"দেভদাস" ৬
দেভু নাচিতে নাচিতে সকলের সঙ্গে মিশিয়া গেল । শব্দ বাক্সে গান বাজিতেছে। হিন্দি গান চলিতেছে সেথায়। গানের কথা এইরূপ - একজনের নাম শীলা, সে তাহার যৌবন নিয়ে খুবই উৎফুল্ল। তাহার যৌবন ভিত্তিক গানের সহিত একদল ছেলে মেয়ে উদ্দাম নৃত্য করিতেছে সেই বিশাল বাড়ীতে।
দেভু কতক্ষন ধরিয়া নাচিলো , হুঁশ করিতে পারিলো না। নাচিতে নাচিতে একসময় তাহার তেষ্টা পাইলো। নাচ থামাইয়া এদিক ওদিক করিতে করিতে নাচের আসর হইতে চুপিসারে বাহির হইয়া জল খোঁজ করিতে লাগিলো । একজন কে শুধাইয়া সে সেখানের জলপানের স্থানে পৌছাইলো। এক বোতল শীতল মিনারেল ওয়াটার লইয়া গলায় ঢালিতেই দেখিলো চুনিলাল আসিয়া হাজির। তাহার সহিত এক আকর্ষনীয় তন্বী । চুনিলাল কহিলোঃ
- কি হে , খুব মৌজ করলা দেখলাম। নাচতে নাচতে ঘামায় গ্যাছো মামু।
- এই আর কি। মজা লাগলো। দেশে আইসা ঘরে বসে থেকে থেকে হাত পা এ গিট ধরে গেছিলো। তাই ছুটাইলাম।
- ভালো ভালো। গিট ছুটছে তাইলে ? পরিচিত হও - এ হইলো চন্দ্রা।
এই কহিয়া চুনিলাল সেই তন্বী টির দিক তাকাইলো। দেভুও তখন ভালো করিয়া তাকাইলো। তাহার আঁখি পল্লব, তাহার ভ্রূ যুগল, নাসিক্র গঠন, গোলাপের ন্যায় তাহার ওষ্ঠ দুখানি, তাহার সরু হয়ে আসা চিবুক - হিন্দি নায়িকাসম শারীরিক গঠন - তাহার আঁটসাঁট পোশাক , গামছার ন্যায় এক কোনে ঝুলন্ত ওড়না- সব কিছু দেখিয়া দেভুর মাথা হইতে পা পর্যন্ত একখানা তড়িৎ বেগ খেলিয়া গেল। তাহার শরীর ঝাঁকাইয়া উঠিলো। হাত পা সিরসির করিতে লাগিলো। হৃদস্পন্দন বাড়িয়া গেল। চোয়াল ঝুলিয়া পড়িয়া নিচের পাঁটির দাত আরো নিচে নামিয়া গেল।
- হাই। আম চন্দ্রা । মেয়েটি হাত বাড়াইয়া দিলো দেভুর দিকে।
দেভু রোবটের ন্যায় হাত বাড়াইয়া কহিলো - আম দেভু। হ্যান্ডশেক করিয়া সে হাতখানি সরাইতে ভুলিয়া গেল। চন্দ্রা উসখুস করিতে লাগিলে দেভু সম্বিত ফিরিয়া পাইলো। দ্রুত তাহার হস্তখানি সরাইয়া লইয়া আসিলো।
চলো , কোথাও গিয়ে বসি - দেভু প্রস্তাব করিলো। সাথে সাথেই চুনিলালা কহিলো - ওকে , তোমরা গল্প করো, আমি গেলাম। বাসায় যেতে হবে।
চন্দ্রা ও দেভুর কাছ হইতে বিদায় লইয়া চুনিলাল প্রস্থান করিলো। ওদিকে চন্দ্রা দেভু কে লইয়া একখানা বসার ঘরে গিয়া বসিলো।
নরম সোফায় গা এলিয়ে দিতেই চন্দ্রা কহিলো -
- এই , তুমি ড্রিঙ্কস করোনা ?
- হুম করি।
- ড্রিঙ্কস অর্ডার করো। ড্রিঙ্কস করতে করতে কথা বলি।
- কোথায় ড্রিঙ্কস অর্ডার করবো ?
চন্দ্রা হাসিয়া একটা কলিং বেল এর সুইচ চাপিলো। কিছুক্ষন পর একজন বেয়ারা আসিয়া উপস্থিত হইলো।
চন্দ্রাঃ আমাদের ড্রিঙ্কস সার্ভ করো । আমার জন্য টাকিলা। আর সাহেবের জন্য -
- আমার জন্য যিন। দেভু কহিলো।
তাহাদের ফরমায়েশ লইয়া বেয়ারা ফিরিয়া গেল।
- জানো , আমার মুখ টা নাকি চাঁদের মতন বলে সবাই আমাকে চন্দ্রমুখী বলে ডাকে। কি ক্ষ্যাত নাম। উফফ। আমার ভালো লাগে না।
- আমি তোমাকে কি চন্দ্রমুখী বলেই ডাকবো?
- ভালো হবেনা কিন্তু বলে দিচ্ছি। কপট রাগ দেখাইয়া চন্দ্রা কহিলো।
- অয়েল চন্দ্রা বলেই ডাকবো তাহলে।
তাহাদের কথপোকতন এর ভিতরেই বেয়ারা সার্ভ করিয়া গেল ফরমায়েশ মোতাবেক। ড্রিঙ্কসে চুমুক দিতে দিতে তাহাদের কথা আগাইয়া চলিলো। দেভুর হৃদস্পন্দন বাড়িতে লাগিলো।
সেদিনের মত কথা বলিয়া, মাঝরাতে বাড়ি ফিরিলো দেভু। তাহার চক্ষু জুড়িয়া শুধুই চন্দ্রা । তাহার হাসি, তাহার মুক্তার মতন দাঁত, তাহার দুষ্টুমি, সব ভাবিতে ভাবিতে দেভু ঘুমাইয়া পড়িলো।
পরদিন বেলা ১২ টার সময় তাহার মাতার চিৎকারে ঘুম ভাঙিলো দেভুর। তাহার এমন রাত করিয়া বাড়ি ফেরা, এমন বেলা করিয়া ঘুমানো দেখিয়া চিৎকার করিয়া পুরো ফ্ল্যাট মাথায় তুলিয়া লইয়াছেন। দেভু বিরক্তি লইয়া বিছানা হইতে নামিলো। কাহারো সহিত কোন কথা কহিলো না। কে বুঝিবে তাহার কষ্ট !!! পারু তাহাকে এরূপ ডাম্প করিবে, জানিলে !!! দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া বাথরুমে প্রবেশ করিলো দেভু।
ফ্রেশ হইয়া, আহারাদি করিয়া ভাবিলো চন্দ্রা কে একখানা কল করিবে। মোবাইল সেট খানা হাতে লইয়া চন্দ্রার নাম্বার চাপিলো। দেখিলো তাহার নাম্বার খানা ব্যাস্ত রহিয়াছে। দেভু প্রায় ৪০ মিনিট ধরিয়া ক্রমাগত চাপিতে চাপিতে অবশেষে তাহার নাম্বার ফ্রি পাইলো।
- কতক্ষন ধরে তোমার নাম্বারে ট্রাই করতেছি। এতক্ষন বিজি !!! দেভুর কন্ঠে উষ্মা।
- আর বলোনা। বড় ভাইয়া ফোন করেছিল। ঢাকার বাইরে থাকেতো। এই সেই কত কথা। বাদ দাও সুইট হার্ট। তোমার কথা বল । কি অবস্থা ?
চন্দ্রার আদুরে কন্ঠে এমন কথা শুনিয়া দেভুর সকল রাগ, ক্লান্তি উড়িয়া গেল।
- তোমারেই ভাবতেছিলাম আসার পর থেকে।
- সত্যিই ? আমাকে মিস করো তুমি ?
- সত্যিই তোমাকে মিস করতেছি অনেক।
- মিস না ছাই। সকাল থেকে একটাও কল দিলানা তুমি।
- অপস সুইট হার্ট , আমি ঘুম থেকে মাত্র উঠলাম। রাগ করে না।
- ওকে মিস্টার। রাগ করলাম না। তো আজকের প্ল্যান কি ?
এরূপ তাহাদের কথা বার্তা চলিলো কিছুক্ষন। শেষ পর্যন্ত তাহারা আজিকে বাহিরে কোথাও দেখা করিবে বলিয়া ঠিক করিলো। তাহারা আজ একত্রে "ডিনার" করিবে, এরূপ সিদ্ধান্ত লইয়া ফোন রাখিলো।
দেভু শেভ করিয়া , স্নান করিয়া , সুগন্ধি মাখিয়া তাহার প্যান্ট বাহির করিয়া, অনেকগুলা টি শার্ট হইতে বাছিয়া একখানা টি শার্ট গলাইয়া যথেষ্ট পরিমান টাকা পয়সা লইয়া বাহির হইলো। দেশে আজ তাহার প্রথম ডেটিং।
কথামতন নির্ধারিত স্থানে চন্দ্রা আসিলো ৬০ মিনিট পর। ফুটপাতের উপর দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া তাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিলো দেভু। তাহার পা ব্যাথা করতে লাগিলো এক সময়। অতঃপর চন্দ্রা আসিয়া হাজির হইলো। রাস্তার জ্যাম এর কারণে তাহার আসিতে দেরী হইয়াছে বলিয়া দুঃখ প্রকাশ করিলো। দেভুকে কষ্ট প্রদান করিয়াছে বলিয়া সেই কষ্ট পাইলো। দেভু তাহার সকল কষ্ট ভুলিয়া গেল নিমিষেই।
তাহারা উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরিতে ঘুরিতে একখানা শপিং মল এ ঢুকিলো। থরে থরে বিদেশী পণ্য দিয়ে সাজানো। দামী দামী ব্রান্ডের পণ্য সকল। চন্দ্রা এটা দেখে , ওটা ধরে। দেভুর দিকে তাকায়। দেভু তাহার চোখের ভাষা বুঝিলো। বলিলো -
- যেটা পছন্দ হয় - নাও। যা পছন্দ হয় নাও।
- ইউ আর ছো ছুইট। চন্দ্রা বিগলিত হাসি দিয়া কহিলো।
অতঃপর একগাদা শপিং করিয়া তাহারা বাহির হইলো ডিনারের উদ্দেশ্যে। দেভু এই ফাঁকে তাহার মানিব্যাগের ভিতরের অর্থকড়ির হিসাব করিতে লাগিলো।
তাহারা ডিনার সারিলো। দেভু ভাবিয়াছিলো খুব বেশী আইটেম লইবে না ডিনারে। তাহারা অল্প আইটেম লইয়াছিলো কিন্তু চন্দ্রার কারণে অনেক গুলা আইটেম লইতে হইলো। ডিনার করিতে করিতে চন্দ্রা জানাইলো সে তাহার কাজিনের জন্য কিছু খাদ্য দ্রব্য প্যাকেট করিয়া লইয়া যাইতে চায়। দেভু প্রমাদ গুনিলো। হাসিমুখে জানাইলো -
সিওর সিওর।
তখনই চন্দ্রা বেয়ারা কে ডাকিয়া বিশাল এক তালিকা ধরাইয়া দিলো প্যাকেট করিয়া দিতে। বাসায় লইয়া যাইবে তাহার কাজিনের জন্য।
অতঃপর বিল আসিলো। অল্পের জন্য দেভু হার্ট এটাক হইতে রক্ষা পাইলো। তাহার শরীর ঘামাইয়া উঠিলো। মানিব্যাগ হইতে টাকা বাহির করিয়া দেখিল - নাহ, যাহা আছে তাহা দিয়া বিল প্রদান করা সম্ভব। সমস্ত টাকা দিয়া বিল প্রদান করিয়া তাহারা দুইজন বাহির হইলো।
চন্দ্রা খাবার এর প্যাকেট , শপিং এর প্যাকেট লইয়া একখানা সি এন জি ডাকিয়া , বিদায় লইয়া প্রস্থান করিলো। যাইবার পূর্বে দেভুর এতগুলা টাকা খরচ করিয়া দেবার জন্য আফসোস করিলো। দেভু হাসিমুখে তাহা উড়াইয়া দিল। কহিলো - এটা কোন ব্যাপারই না। সামনে আরো এরকম শপিং এ যাইতেও সে প্রস্তুত।
চন্দ্রাকে বিদায় জানাইয়া দেভু হাঁটিতে লাগিলো। তাহার মানিব্যাগে মাত্র ২ টাকা পড়িয়া আছে। সমস্ত টাকাই খরচ হইয়া গিয়েছে। গুলশান হইতে হাঁটিয়া জিগাতলা যাইতে হইবে। এ ছাড়া তাহার আর কোন পথ নাই।
দেভু হাঁটা আরম্ভ করিলো। তাহার সঞ্চয়কৃত পাউন্ড গুলি আগামীকালই ভাঙাইতে হইবে । এই ভাবিতে ভাবিতে সে হাঁটিতে লাগিলো।
[চলিব]





দুরন্ত, দূর্দান্ত
বিশেষ করে মেয়েদের প্রতি কোনো কসুর না করার ভঙ্গিটি অদ্ভুত!
হে হেঃ
দেভু লুকটাতো খারাপ না। ইয়এ জিগাতলার ঠিকানাটা একটু দিয়েনতো
ভেভুর ঠিকানা দিয়ে আপনে কি করবেন
ছেলেরা যেহেতু শুধু রূপ দেখবে, মন দেখবে না। তাদের এই দশাই হওয়া উচিত
এহ । রুপ না দেখলে কি চলে
দেভু থাকে কই ভাই?
আপনের কি দরকার তারে দিয়া ? পাউন্ড ভাঙ্গাইবেন নাকি ?
হাসতেই আছি

লূল
কে ?
জম্পেশ হইতেছে! কমেন্ট না করে থাকা গেল না।
সাঈদ ভাই পরের পর্ব দেন। ঈদ স্পেশাল হোক এইবারেরটা
বেচারা দেভু
আমি বিরাট কমেনট করছিলাম, গেলো কৈ!!!!
যাগগা, ডেভু'র রঁদ্যেভু পারু'র সাথে না হোক, চান্ড্রু'র সাথে খারাপ চলছে নাহ!
ঈদ উপলক্ষ্যে একটা পর্ব আসা উচিৎ সাঈদ ভাই।
নেকস্ট কই?!
দুর মিয়া!
আপনে আবার ফাঁকিবাজি শুরু করছেন! :@
সাঈদ ভাই দেভুর ঈদের বেড়ানো শেষ হয় নাই এখনো??
সাঈদ ভাই পরের কিসতি কবে দিবেন?
মন্তব্য করুন