ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

সিরিয়াস লেখা

সৌন্দর্য্য এমন একটা বিষয় যেটার প্রতি পৃথিবীর সব মানুষের একটা আকণ্ঠ তৃষ্ণা রয়েছে। অথচ সৌন্দর্য্য বিচার করার স্বাভাবিক ক্ষমতা কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই নেই। সাধারণত আমরা চেহারার বৈশিষ্ট্য যেমন চোখ, মুখ ও নাকের আয়তনিক গড়ন, চুলের রং, দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব, শরীরের বলিষ্ঠতা ও রং-এর মতো কিছু বিষয়কে সৌন্দর্য্যের মূল প্রতিনিধি মনে করি এবং সেগুলোর উৎকর্ষকেই কেবলমাত্র গুরুত্ব দিই। এই বিচারে পৃথিবীর তাবত খাটো, কালো, নাকবোঁচা, টাকমাথা, ভুরিওয়ালা, দৃশ্যমান জায়গায় জন্মদাগ কিংবা জরুল সমৃদ্ধ সবাই বাদ পড়ে যায়। অথচ একবার ভেবে দেখুন এইসব বৈশিষ্ট্যর কোনো একটিরও কি বিনিময়মূল্য রয়েছে? বিশেষ উপায়ে বলিষ্ঠ বানানো শরীরের যৌনকর্মে উপকারী ভূমিকা পালনের সামর্থ্য থাকলেও, সেটি সর্বক্ষেত্রে কার্যকর নয়। এছাড়া অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত অফলপ্রসূ।

নির্বাণের পথে

১.
এখন সকাল, এখানে সকাল
মেঘলা সকাল, মাটি ভেজা ভেজা গন্ধ,
তোমার আকাশে কতো তারা ভাসে
তুমি দেখোনাতো তোমার জানালা বন্ধ।

কিছু একটা করবো করবো করে প্রায় পুরো জীবনটা পার করে দিলাম, অথচ এখন পর্যন্ত কিছুই করলাম না। করতে পারলাম না কথাটা লিখতে গিয়েও লিখলাম না, কেননা সেভাবে চেষ্টাও করি নি কখনও। আবার উল্টোটাও সত্য, বেঁচে থাকা মানেই তো নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া। তার মানে চেষ্টা যে করি নি, তাও তো না।

২.
তোমার চিঠি কালকে পেয়েছি
ক'হাজার মাইল পেরিয়ে এসেছে
তোমার কথার ছন্দ,
একা একা রাত কাটানো কবরে
কুয়াশা জড়ানো ভোরের খবরে
পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ।

জাগতিক

লিটনের পজিটিভ দিক ছিল মাত্র একটা। সেটা হলো যেকোন নেশা থেকে মুক্ত হতে তার সময় লাগে না।

ভবের বেড়ি পায়ে জড়ানো

১.

বছরের প্রথম দিনটাকে ফ্রেশ আর ঝামেলামুক্ত রাখার তাড়না থেকে মনে হয় সবার মধ্যেই এক ধরনের হালকা উত্তেজনা কাজ করে। এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ আছে? পহেলা জানুয়ারি কি ক্যালেন্ডারের অন্য সব দিনগুলোর মতোই আরেকটা দিন নয়? যদি না সেদিনের সাথে কোনো বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে থাকে?

২.

গ্রে-ক্লাউড

গ্রে-ক্লাউড আমার রাউটারের নাম। খুব কাজের জিনিস। অনেকটা সিথ্রিপিও'র মতো। ওরকম একটা রোবট পেলে খারাপ হতো না। কেন যে আরও ৩০ বা ৫০ বছর পরে জন্মালাম না!

অ্যানিকিন আর পাডমের গর্ভে জন্ম নেয়া জমজ সন্তানেরা আবারও একদিন গ্যালাক্সিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। অ্যানিকিন কি জানে, নিজের অজান্তেই সে জড়িয়ে যাচ্ছে ডার্ক সাইডের সাথে? পাডমেও বুঝতে পারছে না বিষয়টা। আহা স্টার ওয়ার্স! কিভাবে সম্ভব এতোটা অসামনেস নিজের ভেতরে ধারণ করা?

শেলডন আর অ্যামি শেষ পর্যন্ত সেক্স করেছে! ওদের ব্রেক-আপটা দেখতে দারুণ লাগছিল। জানতাম যে একদিন ওরা ঠিকই এক হয়ে যাবে আবার। নাটক-সিনেমায় সবসময় অবাস্তব জিনিসপাতিই দেখায়, তাই না? ওই জন্যই আমরা নাটক-সিনেমা এত পছন্দ করি। বাস্তব জীবনে তো যেটা ভাবি, সেটা কখনোই ঘটে না।

এক্সএক্সওয়াইওয়াইএক্সএক্স

কংকালেরা কিন্তু সিগারেট খায়। একটা কংকালকে চিনি যার প্রিয় সিগারেট হচ্ছে গোল্ড লীফ। একটু কড়া ধরনের টোব্যাকোগুলো আসলে অদ্ভুত।

ঠিক তেমনি অদ্ভুত একটু কড়া ধরনের সঙ্গীতায়োজনগুলি। রড স্টুয়ার্টের একটা দুই মিনিটের ট্র্যাক আছে। অ্যামেইজিং গ্রেস। শেষ মুহূর্তে এক প্যারার একটা লিরিক মাত্র। পৃথিবীতে যে কত রকমের অবাক করা জিনিস আছে!

ইন্টারস্টেলার সিনেমাটা আমার কাছে একটু হরর হরর লাগলো কেন যেন। তবে বেস্ট সায়েন্স ফিকশন মুভি আমার দেখা। স্টার ওয়ার্সগুলো দেখতে দারুণ লাগছে। আরটুডিটু খুবই কুল।

আর পড়ি হচ্ছে রিসার্চ পেপার। অতিরিক্ত ভিডিও গেইম খেলার আসক্তিকে কেউ কেউ নেগেটিভ হিসেবে দেখে থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ গবেষণা বলছে ভিডিও গেমে আসক্ত হওয়ার সঙ্গে ভায়োলেন্ট হওয়ার সম্পর্ক খুবই কম।

---

অসমাপ্ত ঝিকিমিকি গল্প (২)

তবে আনা যে কথাটা খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল, তা কিন্তু না। ও থাকে সবসময় ওর মনে। আর ওর সেই থাকার মধ্যেই আশপাশের প্রত্যেকটা মানুষ জেনে যায় যে, সে আছে কোথাও, আশপাশে। ওর হুটহাট গলা ফাটিয়ে হাসার শব্দে মাঝে মাঝে বুড়োদের গ্লাসের বিয়ার চলকে পড়ে। আমার কাজ ছিল মূলত ওর পাশে বসে বসে ওকে কথা বলতে দেয়া। তার মানে অবশ্য এই না যে, আনা অনবরত বক বক করতে থাকে। বরং ওর কথা শোনাটা অনেক ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার ছিল। পৃথিবীর কোন কোন টপিক থেকে যে সে মজার মজার জিনিস জোগাড় করে আনতে পারতো, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না।

টেকনোলজি ও সবুজ কোক

ফেসবুক বন্ধ থাকার কারণে যদি দেশের একটা মানুষ খুশি হয়ে থাকে, তাহলে সেইটা ছিলাম আমি Crazy কারণ ভাবছিলাম অন্তত এই কারণে দুই-চারজন ব্লগার এইদিকে পদধূলি দেবে Big smile যাই হোক, সেই আশার গুড়ে বালি পড়ছে। এক মেসবাহ ভাই আর এক টুটুল ভাই ছাড়া কারও দেখা পাই নাই Puzzled

অবশ্য আমার আলোচনার বিষয় সেটা না। আমার আইজকার বিষয় হৈল টেকনোলজি Wink কেউ কি জানে ব্লগে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিছে? Shock Shock Shock যার মধ্যে অন্যতম ও একমাত্র হৈল গিয়া, বিগড়ানো ছবি আপলোড করার যন্তর মন্তর।

আমি কয়েকবার ছবি আপলোড করার চেষ্টা করে দেখলাম, কিছুই হয় না Puzzled ফটোব্লগ টিউটোরিয়ালে ঢুকে দেখি লেখা আছে কিন্তু ছবি নাই Shock ছবি মুছে যাওয়ার বিষয়টা দেখে মনে হইলো, এইভাবে যদি লেখাও মুছে যায়, তাহলে তো বিরাট সমস্যা Sick

কবিতা: কেন?

কেন তুমি মারিয়া বা ফ্রান্সির মতো
ক্লাবে বা ক্যাফেটেরিয়ায় বা রাস্তায় বা সিটি সেন্টারে
মুখোমুখি হয়ে যাও না?
কেন তুমি জাস্ট কোনো কারণ ছাড়া
আরও একবার মেয়েদের কমন রুমের সামনে দাঁড়িয়ে
আমার জন্য অপেক্ষা করো না?
সময়টা আমরা পার হয়ে এসেছি তাই না?
অনেকদূর চলে এসেছি তারপর, একা একা
আমাদের একসাথে চলাটা এবং একসাথে ভালবেসে বেসে
কাছে থাকাটা, বোধহয় এখন খুব দুঃখিত মুখে
বসে আছে কোথাও, একা একা।
কোথায় বলোতো, হয়েছিল আমাদের প্রথম দেখা?
প্রথম ক্লাসে? যখন তুমি বলেছিলে- সত্য কথাটা কেবল তুমিই বললে।
হাহাহা, সেটা আসলে ঠিক না,
যেদিন তুমি প্রথম আমাদের ডিপার্টমেন্টে আসলে, যেদিন একটা ছেলে প্রথম
তোমায় দূর থেকে দেখেছিল,
যাক সেসব কথা, শুধু বলি তুমি সেদিন একমাত্র যে ছেলেটার সাথে কথা বলেছিলে
সে ছেলেটা তোমার কথা নেয়ার মতো ছিল না, এবং
যে ছেলেটা সেদিন দূর থেকে শুধুই তোমায় দেখছিল,

একটি মানুষের আত্মকাহিনী

আমার যে ভার্সনটা আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি সেটা ঘুরে ফিরে আসে। প্রতি দুই-তিন মাসে একবার। কয়েকটা দিন খুব মাজুল অবস্থায় কাটে। মার্ফি'জ ল-কে সত্য প্রমাণ করতে সেই দিনগুলো আসে সেমিস্টারের ব্যস্ততম সময়গুলোতে। পড়া-শোনা লাটে উঠে থাকে আর আমি বায়বীয় কষ্টের সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অশরীরি মাথা নাড়িয়ে সিস্টেম অফ আ ডাউন শুনি।

চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেছে। শুধু আমরা আমাদেরকে যেসব চিঠি লিখেছিলাম সেসব রয়ে গেছে। কি আশ্চর্যের বিষয়, তাই না? পাখি উড়ে যায়, রয়ে যায় ঝরা পালক। ভালবাসা মরে যায়, রয়ে যায় বিবর্ণ স্মৃতি।

ডাক্তার বলেছে সিঙ্গেল রুম চেঞ্জ করে জয়েন্ট অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে। একা থাকাটা নাকি এখন আমার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমি নাকি এখন খুবই ভালনারেবল। এ সময়টায় আমাকে নাকি সবসময় বন্ধু-বান্ধব অথবা জনমানুষের কাছাকাছি থাকতে হবে। যাতে একেবারে শেষ মুহূর্তে যদি ফিরে আসতে চাই, অন্তত যেন সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতে পারি।

পাওলো কোয়েলহোর পেন্সিল

সময় নামের বইটার পাতা পেছনে উল্টিয়ে মাঝে মাঝে তোমার আমার যৌথ জীবনে উঁকি দিতে যাই। সাধারণত ঘটনাটা ঘটে যখন রাতের আকাশ আলো করে চাঁদের আনাগোনা দেখা দেয়। অথবা প্রকৃতির খুব কাছাকাছি চলে গেলে (যতোটা কাছাকাছি গেলে পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসের সৌন্দর্য্যই চোখে পড়ে) তোমার কথা মনে পড়ে।

কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে গিয়ে তোমায় শিশুর মতো খুশি হতে দেখেছিলাম। তখনই মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম আমরা পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর জায়গায় ঘুরতে যাবো। তোমাকে হাসতে দেখলে আমার মাঝে এক অজানা শিহরণ জন্ম নিতো। শুধুমাত্র সেই অনুভূতিটা বারবার পাওয়ার জন্য অনেকটা স্বার্থপরের মতোই তোমায় নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়েছিল।

কখনও রিকভার হবে বলে মনে হচ্ছে না

অথচ আমি খুব যে কষ্টে আছি তাও কিন্তু না। খালি মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা'র 'চোখটা এতো পোড়ায় কেন' গানটা শোনার জন্য অদ্ভুত এক অস্থিরতা অনুভব করি। ভেতরে ভেতরে। ধ্রুব সেদিন জানতে চাচ্ছিল, আপনি কি রিকভারি করে ফেলেছেন? আমি নিজের ভেতরে প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে যা পেয়েছিলাম তা হলো, না। এখনও রিকভারি করতে পারি নি। সারাটা দিন যতো হিহিঠিঠি-ই করি না কেন, বেলাশেষে কোথায় যেন একটা কষ্টের সুর বাজে, শুনতে পাই। মনে হয় অনেক দূর থেকে কোনো রাজকুমারীর কান্নাভেজা কণ্ঠের গান ভেসে আসছে। সেই সময়টায় ভীষণ অস্থির লাগে। একটার পর একটা সিগারেট পোড়াই। হুমায়ুন আজাদ স্যারের সেই কবিতাটার মতো,

"শুধু তোমার মুখের ছাঁয়ায় বুকটা কেঁপে উঠলে
রাতটা জেগেই কাটাই, বেশ ভাল লাগে
সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই।"

তাদের সাথে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছি

আচ্ছা, যদি বলি ইদানীং হিন্দি গান শুনছি তাহলে কি কেউ আমাকে মারতে চাইবেন? খুবই কমন গান শুনছি তাও আবার। লাগ যা গালে..., হিনা কি খুশবু.., আর দিলবর জানিয়া। কি যে সমস্যা, বুঝি না। আর অালসেমী রোগটা আবার বাসা খোঁজা শুরু করেছে। যতোই বলি আমার বাড়িতে জায়গা নেই, ততোই আরও জেঁকে ধরতে চায়। কাজও আজকাল এত কম করি আর এত অদরকারী কাজ করি, যে বলার মতো না। তবে একটা জিনিস জানলাম।

কিছু বিষয় যেগুলো কেবল আমিই জানি

বন্ধু দেবরাজ সেদিন একটা কথা বলেছিল, আমার সম্পর্কে- 'ও বোধহয় মরে গেলেও বলবে না যে আমি মারা যাচ্ছিলাম'। আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন ওই কথাটা ভাল লাগার কোনো কারণ ছিল না। একটা মানুষ মরে গেলে তারপর সে কিভাবেই বা কথা বলবে? তারপরও কথাটা মনের ভেতর তৎক্ষণাত বিঁধে গিয়েছিল তীক্ষ্ণভাবে। আসলেই কি আমি এমন? নিজেকে কখনো বোঝাতেই পারি নি? কারও কাছে?

আমাদের ছোট ছোট সুখগুলি

জীবন প্রায়ই ছোট ছোট সারপ্রাইজ দিয়ে আমাদেরকে মুগ্ধ করার চেষ্টা চালায়। আমরা সবসময় সেগুলো ধরতে পারি না। বিশেষত অনভ্যাসের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট বিষয়কে ছোট হিসেবে অগ্রাহ্য করে নিজেদেরকে বঞ্চিত করি। যদিও কাজটা আসলে ঠিক না।

ব্লগ আর ফেসবুকের মাধ্যমে চেনাজানা হয়েছিল এক বড়ভাইয়ের সাথে। তিনি সবসময় কি যেন একটা কষ্টের মধ্যে থাকতেন। তাকে যদি বলি ভাই দুশ্চিন্তা পাশে সরিয়ে রেখে কিছুক্ষণের জন্য একটু হাসেন তো। উনি গোমড়া মুখে উত্তর দিতেন, আমার সাথে ভাল কিছু কখনও ঘটে না। উনার সিরিয়াসনেস দেখে আমারই মাঝে মাঝে হাসি পেয়ে যেতো।