যাপিত জীবনের গল্প-২(স্বার্থপরতা)
মাঝে মাঝে নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হয়। তখন নিজের কাছেই খুব লজ্জা লাগে। মনে হতে থাকে কেন আমি এত স্বার্থপর। অথচ এই ভাবনা নিয়েই আমি বেড়ে উঠছি। একটু ও শোধরাতে পেরেছি বলে মনে হয়না ।
মুরুব্বীদের মুখে একটা কথা অনেক শুনেছি , সেটা হল
যার হয়না নয় এ তার হয়না ৯০ তে
। আমার ৯ বছর পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। অতএব মনে হচ্ছে ৯০ পর্যন্ত আর হবেনা। তাই খুব করে চাইছি যাতে ৯১ বছর বাঁচি! তাতেও যদি পরিবর্তন হই।
নিজেকে সবচেয়ে স্বার্থপর মনে হয় যখন কারো ভালো একটা গল্প লেখা পড়ি। অথবা কারো ভালো একটা পোস্ট পড়ি।
দেখা গেলো শরৎ এর কোনো উপন্যাস পড়ে খুব ভালো লাগলো। তখন মনে হয় ইসশ! আমি যদি এমন একটা লেখা লিখতে পারতাম। আমি একটু শরৎভক্ত কিনা তাই শরৎ এর কথাই আগে বললাম। এটাও তো এক ধরনের স্বার্থপরতা! কেনো শরৎ আগে লিখতে হবে?
পরকীয়া
একটা সময়ে চলচিত্রে পরকীয়া প্রমের চরম আগ্রাসন ছিলো, বিবাহিত নায়কের সুন্দরী প্রেয়সী, বিবাহিত নায়ক আর সুন্দরী প্রেয়সীর রোমান্টিক আলোচনা, বৌয়ের সন্দেহ আর নায়কের আশ্বাস, আবেগ উথলে পরা গান, শেষ দৃশ্যে ভিলেনের হাত থেকে নায়ককে বাঁচাতে গিয়ে প্রেয়সীর মৃত্যু, অপরাধবোধে দগ্ধ হওয়া বৌয়ের আরও কিছু আবেগী সংলাপ, বিবাহিত প্রেমের প্রতি অটল আস্থা, সুন্দরী প্রেয়সী ছেড়ে চলে যেতেও পারে কিন্তু পতিব্রতা স্ত্রী কখনও স্বামীর দুর্দিনে স্বামীর সঙ্গ ত্যাগ করে না, বিভিন্ন রমকের ভাবনা উস্কে দেওয়া চলচিত্রগুলো এখন অতীত।
গল্প : কোয়ান্দ এল এতে সিউল
রাত্রি দ্বিপ্রহর। পাশের ঘরে ঘুমিয়ে আছে আমার স্ত্রী, নীলা। ও ঘুমের সময় নৈঃশব্দ চায়। নাহলে ঘুমুতে পারে না। যে কারণে আমি কখনো শোবার ঘরে বসে অফিসের কাজ করি না। অবশ্য এমনিও রাতে আমার তেমন কোনো কাজ করা হয় না। কাজের বাহানায় নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো হয় বড়জোর। হয়তো প্রথমে মিনিট পাচেঁক বা কোনো কোনো দিন আরেকটু বেশি সময় ওয়ার্ড আর এক্সেলে ডেটাশীট তৈরি করি। তখন কী-বোর্ডে একটু খুটুর-খাটুর শব্দ হয়। এরপরে ‘ধ্যূৎ কালকেরটা কালকে দেখা যাবে’ বলে একটা শ্রাগ করে ফাইলগুলো বন্ধ করে দিই। রাতের সুনসান ভাবটা আমার কাছেও বেশ প্রিয়। তবে আমি সেটা ঘুমিয়ে উপভোগের পক্ষপাতি নই। অবশ্য আমার একটা সুবিধে আছে। সকালে অফিসে যেতে হয় না। যদি সেটা করা লাগতো, তাহলে আমিও হয়তো দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে যেতাম।
দিননামা...
আজকে বাসায় ফেরার সময় পরিচয় ঘটলো লোকটার সাথে। জগদ্দুনিয়ার উপর মহা বিলা খাওয়া। বাসের ভাড়া, তেলের দাম, মোহাম্মদপুর-শ্যামলী এলাকার বাসের টিকিট সিস্টেম তুইলা দেওয়া, বড়লোকদের ট্যাক্স ফাকি দেওয়ার অভ্যাস ব্লা ব্লা ব্লা। লোকটার দাবী অনুযায়ী তার বয়স ৬২। যদিও আধো অন্ধকারে তার গলার ত্বকে রিংকেল খুঁজতে অপারগ হইলাম আমি। আলোতে গেলে কিছু দেখা যাইতো হয়তো। তার পরনের ব্লেজারটা শাব্দিক অর্থেই ব্লেজার। পুরানা স্যুটের কোট না পইরা এই বয়সেও তার স্টাইল সচেতনতা ইন্টারেস্টিং; চশমার বাইফোকালবাহী অক্সিডাইজ্ড ফ্রেইমটা হয়তো বাজারের সবচে দামী উদাহরণ নয় কিন্তু রুচিশীলতায় এই বয়সের মানে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২২ বছরের যুবকের জন্য বেশ আইডেন্টিফাইড। শুদ্ধ প্রমিত উচ্চারনের শব্দচয়নে রাজশাহীর হালকা টানটারে আমার চাঁদের কলঙ্কের মতোন লাগলো।
" বড় শকুন এখন খাঁচায়" ধন্যবাদ এই সরকারকে, বাংলাদেশীদের মান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে
বয়েস আমার ত্রিশ পাড় হয়েছে বছর তিনেক আগে, তাই বলতে পারছি না চল্লিশ বছর আগে থেকে অপেক্ষায় আছি। বয়েস যখন আট কি দশ, তখন একটা ছবি দেখতাম প্রায় সময়ই, প্রথম দেখতান সাদা কালো পোস্টারে, তারপর কিছুদিন পরে কালো আর লাল। ছবিটা ছিলো হাতে আঁকা। আমার দেখা আমার এই ত্রিশোর্ধ জীবনে সবচেয়ে সহজ, দারুন হাতে আঁকা, ভয়ংকর এক হায়েনার ছবি। পাঁচ আঙ্গুলের একটা হাত ছিল যাতে ছিল হায়েনার নখর। আধ হাত জিব দেখে মনে হতো এই বুঝি কারো রক্ত খেয়ে এলো,মুখের দুপাশে দুটু বড় বড় দাঁত যার থেকে রক্ত ঝরছে । চোখে ছিল মোটা ফ্রেমের চশমা। মাথায় কালো টুপি তাতে চাঁদ তারা। প্রথম বয়সে মনে হতো কোন এক দানবের ছবি, ভয় পেতাম বেশ। কিন্তু আরেকটু বড় হয়ে বুঝলাম এই দানবতো ইহজগতে বিদ্যমান। নাম জানলাম গোলাম আযম। আস্তে আস্তে তার দানবীয় কির্তিকলাপের সাথে পরিচিত হতে থাকলাম কিছু বই পড়ে আর মায়ের কাছে শুনে। প্রথম বয়সে ওই ছবি দেখে পাওয়া
আজকের দিনটির জন্যই তো অপেক্ষা করে আছি

গোলাম আযম কারাগারে। বয়সের দোহাই দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে চেয়েছিল। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের খুজে বের করে ৯০ বছর বয়সে জেলে নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। মিশরের হোসনি মোবারকের বয়স ৯০, বিচার হচ্ছে। গোলাম আযমের কিছু কুর্কীর্তির বিবরণ দিয়ে আজকের দিনটি স্মরণীয় রাখতেই এই পোস্ট।
১.
১৯৯২ সালের গণআদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আত্মজীবনীতে তিনি সেই অভিযোগপত্রটি উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে এটি প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিল। ব্লগার তানভীরের ব্লগেও এটি পাওয়া যাবে।

শাড়ী
মাঝে মাঝে একটা দৃশ্যেই আটকে যায় জীবন, একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে কল্পনায়, ইদানিং একটা শিশুর চোখে জলন্ত আগুণের প্রতিবিম্ব দেখি, সে আগুণে পুড়ে যাচ্ছে একটা পুতুল, আর আকাশ অন্ধকার করে নামছে বৃষ্টি, আগুণের আঁচ মরে যাওয়া রান্না ঘরের পাশ থেকে শিশুটা সন্তর্পনে ঢুকছে সেখানে, ভেঙে যাওয়া মাটির সানকির নীচে আধবলগ দেওয়া ভাত পরে আছে, কয়েকটা মুরগিছানা আর শিশুটা খুঁটে খাচ্ছে সে ভাত।
কোনো শিরোনামই মাথায় নেই।
অনেকদিন ধরেই ভাবছি কিছু লিখবো । কিন্তু লিখা হয়ে উঠেনা।
অভাবটা সময়ের নয়। অভাবটা মগজের!!!
কি নিয়ে লিখবো?
লিখার বিষয় যে নেই তাও নয়। কিন্তু বঙ্কিম এর মতে কোনো লেখাতে যে অর্থব্যক্তি ও প্রাঞ্জলতা থাকতে হয়। আমার লেখাগুলো তার ধারে কাছ দিয়েও যায়না। না থাকে অর্থব্যক্তি না থাকে প্রাঞ্জলতা । তারপরেও হাত লিখার জন্য নিশপিশ করে। মগজের কোষে কোষে ঘুরে বেড়ায় হাজারো ভাবনা। লিখতে বসলেই সব হাওয়া। মাথাটা একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। গোবরটুকুও পর্যন্ত থাকেনা।
আরে ভাই গোবর থাকলেও তো কিছু একটা দাড় করানো যেতো। নিজের যখন এই অবস্থা তখন আর কি করা। বসে বসে অন্যের লেখা পরে নিজেকে ধইন্য করার চেষ্টা করি।
কে বেশি ছাড় দেয়?
আমি মনে করি ছাড় দেয়ার ৰেত্রে নারীর চেয়ে পুরম্নষরাই এগিয়ে। যদিও পুরম্নষরা মায়া-মমতায় নারীর চেয়ে পিছিয়ে। নারী মমতাময়ী হলেও ছাড় দেয় কম।
বিয়ের ব্যাপারে নারীর চেয়ে পুরম্নষরাই ছাড় দেয় বেশি। যেমন_ একজন পুরম্নষ যোগ্যতাসম্পন্ন হয়েও একজন কম শিৰিত বেকার মেয়েকে বিয়ে করে তার ভরন পোষণ করতে পারে। কিন্তু নারীরা তা পারেনা। তারা বিয়ের সময় অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন ভালো পয়সাওয়ালা দেখে মত দেয়। বিয়ের পর স্বামীকে অবশ্যই উপাজর্ন করতে হবে। কিন্তু নারীর তা না করলেও চলে। আজ পর্যনত্ম যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো নারীকে বলতে শুনি নাই যে তার স্বামী বেকার হলেই চলবে এবং তার চেয়ে কম শিৰিত হলেই হবে। অথবা সে অঢেল টাকা না হলেও চলবে। অথবা কোনো নারী কখনো তার স্বামীর ভরন পোষনের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে করেনি। অথচ পুরম্নষরা ঠিকই তা করে।
সৃজনশীল
আমার আজকের পোস্টের নাম সৃজনশীল । অর্থাৎ বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ডের সৃজনশীল পদ্ধতির প্রস্তুতি আমার পরিবারে। হঠাৎ করেই খবর দিল প্রথম শ্রেনীতে পড়ুয়া আমার ছোটটা স্কুল থেকে এসে --মা ছোনো না মিস্ বলেছে আমাডের নাকি ২০ পয়ছা ছিজন করে পরীক্ষা হবে।

বার বার জিজ্ঞাসা করেও কিছুই বুঝলাম না। ডাইরী আতিপাতি করে খুঁজ়েও কিছু পেলাম না। আমি আবার সেই মা যে ভুলেও বাচ্চার স্কুলের গেটের ভিতরে প্রবেশ করতে চাই না । ছেলের মুখে এই কথা শুনে মনে হল এবারে আর রক্ষা নেই টিচারের কাছে যেতেই হবে।
মেজটা ক্লাশ ফোরে। সে বলল, তাদের টিচার বলেছে প্রতিটি সাব্জেক্টের ২০% আমাদের সৃজনশীল হবে ।
বুঝলাম ছেলেও আমাকে এই কথাই বলেছে। ওকে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়াতে শুরু করলাম।
মা
তীব্র মাঘের যন্ত্রণা তবু ভালবাসার ওম
সাদা পালক ছুঁয়ে গেছে
আমার জন্মলগ্নে? নাকি জন্ম জন্মান্তরের
সাদা বালিহাঁস ছিলে মা?
তোমার সদ্য কৈশোর পেরুনো দুহাতে
ছোট্ট এ হাত ছুঁয়ে ছিলে তুমি?
পিদিমের আলোয় কেঁপেছিলে তুমি?
মনে নেই মা
কিছূই মনে নেই। ।
সাদা মোমবাতি, সাদা তুলো, খুব সাদা ভিজে ন্যাতা
অসংবৃত রাত্রিতে প্রথম আলো-
ছোট্ট হৃদপিন্ড দেখে কেঁদেছিলে তুমি?
নারীর বন্ধন ব্যাথায় হেসেছিলে তুমি?
মনে নেই মা
কিছূই মনে নেই ।
আজ আরো একবার
তোমার আঁচলে খুঁজে পেতে চাই
সাদা পালকের ওম
তোমার পাঁজর ছুঁয়ে হতে চাই
স্রোতস্বিণী ফেনীল চিৎকার। ।।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ
*
উত্তুরে বাতাসে বৃষ্টিক্ষত ছড়িয়ে যায় ক্যান্সারের দ্রুততায়
টুপ টাপ টুপ টাপ টুপ
জলেদের ছন্দপতন জমা হয় নাগরিক পাপোষে।
অস্থির সন্ধ্যা, মুখ গুঁজে দেয় রাতের কনুইয়ের ভাঁজে
কপাল জুড়ে আলো ছড়াতে থাকা চাঁদের টিপটা বার বার ঢেকে যায়
মেঘেদের এলোচুলে।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ আটকা পড়ে যায়
ছড়ানো ছিটানো স্পাইডার ওয়েবের শ্যেন প্রহরায়।
হাসির উচ্ছল পায়রা ওড়ে চতুর্দিকের কোলাহল সাথী করে
যেখানে কংক্রীট পথ, দু'হাত ছড়িয়ে থাকে আলিঙ্গনের আকাঙ্ক্ষায়।
অশান্ত গাড়িগুলো দ্রুতলয়ে দলে যায় পথের কোমলতা
তখন, বাড়ি ফেরার তাড়া জেগে ওঠে মহাশুন্যবাসী নক্ষত্রদের মাঝে।
রাত আর নীরবতা
রাত মানে শুনশান নীরবতা।
তবে এই শহর কখনো শিখে নাই
কিভাবে নীরব হতে হয়।
গভীরতার ভেতরে বেজে ওঠে ক্রিং ক্রিং
রিকশা চালকের সতর্কতা,
আলো আর আঁধারীর ব্যর্থ মেমোরান্ডাম।
কেউ একজন চিৎকার করে ওঠে
আজকে চাঁদের আলোয় বড্ড
অসমান চলেছে পৃথিবী।
অভিযোগে অভিযোগে রাত্তিরের নীরবতা-শুনশান নীরবতা
ভেঙে যায় মুহুর্তে মুহুর্তে। রাত গভীর হলেও
আঁধারের সাদাকালো অভ্যন্তরে
রঙীন নাচের মহড়া চলেছে।
কতো শত সেলিব্রিটি
সেই নাচে
আইটেম নাচে।
খুঁজে দেখতে চেয়ে, খুড়ে দেখতে চেয়ে
আমি কেঁচো বের করে ফেলি
অতীতের সকল গহ্বর থেকে।
এই রাতে, নীরবতা ভেঙে ভীষণ আওয়াজে
আমার রাতের ডিসকোর্সে ফাটল ধরেছে,
পিপাসায় জিহ্বা শুকিয়ে কাঠ।
রাতের আঁধারে তুমি এসে জলের গেলাস,
আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত আর্দ্র করে দেবে
তার অপেক্ষায় থাকি...
একটি গামছার আত্মপ্রকাশ
যে কোনও ব্লগে এটিই আমার প্রথম লিখা। নিক হিসেবে গামছা নামটি পছন্দ করার পেছনে ছোট একটি ঘটনা আছে। 'আইলসা' হিসেবে আমার পরিচিতি জগতবিখ্যাত(জগত বলতে এই আর কি বাবা-মা, ভাই-বোন, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব)। মা বলেন,"কত রবি জ্বলে রে'-র আইলসাগুলার থেকেও তুই আরও বেশি আইলসা"।আমার আলসেমি আর অগোছালো স্বভাবের কারনে আমার ছোট বোন ত্যক্ত-বিরক্ত। একদিন শুয়ে আছি বিছানায়, বোন এসে বলল "এতগুলা কাপড়ের উপর শুয়ে আছেন, কাপড়গুলা একটু গুছায় শুইলেও ত পারেন।" আমি বেশ ভেবে জবাব দিলাম, " আমি হইলাম বিছনায় পইড়া থাকা একটা গামছা।জীবনে দেখছস একটা গামছারে, উইঠা কাপড় গুছাইতেসে?"
আমার সিসিমপুর (৪)
১
আমার মায়ের কাছে তাদের ছোটবেলার অনেক গল্প শুনছি। হুজুরের কাছে মাইর খাওয়া, আম-বড়ই কুড়ানো, মাছ ধরা, এমনই বহু হল্প। আজকের কাহিনি যুগে যুগে হুজুরের কাছে পড়ার কাহিনি।
আম্মু, ওনার ভাই-বোনরা যখন ছোটবেলায় হুজুরের কাছে পড়ত, পড়া ভুল করলেই হুজুর মারতেন। হুজুরদের মোটামুটি কমন একটা ব্যাপার হলো ওনারা ছেলেমেয়েদের পড়া দেখিয়ে দিয়েই ঘুমাতে বা ঝিমাতে শুরু করেন। আর হেলেদুলে পড়তে পড়তে একসময় বাচ্চারা ভুল পড়তে শুরু করে। আর হুজুর যখন ঘুম থেকে উঠে ভুল পড়তে শুনেন তখন তিনি মারতে শুরু করেন।