ইউজার লগইন
ব্লগ
পাহাড় আর নদীর গল্প
ছোট্ট একটি গল্প শোনাবো আজ, নদী আর সবুজ পাহাড়ের গল্প।
এই পাহাড়ের বুক চিঁড়ে , কতকাল ধরে ধেয়ে চলেছে
খরস্রোতা দুরন্ত এক নদী।
নদী আর পাহাড়ে কতো দিনের সখ্য
দুটিতে কত ভাব, কী গভীর বন্ধুত্ব।
তবুও জানো পাহাড়টা পারলো না, পারলো না নদীকে ধরে রাখতে।
আর পারবেই বা কিভাবে বলো?
নদীর যে ধর্মই ছুটে চলা।
গ্রাম থেকে শহরে, দেশ দেশান্তরে;
কালের স্রোতে সে গিয়ে পড়ল সাগরে।
শত তপস্যার বৃষ্টি যখন ঝরে, তপ্ত ধু ধু মরুপ্রান্তরে,
সে সুখ, সে তৃপ্তি শুধু মরুভুমিই জানে।
বাঁধ ভাঙ্গা নদীকে তাই আজ আর কে পায়!
সে কি আর বারণ মানে?
যারে পাবার আশায় এতকাল বয়ে চলেছে,
পাহাড়কেও ফেলে আসেছে দূর বহু দূরে।
পাহাড়ের আজ বড্ড মন খারাপ।
আজ নাকি নদীর বিয়ে, সাগরের সাথে।
পাহাড়ের চোখের জল যে নদী হয়েই বয়ে চলে, নদীতেই মিশে একাকার হয়।
তাই পাহাড়ের কান্না প্রকৃতি দেখতে পায় না।
মনের গভীরে, স্মৃতির কোন গহীন কুঠরিতে আজও যে নদী বেঁচে আছে,
বেঁচে আছে সেই আদিম ভালবাসা, তার হদিশ কে রাখে?
পাহাড়ের কী বা ক্ষমতা যে মহাকালের লেখা রীতি সে বদলাবে?
নদীকে যে সাগর পানেই ছুটে যেতে হবে,
নদী কখনো উল্টো দিকে বহমান নয়,
সেই পরিণতির অপেক্ষায়
সিগারেটের প্যাকেটে লিখে রেখেছে- ধূমপান হৃদরোগের কারণ। সাদা জমিনে কালো কালিতে বড় বড় হরফে কথাটা লিখে রাখা হয়েছে। আমি বুঝি না, যারা হৃদরোগ নিয়ে এত চিন্তিত; তারা ধূম্রশলাকা উৎপাদন করে কেন? পৃথিবীতে তামাশা ছাড়া আর কিছু হয় না নাকি?
সবসময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করে অভ্যস্ত বলেই হয়তো যানবাহনমুক্ত রাস্তায় আজকাল আতঙ্ক অনুভব করি। মনে হয় রাস্তাটা নিরিবিলিতে আমাকে পেলেই গিলে ফেলবে। আগে একবার আশপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাবে। যদি দেখে ধারেকাছে কেউ নেই, তাহলেই সাথে সাথে কোনো একটা অদৃশ্য মুখগহ্বর দৃশ্যমান হয়ে আমাকে উদরস্থ করে ফেলবে। পৃথিবীর কেউ জানবে না সেই ঘটনাটা।
বিলীন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে কখনোই আক্রান্ত হই নি। জানি খুব দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার নিমিত্তেই আবির্ভূত হতে হয়েছিলো আমাকে। তারপরও মাঝে মাঝে হিম নামের মেয়েটির কথা ভেবে খারাপ লাগে। আমি যখন থাকবো না তখনও হিম বার বার ফিরে আসবে। মানুষ ঝরাপাতা আর শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালবে। সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসবে এবং হাসাহাসি করবে। আমি আশপাশেই থাকবো কিন্তু প্রচ্ছন্নতার আবরণ ভেদ করে দৃশ্যমান হতে পারবো না।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ২য় পর্ব
ঘোড়ায় চেপে যতদুর যাওয়া যায়, খ্রীষ্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী শাসকেরা ততটুকু ভূখন্ডই দখল করে ফেলেছিলেন এমন কি সমুদ্র অভিযান চাপিয়ে তারা স্পেনও দখল করে নেন। দখলকৃত ভূখন্ডগুলোর ভেতরে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যধারী ইরাক এবং ইরান। রোমান সম্রাজ্যের অধীনস্ত সিরিয়া, মিশর, প্যালেস্টাইন, মরোক্কোর মতো দেশগুলোও ছিলো। নববিজিত রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখলে সমর্থ হলেও এই বিপূল সম্রাজ্যের সবাইকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করানোর সামর্থ্য কিংবা উদ্যোগ মুসলিম শাসকদের ছিলো না। আসমানী কেতাবধারী নাগরিকদের সাথে সাথে বিজিত দেশে মুর্তি ও অগ্নিপূজারী নাগরিকদের অস্তিত্বও মেনে নিতে হয়েছে মুসলিম শাসকদের। ধর্মের ভিত্তিতে শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ এই প্রশ্নে ইসলামী চিন্তাবিদদের ভেতরে মতপার্থক্য এমন কি বৈরিতাও ছিলো। এমন মত পার্থক্য শাস্ত্রনিষ্ট বিতর্ক থেকে অস্ত্রনির্ভর সংঘাতে সমাপ্ত হয়েছে।
একাত্তরের বিদেশী বন্ধুগণঃ আমাদের দুঃসময়ের সূর্যসারথি (পর্ব-১৫)
মার্শাল জোসিপ ব্রজ টিটো, সাবেক যুগোস্লাভিয়া

সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব মার্শাল জোসিপ ব্রজ টিটো ১৮৯২ সালের ৭ মে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একাধারে তিনি যুগোস্লাভিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৪৫ থেকে মৃত্যু-পূর্ব পর্যন্ত দুর্দণ্ড প্রতাপে দেশ পরিচালনা করেন। কমিউনিস্ট নামীয় রাজনৈতিক দলের তিনি সদস্য ছিলেন। তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বলয়ে অবস্থান করে যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র গঠন করা। পরবর্তীতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। যুগোস্লাভিয়ার বিবাদমান বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীকে একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর এক দশকের মধ্যে তা গৃহযুদ্ধের রূপান্তরিত হয়ে দেশটি ভেঙ্গে যায়।
আমাদের হেলাফেলায় তোমার ছেলেবেলা
আগেই বলেছি আমার ছোটবেলা- বড়বেলার একাংশ পর্যন্ত কেটেছে অসম্ভব অভাবি অবস্থায়। একারণেই চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অনেক বৈষম্য এখনও ছবির মতো দৃশ্যমান। গরীব হওয়ার - সুযোগের অভাব থাকার কারণে আত্মীয় স্বজনের কাছে নিগৃহীত হওয়া - একদমই গা-সওয়া ব্যাপার একদম। কিন্তু কখনোই কেন যেন অন্য বাচ্চাদের মাঝে কোন বৈষম্য মনোভাব গড়ে উঠছে দেখলে সহ্য হয় না। মনে হয়- বাবা মকে ডেকে বলি - শিশুদের শিশু হয়েই শিশুকাল পর করতে দিন। এক্ষেত্রে অবধারিত কথা- আপনার বাচ্চা কয়টা। উত্তর- একটাও না। কিন্তু শিশুর মনোবিকাশে সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে নিজের বাচ্চা নয়- কমন সেন্স এবং একটু সচেতনতা প্রয়োজন। আজও আমি আমার পরিবার এককালে ”গরীব” হওয়ার কারণে যা সহ্য করেছে -করছে তা অন্য কোন শিশু করুক এটা একজন সংবেদনশীল মানুষ চাইতে পারে না। কারণ আপনিও জানেন না- আপনার ছুড়ে ফেলা একজন কোমলমতি শিশু যেকোন দিন কঠোর হাতে চেপে ধরতে পারে আপনার ঘাড় ।
অবরুদ্ধ নগরের ছাপোষা দিনলিপি!
অবস্থা বিশেষ সুবিধার না, কিছুই ভালো লাগে না এই থমথমে অবরোধের দেশে। সব কিছুই বোরিং লাগে, আর আনন্দময় সময় যাদের সাথে আগে উদযাপন করা হতো তারাও নাই। আগে কথায় কথায় বাইরে খেতাম ঘুরতাম তাও এখন বন্ধ। বাইরে খেতে গেলেই মেজাজ খারাপ লাগে। মুখে রুচি নাই। আর কোথাও যেতেও ভালো লাগে না। ক্রমশো একা হয়ে পড়ছি কেমন জানি। তা টের পাই বেশী দিনের বেলায়। নিজের ভালো একটা অভ্যাস ছিল ভোরে উঠার তা তো হারালাম, নয়টা দশটায় উঠি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে। সপ্তাহে সাতদিনের ভেতরে তিনদিনই আমার এরকম খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে। ভাগ্যিস স্বপ্ন সত্যি হয় না হলে কি যে এক দুর্বিষহ জীবন হতো তা ভাবি। কতো দোয়া কালাম পড়ে ঘুমাই, কাজ হয় না কিছুতেই। আম্মুকে যদিও বলা হয় না, বললেই বলবে নামায ঠিক মতো পড়। কিন্তু নামায পড়িলেই সব সমস্যার সমাধান নাই। স্বপ্ন সম্পর্কিত আমার জটিলতা অবশ্য নতুন না, আগেও হয়েছে। কিন্তু মেজাজ খারাপ কমাতে পারে নাই এই অভ্যস্ততায়!
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ১ম পর্ব
চার ধারায় বিভক্ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশের এক চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশে সরকার স্বীকৃত আলীয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং রয়েছে ক্বাওমী মাদ্রাসা ব্যবস্থা। এ দুই ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা প্রতি ছাত্র সংখ্যার ব্যবধান থাকলেও মোটা দাগে বলা যায় ক্বাওমী মাদ্রাসা এবং আলীয়া মাদ্রাসায় মোটামুটি সমান সংখ্যাক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। যেহেতু ক্বাওমী মাদ্রাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি নেই, সুতরাং আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আট ভাগের একভাগ নিজেকে শিক্ষিত মনে করলেও এদের শিক্ষার কোনো স্বীকৃতি নেই। এরা শিক্ষিত বেকার এমনও বলা যাবে না কারণ এদের সরকারী কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনের যোগ্যতা নেই।
বিশ্বাস করা কঠিন সম্রাট আকবরের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে, সকল ধর্মের সকল শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা উন্মুক্ত করে দেওয়ার সাথে সাথে মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন গৃহীত হয়। ফলে সংস্কৃত, ফার্সী এবং আরবী ভাষা শিক্ষার সাথে সাথে মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিটি শিক্ষার্থীই সংস্কৃত কাব্যের রস আস্বাদন করতে শিখতো।
ভাল লাগা ভাবনারা- ৫
সবুজ সাবমেরিন- হুমায়ুন আজাদ
আমার কবিতা, তোমার জন্য লেখা, ধাতব লাল
নগ্ন, এবং নিদ্রাহীন
সামনে এগোয়, পাথর ভেঙে আর তুষার ঠেলে
দূরপাল্লার সাবমেরিন;
কেউ ব’সে আছে ভেতরে মগ্নলোকে, চোখের মণি
স্বপ্ন খাচ্ছে ভীষণ নীল,
গোপন কবিতা তোমার বক্ষে ওঠে- উত্তেজিত,
বিবস্ত্র, আর অশ্লীল!
মাতাল কবিতা তোমার ওষ্ঠে ত্বকে ছড়ানো চুলে
তীক্ষ্ণ স্তনে বসায় দাঁত,
কেঁপে ওঠে দূর গোপন বস্তুরাশি, মাংসে নাচে
অক্টোবরের তৃতীয় রাত,
তাপে গলে তামা লোহা ও রৌপ্য সোনা, জমছে দ্যাখো
সঙ্গীত-ঢালা এক দ্বিনাট্য,
আমার কবিতা, তোমার জন্য লেখা, যতিবিহীন
অভদ্র, আর অপাঠ্য!
সমকালচ্যুত, অশীল স্বপ্নে গাঁথা, কবিতা সেই
জীবনের চেয়ে অবাস্তব
কামনায় কাঁপে, কঠিন অঙ্গে তার খচিত রাত
ওষ্ঠে বিদ্ধ অসম্ভব;
মাতাল মনিষী ব্যাপক বক্ষে ক্ষুধা, শরীর তার
ব্রোঞ্জের মতো বস্ত্রহীন,
অজর কবিতা তোমার মাংসে ঢোকে তুষার ঠেলে
সবুজ রঙের সাবমেরিন!
পাপ- হুমায়ুন আজাদ
হ'তে যদি তুমি সুন্দরবনে মৃগী
অথবা হংসী শৈবাল হ্রদে বুনো,
মাতিয়ে শোভায় রূপভারাতুর দিঘি
হ'তে যদি তুমি তারাপরা রুই কোনো
কথার কথা!
‘প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না আমি’
বললেন দেশের রাজা
আঁকড়ে রাখা পদটি ছাড়া
এতোই কি সোজা!
মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রী
করলেন পদত্যাগ
দিন কয়েক কাটলো বটে
ফের হলো টার্ন ব্যাক।
প্রজা ছাড়া রাজ্য তার
গঠন হলো সারা
আবুল কামরুল আছে
নেই তো সাহারা।
নতুন গড়া সরকারে
মঞ্জু উপদেষ্টা
দল ছেড়ে সর্বদল
মিটিয়েছে তেষ্টা।
স্বৈরাচারের আত্মা তার
বললেন জনগণ
সরকার থেকে সরে এসে
করলো জয় কার মন।
আজ আছি কাল নেই
এইতো তার খেলা
ঝাড়ু-জুতা মিছিল করে
এরশাদেরই জেলা।
মিলিটারির পোশাকটি
বড় এক অর্জন
মাঝপথে এসে দেয়
বিশাল এ গর্জন।
০৭.১২.২০১৩
প্রিয় পাহাড়টার উপর থেকে যখন কাউকে শূন্যে ভাসিয়ে দেবো
মানুষ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে এবং তাদের আচরণে সেটা ফুটতে থাকে। পুরোপুরি বদল না ঘটা পর্যন্ত অবশ্য সেটা বোঝা যায় না। যখন কোনো একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে একজনের আমূল পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবলে বোঝা যায়; পরিবর্তন শুরু হয়েছিলো আরও আগে থেকেই।
স্টিভ জবস্ বলে গেছেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জীবনের জরুরি বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া যায় না। আমরা সবসময় সেই ভুলটাই করি। একেকটা পরিবর্তনের চিহ্ন দেখি আর মনে করি বিষয়টা কিছু না। ভবিষ্যতে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে তা হয় না। অতীত থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকে। জরুরি কিন্তু অদৃশ্য বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া সম্ভব কেবলমাত্র অতীতের দিকে তাকিয়েই।
সময়ের কাছে আছে জগতের প্রায় সব সমস্যারই সমাধান। তাই বিষয়গুলো সবসময় খানিকটা সময়ের দাবিদার। আমরা সেটা বুঝতে চেষ্টা করি না। অস্থির সময়ের দাবি মেনে নিয়ে নিজের ভেতর অস্থিরতাকে ঠাঁই দিই। অথচ বিশ্বাস করতে চাই না, জীবনে আবার হয়তো কখনো স্থিরতা আসবে। মানুষ আসলে প্রাণী হিসেবে যতটা উন্নত, ঠিক ততটাই অদ্ভুত। সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যারা নিজেদের উন্নতির জন্য ডেসপারেট এবং অবনতির জন্যও।
বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়া
বুয়েট থেকে পাস করে বেরিয়েছি আজ প্রায় ছয় বছর। তবুও কোন এক অজ্ঞাত কারণে বারবার ফিরে যেতে ইচ্ছা করে ফেলে আসা সেই সব দিনগুলোতে। ক্লাশ আর সেশনাল এর রোলার কোস্টারে চেপে কেটেছে কতো অগনিত দিন রাত্রি। শত যন্ত্র আর যন্ত্রণার ভিড়েও সেই সময়টাকে আমরা রাঙিয়ে নিয়েছিলাম নিজেদের রঙ তুলি দিয়ে।
কারণে অকারণে অটো নেয়া, এক ক্লাসে বসে অন্য subject এর assignment করা, কতো আবোলতাবোল চিরকুট আদান-প্রদান করা। এখনো মনে পড়ে মেকানিক্স ম্যাডাম এর ক্লাস কারো ভালো লাগত না। ম্যাডাম black board এর দিকে ঘুরলেই সবাই চক, কাগজ - যার হাতে যা আছে তাই ছোঁড়া শুরু করতো। ম্যাডাম ফিরে তাকানো মাত্রই সব শান্ত। যেন ভাঁজা মাছটিও কেউ উল্টে খেতে জানে না।
ধূসর গোধূলিঃ বিপ্রতীপ...

স্কুলে আসার পর থেকেই উৎসবের আমেজে থাকে অয়ন। বন্ধুদের সাথে হেসে খেলে আনন্দে মেতে থাকে পুরোটা সময়। স্কুলের মাঠের পাশের একটা পাকুড় গাছ। গাছটা ছায়া দিয়ে কেমন ঢেকে রাখে মাঠটা। এটার নিচে একটা লোক প্রতিদিন আইসক্রিম বেঁচে। ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে লোকটা মিহি করে বরফ কেটে একটা ছাঁচের মধ্যে পুরে কেমন লম্বা আইসক্রিম বানিয়ে ফেলে, তারপর তাতে লাল, সবুজ রঙ লাগিয়ে দেয়। আজ বাবার থেকে পয়সা নিয়ে কিনেছিল ও, খুব মজা খেতে।
আমার আমি
আমার পরিচিত কাছের মানুষেরা অভিযোগ করেন আমার কাছে, আমি বড় হই না, বাচ্চাদের মতো করি, বয়সটা আমার কোথাও একুশে আটকে আছে। হয়তো পিছনে পিছনে বলেন, আমি যা করি তা হয়তো আমাকে মানায় না। যিনি আমার এই ছেলেমানুষীর সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী তিনি বলেন, শরীরটা শুধু ডেভেলাপ করেছে, ব্রেইনটা ডেভেলাপ করেনি। তবে তিনিও এটা বলতে বলতে এখন ক্লান্ত হয়ে ক্ষ্যান্ত দিয়েছেন শুধু আমি যেমন ছিলাম তেমনই রয়ে গেছি। সবার অনুযোগের পরেও আজও নিজেকে সামলে সবার আকাঙ্খা অনুযায়ী নিজেকে বড় করে তুলতে পারিনি।
বদলে যাওয়া বড় হওয়া সব কী নিজের হাতে থাকে? সবাই কী চাইলেই নিজেকে ইচ্ছেমতো বদলে ফেলতে পারে? বড় হয়ে যেতে পারে?
এইম ইন লাইফ - শিবির
হাইস্কুলের পাঠ চুকিয়েছে। এবার কলেজে ভর্তি হবার পালা। দরিদ্র বাবা-মা এর স্বপ্ন ছেলে শহরের কোন কলেজে পড়বে, একদিন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে বাবা-মা এর নাম উজ্জ্বল করবে, সাথে পরিবারে আসবে স্বচ্ছলতা। ঘরে আছে ছোট দু'টি বোন। তাদের বিয়ের বয়স হতে হতে নিজ পায়ে দাঁড়াবে তাদের ভাই। ধুমধাম করে বিয়ে দিবে।
ভর্তি হলো শহরের একটি কলেজে। যাবার সময় মা তার অনেক দিনের জমানো কিছু টাকা হাতে গুজে দিয়ে বলে, "যা বাপ, আমারে কিছু দিতে হইবো না, আমার মাইয়া দুইডারে চাইলেই হইবো।" বাবা আশ পাশের গ্রামের ধনী পরিবারগুলোর জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন। প্রতিদিন তার মজুরী থেকে কিছু টাকা উঠিয়ে রাখেন ছেলের মাসিক খরচের সাথে দু'টো টাকা যদি বেশি দেয়া যায় ছেলেটা খুশী হবে।
ছেলেটি শহরে এসে গ্রামের কথা খুব মনে পড়ে। সবসময় মনে হয় সে নিজে যদি কিছু করতে পারতো, যদি একটা টিউশনি পেতো তবে তার বাবার কাছ থেকে প্রতিমাসে টাকা নিতে হতো না। সে টাকায় তার পরিবার আরেকটু সচ্ছলভাবে চলতে পারতো। সহপাঠীদের সাহায্য চায় এ ব্যাপারে।
সাপ্তাহিক হতাশা
শ্লার লাইফ! শ্লার চাকরী!!! ইটস সাক্স!!!
সারাটা সপ্তাহ অপেক্ষা করি এই একটা শুক্রবারের জন্য। সারাটা সপ্তাহ এই ফাত্রা রাজনীতির ফাপরে পইরা জীবন হাতে নিয়া অফিস করলাম। শুক্রবারে একজনের সাথে দেখা হবে এই আশায়।
ছয়টা দিন গোলাপি বেগমের পেইন সহ্য করলাম। আর যেই না তার পেইন শেষ হইলো অমনি শুরু হইলো তথাকথিত কর্পোরেট এর পেইন।
হঠাৎ করে তাদের শুক্রবারে খোলা রাখার সাধ জাগলো!!! যদি শুক্রবারে খোলাই রাখবি রে হাউয়ার পুত, তাইলে গত ছয়দিন এত্তো পেইন দিয়া অফিস করাইলি ক্যারে???
শালা ফাউলের গুষ্টি, গাছেরটাও খাইবো আবার তলারটাও কুড়াইবো। আর তাদের এই চিপায় পইরা আমাগো জীবন নষ্ট।
ভালোবাসার মানুষটাকে সারা সপ্তাহ জুড়ে আশায় রেখেছিলাম যে শুক্রবারে তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাবো। আজ এটা শোনার পরে সে বললো, থাক ব্যাপার না। সবসময় যে প্ল্যান সাক্সেসফুল হবে তা তো নয়!!!!
শুনে ভালো লাগলেও, ঠিকই বুঝতে পেরেছি যে সে কষ্ট পেয়েছে। এই কষ্ট অপ্রাপ্তির কষ্ট। আর তার অপ্রাপ্তি আমায় অসহায় করে দেয়।