ইউজার লগইন

রুম্পা'এর ব্লগ

আমরা এগারো জন- আগস্টের কোন এক আনন্দমাখা সন্ধায়

কলিং বেলের সুইচটা সামনে। আঙুলটা সুইচের উপর রাখার আগেই দরজাটা খুলে গেল। কানে ফোন ধরা তন্ময়ের। আমাকে দেখে ভিতরে যেতে ইশারা করে। আমি আর আমার বর ওর বাসায় ঢুকলাম।

হঠাৎ দেখি চোখের সামনে সবুজ একটা লন। লনের পাশ দিয়ে ছোট্ট একটি রাস্তা চলে গেছে ভিতরে। হাতের বায়ে 'সুরঞ্জনা'। রাস্তা ধরে আমতলায় পৌঁছানোর আগে থেকেই ভীর ভাট্টায় নজর পরে। ভিতরে কথা বলছেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ।

ধুর কি আবোল তাবোল..। তন্ময়ের গোছানো বাসায় সেই বিসাকের লালরঙা বাড়ি এলো কোথেকে! এই আড্ডা আর সেই আড্ডার ছবি মিলেমিশে একাকার হচ্ছে বারবার। ..তাই তোহ!

দিব্যি দেখা যাচ্ছে আন্দু (আমাদের আন্দোলন) বসে আড্ডা দিচ্ছে। ইশ আমি এবারো লেট।

দুর্ঘটনা বা অবহেলা নয়- হত্যাকাণ্ড

দুর্ঘটনা নিয়ে লিখতে ভালো লাগে না। কিছু দুর্ঘটনা না লিখিয়ে রাখতে পারলোনা। যে দুর্ঘটনাগুলো কাঁদিয়েছে, রাগিয়েছে আর প্রতিবাদী করে তুলছে ক্রমশ। একদিন হয়তো ক্রোধই দেশ ছাড়া করবে এই অধমকে। আগেই আবেগী এই লেখার জন্য ক্ষমা প্রার্থী..

১.

আহারে..

তখন আমার জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। প্রথম চাকুরী বদল। সে সময়ে আকাশছোয়া বেতনবৃদ্ধি !! (এখন অবশ্য তা মনে হয়না) নিজের কর্মজীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুড়ে দিয়ে নিলাম জীবনের অন্যতম বড় সীদ্ধান্ত। নিজের শিক্ষাজীবন- কর্মজীবন যেমন আমার দিকে তাকিয়ে..তেমনই তাকিয়ে থাকা পরিবার। পারবো তোহ!

কমবয়সের একটা আলাদা মজা আছে..বড় বড় সীদ্ধান্তগুলো নিয়ে নেয়া যায় চট করে। বয়স যত বাড়তে থাকে সীদ্ধান্ত গুলো হতে থাকে ছোট ..আর সীদ্ধান্ত নেয়ার সময়টা হতে থাকে বড়..

তখন বয়স তুলনামূলক কম ছিল। অতএব পেরেছিলাম..

আবার ৩০ এপ্রিল..

১.
বিষয়টি একদিন বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস পালনের মতো নয়..এ অভ্যাস প্রতিদিনের। যেকোন ভালো সময়ে বা খারাপ সময়ে.. না থাকার অভিযোগ..না পাওয়ার কষ্ট ..অথবা কেনো করতে পারা-এই সুক্ষ্ম বোঝা মাথার উপর..অনেক গুলো বছর ধরে..
২.
যখনই মজার কোন খাবার সামনে আসে, তখন কষ্ট হয়..ভদ্রলোক খেতে ভালোবাসতেন। প্রায় বছর তিনেক তিনি খেতে পারেননি। স্বপ্নের মাঝে একবার বলেছিলেন, পিঁয়াজ দিয়া মরিচ দিয়া ডইল্যা আহ!..সেটা নিয়ে আমরা অনেক মজাই করেছি..তখন.. ঝাল বাপের বেশ পছন্দ ছিল। আজো এই খাবারটা আমার বড্ড ঝাল লাগে..খেতে গেলে চোখে পানি চলে আসে।
৩.

সাপ... ভয়....!!

ধন্যবাদ। মৃদুল ভাইকে। সেদিন শুক্কুরবারে অদ-ভুতুড়ে আড্ডা না শুরু করলে কখনোই স্মৃতি হাতড়ে এই গল্প বের হতো না। মাঝে মাঝে এসে নিজের কিছু গল্প বলে যাই। কড়া বা কঠিন কথা বলতে পারিনা, গল্প ছাড়া। কি আর করা।

শুনুন, নতুন গল্প।

তখন আমার দেড় বছর। সিলেটে গিয়ে বিখ্যাত বন্যায় পুরো পরিবার আটকে গেছি। বেশ পিকনিক পিকনিকভাব। বিশেষ করে আমার বড় বোন খুশিতে আটখানা। ইশ্কুলে ক্লাস করতে হচ্ছেনা। আমিতো তখন দুধভাত। কোন কিছুই বোঝার উপায় নেই। ছোটবেলা থেকে একটি অভ্যাসে ছিলাম সেটা হলো বাউণ্ডেলপনা।
হামাগুড়ি, গুড়ি-গুড়ি পায়ে হাটা..যেই পন্থাই হোক না কেন, উঠোন-টুঠোন পেড়িয়ে কই কই পই পই করে চলে েযতাম আল্লাহ মালুম।
আমাদের বাড়ির পাশেই কিছু দূরে একটি বিরাট আকারের তেতুল গাছ ছিল। দূরে মানে বাড়ির সীমানা লাগোয়া।

নাম করণ এবং কিছু..

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, এই লেখা অবশ্যই নিজস্ব ধারণা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা অত্যন্ত অনভিজ্ঞ লেখা। কেউ দয়া করে মন খারাপ করবেন না।

কারণ কে যে কখন কোন কারণে মন খারাপ করে বসে সেটা বড়ই চিন্তার বিষয়। যেমন আমার এক বান্ধবী আমার উপর মহাখাপ্পা হয়ে আছে। কারণটি বড়ই যুক্তিহীণ। অন্তত আমার কাছে। আমার বান্ধবীটির ছোট্ট একটি কন্যা হয়েছে, নাম ইরিন। নামটি খুব সুন্দর, কোন সন্দেহ নেই। শুধু আমার দুষ্টুমি করার প্রবণতা না থাকলেই হতো। দুষ্টুমি মিশ্রিত কথোপকথনটি ছিল এরকম.

- বাহ দোস্ত মেয়েটা আল্লাহর রহমতে তো অনেক সুন্দর হয়েছে। তা নাম ইরিন রাখলি যে?
- কেন নামটা কি সুন্দর না? (বান্ধবীর কণ্ঠে তখন ইতিমধ্যে তপ্তভাব আরকি!)
- অনেক সুন্দর নাম। ধর তোর দ্বিতীয় মেয়ে হলে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই নাম রাখতে পারবি “মৌসুমী”..

হাসপাতাল নিবাস ও কয়েকটি টুকরো ঘটনার সমাপ্তি

গত রোজা থেকে এই কোরাবানি ঈদ পর্যন্ত হাসপাতালের গল্প আসলে অসংখ্য। সব যদি লেখা শুরু করি তাহলে হয়তো কিছু কিছু বাংলাদেশি চ্যানেল গুলোর ঈদ আয়োজনের মতোই অতিরিক্ত বেদনাদায়ক হয়ে যাবে। কারো কষ্টকে সামনে এনে নিজে আরো কষ্ট পাওয়ার চেয়ে এগুলোর মাঝে জমে থাকা অন্য কিছু গল্প নিয়েই হাসপাতাল নিবাস।

নানু তো হাসপাতালে আছেন বহুদিন। আমাদের মোটামুটি অভ্যাস হয়ে গেছে নানুর হাসপাতালে থাকার বিষয়টি। রেডিও থেরাপি এবং কেমো থেরাপি চলছে সমান তালে.. হাসপাতালের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের খুব কাছের আত্মীয় বলে নানুর সেবা চলছে চমৎকারভাবে। তা নাহলে ইতিহাস বলে এদেশের "হাসপাতাল" ড. হুমায়ুন আহমেদ-ড. জাফর ইকবাল- আহসান হাবীবের মাকেও সুচিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হয়!!

আলোর মিছিল চাই- চাই আলোকিত মানুষ- বিসাকে কলেজ কর্মসূচি ২৫ বছরপূর্তি

নিজের নদী সবার থাকে। কেউ চায় সেই নদীতে ভেসে যেতে, কেউ চায় স্রোতের টানে ভেসে আসা খরকুটোকে সম্বল করে নতুন গতি বেছে নিতে। চিরায়ত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন ধারাকে অবলম্বন করাটা অনেকেরই কাছেই অসম্ভব। আর সেই না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় নানা রকমের আফসোস। আর ভাবে আমার দেশ কেনো এমন নেই, কেনো ওমন হলোনা! অথচ জীবনকে নতুন গতি দেয়ার, নিজের মতো করে চালানোর যে আলোকিত পথ সবাই খোঁজে, তা কিন্তু ছিল চোখের সামনে।

ছিলেন, আছেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আর ইন্দিরা রোডের ছোট্ট একটি কামড়া থেকে আজ বাংলা মোটরের আকাশ ছোয়া বাড়িতে যে স্বপ্নের কারখানা, তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

হাসপাতাল নিবাস- কয়েকটি টুকরো ঘটনা

মেযবাহ ভাইয়ের রাতের গল্প পড়ে প্রায়ই ভাবি আমারও হাসপাতালের গল্প আছে। আজ লিখবো, কাল লিখবো। কিন্তু "অকাজের কাজি- মস্তবড় পাজি‍' হবার কারণে তা আর করা হয়ে ওঠেনা। অবশেষে আজ কাজ করার মাঝে প্রচণ্ড আলসেমীতে মনে হলো আমার হাসপাতালের গল্প কিছুটা শেয়ার করা যায়।

ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতাল বিষয়টি আমার ভীষণ অপছন্দের। হাসপাতাল মানেই মন খারাপ, ঔষুধের গন্ধ আর অসুস্থতা ধরিয়ে দেয়া। নিজের ডেঙ্গু আমলে ৪৫ দিনের বদলে ১৫ দিন থাকা ছিল অপছন্দ থেকেই। এবং সেটার ফলে শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি এবং ডাক্তার সাহেবের সাথে মুখ দেখাদেখি বন্ধ টাইপের অভিমানও সহ্য করতে হয়েছে।

একটি কাল্পনিক প্রেমের গল্প

১.
কানে তালা লেগে যাচ্ছে।বিকট আওয়াজে বিস্ফোরিত হচ্ছে একেকটা বোমা।কানে হাত দিয়ে বসে আছে আট-দশটা প্রাণী।এরা সবাই কথা বলতে জানে।চলতে জানে।এরা মানুষ।তারপরও ঘটনার আকস্মিকতায় তারা এখন নির্বোধ।এখানে বসে থাকলে প্রাণে বাঁচবে! নাকী বের হলে রক্ষা পাবে জানেনা।শুধু জানে এটুকু সময় চলে গেলে হয়তো বাকী জীবনটা এমন ঘাপটি মেরে থাকতে হবেনা।বাঁচার আকুলতায় মানুষগুলোর চোখ ছলছল করছে।

২,
এই তো কিছুদিন আগে।

কুয়োর ব্যাঙের স্বর্গ ভ্রমন- ২

রিসোর্টটি কাঠের বটে..তবে এতো সুন্দর করে সাজানো গোছানো। ঠিক যেন নীল রঙের মাঝে কাঠ আর সবুজের ছিটেফোঁটার আকিবুকি।

21.JPG

কুয়োর ব্যাঙের স্বর্গ ভ্রমন-১

এই গল্পের প্রধান চরিত্র আমি নই। প্রধান চরিত্র চার ল্যাবরেটরিয়ান। সুমন (তাস্তুবালা), মাকসুদ (মাক্কু), শিবলী এবং হাসিব। এই চার বন্ধু এই শহরের এমন চারটি মানুষ, যারা অবাধ স্বাধীনতায় বড় হয়েও বেড়ে উঠেছে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পথে। কোন নেশা নেই, কোন অনৈতিক কাজে তাদের সায় নেই।মোটেই প্রশংসা করছিনা। যা সত্য শুধু ততটুকুই বলছি। এই চার বন্ধু তাদের অবাধ স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে অপার বিস্ময়ে দেখছে পৃথিবীর অনন্য রূপ। এরা টাকা জমিয়ে দেশে বিদেশে ঘুরতে পছন্দ করে। এমন নয় যে স্বচ্ছল হয়েই এখন তারা ঘোরে। তারা চারজন বেড়ায় তখন থেকে, যখন তারা ছিল স্বচ্ছলতার সীমার বাইরে। আমার ভালো লাগাটা এখানেই।

ইহা আমাদের "হীরক রাজার দেশ"

১.
আহা যদি সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকতেন, তিনি দেখতে পেতেন তার পার্শ্ববর্তী দেশটি এখন তার বানানো ছবির মতোই একটি "হীরক রাজার দেশ"..
লিখবো কি না ভাবছি..! আবার না আমার বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়! হায় রে..! ভেবেছিলাম আজ একটি চমৎকার জায়গার ছবিসহ ব্লগ লিখবো..কিন্তু দেশে ফিরেই দেখি, যার মাধ্যমে দেশ বিদেশে আমার বেড়ানোর ছবি আর বর্ণনা ছড়িয়ে যাবে, সেই ফেসবুকই বন্ধ।

২.

অতঃপর কলিকালের মা কহিলেন..

লোকে এখন কথায় কথায় বলে, দিন বদলাইসে..কতটুকু বদলেছে তার একটা ছোট্ট নমুনা না দিয়ে পারছিনা..

বলেন কি করি!

ব্লগে আমি নতুন। এটা নিয়ে তাই আমার ব্যাপক উত্তেজনা। ভাবছি টুকটাক করে লিখতে থাকবো..কিন্তু সেটার একটা নাম তো দেয়া চাই..! টুকটাক লেখার নাম। গল্প বা অন্য কিছু নয়। কিন্তু ঝামেলা হলো, এই অধমের মাথায় কোন নামই বজ্রপাতের মতো গর্জন করছে না। ওদিকে হাতও নিশপিশ করছে..নজরুল ভাই-এর সাগরেদ বলে কথা..এতো মানুষের সাথে মিশি..কতো ঘটনাই তো জমা হয়..কিছু কিছু শেয়ার করতে পারলে মন্দ হতোনা..আপনারাই উপায় বলে দেন..