ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

স্বপ্নে আমি আলো জ্বেলেছি অন্তরে

আমি তখন স্কুলে পড়ি। কোন ক্লাসে মনে নেই। বাজারে হঠাৎ নতুন এক ধরনের কলম এলো। সেটার সঙ্গে টেলিফোনের তারের মতো প্যাঁচানো চিকন প্লাস্টিকের তার ছিলো, যার শেষমাথায় লাগানো ছিলো একটা গোলমতো রাবার। রাবারটার গায়ে লাগানো ছিলো আঠা। ঐ রাবারটা টেবিলের সঙ্গে আটকে দেয়া যেতো। ছেলেভুলোনো কৌশল। যেন আঠা দিয়ে না আটকে দিলে ছেলেদের হাতে কলম থাকছেই না কোনমতে আর।

তবে যতই ছেলেভুলোনো কৌশল হোক না কেন, সহসাই সবার হাতে একটা করে অমন কলম দেখা যেতে লাগলো। ছেলেরা স্কুলে এসে নিজের সিটে বসে প্রথমে ব্যাগ থেকে কলমটা বের করতো। তারপর গোল রাবারটা বেঞ্চির সঙ্গে আটকে কলমটাকে খুব সুন্দর করে ব্যাগের পাশে শুইয়ে রাখতো। রাখার পর এদিক-সেদিক তাকাতো। যেন কতই না চমৎকার লাগছে! দুইদিন পর রাবারের আঠা উঠে গেলে আর সেটা কোনোকিছুর সঙ্গে আটকাতো না। পুরো ভাবটাই মার খেয়ে যেতো তখন। সে কথা জানার পরও আমি একদিন বাসায় আব্দার ধরলাম, আমার ঐ কলমটা লাগবে।

কেয়া পাতাদের দঙ্গলে এক নামধামহীন নীল পিচ্চিপিঁপড়া

গভীর রাত। এ সময় চড়াই ঠিকই মায়-দিন-মান মাঠ, ঘাট, বন, বাদাড় চষা শেষে ঘাসফড়িঙ বা আরো সুস্বাদু কোনো খাদ্যযোগে ডিনার সেরে নিজের নীড়ে ফিরে গেছে। হয়তো গভীর নিদ্রায় ডুবেও আছে। অথচ আমি টুইটারে বসে চড়াইয়ের ডাক দেবার অক্ষম চেষ্টা চালাচ্ছি!
ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য চুরি-টুরি করে দু'টো দিন বের করেছিলাম মহাকালের ভেতর থেকে। জলে-ডাঙ্গায় বইটা পড়লাম। অসাধারণ ভ্রমণকাহিনী। রবীঠাকুরের একটা লাইন পেলাম সেখানে। মৃত্যূ বিষয়ক লাইন। মাথায় গেঁথে গেলো।

কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়
জয় অজানার জয়।

অহেতুক

ব্লগে ঢুইকাই দেখি কি জেসন বর্ণ খাড়ায় আছে। টেনশনে পড়ে গেলাম, যাব্বাবাহ্ এ কি কান্ড। এমনিতে বর্ণ লিগেসী মুক্তি পাইতেসে ম্যাট ডেমনরে ছাড়াই, তাই কয়দিন ধরে মনের মধ্যে উথাল-পাতাল; তার উপরে ব্লগে বর্ণ! অবশ্য একটু পরেই বুঝতে পারলাম, এইটা হইলো আমাদের বাউন্ডুলে বর্ণ (এখন বোধহয় সে আবার নাম চেঞ্জ করসে)। যাহোক জেরেমিরেও ভালো পাই। যদিও মিশন ইম্পসিবল ৪: ঘোস্ট প্রোটোকল ছাড়া তার আর কোনো সিনেমাই দেখি নাই। বিশেষ করে দ্য হার্ট লকারে নাকি ব্যটায় এ পর্যন্ত সবচে' ভালো অভিনয় করসে। সিনেমাটা কেন দেখা হয় নাই, ওস্তাদই জানে ভালো। তবে মিশন ইম্পসিবল দেইখা ব্যটারে আমার দারুণ লাগসে! বিশেষ করে হুটহাট দর্শকের চোখে পড়ে যাবার অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে তার। এই ব্যটার আরো একখান হিট মুভি আছে, কিন্তু সেইটার ভালো প্রিন্ট এখনো নেট-এ আসে নাই। দ্য অ্যাভেঞ্জার্স।

ভাল লাগা ভাবনারা - ৪

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

-হেলাল হাফিজের কবিতা। নাম- নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়। রচনাকাল- ১৯৬৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। হেলাল হাফিজকে নিয়ে আসলে বেশি কথা বলা যাবে না। অল্প সংখ্যক কবিতা লিখেছেন এবং তাই দিয়ে বাংলা কবিতাকে নিজের স্থান থেকে আরো বেশ খানিকটা উপরে উঠিয়ে দিয়েছেন। ক্ষণজন্মা প্রতিভা।

ভাল লাগা ভাবনারা - ৩

এডওয়ার্ড এস্তলিন কামিংস‌্'কে (১৪/১০/১৮৯৪---০৩/০৯/১৯৬২) বলা হয় বিংশ শতাব্দীর সবচে' প্রসিদ্ধ কবিদের একজন। এটা উইকিপিডিয়ার তথ্য। ই ই কামিংস‌্ নামে পরিচিতি এ কবির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসচুসেট্‌স রাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে। তাঁর বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, পরবর্তী জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে ক্লিক করে।

আজকে একটু এই ভদ্রলোকের 'মে আই ফীল সেইড হি' কবিতাটি নিয়ে কথা বলি। কবিতাটি কামিংস্-এর ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ নো থ্যাংকস্-এ সংকলিত হয়। এর একটা অনুবাদ করেছিলেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। অনুবাদটি প্রথমে দেখে নেয়া যাক। বাংলা নামটি হুমায়ুন আজাদেরই দেয়া।

একটুখানি ছুঁই বললো সে

একটুখানি ছুঁই বললো সে
(কেঁপে উঠবোই বললো সে
শুধু একবার বললো সে)
তবে তো মজার বললো সে

(একটু কাছে টানি বললো সে
ঠিক কতোখানি বললো সে
খুব বেশি হবে বললো সে)
কেনো নয় তবে বললো সে

(চলো আসি ঘুরে বললো সে
নয় বেশি দূরে বললো সে
কতোটা বেশি দূর বললো সে
যতোটা তুমি মোর বললো সে)

একটু ঘষি মুখ বললো সে
(কীভাবে পাবে সুখ বললো সে

ভাল লাগা ভাবনারা - ২

যা সত্য, যা অবিচল, যা ভয়ংকর, যা অটল; তাই অকপটে বলতেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। লিখে রাখতেন কালো অক্ষরে। আমি বিশ্বাস করি- যা সত্য নয়, তার জন্য বিশ্বাস শব্দটি আনতে হয়; আর যা সত্য তা বলে ফেললে, মানুষের বিশ্বাস হোঁচট খায়। সক্রেটিসকে হেমলক পান করিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিলো তিনি বিশ্বাসের বাইরে সত্যকে এনে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হওয়ায়, ভয় পেয়ে গিয়েছিলো মানুষ। যুগে যুগে এমন ভয় পেয়ে মানুষ অনেক মহাপুরুষের জন্মই দিয়েছে। অনেককে করেছে কালজয়ী। হুমায়ুন আজাদ স্যারও প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। জীবদ্দশাতেই তিনি মহাপুরুষসম উচ্চতায় আরোহণ করতে পেরেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকবেন নতুন দিনের পথিকৃৎ হয়ে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত। আমি স্যারের আত্মীয় নই, তাই তাঁর প্রয়াণে স্বজন হারানোর বেদনায় আক্রান্ত হই নি। তাঁর ও নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস জন্মেছিলো কেবল।

ভাল লাগা ভাবনারা

১.
পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা পড়ছিলাম। ভদ্রলোক কিন্তু দারুণ রুমান্তিক! 'কথোপকথন - ৭' তো এত ভালো লেগে গেলো যে বলার নয়। কবিতারা মাঝে মাঝেই আক্রান্ত করে মস্তিষ্কটাকে। তখন ভালো লাগে অনেক।

তোমার চিঠি আজ বিকেলের চারটে নাগাদ
পেলাম।
দেরী হলেও জবাব দিলে সপ্তকোটি
সেলাম।
আমার জন্যে কান্নাকাটি? মনকে পাথর
বানাও।
চারুলতা আসছে আবার। দেখবে কিনা
জানাও।
কখন কোথায় দেখা হচ্ছে লেখোনি এক
ফোঁটাও।
পিঠে পরীর ডানা দিলে এবার হাওয়ায়
ছোটাও।
আসবে কি সেই রেস্টুরেন্টে সিতাংসু যার
মালিক?
রুপোলী ধান খুঁটবে বলে ছটফটাচ্ছে
শালিক।

২.
আরেকজন অসাধারণ কবি হেলাল হাফিজ। মনের গুমোট ভাব কাটানোর জন্য উনার 'অচল প্রেমের পদ্য'- সমূহের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত আমার কাছে। কেবল ৪ নম্বরটা তুলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম সবগুলো না দিলে আসলে পুরা আমেজটা আসতেসে না।

অচল প্রেমের পদ্য-১

যদি যেতে চাও, যাও
আমি পথ হবো চরণের তলে
না ছুঁয়ে তোমাকে ছোঁব
ফেরাবো না, পোড়াবোই হিমেল অনলে।

অচল প্রেমের পদ্য-২

কবিতা: বিবেকের মাতৃবিয়োগের পর

বুর্জোয়া প্রান্তিকতায় আক্রান্ত
লুম্পেন আমি আজ
সুযোগ পেলেই মহাপরাক্রমে
গরীবের পেটে লাথি মারছি;
বিবেকের মা মারা যাবার পর থেকে
এ কাজে আমার পা, উঠতে দেরি করে না।

অথচ বিবেক নামের বন্ধুটি যতদিন মাতৃলগ্ন ছিলো
ততদিন এ কাজে আমায় বাধা দিতো,
অদ্ভুত সেই ছেলেটি আজকাল নিশ্চুপ হয়ে গেছে কেমন;
আমিও মাজুল হয়ে থাকি টুপভজঙ্গ অবস্থায়
আর অবিবেচক মনোভাব পুষে বেড়াই,
শালা দুনিয়াটাই আজ এরকম হয়ে গেছে।
তাই, আমি আলাদা থেকে মার খাই-
চাই না।

তারচে' বিবেকের মায়ের মৃত্যূতে মনে মনে খুশি আর
বাইরে মাছের মায়ের পুত্রশোক দেখাই,
বানোয়াট পৃথিবীটাকে এভাবেই মন্থন করা সম্ভব; এভাবেই
আমি পথ খুঁজে পাই,
পকেটে পয়সা খুঁজে পাই,
সংসারে ভোগের বস্তু খুঁজে পাই,
আর আয়নায় একটা জানোয়ার
খুঁজে পাই
জানোয়ারদের পালে যোগ করার জন্য।
তবে প্রসাধনচর্চিত এই জানোয়ারটি; বুনোদের চেয়ে
অপেক্ষাকৃত সুন্দর, অনন্য।
---

কবিতা : আমি শেষতক পরাজিতদের দলে নাম লেখাবো

আমি শেষতক পরাজিতদের দলে নাম লেখাবো।
আর কোথাও নয়, কারো হৃদয়ে বা মননে তো নয়ই।
আমি জানি বুঝে-শুনে আমার পক্ষে কখনো
নিজের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয় নি।

আমি আসলে জন্মপরাজিতই। সেটা বুঝে ফেলেছি বলে
নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস সরিয়ে নিয়েছি।
ভালো করেছি না?

এখন আর দুর্মর কোনো অস্তিত্ব তোমাকে গ্রাস করতে হুটহাট
একটা ভয়াবহ অবাঙালি রূপ নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হবে না।
কেউ চাইবে না আর তোমাকে ঠাসাঠাসি ফাইলের ফাঁক থেকে অসময়ে টেনে বের করে আনতে,
চাইবে না সো’রাওয়ার্দি পার্কের বেঞ্চিতে বসিয়ে রাখতে,
রাজধানীতে অনর্থক ঘুরে ঘুরে খাবারের দোকান খুঁজতে,
এবং তোমার বাসার যতটা কাছ পর্যন্ত যাওয়া যায়
ততটা কাছ পর্যন্ত গিয়ে
তোমায় নামিয়ে দিয়ে আসতে।
এখন আর রাতদুপুরে কেউ চাইবে না মোবাইলের অপর প্রান্তে
তোমার সুরেলা স্বরের হ্যালো শুনতে
বা তোমায় সুইটহার্ট বলে বলে রাগিয়ে দিতে।
তোমার গোছানো জীবনে কেউ যাবে না আর
অনিয়মের বেড়াজাল বুনতে।

শুধু একটি ছোট্ট কথা-
আমি কখনো নদী বা রাজনীতিবিদ হয়ে তোমায় গ্রাস করতে চাই নি, জানো?
হয়তো একটা ফানুস হয়ে তোমার আকাশে বিলীন হতে,
উড়ে উড়ে হারিয়ে যেতে
চেয়েছিলাম।

গল্প: নোঙরের সঙ্গে উঠে গিয়েছিলো একটি পাঁজরের হাড়

ক্রিং ক্রিং...
-হ্যালো।

একবার রিং বাজতেই যে মিভ ফোনটা রিসিভ করবে, আমি স্বপ্নেও ভাবি নি। একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। একটু না, বলা ভালো বেশ খানিকটাই হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। আসলে ও যে ফোন ধরবে, সেটাই তো আমি আশা করি নি। কত দিন-মাস-সপ্তাহ ধরে ও আমার কল রিসিভ করে না! তবুও কেন যে সেদিন রাত ৪টা ৫০মিনিটে আনমনে মোবাইল টিপতে টিপতে ওর নাম্বারটাই আমি লিখেছিলাম, জানি না।

লিখে আবার সেটাকে ডায়ালেও পাঠিয়ে দিলাম। আর চটজলদি কলটা চলে গেলো ওর কাছে। অথচ তার আগে বহুদিন একইভাবে ওর নাম্বার লিখেছি আর কেটে দিয়েছি। একবার, দুইবার, একটানা একঘন্টা, দুইঘন্টা; সেসব অর্থহীন কীর্তিকলাপের কোনো হিসেব নেই।

গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (শেষ পর্ব)

আমি তখন মেয়েটির বিছানার একপ্রান্তে বালিশ হাতের কনুইয়ের নিচে এবং মাথা তালুর ওপর দিয়ে আধশোয়া অবস্থায়, একমনে মেয়েটির গল্প শুনে যাচ্ছিলাম। সে খাটের অপরপ্রান্তে কি ভঙ্গিতে বসেছিলো, সেটা বলেছি আগেই।

উঠে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। জানতে চাইলাম, আপনার সমস্যাটা কি? স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা মানতে পারেন নাই, নাকি জগতের স্বাভাবিক নিয়মগুলাকে মানতে পারেন নাই? কোনটা?

-সমস্যা এ দু'টোর কোনোটাই না। আমি মানুষ হিসাবে ভালো না, এইটা একটা সমস্যা। আবার আরেকটা সমস্যা হইতেসে, মানুষ হিসাবে ভালো না হওয়ার বাইরে আমার আর যা কিছু সমস্যা আছে- সেইগুলা সব আজো খুঁজে পাই নি। এ দুইটা গন্ডগোলের জন্য নিজেরে গুছায় আনা যাচ্ছে না। চলতেসে গাড়ি, যাত্রাবাড়ী। সেই যাত্রাবাড়ী যে কতদূর আল্লাই জানে।

বললাম, এতো দেখি ঝিক ঝিক, পুরাই ঝিক ঝিক! যাক্ কাঁচি দিয়া কি করেন বলেন তো? মানুষ-টানুষও খুন করে ফেলসেন নাকি এর মধ্যে?

গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৪)

মেয়েটি বলে চললো, আগেই বলেছি আমার সঙ্গে কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে সেটা গোপনে করতে হতো। আমি সেসব গোপন যোগাযোগ আসলে কতটুকু গোপন, তা গোপনে ক্রসচেক করতাম। মেয়ে হওয়ার অনেক সুবিধা আছে জানেন। একটা মেয়ে যদি কোনো আননোন নাম্বারে ফোন করে ছেলেদের মতো করে কিছুক্ষণ ছোঁক ছোঁক করে, তাহলে অপরপাশ থেকে রাজ্য জয় করে আনা সম্ভব। আমি শুধু খোঁজ করতাম, আমার শিকারগুলাকে সেইসব নম্বরের মালিকেরা কতটুকু চেনে বা আদৌ চেনে কিনা। তবে প্রচুর ইনিয়ে-বিনিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাম্বারগুলো হতো ফ্লেক্সিলোডের দোকানের নাম্বার। তাই আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতো। আমি কোনো ছেলের কাছ থেকে টাকা চাই না, বিয়ে করার চাপ দিই না, কখনো ফোন করি না, টেক্সট্ করি না; কিন্তু আমার কাছে এলেই ইচ্ছামতো সেক্স করতে দিই- এ যেন এক কাল্পনিক রাজ্য!

গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (৩)

আমি গুলশানে কয়েকটা বড় বড় পার্টি অ্যারেঞ্জ করতেই সবাই চিনে ফেললো। সেই সুবাদে হাতে এসে গেলো এই ফ্ল্যাটটার চাবি। টুকটাক বিদেশ ভ্রমণও শুরু হয়ে গেলো সেইসময় থেকে। আর ভ্রমণের সময় পেয়ে গেলাম আরেকটা টাকার খনির সন্ধান। বিদেশে প্রচুর কনজারভেটিভ বাঙালি পরিবার আছে। যারা থাকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে আর চিন্তা করে থার্ড ওয়ার্ল্ডের নাগরিকদের মতো করে। পরিবারের মেয়েকে দেশের ছেলে ছাড়া বিয়ে দিতে তাদের অনেক আপত্তি। হাহ্ আমার জন্য তো ব্যপারটা সোনায় সোহাগা হয়ে গেলো। বুঝতে পারছেন এখন আমার ব্যবসাটা?

আমি মাথা ঝাকালাম। বুঝতে পেরেছি। সে কথা বলেই গেলো।

ডিভোর্স হয়ে যাবার পর আমার আসলে কোনো পিছুটানই ছিলো না। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই অনেক দিন ধরে। নিজের মতো করে চলতাম। ব্যবসাও নিজের মতো করে চলছিলো। আমার যা দরকার তা সহজেই আয় করে ফেলতাম। ছেলেদের সঙ্গে প্রচুর মিশতাম। সবাই ছিলো ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচিত। কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতাম না। ফ্রেন্ড সার্কেল মানেই বাইন্ডিংস্। ভালো লাগে না আমার একদম।

গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (২)

মেয়েটির গলার স্বরে এক ধরনের আহ্বান আছে। সেই আহ্বানে আপনার শরীরের ভেতর থেকে আত্মাটা বের হয়ে চলে যাবে, আপনি নিথর শরীর নিয়ে পড়ে থাকবেন; কিন্তু টের পাবেন না। এহেন সিচুয়েশনে পেটে যদি মালপানি পড়ে তাহলে কি হবে, সেটা ভেবে আমি আতংকিত হয়ে পড়লাম। ছাপোষা চাকরীটা আমার মাসাকাবারি খরচ, সিগারেটের টাকা, বন্ধুদের সঙ্গে মৌজ-ফূর্তি আর অন্যান্য জরুরি পার্সনাল কাজগুলোর একমাত্র অবলম্বন। বস্ ব্যটা এসে যদি দেখে তার ডার্লিংয়ের সঙ্গে আমি শাদা ওয়াইন হাতে ঢলাঢলি করছি, তাহলে আমার সম্বল কেড়ে নেয়ার যে সামান্য অধিকারটুকু সে রাখে; সেটা খাটাতে নির্ঘাৎ বিপুল বিক্রমে ঝাপিয়ে পড়বে।

ওদিকে মীমের বকরবকর চলছেই।

গল্প: পেশাজীবী মীমের ঝিক ঝিক টাইপের আত্মকাহিনী (১)

আমি মীম। পেশায় ব্যবসায়ী। কিসের ব্যবসা করি বলেন তো? এক অর্থে আদম ব্যবসা। আবার ঠিক আদম ব্যবসাও না। ঝিক ঝিক টাইপের ব্যপার-স্যপার। বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তো? রাখেন, একটু সবুর করেন। সব খুলে বলবো। যদি চান সব খুলে দেখাতেও পারি। দেখতে চান? চাইলে আগেই বলে ফেলেন। কারণ আমার কথা শেষ হবার পর আপনার সেটা চাওয়ার ইচ্ছে নাও থাকতে পারে।

মীম নামের যে ঝকঝকে সুন্দরী ২৮ বছরের তরুণীটির সামনে আমি বসে আছি, তার সমস্যা কি ধরতে পারছি না। পাকে-চক্রে এমন বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এই আধপাগলের সামনে বসে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। কি যে দিনকাল পড়লো। এমনকি মালটাকে একটু রগড়ানিও দিতে পারবো না। কারণ এইটা আসলে বসের মাল। আমার ওপর কড়া নির্দেশ আছে। ফিঙ্গারনেইল দিয়েও টাচ করা যাবে না। অথচ আমার হাইজেনিক ফিঙ্গারনেইলের টাচ, বসের গ্যাদগেদে ময়লা ধরে থাকা নখের আঁচড়ের চেয়ে ভালোই হওয়ার কথা। আমি সেসব ভাবনাতেই বেশি করে মনোযোগ দিলাম। আবোল-তাবোল বকতে থাকুক মীম। যেদিক থেকে বেলাশেষে প্রাপ্তির খাতায় কোনো যোগচিহ্ন বসানোর উপায় নেই, আমি সাধারণত সেদিকে বেশি ভ্রুক্ষেপ করি না।