ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

একটা সাধারণ, কোনো কিছুতে মন না বসা দিনের গল্প

তাতানো গরম পড়েছে ইউরোপে এবার। তাপমাত্রার কাঁটা সেই যে একবার ৩০ এর উপরে উঠে গেল, তারপর থেকে আর নামার কোনো আগ্রহই যেন ওটার নেই। সিটি সেন্টারে একটা বিশাল থার্মোমিটার আছে। সেদিন ব্যাংকে যাওয়ার পথে খানিকক্ষণ আলাপ-চারিতা চালানোর চেষ্টা করেছিলাম ওটার সাথে।

-হেই মিস্টার মারকারি-ফিলড উল্টানো শিশি, খবর কি? ৩০-এর ঘর থেকে নিচে নামবা কবে?
-সেটার আমি কি জানি? মানুষ-জন গাছপালা সব কেটে সাফ করে ফেলছে, আমি চাইলেই কি আর ৩০-এর ঘর থেকে নেমে আসতে পারি?
-হুম, সেটাও ঠিক। আমার অবশ্য ৩০-এর ঘরের তাপমাত্রায় সমস্যা ছিল না কিন্তু এই শীতের দেশে কোথাও কোনো সিলিং ফ্যান বা এয়ারকুলার নাই, সেইটাই যতো সমস্যা।
-ছোট দেখে একটা টেবিল ফ্যান কিনে নাও।
-সেটা করা যায় কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, ঠিক যেদিন আমি টেবিল ফ্যান কিনবো, সেইদিনই আবার হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা পরে যাবে।

প্রিয় বাংলাদেশ

তুমি ভালো নেই, তাই না?

ছুঁয়ে দেখবার মন মরা আশ ভালবাসে জল হয়ে ঝরতে

১.
সেদিন কাউফল্যান্ড থেকে এক জোড়া জুতা কিনছি। ফিলা ব্র্যান্ডের। সাধারণত ওদের জুতা ৪০ ইউরোর নিচে পাওয়া যায় না। অ্যাডিডাসের শুরু ৫০ থেকে। রিবুক ৫৫। দাম দেখলেই ইচ্ছারা চুপসে যায়। তবে সেদিন এক জোড়া পেয়ে গেলাম নাগালের মধ্যে। বিশেষ অফার চলছিল। সাইজমতো পেয়ে আর দেরি করলাম না। বাডা বিম, বাডা বুম।

রবার্টকে বলে রেখেছিলাম শপিং-এ যাবো। পরে একা একাই জুতা কিনে ফেলেছি শুনে রাগের চোটে একটা বিয়ার একাই টেনে ফেললো। তারপর আরেকটা খুলে খুব হম্বিতম্বি শুরু করলো। প্রিসকা ঘটনা শুনে আমাকে ফোন করে দিলো একটা রামধমক। কেন আমি ওকে নিয়ে শপিং-এ যাবার কথা বলেও একা একা জুতা কিনে ফেলেছি? এখন হ্যাপা সামলাবে কে?

পৈশাচিকানন্দে উইকেন্ড উদযাপন

১.

কোনো কারণ ছাড়াই এক প্রস্তুতিহীন মেরুভালুক বরফ ভাঙছে

ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে যখন আমার ড্রিমলাইনার ল্যান্ড করে তখন মনের ভেতর অস্থিরতা ছাড়া আর কিছুই চলছিলো না। টানা ১৫ ঘন্টার বিমান ভ্রমণের পর আসলে, কখন এ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবো- তার অপেক্ষায় অস্থির হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। মাঝে একবার বিমান পরিবর্তনের জন্য ঘন্টা তিনেকের বিরতি পেয়েছিলাম। তাতে অস্থিরতা বেড়েছেই কেবল, কমে নি কারণ গন্তব্যে পৌঁছে সবকিছু ঠিকঠাকমতো করতে পারবো কিনা, আমার জানা ছিল না। কেবল জানতাম- যেকোন মূল্যে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছুতেই হবে। বিকল্প কোনো রাস্তা আমার জন্য খোলা ছিল না।

দিনশেষে ছাইরঙা স্মৃতিরাই শুধু অপেক্ষা করে

১.

ছোটবেলায় যখন সকালে ঘুম ভাঙ্গতো, তখন এক ধরনের উচ্ছ্বাস ভর করতো মনের ভেতর। দৌঁড়ে গিয়ে রেডি হতাম স্কুলে যাওয়ার জন্য। স্কুল ছিল এক অনন্ত আনন্দের ভান্ডার। যদিও পড়াশোনার পার্টটা খুব বেশি ইন্টারেস্টিং লাগতো না আমার, তবে ওটা ছাড়া অন্য সবকিছুতে আমি হাজির থাকতাম সবার আগে। পারি আর না পারি, ঝাপিয়ে পড়তাম প্রবল বেগে। দুরন্ত একটা শৈশব পার করেছি আমি। অবশ্য পার হয়েছে কিনা জানি না। এখনও নিজেকে শিশুই মনে হয়। ২৫ বছরের যাপিত জীবনের উপলব্ধি এটুকুই।

গল্প: যে কারণে আরও একটু কাছে যাওয়া হয় না

সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত, যেসব দিনে আমি ঘুম থেকে ওঠার আগেই ঘড়ির কাঁটা আটের ঘর পার হয়ে যায়, সেসব দিনে আমাকে দেখলে আপনাদের অবশ্যই দি ইনক্রিডিবলস্-এর পিচ্চি ছেলেটা কিংবা অ্যাভেঞ্জার্স: এইজ অব অলট্রনের জমজদের মধ্যকার ছেলেটার কথা মনে পড়ে যাবে। বুলেটের গতিতে আমি কফি বানাই, সিগারেট রোল করি, টয়লেটে যাই, অর্ধেক পথ যেতে যেতে মনে পড়ে টয়লেট পেপার আনা হয় নি। আবার ঘরে ফিরি, পেপার-তোয়ালে-শ্যাম্পু-শাওয়ারজেল-মি. ব্রাশো-পেস্ট-রেজার-ফোম, সবকিছু কোঁচড়ে নিয়ে দৌড় লাগাই।

ইচ্ছে হলে ভালবাসিস , না হয় থাকিস যেমন থাকে স্নিগ্ধ গাংচিল

'শুধু মাঝে মাঝে মন খারাপ লাগে' লিখে কয়টা দিন আসলেই মন খারাপ ছিল। বাসার লোকজন লেখাটা পড়ে আমাকে প্রচুর স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলো। বিশেষ করে আম্মু। শুনে আমি হেসেছি। আর বলেছি, ইউ নো নাথিং জন স্নো।

আমার সবচেয়ে প্রিয় টিভি সিরিয়াল ছিল ফ্রেন্ডস্। খুবই সহজ ছিল সিরিয়ালটা। আজকালকার সিরিয়ালগুলা সহজে হজম হতে চায় না। ম্যাড মেন পর্যন্ত ভাল ছিল। গেম অব থ্রোন্সও ঠিক আছে। কিন্তু দি রোবট ইদানীং মাথার সবগুলো নিউরণ টেনে টেনে ছিড়ে দিচ্ছে।

কিছু একটা করা দরকার কিন্তু কিছুই করা হচ্ছে না। আগের লেখায় বলেছিলাম আমার রুমের নাম দিয়েছি গুহা। মীর্স কেভ। গুহায় বসে বাইরের সবার পদধ্বনি শুনি। বেশিরভাগই সাব-সাহারান। ওদের জীবন অপেক্ষাকৃত ফর্সাদের চেয়ে অনেক কালারফুল। মাঝে মাঝে প্রতিবেশি তাম্মাম এসে দেখে যায়, সবকিছু ঠিক আছে কিনা। আর আমি কাউচে আধশোয়া হয়ে বিড়ি টানি।

শুধু মাঝে মাঝে মন খারাপ লাগে

আজ খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে যাবার পর জানালার পর্দা সরিয়ে দেখি ঝকঝকে রোদ উঠেছে। আর তাপমাত্রার কাঁটাটা প্রায় ১৩ ছুঁইছুঁই করছে। হাতছানি দিয়ে ডাকছে দোয়েল, ফিঙে, চড়ুই, বকুল এবং সুবজ পাতারা। জানালার ফাঁক গলে ঝিরঝিরে বাতাস প্রবেশ করছে ঘরে। আর মাঝে মাঝে আলতো টোকা দিয়ে যাচ্ছে লোমের গোঁড়ায়। হালকা শিরশিরে অনুভূতি। কফি মেশিন তাকিয়েছিল ড্যাবড্যাব করে। তাড়াতাড়ি ওটায় পানি আর কফি ভরে সুইচ অন করে দিলাম। প্রায় সাথে সাথেই খুটুর-মুটুর শব্দ শুরু করে দিলো সেটা। জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কি আমার সঙ্গে কথা বলছো কফিমেশিন? কোনো উত্তর দেয় নি যন্ত্রটা।

সারভাইভিং হলোকাস্ট, বাডি

শিরোনামের কথাটা লিখেছিলাম এক পুরোনো বন্ধুকে, যে সম্প্রতি মেসেঞ্জারে জানতে চেয়েছিল- হেই ইউ, হোয়াট আর য়ু ডুয়িং নাউ?

অথচ আমি একসময় নিজের শার্টের ভেতর হাত লুকিয়ে রেখে মানুষকে বোঝাতে চাইতাম যে, আমার একটি হাত কাটা পড়েছে। সেটা খুব বেশিদিন আগের কথা না।

সে সময় একটা চাররঙা টিপ-কলম ছিল আমার। প্রায়ই যেটার চারটা বাটন একসঙ্গে টিপতাম। কোন শীষই বের হতো না। ওই সব দিনে বাড়ির মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ আসতো না, একসময় নিজেই আড়াল থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ভগ্ন মনে।

ঈদের সময় বা বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়াটা জীবনের একটা অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ ছিল। রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময় মনে করতাম, চাঁদটাও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছে।

আর প্রায়ই ঘরের সুইচবোর্ডে অবস্থিত ফ্যান, লাইট ইত্যাদির সুইচকে মাঝামাঝি জায়গায় ব্যালেন্স করার চেষ্টা চালাতাম। এই কাজ করতে গিয়ে প্রচুর বাল্বের ফিলামেন্ট কেটেছে আমার হাতে। এছাড়া ফ্রীজের লাইট কখন বন্ধ হয় তা দেখার জন্য খুব আস্তে আস্তে সেটার দরজা বন্ধ করতাম।

রিস্টকাটার্স: আ লাভ স্টোরি

মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে?

এটা আলোচনার বিষয় হিসাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অনেক বড়। তারচেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভাবি। সেই মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে? সেদিন রাজধানীর হাতিরঝিলে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাপ দিয়েছিলো একটি যুগল। তাদের মাঝে ছেলেটা মারা গেছে। সাঁতার জানতো না কেউই। প্রেমে বাঁধা পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলো দু'জন। নিশ্চই খুব কষ্ট হচ্ছিলো তাদের। প্রেমিকার বাগদান হয়ে গেলে প্রেমিকদের কি এমন কষ্টই হয়? পৃথিবীর সব কষ্ট কি তখন তুচ্ছ মনে হয়? কোথায় যেন পড়েছিলাম, সবচেয়ে কষ্টের মৃত্যু হলো আগুনে পুড়ে মরা। শরীরের প্রতিটি কোষ পুড়তে থাকে এবং আলাদা আলাদা যন্ত্রণার জন্ম দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম কয়েকদিন যন্ত্রণা ভোগের পর মরে। দ্বিতীয় কষ্টের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে মরা। ফুসফুস পানিপূর্ণ হয়ে যাবার পর সেটা ফেটে যায়। সেই কষ্ট বুকের মধ্যে নিয়ে মানুষ বাধ্য হয় মারা যেতে, কেননা একবার পানিতে তলিয়ে গেলে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব জানা আজকাল কঠিন কোনো বিষয় না। কঠিন হচ্ছে এসব জানার পরও স্বেচ্ছামৃত্যুকে আহ্বান করা। বুঝে হোক বা না বুঝে, সেই কঠিন কাজটি মানুষ কখন করে? কতটা নিরূপায় হলে?

ভালো লাগা ভাবনারা- ৬

ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতাটা ছোটবেলার কোনো এক ক্লাসের পাঠ্য ছিলো। সম্ভবত প্রথম ষোল লাইন। তখন মুখস্ত করার জন্য পড়েছিলাম কিন্তু বোঝার জন্য পড়ি নাই। পুরো কবিতাটা বিশাল ভাবের। বহুত ভালো লাগা ভাবনার তালিকায় চলে গেলো।

দূরের পাল্লা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ছিপখান তিন-দাঁড় -
তিনজন মাল্লা
চৌপর দিন-ভোর
দ্যায় দূর-পাল্লা!
পাড়ময় ঝোপঝাড়
জঙ্গল-জঞ্জাল,
জলময় শৈবাল
পান্নার টাঁকশাল |
কঞ্চির তীর-ঘর
ঐ-চর জাগছে,
বন-হাঁস ডিম তার
শ্যাওলায় ঢাকছে|
চুপ চুপ - ওই ডুব
দ্যায় পান্ কৌটি
দ্যায় ডুব টুপ টুপ
ঘোমটার বৌটি!
ঝকঝক কলসীর
বক্ বক্ শোন্ গো
ঘোমটার ফাঁক বয়
মন উন্মন গো|
তিন-দাঁড় ছিপখান
মন্থর যাচ্ছে,
তিনজন মাল্লায়
কোন গান গাচ্ছে?
রূপশালি ধান বুঝি
এইদেশে সৃষ্টি,
ধুপছায়া যার শাড়ী
তার হাসি মিষ্টি|
মুখখানি মিষ্টিরে
চোখদুটি ভোমরা
ভাব-কদমের - ভরা
রূপ দেখ তোমরা !
ময়নামতীর জুটি
ওর নামই টগরী,

রিস্টকাটার্স: আ লাভ স্টোরি

মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে?

417427425

শহরের পথগুলো হঠাৎ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আজকাল কোনো গন্তব্যে ঠিকমতো পৌঁছুতে পারি না। বারিধারায় এলাকায় যাবার জন্য রওনা দিয়ে বসিলা ব্রীজে পৌঁছে যাই। ব্রীজের রেলিংয়ে বসে নদী দেখি। নদীর পানি দেখি, নৌকা দেখি, নৌকার বাদাম দেখি। উকিল মুনশির গান আছে,

পূবালী বাতাসে
বাদাম দেইখা চাইয়া থাকি
আমার নি কেউ আসে...

যখন চোখের জন্য শরীরে কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না

তখন আমার একটা সিনেমা দেখতে খুব ইচ্ছে করে।