ইউজার লগইন

শওকত মাসুম'এর ব্লগ

স্বাগতম হে

................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

মুভিস টু সি বিফোর ইউ ডাই-২

সময় কাটানোর সব চেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে গান শোনা, বই পড়া আর সিনেমা দেখা। এখন অবশ্য বাড়তি সময় খুব বেশি পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য যে সময়টুকু পাওয়া যায় তার সদ্ব্যবহার করাটাই প্রয়োজন। এজন্য আজকাল বেছে বেছে সিনেমা দেখি, বেছে বেছে বই পড়ি। আর বাছাবাছি করতে করতে নানা ভাষার ছবি আজকাল দেখা হচ্ছে। হলিউডের বাইরেও যে সিনেমার এক বিষ্ময়কর জগৎ আছে সেটি তো অনেকদিনই জনতাম না। ভাবছি সেই বিষ্ময়কর জগৎ নিয়ে কিছু লেখি।

কেবলই আমাদের কথা

১.
আমার মেয়ে প্রিয়ন্তী। ক্লাশ টুতে পড়ে এখন। গত দুই ঈদে সালাম করে যত টাকা পেয়েছে সব একটা বাক্সে রেখে দিয়েছে। সেখান থেকে চুপটি করে ৫০ টাকা নিয়ে সেদিন স্কুলে গেলো। স্কুলে ওই দিন বইমেলার শেষ দিন ছিল। মেলা থেকে একটা বই কিনে লুকিয়ে রাখলো সে। ছোট মানুষ তো, ২০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার ধৈর্যটুকু রাখতো পারলো না। সন্ধ্যায় বইটি বের করে মনোযোগ দিয়ে লিখলো, ' আদরের দুষ্টু ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা-প্রিয়ন্তী, ২০/০৪/২০১২'।
15032012640.jpg
আমরা যখন বড় হয়েছি, তখনও এভাবে ভাবতে পারতাম না। আমার মনে আছে আমার স্ট্যাম্প সংগ্রহ করার সখ ছিল। একবার আমার ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে সেই স্ট্যাম্প অ্যালবাম সুন্দর করে রঙিন কাগজে মুড়িয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। আবার এক মাস পরেই সেটা ফেরতও নিয়ে নেই। Big smile

২.

অস্কার পুরস্কার পছন্দ হয়নি

জ্বরের কারণে চারদিন বাসায় ছিলাম। সময় অবশ্য খারাপ কাটেনি। বাসায় এমনিতেই থাকা হয় না, বাচ্চারা মিস করে। আমিও করি। উপরি পাওনা ছিল টানা কয়েকটি সিনেমা দেখা। বিশেষ করে এবারের অস্কার পাওয়া অনেকগুলো ছবি পর পর দেখলাম। সেই সব মুভি নিয়েই লেখা।
সিনেমাগুলো দেখে মনে হলো এবারের পুরস্কারের নির্বাচন সঠিক হয়নি। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। সবার সঙ্গে মিলবে না তা বলাই যায়। লীনার সাথে তো মিলছেই না। কারণ লীনা জীবনে প্রথম বারের মতো মুভি নিয়া পোস্ট দিছে, দি আর্টিস্ট দেখে মুগ্ধ হয়েই তো।

দাসবিদানীয়া

শব্দটা Dasvidaniya, দাসবিদানীয়া, এটা একটা রাশিয়ান শব্দ, এর অর্থ বিদায় বা গুডবাই।
IPMOVIE_138_1.jpg
এই বিদায় মানে চিরবিদায়, আর কখনো দেখা হবে না।
It's Russian, a common way to say goodbye to someone that you will see again later. In Cyrillic it's written as До свидания.

До = until
свидание, свидания = meeting

"Until meeting," in other words "until we meet again."

I should have clarified that you wouldn't say "До свидание", but свидание is the form of the word you'd find if you looked in a dictionary. It means "meeting" or "rendezvous". To say "until meeting" as a goodbye, you change the case so it becomes "До свидания".

বই মেলা আর নেই

বই মেলা আর নেই। পত্রিকায় শেষ দিনের বই মেলা নিয়ে লেখালেখি হয়, সবাই মোটামুটি একই লাইনে লেখেন। শিরোনাম হয়, ভাঙলো মিলনমেলা। ভাবছিলাম, এবার একটু ভিন্ন ভাবে লেখা হোক। না হয় শিরোনামটা এরকমই দিলাম-বই মেলা আর নেই (ইন্না..........)।
বই মেলা যে আর নেই এইটা আমাকেই জানাইতে হইলো। এর জন্য দুইজনকে তীব্র ধিক্কার দিলাম। একজন মেসবাহ য়াজাদ আরেকজন রাসেল। রাসেল গতবার বই মেলা নিয়া অসাধারণ কিছু লেখা লিখেছিল। এবার আর পাইলাম না তেমন। আবার মেসবাহ ভাই কড়চা শুরু করলেও মাঝ পথে থাইমা গেল।
এইটা অবশ্য তার অভ্যাস। খুব খেয়াল কইরা। লুকটা বিয়া করলো, রোদ্দুর হইলো। কিন্তু এরপরই গেল থাইমা, তারপর দীর্ঘ বিরতি দিয়া সমুদ্দুর। সুতরাং বলাই যায় মাঝপথে থাইমা যাওয়া মেসবাহ ভাইয়ের পুরানা অভ্যাস।তারপরেও কড়চা না লেখার জন্য মেসবাহ ভাইরে ধিক্কার। মেসবাহ ভাই আমি কিন্তু রাগ করছি।

এবারের বই মেলায় যে বই কিনলাম

১. আরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র-পাঠক সমাবেশ
২. অপৌরুষের ১৯৭১-অদিতি ফাল্গুনী-শুদ্ধস্বর
৩. গল্প, অগল্প না-গল্প সংগ্রহ-শাহাদুজ্জামান, পাঠক সমাবেশ
৪. প্রবাদের উৎস সন্ধান-সমর পাল, শোভা প্রকাশন
৫. শতবন্দনা-জিয়াউদ্দিন সাইমুম, দিব্যপ্রকাশ
৭. যখন ক্রীতদাশ:স্মৃতি ১৯৭১-নাজিম মাহমুদ, মুক্তধারা
৮. সত্তর দশকে-আনু মুহাম্মদ.একুশে বাংলা প্রকাশন
৯. হায়েনার খাঁচায় অদম্য জীবন-মন্টু খান, মুক্তধারা
১০. আমার একাত্তর-আনিসুজ্জামান, সাহিত্য প্রকাশ
১১. একাত্তরের মুজিবনগর-বি বি বিশ্বাস, আগামী
১২. সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে-মোস্তাক শরীফ, অ্যাডর্ণ
১৩. জেগে উঠেছে ইরান-শিরিন এবাদি (অনুবাদ), সন্দেশ
১৪. কান্নাপর্ব-আহমাদ মোস্তফা কামাল, শুদ্ধস্বর
১৫. ইন্তাম্বুল, একটি শহরের স্মৃতিচারণ-ওরহান পামুক (অনুবাদ), সন্দেশ
১৬. ঘুমের ভিতর নিদ্রহীন-আবদুল মান্নান সৈয়দ, শুদ্ধস্বর

রঙ্গরসে জীবনযাপন-২

১.
স্থান: বইমেলার লিটল ম্যাগ চত্বর, বিকাল ৫টা, বৃহস্পতিবার

মেয়েটি ম্যুরালের মোড়ক লাগাতে লাগাতে বললো: ক নামের ছেলাটা আসলে অলস, ওকে দিয়ে কিছু হবে না।
আমি একটু আগ্রহী হইয়া তার দিকে তাকাইলাম, জিগাইলাম: তাই?
মেয়েটা আরও মনোযোগের সঙ্গে কাজটা করতে করতে বললো: বিয়ে করলে ক-এর বউয়ের খবর আছে।
আমি আবার জিগাইলাম: কেন?
মেয়েটা এবার বললো: একদমই নড়াচড়া করে না।
Smile Laughing out loud Big smile Wink Tongue

২.
ম্যুরালের জন্য ম্যালা কষ্ট করছে আমগো মেসবাহ ভাই। মোড়ক উন্মোচনের দিন সে আসছিল একটু দেরি কইরা। আসেন আগে তারে আমরা একটু দেখি
419934_375391845822113_357517207609577_1368886_341687459_n.jpg

যা মনে আসে তাই

১.
তসলিমা নাসরিনের লেখার হাত কী নষ্ট হয়ে গেছে? পড়ছিলাম নির্বাসন, তাঁর আত্মজীবনী। ভাগ্যিস নিজে কিনি নি। তাই সময় নষ্ট হলেও অর্থনাশ হয়নি। বলে রাখি বইটা জ্যোতির। তসলিমার লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে, তবে এটা ঠিক যে তাঁর লেখার হাত অনেক ঝরঝরে। কিন্তু হতাস হচ্ছি নির্বাসন পড়ে। লেখার ধরণটা ভাল না, ভাষার ব্যবহার ভাল লাগে নাই, ভাষার উপর দখল আছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা আছে। কিন্তু একদমই টানলো না। সে তুলনায় পড়ে ভাল লাগলো লীনার ভাইয়ের বইটি। সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে, মোস্তাক শরীফ লেখক।
সন্দেহ নাই উপন্যাসটির শুরুটা দুর্দান্ত। আগ্রহ জাগায়। সেই আগ্রহ পুরো বই জুড়েই ছিল। যদিও যে পরিবারের গল্প সেটি পড়লে একটু শঙ্খ নীল কারাগারের আদল আছে। সে যাই হোক বইটা টানা পড়েছি। আমি মনে হয় গত এক বছরে আর কোনো উপন্যাস পড়িনি।

আজ মেলায় আসছে রঙ্গরসে জীবনযাপন

Ronghorase.jpg
রম্য লেখার কিন্তু নানা সুবিধা আছে। সৃজনশীলতা তেমন লাগে না। আর এটা আমার নাইও। তবে চোখ কান খোলা রাখলে সৃজনশীল না হয়েও রম্য লেখা সম্ভব। চোখটা খোলা রাখতে হবে ইন্টারনেটে, আর কান পাততে হবে আশেপাশে।
দুনিয়ায় সৃজনশীল মানুষের কিন্তু অভাব নাই। তারা নিত্যনতুন কৌতুক গল্প বানাচ্ছেন। সেগুলো সহজেই পাওয়া যায় ইন্টারনেটে ও বন্ধুদের আড্ডায়। রম্য লেখকের কাজ কেবল সেগুলো চিমটে চিমটে নিয়ে ওরস্যালাইন বানানো।
তবে কৌতুক-গল্প নিয়ে রম্য লেখার বিপদও আছে। পৃথিবীর সব কৌতুকই কারো না কারো পড়া। ফলে অনেকেই হয়তো মুচকি হেসে বলবেন, ধুর এটা তো জানি।
তারপরেও সাহস করে রম্য লেখার একটা বই বেরই করছি।

রঙ্গরসে জীবনযাপন-১

১. এক লোক প্যারাস্যুট জাম্প দেখাইয়া আয় করে। অনেক উপর থেকে জাম্প দেয়, পাবলিক দেখে আর যে যার সাধ্য টাকা-পয়সা দেয়। একসময় অনেক মানুষ দেখতো, এখন আর দেখে না। এক জিনিষ আর কতো দেখবে।
উপায় না পেয়ে ওই লোক এবার নতুন ঘোষণা দিল। সে লাফ দিবে, কিন্তু প্যারাস্যুট খোলা হবে শেষ সময়ে। খেলায় একটু থ্রিল আনার চেষ্টা আর কি।
খেলা শুরু হল। ওই লোকের সহকারী নীচে দাঁড়ানো, বসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য টকব্যাক আছে। (টকব্যাক কি জানতে হলে মেসবাহ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে সদ্য টকশো করে আসছে)। লোকটি লাফ দিল। কিছুদূর নামার পর সহকারী জানালো, ‌'ওস্তাদ, আর মাত্র ১০০০ হাজার মিটার, এইবার প্যারাস্যুট খোলেন।' ওস্তাদ জানালো, আরেকটু।

আজকের দিনটির জন্যই তো অপেক্ষা করে আছি

golam-Azam-cartoon201_66144.jpg
গোলাম আযম কারাগারে। বয়সের দোহাই দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে চেয়েছিল। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের খুজে বের করে ৯০ বছর বয়সে জেলে নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। মিশরের হোসনি মোবারকের বয়স ৯০, বিচার হচ্ছে। গোলাম আযমের কিছু কুর্কীর্তির বিবরণ দিয়ে আজকের দিনটি স্মরণীয় রাখতেই এই পোস্ট।

১.
১৯৯২ সালের গণআদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আত্মজীবনীতে তিনি সেই অভিযোগপত্রটি উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে এটি প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিল। ব্লগার তানভীরের ব্লগেও এটি পাওয়া যাবে।
ami_masumblog_1196178763_1-g_azm.jpg

বছরটা ভুলে যেতে পারলে ভালো হতো

২০১১ সালকে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থমন্ত্রীরাই ভুলে যেতে চাইবেন। বিদায়ী বছরটি অর্থনীতির জন্য ভালো ছিল না। পুরোটা সময় কেটেছে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে। বিশেষ করে, ইউরোপের জন্য বছরটি ছিল ভুলে যাওয়ার।
শেষ সময়ে এসে সামান্য হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থনীতিও কিছুটা ভালো। তবে পুরো বিশ্বকে টেনে তোলার মতো আশাবাদী হতে পারছেন না কেউই। মন্দা কাটছে, এ কথা বলা যাচ্ছে না।
সারা বিশ্বে মন্দা, তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিও চাপের মুখে—এমনটি বলার অবকাশ অবশ্য আমাদের অর্থমন্ত্রীর নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাপ এসেছে ভেতর থেকে। বিশ্বমন্দা সেই চাপকে আরেকটু দীর্ঘায়িত করছে। বাংলাদেশের জন্য ২০১১ সাল মূলত নীতির দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার বছর।

রঞ্জনা আমি আর আসবো না

অঞ্জন দত্তের ভক্ত কে কে? আমি হাত তুললাম। গান শুনতে তো ভালই লাগে, গান দেখতেও ভাল লাগে। বৃষ্টির এই গানটার তুলনা কোন গানটির সংগে দেবো?

আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে
ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি

এই অঞ্জন দত্তের আরো পরিচয় আছে। অঞ্জন দত্ত অভিনয় করেন। সেই যে মৃনাল সেনের খারিজের অঞ্জন দত্ত। আবার অপর্না সেনের যুগান্ততেও ছিলেন তিনি। অভিনয় ভাল করেন না এটা বলা যাবে না।
অঞ্জন দত্ত সিনেমা পরিচালনাও করেন। অবশ্য পরিচালক অঞ্জন দত্ত আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে তা বলা যাবে না। খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে দেখেছি তাও না। কাল দেখলাম। ছবির নাম-রঞ্জনা আমি আর আসবো না
Ranjana-Ami-Ar-Asbo-Na-2011.jpg

যা মনে আসে তাই

১.
রূপকথা দিয়ে ছোটবেলায় গল্পের বই পড়া শুরু করেছিলাম। সহস্র আরব্য রজনী সে সময়ে অনেক প্রিয় ছিল। জানতাম না, সহস্র আরব্য রজনী আদতে বড়দের বই। কিন্তু বড়দের বইটি আর পড়া হয়নি। কিন্তু এবার ছবিটা দেখলাম।
আমরা যারা আজ জনতা, সহজ সরল সাধারণ সিনেমা দেখি তাদের জন্য কঠিন কিছু নাম আছে। যেমন ধরনে, পাসোলিনি, বার্গম্যান, ফেলিনি- ইত্যাদি। এর মধ্যে পাসোলিনি নিয়ে আগ্রহ ছিল বেশি। লোকটা কবি, উপন্যাস লেখেন, আবার সিনেমাও বানান। তিনি রাজনীতি করেছেন, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক। মোদ্দা কথা তিনি সব। ইতালির একজন মহাবিতর্কিত ব্যক্তি। খুন হয়েছিলেন ১৯৭৫ সালে। সেই পিয়ের পাওলো পাসোলিনির ছবি এরাবিয়ান নাইটস।