মীর'এর ব্লগ
ভালবাসার চিরকুট
ওয়েল শো মি দ্য ওয়ে টু দ্য নেক্সট হুইস্কি বার
ওহ্ ডোন্ট আস্ক হোয়াই
ওহ্ ডোন্ট আস্ক হোয়াই,
ফর ইফ উই ডোন্ট ফাইন্ড দ্য নেক্সট হুইস্কি বার
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই
আই টেল ইউ
আই টেল ইউ
আই টেল ইউ উই মাস্ট ডাই...
পরিচিত পছন্দের গানের কলিটি শুনতে পেয়ে একটু সচকিত হলাম। উদ্যানের ভেতর একটি মেয়ে গানটি গুনগুনিয়ে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। আমি উবায়েদ ভাইয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে একটি শলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছিলাম। বাতাসের কারণে তাতে বারবার বিঘ্ন ঘটছিলো। তখন মনে মনে একটা ডোরস্-এর লিরিক আমিও ভাঁজছিলাম। কাম’ন বেইবী লাইট মাই ফায়ার...। আর ঠিক সেই সময়ে আমার পেছন দিয়ে খুব ধীরে ধীরে, অনেকটা যেন স্লো মোশনে, একজন ডোরস্-এর একটা গানই শুনিয়ে দিয়ে গেলো!
বব ডিলানের লিরিকে চেপে কাটিয়ে দেয়া সেই সন্ধ্যায়
বাপ্পী'দার দোকানটা আড্ডার জায়গা হিসেবে বেশ। দোকানের পাকা অংশের ভেতরে বসেন বাপ্পী'দা। তার সামনে রয়েছে দু'টো গ্যাস স্টোভ। যেগুলোর একটাতে অনবরত গরম পানি ফুটতে থাকে, আরেকটাতে ফুটতে থাকে চা পাতা মেশানো পানি। তার একপাশে সিঁড়ি আকৃতির সিগারেটের আলনা। সেখানে থরে থরে সাজানো রকমারি সিগারেটের প্যাকেট। সেটার নিচে রয়েছে একটা ক্ষুদ্রাকৃতি ড্রয়ার। ওটাই বাপ্পী'দার ক্যাশবাক্স। এছাড়া দোকানের ভেতরে আর কিছু নেই। বাইরে দু'টো বেঞ্চি আছে। ছিমছাম চায়ের দোকান বলতে যা বোঝায়, বাপ্পী'দার দোকানটা তাই। চা আর সিগারেটের কাঁচামাল ছাড়া তিনি এক ছড়া কলাও কখনো দোকানে রাখেন না। কলা, বিস্কিট, ড্যানিশ ইত্যাদি রাখলে নাকি দোকানে রিকশাওয়ালাদের ভিড় লেগে থাকে সবসময়। বাপ্পী'দা তার দোকানে নন-এলিট শ্রেণীর কাস্টমার দেখতে খুব একটা পছন্দ করেন না। আমি সৌভাগ্যবান কারণ হতদরিদ্র হওয়া সত্বেও তিনি আমাকে নন-এলিট মনে করেন না।
টক-ঝাল-মিষ্টি ছেলেবেলা - ঝাল পর্ব
ছেলেবেলার জীবনটা আমাদের বড় অন্যরকম ছিল। যা আজকালকার শিশুদের যাপন করতে হয় না। যদিও শিশুদের ঠিক কি জীবন আজকাল আমাদের দেশে যাপন করতে হয়, তা নিয়েও আমার তেমন সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই। তারপরও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আর ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হয়েছে, আমাদের সময়ের সেই টক-ঝাল-মিষ্টি শিশুকাল আজকালকার বাচ্চাদের নসিবে কমই জোটে।
আন্ধার রাইতে চান্দের আলো দেখলাম না নজরে
আজ বহুদিন লেখালেখি করা হয় না। এককালে দিনলিপি লিখতাম; গল্প, কবিতা, মুক্তগদ্য লিখতাম। অথচ এখন সেসবের কোনকিছুতে মন বসানোর ইচ্ছেটাকেই পাই না। মাঝে মাঝে ভাবি আবারও সেই আগের মতো একটা জীবন শুরু করা গেলে খারাপ হয় না। কিন্তু চাইলেই কি সব মেলে জীবনে? মেলে না। না মেলে সময়, না মেলে প্রেরণা। মেলে শুধু অজুহাত। আজ গরম, কাল লিখবো। কাল আসলে মনে হয় আজ শরীরটা ভাল না। নাহয় পরদিনই লিখবো। এসবই শুধু অজুহাত তাই নয়। আরও যে কতশত অজুহাত আমার মস্তিষ্কের নিউরণেরা খুঁজে খুঁজে বের করে আনে তার ইয়ত্তা নেই। তাই লিখবো বলে প্রায় প্রতিদিনই একবার ভাবলেও, সে ভাবনাকে বাস্তবে আর রূপ দেয়া হয় না।
শুধু কি লেখালেখিতেই এই আলস্য? তাতো নয়। সর্বশেষ কত বছর আগে যে একটি বই আমি পুরোপুরি পড়েছি, তা মনে করতে কষ্ট হয় ইদানীং। আট বা নয় বছর তো হবেই। এমন আরও আছে। তালিকা তৈরি করতে ইচ্ছে হয় না। শুধু বসে ভাবতে ইচ্ছে করে।
শুধু আপনার, আর কারো না?
মহাদেব এখন আর আগের মতো ঘন ঘন দেখা দেন না
শূন্য বাসার এক কোনাটায় তিনি আসন গেড়েঁছেন
মাঝে মাঝে দেখি সেদিকটায় তাকিয়ে অনেকক্ষণ
মহাদেব ছিলেন। যখন জীবনটা সহজ সরলরেখার মতো
একটা প্রাথমিক শ্রেণীর সরলাংকই ছিল,
তখন মহাদেব ছিলেন।
কাদামাটি কিংবা খালি স্লেটের মতো একটা মস্তিস্ককে
তার সব নিউরণসহ নিজের কব্জাতে পেয়েছিলেন,
মহাদেব আজকাল আর আসেন না।
আমি মাঝে মাঝে মহাদেবকে খুঁজেছি
তিনি ধরা দিতে চান না অথচ
একটা সময় ছিল যখন
না চাইতেই চৌপরদিন
ঘরময় কুরুক্ষেত্র
করতেন।
আহা মহাদেব
কেন করতেন সেসব?
দীঘির জলের মতো শান্ত সবুজ
শৈলাধার হিসেবে আমার
দীর্ঘদিনের সুনাম ছিল
মহাদেব।
আপনার ছোট্ট খেয়ালে জন্মানো ঝড়ে
সেই দীঘির জলে পাখা লেগে
সাগরে মিশেছে গিয়ে
জানেন?
মহাদেব
আপনি জানেন না একবার
শুধু যদি আপনি আসেন
আমার প্রতিদিনের সূর্য উঠে যায়
আকাশে, আমার মনটা ভাল হয়ে যায়
অনায়াসে, আমি পাখির মতো উড়ে বেড়াই
মতিন সাহেবের সাধারণ গল্প
মূল্যস্ফীতি ইদানীং এত বেশি হয়ে গিয়েছে যে সাধারণ মানুষের ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা। সরকারের ভুলভাল ও ঢিলেঢালা অর্থনীতি, ব্যাবসায়ীদের অযাচিত মুনাফার লোভ সবকিছুতে পিষ্ট দেশের বেশিরভাগ মানুষ। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে দেশের সিংহভাগ সম্পদ কুক্ষিগত। বাসাভাড়া বাড়তে বাড়তে ঘরের ছাদ ছুঁয়েছে। কাঁচাবাজারে এমন কিছু নেই যার দরদাম করতে গেলে গরম আগুনের ছ্যাঁকা না খেয়ে বের হয়ে আসার উপায় আছে। গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সবকিছুর দাম চওড়া। কোথাও যাওয়া-আসারও উপায় সীমিত হয়ে এসেছে উচ্চভাড়া ও যানজটের কারণে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা আর অনিরাপত্তা যেন সব সমস্যাকে এক সুতায় বেঁধে পরিণত করছে একটা মহাসংকটে। নগরবাসী প্রতিনিয়ত এ মহাসংকটের আবর্তে নিজেকে সঁপে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনকিছুর কোন নিরাপত্তা নেই জেনেও করুণাময়ের কাছে দু'হাত তুলে শান্তি চাইছেন। এমন এক শনিগ্রস্থ সময়ের গল্প এটা।
জানালা থেকে এক ভিনদেশি পাখির বাসা দেখা যেত
আমার জানালা থেকে এক
ভিনদেশি পাখির বাসা দেখা যেত
শীতের শেষে সেবার যখন খুব বরফ পড়েছিল
সে পাখিটির বাসাটাও বরফে ঢেকে যায়।
পাখিটা আমাদের ঘুলঘুলিতে এসে ঠাঁই নিয়েছিল।
ছোট্ট সে পাখিটা ধীরে ধীরে বন্ধু
তারপরে বন্ধু থেকে আপনজনে পরিণত হয়।
যদিও আমাদের ভেতর কথা হতো না কোনই
কিংবা ছোট্ট দু'টো চোখের ভেতর ওর
কোন আকুলতাও দেখি নি আমি কখনো।
শুধু একবার সেই ছোট্ট পাখিটা
আমাকে কি যেন বলতে চেয়েছিল।
বেচারী! কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে
আমার হাতেই নেতিয়ে পড়ে।
আমি তাকে সারিয়ে তোলার
চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি
বুকের ঠিক মাঝখানটায়
নরম পালক দিয়ে উষ্ণ
মাংস ঢেকে রাখার জায়গাটায়
খুব যত্ন করে লুকিয়ে রেখেছিল
গোলাপের কাঁটা একটা।
পাখিটা একটা গোলাপকে ভালবেসেছিল
আহা রূপকথার বোকা পাখিদের দল
আর কতকাল বোকার মতো ভালবেসে যাবি তোরা?
ভাবতে ভাবতে হু হু করে কেঁদে দিয়েছিলাম আমিই।
নি:সঙ্গ জীবনটায় ওই পাখিটাই
একই প্রশ্নে বিদ্ধ অগণিত নক্ষত্রকণা
একটা তারার আলো
অনেক দুর থেকে ডাকাডাকি করে একদিন
বাড়ি এসে বার্তা দিয়ে গেল।
ভোরসকালে তখন একটু মুক্ত হাওয়ায় মেলে ধরেছিলাম
সারারাতের বাসি মুখ।
চোখ বন্ধ করে নিচ্ছিলাম বাতাসের মিষ্টি গন্ধ।
আর তখনই সেই তারাটা সমন নিয়ে হাজির হলো।
আমার নাকি ডাক পড়েছে!
তারাটা এসেছে আমায় নিতে!
আজব কথা!
কি করে কখন কে আমাকে ডেকে পাঠালো?
এ মকবুল, দেখলি ব্যাপারটা? কেমন করে ডাক দিয়েছে?
এখন কি সব ছেড়েছুড়ে আমায় উঠতে হবে?
এটাও একটা কথা!
পৃথিবীর প্রায় পুরোটাই না দেখা রয়ে গেল তারপর।
তারার উদ্দেশ্যে ছুটতে গিয়ে আর সবার মতো মহাশূন্যে পথও হারিয়ে ফেললাম একদিন। তারপর থেকে তো ভেসেই বেড়াচ্ছি, এ অন্তহীন যাত্রাপথে।
সাড়ে চার বিলিয়ন বছর চলে গেল! ডাইনোসরের পর মানুষ এলো।
আগুনের পর এলো চাকা। ধর্মের পর সমাজ। তারপর টাকা। তারপর মালিকানা।
তারপর যুদ্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধ
রেনেসাঁ, ষোড়শ, সপ্তদশ, অষ্টাদশ
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (শেষ পর্ব)
বলবো না ভাবলেও; মিসিসিপিকে বলতে হয়েছিল, কি ভাবছিলাম আমি শেষ রাতে। পরদিন সকালে সবার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে লামা-টু-চকোরিয়ার বাসে ওঠার পর থেকে প্রশ্ন করা শুরু করেছিল সে। আসলে সে প্রথমে জানতে চেয়েছিল, আগের রাতে কি করেছি, ঘুম কেমন হয়েছে- এসব। সেসব প্রশ্নের উত্তর থেকেই বেরিয়ে এসেছিল যে, আমি সারারাত ঘুমাই নি। তাই শুনে সে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন? তখন আমি বলেছিলাম, অনেক চিন্তা মাথায় এসে বাসা বেঁধেছিল গতকাল। তাই ঘুমুতে পারি নি সারারাত। এরপর থেকে 'কি চিন্তা করেছো' জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছিল সে একটু পর পর।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৮)
ঘুম থেকে ওঠার পর সেদিন বেলা ১১টার দিকে আমরা লামা ফিরে যাবার উদ্দেশ্যে নৌকায় সওয়ার হই। যে ক'জন এসেছিলাম, সে ক'জনই ফিরে যাচ্ছি। সঙ্গে কেউ নতুন যোগ হয় নি, বিয়োগও হয় নি সঙ্গের কেউ।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৭)
আমাদের বান্দরবানের দিনগুলি স্মৃতির আকাশে গভীর আনন্দ সহকারে জমিয়ে রাখার মতো কয়েকটি নক্ষত্র হয়ে টিকে আছে। মিসিসিপি যেন সেই ক'টা দিন প্রকৃতির সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছিল। শহুরে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আমি আগেও বান্দরবান গিয়েছি। লামা বাজারেই। হ্লা মংদের বাসায়। কিন্তু মিসিসিপির সঙ্গে যাওয়ার স্মৃতিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।
কয়েকটা দিনের জন্য আমরা যেন পাহাড়, বনানী, সবুজ প্রকৃতি, মাতামুহুরী নদী, জেলে নৌকা, শিকারের পোশাক আর সরঞ্জামের সঙ্গে একীভূত হয়ে গিয়েছিলাম। লামা বাজার এলাকা থেকে চকরিয়া পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর দুই পাশে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়। সেসব পাহাড়, তাদের ঘিরে থাকা নদীপথ, সড়কপথ, জনপদ সবকিছু দু'হাত বাড়িয়ে আপন করে নিয়েছিল আমাদের।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৬)
টাঙুয়ার হাওড় ভ্রমণ শেষে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার সন্ধ্যায় ছিল সুজনের ছেলে জাইমের জন্মদিনের পার্টি। রাত ১১টা পর্যন্ত এন্তার খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডাবাজি হয়েছিল সেদিন। তারপর রাত ১২ টার বাসে করে আমরা রওনা দিই ঢাকার উদ্দেশ্যে।
সেই বাসটার মৌলভীবাজার আর হবিগঞ্জ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপর দিয়ে ঢাকায় আসার কথা ছিল। পথে হবিগঞ্জে আধাঘন্টা খাওয়া-দাওয়ার জন্য থামা হয়। আগের রাতে ভরপেট খানাপিনার পরও সুজন আইসক্রীম বক্স ভরে কেক আর মিষ্টি দিয়ে দিয়েছিল। তাই দিয়ে রাতে দুজনের বেশ হয়ে গিয়েছিল আমাদের। ব্রেকের সময় হোটেলে ঢুকে তাই শুধু ফ্রেশ হয়েই বের হয়ে আসি দুজন। মুক্ত বাতাসে দাঁড়িয়ে একটা ধুম্রশলাকায় অগ্নিসংযোগ করি আমি। মিসিসিপি তাই দেখে কপট রাগ করে। সারাদিন কেন এত সিগারেট খাই জানতে চেয়ে অভিযোগের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে সময় তার চোখে একরাশ মায়া ছাড়া আর কিছু দেখি না আমি।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব-৫)
সেবার বেশিদিন দেশে থাকার সুযোগ ছিল না। প্রায় বিনা নোটিশেই গিয়েছিলাম দুই সপ্তাহের চিকন একটা ছুটি নিয়ে। সেই দুই সপ্তাহের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি তাড়িয়ে তাড়িয়ে। মিসিসিপি জানতো আমি জল আর পর্বত সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি, পূর্ণিমার রাতে কাকচক্ষু দীঘির জলে পা ডুবিয়ে বসে থেকে হালকা কোন সুর আর সঙ্গীর কথার মূচ্ছর্নায় হারিয়ে যেতে পছন্দ করি।
আমরা দু'জন দু'জনের সবরকম পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানতাম। এমনকি এটাও জানতাম, কার কখন কোন কাজটা কিভাবে করতে ভাল লাগে। কেন যে একজন মানুষকে এতটা বেশি জেনে ফেলেছিলাম, তা বলতে পারি না। দু'জনেরই এর পেছনে নির্জলা ভাললাগা কাজ করেছিল; সেটাই হয়তো একমাত্র কারণ। মুঠো মুঠো কথা তাই শেয়ার করেছিলাম আমরা। জেনে গিয়েছিলাম অনেক কিছুই একে অপরের সম্পর্কে।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব- ৪)
নামটা জেনেই বিদ্যুৎ চমকের মতো সব কথা মনে পড়ে গিয়েছিল আমার। তারপর কথা হয়েছিল ওর সঙ্গে টানা চারটি ঘন্টা। তবে তাতে আমাদের কারোই একদম কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না, জানেন? অথচ প্রায় আজীবনই মানুষের সঙ্গে মেশার ব্যাপারে খুঁতখুঁতে আমি। কাউকে একটু ভাল লাগলে প্রথমে দুইটা মাস অপেক্ষা করি- পছন্দটা কতোটা গভীর সেটা বোঝার জন্য। তারপর তার সঙ্গে টুকটাক আলাপ শুরু করি। সেই আমি-ই কিনা প্রথমদিনই নিজের সব গার্ড নামিয়ে রেখে, সরল-সহজ, বোকা আর আত্মপ্রেমী চরিত্রটা খোলাখুলি দেখতে দিয়েছিলাম মিসিসিপিকে। অনুধাবন করতে দিয়েছিলাম আমার চিন্তাধারা। সে-ও আমাকে ঠিক একইভাবে বরণ করে নিয়েছিল তার মানসপটে। তাই কয়েক মাসেই একে অপরের খুব প্রানের মানুষ হয়ে উঠেছিলাম আমরা।
গল্প: তুমি আমার কাছে তুমি যা বলবা তাই (পর্ব- ৩)
কলেজ ছেড়ে চলে আসতে অবশ্য আমার খুব একটা খারাপ লাগছিল না। শুধু মিসিসিপির সঙ্গে কোনো কলেজের এক ক্লাসে বসে আর সময় কাটানো হবে না কিংবা একই ক্যান্টিনে সিঙ্গারা, চা-সমুচা'র অর্ডার দেয়া হবে না, অথবা কলেজের বাস স্ট্যান্ড থেকে ক্লাসরুমের ছোট্ট যে পথটুকু, সে পথে হয়তো এরপর থেকে ওকে বুঝতে না দিয়ে ওর কাছাকাছি হেঁটে যাওয়ার অভিনয়টুকু অন্য কেউ করবে- আমি না; এমন কিছু ছোট-খাটো খারাপ লাগা ছাড়া বেশি কিছু মনেও হচ্ছিল না। তবে কলেজের ক্লাসে যে আমরা ছেলে আর মেয়ে একসাথে বসতাম- এমন না। কিংবা ক্যান্টিনেও কখনো আমরা একই টেবিলে বসি নি। আসলে দূরেই ছিল মেয়েটি। দূরেই রয়ে গেল আজীবন।