ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

ব্লগার মানেই নাস্তিক নন

ব্লগ লিখছি কতদিন হয়? চার বছর চার মাস! এই দীর্ঘ সময়ে পড়া হয়েছে শত সহস্র ব্লগ। সবচাইতে প্রিয় ব্লগ কোনটা আমার, কেউ কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি। যদি জিজ্ঞেস করতো, তাহলে আমি বলতাম, ব্লগার 'জানালা'র একটি ব্লগের কথা।
ভেলরি টেইলরকে নিয়ে যখন আমরা পুরো ব্লগ দুনিয়ার লোকগুলো হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন জানালা নামে একজন ক্ষণজন্মা ব্লগার একটি ব্লগ লিখেছিলেন। আমি মাঝে মাঝে সেই লেখা পড়ি, চোখ জলে ভরে যায়। 'জানালা' লিখেছিলেন এক অসহায় মেয়ের গল্প। যে নিজের পায়ে হাঁটতে পারে না বলে মেলায় যেতে পারে না। অপেক্ষায় থাকে তার ভাই তাঁকে মেলায় নিয়ে যাবে। জানালা নামের ব্লগার তার মিহিদানা অক্ষরে সেই মেয়েটির গল্প লিখেন আমাদের জন্য।
"হঠাৎ খেয়াল করি, যেখানে যাই সে আসছে সাথে সাথে। এক ফাঁকে বোনকেও ফোন করে একবার; আমি না মেলায় যাচ্ছি। এমনকি অফিস রুমেও। তুমুল বিরক্তি নিয়ে বলি, কিছু চাই তোমার? সে বলে আবারো, তুমি মেলায় যাবে না? আমি একটু চিন্তায় পড়ে যাই। বৃষ্টি কমে যায় যদি! সে আমার সামনে একটা সোফায় বসে থাকে। চোখের আড়াল করে না। যদি তাকে ফেলে মেলায় চলে যাই।"

আন্দোলনের একদিন

শুক্রবার। বাসা থেকে বের হতে একটু দেরি হয়ে গেলো। আগের দিন রাত ৪ টা পর্যন্ত মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকার ফল। কাজের কাজ কিছু হয় নাই, এমনটা বলবো না। আন্দোলনের নানান দিক নিয়ে অসংখ্য আলোচনা মস্তিষ্কের নিউরণের ভেতর বানের পানির মতো প্রবেশ করেছে। ভাগ্যিস ইনফরমেশনের কোনো ভর থাকে না। নাহলে আমার মাথাটা এত ভারী হয়ে যেতো যে, নিশ্চিত সেটা আজ আর আমি বালিশ থেকে তুলতে পারতাম না।

পৌনে ১২টার দিকে দৈনিক বাংলা মোড় দিয়ে ঢুকে বায়তুল মোকাররমের সামনে একটা চক্কর দিলাম। শ্রম ভবনের দিকটা একেবারে পল্টন মোড় পর্যন্ত বন্ধ। উল্টা রাস্তায় সাইকেল চালাচ্ছি আর দেখছি হাজারো দাঙ্গা পুলিশ, রাব দাঁড়িয়ে আছে পজিশন নিয়ে। তাদের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি। বায়তুল মোকাররমের সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলো শ'পাচেক অল্পবয়সী পাঞ্জবি পড়া ছেলে। পুরো সিঁড়িই দখল করে ছিলো ওরা। সংবাদকর্মীদের অনেককেই দেখলাম মাথায় হেলমেট পড়ে ঘোরাঘুরি করছেন। নয়া দিগন্তের এক রিপোর্টারকে দেখলাম। দেখে মেজাজ খারাপ হলো। কেন, কে জানে?

একজন সাধারণ জনতার মনের কথা

প্রথম পাতায় একাধিক লেখা জমে গিয়েছিলো। এটাসহ ৩টা হয়ে যেতো। তাই আগেরগুলোকে আমার পাতায় পাঠিয়ে দিলাম।

আজ দুপুর ৩টা থেকে মহাসমাবেশ। এই মহাসমাবেশটা কেমন হবে, সেখান থেকে কি ঘোষণা আসবে- সবকিছু নিয়ে উৎকণ্ঠিত সবাই। কাল সন্ধ্যার পর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বৈঠক করেছেন। কি সিদ্ধান্ত হয়েছে জানি না। ফাঁসির রায়, জাশি নিষিদ্ধ আর রাজীব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়া হতে পারে সরকারকে। সেই সঙ্গে প্রজন্ম চত্বরের অবস্থানকাল সংকুচিত করে প্রথমে রাজধানীর সর্বত্র এবং পরে দেশের সব জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে। এ সবই আসলে শোনা কথা। সত্যিকার অর্থে কি হবে, তা এখনো সাধারণ জনতা জানে না। কিন্তু সাধারণ জনতা তার নিজের মনের কথা জানে।

কোনো কোনো গণমাধ্যমের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যানজটটি লেগেছিলো চীনের ন্যাশনাল হাইওয়েতে। ১৪ আগস্ট ২০১০ সালে। সেই জটে ১০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। ১০ দিনের বেশি সময় লেগেছিলো সেই জট ছাড়াতে।

বীর শহীদেরা কথা দিলাম

বীর শহীদেরা, আপনারা জেনে রাখুন এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই অসমাপ্ত অংশটা, যেটা শেষ করার আগেই হানাদারবাহিনীর নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন আপনারা। বেঁচে থাকলে আপনারাই এটা শেষ করতেন। শেষ করে ঘরে ফিরতেন। কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আপনারা একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছিলেন। আমরা সে দেশকে মুক্ত করবো। সব পেছনে টেনে ধরা শক্তির থপ্পর থেকে। আপনারা যে উন্নত দেশটির কথা ভেবেছিলেন, সেটি আমরা গড়বোই। বাঙালি বীরের জাতি। আপনারা প্রমাণ রেখেছেন। আমরাও রাখবো। সেই সুন্দর দেশটি গড়া যাচ্ছিলো না, অসমাপ্ত কাজটা মহাকালের গাএ বিঁধে ছিলো বলে। এবার কাঁটাটা উপড়ে ফেলবোই। আর তার আগে ঠিক আপনাদের মতোই আমরাও, মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কারণে ঘরে ফিরবো না। কথা দিলাম।
---

আন্দোলনের কি হবে- এই প্রশ্ন এখনো তোলার সময় হয় নি

বেলুন ওড়ানো কর্মসূচি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভোগার কোনো কারণ নাই। আগামীকাল বিকাল ৪টা ১৩ মিনিটে কয়েক লাখ বেলুন যে প্রজন্ম চত্বর থেকে উড়বেই, এ ব্যপারে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন। মানুষের মধ্যে এটার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে আন্দোলনের সহযোগী ব্রিগেড/ স্কোয়াডগুলো এই লাইনে কাজ অলরেডী শুরু করে দিয়েছে। ক্যম্পাস, চারুকলা, ছবির হাট সব জায়গায় চলছে তোড়জোড়।

এর আগে যেমন মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির সময় ট্রাকে করে মোমবাতি আসতে দেখা গেছে, তেমন বেলুনও সম্ভবত চলে আসবে। সিজনাল ব্যবসায় যারা পুঁজি খাটাতে জানেন, তাদের জন্য সময়টা এখন পোয়াবারো। পুরান ঢাকার কিছু বন্ধু-বান্ধবের মন্তব্য পাইলাম এমন, মোমবাতির সময় বিরাট ব্যবসা মিস্ করছি। কিন্তু এইবার করুম না।

দু'টি বিষয় কি কোনোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব?

ব্লগে কমেন্ট কম আর লেখা বেশি দিচ্ছি বলে কেউ সেন্টু খায়েন্না প্লীজ। অনেক কিছু ঘটে আশপাশে, যেগুলার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ ছাড়তে মন চায় না কোনমতেই। তাই প্রজন্ম চত্বরে পড়ে থাকি দিনরাত। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করি। মানুষের মধ্যে বিলীন হই। আজ ক'দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে গেছে। লাখো মানুষের এক পরিবার হয়ে উঠেছে। প্রজন্ম চত্বর থেকে দূরে, হলে বা বাসায় গেলে কানের মধ্যে বাজতে থাকে স্লোগান। একটানা স্লোগানের মধ্যে থাকতে থাকতে এই অবস্থা হয়েছে বলে ধারণা করছি।

সময়গুলো এখন খুব অস্থিরভাবে কাটছে। হরতাল হচ্ছে না শহরের কোথাও সেভাবে। রাস্তায় প্রচুর রিকশা, বাস, প্রাইভেট কার। প্রজন্ম চত্বরের কাদাপানিও শুকিয়ে গেছে। রবিবার সারাদিন বৃষ্টির কারণে রাতে চার আঙ্গুল উঁচু কাদাপানি জমে গিয়েছিলো। ডিসিসি'র ক্লিনাররা অল্প সময়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আর তারপরে রাতের আদ্র বাতাস, ভোরের সূর্য সবকিছু এখন অনবরত কাজ করে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের জন্য পরিবেশটাকে একটু সহজ করে তুলতে।

ঘৃণ্য চক্রান্তের জাল বিছানো হচ্ছে, সাবধান থাকা খুব জরুরি

থাবা বাবা'কে নিয়ে ঘৃণ্য চক্রান্ত ফাঁদছে জামায়াত। যেটা আমরা সবাই জানি। নাস্তিকতাবাদের ধুয়া তুলে আন্দোলনকারীদের চিন্তাকে ঘুরিয়ে দেয়া। অনলাইনে এখন একটা তুমুল আস্তিক-নাস্তিক লড়াই বাঁধানোর পাঁয়তারা করছে ছাগুরা। যাতে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের একটা অংশ সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফেসবুকে, ব্লগে শফিউল আলম ফারাবি নামে এক ছাগু নানারকম বায়বীয় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফাপড়বাজি আর কাকে বলে। ওকে একটা আখেরি গদাম দিয়ে বসিয়ে দেয়া দরকার। এইসব মশা-মাছি ভ্যান ভ্যান করে শুধু মানুষকে বিরক্ত করার কাজটিই পারে, আর কিছু পারে না।

যাক সোনার বাংলাদেশ ব্লগ বন্ধ হয়েছে, এটা আপাতত একটা ভালো খবর। ওদের ওপর এই সরকারি আঘাতটা জরুরি ছিলো। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ষড়যন্ত্র, সব চক্রান্ত, নোংরামি, কুটিলতা, অমানবিকতা সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব। কেউ কাউকে কখনো ব্যাকফুটে যেতে দেখলে, সঙ্গে সঙ্গে ডিসহার্টেড হয়ে পড়া চলবে না। স্ট্যাটেজিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে সবকিছু চিন্তা করতে হবে। বিশ্বস্তদের ওপর অকারণে সন্দেহ করা যাবে না। নতুন কাউকে হুট করে বিশ্বাস করা শুরুও করা যাবে না।

থাবা বাবার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া প্রজন্ম চত্বরে, ৩টা-১০টার কর্মসূচি পরিবর্তন: ২৪ ঘন্টা আন্দোলন চলবে

আপডেট: শনিবার কালো ব্যাজ ধারণ এবং আছর নামাজের পর জানাজা নামাজ পড়া হবে প্রজন্ম চত্বরে। যদিও প্রজন্ম চত্বরে ‘থাবা বাবা’র (আহমেদ রাজীব হায়দার) লাশ আনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকার সেটা করতে দেবে কিনা, তা এখন পর্যন্ত জানি না।

এদিকে ফেসবুকে একটা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের লিংক ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ধর্মবিরোধী এমন কিছু কথা আছে, যেগুলো সাধারণ ধর্মভীরু মানুষের অনুভূতিকে আহত করতে সক্ষম।

ব্লগটিতে ১০টি পোস্ট রয়েছে। সবগুলো পোস্ট মিলিয়ে কমেন্ট সংখ্যা ২টি। একই রকম তারিখে দেয়া হয়েছে ৭টি পোস্ট। আগস্ট ২৬, ২০১২ তে দেয়া হয়েছে ৪টি পোস্ট, জুন ১৮, ২০১২-তে দেয়া হয়েছে ৩টি।

পোস্টগুলোর হিটসংখ্যা নগণ্য।

প্রশ্ন রয়ে যায় এ ব্লগটি আসলে কার? আমার ব্লগে 'থাবা' নিক থেকে দেয়া 'লাড়ায়া দে' লেখাটি ওই ব্লগে থাকা সত্বেও প্রশ্ন রয়ে যায়।

সাইবার যোদ্ধারা অপ্রতিরোধ্য : অনলাইনে কোনঠাসা জামায়াত-শিবির

আন্দোলনের এখন দু’টি ফ্রন্ট। প্রজন্ম চত্বর আর ইন্টারনেট। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনে যেভাবে লাখো জনতা যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন, ঠিক তেমনিভাবে অনলাইনেও প্রতিদিন জামায়াত-শিবির তাড়ানোর কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন লাখো জনতা। অল্প সময়ে ব্লগস্ফিয়ার, ফেসবুক, টুইটারসহ সর্বত্রই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে তারা। প্রতিটি ব্লগেই তাদের বিরুদ্ধে ছাপানো লেখাগুলো ব্যপক পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফেসবুকে শিবির বিরোধী স্ট্যাটাসগুলো শেয়ার হচ্ছে হাজার-হাজারবার। অপরদিকে নিজেদের ব্লগেও নিজেদের পক্ষে কিছু লিখে সুবিধা করতে পারছে না জামায়াত-শিবির। সোনার বাংলাদেশ ব্লগে তাদের পক্ষাবলম্বন করে ছাপানো লেখাগুলোয় গড়ে হিট পড়ছে ২৩টা-২৫ টা করে। মন্তব্যের সংখ্যা অধিকাংশ পোস্টেই শূন্য। গণপ্রতিরোধের মুখে জামায়াত-শিবির এখন আর নিজেদের ওপরেই ভরসা রাখতে পারছে না।

হে সহযোদ্ধা, এবার দেখা হবে রাজপথে, শুধুই রাজপথে

জীবনটা সবসময় সুন্দর নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে এত বেশি সুন্দর যে, তখন আবার মনে হয় এটা কি কোনো স্বপ্ন? প্রজন্ম চত্বরে স্বপ্নবান তরুণেরা এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। যে বিপ্লবের আগুন আজ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়লো, এটা সমাজকে পরিবর্তন না করা পর্যন্ত নিভবে না। আমি হলফ করে বলতে পারি। সামনে আসছে নতুন দিন।

আজ ৮ম দিন চলছে। বিপ্লবী জনতাকে হাত করার বহু চেষ্টা এরই মধ্যে হয়েছে। চেষ্টা হয়েছে চোখ রাঙিয়ে তাদের ঘরে পাঠানোর। শিবির সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছে লাকীকে। ছাত্রলীগ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে হাত উঠিয়েছে তার গাএ। এত কিছুর করেও লাকীর কণ্ঠের আগুনকে নেভানো যায় নি। নেভানো যায় নি প্রজন্মের সৈনিকদের বুকের আগুন। এ আগুন কোনো কিছু না জ্বালিয়েই নিভে যাবে, এ কথা আমি বিশ্বাস করি না।

একলা চালা, ছেঁড়া চাদর, বন্ধু আসার নয়া খবর

"ভাঙা চালায় হাওয়া আসে, হাড় কাঁপুনি শীত
দুয়ার খুলে শুনতে পাই, বন্ধু আসার নয়া দিনের গীত।"

মলয়দা'র লেখা গান। লেখার শিরোনামটাও এই গানেরই একটা লাইন। মলয়দা' একজন প্রাণের মানুষ ছিলেন। তার ছোট-খাটো ভুড়িটার ওপর তবলার ঠুক-ঠাক করতে আমার এবং আমার জিরাফের খুবই আমোদ লাগতো। বয়সে বড়; তবুও বন্ধু আগে, পরে বড়ভাই। সেই মলয়দা' আজ নেই। যতবার মনে পড়ে, বুকের ভেতর খা খা করে। কক্সবাজারে থাকতেন জীবনের শেষ দিনগুলোতে। সেখানকার এয়ারপোর্ট রোডে এখনো উনার হাতে লেখা একটা চিকা আছে। ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র শব্দটা সোজা করে লিখে, ইউনিয়নটাকে রাউন্ড শেপে আগের শব্দটার ডানপাশ দিয়ে উঠিয়ে দিতেন। অমন করে চিকা মারতে উনিই শুধু পারতেন। আর আমি শিখছিলাম লেখার কৌশলটা। ক্লাসের খাতায়, হাতে লেখা পোস্টারে কিংবা মধুর টেবিলে চায়ের চামচ দিয়ে সারাদিন ট্রাই করতাম। শুধু দেয়ালেই আর লেখা হলো না।

এখন শুধু যোগ দিতে হবে, আর কিছু করতে হবে না

শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ চলছে। প্রতি মুহূর্তে বীর সেনানিরা সেখানে যোগ দিচ্ছেন। কাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে যখন মাইকে ঘোষণা শুরু হলো এ যুদ্ধের ব্যপারে, তখন যাচ্ছি-যাবো করেও আর যাওয়া হয় নি। টানা চার দিনের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে দেড়টায় বাড়ি ফিরে দেখি ২২০০ সৈনিক ততক্ষণে যোগ দিয়ে ফেলেছেন। আমি আর দেরি করলাম না। সকালে উঠতে দেরি হলো। ততক্ষণে ৩৫৫০ জন যোগ দিয়ে ফেলেছেন সাইবার যুদ্ধে। এ যুদ্ধে যারা এখনো যোগ দেন নাই, তাদের জন্য লিংক এখানে (ক্লিক করুন)। দেরি করার সুযোগ নাই। যোগ দিয়ে ফেলতে হবে এবং তারপর থেকে ছাগু আইডি/ ব্লগ প্রোফাইল যাই পান না কেন, শেয়ার করতে হবে পাতাটাতে। অন্যদের শেয়ার করা একই উপাদানগুলোর ব্যপারে রিপোর্ট করতে হবে। আমার-আপনার কাজ আপাতত এটুকুই।

কিছু কথা কিছু ছোট ছোট দৃশ্য আর কিছু পরিকল্পনা

বিষয়ভিত্তিক কিছু কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। হাজার দশেক বেঁতের লাঠি জোগাড় করে রাখা দরকার। অন্তত যেকোন রকম তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করে রাখার জন্য। শিবিরগুলা শূকর বেশি। গতকাল ইস্ট-ওয়েস্টের ছেলেপিলেদেরকে ওরা ধাওয়া করেছিলো। মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসার সময়। রামপুরাতে। এদের যেকোন সময় প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

চট্টগ্রামে হরতাল কেমন হচ্ছে, সে খবর এখনো পাই নাই। আজকে যদি চট্টগ্রামে কোনো গণ্ডগোল হয়, তাহলে সেটা যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে। এখন একটা বারুদের ঘষাই যথেষ্ট স্ফূলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার জন্য। আজকের পত্রিকার শিরোনামগুলো নিয়ে একটা কোলাজ করার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিবিসি, সিএনএন-এর ওয়েবসাইটগুলোতে বাংলাদেশের খবর ফলাও করে ছাপা হচ্ছে। ইতিবাচকভাবেই হচ্ছে। সেগুলো নিয়েও কিছু করা যায় কিনা ভাবছি।

কিছু ছোট ছোট দৃশ্য

ক্ষমা নাই ওটার কোনো ক্ষমা নাই, শূকরটাকে বধ করবোই

poster courtesy_Bangladesh Old Photo Archive.jpg

১.

বেলা সাড়ে ১১টায় যখন টিভি স্ক্রীনের নিচের দিকে খবরটা গড়াতে শুরু করলো, তখন থেকেই মুখে থুথু জমে আছে। বারবার ফেলছি, বারবারই জমছে। মাঝে মাঝে মানুষ নিজে কোনো দোষ না করেও যে কি ভীষণ আত্মগ্লানিতে ভুগতে পারে, সেটা টের পেলাম এইবার।

কিন্তু আমি কেন আত্মগ্লানিতে ভুগছি? আমার কি দোষ? বুঝতে পারছিলাম না এবং মনকে কোনোভাবে বোঝাতেও পারছিলাম না। একটা প্ল্যকার্ড দেখলাম। লেখা আছে, অঝোর ধারায় কাঁদছে চোখ/ আমার নাহয় ফাঁসি হোক।

কি অর্থহীন একটা কথা! এ পর্যন্ত কোনো মানুষকে আমি এভাবে নিজের ফাঁসি চাইতে দেখি নি। এ ভাষায় প্রতিবাদ করতে দেখি নি। সে কেন ফাঁসি চায়? তার কি সমস্যা? সবই ভাবছি, সবই বুঝছি কিন্তু অর্থহীন কথা সম্বলিত ওই প্ল্যাকার্ডটিকে চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছি না। ঘুরেফিরে ওটাই সামনে ভেসে উঠছে। কেন এমন লাগছে কোনোভাবেই বুঝতে পারছিলাম না।

গল্প : শেষ বিকেলের সোনালি আলো মিলেছে যখন চোখের কোণায়

অচেনা বন্ধুকে আমি সুন্দরী মনে করতাম। কিন্তু দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারি, ধারণাটায় কি মারাত্মক রকমের ভুল ছিলো!