অনুবাদ-অক্ষম একাকীত্ব এবং আমি…….।
আমার পৃথিবী জুড়ে কেবলি স্বপ্ন ভঙ্গের শব্দ।
পথ হাটছি অবিরাম………
শুধু হেটেই চলেছি…..।
প্রচন্ড ক্লান্তি এসে ভর করে। থেমে যেতে চায় আমার অনিশ্চিত পদযাত্রা।
তারপরও আমি হেটে চলি বন্ধুহীন, ভালোবাসাহীন।
বন্ধু,
আমার কথা ভেবে কখনো কি তুমি আনমনা হও?
কোন জোৎস্না ভেজা রাতে মনে পড়ে কি আমার কথা?
ভালোবাসা দিতে যদি কার্পন্য এতোই
তাহলে ঘৃনাই দাও নূন্যতম
অন্তত কিছু তো পাবো
হিমাঙ্ক অতল শৈত্য উপেক্ষা অথবা
তবু কিছু দাওগো পাষান
কাঙালের ভাঙা হাত একেবারে
ফিরিয়ে দিওনা।
উত্তরাধিকারঃ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে (অ)প্রাসঙ্গিক ভাবনা
জজ হবার খায়েশ নিয়ে ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিচ্ছি। গতকাল “পারিবারিকসম্পর্ক বিষয়ক আইন” এর লিখিত পরীক্ষা দিয়ে আসলাম। যেহেতু পরীক্ষার জন্যে প্রয়োজনীয় পড়াশুনার পরিমান অত্যন্ত কম, কাজেই লেখার সময় অনেক ভাবনাচিন্তা করে লিখতে হয়। পরীক্ষায় উত্তর লিখতে গিয়েই ভাবতে ভাবতে একটা বিষয়ের দিকে আমার মনোযোগ চলে গেল, এবং আজকের লেখার বিষয়টা সেই ভাবনা থেকেই উৎসরিত।
"LIKE" একটি অন্তর্জাল ভিত্তিক সামাজিক ব্যাধি !!!
নয়া একখান অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা যাইতাছে ইদানিং।
মানুষ যেমন আজকাল আর তার নিজের সামাজিকতার শারীরিক সংযুক্তি অন্তর্জালের মাঝে বদলি করেছে। তেমনি অন্তর্জালের মাঝে দেখা দিয়েছে কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব। তার মধ্যে একটি হলো “LIKE” ম্যানিয়া। এই রোগ এখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্জালের প্রতিটি কোনায় কোনায়। অন্তর্জালের ফেইস বুক নামক সামাজিক পরিবেশটিতে এর আক্রমন হয়েছে সবচেয়ে বেশী।
ব্লেড
বানাতে চাইছে ব্লেড রক্ত মুর্ছালোক
এ শুধু রক্ত নয়, আগাগোড়া পাপের মোড়ক
প্রায়শ্চিত্ব শূণ্য সব অচৈতন্য বোধে
ব্লেড ঝলকায় অন্ধ অতিত ক্রোধে
বর্তমানের ভোগ্য পণ্য বিষ
ব্লেড চিনে গেছে জন্মের ইবলিশ
ফেঁড়ে ফেলে দিতে পাপের জুয়াচুরি
ব্লেড হয়ে গেছে সোজাসাপ্টা ছুরি
টাটকা রক্তের নেষা পরীক্ষিত
ব্লেডের হিংসা জীবনে বিচ্চুরিত
গর্ভফুলের জন্মের ছলাকলা
এসো তবে ব্লেড দুই ফাঁক করো গলা.....
(c)MNI, 05.01.12
{বিদায় বন্ধুরা, আমি আমার লেখক জীবনের ইতি টানলাম।}
নদী
অমোঘপুরের ছাত্র আমি
বিধির পদ্য বোধে লিখি
জলের শব্দ নকল করে
পাখির মত গাইতে শিখি
এইতো সেদিন একটা পরী
ভিষণ রাগে, জোরসে হাঁকে
"সাহস কত! আমার পাখা
চুরিয়ে এনে নদী আঁকে!"
আঁকা বলে হেলা করলে
শোন, এও নাচতে জানে
ঢেউও আছে, স্রোতও আছে
বেলাল্লা হয় ঝড়তুফানে।
আমার কাছে নদীই সব
ঝর্ণা হয়ে সাগরে আসা
জীবননদী, সময়নদী
নদী আমার মাতৃভাষা।
গতপরশু নদীর ভাষায়
চা চাইতেই এক দোকানি
বল্লো," আমি নদীভাঙ্গা,
নদীর ভাষা আমিও জানি"।
নদীর ভাষা কঠিন অতি
ভোকাবিউলারি শেখা লাগে
সিনটেক্সের এর শক্ত বাঁধে
না বলা সব ইচ্ছা জাগে।
আমিতো ভাই নদীপাগল
জীবন গেল নদীসুখে
বুড়িগঙ্গায় ঢেউ উঠলেই
আঁছড়ে পড়ে আমার বুকে।
তাইতো আমি নদী পড়ি
নদী শিখি, নদী থাকি
পরীর পাখা চুরি করে
হারিয়ে যাওয়া নদী আঁকি।
চাঁদবেনে যায় সওদা সমেত
বেহুলা লাশ ও লাস্য নিয়ে
মারমেইড গায়, " জীবন হল
জলের সাথে জলের বিয়ে।"
দল ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির অপরিহার্যতা !!!!!
ইসলামী ছাত্ররাজনীতির ধারক বাহক ছাত্র শিবির-কে দিয়েই আমার ছাত্র রাজনীতির সাথে পরিচয়। তারপর অনেক কাল পের হলাম, অনেক কিছু দেখলাম, শুনলাম, শিখলাম নিজেও জড়িত ছিলাম। এখন আমার কাছে মনে হয় এককালের সর্বেসর্বা ছাত্ররাজনীতি তার নিজস্ব জৌলুস হারিয়ে বিষফোঁড়ায় রুপ নিয়েছে। বর্তমান কালের ছাত্ররাজনীতির সাধারণ ব্যবচ্ছেদ করলে তাকে দুই ভাবে ভাগ করা যায়, একটি দল ভিত্তিক যা প্রায় নব্বই ভাগের বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়। অপরটি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি যা অলিক প্রায়। আমার দেখা দল ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির চেহারা বড়ই কুৎসিত। এর সাথে জড়িত খুব কম সংখ্যক ছাত্রই আছে যার ছাত্রদের অধিকার সম্পর্কে নুন্যতম ধারনা আছে। থাকলেও তার কোন পরোয়া তারা করেনা। উপড়ের সারির নেতাদের বেশিরভাগ-ই হন ত্রিশোর্ধ অছাত্ররা যার বেশিরভাগই হয় কোন আইন কলেজ বা হোমিওপ্যাথি কলেজের রেজিস্টারভুক্ত ছাত্র। কালের বিভিন্
ঝলমলিয়ায় সনাতন মেলায় - ২
সনাতন বিশ্বাস ঢাকার চারুকলা থেকে পাশ করা অকাল প্রয়াত প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী। অবাক লাগে এই অজ পাড়া গাঁর সাধারণ বাড়ি থেকে একজন রাজধানীর চিত্রশিল্পের অঙ্গনে নাম লিখিয়েছিলেন। তার থেকেও অবাক লাগে মৃত্যুর পরও বন্ধুরা বছরের বছর কী চমক্প্রদ আয়োজন করে যাচ্ছে বন্ধু স্মরণে। সনাতন মেলা মূলতঃ সানতনের চিত্রশিল্পী বন্ধুদের উদ্যোগে প্রতি বছর হয়ে থেকে ঝলমলিয়ায় সনাতনের বাড়িতে। সনাতন স্মরণে র্যালি, গ্রামের ছোট ছোট শিশুদের রং তুলিতে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, সনাতনের চিত্র প্রদর্শনী, মাতম, গানের আসর এসব নিয়েই সনাতন মেলা। আর এই সব আয়োজন তার বন্ধুরা করে যাচ্ছে বছরের পর বছর। কী অসাধারণ বন্ধুত্ব!

আরেকটি ধ্বংসের কাহিনি...
পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় আমাদের দেশের সব কিছুরই যেন এন্ট্রপি বাড়ছে। যেখানে তাকাই সমস্যা আর সমস্যা। অপরিকল্পিত সম্পদ শোষন কোথায় নিয়ে গিয়ে আমাদের ফেলবে এখন হয়ত আমরা বুঝতে পারছি না, কিন্তু এই সবকিছুরই প্রভাব আমাদেরকেই ভোগ করতে হবে এক সময়, তা প্রায় নিশ্চিত। যাইহোক, কে শুনবে কার কথা? অনেকদিন পর আসলে যে জন্য লেখা শুরু করেছি, একটি ধ্বংস কাহিনি শুনানোর জন্য।
চট্টগ্রামের হালদা নদী। অনেকে হয়ত এই নদীর নাম শুনে থাকবেন। গবেষকদের মতে হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোন জোয়ার-ভাটার নদী থেকে সরাসরি ডিম আহরণের রেকর্ড আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শেখার মজা!
ছোট্টবেলাতে সহজ উপায়ে পড়া মুখস্ত করার কতো যে বুদ্ধি বের করা হতো। সব টিচারই ধরে কেবল ঠোটস্থ করাতেন না পড়া, কেউ কেউ ছিলেন বুঝাতেন, আর যেন সহজে পড়া মনে ধরে তাই কিছু মজার মজার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। কিন্তু সাধারনত প্রাইভেট টিউটর কিবা কোচিং-এর স্যাররাই এমনটা করতেন। স্কুলে থাকতে একেকবার একেকজনা এইসব রকমারি পদ্ধতি হাজির করে বাহবা কুড়াতাম। সরল অঙ্ক, ইতিহাস, গনিত সব বিষয়েরই কিছু না কিছু এমনি সহজ উপায় ছিলো। “বাবার হইলো আবার জ্বর, সারিলো ঔষধে!” লাইনটা থেকে একবারেই ইতিহাসের সম্রাটদের নাম ক্রমানুসারে মনে রাখতে পারতাম। বাবর> হুমায়ূন>আকবর> জাহাঙ্গীর> শাজাহান>ঔরংজেব। পুরো মুঘল সাম্রাজ্যের হোতারা পরপর একলাইনে হাজির!
ছায়াবাজির পুতুল (২)
পরীক্ষা চলাকালীন সময় ভাবসিলাম পরীক্ষাটা শেষ হলে ব্লগে নিয়মিত হবো। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখতিসি অবস্থা উল্টা। তখন যা হোক কমেন্ট না করতে পারি ব্লগে রোজ ঘুরে যাইতাম। এখন আরো সময় পাই না। পুরাই ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলা দশা। কি করে দিন যাচ্ছে তারও কোনো ঠিক নাই।
মৌসুম আপুকে বলছিলাম আমি এখন ফ্রি, কোনো কাজ নাই। যেকোনো দিন ডাকলেই আসতে পারি। কিন্তু সেদিন সবাই আড্ডাইলো আমি আবারো মিস। কিছুই করার ছিল না। আম্মার ডাক্তারের এ্যপয়েন্টমেন্ট ছিল। ডাক্তার দেখানোটা যে কি ঝামেলার কাজ! ডাক্তার বসবেন সন্ধ্যায়, টেস্ট হবে সকালে। কিছু টেস্ট হবে খালি পেটে তো কিছু ভরা পেটে। তার উপর আবার ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হয় অন্তত তিনমাস আগে।
তিনমাস পরে আমার কোনো শারিরীক সমস্যা হবে কিনা তা তিনমাস আগে কেমনে জানা যাবে জানি না। নাকি ডাক্তারের কাছে নাম লেখানোর আগে জ্যোতিষীর কাছ থেকে জেনে নিতে হবে! যাই হোক এটাই এখন নিয়ম।
শোকসভা
সেই মুহূর্তে আমি গিয়েছিলাম আমার শোক সভায়। প্রহরী আর শিকারি এই দুয়ের পার্থক্য বুঝিয়েছিলো আমন্ত্রিতরা। কিছুক্ষণ আগেই নাকি ওরা আমার মৃতদেহে শ্রদ্ধাভরে দিয়ে এসেছে সান্তনার ফুল। সভায় ওরা সবাই আমাকে বোঝালো দেশ, অপেক্ষার পাঁচদিন, সন্ধ্যা, দুই গজ জমিন ইত্যাদি। কে নাকি ব্লেডের এমাথা ও মাথায় রক্ত দেখে বলেছিলো-আহারে, এটা ওর শেষ চিহ্ন। রেখে দিতে হবে উপমা করে কবিতায়। শোকসভায় চলছিলো কাঠঠোকরার আবাদ। অবশেষে খুব পরিচিত এক চিত্রশিল্পী যখন আমার লাশের ছবি এঁকে দেখালেন-আশ্চর্য সেই মুহূর্তে আমার আর কারো কথাই মনে পড়লো না! না স্বজনের, না প্রেমিকার....
(c)MNI, 03.01.12}
বর্ণমালা
‘হাই, গ্র্যান্ড পা । হাউ আর ইউ’( বলে আজাদ সাহেবের একমাত্র নাতী ভেতরে চলে গেল )
আজাদ সাহেব স্থির হয়ে বসে রইলেন আরামদায়ক সোফায়। সময় কত দ্রুত গড়িয়ে যায়। এক সময় তিনি ও যুবক ছিলেন । সেই উম্মাতাল দিনে তিনি ও মুক্তির মিছিলে ছিলেন । যদিও আজ কেউ তাকে চিনে না । কেউ তার খবর রাখে না । নাতির রুম থেকে হিন্দি গানের সুর শুনা যাচ্ছে উচ্চ স্বরে ।“মুন্নি বদনাম…।“
পরিবারের সকলকে তিনি অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছেন । সেই স্বাধীনতার সুযোগে ছেলে , নাতি আজ যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে দেশের রাজনীতি বিদদের মত ।একসময় পাকিস্তানের হায়নাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি , বাঙ্গালী জাতি কে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন তিনি এবং সকল যুদ্ধারা । সেই স্বাধীনতার মানে যদি এমন হত তাহলে কি দেশ স্বাধীন হত ? প্রশ্নটা মাঝে মাঝে মনের গভীরে খোঁচা দেয় আজাদ সাহেবের ।
ঝলমলিয়ায় সনাতন মেলায় - ১
জানা ছিলনা অথবা জেনে থাকলেও ভুলে গেছিলাম সনাতন মেলা জিনিসটা কী। বাগেরহাটের রামপালের ঝলমলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠান এইটুকুন মাথায় রেখেই আমি আর বিমা এক দলের সাথে জুড়ে গেছি। আসলে একদিন হে-লালদাকে বলি সারাদিন আপনার স্যুটিংয়ে থাকতে চাই আপনার একশনের ছবি তোলার জন্য। হেলালদা বলে তাইলে ঝলমলিয়া চলেননা সেইখানে সনাতন মেলা নিয়া একটা ডকুমেন্টারি বানাইতেছি। আমি সাথে সাথে রাজি এবং বিমাও। কাউয়া বাপকে পাহারা দেয়ার জন্য যেতে পারেনা ইচ্ছা থাকা সত্বেও।
ধারণা করছিলাম লালদার সাথে চার পাঁচ জন যাবে। বাসে দেখি ৪৫ জনের দল। ঢোল, টোল ইত্যদি নানা বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বাস চলার শুরু থেকে গান। গান গাওয়া প্রায় বিরামহীন ভাবে গন্তব্যে পৌছানো পর্য্যন্ত চলল। সবথেকে জমেছিল রাতে ফেরিতে পদ্মা পার হওয়ার সময় মাঝনদীতে উদাত্ত গলায় সবার নাচ গান। অন্য যাত্রিরা ভেবেছে বিয়ে বাড়ির দল।
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে
. . . . .
. . . . . .
. . . . . .
. . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . .
. . . .
. . . . . . .
. . . .
১. আছি জনসমুদ্রে ডুবে,
তবু কেউ নেই,
আমি একাকী চলেছি অথবা ভেঙেছি,
টুকরো করেছি,
ধুলোয় মিশিয়ে পথে নামিয়েছি
এই আমিকেই !
২. আমি চেনা অচেনার জটিল ধাঁধায়
ছেড়েছি আবার ধরেছি হাত,
আমি ঝড়ের তুমুল মেঘের কান্না
শুষে নিলাম এ দুই চোখে ।
আমি চিনেছি রাতি, চিনেছি সকাল,
চিনিনাই তবু একটাও হাত ।
আমি , আজো খুঁজি ফিরে শূণ্য হাতে
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে !!
জেন যেভাবে জেন হয়ে উঠে...
......................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................