ইউজার লগইন
ব্লগ
ভোরের শিশির কণা
রঞ্জুর বাসা থেকে বাস স্ট্যান্ডের দূরত্ব খুব বেশী নয়, এটুকু পথ পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। ঘড়ির কাঁটা ধরে রোজ সকালে একই পথ ধরে ওর যাওয়া আসা। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তাটি বেশ কয়েকটি বাঁক নিয়ে বড় রাস্তায় পড়েছে, তারপর পাঁচ মিনিট হাটলেই বাসস্ট্যান্ড!
আজ একটু দেরী হয়ে যাওয়ায় খুব তাড়া ছিল রঞ্জুর। বাসা থেকে বেড়িয়ে গলির দ্বিতীয় বাঁকটির শেষ মাথায় নুরুল ডাক্তারের বাড়ি পার হয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে, হঠাৎ লম্বা বেণী দুলিয়ে উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণা এক উচ্ছলা ষোড়শী ডাক্তার বাড়ির ডান দিকের গলি থেকে দমকা হাওয়ার মত এসে রঞ্জুর সামনে উদয় হল। মেয়েটি ভাঁজ করা একটি কাগজ রঞ্জুর হাতের মুঠোয় ধরিয়ে দিয়ে ঝড়ের বেগে দৌড়ে পালাল যেদিক দিয়ে এসেছিল ঠিক সেভাবে উল্টা দিকে। ঘটনার আকস্বিকতায় রঞ্জু তো অবাক! কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে না পেরে বেশ কিছুক্ষণ হতবিহ্ববল হয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকার পর চারিদিকে তাকিয়ে আশেপাশে কেউ নেই দেখে স্বস্তি বোধ করলো। পরে পড়বে ভেবে কাগজটি প্যান্টের পকেটে ভরে হাঁটতে লাগলো বাসস্ট্যান্ডের দিকে।
শিরোনামহীন
মাঝে মাঝে মনে হয় কেন জন্ম নিলাম এই পৃথিবীতে, জীবনে তো কিছুই অর্জন করতে পারলামনা। খুব হতাশ হয়ে যাই মাঝে মাঝে, জীবন চলার পথে প্রতি বাঁকে বাঁকে এত ঝড়-ঝঞ্চা পার হয়ে আর সামনে এগুবার পথ খুঁজে না পেয়ে যখন খুব অসহায় মনে হয় নিজেকে, তখন ভাবি আমার মত অকর্মণ্য, ব্যর্থ একজন মানুষের দুনিয়াতে জন্মগ্রহণ না করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত?জন্ম,মৃত্যু সব সৃষ্টিকর্তার হাতে – কথাটি সত্যি হলেও মাঝে মাঝে ভাবি ব্যর্থ এই জীবনে যত দিন যাচ্ছে, ততই একটা মাকাল ফলে পরিণত হচ্ছি।
৫ ব্যাগ A+ রক্ত প্রয়োজন (অন্তত একদিন বাঁচিয়ে রাখি তাকে)
আমার বন্ধু, কাছের দূরের, পরিচিত, অপরিচিত সবাইকে বলছি, রাজশাহী কলেজের ২১ বছর বয়েসী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমত আরা সরকার (ডাকনাম রিংকী)-এর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ায় তাকে রোজ ৫ ব্যাগ A+রক্ত দিতে হচ্ছে। ঢাকার গ্রীণ ভিউ ক্লিনিকে ৩০৭ নম্বর কেবিনে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। (হাসপাতালের ঠিকানাঃ ২৫/৩ গ্রীণরোড, ঢাকা)।
আজকের (১৫ই জুন,২০১২) ৫ ব্যাগ রক্ত যোগাড় করা গেছে। আগামীকাল কি হবে জানি না। আপনাদের পরিচিত কারো বা আপনার রক্তের গ্রুপ A+ হলে রক্ত দিয়ে আসুন উপরে লেখা ঠিকানায়। অর্থ দিয়ে এগিয়ে আসতে চাইলে, উপরে লেখা ঠিকানায় সরাসরি গিয়ে মেয়ের ভাই বা মায়ের হাতে টাকা দিয়ে আসতে পারেন। (সংগত কারণে বাবার হাতে টাকা দিতে নিষেধ করা হচ্ছে) অথবা ডাচ বাংলা ব্যাংকের যে কোন শাখায় টাকা পাঠাতে পারেন। Account name: Md. Helauzzaman Sarkar , Account number 135.101.15313
অথবা ০১৮৩৯৪৯১৪৫৩ নম্বরে অন্তত ১০ টাকা ফেক্সিলোড করে দিতে পারেন।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরী কাজ হচ্ছে রক্ত দেওয়ার মানুষ খুজে বের করা।
ব্লগর ব্লগর।
সকাল প্রায় সাড়ে ছটা বেজে গেল। এখনও মোটামোটি বিনা কারনেই কম্পিউটার স্ক্রীন সামনে নিয়ে জেগে বসে আছি। আজকে শনিবার। সকাল সকাল উঠার তাড়া নেই। তাই বেশী দেরী হয়ে গেল ঘুমাতে ঘুমাতে। এমনিতেও গত কসপ্তাহ ধরে সকাল ৫টার আগে ঘুমাতে পারছি না। এমন না যে আমি খুব তাড়াতাড়ি ঘুমাই। বরং রাত বারোটা আমার সন্ধা রাত একেবারে পিচ্চিকাল থেকে। কিন্তু ইদানিং জেগে থাকার সময়টা বাড়তে বাড়তে তিনটা থেকে পাচটায় চলে গেছে। গত বছরের শেষে বাড়তি কিছু টাকার লোভে প্রায় ছমাস সপ্তাহে দুরাত করে একটা রিটেইল ষ্টোরে কামলা দিতে গিয়ে এই অবস্থা। এখন সেটি আর করছি না, তবুও সকাল পাচটা বাজানোর অভ্যাসটা যাচ্ছে না আর। ভাবছি টোপাজ (যে স্টোরে কামলা দিয়েছিলাম) এর বিরুদ্ধে দুইতিন মিলিয়ন ডলার এর ক্ষতিপুরন মামলা করে দেব আমার ঘুমের বারোটা বাজানোর জন্যে।
আষাঢ়ে গপ্পোঃ অর্থ বিভ্রাট
এবার রাজশাহীতে যেয়ে দেখি আমার তিন বছর বয়সি ভাগ্নি আলোকিতা তেমন বাংলাই বলছে না… বলছে অনর্গল হিন্দি… মাত কর… মাঝে মাঝে এসে আমাকে ধমক দিচ্ছে খামোশ! টিভিতে ননস্টপ হিন্দি কার্টুন দেখার সুফল(?)। কী সাংঘাতিক অবস্থা!
আষাঢ় মাসে আষাঢ়ে গপ্পো করি আসেন সবাই মিলে
[ আষাঢ় মাসে আসেন আষাঢ়ে গপ্পো করি। গল্প টা শুরু করলাম আমি , এরপর মনের মাধুরী মিশায়ে বাকীটুকু যোগ করে ফেলেন ঝটপট]
আমরাবন্ধু থেকে পিকনিকে যাওয়া হবে। এবারের পিকনিক স্পট ঠিক করা হয়েছে এভারেস্টের চূড়া। একটা বড় প্লেনে করে সব্বাইকে নিয়ে যাওয়া হবে এমনটাই ঠিক করা হয়েছে। প্লেন ভাড়া করার দায়িত্ব পড়েছে মীর এর উপর। মীর তো প্লেন ভাড়া করতে গিয়ে বিশাল নাজেহাল অবস্থা।
একদিকে এমিরেটস ডাকে অন্যদিকে গালফ টেনে ধরে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স মীরের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে তাদের প্লেন দেখায়া বলে - ''এইডা ভাড়া লন ছার। নতুন প্লেন, একদম ফ্রেশ। ধোলাইখাল থেকে নাট বল্টু টাইট করায়া আনছি''
এসব টানাটানি , ধাক্কাধাক্কি থেকে কোনমতে গালফ এয়ারলাইন্সের একটা বোয়িং ভাড়া করে মীর বাসায় পৌঁছে।
প্রকাশিত হলো বর্ষার ই-বুক বৃষ্টির দিনে

প্রকাশিত হলো প্রতীতি প্রকাশনীর তৃতীয় ই-বুক ‘বৃষ্টির দিনে।
প্রতীতি প্রথম দু’টি ই-বুক ছিল চলচ্চিত্র বিষয়ক। এবারে ই-বুকটি করা হলো বর্ষা নিয়ে। খুব বেশি কিছু বলে পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাবো না। সংক্ষেপে যা বলার তাই বলে সম্পাদকীয়টা সংক্ষেপেই শেষ করবো।
ই-বুকের পাতার অঙ্গসজ্জায় গতানুগতিক ডিজাইনের বাইরে এসে কিছুটা ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি আমরা। সাধারণ নিয়ম-কাঠামোর বাইরে এ ধরণের এক্সিপেরেন্ট করার ইচ্ছেটা অনেকদিন ধরেই মনের মধ্য ছিল। কিন্তু চেনা পথের বাইরে পা বাড়ানোর ঝুঁকি নিতে কিছুটা সঙ্কোচবোধ কাজ করছিল। বর্ষার সাথে ভাসিয়ে দেওয়ার কেমন জানি একটা সম্বন্ধ আছে। বর্ষার ই-বুক করতে গিয়ে মনে হলো সঙ্কোচবোধটাকে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো এরকম উপযুক্ত উপলক্ষ আর হয় না।
আবোল তাবোল - ১২
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা,
ব্যাস- তারপরেই বর্ষা!
ভাবতেই, মন ভাল হয়ে যাইতাছে।
বাংলা দিনপঞ্জি অনুসারে কাল সকালে, ভোরের সুয্যিমামার রাতের ঘুম ভাঙতেই আষাঢ়, পুরো এক মাস। তারপরেই আবার শ্রাবণ। কি মজা! দুই দুইটা মাস আমাদের বর্ষাকাল।
সারাবছরই তো একটু আধটু বৃষ্টি হয়। কিন্তু পুরো দুই দুইটা মাস জুড়ে কথা নাই বার্তা নাই ঝুম বৃষ্টি, এর কোন তুলনা আছে নাকি?!
দুর্জনে অনেক কথা বলে, এত কথা শুনতে গেলে রাত শেষ হইয়া যাইবো!
তা, বর্ষাকালের বহুত দুষ আছে মানি!
আমাদের রোবটিক জীবনযাপনে অনেক ঝামেলায় ফেলে দেয় হুট করেই!
তাই বইলা বৃষ্টিরে দুষ দেওয়াটা কি ঠিক হইব?!
আমাদের কি দোষ গুন কম আছে?! বৃষ্টি বইলা কি সে মানুষ না?! হুহু!!
কথা হইলো কথা সেইটা না।
বর্ষা আইলেই বৃষ্টি আইব এইটা তো সবাই জানে!
তা, নাম শুনলেই তো আন্দাজ করা যায় তার মধ্যে মেয়ে মেয়ে ভাব বেশ ভালই থাকব!
তা একটা মেয়ে টাইপ কেউ সারা বছর অপেক্ষার পর আমাদের সাথে দেখা করতে আসতেছে, তারে নিশ্চয়ই কিছু ভাল ভাল কথা বইলা একটু আদর যত্ন করা উচিৎ! নাকি?!
একবার যদি গোস্বা কইরা বসে, কি একটা অবস্থা হইব ভাবা যায়?!
গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)
আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।
উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?
-সমস্যা কোনো জায়গায় না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আর যা কিছু সমস্যা আমার আছে- সেইগুলা আজো খুঁজে পাই নাই। এই দুইটা গোলমালের কারণে নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে রে।
ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?
স্বাস্হ্য বিষয়ক টিপস
কুকুর বা অন্য জন্তুর কামড়ের পর করণীয়
১। প্রচুর পানি ও ক্ষার যুক্ত সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি ধুয়ে ফেলুন।
২। অ্যান্টিসেপকি বা পভিডন/হাইড্রোজেন পার আয়োডিন লাগিয়ে দিন।
৩। ক্ষতস্থানটি ঢাকবেন না।
৪। ক্ষতস্থানে হলুদ গুড়া, বাম, পিতলের থালা, চুন, ভেষজ, ঝাল ইত্যাদি কিছুই লাগাবেন না এবং করা পড়া খাওয়াবেন না। কারণ তাতে কোন ও লাভ হয় না বরং ক্ষতস্থানের আর ক্ষতি হয়।
৫। ক্ষতস্থানে যাকা লাগাবেন না বা পোড়াবেন না।
৬। মাদুলি অথবা জাদুটোনায় ভরসা করবেন না।
৭। যতদ্রুত সম্ভব রোগীকে ডাক্তার, ক্লিনিক বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।
উচ্চ রক্তচাপ কি?
রক্তনালীর মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় রক্তনালীর গায়ে রক্ত যে প্রয়োগ করে সেটাকেই রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ মাপার সময় আমরা দুধরণের রক্তচাপ পেয়ে থাকি- সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ। কারো রক্তচাপ বয়স এবং পুরুষ/মহিলা ভেদে সার্বাজনীনভাবে স্বীকৃত স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে তখন উক্ত রোগী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।
পুড়ে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা
পুড়ে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা:
আমার যত সব বদমায়েসি।
তখন আমি ক্লাস থ্রি তে কি ফোরে পড়ি আমার বড় মামা আমাদের বাড়ী বেড়াতে এসেছেন। মামা কোনো একটা কিছু বলে আমাকে রাগাতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি মামাকে সায়েস্তা করার জন্য হাতে শুকনো মরিচ ভেঙ্গে নিয়ে যাই মামার চোখে ডলে দেয়ার জন্য। কিন্তু কখন যে আমি চোখ চুলকানোর জন্য চোখে হাত দিয়েছি আমি নিজেও জানি না। এবং য়থারিতী যা হবার তাই হলো। মামার বদলে আমার চোখ জ্বলতে শুরু করলো। পরে আমি ঘুমানোর আগ মামা আমাকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। বার বার চোখে ঠান্ডা পানি দিতে থাকেন।
এর বছর খানিক পরের ঘটনা। নানা আমাদের বাসায় আসেন ডাক্তার দেখাতে। তো পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর নানার হার্টের প্রবলেম ধরা পড়ে। ডাক্তার নানাকে সিগারেট খাইতে মানা করেন। নানা বাসায় এসে বলে ডক্তার ব্যাটা কি যানে। ওই ব্যাটা নিজেই সিগারেট খায় আর আমারে মানা করে। তো নানা তার ধূম্র সলাকাপান চালিয়ে যেতে থাকেন। আমি একদিন নানার একটা সিগারেটের ভিতরে কিছুটা গুড়া মরিচ ঢুকিয়ে দেই। নানা ওই সিগারেট টা টানতে গিয়ে মরিচ বিপত্তিতে পড়েন। তবে এই কাজটা করার পরে নানা কিছুদিন সিগারেট খাওয়া বাদ দেন।
ভালো কাজে বাড়াবাড়ি ভালো নয়
১.
আমরা মাটির মানুষ। প্রকৃত ও রূপক, দুই অর্থেই কথাটি সত্য। মাটির পৃথিবীতে, মাটি থেকে আমাদের জন্ম, শেষ শয্যাও মাটিতেই। অনন্ত মহাকালের একটি বিন্দুতে বিজলির মতো আমাদের জীবন, ক্ষণিক। বাঁশি বাজলেই খেলা শেষ। এ সকলেই জানি। কিন্তু মনে রাখি না। মনে রাখি না বলেই অন্যকে ধাক্কা দিই। ধাক্কা দিয়ে কাউকে খাদে ফেলে দিতে পারলে ভাবি, জয়ী হলাম। ভুল। বাইরে এ জয়টা যখন পাই, তখন দেখি না যে আমাদের ভেতরের মানুষটা কী লজ্জাজনকভাবে হেরে গেলো। মানুষ দেহে প্রাণী, হৃদয়ে মানুষ। সেই হৃদয়ে আঘাত করলে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে।
হৃদয়-মন সবারই আছে। কিন্তু সব মানুষ হৃদয়বান ও মননশীল নয়। কারণ হৃদয় থাকলেই হৃদয়বান এবং মন থাকলেই মননশীল হওয়া যায় না। হৃদয়বান হতে চাই বিকশিত হৃদয় আর মননশীল মানুষ হতে লাগে জাগ্রত মন। আত্মার জাগৃতি ও মননশীলতার উদ্বোধনের ফলে সাধারণ মানুষ পরিণত হন মহত্তম মানুষে। এ বিকাশ ও জাগৃতি, নানা কারণে, সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে ঘটে না। এতে পরিমাণগত তারতম্য যেমন আছে, তেমনি আছে বিষয়গত বৈচিত্র। এ সবকিছু, সমস্ত ঊনতা-পূর্ণতা-তারতম্য-বৈচিত্র সমন্বিত হয়েই গড়ে উঠেছে মানুষের সমাজ।
বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা ও আমরা
রোহিঙ্গা সমস্যা এখনকার নয়। বাংলাদেশ জন্মের আগে এমন কি ভারতের জন্মের আগে থেকে এই সমস্যা।তারা কোন্দেশের নাগরিক নয়। তারা বাস করে মিয়ানমারের ভুখন্ডে। তাদের ভাষ্যে তারা হাজার বছরে ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছে। তাদের ইতিহাস হাজার বছরের পুরানোতাই সঙ্গত কারনে বাংলাদেশ সরকার তাদের জাতীয়তা দেওয়ার বা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে স্বীকার কোন প্রশ্নই আসেনা।
আমার প্রয়াত বন্ধু - লেলিন.
মানুষটা রোনালদো বা মেসি নয় - কিন্তু তাদের চেয়ে কোনো অংশে সে কম ও নয়- প্রথমোক্ত দুজন খ্যাতির সুযোগ আর প্রেক্ষাপট হিসেবে পুরো পৃথিবীটাকে পেয়েছে - আর তৃতীয়জন পেয়েছে ক্ষুদ্র একটি দেশের স্থানীয় কিছু মাঠ - তবু আমাদের সাদা চোখে - হৃদয়ের বন্ধুর প্রজেকশন স্ক্রিনে ওই তৃতীয় মানুষটি ও বিশেষ কেউ - আমাদের প্রিয় মুখ লেলিন - আমাদের ম্যারাডোনা .
লেলিনের পায়ের জাদু - ফুটবল মাঠে বহুবার দেখেছি - মুগ্ধ হয়েছি - কিন্তু সত্যিকার অর্থেই জানি - এটা তার মূল পরিচয় নয়.
আজ একটি শবযাত্রা চলেছে - কফিনে আবদ্ধ এক যুবার প্রাণহীন দেহ মাটির অতলে আশ্রয় নিতে ব্যাকুল - এই যাত্রায় আমি নেই - থাকতে চাই ও না - এই যুবাকে আমি চিনি না - এই যুবা আমার বন্ধু লেলিন নয়.
লেলিন তো অন্য কেউ - সেতো 'দুষ্টুর শিরোমনি' - এক মুহূর্ত যে থিতু নয় - এই প্রাণহীন অলস দেহখানি বন্ধু লেলিনের নয়. তার ছিল সিংহের হৃদয় - ছিল জীবনকে চেটেপুটে উপভোগ করার সীমাহীন বাসনা - ছিল প্রশস্ত বুক - শত আঘাতেও ছিল অবিচল - এই দুর্বল দেহখানি তার নয়. আমাদের লেলিন তো ছিল বন্ধু অন্তপ্রাণ - কিন্তু আজ শত আহবানেও সে যে দেয় না সাড়া - কি করে বিশ্বাস করি এই আমাদের লেলিন ?
অনিমেষ রহমানের বেহেস্তী বয়ানঃ ০২-মাগরেবী কায়েদে বিড়ি বাবা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

-তোমার নাম?
-মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
-বাবার নাম?
-জিন্নাভাই পুঞ্জা।
-দেশ?
-পাকিস্তান।
-পাকিস্তান কোথায়? ইয়ে তোমার জন্ম তো দেখি ভারতে!
-পরে আমি হেইডারে পাকিস্তান বানাইছিলাম।
-পাকিস্তান কুতায়? যা বেটা লাইনে দাঁড়া-তুর পাকিস্তান আমাগো লিষ্টে নাইক্কা। যা ওয়াল ধইরা খাড়া।
-বেয়াদবী করলে সমস্যা হইবে-ম্যা পাকিস্তানী মুসলিম ওয়াতানের নেতা।
-তুমি ম্যা ম্যা করো ক্যালা? তুমি কি ছাগু? এখানে সব মুর্দা; মুসলিম-টুস্লিম সব দুনিয়াতে-এইডা হইলো গিয়া আখেরাতি এরিয়া। এইখানে তুমার কুনু রাজনীতি চলবেনা।
-এইখানে কিতা চলবে?
-এই চুপ চাপ খাড়াইয়া থাক-কথা কম। যমরাজ রাঙ্গা চোখে কইলো।
-ইয়ে একটা বিড়ি হইবে?
-শালা গাজাড়ি তুমার রিপোর্ট কইতাছে-তুমি ব্যাটা মরছো বিড়ি খাইয়া যক্ষা লাগাইয়া। যাও তুমারে গুলুবুদ্দিন হেকমতিয়ারের কাছে মানে আফগানিস্তানের গ্রুপে দিয়ে দেই-হেরা নাকি পপি নামের গাছ দিয়া কি বানায়-যাও দূরে যাও। হেগো কাছে যাও। তুমার শরীর থেইক্কা এখুনু ‘পিস্তল বিড়ি’র গন্ধ বাইর হইতাছে।