ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

যা কিছু হয় কিংবা হয় না

ঘুরেফিরেই এমির কথা আসছে মনে হয়, তাই না? যখনই আমি বাসায় থাকি, তখনই কোনো এক ব্যাকগ্রাউন্ডে ওর গান চলতে থাকে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতো, যখন ছোট ছিলাম। একই গানের লুপে আটকে থাকতাম দিনের পর দিন। এমি'র বেশিরভাগ গানের কথা এমন যে, প্রথমবার শুনলে মনে হয়, এটা কি শুনলাম? তারপর ব্যপারটা ভাল করে বোঝার জন্য শুনতে হয় আবার।

সেদিন ঘরে বসে বসে গবেষণাকাজ করছিলাম। ব্যাকগ্রাউন্ডে যথারীতি এমি চলছিল। এক সময় শুনি অদ্ভুত এক প্রেমিকা গানে গানে বলছে, যদি তার প্রেমিক কোনো অপবিত্র যুদ্ধে যেতো, তাহলে সে তার সাথে থাকতো। সেই প্রেমিক যার জন্য মৃত্যুকে বরণ করে নিতো, সেও তার জন্য মৃত্যুকে বরণ করে নিতো।

যে সমাজে আমাদের কোনো ঠাঁই থাকবে না

অভ্যন্তরীণ ব্যাপার-স্যাপার সংক্রান্ত ধারণাটা আমি বস্তুত ঠিকঠাকমতো বুঝি না। আমার মনে হয় গণমানুষের অভ্যন্তরটা ঠিক ততোটা গভীর না, যতোটা আমরা শিশুকালে মনে করতাম। কামিনী রায় কি তবে একসময় ভুল ধারণা দিয়েছিলেন? "আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী' পরে"- কি শুধুই কথার কথা? আমি তো দেখি, মানুষ কেবলই স্বার্থ খোঁজে। বিভিন্ন মাত্রায়। সবচেয়ে কম স্বার্থপর যে মানুষ সেও নিজের স্বার্থ খোঁজে, তার প্রিয়জনদের ভেতর।

ঝড়ের গতিতে কাটছে সময়। দিনগুলো ফুরিয়ে যায় চিপসের প্যাকেটের মতো। একরাশ দ্বিধা-দন্দ্ব ছড়িয়ে। সপ্তাহগুলো আকার পাচ্ছে ধাবমান রেলগাড়ির। মাসগুলো যেন চলমান মহাকাশযান। ছুটছে প্রবল গতিতে কিন্তু তাকালে বোঝা যায় না। শীত চলে গিয়ে এখন বসন্ত এসেছে। গাছে গাছে ফুটে আছে বিষাদের ফুল। গাছেরা কি বলতে চায়? ওরা কি বসন্ত চায় নাকি এখনও প্রস্তুত নয়? কার অপেক্ষায় ওদের এই মুখ ফিরিয়ে থাকা?

খুঁজে নেবো

কেন একদিনও ভুলে থাকা যায় না? কেন অন্য কারও কথা ভাবলে শুধু সেই অন্য জনের কথাই ভাবতে থাকা যায় না? কেন মাঝামাঝি কোনো একটা জায়গায় গিয়ে হারিয়ে যাই প্রতিবার, সেই সব সন্ধ্যার, কোনো একটায়।

যখন ৪০ ডিগ্রীর একেকটা দিন শেষে আমরা দু'জন অফিস থেকে বের হয়ে একসাথে ক্যাম্পাসে ফিরতাম। গরমে সারাদিন যে পরিমাণ অশান্তি মনে জমা হতো, সেগুলো সব ধুয়ে যেতো তোমার স্পর্শে। তুমি বসে থাকতে আমার কাঁধে হাত দিয়ে। একবার কাওরান বাজারে বাংলাভিশন অফিসের সামনে কি নিয়ে যেন একটা ঝগড়া হয়ে যাবার পর থেকে তুমি সাইকেলে অনেকদিন দু'দিকে পা দিয়ে বসতে না।

ময়ূরের লেজে কেন আঁকা অসংখ্য চোখ?

১.

আমিও একবার অমন এক ময়ূরের রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে চোখ খুললে কিছু দেখা যায় না, চোখ বন্ধ করলে সব পরিস্কার। কান পাতলে শুনতে পাই হাহাকার, আর মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নিলে পরিস্কার শোনা যায় ঝর্ণার কুল কুল ধ্বনি। হঠাৎ কোত্থেকে যেন একটা কাঠবিড়ালী লাফিয়ে আমার কোলে এসে পড়েছিল। আদর করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই, সে রাজকুমারী এরিয়েলের কণ্ঠে কথা বলে উঠলো। আমি চমকে চোখ খুলে দেখি এক অধনগ্না, বিশালবক্ষা, মধ্যবয়সী; আমায় ব্রার্টভার্স্টের সসেজ ভেবে খুব করে মায়োনিজ আর ক্যাচাপ মাখাচ্ছে। অারেকটু হলেই হজম হয়ে যেতাম আর কি! ভাগ্যটা ভাল থাকায় আরও একবার সুখ পাহাড় আর দুখ পাহাড়ের সেই লিজেন্ড উপভোগের জন্য একটা এক্সট্রা লাইফ বোনাস পেয়েছি। তবে তারপর থেকে নীল রক্তই শুধু ক্ষরণ হয় হৃদয় থেকে। আর ভালবাসা ভরে থাকে কোনো এক হারিয়ে যাওয়া বেলুনের ঢাউস পেটে।

২.

আমি হয়তো মেনি পোলার ছিলাম, শুধু বাইপোলার না

নিজেকে নিয়ে অনেক বড় একটা রিয়ালাইজেশন হয়েছে সম্প্রতি। সে ব্যপারটা জানানোর জন্যই এই লেখাটা। তবে রিয়ালাইজেশনটা বলার আগে কিছু পরিকল্পনার কথা বলতে চাই। অনেকে এগুলোকে ফ্যান্টাসী বলে কিন্তু আমি পরিকল্পনাই বলি। বলতে পছন্দও করি। পরিকল্পনাগুলোর সাথে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম, এখনও আছি। তবে সেগুলোর কোনোটিই এখনও বাস্তবায়িত হয় নি। কোনটা যে বাস্তবায়িত হবে, জানি না। কোনোটা কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে? তাও জানি না।

কালা পাখি শোন তোর চক্ষু কান কিছু নাই

কম্পিউটারের স্পীকারটার ওপর চাপ ফেলতে ভাল লাগে। কাজ হচ্ছে না কোনকিছুতে। কাকে যেন একবার বিপ্লবের ডাক শুনিয়ে কনভিন্স করেছিলাম। আজ আর মনে নেই, সে কে ছিল। কেন সে মাঝখানে কয়দিন বিপ্লবের স্বপ্ন চোখে নিয়ে দিন-রাত আমার সাথে সাথে ঘুরেছিল?

মানুষ কিসের আশায় জীবন যাপন করে? পৃথিবীতে নিজের উপস্থিতিকে অন্তত নিজের কাছে স্মরণযোগ্য করে রাখতে, নাকি নিজের লিগেসি টিকিয়ে রাখতে? বুলবুলি গান গায় বকুলেরও ডালে, ভ্রাম্যমাণ ভ্রমর বসে গন্ধরাজ ডালে।

যে সুপারহিরোর কোনো পাওয়ার নাই, সে যদি পৃথিবীর জন্য নিজেকে সন্তপর্ণে বিলিয়ে দিতে চায়; তার কি কোনো উপায় আছে? তার পক্ষে কি কোনভাবে নিজের ইচ্ছেপূরণ করার সুযোগ আছে? ওসুওফিয়া ইন লন্ডন সিনেমায় মানুষের চরিত্রের খুব 'র' ভার্সনটা দেখানো হয়েছে। যেখানে কৌতুক, প্রেম, আর মহত্ব হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটে। অপর পাশে নীচতা আর ব্যর্থতার হাহাকার।

দি গ্রেট রেড স্পট

১.
ভালার মুরঘালিস্। অর্থ, অল মেন মাস্ট ডাই। ডানেরিস টারগেরিয়েন নামের ছোট্ট রুপালী চুলের মেয়েটির আকর্ষণে 'গেম অব থ্রোন্স' দেখতে বসে আটকে গেছি। আচ্ছা; এখানে একটা ম্যারি, ফাক, অ্যান্ড কিল ট্রিভিয়া দিই। গেম অব থ্রোন্সের ডানেরিস, স্টার ওয়ার্সের রে, আর হ্যারি পটারের হারমিওনি; তিনজনের মধ্যে কাকে আপনি বিয়ে করতে চান, কার সাথে সেক্স, এবং কাকে খুন করতে পারবেন? আমার সিরিয়াল হচ্ছে, বিয়ে- হারমিওনি, সেক্স- ডানেরিস আর কিল- রে। রে-কে কিল করতে চাই শুনে জিমি অবাক হচ্ছিল কারণ ওর সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হচ্ছে রে, ওই তিনজনের মধ্যে। আমার অবশ্য কাউকেই খারাপ লাগে না। জাস্ট বন্ধুদের প্রায়োরিটি মাথায় রেখে সিরিয়াল সাজাচ্ছিলাম।

২.

সিরিয়াস লেখা

সৌন্দর্য্য এমন একটা বিষয় যেটার প্রতি পৃথিবীর সব মানুষের একটা আকণ্ঠ তৃষ্ণা রয়েছে। অথচ সৌন্দর্য্য বিচার করার স্বাভাবিক ক্ষমতা কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই নেই। সাধারণত আমরা চেহারার বৈশিষ্ট্য যেমন চোখ, মুখ ও নাকের আয়তনিক গড়ন, চুলের রং, দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব, শরীরের বলিষ্ঠতা ও রং-এর মতো কিছু বিষয়কে সৌন্দর্য্যের মূল প্রতিনিধি মনে করি এবং সেগুলোর উৎকর্ষকেই কেবলমাত্র গুরুত্ব দিই। এই বিচারে পৃথিবীর তাবত খাটো, কালো, নাকবোঁচা, টাকমাথা, ভুরিওয়ালা, দৃশ্যমান জায়গায় জন্মদাগ কিংবা জরুল সমৃদ্ধ সবাই বাদ পড়ে যায়। অথচ একবার ভেবে দেখুন এইসব বৈশিষ্ট্যর কোনো একটিরও কি বিনিময়মূল্য রয়েছে? বিশেষ উপায়ে বলিষ্ঠ বানানো শরীরের যৌনকর্মে উপকারী ভূমিকা পালনের সামর্থ্য থাকলেও, সেটি সর্বক্ষেত্রে কার্যকর নয়। এছাড়া অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত অফলপ্রসূ।

নির্বাণের পথে

১.
এখন সকাল, এখানে সকাল
মেঘলা সকাল, মাটি ভেজা ভেজা গন্ধ,
তোমার আকাশে কতো তারা ভাসে
তুমি দেখোনাতো তোমার জানালা বন্ধ।

কিছু একটা করবো করবো করে প্রায় পুরো জীবনটা পার করে দিলাম, অথচ এখন পর্যন্ত কিছুই করলাম না। করতে পারলাম না কথাটা লিখতে গিয়েও লিখলাম না, কেননা সেভাবে চেষ্টাও করি নি কখনও। আবার উল্টোটাও সত্য, বেঁচে থাকা মানেই তো নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া। তার মানে চেষ্টা যে করি নি, তাও তো না।

২.
তোমার চিঠি কালকে পেয়েছি
ক'হাজার মাইল পেরিয়ে এসেছে
তোমার কথার ছন্দ,
একা একা রাত কাটানো কবরে
কুয়াশা জড়ানো ভোরের খবরে
পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ।

জাগতিক

লিটনের পজিটিভ দিক ছিল মাত্র একটা। সেটা হলো যেকোন নেশা থেকে মুক্ত হতে তার সময় লাগে না।

ভবের বেড়ি পায়ে জড়ানো

১.

বছরের প্রথম দিনটাকে ফ্রেশ আর ঝামেলামুক্ত রাখার তাড়না থেকে মনে হয় সবার মধ্যেই এক ধরনের হালকা উত্তেজনা কাজ করে। এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ আছে? পহেলা জানুয়ারি কি ক্যালেন্ডারের অন্য সব দিনগুলোর মতোই আরেকটা দিন নয়? যদি না সেদিনের সাথে কোনো বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে থাকে?

২.

গ্রে-ক্লাউড

গ্রে-ক্লাউড আমার রাউটারের নাম। খুব কাজের জিনিস। অনেকটা সিথ্রিপিও'র মতো। ওরকম একটা রোবট পেলে খারাপ হতো না। কেন যে আরও ৩০ বা ৫০ বছর পরে জন্মালাম না!

অ্যানিকিন আর পাডমের গর্ভে জন্ম নেয়া জমজ সন্তানেরা আবারও একদিন গ্যালাক্সিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। অ্যানিকিন কি জানে, নিজের অজান্তেই সে জড়িয়ে যাচ্ছে ডার্ক সাইডের সাথে? পাডমেও বুঝতে পারছে না বিষয়টা। আহা স্টার ওয়ার্স! কিভাবে সম্ভব এতোটা অসামনেস নিজের ভেতরে ধারণ করা?

শেলডন আর অ্যামি শেষ পর্যন্ত সেক্স করেছে! ওদের ব্রেক-আপটা দেখতে দারুণ লাগছিল। জানতাম যে একদিন ওরা ঠিকই এক হয়ে যাবে আবার। নাটক-সিনেমায় সবসময় অবাস্তব জিনিসপাতিই দেখায়, তাই না? ওই জন্যই আমরা নাটক-সিনেমা এত পছন্দ করি। বাস্তব জীবনে তো যেটা ভাবি, সেটা কখনোই ঘটে না।

এক্সএক্সওয়াইওয়াইএক্সএক্স

কংকালেরা কিন্তু সিগারেট খায়। একটা কংকালকে চিনি যার প্রিয় সিগারেট হচ্ছে গোল্ড লীফ। একটু কড়া ধরনের টোব্যাকোগুলো আসলে অদ্ভুত।

ঠিক তেমনি অদ্ভুত একটু কড়া ধরনের সঙ্গীতায়োজনগুলি। রড স্টুয়ার্টের একটা দুই মিনিটের ট্র্যাক আছে। অ্যামেইজিং গ্রেস। শেষ মুহূর্তে এক প্যারার একটা লিরিক মাত্র। পৃথিবীতে যে কত রকমের অবাক করা জিনিস আছে!

ইন্টারস্টেলার সিনেমাটা আমার কাছে একটু হরর হরর লাগলো কেন যেন। তবে বেস্ট সায়েন্স ফিকশন মুভি আমার দেখা। স্টার ওয়ার্সগুলো দেখতে দারুণ লাগছে। আরটুডিটু খুবই কুল।

আর পড়ি হচ্ছে রিসার্চ পেপার। অতিরিক্ত ভিডিও গেইম খেলার আসক্তিকে কেউ কেউ নেগেটিভ হিসেবে দেখে থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ গবেষণা বলছে ভিডিও গেমে আসক্ত হওয়ার সঙ্গে ভায়োলেন্ট হওয়ার সম্পর্ক খুবই কম।

---

অসমাপ্ত ঝিকিমিকি গল্প (২)

তবে আনা যে কথাটা খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল, তা কিন্তু না। ও থাকে সবসময় ওর মনে। আর ওর সেই থাকার মধ্যেই আশপাশের প্রত্যেকটা মানুষ জেনে যায় যে, সে আছে কোথাও, আশপাশে। ওর হুটহাট গলা ফাটিয়ে হাসার শব্দে মাঝে মাঝে বুড়োদের গ্লাসের বিয়ার চলকে পড়ে। আমার কাজ ছিল মূলত ওর পাশে বসে বসে ওকে কথা বলতে দেয়া। তার মানে অবশ্য এই না যে, আনা অনবরত বক বক করতে থাকে। বরং ওর কথা শোনাটা অনেক ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার ছিল। পৃথিবীর কোন কোন টপিক থেকে যে সে মজার মজার জিনিস জোগাড় করে আনতে পারতো, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না।

টেকনোলজি ও সবুজ কোক

ফেসবুক বন্ধ থাকার কারণে যদি দেশের একটা মানুষ খুশি হয়ে থাকে, তাহলে সেইটা ছিলাম আমি Crazy কারণ ভাবছিলাম অন্তত এই কারণে দুই-চারজন ব্লগার এইদিকে পদধূলি দেবে Big smile যাই হোক, সেই আশার গুড়ে বালি পড়ছে। এক মেসবাহ ভাই আর এক টুটুল ভাই ছাড়া কারও দেখা পাই নাই Puzzled

অবশ্য আমার আলোচনার বিষয় সেটা না। আমার আইজকার বিষয় হৈল টেকনোলজি Wink কেউ কি জানে ব্লগে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিছে? Shock Shock Shock যার মধ্যে অন্যতম ও একমাত্র হৈল গিয়া, বিগড়ানো ছবি আপলোড করার যন্তর মন্তর।

আমি কয়েকবার ছবি আপলোড করার চেষ্টা করে দেখলাম, কিছুই হয় না Puzzled ফটোব্লগ টিউটোরিয়ালে ঢুকে দেখি লেখা আছে কিন্তু ছবি নাই Shock ছবি মুছে যাওয়ার বিষয়টা দেখে মনে হইলো, এইভাবে যদি লেখাও মুছে যায়, তাহলে তো বিরাট সমস্যা Sick