অনুসন্ধান

ইউজার লগইন

অনলাইনে

এখন ১৮ জন অতিথি অনলাইন

ধূসর গোধূলিঃ আপন ভূবনে ফেরা

অনেকদিন পর নাহিদকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলো শিউলি। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছুটির অভাবে দু’জন একসাথে আসা হয়নি বহুদিন। শ্বশুরবাড়ি থেকে একা একা বাবার বাড়িতে হুট করে আর আসা হয়না শিউলির। এবার ঠিক হয়েছে নাহিদ চলে গেলে ও বেশ কয়েকদিন থেকে যাবে এখানে। দীর্ঘদিন পর ভাই বোনদের কাছে পেয়ে খুব খুশি। অয়নকে নিয়ে আশপাশটা ঘুরে এসে শিউলি দেখে মা চাল ভিজিয়ে ঢেকিতে গুড়া করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাছাকাছি আসতেই বকুল আর অয়নের দুষ্টুমি শুরু হয়ে যায়। অয়নকে দেখেই বকুল ক্ষেপাতে শুরু করে-
-এই পুচঁকি, আবার বান্দরের মতন লাফাইতে কই গেছিলি?
-এই ছোটু, তুই আমারে পুচঁকি কইলি ক্যান? বলেই বকুলকে ধরার জন্য পিছু পিছু দৌড়াতে থাকে অয়ন। শিউলি ওদের দিকে তাকিয়ে হাসে। ও জানে, পুচঁকি বললে অয়ন ক্ষেপে যায়, তাই বকুল সুযোগ পেলেই ওকে ক্ষেপায়।
দৌড়াতে দৌড়াতে যেই বকুল বলে- আমি বিভা’পুদের বাড়ি যামু, তুই কি আমার লগে যাবি? ব্যাস! সব রাগ শেষ। ছোটদি আমারে নিয়ে যা, বলে বকুলের পিছে পিছে বিভাদের বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে অয়ন। বকুল ও অয়নকে দেখে অবাক হয় বিভা।
-আরে, অয়ন ভাইয়া যে! কি খবর?
-বিভা’পু, মা তোমারে যাইতে কইছে। বকুল বলে

শপথ

কথা দিচ্ছি শবযাত্রার মতো সুবেশ আর পরিপাটি জীবনে
ফিরে যাবো। যত ক্ষত, যত ঘৃণা উগড়ে দেবো গাঢ়শূন্যতায়;
আর নয় আপসের মতো নম্রতার মেঘ, অযুত ইশারা ভুলে
যাবো দেখে নিও- আমি তোমার কাছাকাছি কোন অশরীরি
ইজ্জত মানি না। গোরখোদকের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবো প্রেম

দিনের আভাস নিয়ে দিনে দিনে ভুলে যাবো ঋণ আছে, ঋণ আছে
আমার যা কিছু দেখা সবইতো তোমার দ্বিধা, যত উচ্চারণ বৃষ্টিময়
সবইতো শপথ তোমার। ফিরে যাবো; দেখো, ঠিক ফিরে যাবো।

ব্যাংকক যাত্রা নিয়া কথাবার্তা

..........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
১.
আমাদের সবার বন্ধু প্রতুলের খুব সখ ব্যাংকক যাবে। সেই ছোটবেলা থেকে ব্যাংককের কত কত গল্প শুনে আসছে। এখন বড় হয়েছে, কিন্তু সখটা রয়েই গেছে। বিশেষ করে, শরীরটা একটু ম্যাজ ম্যাজ করলেই মনটা ব্যাংকক ব্যাংকক করতে থাকে।
একদিন হাতে কিছু টাকা পয়সা আসলো। প্রতুল ব্যাংকক যাওয়ার ইচ্ছা আর লুকিয়ে রাখতে পারলো না। বউকে যেয়ে একটু ভয়ে ভয়ে বলেই ফেললো ব্যাংকক যাওয়ার কথা। বউ শুনে খুশী। কাপড় গোছগাছ করতে শুরু করলো। প্রতুল এবার বললো, সে একাই যাবে, বউকে নেবে না।
প্রতুলের বই আগুনমাখা দৃষ্টিতে প্রশ্ন করলো কেন বউকে নেবে না?
প্রতুল নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে বললো, 'ইয়ে মানে, টিফিন নিয়ে কেউ কি রেস্তোরায় যায়?'

আত্মমগ্ন কথামালা ১৪

সরলতা

মানুষের সরলতা সবসময় আচরণে লেখা থাকে না,
কখনো কখনো ওপরের ঠোঁটের কোনায়ও তাকাতে হয় পেছন থেকে।
সরলতার আচরণ, সে তো চর্চিত অভিনয়;
কৈশোরিক সারল্য ফুটে ওঠা ঝলমলে ঠোঁটের কার্ণিশে যে দৃষ্টি রেখেছে
সে ঠিকই চিনে নিয়েছে অভিনয় আর স্বতঃস্ফুর্ততার পার্থক্য...

সবুজ

বিস্তৃত সবুজের মাঝে লুকানো অন্ধকার দেখে ভয় জাগে
আলোর উপস্থিতি স্বস্তি আনে না মনে...

ঠোঁট

আমাদের ঠোঁটে আঁকা থাকে বিবিধ আবেগের গ্রাফ
সময় এবং অসময়ে ওঠানামা করে নিয়মহীন...

পালকী

thumbnail.aspx_.jpg

আজ শুধু নারীর নাম
এছাড়া নাই তার দাম।

সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী নারী
বিয়েতে শশুড় বাড়ী
অন্য আরও কত কাজে
থাকত সে নানা সাজে।
কাঠের একটি ছোট ঘর
লাজুক নারী তার ভিতর
দরজা ছিল পর্দা টানা
দেখ যেতনা মুখ খানা
চার বেয়ারা ঘাড়ে চড়ে
দেশ বিদেশ ঘুরে ফিরে
হুমহুমনা চলে দুলকি
ঐতিয্যবাহী সে পালকী।
চলত সদম্ভে
হারাল কালের গর্ভে!

এখন যাদুঘরে
অনড় থাকে পরে
নিঃসঙ্গ ও একাকী
ঐতিয্যবাহী সে পালকী।

মশিউর রহমান
26.07.2012

ভাই - কেমুন আছেন ?

ইন্টারকম বেজে ওঠে - রিসেপশন থেকে জানানো হচ্ছে - পার্শ্বেল এসেছে - নিচে নেমে দেখি - বিশাল এক ঝুড়িভর্তি আম - সূদুর রাজশাহী থেকে এসেছে - প্রেরকের নাম 'হাসান' - লিফট বেয়ে উপরে উঠছি - সহ-আরোহীদের নানাবিধ প্রশ্ন - রাজশাহীর আম ? কত কেজি ? ফজলি ? প্রাইস কত ? - প্রথম তিনটির উত্তর দিতে পারলাম - চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই - কখনো জানা থাকে না - গত কযেক বছর ধরে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে - আম আসে -লিচু আসে - প্রেরক দাম জানায় না - আমরাও মুল্য পরিশোধের সুযোগ পাইনা - বড় বিব্রত লাগে - নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হয় - আবার কিছুটা প্রশান্তিও যেন পাই - ভালবাসা আসলেও যুক্তি মানে না.

হাসান'কে ফোন দিলাম - 'আবার আম পাঠিয়েছ - এবার অন্তত দামটা নাও' - ওপাশ থেকে অভিমানী প্রত্যুত্তর- 'কি বুলছেন ভাই - আপনাদের সাথে কি আমার টেকার সম্পর্ক - চাচা বাইচ্যে নাই বুলে কি আমাক পর কইরে দিলেন ? ' - এই প্রশ্নের উত্তর হয় না - রাজধানীর কংক্রিটের দালানে বসে এক মফস্স্বলী যুবকের সারল্যমাখা অভিমানের মূল্যায়ন আমার মত নাগরিক কীট কিভাবে করবে বলুন?

রোজায় ক্লান্ত দিন!

ঘুরে ফিরে পোষ্টের শিরোনামে 'দিন' শব্দটাকে হটানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু তা আর হলো না। না হলেই বা কি আমি লেখি ব্লগে দিনলিপির মতো কিছু একটা। তা নিয়ে অতো চিন্তা করার কিছু নেই। যা মনে আসে তা নির্বিঘ্নে লেখাই আমার আপাতত কাজ।

ধূসর গোধূলিঃ ক্লান্ত দিনের শেষে

সকাল থেকে ঘরের দরজায় চুপচাপ বসে আছে বিভা। প্রবল বৃষ্টিতে কয়েকদিন কাজে যেতে না পারায় গত তিনদিন অর্ধাহারে দিন কেটেছে ওদের। হারু মেম্বরের চালের আড়তেও কয়েকদিন ধরে কোন কাজ ছিলনা। নিজে না খেয়ে থাকলেও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে পারুলের ঘরের দিকে পা বাড়ায় ও। বন্ধ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কয়েকবার ডাকাডাকির পর দরজা খুলে বেরিয়ে আসে পারুল।
-তোমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিলাম পারুবু, কি করুম? না ঠেকলে আইতাম না
-আরে এত কতা কইতে অইবনা, কি হইছে খুইলা ক
-আইজ তিনদিন ধইরা ঘরে কিছুই নাই। নিজেরে নিয়া ভাবিনা কিন্তু কি করমু কও, মাইয়াডার মুখের দিগে তাকাইতে পারিনা। তোমার ঘরে খুদ থাকলে কয়ডা দেওনা!
-আরে পাগলী, এমন কইরা কইতে অয়? তোরা না খাইয়া রইছস তয় আমার কাছে আইলি না ক্যান?
-তোমারে আর কত জ্বালাইমু?
-বিভা, এইডারে জ্বালান কয়না। আমিও তো চাচীরে অনেক জ্বালাইছি। তোর মা তোরে আর আমারে আলাদা কইরা দ্যাহে নাই। ভরা পেটে না পারি আধপেটা খাওয়াইতেও তো পারি!

দুই অলিন্দ

জীয়ন্তে আর ফেরে না ঘরে প্রজাপতি
ফেরে না মাঠ, ধুলো জমিন বাটে
দৈনন্দিন ফাঁক ফোঁকর পরিণতি
বিবর্ণ সময় একলা একলা কাটে।
নিশানা খোঁজে ফসলের দানা ভূমি
চিহ্ন কাটা ধানের শীষের বুকে
মরচে পড়েছে শ্বাস গন্ধ চুমি
সীমানা রেখা চলছে ধুঁকে ধুঁকে।
জীয়ন্তে চাই আবার তোমার দেখা
স্পন্দন চাই বুক অলিন্দ জুড়ি
ভালোবাসা ফোটে অঘোর মগ্ন একা
হৃদয়ে বন্দি তোমার চোর কুঠুরি।

(জীয়ন্তে/০৯.০৬.১২)

<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<

আমাকে পৌঁছে দেবে আমার ঘরে
সে বড্ড দূর, আরো বহু দূর
একবারে ঘাট পেড়িয়ে জল ছুঁই ছুঁই মুখ
পাপের প্রজন্মে বাঁধা প্রান্তিক নৌকা
তার কেবল হাঁটা আর হাঁটা
রুক্ষ, কান্তিময়, ব্যাথাতুর।
আমাকে পৌঁছে দেবে কেউ
আমাকে, আমার বাড়ি..
অকারণ আশায় আর বিশ্বাসে
লেগেছে অকাল মড়ক
দেবে কেউ পৌঁছে আমায়
নিভু নিভু, তবু যেমন জ্বলে আগুনের ফানুস
এখানে অরন্যে ওৎ পেতে আছে বাঘ
আর নগরীতে মুখোশে ঢাকা মানুষ।

(আমাকে পৌঁছে দেবে কেউ/১১.০৬.১২)

প্রিয় নুহাশ পল্লী!

এক যে ছিল জাদুর রাজা, ঘুমিয়ে আছে আজ যে
চোখ ছলছল, জল টলমল, বিষণ্ণতা রাজ্যে!
সেই রাজাটির কথাই শুধু আজকে সবাই বলছে,
কণ্ঠ ভারী, লিখতে গিয়েও কলমটা না চলছে।
গুণের কথা বলতে গেলে শেষ হবে না গোণা
যেইখানে তার হাত পড়েছে ফল হয়েছে সোনা।

জাদুর রাজার নাম হুমায়ূন, সমস্ত তার লেখায়
হাস্যরসে বাঁচার মত বাঁচতে যেন শেখায়।
কলম ছিল জাদুর কাঠি, জীয়ন কাঠি যেন
গোমরা মুখে মরার মত বাঁচবে সবাই কেন?
তাই জাদুকর জাদুর ছোঁয়ায় জিইয়ে সবে তোলে
প্রাণটা খুলে হেসে সবাই দুঃখ-বিষাদ ভোলে।

দেখা যেত বই মেলাতে উপচে পড়া ভীড়ে
মধ্যমণি সেই জাদুকর, ধরছে সবাই ঘিরে-
শুনতে কিছু মুখ থেকে তার, তুলতে কিছু ছবি।
তিনি ছিলেন উপন্যাসিক, গল্পকার আর কবি,
নির্মাতা বা পরিচালক আবার নাট্যকারও
তার পরিচয় যতই বলি বাদ রয়ে যায় আরও।
চলচ্চিত্র, উপন্যাস আর গল্প শত শত
নাম বলে কি শেষ করা যায়, বলতে থাকি যত?

জাদুর ছোঁয়ায় মাতিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ছেড়ে চলে
বুক ফেটে যায়, কান্না চোখে ভক্তরা সব বলে-
ও জাদুকর! মোদের ফেলে আজকে কোথায় চললি?
উত্তরে তার বলছে যেন, "প্রিয় নুহাশ পল্লী!"

স্বপ্নজটিলতায় স্থবির ভাগাড়

স্বপ্নের রঙ কালো।

দক্ষিণের বালিয়াড়ি পার হয়ে ধনুক বাঁকা একটি খাল তোমাকে স্বাগত জানাবে। ইপিলইপিল গাছের ঝিরিঝিরি পাতায় বইবে দুপুরের হাওয়া। পাশ দিয়ে বয়ে যাবে সবুজ মাঠ, ধানেদের চারা, আর এখানে ওখানে আলের ভাঁজে ভাঁজে শামুকের সলাজ ঘোমটা।

রোদের কনসার্ট থেমে গেলে ফুরফুরে বাতাসে গলা ভিজিয়ে পান করো রাতের আঁধার। ততক্ষণে বাদামী হলুদ গরুগুলো জুড়ে দেবে অপার্থিব গান। গরুদের কোরাস শিখে নিও- হতাশার পৃথিবী নিয়ে জাগবে নতুন চর। আর বকুলীদের পুরনো টিনের চালে টুংটাং ঝরবে ইটের ভৌতিক নামতা।

তৃতীয় দিন স্বপ্নের সাথে দেখা হবে। শুনে নাও দ্বিতীয়দিনের নসিহত। ভোরের বাতাসে খুব ধীরে খুলে দিও জানালার রশি। শিশির ভারে নুয়ে থাকবে সবুজ ডগা। কবুতরের খোপ থেকে বকম বকম বাক শুনে হেঁটে যেও দীগন্তের ধারে। সেখানে মরচে ধরা স্মৃতির কোলে খেলা করছে একটি বেঢপ শৈশব। আনমনে তাতে এঁকো লাল-সবুজ আলপনা।

সাম্প্রতিক অনুভুতি

আমরা অধিকাংশ সময়ই অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করি, আমাদের মৃত্যু পারিবারিক অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মৃত্যুতে স্বজন শোকগ্রস্ত হওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ হয় এবং ইহজাগতিক বিভিন্ন বিষয়ের মতভিন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভাবনায় যুযুধ্যমাণ হয়। মৃত্যু নিয়ে আমাদের অনেক আকাঙ্খা থাকলেও আমাদের মৃত্যু অসুন্দরই হয় অধিকাংশ সময়।

আমরা বিভিন্ন রকম মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে মরে যাই, গ্রামের সম্পন্ন কৃষক মৃত্যুর আগে তার আবাদি জমি আর বসতবাটির ঘরগুলোও সন্তানদের ডেকে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়- উত্তরের চাতালের জমি ছোটোর, বড় ঘরটা আর পুকুরটা মেজোর, শিমুল গাছ তলার সাথের জমিটা বড়কে দিবা আর আমার ঘরটা তোমাদের মায়ের থাকবে- এই মৌখিক নির্দেশনার কোনো আইনীভিত্তি নেই- কৃষক মরলো তার সৎকার বাদ দিয়ে ছেলে মেয়েছুটলো জমির দখল বুঝে নিতে- মৃত্যুশয্যায় শুয়েও আমাদের ভাববিলাসিতা কমে না।

জামায়াত-শিবির কেন আমাদের স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বিভিন্ন সামরিক সরকার এবং রাজনৈতিক দলের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একথা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি এই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনো মনে প্রাণে স্বীকার করেনি এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সময়কালীন তাদের অবস্থানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাতো দূরের কথা, বিন্দুমাত্র লজ্জ্বিত হতে তাদেরকে দেখা যায়নি। উলটো জনগনের সামনে নির্লজ্জ্বের মত বলতে দেখা গেছে, “দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।”

এছাড়া এই জামায়াতে ইসলামী আরেকটা মিথ্যা প্রপাগান্ডার আশ্রয় নেয় তা হলো, বঙ্গবন্ধু সকল যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে গেছেন।

বিদায়, হে খেয়ালী জাদুকর..

R.I.P

আজ দুপুরের কড়া রোদ্দুরে একটু বৃষ্টি ভিজে,
অনেক অনেক প্রিয় লেখার একজন লেখক কে চির বিদায় জানিয়ে এলাম।

বলছি, আমাদের হুমায়ূন স্যারের কথা।
৪ দিন হয়েছে মাত্র, স্যার নেই। মনে হচ্ছে বিষাদের দিনলিপিতে স্তদ্ধ সময়ের বোবা সঙ্গী হয়ে গেছে পুরা দেশটা। অনেকেই হয়তো, যে যার মত করে ব্যাস্ত। তবুও অদ্ভুত বিষণ্ণতা ঘেরা অস্থিরতায় ঢেকে আছে একেকটা মন।

কিছুই ভাল লাগছে না। কি কি যেন লেখব বলে ভেবেছিলাম, ভুলে গেছি।
সব দুঃখ হয়তো বলে বোঝানো যায় না, বোঝাতে নেই।

গতকাল সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য শহীদ মিনার চত্বর, স্যার কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন।
আমি যাইনি। বলা ভাল যেতে পারিনি। অথবা, এভাবে তাকে দেখতে যেতে ইচ্ছে করে নি।
এই মানুষটার যে চেহারা তার বই পড়ে পড়ে গড়ে উঠেছে, নয় তাই জমা থাক স্মৃতির করিডোরে।

তার জানাজা পড়ে এসেছি অবশ্য, তার লাখো ভক্তের সাথে দাড়িয়ে একসাথে দোয়া পাঠানো ছাড়া কিছুই তো বাকি ছিল না আর। সেখানেও কিছু মানুষের বক্রোক্তি শুনে আসতে হল, আজব দুনিয়া!

নাগরিক গল্পঃ ১৪-বৃষ্টিকবিতা দিন

স্বর্গের সিঁড়িতে
একাকী বসে আছে পদ্মসুন্দরী-
নীল পলকে-অপলকে
হারায় চোখ-
ফিরে আসে ঘুমন্ত যৌবন-
অস্থির মধ্যাহ্নে!

আজকে কোথায় যাওয়া উচিত? অফিস না শহীদ মিনারে? হুমায়ূনের ফেরার কথা! আজকে কি মানিক মিয়ার জারুল কিংবা সোনাঝুরি অন্যান্য দিনের মতো হাসবে? আজকে কি গোলচক্করে ঠিক অন্য দিনের মতো মীরপুরের বেপরোয়া বাসগুলো গোত্তা দেবে ডানে আর বামে! কিংবা পুরানো বিমানবন্দর থেকে ঊড়বে হেলিকপ্টারগুলো প্রজাপতি ডানায় নীল আকাশে। আজকে কি আকাশ হাসবে প্রতিদিনের মতো? গত কয়েকদিন ঢাকার আকাশ হাসি-কান্নার মাঝেই আছে। হাল্কা বৃষ্টি মনে করিয়ে শ্রাবন মেঘের দিন। অরুপের কি খুব মন খারাপ আজকের দিনে? বকুলতলা দিয়ে হেঁটে বের হয়ে অরুপ ফিরে চললো শহরের উত্তরে। আজকে কবি আসার কথা দক্ষিনে। আজকে শহীদ তাজউদ্দিনের জন্মদিন। শীতালক্ষাপুত্র শহীদ তাজউদ্দিন! মোড়ে আসতেই উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলো-সোজা পুবে হাঁটা শুরু করলো অরুপ। কিছুটা হেটেই মনে হলো একদিন কাজ-কর্ম না করলে কি হয়? একদিন সারা ঢাকা শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখলে কেমন হয়!
-অরুপ কি করো? কই তুমি?
-আমি রাস্তায়-হাঁটছি; ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষ দেখবো।

ব্যানার

আমরা বন্ধু ব্লগের জন্য যে কেউ ব্যানার করতে পারেন। ব্যানার প্রদর্শনের ব্যাপারে নির্বাচকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আকার ১০০০ x ১৫০ পিক্সেল। ইমেইল করে দিন zogazog এট আমরাবন্ধু ডট com এবং সেই সাথে ফ্লিকার থ্রেডে আপলোড করুন ফ্লিকার থ্রেড।

● আজকের ব্যানার শিল্পী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

● ব্যানারালোচনা

সপ্তাহের সেরা পাঁচ