পরীক্ষা
আমি সব সময়ই মাঝারি মানের ছাত্র ছিলাম। ক্লাশের শেষ ব্রেঞ্চে বসে অন্য সব অমনোযোগী ছাত্রদের বিভিন্ন ধরণের কায়দাকেতা দেখে প্রতিনিয়ত বিস্মিত এবং মুগ্ধ হতাম। পরীক্ষার আগের রাতে নাক-মুখ গুঁজে বইয়ের পাতা উল্টানোর সময় ক্লাশে প্রথম হয়ে সবাইকে চমকে দেওয়ার অলীক ভাবনা মাথায় আসতো না, কোনোমতে ৫৫ থেকে ৬০ পেলেই আমি খুশি। আমার পরীক্ষাময় জীবন সব সময়ই প্রথম শ্রেণীর নম্বর পেয়ে পরবর্তী ক্লাশে উত্ত্বীর্ণ হয়ে মাণ-সম্মান বাঁচানোর লড়াই।এভাবেই হেলতে দুলতে যখন এইচএসসি পাশ করলাম, ভালো ছাত্রেরা সবাই বুয়েট- মেডিক্যাল কোচিং করে ভীষণ রকম ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছে। আমার যেহেতু এত বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস নেই, আমার লক্ষ্য কোনোমতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।
একঘর জোৎন্সা
হুমায়ুন আহমেদের "আকাশ জোড়া মেঘ" বইটা পড়ে এত কষ্ট পেলাম যে অনেকক্ষণ কাঁদলাম। যদিও আত্মহত্যাকে আমি ঘৃণা করি। তবুও এত কষ্ট হচ্ছিল। ভাবলাম লিখি। আমার আগের লেখাটাতে মীরের মন্তব্যটা পড়ে ইউটিউব থেকে শিরোনামহীনের গানটা শোনলাম। মীর ঠিকই মিলিয়েছে। অনেকদিন পর শিরোনামহীনের গান শুনলাম। "তুমি চেয়ে আছো তাই" গানটা অনেকবার শুনলাম। এক সময় এই গানটা প্রিয় তালিকায় ছিল।
এখন রাত ২:১৫। মাঝে মাঝে দূরের বড় রাস্তায় একটা দুইটা ছুটে যাওয়া গাড়ির শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। বিছানার মাঝে বসে আছি। কাচের বড় জানালার অর্ধেকটা পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। বাইরে ভরা পূর্ণিমা আজ। গোল চাঁদটার দিকে তাকিয়ে আছি। জোৎন্সার আলো বিছানার অর্ধেকে ছড়িয়ে পরেছে। পুরো ঘরে অদ্ভুত এক আলোয় ভরে গেছে। মুগ্ধ হয়ে দেখছি বলব না। তবে চোখ ফেরাতে পারছি না।
International Art Festival 2015
আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি । আর সেই স্বপ্নগুলি যখন পূরণ হতে থাকে তখন আনন্দতে মেতে উঠি। নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমারও ইচ্ছে/স্বপ্ন আছে। বড় বড় উৎসবে নাচবো, নাচ শিখাবো, নৃত্য পরিচালনা করবো। ২০১৫ এর ডিসেম্বর এ সেই স্বপ্নগুলোর মধ্য থেকে একটা স্বপ্ন পূরণ হলো
! হ্যাঁ, বন্ধুরা আমার নৃত্য পরিচালনায় একটি নৃত্য প্রদর্শন হয়েছিল নৃত্য উৎসব ২০১৫ -বেইজিং এ
! আমরা নেচে ছিলাম #পাশান নৃত্য !
এটা চীনের লোকনৃত্য ।
মার্চে আবার সেই সুযোগ পেতে যাচ্ছি
! সবাই দোয়া করবেন!
সবার স্বপ্ন পূরণ হোক সেই আশায় আপনাদের এই ছোট্ট বন্ধু
তন্ময়
পারব কি ফিরে যেতে
এখন আর কবিতা লেখা হয় না। খুব যে লিখতাম তাও না। মনের এলোমেলো ভাবনাগুলোকে ডায়রির পাতায় সাজিয়ে লেখা পর্যন্তই আমার কবিতা। বন্ধুদেরও দেখাই নি সবগুলো। শুধু তাদের জন্য লেখাগুলো পড়ে শোনাতাম।
বন্ধুদের অনেকেই জীবনানন্দ দাসের কবিতা গুলোকে গলা কাপিয়ে আবৃত্তি করত। বলতাম, তোরা বুঝিছ কবি কি বলতে চেয়েছে? এভাবে হয় না। কবির কথাগুলোকে বুঝতে হবে, চিন্তাটাকে নিজের চিন্তায় আনতে হবে। না বুঝে বলাটাকে পড়া বা মুখস্ত বিদ্যা বলব আবৃত্তি বলব না।
ওরা বলত, তোর একটা কবিতা দে তোর ভাবনা তো বুঝতে পারি , এবার আবৃত্তি হবে।
না, ডায়রির পাতায় বন্দি কথাগুলো আবৃত্তি হয় নি উচ্চস্বরে। লেখাগুলোয় হাত বুলিয়ে শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকি। কারো কাছে এগুলো কথা, কারো কাছে কবিতা, কারো কাছে বা ভাবনা।
ধূসর গোধূলিঃ প্রথম স্বপ্নপূরণ
অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে আমার প্রথম উপন্যাস ‘ধূসর গোধূলি’। আমার প্রথম স্বপ্নপূরণ। প্রকাশকঃ সৈয়দ রহমতুল্লাহ রাজন, র্যামন পাবলিশার। বই প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতা এবং প্রচ্ছদের জন্য দুরন্ত দুরা ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বইটি ১৪ই ফেব্রুয়ারী মেলায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাওয়া যাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১৯৭-১৯৮ স্টলে। এবি’র সকল বন্ধুদের বইমেলায় আমন্ত্রণ।


শেষ একুশে ফেব্রুযারি
" অমর একুশে ফেব্রুয়ারি" রাত ১২ টায় বন্ধুর ম্যাসেজ পেয়ে সাথে সাথে কল করলাম।
কল ধরতেই ঐ পাশে চিৎকার চেঁচামেচি ।
"কি রে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছিস?"
" হ্যাঁ, তুই এত রাতে সজাগ কেন? ঘুমা। সকালে উঠতে হবে না?"
"সরি রে, আমি হোস্টেলে। পরশু হিসাব বিঞ্জান পরীক্ষা। বাড়ি যাই নি। কাল মাঠে যাচ্ছি না।"
" ভাষা দিবসে বাংলায় কথা বল, সরি না বলে দুঃখিত বল"
যাক, একটু শান্তি হলো। দুপুর থেকেই টেনশন হচ্ছিল কি করে বন্ধুকে বলব যে এবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি তার সাথে থাকতে পারব না। গত ১৯ বছরেও যা হয় নি।
আমার এই বন্ধুটা হচ্ছে আমার প্রাণের বন্ধু। আমার সাথে তার পছন্দ অপছন্দ চিন্তা ভাবনা ৯০% মিলে। আমাকে এতটা আমার আম্মাও বুঝে না। তবে সেদিন সেখানেই কথা শেষ হয় নি। তারপর কি হল বলছি। আরও অনেক কথা শেষে বললাম,
"এখন রাখি রে। অংকটা মিলিয়ে ঘুমিয়ে পরব।"
"তুই আয় না বন্ধু। তোকে ছাড়া,,,,,,,"
বই মেলায় আসুন--আমার বই কিনুন...
বই মেলায় আসুন--আমার বই কিনুন

১৯৯৪ সালের বই মেলায় আমার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘হৃদয়ের এপিঠ-ওপিঠ’ ২০১১ সালে ২য় বার মুদ্রণ হয়েছিল রোদেলা প্রকাশনী থেকে(স্টল নং১৫৩-১৫৪-১৫৫)। ২০১৩ সালে জিনিয়ান পাবলিকেশন্স থেকে আমার গল্পগুচ্ছ ‘ভাদ্র ভাসান’ প্রকাশিত হয়েছিল( স্টল নং১০১-১০২)। এ বছর অণুপ্রাণন প্রকাশন থেকে আামার উপন্যাস ‘গন্তব্যহীন দূঃখবিলাস’ প্রকাশিত হয়েছে(স্টল নং ২৬৮)। সবগুলো স্টলই সোহরাওয়াদ্দী উদ্যানে। বাংলা একাডেমির লিটল ম্যাগ চত্বরে আছে অণুপ্রাণন এর ম্যাগাজিন স্টল, অণুপ্রাণন এর ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিনে আমার লেখা বেশ কিছু গল্প আছে।
সকল বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ রইলঃ বই মেলায় আসুন--আমার বই কিনুন...
বিয়ে
ছেলেমেয়েরা বড় হলে বাবা মা সবার আগে যা নিয়ে ভাবে তা হল "বিয়ে"। জন্মের পরই বলতে গেলে, মেয়ে কাল হলে কি করে বিয়ে দিবে , সাদা হলে রাজপুত্র কোথায় পাবে। ছেলে কাল হলে, সাদা মেয়ে ঘরে তুলতে হবে। সাদা হলে মেয়ে দেখতে সমস্যা হবে না।
বড় হয়ে গেলে আত্মীয় স্বজন , পাড়া প্রতিবেশী , চেনা জানা সবাই মিলে বিয়ে দেয়ার পিছনে লাগে। মেয়ের বাবা মায়েরা একটু বেশিই ঝামেলায় পরে।
যাহোক, মেয়ের জন্য ছেলে দেখতে গেলে, সবার আগে , কি করে, পড়াশোনা কতদ্দুর। ব্যাংকে চাকরি, কোম্পানীর চাকরি আরেকবার ভেবে দেখি হলেও ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হলে এক কথায় প্রায় রাজির সংখ্যা অনেকটাই বেশি।
তবে মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকলে আলাদা। মেয়ে বাবা মা কে উচ্চশিক্ষার কথা বলে বিয়ে ভেংগে দেয়। (অনেকে সত্যিই পড়তে চায়)
মুহাম্মদ জাফরি ইকবালের অভব্য নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য
কোনো লেখকের উপন্যাসের চরিত্ররা উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে যে ধরণের উপলব্ধি প্রকাশ করে কিংবা যেসব বক্তব্য দেয়- লেখকের বক্তব্য হিসেবে সেসব উপস্থাপন করাটা লেখকের প্রতি এক ধরণের অন্যায় আচরণ। লেখক যখন কোনো উপন্যাসের চরিত্রচিত্রন করেন, উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে সেসব চরিত্র নিজের মতো জ্যান্ত, তারা লেখকের কল্পনায় বসবাস করলেও আদতে তারা এক ধরনের স্বাধীন স্বত্ত্বা, তাদের নিজস্ব অভিমত আছে, লেখক সেসব স্বাধীন সত্ত্বার উপলব্ধিগুলো লেখার সময় নিজের অভিমত সব সময় চরিত্রের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না।
কিন্তু লেখক ব্যক্তিগত নিবন্ধে কিংবা সাক্ষাৎকারে যেসব অভিমত ব্যক্ত করেন, সেসব বক্তব্যের দায়ভার সম্পূর্ণই লেখকের। সেটা লেখকের সুচিন্তিত স্বাধীন অভিমত এবং লেখককে সেসব বক্তব্যের দায়ভার বহন করতে হয়।
ফেইসবুক আর আমি
বাংলাদেশে ফেইসবুক জনপ্রিয়তা পাওয়ার সময়টাতে আমারও একটা একাউন্ট ছিল। বন্ধু মোটামুটি ১০০ পেরিয়ে ছিল ৬ মাসেই। সবসময় দেখা হয় এমন বন্ধুরাও ছিল। অনেক রাতই কেটেছে চ্যাট করতে করতে। কারও ম্যাসেজের উত্তর না দিলে বা দেরি হলে খুব বকা খেতে হত, তার উপর কোন বন্ধুর স্ট্যাটাসে লাইক বা কমেন্ট না করলেও দেখা হলে একচোট হত। আর আমার পোস্ট করা ছবিতে অপমান জনক কমেন্টও অনেকে করত। সত্য কথা একটু তিতা তো,,,, তাই ভাল লাগত না। সেই কারনে আগাম সতর্ক সংকেত না দিয়েই দিলাম একাউন্ট ডিএক্টিভ করে।
বন্ধুদের সাথে তো রোজই দেখা হয় , চিন্তা কি? তবে ঝামেলা হল তাদের থেকে দূরে এসে। নতুন দেশ, সব নতুন, নিজেকে গুছাতে গুছাতে বছর পেরিয়ে গেল যে কখন টেরই পাই নি। স্থির গতিতে এসে বন্ধুদের ছাড়া আর থাকতে পারলাম না। তাই ফেইসবুকে আবারও একাউন্ট খুললাম।
আজ আমার বুবুর জন্মদিন
সেদিনও মাঘের হাড় কাঁপানো শীতটা বেশ জেঁকেই বসেছিল। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি বাসায় আম্মা নেই, আব্বা নেই, শেফু আন্টি নেই। নানু বসে বসে কাঁদছিল।বাসা ভর্তি ছিল মেহমান।নানা, নানু, শেফু আন্টি,শেফু আন্টির ছেলে মিশু, মেয়ে শান্তা, জুয়েল মামা, রিয়েল মামা আর আমরা তো আছি।
সকাল বেলা থেকে আমাদের অপেক্ষা শুরু। একে একে আশেপাশের সব আন্টিরা এসে জিজ্ঞেস করছিল আমার আম্মা কেমন আছে, হাসপাতাল থেকে কোনো খবর আসছে কিনা। অনেকের আবার নানান ধরনের আশংকা। রোজার মাস ছিল। নানু কাঁদছিল আর আমাকে বলছিল আম্মার জন্য যেন দোয়া করি। সন্তানের দোয়া নাকি আল্লাহ বেশি কবুল করে।নানুর কথা শুনে আমি জায়নামায বিছিয়ে কুরআন শরীফ পড়া শুরু করি।চোখের পানিতে সব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল।তবুও পড়ে যাচ্ছিলাম।
কি সুন্দর পৃথিবী
প্রত্যেকটা মানুষই জীবন পথে একবার হলেও ভাবে, "ধূর , কেন যে জন্ম নিলাম? বেঁচে থেকে কি হবে। মরে যাই না কেন। ইত্যাদি ইত্যাদি জীবনের প্রতি হতাশা মূলক কথা"
আমার মত একজন যে জীবন বোঝার আগেই ভাবতে শুরু করেছে যে মরে গেলে ভাল হত, তার জন্য এই ধরনের কথা ছিল স্বাভাবিক। " জীবন কতই না সুন্দর " টাইপ কথাগুলো হাস্যকর। তবে, সবসময় একটা কথা মাথায় ঘুরত, কেন বেঁচে আছি? আল্লাহ্ আমাকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন কেন? সবাই বলে তিঁনি নাকি উদ্দেশ্য ছাড়া কিছু করেন না। আমাকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যটা খোঁজে পাচ্ছিলাম না।
প্লেনটা যখন আকাশে উঠে পরেছে জানালা দিয়ে রাতের বাংলাদেশটা কত সুন্দরই না লাগছিল। তবে আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাওয়া আমার দেশটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে আল্লাহ্পাককে বলেছিলাম, আর কত কষ্ট রয়েছে আমার জন্য? শুধু কষ্ট পাওয়ার জন্যই কি আমার জন্ম?
বিজ্ঞান
কেনো বিজ্ঞান নিয়ে এত মাতামাতি? অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্নগুলো মীমাংসিত হয়ে গেলে আমাদের সামষ্টিক জীবনযাপনরীতিতে কোনো পরিবর্তন কি আদৌ আসবে? আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেকটাই অভ্যাস আর সংস্কৃতিনির্ভর, সেখানে বিজ্ঞানচেতনার খুব বেশী উপস্থিতি নেই
আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাপনে হকিং আইন্সটাইন ডারউইন হাক্সলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা টহলপুলিশ। মহাবিশ্ব "লেট দেয়ার বি লাইট এন্ড দেয়ার ইজ লাইট" ভঙ্গিতে শুরু হয়েছে না কি শূণ্য থেকে মহাবিশ্বের স্বতঃস্ফুর্ত বিকাশ হয়েছে প্রশ্নের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী থেকে বিক্যাশের টাকা মোবাইল একাউন্টে ঢুকলো কি না এই প্রশ্নের সঠিক জবাব।
সত্যিই সে ভালবাসে
আমি একটা ছেলেকে চিনি। ছোটবেলায় তাকে আমাদের বাসার চারপাশে একটু বেশিই দেখা যেত। কারণ সে আমার মেজো আপাকে ভীষণ ভালবাসত। আমার এই আপা খুবই সুন্দর ছিল বলে তাকে অনেক ছেলেরাই ভালবাসত। আর আমার বড় আপার কাজ ছিল সে ছেলেদের কাছ থেকে ছোট বোনকে বাঁচানো। তবে সে ছেলেটা ছিল আলাদা। আমার বোন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার কাছ থেকে প্রথম চিঠি পায়। আর সে ছিল তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ( আজকাল এই বয়সে প্রেম করা স্বাভাবিক হলেও ১৭ বছর আগে স্বাভাবিক ছিল না) ওদের আসল বাড়ি ছিল অন্য বিভাগে। কোন একটা কারণে সে তার বাবা মা'র সাথে থাকত না । খালার বাসায় থাকত।
সে আমার বন্ধু ছিল
আজ থেকে প্রায় ১০-১১ বছর আগের কথা। জনকণ্ঠ পত্রিকাতে একটা জায়গায় অনেকেই বন্ধু হতে চেয়ে একটা লাইন আর নিজের ফোন নম্বরটা দিত। তখন, একটা ছেলে , নাম তন্ময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, সে লিখেছিল যে , "সুন্দর মনের না , সুন্দর চেহারার বন্ধু চাই"। আমার মেজো আপা এটা দেখে রেগে দোকান থেকে ফোন দিলেন বকবেন বলে। ফোন ধরেছিল, আপা একটু বকা দিতেই ছেলেটা বলেছিল দয়া করে যেন তার কথাটা শুনে। কারন সকাল থেকে সে অনেক বকা শুনেছে। পরে ঘটনা যা ছিল তা হল, তাদের বন্ধুদের গ্রুপের একটা মেয়ে তাকে প্রেমের অফার দিলে সবাই মিলে সেই মেয়েকে অপমান করে এবং বন্ধুদের গ্রুপ থেকে তাকে বাদ দিয়ে দেয়। তাই প্রতিশোধ নিতে সে এই কাজটা করেছে। আমার বোন সরি বলে, বাসার ফোন নম্বরটা দিয়ে আসে। বোন হোস্টেলে চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলে যায় তন্ময় হয়ত ফোন দিতে পারে।আমি অপেক্ষায় ছিলাম। নতুন মোবাইলের সেই সময়টাতে ফোনে কথা বলতে দারুণ মজা লাগত