ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

গল্প : শেষ বিকেলের সোনালি আলো মিলেছে যখন চোখের কোণায়

অচেনা বন্ধুকে আমি সুন্দরী মনে করতাম। কিন্তু দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারি, ধারণাটায় কি মারাত্মক রকমের ভুল ছিলো!

গল্প : ২০ কাপ চা আর ২০ টার বেশি সিগারেট খাওয়া দিনগুলো

১.
আমাদের অফিসের রানা ভাই তার নামের বানান লিখেন shuhel rana. তাকে যতই বলি এটা সোহেল রানা হয় নাই, এটা হইসে সুহেল রানা- তিনি ততই উদাসী হাসি দেন। বলেন; ভাইজান, বাপ-মায়ে আকিকা কইরা নাম রাখসে সোহেল রানা, বানান রাখসে shuhel rana. আমি কি করুম কন? আমি তার যুক্তি শুনে হাসি। জানতে চাই, বাপ-মায়ে এই বানান রাখসে নাকি মেট্রিকের ফর্ম ফিলাপের সময় কোনো ইংরেজি মাস্টার এই কাহিনী করছে? রানা ভাই বলেন, নারে ভাই। আমার ঘটনা বাপ-মায়েই ঘটাইসে। আর কেউ এর মধ্যে নাক গলানোর সাহস পায় নাই।

শান্ত, নিরীহ, নিরামিশাষী এই ভদ্রলোকের সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি সবার প্রক্সি দিয়ে দেন। তার আর আমার ডিপার্টমেন্ট এক না। তাই আমাকে কখনো তার প্রক্সি নিতে হয় না। কিন্তু তার ডিপার্টমেন্টের কতজনের প্রক্সি যে তাকে আমি দিতে দেখি!

একটা ভ্রান্ত কথা মনে পড়বার অপেক্ষায়

নির্মলেন্দু গুণ একজন দারুণ কবি! এই কবির কবিতা আমার আপাদমস্তক ভালো লাগে। আজ অন্তর্জালে ঘুরে ঘুরে শুধু কবিতা পড়ছি সকাল থেকে। মন ভালো নেই। আকাশটারও মনে হয় একই অবস্থা। এখন পর্যন্ত এক টুকরো রোদও উঠতে দেখলাম না কোথাও। কাশেম ভাইএর দোকানে হয়তো কিছু বিমর্ষ ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করে চা-সিগারেট টানছে। আমি নিরাবেগ শুয়ে কবিতার পাতা উল্টে যাচ্ছি। চোখে পড়লো নির্মলেন্দু গুণের 'যাত্রা-ভঙ্গ' কবিতাটি-

"হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই৷

হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি৷

তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই৷

তখন আমি একটু ছোঁব,
হাত বাড়িয়ে জাড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরনী নায়ে৷

নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব৷
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ,
দু:খ দিয়ে ছোঁব৷

তুই কেমন করে যাবি?"

তোমাকে নিয়ে কোনো গান লেখা হয় নি চেষ্টা করেছি বহুবার

আজকাল মনে হয় আমি একা একাই নায়াগ্রায় চলে এসেছি। উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে হাঁটছি। একা, ওক গাছের সারির ভেতর। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা খড়িগুলো দেখলে অনেক লোভ হয়। কিন্তু তুলি না। প্রকৃতি সম্ভবত অপচয় পছন্দ করে না। হাঁটার সময় পড়ে থাকা খড়ি তুলে লাভ নেই। শক্তির অপচয়। সন্ধ্যা নামার পর খড়ি খুঁজতে বের হতে হয়। মোটা ধরনের একটা বা দু'টো ডাল হলেই সারারাতের চিন্তা শেষ। আর কিছু শুকনো পাতা। পাতা পাওয়াও যায় প্রচুর পরিমাণে। আমার একটা ঝুড়ি থাকলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা নিয়ে হাঁটাহাটি করাটা খানিক কষ্টের হতো। তারপরও পাতা কুড়ানোর সময় প্রতিদিন একবার ঝুড়ির অভাব অনুভব করি।

তুমি কি দেখতে পাও আমাকে? আমার সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে। শুধু আমি আর থামতে পারছি না। তুমি দেখতে পাচ্ছো? আমি হেঁটে হেঁটে ক্রমাগত দূরে চলে যাচ্ছি। আমি জানি তুমি টের পাচ্ছো। হয়তো হৃদয়ে তোমারও চলচ্ছে ক্ষরণ, অবিরাম। কিন্তু, এই দূরে সরে যাওয়া ছাড়া আমাদের যে আর কোনো উপায় নেই। আমি জানি, এই কথাটা তুমিও জানো।

অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছি

ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে দেখা হলো অনেকদিন পর। বলছিলো, এই মেয়েটাই নাকি ওর জীবনের শেষ প্রেম।

আমি বললাম, বললাম না কিছু আসলে, হাসলাম। ব্যপারটা ক্রিস্টিয়ানোর চোখ এড়ালো না। ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার মজা একটাই। খানিকটা হলেও ছেলেবেলাটায় ফিরে যাওয়া যায়। সে সময়কার সুতার টেনশনটা এখনো মনের ভেতর টের পাই। আশা জাগে এখনো হয়তো বুড়িয়ে যাই নি।

সহ্যসীমার কাঁটাতারে বিদ্ধ শরীর

সময়টা কাটছে প্রতিকূল। আগুন, ভাঙচুর, অস্থিরতা সবকিছু একসঙ্গে ঝাপিয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটছে যে, দিনশেষে নিজেকে আনন্দিত মনে হয়; আরেকটা দিন পার করে দিতে পারার জন্যে। দি ডে আই গ্ল্যাড টু সার্ভাইভ।

শীত শুরু হচ্ছে। এখন চলছে আগুন পোহানোর কাল। ব্যাডমিন্টন খেলার কাল। পার্কে দেখলাম জটলায় জটলায় আগুন পোহানো চলছে। দু'টো ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হয়েছে। এখনকার শীতে আগুন জ্বালানোর এবং সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে থাকার আলাদা মজা আছে। কিন্তু ক'দিন পরেই এ মজাটা থাকবে না। তখন আগুন জ্বালানোর মতো জ্বালানি থাকবে না। মানসিক ইচ্ছা থাকবে না। শুধু বদ্ধ কুঠুরিতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মানুষও কি এককালে শীতনিদ্রায় যেতো নাকি?

ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়

এর আগের দিন গিয়েছিলাম টাঙ্গাইল। সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকার দিকে যাওয়ার রাস্তাটা বেশি সুন্দর। কক্সবাজার থেকে লামা যাবার সেই পাহাড়ী পথের মতোন। সেখানে একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে। ভেতরে আছে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল। অনেক পোশাকধারী সেনাসদস্য। কিন্তু ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটের ভেতর থাকা সদস্যদের মতো খড়খড়ে নয় তারা। সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ায়, বাজার করে, বাজারের দোকানে বসে চা খায়, গুলতানি মারে; অনেক বেশি জনসম্পৃক্ত। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা থেকে শুরু করে সবই করে। শুধু নিয়মটা ভাঙ্গে না। আর আমাদের জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরের গুলো সারাদিন গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এমন একটা ভাব ধরে থাকে যে, ভেতরে না জানি কি রসগোল্লা-মন্ডা-মিঠাই পাকানো হচ্ছে!

অতিপ্রাকৃতিক সমান্তরাল

সেদিন অচেনা বন্ধুর সঙ্গে ই-মেইল চালাচালি হচ্ছিলো। এটা একটা ভালো জিনিস পাওয়া গেছে চালাচালি করার জন্য। ফ্রিজবী'র মতো অনেকটা। যাই হোক, আমাকে ২টার সময় ঘুম থেকে উঠতে দেখে তিনি যথারীতি হতাশ হলেন এবং আমার লাইফস্টাইলকে ‘ল্যাভিশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। সেটা পড়ে আমি যারপরনাই খুশি হলাম। কেন জানি না।

চলতিপথে একদিন মেজর অনন্তের সঙ্গে দেখা। মতিঝিল কাঁচাবাজারে বাজার করছিলেন। বললাম, এই করেই তো জীবনটা পার করলেন। এখন কিছুক্ষণের জন্য একটা ব্রেক নেন। কক্সবাজারে লং বীচ নামে একটা সুন্দর হোটেল আছে। সেখান থেকে ঘুরে আসেন। আর ওখানে কিন্তু রেজিস্টার্ড বার আছে একটাই। হোটেল সীগালে সম্ভবত। গিয়ে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। মেজর অবশ্য আমার কথায় খুব প্রভাবিত হলেন বলে মনে হলো না। বরং রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ঘুরঘুর করতেই নাকি উনার বেশি ভালো লাগে। আর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে। আমরা নিজেদের চা-বিড়ি ধ্বংস করায় নিয়োজিত অবস্থার একটা ছবি তুললাম। সেই ছবিটা আমি কভারে লাগিয়েছি।

শুধু প্রতিটি নতুন দিনের অপেক্ষা...

শহরগুলোর প্রাণ আছে। চিটাগাং শহরের ইদানীং লাইব্রেরিটার কথা আজ মনে পড়ে গেলো অবন্তীর সঙ্গে কথা বলার সময়। আমিও ওর মতো লাইব্রেরীতে গিয়ে চাচা চৌধুরির একটা বই কেনার পাশাপাশি আরেকটা বই পড়ে চলে আসতাম। তখন মনে করতাম, দোকানদার বুঝতে পারছে না। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত জানি, দোকানদার খুব ভালোই বুঝতো। আমি হলেও ঠিকই বুঝে ফেলতাম। কিন্তু কাউকে এ কাজে বাধা দিতাম না। বই পড়তে বোধহয় পৃথিবীর কেউ বাধা দেয় না। প্রচলিত আউট বই টার্মটি মূলত মানুষের জীবনে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তারপর এ টার্মটিও একসময় অবান্তর হয়ে যায়।

গল্প : ইনটু দ্য ওয়াইল্ড

ইনটু দ্য ওয়াইল্ড। আমার খুব প্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে একটা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের জীবন মনে হয় আসলেই এ সিনেমাটির সঙ্গে মানানসই। কারো যদি কোনোকিছুতেই মন না বসে এবং সিরিয়াসলিই সেটা না বসে; যার কোনো রিমেডি নাই, তখন তাকে কি করতে বলা উচিত? পুরো পৃথিবী ছেড়ে একা একা বাস করার জন্য অরণ্যে গিয়ে ঠাঁই নেয়া সিনেমার সেই একরত্তি ছেলেটার জীবনের শেষ উপলব্ধিটি ছিলো, হ্যাপিনেস্ ইজ রিয়েল হোয়েন শেয়ার্ড। সুখটা তখনই আসল, যখন সেটা কারো সঙ্গে ভাগ করে নেয়া যায়। কিন্তু কোনো কোনো সুখ আছে, যেগুলো কারো সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ থাকে না। সেই সুখানুভূতিগুলো নিয়ে আমাদের কি করা উচিত? আমি মাঝে মাঝে বসে বিষয়টা নিয়ে ভাবি।

শুধু চোখ দু'টো জেগে থাকে

১.
প্রিয় হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসি। তার মায়াবী সান্নিধ্যে জীবনের সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি কেটেছে, যেটি কাটাতে আমি পাড়ি দিয়ে এসেছিলাম ৪.৫৪ বিলিয়ন বছরের পথ।

অনেক ছোট্টবেলার কথা। আম্মু একবার জন্মদিনে আমাকে গল্পের বই কিনে দেয়ার জন্য নিয়ে গেলেন লাকী প্লাজার দোতলায়। একটা বিখ্যাত বইয়ের দোকানে। দোকানের নামটা মনে পড়ছে না, কিন্তু খুবই পরিচিত একটা দোকান ওটা। সেখানে গিয়ে আম্মু আমাকে ভূত ভূতং ভূতৌ নামের একটা 'মাঝারি' গল্পের বই কিনে দিলেন। শৈশবে আব্বু-আম্মু দু'জনেই আমাকে গল্পের বই কিনে দিতেন।

আননোন আর্টিস্ট - আননোন অ্যালবাম - ট্র্যাক টুয়েলভ

অনেকক্ষণ ধরে একটা জোরালো আলোকবর্তিকার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। নিজের বারান্দায়। চিরসঙ্গী জ্বলন্ত জ্বলে আছে দু'টো আঙুলের মাঝখানে। আধখানা তীব্র চাঁদ কয়েকটা সঙ্গী রাতের তারা নিয়ে আমাদের সবাইকে দেখছে। অনেক দূর থেকে কিন্তু খুব পরিস্কার সবকিছু দেখতে পাচ্ছে। ভালোবাসার খোঁজে আর কতকাল ভালোবেসে যাবো সেটা নিয়ে ভাবছিলাম। একজন মানুষকে আরেকজন মানুষ কতটা ভালোবাসতে পারে? নির্জ্ঞান মন জানে না পুরো বিষয়টা আসলে কতখানি জটিল। না জেনেই সে একটা রক্ত-মাংসের মানুষ নিয়ে খেলতে বসেছে। জানে না, বাইরের পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার সবই বাস্তব। আনমনে খেলেই চলেছে। আমরা যারা রক্ত-মাংসের মানুষ, তারা এ খেলার নিরুপায় ক্রীড়ানক মাত্র। আহা, নিজের এ মহার্ঘ্য সম্পদটি নিয়ে নিজে যদি কোনোদিন বুঝে-শুনে খেলার সুযোগ পেতাম!

ভালোবাসা প্রজাপতি হয়ে পৌঁছায় মেঘদের কাছে

সকালে যখন পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো, কাজটা ঠিক হচ্ছে না।

বেলা একটা বাজলো। মোবাইলের আলার্মটা বাজতে শুরু করে দিলো। আমি হাতড়ে হাতড়ে বালিশের নিচে সেটার উপস্থিতি আবিস্কার করলাম এবং যন্ত্রটার একপাশের লক-আনলকের সুইচ টিপে আলার্মটা বন্ধ করে দিলাম। ওই সুইচটা রিংটোন মিউট করার কাজেও একইভাবে ব্যবহার করা যায়।

কয়েক মূহুর্ত পর একটা চোখ খুললাম এবং ঘরের দেয়ালে ঝুলতে থাকা ঘড়িখানার দিকে খোলা চোখটা সরু করে তাক করলাম। নিশ্চিত হলাম ঘড়ির ছোট কাঁটাটা কি আসলেই বেলা একটার ঘরে ঢুকেছে কিনা। যখন নিশ্চিত হলাম যে; হ্যাঁ একটা বেজেছে, তখন আর আলসেমী করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। নিয়ে সিরিয়াসলি খোলা চোখটা বন্ধ করে ফেললাম। কি লাভ আলসেমী করে? তারচে' ঘুমাই।

জ্বলন্ত গোল্ড লীফই ভরসা

বৃষ্টি আজো মনের ভেতর সেই অনুভূতিই তৈরি করে যার জন্য আজ থেকে অনেক বছর আগে বৃষ্টির প্রেমে পড়েছিলাম। মেয়েটিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতাম। সে বাসতো তারচেয়েও বেশি কিছু দিয়ে। অথচ আমাদের দু'জনের দেখা হয় নি কোনোদিন। জানা হয় নি; কেন আমরা কখনো একে অপরের কাছাকাছি যেতে পারি নি।

আমার ভেতর শুকিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোতে আজো প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে বৃষ্টি। সেসব স্মৃতি আসলে তারই। আমি শুধু উপস্থিত ছিলাম, তাই সেগুলো নিজের অন্তরে ধারণ করেছি। প্রতি ফোঁটা বৃষ্টির জলে মিশে থাকা সেই দিনগুলো, যেগুলো আমি কখনো ভুলি নি এবং কখনো ভুলবো না; সেগুলোর মনে পড়ে যাওয়া জোর করেও ঠেকিয়ে রাখতে পারি না ইদানীং যখন ঝুম বৃষ্টিতে আটকা পড়ি। মাঝে মাঝে এমনকি, পারি না চোখের কোণায় সামুদ্রিক পানির জমাট বাঁধা ঠেকিয়ে দিতেও।

গাউসুল আজমের ছাদে গিয়ে পেঁয়াজ-মরিচ ভর্তা আর ধোঁয়া ওঠা পাবদা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়ে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিকশার হুডের নিচে হুটোপুটি করতে করতে কলাভবন থেকে নীলক্ষেত পৌঁছে যাবার সেসব দিনগুলো কত দ্রুত হারিয়ে গেলো জীবন থেকে! কত দ্রুত মানুষের ছোট্ট জীবনের একেকটা দিন হারিয়ে যেতে পারে?

ছোটগল্প : অযৌক্তিক অসহজ

বাজে কথা। খুব বাজে কথা। একটা মেয়ে তোকে ভালোবাসবে আর তুই তাকে প্রতিদিন ঘুরাবি, এটা খুবই বাজে কথা।

-না দোস্ত। নওরীণ আসলে আমাকে ওইভাবে ভালোবাসে তা বলা যাবে না। কিন্তু নওরীণকে আমি দেখসি, ওর মধ্যে একটা ব্যপার আছে। ধর অনেকদিন না দেখা হলে নওরীণ নিজেই দেখা করার একটা সুযোগ বের করে। আসে এবং আমাকে গভীরভাবে খেয়াল করতে থাকে। যেন আমি কেমন আছি, কি করছি, কি ভাবছি সব সে অনুমানেই বের করে ফেলবে। ওর চোখে আমি এক ধরনের গবেষণা চালানোর লক্ষণ খুঁজে পাই। সে আমাকে নিয়ে কি যেন একটা গবেষণা করছে। আমি জাস্ট এই জন্য ট্রাই করি ওকে সময় কম দেবার। কিন্তু ওর আছে বিপুল পরিমাণ এনার্জি। যতই ঘুরাই ততই ঘুরে-ফিরে ঠিক সামনে এসে হাজির হয়। আর কথা বলতে থাকে ক্রমাগত। বিষয়টাকে তুই কি বলবি দোস্ত?

বিষয়টা ভয়ংকর। সূপর্ণখা টাইপ মেয়ে। চুপচাপ কেটে পড়। এ ধরনের মেয়ের আশপাশে যাওয়াও বিপজ্জনক। প্রেমিকা হিসেবে অজেয় কিন্তু আঁচড়ানোর সময় আঁচড়ে কলিজায় দাগ ফেলে দিয়ে আসবে। সময় থাকতে পালা।