ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

প্রিয় পাহাড়টার উপর থেকে যখন কাউকে শূন্যে ভাসিয়ে দেবো

মানুষ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে এবং তাদের আচরণে সেটা ফুটতে থাকে। পুরোপুরি বদল না ঘটা পর্যন্ত অবশ্য সেটা বোঝা যায় না। যখন কোনো একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে একজনের আমূল পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবলে বোঝা যায়; পরিবর্তন শুরু হয়েছিলো আরও আগে থেকেই।

স্টিভ জবস্ বলে গেছেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জীবনের জরুরি বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া যায় না। আমরা সবসময় সেই ভুলটাই করি। একেকটা পরিবর্তনের চিহ্ন দেখি আর মনে করি বিষয়টা কিছু না। ভবিষ্যতে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে তা হয় না। অতীত থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকে। জরুরি কিন্তু অদৃশ্য বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া সম্ভব কেবলমাত্র অতীতের দিকে তাকিয়েই।

সময়ের কাছে আছে জগতের প্রায় সব সমস্যারই সমাধান। তাই বিষয়গুলো সবসময় খানিকটা সময়ের দাবিদার। আমরা সেটা বুঝতে চেষ্টা করি না। অস্থির সময়ের দাবি মেনে নিয়ে নিজের ভেতর অস্থিরতাকে ঠাঁই দিই। অথচ বিশ্বাস করতে চাই না, জীবনে আবার হয়তো কখনো স্থিরতা আসবে। মানুষ আসলে প্রাণী হিসেবে যতটা উন্নত, ঠিক ততটাই অদ্ভুত। সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যারা নিজেদের উন্নতির জন্য ডেসপারেট এবং অবনতির জন্যও।

মস্তিষ্কে বাসা বাঁধছে ঘূণপোকা

বুকে হাত দিয়ে বলো সূর্যের আলো রুখিতে কি পারে কেউ? আমাদের ধরে ঠেকানো যাবে না গণজোয়ারের ঢেউ। ডাকসুর দেয়ালে ঝুলে থাকা কালো হয়ে আসা চিকাটা মলয়দা'র লেখা। আর কয়দিন টিকবে কে জানে। যে রাতে মলয়দা' চিকাটা লিখেছিলেন সে রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে চিকাটা দেখে সারা দিন মনের ভেতর অজানা উচ্ছ্বাস অনুভব করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম তখন। আমরা নিয়ম করে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের দেয়ালে চিকা মারতাম। ভালো চিকা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কথাটা যত ভালোভাবে লিখতে পারতাম, তত বেশি সুখ পেতাম। তখনও গ্রাফিতির চল ঘটে নি সেভাবে। এখন ক্যাম্পাসে অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাফিতি দেখা যায়। আইএমএল-এর দেয়ালে একটা চমৎকার গ্রাফিতি দেখেছি সেদিন। আমাদের ঘাঁটিটায় একটা বড় গ্রাফিতি আঁকবার শখ জেগেছে সেটা দেখে। আর আফসোস জেগেছে যখন আমার সময় ছিলো, তখন এ বিষয়ে কেন কোনো জ্ঞান ছিলো না ভেবে।

গল্প: এক শীতে হারানো সুখের গল্প

আবার শীতকাল চলে এসেছে। অথচ এখনো চলছে কার্তিক মাস। তারপরও বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে।

শীতকালটা আমার খুব বেশি প্রিয় ঋতু না। আবার অপ্রিয়ও না। শীতের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে ভালো লাগে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে কুয়াশার উড়ে বেড়ানো দেখতে ভালো লাগে। জিন্স-জ্যাকেট-কেডস্ ইত্যাদিতে নিজেকে আগাগোড়া মুড়িয়ে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালো লাগে। এরকম কয়েকটা বিষয় আছে যেগুলো ভালো না লাগার কোনো কারণ নেই। তবে খারাপ যেটা লাগে সেটা হচ্ছে- অসহ্য ঠান্ডার কারণে পানিতে হাত দিতে না পারা। যেসব কাজে পানির সংস্পর্শে যেতে হয়, সেসব কাজ করতে না পারা। বরফের মতো ঠান্ডা শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে সাইকেল চালিয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফেরা। এ কাজগুলো শীতকালে করতে খুব বিরক্ত লাগে কিন্তু না করলেও চলে না। সব মিলিয়ে এ ঋতুটি একটি মিশ্র ঋতু।

আর সবকিছু ডুবে আছে আগ্রহহীনতায়

১.
পার্কে একটা কুকুর বাচ্চা দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো রাস্তার ওপর শুয়ে থাকে। খুব মায়াজড়ানো দৃশ্য। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। একটা পরিবার বাচ্চাগুলোর দেখাশোনা করে। তাদের অবশ্য নিজেদের দেখাশোনা করারই সামর্থ্য নেই। ওই পরিবারেও কয়েকটা শিশু আছে। তারা রাস্তার পাশেই পেতে রাখা ছোট ছোট চাটাইয়ে শুয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কুকুরের বাচ্চাগুলোকে কোলে নিয়ে বসে থাকে। কুকুরগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই, বাচ্চাগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই। কুকুরগুলোর লোম আছে, বাচ্চাগুলোর তাও নেই। মানুষ এখান থেকে হয়তো কুকুরগুলোকে বড় করার জন্য নিয়ে যাবে কিন্তু পরিবারটাকে সচল রাখার কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে না। বরং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি রুটি-রুজি জোগাড়ে বের হয়ে নানা উপায়ে মানুষেরই প্রতারণার শিকার হবে। আমার কুকুরের পরিবারের প্রতি যেমন মায়া লাগে, মানুষের পরিবারটির প্রতিও ঠিক তেমনি মায়া লাগে। কুকুর আর মানুষকে এক পর্যায়ে দেখে নিজের প্রতিও খানিকটা মায়া হয়।

যে কথাটা ওই পক্ষের জানা থাকা দরকার

জামাত-শিবিরের ভক্ত-অনুসারী-সমর্থকরা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। বিশেষ করে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার বিষয়টা কঠিন হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এরা প্রথম থেকেই কাদের মোল্লা ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ না হয়, সে ব্যপারে সচেষ্ট ছিলো। কোনো কোনো পর্যায়ে সফল হয়েছে। সে সময় গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের কাজ করাটা কঠিন করে তুলতে এ গোষ্ঠী খুব চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে এরা হেফাজতের পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে গরম গরম প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এসব ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ গণমাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এক ধরনের মেরুকরণও হয়ে গেছে।

নীল উইপোকাদের বাস্তবতা কিংবা কল্পনায় গন্তব্য খোঁজার চেষ্টা

একটি সমবায়ী পিঁপড়া তার নিজের চেয়ে অনেকবড় আকারের কিছু একটা দাঁতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ঘরের কালো অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কথাটা ভাবছিলাম। হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, আবার হলেও খুব বেশি সুবিধা নেই। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে বেঁচে থাকা একজন ছাপোষা কেরানী না হয়ে যদি ষাটের দশকের একজন বিটনিক হতাম, তাহলে কি ক্ষতি হতো?

কোনো এক প্রেম হাওয়ায় পেয়ে হাওয়ায় হারানোর পর চন্দ্রবিন্দুর অনিন্দ্য খুব সুন্দর একটি গান গেয়েছে। শিরোনাম হচ্ছে মন। শুনছি গানটা। আর কিছুই করা হচ্ছে না। মন আলেয়া পোড়ালো খালি হাত, মন জাগে না জাগে না সারারাত। রাত যত গভীর হচ্ছে, সুরটা তত মধুর হয়ে কানে প্রবেশ করছে। টেট্রা হাইড্রো ক্যানাবিনল মেশানো একটি সিগারেটের অভাবে ফুসফুস হাঁপিয়ে উঠছে। আধেক শোয়া অবস্থা ছেড়ে উঠে একটু কষ্ট স্বীকার করলেই নির্বাণলাভ সম্ভব। অথচ ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে এভাবে বুকের ভেতর একটা ক্লান্ত ফুসফুস নিয়ে শুয়ে থাকি অনন্তকাল। আর স্পিকারে বাজতে থাকুক, নাহয় পকেটে খুচরো পাথর রাখলাম।

গল্প: যখন আরো কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে অকারণে

কবি টং-এর ওপর বসেছিলাম অবন্তী আর আমি। মৃদুমন্দ বাতাসেই টংটা বিপজ্জনকভাবে দুলছিলো আর আমরা দু'জন ভয় পাচ্ছিলাম। কখন যে কাঠের গুড়ি-তক্তি সবসমেত আমাদের কবি টং উড়ে যায়, তাই নিয়ে চিন্তা হচ্ছিলো। ঝিরঝিরে বৃষ্টি বাতাসের মতো ভেসে বেড়াচ্ছিলো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচুতে, এই টংটা যে কে বানিয়েছে, জানি না আমরা কেউই।

ওখানে উঠলে একপাশে নাইক্ষংছড়ির পাহাড় আর অন্যপাশে বঙ্গোপসাগর চোখে পড়ে। একদিকে ঘন সবুজ, আরেকদিকে নীল। হালকা নীল। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায় কান পাতলে আর সমুদ্রের বিলম্বিত লয়ের গর্জন শোনা যায় সারাক্ষণই। এটা বোধহয় পৃথিবীর একমাত্র গর্জন যা মানুষের কানকে আতঙ্কিত করে তোলার বদলে শান্তি দেয়। ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্ট পাহাড় কেটে একটি রাস্তা বানিয়েছে। তার একদিকে পাহাড় আর একদিকে সমুদ্র। সেই রাস্তার ধারেই একটা ঢিবির ওপর ওই কাঠের তৈরি দোতলা কবি টংটা অবস্থিত। অবন্তী আর আমি সেখানে বসে বসে ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্টের প্রশংসা করছিলাম। আর ডালমুট সহযোগে ভদকা পান করছিলাম।

গল্প: সাধু জর্জের উপকূলে, অদ্ভুত ফেস রিডিং ক্ষমতাসম্পন্ন একজন মানুষের সাথে

লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে সাড়া দিয়ে সেবার শেষ পর্যন্ত বেইরুত শহরে চলেই যেতে হয়েছিলো।

প্রিয় প্লে-লিস্টের গভীর থেকে উঠে আসা একটি উপলব্ধি

আজকাল বা পরশু যদি সে এসে দাঁড়ায়
ছায়ার মতো আমার ছায়ায়
ছায়ারো ছায়াতে সে অন্যজন
ভরদুপুরে একলা রাতে অন্য মন...

গানটা মনে পড়ে গেলো যখন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে দিয়ে পার্কে ঢুকছিলাম তখন। কানে হেডফোন গোঁজার জন্য খানিক যাত্রাবিরতি নিতে হলো। তারপর মনে হলো পার্কে ঢুকে কি লাভ? এমন না যে, নীলা ভেতরে কোথাও আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। ও অনেকদিন আমার জন্য কোথাও গিয়ে বসে অপেক্ষা করে না।

একটা সময় দিনের বেশিরভাগ সময় সে লাইব্রেরীতে বা কমন রুমে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করতো। সে সময়গুলোতে স্মার্টফোনও বাজারে নামে নি। ছিলো না ফ্রুট নিনজার মতো কোনো গেম। সে কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা আমার জন্য বসে থাকতো আমি বুঝতাম না। মাঝে মাঝে ওর কাছে জানতে চাইতাম, কিভাবে পারো তুমি? ও কিছু বলতো না এবং শুধু নিঃশব্দে হাসতো।

আমি এখন বুঝতে পারি, ও সেটা কিভাবে পারতো। কারণ ও ভালোবাসতো। ভালোবেসে ঘন্টার পর ঘন্টা কারো জন্য কোথাও বসে থাকা অসম্ভব না। বিশেষ করে ভালোবাসার প্রথম দিককার দিনগুলোতে তো একেবারেই না। যেকোন ভালবাসারই প্রথম দিককার দিনগুলো একেবারে ইউনিক। আমার অসাধারণ লাগে!

হয়তো সে জীবনটা আমার ছিলো না

১.
মস্তিষ্ক খুব দ্রুতগতিতে জঞ্জালে রূপান্তরিত হচ্ছে। আজকাল আর খুব বেশি কিছু মনে থাকে না। অথচ আগে শ'খানেক পরিচিতের মোবাইল নাম্বার মুখস্ত ছিলো আমার। অনেক দিন পর্যন্তই ছিলো। ইদানীং খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, মানুষের নামটা পর্যন্ত মনে থাকে না খুব কসরত না করলে। শহরটারও আমার মস্তিষ্কের মতোই অবস্থা। আগে আমার বাসার জানালা দিয়ে তাকালে দেখা যেতো, আকাশটা কোথায় গিয়ে দিগন্তের কালো রেখার সঙ্গে মিলেছে। এখন জানালা দিয়ে তাকালে নির্মাণাধীণ ভবন দেখতে পাই। কিছুদিন পর হয়তো ভবনটির গায়ে সুন্দর রং করা হবে। কিন্তু সে রং আকাশের মতো হবে না।

২.

দ্রুতগতিতে চলছে জীবন

"ও ছোটপাখি ছোটপাখি সর্বনাশ হয়ে গেছে
পৃথিবীর পরে আর
তোমার-আমার
ভালোবাসার কেউ নেই, কিছু নেই।

ও ছোটপাখি ছোটপাখি
ভাংচুর হয়ে গেছে
শিশুদের খেলনায়, আমাদের দোলনায়, ডাকবাক্সের ঢাকনায়
রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টে আলো নেই।

ও প্রেমপাখি প্রেমপাখি
গানটা হেরে গেছে, নদীটা ফিরে গেছে, পাহাড়টা সরে গেছে, সাগরটা মরে গেছে
আদিবাসী শামুকের কোনো ঘর নেই।

ও নেই নেই কিছু নেই
রাস্তার বাম নেই, শ্রমিকের ঘাম নেই, টাকাদের দাম নেই, চিঠিটার খাম নেই
আমাদের কারো কোনো নাম নেই।

ও ছোটপাখি ছোটপাখি সর্বনাশ হয়ে গেছে
পৃথিবীর পরে আর
তোমার-আমার
ভালোবাসার কেউ নেই, কিছু নেই।"

২০০৪-০৫ সালের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি খুব বেশি দিন হয় নি। প্রাইভেট টিউটর বা পত্রিকার ইউনিভার্সিটি রিপোর্টার জাতের কিছু হয়ে ওঠার তাগিদ তখনো মনের ভেতর ঢোকার পথ খুজেঁ পায় নি। ইন ফ্যাক্ট, স্কুল-কলেজের বন্ধু-বান্ধবদের তখনো নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে রাখতে ভালো লাগতো। ক্যম্পাসে, ডিপার্টমেন্টের ক্লাসে- কোথাও খুব বেশি মন বসতো না। কিন্তু ক্যম্পাসে গেলে একটা জিনিস ঠিকই টের পেতাম, সেখানে আমার একটা নোঙর পোঁতা আছে। কোথাও না কোথাও।

গল্প: প্রিয় বর্ষাকে নিয়ে দুই ছত্র

বর্ষা একটা দারুণ ঋতু। বিশেষ করে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হুডখোলা রিকশায় ঘোরার মজাই আলাদা। এ সংক্রান্ত একটি ছোট্ট সত্যি গল্প মনে পড়ে গেলো লীনা আপুর প্রকৃতি কথা... ব্লগটা পড়ে। ভাবলাম, লিখে ফেলি। উনাকে অনেকদিন কোনো পোস্ট উৎসর্গও করা হয় না। সেটাও করা হলো এই সুবাদে। Smiley

---

সেবার নম পেন যেতে হয়েছিলো একটা আন্তর্জাতিক শিশু বিষয়ক সম্মেলনের ঢাকনা দিতে। কভার করার বাংলা হিসাবে এই কথাটা ব্যবহার করে আমি খুব মজা পাই। সম্মেলন শুরুর দিন সকালে আকাশে রোদ ঝিকমিক করছিলো। আর ছিলো ঠান্ডা বাতাস।

জলে যায় জলের পোকা, স্কুলে যায় কোলের খোকা

সেদিন দু'টি চড়ুই পাখির কলহ দেখছিলাম। আমি আর দুর্জয়। ওরা ঝগড়া করতে করতে নিজেদের আবাসস্থল ছেড়ে মাটিতে নেমে এসেছিলো। ছেলে চড়ুইটা চড়ুই পাখির ভাষায় চিৎকার করে অন্য চড়ুইদের কাছে সঙ্গীনির নামে বিচার দিচ্ছিলো। আর আশপাশটা ঠিক তখনই নিশ্চুপ হয়ে যেতে দেখে বুঝে ফেললো, দু'টি মানবসন্তান ওদের খেয়াল করছে। সঙ্গে সঙ্গে দুই জন ফুড়ুৎ। চড়ুই পাখিরা কখনোই নিজেদের ঝগড়া মানুষকে দেখতে দিতে চায় না।

সেই ঝগড়ার পুরো সময়টিতে মেয়ে চড়ুইটিকে একবারের জন্যও মুখ খুলতে দেখি নি। ভালবাসা মনে হয় এমনি। সঙ্গীর প্রতি যদি অভিযোগই থাকে, তাহলে কি ভালবাসা থাকা সম্ভব?

ছোট পাখি ছোট পাখি ভাঙচুর হয়ে গেছে শিশুদের খেলনায়, আমাদের দোলনায়…

লিংক

কি কি উপায়ে বাঁশের কেল্লা এবং ওই চক্রটিকে রুখে দেয়া যায়?

বাঁশের কেল্লা নামের ফেসবুক পাতাটি ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে উঠছে। একাধিকবার সরকারীভাবে বন্ধ করে দেয়া পরও কোনো লাভ হয় নি। কারণ বন্ধ করার অল্প সময়ের মধ্যেই শিবিরের লোকজন আবার একই নামে একটি করে নতুন পাতা চালু করে ফেলছে। তারপর বাঁশের কেল্লার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন পাতাটির লিংক ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট চড়ে বেড়ানো ছাগুর দল মুহূর্তে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সেখানে। চাঁদে দেইল্ল্যা রাজাকারের মুখ দেখা যাওয়ার গুজব এই বাঁশের কেল্লার মাধ্যমেই সারাদেশে ছড়ানো হয়েছিলো। এই ভয়ংকর গুজবটির কারণে সারাদেশে একশ'র বেশি মানুষকে মরতে হয়েছে। সিএনএন-এর আইরিপোর্ট বিভাগে এ ঘ্টনাটি নিয়ে একটি রিপোর্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে- কিভাবে ইসলামকে অপব্যবহার করে বাংলাদেশে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।

রাত যত গভীর হয়, ভোর তত এগিয়ে আসে

১.

দেশে একটা সংকটকাল উপস্থিত হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, রংপুর, ঠাকুরগাও, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ৪ পুলিশসহ ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে 'দেইল্যা রাজাকার'-এর ফাঁসির আদেশ দেয়ার পর এসব সংঘর্ষ শুরু হয়।

লক্ষণীয় যে, ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পর দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ৫ তারিখ সন্ধ্যার পরের অংশটুকু বাদ দিলে এ আন্দোলনের বয়স ২৪ দিন। আর ওই আগুন লাগানো সন্ধ্যাটিকে ধরে হিসাব করলে ২৫। এতগুলো দিন আমরা কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু একজন মানুষকেও কুটোর আঁচ পেতে দিই নি। অথচ ওদের নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর মাত্র ১ দিনে সারাদেশে মরতে হয়েছে ৪২ জন মানুষকে। অনেকে আবার ওদেরই দলের সদস্য। এই জামায়াত-শিবিররকে যে আমরা রক্তচোষা জানোয়ার বলি, সেটা কি ভুল বলি?