ইউজার লগইন

শওকত মাসুম'এর ব্লগ

বিপ্লবের ভেতর-বাহির ১

১৯৭২ সালের একদিন। ডিঙ্গি নৌকায় করে কামরাঙ্গির চরের পাশ দিয়ে বুড়িগঙ্গা পাড় হয়ে তারপর যেতে হয় জিঞ্জিরায়। সেখানেই ছোট্ট একটা বাড়ি। এই পার্টির নিজস্ব গোপন শেল্টার। এই শেল্টারে থাকেন চার জন। কমরেড আসাদ, কমরেড মুক্তা, কমরেড শিখা এবং কমরেড টিটো। ভুল হলো, আরো এক সদস্য আছে। সাত-আট মাসের এক শিশু, নাম বাবু। কমরেড মুক্তার ছেলে। সেও জন্মগত ভাবে বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই পাঁচ জনের সঙ্গে থাকতে চলে এলেন কমরেড আরিফ, তাঁর স্ত্রী রানু এবং দেড় বছরের পুত্র শান্তনু। বিপ্লব করতে এরাও ঘর ছেড়ে গোপন আস্তানায় চলে এসেছেন। কমরেড টিটু তাদের নিয়ে এলো এই শেল্টারে।
ওরা সবাই পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য। তাদের নেতা সিরাজ সিকদার। সশস্ত্র বিপ্লব তাদের লক্ষ্য, স্বপ্ন শোষানমুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা। সেই ইতিহাস কমবেশি অনেকেই জানেন। তবে আমাদের আজকের গল্পটি কমরেড মুক্তার। বলে রাখা ভাল, সবগুলোই রাজনৈতিক নাম, ছদ্মনাম। আসল পরিচয় গোপন রাখা পার্টির নির্দেশ। কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচয় জানার বিষয়টিও ছিল পার্টির সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত।

কোন পক্ষে যে যাই........

দ্রৌপদীর ছিল পাঁচ পক্ষ। কিন্তু কবি বলেছেন আমাদের সামনে দু্ই পক্ষ।

দাঁড়াও‌, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?

প্রকৃতির ভেতরে তাকাও, দ্যাখো আলো এবং অন্ধকার দুটি পক্ষ
নিসর্গের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পানি এবং মাটি দুটি পক্ষ

পৃথিবীর ভেতরে তাকাও, দ্যাখো শোষিত এবং শোষক দুটি পক্ষ
মানুষের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো গরীব এবং বুর্জুয়া দুটি পক্ষ
এদেশের ভেতরে তাকাও, দ্যাখো পঁচাশি এবং পনেরো দুটি পক্ষ

দাঁড়াও‌, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?

এটাকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যাবে কিনা বুঝছি না।

বরং নীচের লাইনটিকে ডিলেমা ঘরানার কবিতা বলা যায়।

'এইখানে সরোজিনী শুয়ে আছে,- জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কিনা'

ডিলেমার ভাল বাংলা কি? ঠিক খুঁজে পেলাম না। আপনার সামনে দুটো বিকল্প। দুটোই খারাপ। কিন্তু আপনাকে বেছে নিতে হবে এক পক্ষকে। এটাই আসলে ডিলেমা।
যারা এখনও বুঝছেন না, তাদের আগামি জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি।

ডিলেমার সেই গল্পটা জানেন তো?
বুশের আমলের গল্প।

বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় অর্থনীতি চর্চা

বঙ্গদেশে অর্থনৈতিক চিন্তার পথিকৃত রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩)। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কৃষকদের দুরবস্থা, সরকারি রাজস্বনীতিতে ত্রুটি, সরকারি ব্যয়ের আধিক্য, ভারত থেকে বৃটেনে সম্পদের বহির্গমন ইত্যাদি নানা বিষয়ে আলোচনার পথ খুলে দিয়েছিলেন রামমোহন রায়। কিন্তু রামমোহন রায় অর্থনীতি সম্বন্ধে বাংলায় কিছু লিখেছিলেন বলে জানা নেই, যদিও অন্যান্য নানা বিষয়ে তাঁর বাংলা রচনায় শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজন-স্বীকৃত।
ভারতের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত একটি স্মারক বক্তৃতায় হুবহু এ কথাই বলেছিলেন। স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল বাংলায় অর্থনীতি বিস্তার ও চর্চার ইতিহাস। বক্তৃতাটি হাতে নিয়ে নিয়ে একজন সাংবাদিক হিসাবে প্রথম যে কথাটি মনে হয়েছিল, তা হচ্ছে রেফারেন্স তো পাওয়া গেলো। কিন্তু হতাশ হতেও সময় লাগেনি। কারণ পুরো বক্তৃতাটাই সঙ্গত কারণে ভারতের প্রেক্ষাপট থেকে লেখা। আর বক্তৃতাটি দেওয়াও হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। এরপরে পদ্মা নদীর পানি অনেক গড়িয়েছে, যদিও সেতু হয়নি।

কি দেখছি, কি পড়ছি, কি শুনছি

কি দেখবো
মুভি প্রেমীদের আমি দুই ভাগে ভাগ করি। এক ভাগে আছে যারা বিফোর সানরাইজ দেখেছে, আরেক ভাগের মানুষ যারা বিফোর সানরাইজ দেখে নাই।
সেই মেয়েটার কথা মনে আছে। ওই যে, সেলিন (জুলি ডিপলি)। সেই যে ইউরো ট্রেনে দেখা হল ফরাসী এই মেয়েটার সংগে আরেক মার্কিন যুবক জেসির (ইথান হক)। বুদাপেস্ট থেকে ট্রেনে ভিয়েনা। এর মধ্যে দুজনের কথাবার্তা, তারপর ভাললাগা। তারপর দুজনের দুদিকে চলে যাওয়া।
Before_Sunrise_film_0.jpg
কথা ছিল ঠিক ৬ মাস পর তারা আবার দেখা করবে? দেখা কি হয়েছিল?

ছবিটি ১৯৯৫ সালের। ৬ মাস পর কিন্তু তাদের আর দেখা হয়নি। হয়েছিল ঠিক ৯ বছর পর। সিনেমাটির পরের পর্ব মুক্তি পায় ঠিক নয় বছর পরেই। এই পর্বের নাম বিফোর সানসেট। ঠিক ৯ বছর পরের ঘটনা নিয়েই সিনেমাটি। এই পর্বটিও যারা দেখেননি, তাদের এই জীবন রেখে কি লাভ?
Before_Sunset_movie.jpg

গ্রন্থ আলোচনা: সময়ের পরশপাথর

2013_03_04_29_0_b.jpg
সময়ের পরশপাথর
ড. মোহাম্মদ আমীন সম্পাদিত
জাগৃতি প্রকাশনী
মূল্য: ছয় শ টাকা

আর দশটা বইয়ের সঙ্গে এই বইটিকে মেলানো যাবে না। কারণ, এ ধরনের বই সহজে দেখা পাওয়া যায় না। বইটির নাম সময়ের পরশপাথর। ড. মোহাম্মদ আমীন সম্পাদিত। এটি একটি স্মারকগ্রস্থ। সাধারণত মৃতব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করা হয়। এ দিক থেকেও বইটি ব্যতিক্রম।
স্মারকগ্রন্থটি যাকে নিয়ে, ‘তিনি রাজনীতিক, এমপি এবং মন্ত্রী। বিত্ত ও চিত্তে আকাশের মতো উদার। খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, বিচক্ষণ বিশ্লেষক। বংশে বড়, কর্মে পরিছন্ন। চৌকষ কাজে, বিনয়ী ব্যবহারে। দর্শনে স্বচ্ছ। (পৃষ্ঠা. ৯৪)

নামতে নামতে নামতে থামবে কোথায়

১.
২০০৮ সালে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গিয়েছিলাম ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে। তখন ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে একটা সেশন ছিল চারজনকে নিয়ে। চারজন হলেন পাকিস্তানের পারভেজ মোশারফ, আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই, বাংলাদেশের ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ আর ইরাকের উপ প্রধানমন্ত্রী সালেহ। অধিবেশনে বক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আয়োজকরা যে বিশেষ একটি বার্তা দিয়েছিলেন তা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছেন।
সেখানে স্বাভাবিকভাবেই মৌলবাদী জঙ্গীদের প্রসংগ উঠেছিল। পারভেজ মোশাররফ বেশ জোড়ালো গলায় বলেছিলেন, পাকিস্তানে ইসলামী জঙ্গীর বড় কারণ অশিক্ষা ও দারিদ্র। দরিদ্র মানুষদের সহজে এই পথে আনা যায়।
পারভেজ মোশারফের এই যুক্তি অনেকেই মানেন। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, শিক্ষার বিস্তার হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়বে। তাতে জঙ্গীদের সংখ্যা কমবে।
এই তত্ত্ব সত্য বলে মানতে পারছি না। ব্লগার রাজিবকে যারা মেরেছে তাদের শিক্ষার সমস্যা নেই, অর্থেরও সংকট নেই। এই ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে আমাদের রিপোর্টাররা। তাদের মুখে যে বর্ণনা শুনলাম তাতে আমি আতঙ্কিত।

অস্কার! অস্কার!

অস্কার নিয়ে লেখার হুকুম দিছে শান্ত। অস্কার নিয়ে আসলে লেখার তেমন কিছু নেই। যেমনটি ভাবা হয়েছিল, প্রায় তেমনটিই হয়েছে। বড় পার্থক্য একটি। আর সেটি হচ্ছে, আং লি সেরা পরিচালক হওয়া, লাইফ অফ পাই থেকে। জেনিফার লরেন্স নিয়েও অনেকের দ্বিধা ছিল। সম্ভবত জুরিরা জেনিফার লরেন্সের মুখের নীচেও অনেকটা সময় ব্যয় করেছিল। Tongue
তবে এবারের অস্কার মনে থাকবে ব্রিটিশ বর্ন অভিনেতা ডেনিয়েল ডে লুইসের জন্য। এখন পর্যন্ত তিনবার সেরা অভিনেতার অস্কার আর কেউ জেতেনি। তবে লিঙ্কন এখনো দেখা হয়নি। তবুও সবাই ধরেই নিয়েছিলেন পুরস্কারটি এখানেই থাকবে।
আরগো পাবে এটাও ধরে রাখা ছিল। ছবিটি দেখে আমার ভাল লাগে নি। সম্ভবত এটি পলিটিকালি কারেক্ট চয়েজ। আরগো না হলে নাম থাকতো বিন লাদের হান্টিং মুভি জিরো ডার্ক থার্টির। আরগো সাধারণ মানের এক মুভি। ইরানে সিআইএর বীরত্ব দেখানোর এই ছবি অবশ্য ভালই ব্যবসা করেছে। আর বেন এফ্লেককের প্রথম ছবি গুড উইল হান্টিং দেখে যতটা চমৎকৃত হয়েছিলাম এর পর আর কখনো হইনি।

বই-গান-সিনেমা-ববিতা, থুক্কু কবিতা

১.
সারা বছর অপেক্ষা করি একটি মাসের জন্য, ফেব্রুয়ারি। কারণ এই মাসে বই মেলা হয়। বই কেনার ক্ষেত্রে দুটি সাধ্যের কথা ভাবতে হয়। একটি হচ্ছে অর্থের সাধ্য, আরেকটি হচ্ছে বই রাখার জায়গা। আমার দুটিরই অভাব। সমস্যা আরও আছে। আজকাল গল্প-উপন্যাস কম পড়া হয় কম। অথচ একটা সময় ছিল

গল্প-উপন্যাসের বাস্তব ও অবাস্তব জগতে ঘুরে বেড়াতাম। উড়তাম-বেড়াতাম-থাকতাম কল্পনার রাজ্যে। আরেকটা খারাপ অভ্যাস হয়ে গেছে। এক সঙ্গে অনেকগুলো বই পড়ি। ধরেছিলাম সন্দীপনের ডায়েরি। পুরোটা শেষ না করেই ধরলাম সন্দীপনের উপন্যাস। দুটি পড়ে ধরলাম উইকিলিকস-এ বাংলাদেশ। কিছু পড়ে ধরলাম ড. আকবর আলি খানের আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। গাড়িতে রেখেছি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ডায়েরি। তবে সম্ভবত সবচেয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ছি টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী।

২.
দিনু বিল্লাহ পরিচিত একটা নাম। লিনু বিল্লাহ আর শিমুল বিল্লাহর (ইউসুফ) গান শুনছি ছোটবেলা থেকে। তাদের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী তাদেরই বোন। দিনু বিল্লাহ লিখেছেন বইটি। ষাটের দশকের ঢাকা, সেই সময়ে রাজনীতি, সমাজ, সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি আর শিল্প সাহিত্যের মানুষগুলো নিয়ে একটি স্মৃতিকথা।

কালুদার পারফরমেন্স

আজ মন আমার বেদনায় ভারাক্রান্ত। আমার আজ বার বার মনে হয়েছিল এই জীবন রেখে কি করবো। শেষ পর্যন্ত এও দেখতে হলো আজ? Crying

তাহলে কাহিনীটা বলি
খুব অল্প সময়ের জন্য বই মেলায় গেলাম আজ। মাত্র আধ ঘন্টা ছিলাম। টিএসসির মোড়ে দেখা হল জ্যোতি আর পারভীন আপার সঙ্গে (তারে আপা কওয়া ঠিক হইলো কি না বুঝতাছি না)। তারা আমি আসার আগেই চটপটি চেটেপুটে খেয়ে চুপচাপ বসে ছিল। তিনজন ঢুকলাম মেলায়। পৃথিবীর সেরা স্টলে গেলাম। শুদ্ধস্বরেই ছিলাম ওই সময়টা। বই কিনলাম তিনটা। কারণ এখনও সেভাবে বই কেনা শুরু করিনি। তালিকা ঠিকঠাক করছি। পারভীন (আপা) আমার বই কিনলেন। ঘটা করে অটোগ্রাফ দিলাম। তারপর বই দিলাম তাঁর হাতে। জ্যোতি সেই ছবি তুললো লোকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে। ক্যামেরা নিয়ে খালি পেছনেই যায় আর পেছনের লোকজন ধাক্কা খেয়ে এদিক-ওদিক সরে যাচ্ছিল। আমার তখন মনে হচ্ছিল অটোগ্রাফ দেয়ার চেয়ে ক্যামেরাওম্যানের পেছনে থাকা ভাল।
ভাল কথা, পারভীন (আপা) আমারে আর জ্যোতিরে বই উপহার দিল। এবারে এটাই পাওয়া প্রথম বই উপহার। Smile

তারপর ঘটলো সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। আমরা গেলাম লিটলম্যাগ চত্বরে। তাকিয়ে দেখি.................

আমার বই: কেলেঙ্কারির অর্থনীতি

Kelengkarir Orthoniti.jpg
আমি লেখক না, রিপোর্টার। সম্ভবত আমার কথা ভেবেই প্রমথনাথ বিশী বলেছিলেন, ‘না ভাবিয়া লিখিলে জার্নালিজম, ভাবিয়া লিখিলে সাহিত্য।’ আবার ড. আকবর আলি খানের বইয়ে আছে, ‘সাংবাদিক হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজে যা বোঝেন না তা সবাইকে বুঝিয়ে বেড়ান।’
সেই আমি আবার একটা বই লিখে ফেলেছি। বইটি এখন মেলায় পাওয়াও যাচ্ছে। এর পেছনে ছোট একটা গল্প আছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির সাংবাদিকতা করি। এখন আর মাঠের রিপোর্টার না আমি। অফিসে বসেই বেশি সময় দিতে হয়। কিন্তু রিপোর্টারের মন, তাই না লিখতে পারলে শান্তি পাই না। মন ভরে না। এখন আমি না লিখলে অফিস ধরবে না। তবুও লিখতে চাই। মনে হয় আবার রিপোর্টার হয়ে যাই।
লিখতে চাইলে বাংলাদেশে বিষয়বস্তুর অভাব হয় না। কখনো শেয়ারবাজার, কখনো পদ্মা সেতু আবার কখনো হল-মার্ক। কিছু না কিছু থাকেই। সুতরাং আমিও লিখে গেছি, আরও লিখতে পারলে ভাল লাগতো। রিপোর্টারের হাতে এখনো মরচে ধরে নি।

আমি বাংলাদেশ কাঁপিয়ে দেব

(এই কবিতা লিখেছেন মানুষ, ইতিহাসের মানুষ, শ্যামলিমা ভূগোলের মানুষ। সুতরাং এই কবিতার কোনো নির্দিষ্ট লেখক নেই।)

আমি দাঁড়িয়ে আছি শাহবাগের জনসমুদ্রের মধ্যখানে।
আমি দাঁড়িয়ে আছি আমার ধর্ষিতা বোনের পবিত্র শরীর স্পর্শ করে।
শহীদের স্মৃতির মণিমুক্তার মালা আমার গলায়,
মুক্তিযুদ্ধের বারুদ সঞ্চারিত হয়েছে আমার বুকে,
মূর্তিমান সাহসিকা শহীদজননী আমাকে দেখাচ্ছেন বরাভয় মুদ্রা।
আমার হাতে বাংলাদেশের পতাকা, আমার হৃদয়জুড়ে বাংলাদেশ।

আমি তরুণ। মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার।
আমি ঘৃণা করি যুদ্ধাপরাধী।
আমার ক্রোধ মুক্ত, আমার ঘৃণা সুস্থ।
আমার ক্রোধ ছড়িয়ে পড়বে শাহবাগ থেকে সারা দেশ, বিশ্বময়।

আমি জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে আছি নিশিদিন।
নত্র আমার জন্যই মেলে ধরেছে নরম আলো,
চাঁদ বিলিয়ে দিচ্ছে মমতা।
আর, দিনভাগে ‘সূর্য আসি অগ্নি ঢালে হৃদয়ে আমার’।
আমার মুষ্টিবদ্ধ হাত নীলাকাশ স্পর্শ করে।
আমার স্লোগান সহস্র কণ্ঠে মিশে রচনা করে প্রতিবাদের মহাকাব্য।

আমি চিনেছি নব্য রাজাকার, দেখেছি তাদের ক্ষমাহীন স্পর্ধা;
কেউ কেউ ঘাপটি মেরে থাকে,
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তারা সঞ্চালন করে রাজাকারি ভ্রম।

পুনরায় পাঠ- জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান: আসুন চিনে রাখি ও বয়কট করি

পোস্টটি অনেক আগের। কিন্তু আজ এটিকে প্রাসঙ্গিক বেশি মনে হচ্ছে। তাই আবার পোস্ট দিলাম।
534947_10151491475214282_455333093_n.jpg

মূল পোস্ট:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করে ক্ষমতায় এসেছে। মাঝে অনেকেই এ নিয়ে হতাশ ছিলেন। এখন বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। আমরা আবার আশায় বুক বেঁধেছি।

যদি আসে তব কেন যেতে চায়, দেখা দিয়ে তব কেন গো লুকায়

............................................................................................................................................................................................................................
যখন তোমার সঙ্গে আমার হলো দেখা
লেকের ধারে সঙ্গোপনে
বিশ্বে তখন মন্দা ভীষণ
রাজায় রাজায় চলছে লড়াই উলুর বনে

লেকের ধারে না, ছেলেটার সঙ্গে মেয়েটার দেখা ক্লাশে। দেখা বলা হয়তো ঠিক না। বলা যায়, ছেলেটা মেয়েটিকে প্রথম দেখলো ক্লাশ রুমে।

ছেলেটি খোঁড়েনি মাটিতে মধুর জল
মেয়েটি কখনো পরে নাই নাকছাবি
ছেলেটি তবুও গায় জীবনের গান
মেয়েটিকে দেখি একাকী আত্মহারা

মেয়েটি একাকী আত্মহারাই থাকে। নতুন ক্লাশ। কেউ কাইকে চেনে না। তবুও মেয়েটির কোনো দ্বিধা নেই। সে সবার সঙ্গে মেশে কথা বলে। লাজুক ছেলেটি কেবল দূর থেকে দেখে। নামও জানে না। কেবল জানে রোল ২৬। ছেলেটির রোল ১৯।

একদিন ছেলেটিকে উৎফুল্ল দেখা যায়। ছেলেটিকে বলি, খবর কি? কোনো উত্তর দেয় না। ছেলেটি তার বন্ধুকে বলে। তার বোনটি যে বন্ধুর মতোই। রোল ২৬ এখন রোল ১৯ এর সঙ্গে অনেক কথা বলে।

সাংবাদিকের দিনলিপি

১.
পদ্মা সেতু নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে টানা লিখে যাচ্ছি। সেই লেখার একটা অধ্যায়ের শেষ হল শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠেই দেখি বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তার এসএমএস। বললো, মেইল চেক করেন। মেইল দেখলাম, জানলাম যে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অধ্যায় শেষ।
অফিসে গিয়েই দেখি আমার টেবিলে একটা চিঠি। লিখেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। এইটা একটা মজার কাহিনী। যতবার আমি বা আমার অন্য সহকর্মীরা পদ্মা নিয়ে লিখেছেন, তারপর দিনই অবধারিত ভাবে আসবে একটা চিঠি। লেখেন সৈয়দ আবুল হোসেন নিজেই। লম্বা লম্বা চিঠি। তিনি যে ফুলের পতো পবিত্র সেটিই ইনিয়ে বিনিয়ে লেখা হয। তবে মজা হয় যদি শিশিরদার কার্টুন থাকে। কার্টুন জিনিষটা সম্ভবত তিনি একদমই সহ্য করতে পারেন না। কার্টুন ছাপা হলে চিঠির দৈর্ঘ আরও বাড়ে।
একাধিকবার অফিসে ফোনও করেছেন। বার বার বলেছেন, দয়া করে যেন কার্টুনটা না দেই। কিন্তু কে শোনে তাঁর কথা। কালকেও নতুন একটা কার্টুন যাচ্ছে।
কেবল চিঠি না, ফোনও করেন। নামে কোনো রিপোর্ট ছাপা হলে, অফিসে তাকেই ফোন করেন। আর ফোন ধরলে আরেক যন্ত্রণা। কথা বলতেই থাকেন। বিষয় একটাই, তিনি ফুলের মতো পবিত্র।

এক ধরণের দিনলিপিও বলা যায়

১.
ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রো স্টেশনে লোকটি বেহালা বাজাতে শুরু করলো। জানুয়ারির সকাল। তিনি ৪৫ মিনিট ধরে বেহালা বাজালেন। ব্যস্ত সময় তখন। ওই ৪৫ মিনিটে ১১শ' মানুষ স্টেশনে এসেছিল। কিন্তু সবাই ব্যস্ত। তিন মিনিট পরে একজন বৃদ্ধ চলতে গিয়ে একটু থামলেন, তার দ্রুত চলে গেলেন। এক মেয়ে চলার পথে একটা ডলার রেখে গেলেন। একজন কয়েক সেকেন্ড থেমে বেহালা বাদন শুনে চলে গেলেন। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বেহালা শুনলো তিন বছরের এক শিশু। কিন্তু মা তাকেও নিয়ে গেলেন।
ওই ৪৫ মিনিটে মাত্র ৬ জন খানিক সময়ে থেমেছিলেন, ২০ জন চলার পথে অর্থ দেওয়ায় বেহালা বাদক পেলেন ৩২ ডলার। যখন বেহালা থামিয়ে লোকটা চলে গেল, কেউ তা খেয়ালও করলো না।
পুরো বেহালা বাদনের আয়োজন করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। মানুষের পছন্দ ও অগ্রাধিকার নিয়ে একটা জরিপের অংশ হিসাবে।
বেহালা বাদক হলেন জশুয়া বেল। এই সময়ের সেরা বেহালা বাদক। এর দুইদিন আগে তিনি বস্টন থিয়েটারে বেহালা বাজিয়েছেন, টিকেটের গড় মূল্য ছিল ১শ ডলার, প্রতিটি টিকিটই বিক্রি হয়ে যায়। অথচ মেট্রো স্টেশনে তাঁরই বেহালা বাদন কেউ শুনলো না।