ইউজার লগইন
ব্লগ
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান
দীর্ঘ 'কাহিনী' এবং প্রতীক্ষার এবারের বইমেলায় বেরুলো আমার প্রথম বই। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান আগামীকাল। সন্ধ্যা ৭টায়। বাংলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চে। মোড়ক উন্মোচন করবেন উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব। বইটির নাম 'সবার উপরে ছাগল সত্য'। রম্যগল্পের। প্রকাশক : কবি ও কবিতা।
বন্ধুদের আমন্ত্রণ থাকলো। সম্ভব হলে আসবেন। বলতে বা শুনতে। অথবা শুধুই দেখতে!
একটা গফ বনাম সত্য ঘটনা
আমেরিকানদের টাকায় অনেক রকম প্রজেক্ট হয় আমাদের দেশে। ফুল গাছ লাগানো, সবজি চাষ করা, মাছ চাষ করা, সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের পড়াশুনা করানো, স্কুলে যেতে উৎসাহ দেয়া, হাত ধোঁয়া শিখানো, বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা ইত্যাদি।
প্রজেক্টের কাজ কেমন হচ্ছে দেখার জন্য প্রজেক্ট ডিরেক্টররা ফিল্ড ভিজিটেও যান। এরকমই একটা প্রজেক্ট ‘বাচ্চাদের স্কুলে’। প্রজেক্টের ডিরেক্টর একজন আফ্রিকান আমেরিকান ভদ্রমহিলা। তার সহকারী একজন বাংলাদেশী বাঙ্গালী তরুণ।
তারা গেলেন ফিল্ড ভিজিটে। আমাদের দেশের মানুষ বিদেশী বলতে সাধারণত ফর্সা, সুন্দর মুখ দেখতে অভ্যস্ত। সেই আফ্রিকান ভদ্রমহিলা যখন স্কুল ভিজিটে গেলেন, একে তো মফস্বলের স্কুল তার উপর বাচ্চা, ওরা সেই আফ্রিকান মহিলাকে দেখে খুবই ভয় পেল। বাচ্চাদের ভয় কমানোর জন্য ডিরেক্টর ভদ্রমহিলার সহকারী বাচ্চাদের মাঝে অনেক চকলেট, বিস্কুট বিতরণ করলেন আর বাচ্চাদের খুব বোঝালেন যে উনি তোমাদের অনেক আদর করবেন, তোমরা ভয় পেওনা। উনি তোমাদের অনেক চকলেট দিবেন ইত্যাদি। কিন্তু খুব একটা কাজে দিলো না।
দিন শেষ
বোবা ইমারতের বারান্দায় জ্বলছে একটি মোম
একটি দু’টি করে শাহবাগ পর্যন্ত যজ্ঞের হোম
কতবার কত হায়েনা হয়েছে পাকিস্তানের দোসর
জন্মপরিচয়হীন বুদ্ধিবেশ্যারা করে কত তোড়জোর
হা হা পায় যে হাসি, বলছে কাজী নজরুল
বিদ্রোহে ভাসি-
আস্তিক-নাস্তিক ভেদ করে পাবে না তো পার
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার
বিভেদের বাণী চিরন্তন শোনেনি তো বাঙ্গালী
’জয় বাংলা’য় রাসেল জাফর রাজীব দিচ্ছে রক্ত ঢালি
অপেক্ষায় ফাঁসীর দড়ি, রাজাকার-জামায়াত-শিবির
দিন শেষ তোদের, ঐ দেখ বলছে টিকটিক ঘড়ি
তারিখ : ২০.০২.২০১৩, ১২ টা (দুপুর)
বই-গান-সিনেমা-ববিতা, থুক্কু কবিতা
১.
সারা বছর অপেক্ষা করি একটি মাসের জন্য, ফেব্রুয়ারি। কারণ এই মাসে বই মেলা হয়। বই কেনার ক্ষেত্রে দুটি সাধ্যের কথা ভাবতে হয়। একটি হচ্ছে অর্থের সাধ্য, আরেকটি হচ্ছে বই রাখার জায়গা। আমার দুটিরই অভাব। সমস্যা আরও আছে। আজকাল গল্প-উপন্যাস কম পড়া হয় কম। অথচ একটা সময় ছিল
গল্প-উপন্যাসের বাস্তব ও অবাস্তব জগতে ঘুরে বেড়াতাম। উড়তাম-বেড়াতাম-থাকতাম কল্পনার রাজ্যে। আরেকটা খারাপ অভ্যাস হয়ে গেছে। এক সঙ্গে অনেকগুলো বই পড়ি। ধরেছিলাম সন্দীপনের ডায়েরি। পুরোটা শেষ না করেই ধরলাম সন্দীপনের উপন্যাস। দুটি পড়ে ধরলাম উইকিলিকস-এ বাংলাদেশ। কিছু পড়ে ধরলাম ড. আকবর আলি খানের আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। গাড়িতে রেখেছি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ডায়েরি। তবে সম্ভবত সবচেয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ছি টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী।
২.
দিনু বিল্লাহ পরিচিত একটা নাম। লিনু বিল্লাহ আর শিমুল বিল্লাহর (ইউসুফ) গান শুনছি ছোটবেলা থেকে। তাদের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী তাদেরই বোন। দিনু বিল্লাহ লিখেছেন বইটি। ষাটের দশকের ঢাকা, সেই সময়ে রাজনীতি, সমাজ, সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি আর শিল্প সাহিত্যের মানুষগুলো নিয়ে একটি স্মৃতিকথা।
বীর শহীদেরা কথা দিলাম
বীর শহীদেরা, আপনারা জেনে রাখুন এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অসমাপ্ত অংশটা, যেটা শেষ করার আগেই হানাদারবাহিনীর নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আপনারা। বেঁচে থাকলে আপনারাই এটা শেষ করতেন। শেষ করে ঘরে ফিরতেন। কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আপনারা একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছিলেন। আমরা সে দেশকে মুক্ত করবো। সব পেছনে টেনে ধরা শক্তির থপ্পর থেকে। আপনারা যে উন্নত দেশটির কথা ভেবেছিলেন, সেটি আমরা গড়বোই। বাঙালি বীরের জাতি। আপনারা প্রমাণ রেখেছেন। আমরাও রাখবো। সেই সুন্দর দেশটি গড়া যাচ্ছিলো না, অসমাপ্ত কাজটা মহাকালের গাএ বিঁধে ছিলো বলে। এবার কাঁটাটা উপড়ে ফেলবোই। আর তার আগে ঠিক আপনাদের মতোই আমরাও, মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কারণে ঘরে ফিরবো না। কথা দিলাম।
---
যুদ্ধকালীন অপরাধে সংগঠনের বিচার যেভাবে সম্ভব
গত রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল-২০১৩ পাস হয়েছে। সোমবার এই বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেছেন। এর কার্যকারিতা ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে প্রযোজ্য হবে। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। মূলত সরকার ও বাদীপক্ষের আপিলের সমান সুযোগ রাখার জন্যই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন অপরাধের (যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তিবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ইত্যাদি) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কতদিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সংশোধিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল দায়েরের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে আরও ১৫ দিন সময় বেশি নেওয়া যাবে। তবে অবশ্যই ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তা হলো, যুদ্ধকালীন অপরাধের দায়ে সংগঠনগুলোর বিচার। এখানে উল্লেখ্য, সংগঠনগুলোর বিচার কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যই হবে না। চিহ্নিত রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্
নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময় অংশ আট!
আবার লিখতে বসলাম সকাল সকাল। রাত তিনটার দিকে ঘুমিয়ে আট টায় উঠলে শরীরটা একটু ম্যাজম্যাজ করে। তার ভেতরে সকাল নাস্তা করা হয় না। তাই কেমন কেমন জানি লাগে। বাবা মায়ের সাথে যখন ছিলাম তখন কোনোকালেই নাস্তা জিনিসটা আমার এতো আরাধ্য ছিলো না। ঘুম থেকে উঠতাম দেখি আম্মু নাস্তা বানিয়ে রেডি তাই অল্প খেতাম। কিন্তু এখন ঘুম থেকে উঠি দেরীতে, নাস্তা প্রাপ্তির কোনো সম্ভাবনা নাই তাই চা বিস্কুটই ভরসা। ইহাই উত্তম নাস্তা। তবে আজ বিস্কুটও নাই খালি চা। আর ওদিকে বাকীর চায়ের দোকান তো উঠে গেছে। তাই সকাল সকাল বের হতেও ইচ্ছা করে না।
শান্ত ভাই শান্ত হয়ে যাওয়ার পর...
কার্টুনিস্ট তারিকুল ইসলাম শান্ত বড় অসময়ে চলে গেলেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে রাজাকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষ রা হয়নি। সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন শান্ত ভাই।
আমার কত স্মৃতি, সুখকর অভিজ্ঞতা তার সাথে।
তাকে প্রথম দেখেছি চট্টগ্রামে, বোধহয় ২০০৫ সালে। শিল্পকলা একাডেমিতে কার্টুন ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’ কার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলো। আহসান হাবীব, আহমেদ কবীর কিশোর, বাবলু, মেহেদী হাসান খান, হাসান খুরশীদ রুমী প্রমুখের সাথে ছিলেন শান্ত ভাইও। শান্ত ভাইকে দেখলাম ‘অকারণ গম্ভীর’। কার্টুনে যতটা প্রাণবন্ত তিনি, বাস্তবে ততটাই গম্ভীর যেন। মনে পড়ে, শান্ত ভাইয়ের সাথে সরাসরি পরিচয় হওয়ার পর বন্ধু সিরাজুল ইসলাম হৃদয়কে বলেছিলাম, ‘ছোকরা তো হ্যাভি হ্যান্ডসাম!’
আসলেই ভীষণ সুদর্শন, সুপুরুষ শান্ত ভাই। প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে যাওয়া যায়, এমন মানুষের।
আমার সেই ‘হ্যাভি হ্যান্ডসাম ছোকরা’ না-ই হয়ে গেলো।
যুদ্ধের শুরুতে অল্পই যোদ্ধা মেলে
আমি যে শহরে থাকছি সেই ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় শহরগুলোর তুলনায় বাংলাদেশীর সংখ্যা তুলনামুলক অনেক কম। পড়াশোনা করতে আসা ছেলে মেয়ে বাদে বেশির ভাগই পাবলিক সার্ভেন্ট। সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও হয়তো ১৫০০-১৭০০ হবে, বেশীও হতে পারে। প্রশাসনিক রাজধানী হওয়াতে মূলত সরকারী কাজে নিয়োজিত মানুষজনই এখানে বেশি। ৯৯% বাংলাদেশীরই ২ এর অধিক ডিগ্রি আছে, ডিগ্রী হিসেব করলে শিক্ষিতই বলা যায়, মননে শিক্ষিত কিনা সেটা জানি না।
গত ২ ফেব্রুয়ারীতে এখানে চাঁটগাইয়া মানুষরা মেজবান করেছিলো। ফ্রি গরুর মাংস - ফ্রি ছাগু মাংস সাথে পোলাও/ভাত। প্রায় ৭০০ লোক হয়েছিলো, ফ্রি খাবার পেলে লোক একটু বেশীই হয়।আমি যাই নাই। ফান্ড রেইজিং এর ব্যবস্থা ছিলো। শুনেছি সেটায় নাকি মেরে কেটে ৫০০ ডলারও উঠেনি। বলা দরকার , ক্যানবেরায় মেইডেন হাউজহোল্ড ইনকাম ৳২৮১৫/সপ্তাহ যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে ৳১২৩৪/সপ্তাহ।বাঙালি কিপটা না হলেও এখানকার স্বচ্ছল বাঙালিরা কিপটা।
এনাএনাদ্দার অতীন্দ্রীয় প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য
ভুমিকাটাঃ-
আইচ্ছা, পিরে আসার্পর আবার্ফের চৈলাগেস্লাম। শাবাগে ডাক দিসিলো যেডি এরাইতে পারিনাই। হাজার্হৌক, দেশের্ডাক এরানি যায়না। পৈলা পৈলা পতিদিং গেসি, এক্সপ্তা পরেত্থে যাউয়া কোমাইয়া দিসি। প্যাটের্ধান্দায় থাক্তে হৈলে এট্টুহিসাব কর্তেই হৈ। যাউজ্ঞা এলা, যা কৈতেসিলাম- শাবাগের আন্দুলুন আমার্ভিত্রে জোশাইনা দিসিলো। কিন্তুক রিসেং কামকার্বারে হাল্কিশ ঝাস্পা হৈয়া যাইতেচি আর্কি। অবৈশ্য আমার্ঝাস্পা হোউয়ায় আস্লে কিছু যায়াসে না। ত্য হাচা কৈতেছি বেলুঙ্গের কতা হুনলেই কেরাম কন্ডম কন্ডম চিন্তা মাতায় হান্দায় যায়, কিকর্মু? মনৈ পাপ। আমি হ্লায় সুবিদাবাদির *ট, হেল্লিগা আমার্কতায় কান্দিয়েন্না। পোলাপাইনে কস্ট কর্তেছে অবৈশ্যৈ সফল হৈবো। যত দুয়া কালামজানি পর্তেছি সবার্সাফল্যের লাইগ্যা।
আইজারা আবার্ফের হাজির্হৈসি আরেআরেক্কান প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য হাতেরাঙ্গুলের ডঘায় লৈয়া। আপ্নেগোর খিদ্মতে প্যাশকর্তেচি এইবেলা
এনাএনাদ্দার অতীন্দ্রীয় প্রতুত্তরাধুনিক কাইব্য
আম্রার পুতলা আম্রারে কয় মেও
তুম্রার পুতলা কেম্মে চুম্মা দেও
তুমার চৌক্ষে যকন রাকি চৌক্ষ
পাংখা মেইল্ল্যা উইরা যায়গা দুক্ষ
প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন এবং জামায়াত শিবিরের অপপ্রচার
আজকের (১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩) দৈনিক ইনকিলাবের ইন্টারনেট সংস্করণে “ফুঁসে উঠেছে তৌহিদী জনতা” শিরোনামের রিপোর্টটি পড়লাম। রিপোর্টটির মূল বক্তব্য হচ্ছে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম, আমাদের প্রিয় নবী (সাং), ইসলামী অনুশাসন ইত্যাদির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের ইসলামের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। জামায়াত শিবির এবং বিএনপি যখন রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলনকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন তারা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের নিরপেক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি শাহবাগের আন্দোলনের সাথে ধর্মের কোন বিরোধিতা নেই। ইসলাম আমাদের প্রাণের ধর্ম। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান খুবই খোদাভীরু, ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যেই আমাদের বেড়ে ওঠা। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক কোন বক্তৃতা বা বিবৃতি দেয়া হয়নি। আপনারা একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, গত দুই সপ্তাহ যাবৎ কোনপ্রকার অঘটন ছাড়াই শাহবাগের আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে হাজার হাজার ছেলে মেয়ে হাতে হাত ক
আন্দোলনের কি হবে- এই প্রশ্ন এখনো তোলার সময় হয় নি
বেলুন ওড়ানো কর্মসূচি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভোগার কোনো কারণ নাই। আগামীকাল বিকাল ৪টা ১৩ মিনিটে কয়েক লাখ বেলুন যে প্রজন্ম চত্বর থেকে উড়বেই, এ ব্যপারে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন। মানুষের মধ্যে এটার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে আন্দোলনের সহযোগী ব্রিগেড/ স্কোয়াডগুলো এই লাইনে কাজ অলরেডী শুরু করে দিয়েছে। ক্যম্পাস, চারুকলা, ছবির হাট সব জায়গায় চলছে তোড়জোড়।
এর আগে যেমন মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির সময় ট্রাকে করে মোমবাতি আসতে দেখা গেছে, তেমন বেলুনও সম্ভবত চলে আসবে। সিজনাল ব্যবসায় যারা পুঁজি খাটাতে জানেন, তাদের জন্য সময়টা এখন পোয়াবারো। পুরান ঢাকার কিছু বন্ধু-বান্ধবের মন্তব্য পাইলাম এমন, মোমবাতির সময় বিরাট ব্যবসা মিস্ করছি। কিন্তু এইবার করুম না।
হে শাহবাগ--দোখো, সৃষ্টির সুরে হবে গান একদিন
শাহবাগের গণ আন্দোলন নিয়ে আমার অনেক বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতরা অনেকে অনেক কথা বলেন। কেউ বলছেন এই আন্দোলন সফল, কেউ বলছেন এই আন্দোলন এখন আওয়ামীকরণ হয়ে গেছে, কেউবা এটিকে তারুণ্যের জন্য এক রাজনৈতিক গোলকধাঁধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অনেকেই এখন প্রশ্ন করছেন, এই আন্দোলনের আসলে গোলটা কী? শুধুই রাজাকারদের ফাঁসি? কাদের মোল্লার ফাঁসি দিলে কিংবা জামায়াত নিষিদ্ধ করলেই যদি আন্দোলন থেমে যায়, তাহলে এই উত্তাল প্রজন্মের উত্তরাধীকার দেশের আর কোন কাজে লাগবে? এই আন্দোলনের আসলে মূল শিক্ষা কী?
কেউ বলছেন, ‘আরে সব সাজানো, আওয়ামী লীগই বিরোধী দরকে ট্রিট করতে এই তরুণদের আবেগকে এখন কাজে লাগাচ্ছে। সরকার যদি না চাইতো তাহলে এই আন্দোলন কখনও সফলই হতে পারতো না।’
আমার ওইসব বন্ধুকে বলি, শাহবাগের আন্দোলন এমনি এমনি একটি জাতিকে নাড়িয়ে দিয়ে যায়নি। ১৯৯০ সালের পর থেকে রাজনীতির যে দুষ্টচক্র বাংলাদেশটাকে খুবলে খামচে খেয়েছে সেই যন্ত্রণার চাক্ষুস সাক্ষী আমরা তরুণেরা।
শাহবাগের চলমান আন্দোলন নিয়ে এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ভ্রান্ত ধারণা এবং আমার প্রতিউত্তর
গত পরশু সকালে প্রাক্তন একজন সহকর্মীর কাছ থেকে একটা লেখা পেলাম, লেখাটি লিখেছেন তাঁর ফেসবুকের একজন বন্ধু। লেখাটি নিচে হুবহু তুলে দিলাম, তার লেখার নিচে আমার প্রতিউত্তরও আমার ঐ সহকর্মীকে পাঠিয়েছি, আমার উত্তরটা তিনি ঐ লেখকের ফেসবুকে পোষ্ট করবেন। এবি ব্লগের সকল বন্ধুদের জ্ঞাতার্থে দুটি লেখাই নিচে দিলামঃ
মূল লেখাঃ-
দয়া করে যুদ্ধঅপরাধীদের ‘রাজাকার’ বলে সম্বোধন করবেন না। ‘রাজাকার’ একটি উর্দু শব্দ যার অর্থ সাহায্যকারী। এর উৎপত্তি আরবী ভাষা থেকে যেখানে আল্লাহ্র সাহায্যকারীদের এই নামে ডাকা হত। তাই যেসব মুসলিম ভাইবোনরা দিনরাত ‘রাজাকার’ শব্দটি গালি হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং সব রাজাকারদের মৃত্যু ও ধ্বংস কামনা করছেন তারা মূলত আল্লাহ্র সকল সাহায্যকারীদের গালি দিচ্ছেন। এর মধ্যে সকল নবী-রাসুল ও সাহাবীরাও পরে। আল্লাহ্ আমাদের সকলের জানা-অজানা গুনাহসমূহ যেন মাফ করেন।
দু'টি বিষয় কি কোনোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব?
ব্লগে কমেন্ট কম আর লেখা বেশি দিচ্ছি বলে কেউ সেন্টু খায়েন্না প্লীজ। অনেক কিছু ঘটে আশপাশে, যেগুলার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ ছাড়তে মন চায় না কোনমতেই। তাই প্রজন্ম চত্বরে পড়ে থাকি দিনরাত। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করি। মানুষের মধ্যে বিলীন হই। আজ ক'দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে গেছে। লাখো মানুষের এক পরিবার হয়ে উঠেছে। প্রজন্ম চত্বর থেকে দূরে, হলে বা বাসায় গেলে কানের মধ্যে বাজতে থাকে স্লোগান। একটানা স্লোগানের মধ্যে থাকতে থাকতে এই অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করছি।
সময়গুলো এখন খুব অস্থিরভাবে কাটছে। হরতাল হচ্ছে না শহরের কোথাও সেভাবে। রাস্তায় প্রচুর রিকশা, বাস, প্রাইভেট কার। প্রজন্ম চত্বরের কাদাপানিও শুকিয়ে গেছে। রবিবার সারাদিন বৃষ্টির কারণে রাতে চার আঙ্গুল উঁচু কাদাপানি জমে গিয়েছিলো। ডিসিসি'র ক্লিনাররা অল্প সময়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আর তারপরে রাতের আদ্র বাতাস, ভোরের সূর্য সবকিছু এখন অনবরত কাজ করে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের জন্য পরিবেশটাকে একটু সহজ করে তুলতে।