ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

আননোন আর্টিস্ট - আননোন অ্যালবাম - ট্র্যাক টুয়েলভ

অনেকক্ষণ ধরে একটা জোরালো আলোকবর্তিকার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। নিজের বারান্দায়। চিরসঙ্গী জ্বলন্ত জ্বলে আছে দু'টো আঙুলের মাঝখানে। আধখানা তীব্র চাঁদ কয়েকটা সঙ্গী রাতের তারা নিয়ে আমাদের সবাইকে দেখছে। অনেক দূর থেকে কিন্তু খুব পরিস্কার সবকিছু দেখতে পাচ্ছে। ভালোবাসার খোঁজে আর কতকাল ভালোবেসে যাবো সেটা নিয়ে ভাবছিলাম। একজন মানুষকে আরেকজন মানুষ কতটা ভালোবাসতে পারে? নির্জ্ঞান মন জানে না পুরো বিষয়টা আসলে কতখানি জটিল। না জেনেই সে একটা রক্ত-মাংসের মানুষ নিয়ে খেলতে বসেছে। জানে না, বাইরের পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার সবই বাস্তব। আনমনে খেলেই চলেছে। আমরা যারা রক্ত-মাংসের মানুষ, তারা এ খেলার নিরুপায় ক্রীড়ানক মাত্র। আহা, নিজের এ মহার্ঘ্য সম্পদটি নিয়ে নিজে যদি কোনোদিন বুঝে-শুনে খেলার সুযোগ পেতাম!

ভালোবাসা প্রজাপতি হয়ে পৌঁছায় মেঘদের কাছে

সকালে যখন পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো, কাজটা ঠিক হচ্ছে না।

বেলা একটা বাজলো। মোবাইলের আলার্মটা বাজতে শুরু করে দিলো। আমি হাতড়ে হাতড়ে বালিশের নিচে সেটার উপস্থিতি আবিস্কার করলাম এবং যন্ত্রটার একপাশের লক-আনলকের সুইচ টিপে আলার্মটা বন্ধ করে দিলাম। ওই সুইচটা রিংটোন মিউট করার কাজেও একইভাবে ব্যবহার করা যায়।

কয়েক মূহুর্ত পর একটা চোখ খুললাম এবং ঘরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ঘড়িখানার দিকে খোলা চোখটা সরু করে তাক করলাম। নিশ্চিত হলাম ঘড়ির ছোট কাঁটাটা কি আসলেই বেলা একটার ঘরে ঢুকেছে কিনা। যখন নিশ্চিত হলাম যে; হ্যাঁ একটা বেজেছে, তখন আর আলসেমী করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। নিয়ে সিরিয়াসলি খোলা চোখটা বন্ধ করে ফেললাম। কি লাভ আলসেমী করে? তারচে' ঘুমাই।

জ্বলন্ত গোল্ড লীফই ভরসা

বৃষ্টি আজো মনের ভেতর সেই অনুভূতিই তৈরি করে যার জন্য আজ থেকে অনেক বছর আগে বৃষ্টির প্রেমে পড়েছিলাম। মেয়েটিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতাম। সে বাসতো তারচেয়েও বেশি কিছু দিয়ে। অথচ আমাদের দু'জনের দেখা হয় নি কোনোদিন। জানা হয় নি; কেন আমরা কখনো একে অপরের কাছাকাছি যেতে পারি নি।

আমার ভেতর শুকিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোতে আজো প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে বৃষ্টি। সেসব স্মৃতি আসলে তারই। আমি শুধু উপস্থিত ছিলাম, তাই সেগুলো নিজের অন্তরে ধারণ করেছি। প্রতি ফোঁটা বৃষ্টির জলে মিশে থাকা সেই দিনগুলো, যেগুলো আমি কখনো ভুলি নি এবং কখনো ভুলবো না; সেগুলোর মনে পড়ে যাওয়া জোর করেও ঠেকিয়ে রাখতে পারি না ইদানীং যখন ঝুম বৃষ্টিতে আটকা পড়ি। মাঝে মাঝে এমনকি, পারি না চোখের কোণায় সামুদ্রিক পানির জমাট বাঁধা ঠেকিয়ে দিতেও।

গাউসুল আজমের ছাদে গিয়ে পেঁয়াজ-মরিচ ভর্তা আর ধোঁয়া ওঠা পাবদা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়ে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিকশার হুডের নিচে হুটোপুটি করতে করতে কলাভবন থেকে নীলক্ষেত পৌঁছে যাবার সেসব দিনগুলো কত দ্রুত হারিয়ে গেলো জীবন থেকে! কত দ্রুত মানুষের ছোট্ট জীবনের একেকটা দিন হারিয়ে যেতে পারে?

ছোটগল্প : অযৌক্তিক অসহজ

বাজে কথা। খুব বাজে কথা। একটা মেয়ে তোকে ভালোবাসবে আর তুই তাকে প্রতিদিন ঘুরাবি, এটা খুবই বাজে কথা।

-না দোস্ত। নওরীণ আসলে আমাকে ওইভাবে ভালোবাসে তা বলা যাবে না। কিন্তু নওরীণকে আমি দেখসি, ওর মধ্যে একটা ব্যপার আছে। ধর অনেকদিন না দেখা হলে নওরীণ নিজেই দেখা করার একটা সুযোগ বের করে। আসে এবং আমাকে গভীরভাবে খেয়াল করতে থাকে। যেন আমি কেমন আছি, কি করছি, কি ভাবছি সব সে অনুমানেই বের করে ফেলবে। ওর চোখে আমি এক ধরনের গবেষণা চালানোর লক্ষণ খুঁজে পাই। সে আমাকে নিয়ে কি যেন একটা গবেষণা করছে। আমি জাস্ট এই জন্য ট্রাই করি ওকে সময় কম দেবার। কিন্তু ওর আছে বিপুল পরিমাণ এনার্জি। যতই ঘুরাই ততই ঘুরে-ফিরে ঠিক সামনে এসে হাজির হয়। আর কথা বলতে থাকে ক্রমাগত। বিষয়টাকে তুই কি বলবি দোস্ত?

বিষয়টা ভয়ংকর। সূপর্ণখা টাইপ মেয়ে। চুপচাপ কেটে পড়। এ ধরনের মেয়ের আশপাশে যাওয়াও বিপজ্জনক। প্রেমিকা হিসেবে অজেয় কিন্তু আঁচড়ানোর সময় আঁচড়ে কলিজায় দাগ ফেলে দিয়ে আসবে। সময় থাকতে পালা।

কবিতা : সাইকেডেলিক চৈতি

চৈতি তুমি বরং কিছুটা ভালোবাসা নাও
কিন্তু হারিয়ে যেওনা।

চৈতি তুমি থাকো, তুমি থাকো আমার প্রাণে
প্রিয় চৈতি থাকো
তুমি বাজো আমার কানে।

চৈতি তোমার সঙ্গে আমি আবার,
স্বপ্নখেলায় রং বসাবো
খর দুপুরে শব্দ করে
জং ধরা দরজা হাটাবো;
চৈতি আবার আমি
একাকী ঘরে
আধাঁরভরা কাল কাটাবো,
চৈতি তুমি থাকো।

চৈতি জেনে রেখো,
আমরা মোদের-
মোরা আমাদের
এইটুকু শুধু কথা।
চৈতি তোমায় হারিয়ে তাই
কণাপরিমাণ
পাই নি আমি ব্যাথা।
চৈতি ভালোবাসি।

চৈতি আমি জানি
তুমি আবার আমার,
বারবার তুমি
জন্মাবে শুধু
আমার
এবং শুধুই আমার
ভালোবাসা হবে বলে।
চৈতি তুমি থেকো
আমি আবার খুঁজে
বার করবো
সেই দাবানল,
একটি শুধু
পুরোনো সুযোগ পেলে।

প্রিয় চৈতিমণি আসো,
তোমার স্বামীর বাহু খুলে
এবং চৈতি তুমি ভাসো,
যদি ভেসে থাকো কোনোকালে।

---

সেই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি

আমার আগের পোস্টের সবগুলো কমেন্টের উত্তরই আমি দেবো। তবে সেজন্য আমার একটু সময় লাগবে। কারণ কমেন্টগুলোর প্রত্যেকটি আমার হৃদয়কে আলাদা আলাদা ভাবে স্পর্শ করেছে। তাই ওগুলোর প্রতি পূর্ণ সুবিচার করাটা আমার নিজের জন্যই জরুরি ভীষণ!

আসলে 'লেখালেখি'-কে আমি যেভাবে দেখি সেটা আমার ধারণা, এই ২০১২'র প্রেক্ষাপটে বেশ খানিকটা বেমানান। আমি মনে করি, বাংলা সাহিত্যের ভেতরেই কথাবার্তা সীমিত রাখি, রবীঠাকুর বা মানিক বন্দোপাধ্যায়; মানিকটা বেশি হেল্পফুল হবে মনে হয় এখানে- যা কিছু লিখে গেছেন; সেগুলোই কেবল প্রকৃত 'লেখা'। অবশ্য এ দু'জনই শুধু নয়। তাদের মতো আরো অনেকের নাম লিখে বড় করা যায় এই তালিকা। যেমন জীবনানন্দ দাশের কথাই ধরা যাক। এই কয়েকটি লাইন একটু দেখুন-

চোখদুটো ঘুমে ভরে
ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে!
ফুরায়ে গিয়েছে যা ছিল গোপন- স্বপন কদিন রয়!
এসেছে গোধূলি গোলাপীবরণ-এ তবু গোধূলি নয়!
সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয়,
আমাদের মুখ সারাটি রাত্রি মাটির বুকের পরে!

কি অসাধারণ! কি ভীষণ অসাধারণ!!

গল্প : এক খর দুপুরে কঙক্রীটের ঝাড়ে

মতিঝিলের একটা কোণা দিয়ে হাঁটছিলাম।

ওই যে, রাজউক আর রাষ্ট্রপতির বাড়ির চিপা দিয়ে একটা রোড চলে গেছে না একদম শাপলা চত্বর পর্যন্ত? সেই রাস্তাটা দিয়ে। এক খর দুপুরে। কোনো কারণ ছাড়া। হাঁটছি তো হাঁটছিই।

এমনটা সাধারণত ঘটে না। দুপুরের দিকে অফিসের ব্যস্ততাটাই আমাকে বেশি করে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আজ সেটা নেই। কোনো এক বিচিত্র কারণে, হাহা।

হাঁটতে হাঁটতে রাজউক ভবনের কাছে চলে আসলাম। রাস্তাটা দিয়ে বের হলেই দেখতে পাবো দুইপাশ দিয়ে অবিরাম গতিতে চলাচল করছে অসংখ্য গাড়ি-ঘোড়া।

স্যরি, ঘোড়া মনে হয় দেখতে পাবো না। ঘোড়ার গাড়িগুলো এদিকে আসে না। ওগুলো গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার থেকে সদরঘাট ওভারব্রীজ পর্যন্ত যায়।

এখনই যন্ত্রণার যন্ত্রনগরীতে না ঢুকে বরং আরো খানিকটা সময় গলি-ঘুপচিগুলোতে ঘোরাঘুরি করি। গলি-ঘুপচিতেতো আর সবসময় ঘোরাঘুরির সুযোগ মেলে না। একটা সিগারেটের দোকানের সামনে দাঁড়ালাম। একটা সিগারেট খাওয়া যায়।

তখন আমিন কোর্টে ইলিশ ভাজা দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়েছি। ইলিশটা টাটকা ছিলো না, কিন্তু ভাজাটা বেশ হয়েছিলো। ভাতের পর পাশের একটা দোকানে দাঁড়িয়ে খেলাম চা।

কিউপিডিয়ান কল্পনাপরি

১.

আমি কখনোই জানতাম না, মানুষের জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে। আজকাল মনে হয় সেটা জানা থাকলে ভালো হতো। এই যে শুধুমাত্র তোমার জন্যই আমার বেঁচে থাকা, মানুষের জীবনে এরচে' সুন্দর কোনো সময় কখনো আসতে পারে- তা আমার একদমই বিশ্বাস হয় না।

আপনজনদের সান্নিধ্যেই নাকি সর্বোচ্চ সুখ নিহিত। আমি নিশ্চিত, তারচেয়েও বেশি সুখ দূরে বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করার মধ্যে লুকিয়ে আছে। রাতের একাকীত্বে তোমার কথা ভাবার মধ্যে লুকিয়ে আছে। তোমার সঙ্গে করা প্রতিটি খুনসুটির মধ্যে লুকিয়ে আছে। আচ্ছা ঠিক করে বলো তো, সর্বোচ্চ সুখের আসলেই কি কোনো সীমা আছে?

নীলপদ্মের অপেক্ষা - ২

অনেকক্ষণ ধরে কানে আসছিলো নদীর কুলকুল ঢেউয়ের শব্দ। শরীর জুড়ানো একটা ঠান্ডা বাতাসও টের পাচ্ছিলাম। কিন্তু নদীটা যে কোথায়, ঠাহর করতে পারছিলাম না। নগরীর বিভিন্ন পুরানো রাস্তায় চক্কর দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও নদীটাকে খুঁজে পেলাম না। পেলাম আশ্বিনগেটের কোনো এক নির্জন নাম না জানা রাস্তার মোড়ে একটা বিবর্ণ হয়ে পড়া চায়ের দোকান।

ক্ষয়ে যাওয়া লাল রংয়ের গুটিকয় দাঁতওয়ালা কোঁকড়া চুলের দোকানীটা আমাকে তার দোকানের বেঞ্চির দিকে এগোতে দেখে, কোনো আদেশ-নির্দেশ-ফরমায়েশের অপেক্ষা না করেই কাঁচের কাপে টুং টুং শব্দ তুলে চা বানানো শুরু করে দিলো। আমিও কিছু না বলে চুপচাপ বসে চায়ের জন্য অপেক্ষা শুরু করলাম। দোকানীর উপরের পাটির সামনের দু'টো দাঁত নেই। কে জানে পানের সঙ্গে ও দু'টোও খেয়ে ফেলেছে কিনা! তবে লোকটার কাজে এক ধরনের সাজানো-গোছানো ভাব ছিলো, যে কারণে বসে বসে মনোযোগ দিয়ে তার হাতের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে ভালো লাগছিলো।

নীলপদ্মের অপেক্ষা

পড়ন্ত বিকেলের আলোয় অলস বসে দেখছিলাম কাঁচপোকাটার চোখের ভেতর সোনালী রঙয়ের ঝিলিক। সারাদিন সঙ্গিনীর দেখা না পেয়ে একটা অস্থির খয়েরী রঙয়ের শালিক দূরের ঝাউগাছের ডালের বসে খুব মনের সাধ মিটিয়ে ছটফট করছিলো। জনমানবহীন নিরব প্রান্তরটা এইসব উপঢৌকনের সাহায্যে আমাকে আপনজনদের সান্নিধ্য-সুখ দিচ্ছিলো। আর কাছের নদীর পাড়টি শোনাচ্ছিলো সুদূর অতীত থেকে ভেসে আসা কোনো সমধুর জলসঙ্গীত। হয়তো বেহুলার কান্নার সুর মিশে ছিলো সেই সঙ্গীতে। হয়তো ওদের জীয়নদ্বীপে পৌঁছুনোর পরের সুখের কান্নাই ছিলো সেটা। কিংবা হয়তো ছিলো আসমানীদের বাড়ির বাতাসে ঘুরপাক খেতে থাকা সেই খিলখিলে হাসির সুর।

আমার অতো সাত-পাঁচ ভেবে কাজ নেই বলে, আমি শুধু চেয়েই ছিলাম অপলক নয়নে। ঘন হয়ে বৃষ্টি নেমে এলো সেই অবসরে। পৃথিবীর প্রতিটি চরাচর আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই বৃষ্টি-জানালার ফাঁক গলে। তখন আমি ভাবছিলাম এক আলতাবরণ কিশোরীর কথা।

স্বপ্নে আমি আলো জ্বেলেছি অন্তরে

আমি তখন স্কুলে পড়ি। কোন ক্লাসে মনে নেই। বাজারে হঠাৎ নতুন এক ধরনের কলম এলো। সেটার সঙ্গে টেলিফোনের তারের মতো প্যাঁচানো চিকন প্লাস্টিকের তার ছিলো, যার শেষমাথায় লাগানো ছিলো একটা গোলমতো রাবার। রাবারটার গায়ে লাগানো ছিলো আঠা। ঐ রাবারটা টেবিলের সঙ্গে আটকে দেয়া যেতো। ছেলেভুলোনো কৌশল। যেন আঠা দিয়ে না আটকে দিলে ছেলেদের হাতে কলম থাকছেই না কোনমতে আর।

তবে যতই ছেলেভুলোনো কৌশল হোক না কেন, সহসাই সবার হাতে একটা করে অমন কলম দেখা যেতে লাগলো। ছেলেরা স্কুলে এসে নিজের সিটে বসে প্রথমে ব্যাগ থেকে কলমটা বের করতো। তারপর গোল রাবারটা বেঞ্চির সঙ্গে আটকে কলমটাকে খুব সুন্দর করে ব্যাগের পাশে শুইয়ে রাখতো। রাখার পর এদিক-সেদিক তাকাতো। যেন কতই না চমৎকার লাগছে! দুইদিন পর রাবারের আঠা উঠে গেলে আর সেটা কোনোকিছুর সঙ্গে আটকাতো না। পুরো ভাবটাই মার খেয়ে যেতো তখন। সে কথা জানার পরও আমি একদিন বাসায় আব্দার ধরলাম, আমার ঐ কলমটা লাগবে।

কেয়া পাতাদের দঙ্গলে এক নামধামহীন নীল পিচ্চিপিঁপড়া

গভীর রাত। এ সময় চড়াই ঠিকই মায়-দিন-মান মাঠ, ঘাট, বন, বাদাড় চষা শেষে ঘাসফড়িঙ বা আরো সুস্বাদু কোনো খাদ্যযোগে ডিনার সেরে নিজের নীড়ে ফিরে গেছে। হয়তো গভীর নিদ্রায় ডুবেও আছে। অথচ আমি টুইটারে বসে চড়াইয়ের ডাক দেবার অক্ষম চেষ্টা চালাচ্ছি!
ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্য চুরি-টুরি করে দু'টো দিন বের করেছিলাম মহাকালের ভেতর থেকে। জলে-ডাঙ্গায় বইটা পড়লাম। অসাধারণ ভ্রমণকাহিনী। রবীঠাকুরের একটা লাইন পেলাম সেখানে। মৃত্যূ বিষয়ক লাইন। মাথায় গেঁথে গেলো।

কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়
জয় অজানার জয়।

অহেতুক

ব্লগে ঢুইকাই দেখি কি জেসন বর্ণ খাড়ায় আছে। টেনশনে পড়ে গেলাম, যাব্বাবাহ্ এ কি কান্ড। এমনিতে বর্ণ লিগেসী মুক্তি পাইতেসে ম্যাট ডেমনরে ছাড়াই, তাই কয়দিন ধরে মনের মধ্যে উথাল-পাতাল; তার উপরে ব্লগে বর্ণ! অবশ্য একটু পরেই বুঝতে পারলাম, এইটা হইলো আমাদের বাউন্ডুলে বর্ণ (এখন বোধহয় সে আবার নাম চেঞ্জ করসে)। যাহোক জেরেমিরেও ভালো পাই। যদিও মিশন ইম্পসিবল ৪: ঘোস্ট প্রোটোকল ছাড়া তার আর কোনো সিনেমাই দেখি নাই। বিশেষ করে দ্য হার্ট লকারে নাকি ব্যটায় এ পর্যন্ত সবচে' ভালো অভিনয় করসে। সিনেমাটা কেন দেখা হয় নাই, ওস্তাদই জানে ভালো। তবে মিশন ইম্পসিবল দেইখা ব্যটারে আমার দারুণ লাগসে! বিশেষ করে হুটহাট দর্শকের চোখে পড়ে যাবার অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে তার। এই ব্যটার আরো একখান হিট মুভি আছে, কিন্তু সেইটার ভালো প্রিন্ট এখনো নেট-এ আসে নাই। দ্য অ্যাভেঞ্জার্স।

ভাল লাগা ভাবনারা - ৪

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।

যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।

-হেলাল হাফিজের কবিতা। নাম- নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়। রচনাকাল- ১৯৬৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। হেলাল হাফিজকে নিয়ে আসলে বেশি কথা বলা যাবে না। অল্প সংখ্যক কবিতা লিখেছেন এবং তাই দিয়ে বাংলা কবিতাকে নিজের স্থান থেকে আরো বেশ খানিকটা উপরে উঠিয়ে দিয়েছেন। ক্ষণজন্মা প্রতিভা।

ভাল লাগা ভাবনারা - ৩

এডওয়ার্ড এস্তলিন কামিংস‌্'কে (১৪/১০/১৮৯৪---০৩/০৯/১৯৬২) বলা হয় বিংশ শতাব্দীর সবচে' প্রসিদ্ধ কবিদের একজন। এটা উইকিপিডিয়ার তথ্য। ই ই কামিংস‌্ নামে পরিচিতি এ কবির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসচুসেট্‌স রাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে। তাঁর বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, পরবর্তী জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে ক্লিক করে।

আজকে একটু এই ভদ্রলোকের 'মে আই ফীল সেইড হি' কবিতাটি নিয়ে কথা বলি। কবিতাটি কামিংস্-এর ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ নো থ্যাংকস্-এ সংকলিত হয়। এর একটা অনুবাদ করেছিলেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। অনুবাদটি প্রথমে দেখে নেয়া যাক। বাংলা নামটি হুমায়ুন আজাদেরই দেয়া।

একটুখানি ছুঁই বললো সে

একটুখানি ছুঁই বললো সে
(কেঁপে উঠবোই বললো সে
শুধু একবার বললো সে)
তবে তো মজার বললো সে

(একটু কাছে টানি বললো সে
ঠিক কতোখানি বললো সে
খুব বেশি হবে বললো সে)
কেনো নয় তবে বললো সে

(চলো আসি ঘুরে বললো সে
নয় বেশি দূরে বললো সে
কতোটা বেশি দূর বললো সে
যতোটা তুমি মোর বললো সে)

একটু ঘষি মুখ বললো সে
(কীভাবে পাবে সুখ বললো সে