ইউজার লগইন
ব্লগ
আমাদের পতাকা আর তোমরা
তোমরা যারা আজ দুপুরে এই আমাদের আঘাত দিলে,
তোমরা যারা লাল সবুজের দেশটুকু আজ ছিঁড়েই নিলে,
তোমরা জানো এই পতাকা দেয়নি যেঁচে শ্ত্রুসেনা?
তোমরা জানো এই পতাকা তোমার ভায়ের রক্তে কেনা?
তোমরা জানো এই পতাকা তোমার মায়ের কান্না ধরে?
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমার বোনের লজ্জা সরে?
তোমরা জানো এই পতাকা বাংলাদেশের গল্প বলে?
তোমরা জানো এই পতাকার গৌরবে এই দেশটা চলে?
তোমরা জানো এই পতাকায় কত্ত বুকের আবেগ মেশে?
তোমরা জানো এই পতাকায় কত্ত চোখের প্লাবন এসে-
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমার আমার সৃষ্টি লেখা?
তোমরা জানো এই পতাকায় দেশের কথা আবার শেখা?
তোমরা জানো এই পতাকায় শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববাসী
তোমরা জানো এই পতাকায় আমরা সবাই জগৎ ভাসি?
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমরা আছো, আমার মত?
তোমরা জানো এই পতাকা আশায় বোনা, স্বপ্ন কত?
তোমরা জানো এই পতাকা সবচেয়ে বড় পাওয়া?
তোমরা জানো এই পতাকায় আঘাত মানে নিজেই মরে যাওয়া?
তোমরা জানো কত্তটুকু আজ পুড়েছো অভিশাপে?
তোমরা জানো কত্তটুকু আমলনামা ভরলে পাপে?
তোমরা জানো ধ্বংস হতে কাজ কিছু নেই বোমার?
তোমরা জানো কত্তটুকু নিঁখাদ ঘৃণা কেবল তোমার? তোমার?
কিছু জিজ্ঞাসা
কর্মকান্ড ১: নতুন প্রজন্ম ১৭ দিন টানা বিক্ষোভ সমাবেশ করলো , কিন্তু কোনো সহিংসতা হলোনা। একটি বারের জন্যও অরাজকতার সৃষ্টি হলোনা। লাখো মানুষের জমায়েত , স্লোগান কিন্তু হলোনা কোনো ক্ষয়ক্ষতি।
ফলাফল: এটা নাস্তিকদের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর শত্রু। এদেরকে রুখে দিতে হবে।
কর্মকান্ড ২: তথাকথিত মুসলিমরা আজ শাহবাগের আন্দোলনের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিলো। শুরুতেই পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, বোমা নিক্ষেপ । কয়েকশত মানুষের জমায়েত , স্লোগানের সাথে সাথে হলো আক্রমন প্রতিআক্রমণ , জ্বললো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম আর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
ফলাফল: এটা ইসলামের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর প্রতিষ্ঠা চায়।
জিজ্ঞাসা : হিংস্রতা ইসলামের কোথায় আছে? মসজিদ জ্বালিয়ে ইসলাম কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে? ইসলাম শান্তির ধর্ম ; তাহলে এই অশান্তি সৃষ্টিকারীরা কোন হাদিসের আলোকে ইসলাম এর পক্ষে? ইসলাম ধর্মের ক্ষতি কে বেশি করলো , শাহবাগের তরুনরা নাকি আজকের প্রতিবাদকারীরা?
বিশ্লেষণ :যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায় , কিন্তু যে জেগে ঘুমায় তাকে কিভাবে জাগায়?
মা, মাতৃত্ব এবং আমাদের যত অপূর্ণতা
পৃথিবীর সব মাতৃত্বই বুঝি এক। সমান।
গত পরশু রাতে মতিঝিল থেকে ফিরছি, পল্টন হয়ে। পল্টন মোড়েই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো।
একজন মা রাস্তা পার হচ্ছে, সাথে শিশু। মায়ের শরীরের সাথে শিশুটির শরীর দড়ি দিয়ে বাঁধা। বাচ্চাটির বয়স বোধহয় ২/৩ বছর হবে। হাঁটতে পারে। মহিলাটি ভিক্ষুক তথা ছিন্নমূল শ্রেণির, দেখলেই বোঝা যায়। বাচ্চাটি পুরো দিগম্বর।
গতকাল বিকালে আবার সেই মা এবং শিশুকে দেখলাম। পল্টনেই। দৈনিক সকালের খবর অফিস পেরোনোর সামান্য দূরত্ব পর। গতকাল দেখা সেই মা ঘুমিয়ে আছে রাস্তায়। বাচ্চার গায়ে লম্বা একটি দড়ি বাঁধা। বাচ্চাটি এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। কখনো বা ট্রাফিকের মতো আচরণ করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি, সরকারি ছুটির দিন বলেই রাস্তাটি ফাঁকা। এই ফাঁকা রাস্তা সুযোগ করে দিয়েছে একজন ছিন্নমূল নারীকে একটু ঘুমিয়ে নেয়ার। আর তার বাচ্চা পেয়েছে খেলার সুযোগ।
মা এবং সন্তানের বন্ধন হিসেবে মাঝখানের দড়িটি এখনো চোখের সামনে ভাসছে।
নিশ্চিন্ত মা, তার সন্তানটি হারাবে না। সেই মায়ের মুখটা ভাসছে সামনে। বাচ্চাটিরও।
নতুন করে একটি ক্যামেরার প্রয়োজন বোধ করলাম। এ ছবি তো শুধু ছবি হতো না। এ এক মহান ইতিহাস।
নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ নয়!
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজ আমার মন খারাপ। মাঝে মধ্যে সকাল গুলো কেমন জানি হয়ে যায়। কিছুই ভালো লাগে না। ক্লান্তিতে দেড়টায় ঘুমালাম সাড়ে সাতটায় উঠলাম। খারাপ সময় ঘুমাই নি কিন্তু কেমন জানি লাগছে। যদি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই যে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন শরীর ভালো লাগছে না। তাহলে অবধারিত ভাবে লোকজন বলবে মেয়েলী স্ট্যাটাস দেয়। তাও ভালো লাগছে না। নাস্তা করি নাই কিছুই তাও লিখছি বসে। গতকাল ছিলো একুশে ফেব্রুয়ারী। ছোটবেলা থেকেই আমার মাথায় প্রশ্ন আসতো কেনো একুশে ফেব্রুয়ারী বলা হয়? কেনো ৮ই ফাল্গুন বা নয়ই ফাল্গুন বলা হয় না?
নেড়া কয়বার বেলতলায় যায়?
১. ছাত্রলীগ দাঙ্গাদারী ও কামড়াকামড়ির জন্য বিখ্যাত। এই সরকারের আমলে তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। এদের উপর জনগনের কোন শ্রদ্ধা তো নেইই তারা ওদের ঘৃণা করে। ছাত্রলীগের নেতাকে তাই মঞ্চে তোলাটাকে সমর্থন করি না। কিন্তু তার মানে এই না যে ভাবছি আন্দোলন দলীয় কিংবা আন্দোলন থেকে সমর্থন তুলে নেয়া উচিৎ। কারণ এখানে আরো বেশ কিছু ছাত্র সংগঠনের নেতা মঞ্চে উঠেছিল। এই আন্দোলনকে সমর্থন দানের একতিয়ার নিশ্চই তারা রাখেন। কিছু কিছু পেজের 'ছাত্রলীগ নেতাকে দেখে সমর্থন তুলে নিলাম' টাইপের স্ট্যাটাসকে তাই একরকম তংচঙ্গতা মনে করি। তারা মূল স্প্রিট থেকে বিচ্যুত। বরং সকল জাতীয় দলের সমর্থন থাকা উচিৎ শাহবাগ আন্দোলনে।
তরুণদের নবজাগরণ ও কিছু তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন
[তরুণ প্রজন্মের নবজাগরণ নিয়ে একটা ফেসবুক নোট লিখেছিলাম "প্রিয় তরুণ প্রজন্মের প্রতি : ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না..." শিরোনামে। লেখাটি এই ব্লগে পোস্ট করেছিলেন রন। খুবই সম্মানিত বোধ করেছি আমি, সন্দেহ নেই। খুব তাৎক্ষণিকভাবে রচিত ওই লেখায় কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল, যেগুলো পরে ঠিক করা হয়েছে। ইচ্ছে ছিল, সংশোধন করার পর নিজেই লেখাটি পোস্ট করবো। কিন্তু একই লেখা দুবার পোস্ট করার ব্যাপারে মন সায় দেয়নি। তাই একই বিষয়ে নতুন একটি লেখা নিয়ে এলাম। ]
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ দাবিতে নতুন প্রজন্মের তরুণরা শুধু নিজেরাই জেগে ওঠেননি, জাগিয়ে তুলেছেন সমগ্র জাতিকে। আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য এখনো আসেনি বটে, তবে এ পর্যন্ত অর্জন ঘটেছে বহুবিধ। কয়েকটি উল্লেখ করি :
১. রাজনীতিবিমুখ প্রজন্ম বলে পরিচিত হয়ে ওঠা এই তরুণরা দেখিয়ে দিলেন, তাদের রাজনীতি-সচেতনতা বড়ো বড়ো বুলি আউরানো বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে বেশি। কাদের মোল্লার রায় ঘোষণার পর বুদ্ধিজীবীরা হতভম্ব হয়ে বসেছিলেন, আর তরুণরা সংগঠিত করেছেন তীব্র প্রতিবাদ।
একজন সাধারণ জনতার মনের কথা
প্রথম পাতায় একাধিক লেখা জমে গিয়েছিলো। এটাসহ ৩টা হয়ে যেতো। তাই আগেরগুলোকে আমার পাতায় পাঠিয়ে দিলাম।
আজ দুপুর ৩টা থেকে মহাসমাবেশ। এই মহাসমাবেশটা কেমন হবে, সেখান থেকে কি ঘোষণা আসবে- সবকিছু নিয়ে উৎকণ্ঠিত সবাই। কাল সন্ধ্যার পর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বৈঠক করেছেন। কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানি না। ফাঁসির রায়, জাশি নিষিদ্ধ আর রাজীব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হতে পারে সরকারকে। সেই সঙ্গে প্রজন্ম চত্বরের অবস্থানকাল সংকুচিত করে প্রথমে রাজধানীর সর্বত্র এবং পরে দেশের সব জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে। এ সবই আসলে শোনা কথা। সত্যিকার অর্থে কি হবে, তা এখনো সাধারণ জনতা জানে না। কিন্তু সাধারণ জনতা তার নিজের মনের কথা জানে।
কোনো কোনো গণমাধ্যমের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যানজটটি লেগেছিলো চীনের ন্যাশনাল হাইওয়েতে। ১৪ আগস্ট ২০১০ সালে। সেই জটে ১০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। ১০ দিনের বেশি সময় লেগেছিলো সেই জট ছাড়াতে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান
দীর্ঘ 'কাহিনী' এবং প্রতীক্ষার এবারের বইমেলায় বেরুলো আমার প্রথম বই। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান আগামীকাল। সন্ধ্যা ৭টায়। বাংলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চে। মোড়ক উন্মোচন করবেন উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব। বইটির নাম 'সবার উপরে ছাগল সত্য'। রম্যগল্পের। প্রকাশক : কবি ও কবিতা।
বন্ধুদের আমন্ত্রণ থাকলো। সম্ভব হলে আসবেন। বলতে বা শুনতে। অথবা শুধুই দেখতে!
একটা গফ বনাম সত্য ঘটনা
আমেরিকানদের টাকায় অনেক রকম প্রজেক্ট হয় আমাদের দেশে। ফুল গাছ লাগানো, সবজি চাষ করা, মাছ চাষ করা, সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের পড়াশুনা করানো, স্কুলে যেতে উৎসাহ দেয়া, হাত ধোঁয়া শিখানো, বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা ইত্যাদি।
প্রজেক্টের কাজ কেমন হচ্ছে দেখার জন্য প্রজেক্ট ডিরেক্টররা ফিল্ড ভিজিটেও যান। এরকমই একটা প্রজেক্ট ‘বাচ্চাদের স্কুলে’। প্রজেক্টের ডিরেক্টর একজন আফ্রিকান আমেরিকান ভদ্রমহিলা। তার সহকারী একজন বাংলাদেশী বাঙ্গালী তরুণ।
তারা গেলেন ফিল্ড ভিজিটে। আমাদের দেশের মানুষ বিদেশী বলতে সাধারণত ফর্সা, সুন্দর মুখ দেখতে অভ্যস্ত। সেই আফ্রিকান ভদ্রমহিলা যখন স্কুল ভিজিটে গেলেন, একে তো মফস্বলের স্কুল তার উপর বাচ্চা, ওরা সেই আফ্রিকান মহিলাকে দেখে খুবই ভয় পেল। বাচ্চাদের ভয় কমানোর জন্য ডিরেক্টর ভদ্রমহিলার সহকারী বাচ্চাদের মাঝে অনেক চকলেট, বিস্কুট বিতরণ করলেন আর বাচ্চাদের খুব বোঝালেন যে উনি তোমাদের অনেক আদর করবেন, তোমরা ভয় পেওনা। উনি তোমাদের অনেক চকলেট দিবেন ইত্যাদি। কিন্তু খুব একটা কাজে দিলো না।
দিন শেষ
বোবা ইমারতের বারান্দায় জ্বলছে একটি মোম
একটি দু’টি করে শাহবাগ পর্যন্ত যজ্ঞের হোম
কতবার কত হায়েনা হয়েছে পাকিস্তানের দোসর
জন্মপরিচয়হীন বুদ্ধিবেশ্যারা করে কত তোড়জোর
হা হা পায় যে হাসি, বলছে কাজী নজরুল
বিদ্রোহে ভাসি-
আস্তিক-নাস্তিক ভেদ করে পাবে না তো পার
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার
বিভেদের বাণী চিরন্তন শোনেনি তো বাঙ্গালী
’জয় বাংলা’য় রাসেল জাফর রাজীব দিচ্ছে রক্ত ঢালি
অপেক্ষায় ফাঁসীর দড়ি, রাজাকার-জামায়াত-শিবির
দিন শেষ তোদের, ঐ দেখ বলছে টিকটিক ঘড়ি
তারিখ : ২০.০২.২০১৩, ১২ টা (দুপুর)
বই-গান-সিনেমা-ববিতা, থুক্কু কবিতা
১.
সারা বছর অপেক্ষা করি একটি মাসের জন্য, ফেব্রুয়ারি। কারণ এই মাসে বই মেলা হয়। বই কেনার ক্ষেত্রে দুটি সাধ্যের কথা ভাবতে হয়। একটি হচ্ছে অর্থের সাধ্য, আরেকটি হচ্ছে বই রাখার জায়গা। আমার দুটিরই অভাব। সমস্যা আরও আছে। আজকাল গল্প-উপন্যাস কম পড়া হয় কম। অথচ একটা সময় ছিল
গল্প-উপন্যাসের বাস্তব ও অবাস্তব জগতে ঘুরে বেড়াতাম। উড়তাম-বেড়াতাম-থাকতাম কল্পনার রাজ্যে। আরেকটা খারাপ অভ্যাস হয়ে গেছে। এক সঙ্গে অনেকগুলো বই পড়ি। ধরেছিলাম সন্দীপনের ডায়েরি। পুরোটা শেষ না করেই ধরলাম সন্দীপনের উপন্যাস। দুটি পড়ে ধরলাম উইকিলিকস-এ বাংলাদেশ। কিছু পড়ে ধরলাম ড. আকবর আলি খানের আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। গাড়িতে রেখেছি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ডায়েরি। তবে সম্ভবত সবচেয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ছি টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী।
২.
দিনু বিল্লাহ পরিচিত একটা নাম। লিনু বিল্লাহ আর শিমুল বিল্লাহর (ইউসুফ) গান শুনছি ছোটবেলা থেকে। তাদের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী তাদেরই বোন। দিনু বিল্লাহ লিখেছেন বইটি। ষাটের দশকের ঢাকা, সেই সময়ে রাজনীতি, সমাজ, সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি আর শিল্প সাহিত্যের মানুষগুলো নিয়ে একটি স্মৃতিকথা।
বীর শহীদেরা কথা দিলাম
বীর শহীদেরা, আপনারা জেনে রাখুন এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অসমাপ্ত অংশটা, যেটা শেষ করার আগেই হানাদারবাহিনীর নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আপনারা। বেঁচে থাকলে আপনারাই এটা শেষ করতেন। শেষ করে ঘরে ফিরতেন। কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আপনারা একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছিলেন। আমরা সে দেশকে মুক্ত করবো। সব পেছনে টেনে ধরা শক্তির থপ্পর থেকে। আপনারা যে উন্নত দেশটির কথা ভেবেছিলেন, সেটি আমরা গড়বোই। বাঙালি বীরের জাতি। আপনারা প্রমাণ রেখেছেন। আমরাও রাখবো। সেই সুন্দর দেশটি গড়া যাচ্ছিলো না, অসমাপ্ত কাজটা মহাকালের গাএ বিঁধে ছিলো বলে। এবার কাঁটাটা উপড়ে ফেলবোই। আর তার আগে ঠিক আপনাদের মতোই আমরাও, মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কারণে ঘরে ফিরবো না। কথা দিলাম।
---
যুদ্ধকালীন অপরাধে সংগঠনের বিচার যেভাবে সম্ভব
গত রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল-২০১৩ পাস হয়েছে। সোমবার এই বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেছেন। এর কার্যকারিতা ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে প্রযোজ্য হবে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। মূলত সরকার ও বাদীপক্ষের আপিলের সমান সুযোগ রাখার জন্যই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন অপরাধের (যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তিবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ইত্যাদি) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কতদিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সংশোধিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল দায়েরের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে আরও ১৫ দিন সময় বেশি নেওয়া যাবে। তবে অবশ্যই ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তা হলো, যুদ্ধকালীন অপরাধের দায়ে সংগঠনগুলোর বিচার। এখানে উল্লেখ্য, সংগঠনগুলোর বিচার কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যই হবে না। চিহ্নিত রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্
নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ আট!
আবার লিখতে বসলাম সকাল সকাল। রাত তিনটার দিকে ঘুমিয়ে আট টায় উঠলে শরীরটা একটু ম্যাজম্যাজ করে। তার ভেতরে সকাল নাস্তা করা হয় না। তাই কেমন কেমন জানি লাগে। বাবা মায়ের সাথে যখন ছিলাম তখন কোনোকালেই নাস্তা জিনিসটা আমার এতো আরাধ্য ছিলো না। ঘুম থেকে উঠতাম দেখি আম্মু নাস্তা বানিয়ে রেডি তাই অল্প খেতাম। কিন্তু এখন ঘুম থেকে উঠি দেরীতে, নাস্তা প্রাপ্তির কোনো সম্ভাবনা নাই তাই চা বিস্কুটই ভরসা। ইহাই উত্তম নাস্তা। তবে আজ বিস্কুটও নাই খালি চা। আর ওদিকে বাকীর চায়ের দোকান তো উঠে গেছে। তাই সকাল সকাল বের হতেও ইচ্ছা করে না।
শান্ত ভাই শান্ত হয়ে যাওয়ার পর...
কার্টুনিস্ট তারিকুল ইসলাম শান্ত বড় অসময়ে চলে গেলেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে রাজাকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রা হয়নি। সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন শান্ত ভাই।
আমার কত স্মৃতি, সুখকর অভিজ্ঞতা তার সাথে।
তাকে প্রথম দেখেছি চট্টগ্রামে, বোধহয় ২০০৫ সালে। শিল্পকলা একাডেমিতে কার্টুন ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’ কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলো। আহসান হাবীব, আহমেদ কবীর কিশোর, বাবলু, মেহেদী হাসান খান, হাসান খুরশীদ রুমী প্রমুখের সাথে ছিলেন শান্ত ভাইও। শান্ত ভাইকে দেখলাম ‘অকারণ গম্ভীর’। কার্টুনে যতটা প্রাণবন্ত তিনি, বাস্তবে ততটাই গম্ভীর যেন। মনে পড়ে, শান্ত ভাইয়ের সাথে সরাসরি পরিচয় হওয়ার পর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম হৃদয়কে বলেছিলাম, ‘ছোকরা তো হ্যাভি হ্যান্ডসাম!’
আসলেই ভীষণ সুদর্শন, সুপুরুষ শান্ত ভাই। প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে যাওয়া যায়, এমন মানুষের।
আমার সেই ‘হ্যাভি হ্যান্ডসাম ছোকরা’ না-ই হয়ে গেলো।