়তে জোশ লাগতেছিলো, আপনে গরম পোলাও এ ফ্রিজের ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলেন। মানি না, মানব না।
তিনপর্ব একসঙ্গে পড়লাম। চমৎকার স্যাটায়ার। তবে প্রথম দুই পর্বে যতোখানি মনোযোগী ছিলেন, শেষ পর্বে ততোটা ছিলেন না বোধহয়! তবু সম্বর্ধনা, পাজেরো-লিমুজিন, মোবাইল অপারেটর, সুইস ব্যাংক, মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ, ভাঙা স্যুটকেস, আটবিঘা জমির ওপর প্রাসাদ ইত্যাদি নিয়ে দারুণ এক পলিটিক্যাল স্যাটায়ার পড়ার অনুভূতি হয়েছে। শেষের দিকে ফখরুদ্দিন ও মইনুদ্দিন-এর নাম ব্যবহারও চমকপ্রদ লাগলো। DJ পার্টি, ইয়াবা, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, সিনেমার সংলাপ ইত্যাদিও সামাজিক ইস্যু নিয়ে চমৎকার বিদ্রুপ।
এই লেখাটি আরো বড়ো আকারে এবং আরেকটু বিস্তারিতভাবে তৈরি করতে পারেন। ভালো একটা স্যাটায়ারের সব গুণই এটার মধ্যে আছে।
আপনার কথাগুলোকে
সত্যায়িত করে দিলাম।
কামাল ভাই , আপনার কথায় অনুপ্রানিত হয়ে তাই আরেকটু বড় করে দিলাম ।
আগের চেয়ে ভালো হয়েছে তো! তিনপর্ব মিলিয়েই আগাগোড়া এডিটিং করে (বাড়িয়ে/কমিয়ে) একটা পূর্ণাঙ্গ লেখা তৈরি করে ফেলেন। ব্লগে পোস্ট না করলেও নিজের কাছে রাখলেন আর কি!
নিজের ব্লগে রাখার সময় একটু এডিট করেই রাখবো ।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমার কাছে অবশ্য খারাপ লাগে নাই। বিশেষ করে ব্লগিং হিসাবে পুরা কাজটা ভালো হৈসে।

মীর কে ধনিয়াবাদ
অ! আপ্নের সত্যায়নপত্র/প্রত্যয়নপত্র ছাড়া আজকাল আর কোনো কথা তাইলে গ্রহণযোগ্য না?!?

আমিও চিন্তা কর্তেছি সেইটা।
পাঠকের অনুরোধে ইহাকে আরেকটু বড় করিয়া দিলাম।
জট্টিল।
এই বার জোশিলা হইসে!!! আট তারা দিলাম।

মন্দ হয় নাই
ওহ। যাক তাও তো মন্দ কন নাই
যা .।।
বরাবরের মতো শেষ পর্ব পড়ার সুযোগ হলো
দারুন

শেষ টা পড়েছেন? তা হইলেই হইবে
ওয়াও... (আসলে কৈতে চাইছলাম ওয়াক থু...
)
ভুলে যাবেন না চৌধূরী সাহেব, রাজা-প্রজা গরূ ছাগল সবার রক্ত লাল
আনারকলি র্যাব এর ক্রস ফায়ারে পড়িয়া মারা গিয়াছে।
যাইবার কালে facebook এ status এ লিখিলো "anarkoli suckzz"
হাহাহাহাহা
পড়ার জন্য ধইন্যা
মুঘলে আযম শেষ পর্বে চলে আসছে !!
যায় দেখি আগের গুলান পড়ে আসি আগে
যান যান, জলদি গিয়া পইড়া আসেন ।
তিন পর্ব একসাথে পড়লাম। সেরাম হৈসে! হাসতে হাসতে শেষ..
ধইন্যবাদ ভাই।
প্রথম দুইটার সাথে তুলনা করলে এইডা ভাল হয় নাই। তবে সামগ্রিকভাবে ভালো হইছে।
কি আর করা
মন্তব্য করুন