ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

সোহেল ভাই ০১৫

ময়না ভাইয়ের দোকানে বসে চা সাটাচ্ছি হঠাৎ দেখলাম সোহেল ভাইকে, সোহেল ভাই খানিকটা মোটা হয়েছেন, সরকারী অফিসারসুলভ একটা ভারিক্কি ভাব এসেছে শরীরে, ডাক দিলাম

আররে সোহেল ভাই, কখন আসলেন?
এই তো আসলাম, তোমাদের কি খবর?

সোহেল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো প্রায় তিন মাস পরে, এর ভেতরেই সোহেল ভাইয়ের সম্বোধন বদলে গেছে, আগে তো আমাদের তুই করেই বলতো, হঠাৎ আজকে তুমিতে উত্তোরণ ঘটলো কিভাবে?

চলতেছে সোহেল ভাই, টার্ম ফাইনাল শেষ, এখন অপেক্ষা করতেছি কবে কোথায় গতি হয়।
আর বোলো না, দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। সরকারী চাকরি-বাকরির বাজারেও টান, দেখো কি হয়

নান্টু চিৎকার করে বললো
আরে সোহেল ভাই , আপনাকে ফোন দিবো ফোন দিবো ভাবতেছিলাম। কখন আসলেন এইখানে?
দরকার ছাড়া তো তুমি আমাকে খুঁজো না, কি দরকার হয়েছে বলো?
কি যে বলেন সোহেল ভাই, আপনি এই রকম কথা বললেন, দিলে দাগা খাইলাম।

সোহেল ভাই ০১২

এইটা কি পড়ছোস তুই?

ক্যান কি হইছে?

না জিনিষটা কি সেইটা বুঝায়া ক?

তোর সমস্যাটা না কইলে ক্যামনে বুঝবো কি পড়লাম।

না যেইটা পইরা আছোস ঐটারে কি বলে?

এইটা টি শার্ট আর এইটা প্যান্ট

ও সেইটা তো বুঝায়া কইবি যে এই জিনিষটা প্যান্ট, আমি ভাবছিলাম তুই কাপর কিন্যা আইকা দিয়া পায়ের সাথে লাগায়া রাখছিস। তো এইটা পইরা হাঁটতে সমস্যা হয় না?

ক্যান দেখলি তো হাইটাই এইখানে আইলাম

না মানেএই জিনিষ পইরা তো হাঁটাহাঁটি করার নিয়ম নাই, কোনো শোরুম থেইক্যা কিনলে ঐখানে গিয়া আবার তুই ইউজার গাইড দেখিস, দেখবি লিখা আছে শুধুমাত্র প্রদর্শণীর জন্য, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য নহে।

হাজার হাজার পোলা এই জিনিষ পইরা ঘুরতেছে, রাস্তায় গিয়া দেখ, তোর তো ফ্যাশনসেন্স বইলা কিছু নাই, তুই এইসবের কি বুঝবি শালা উজবুক।

এক একটা দিন বড় বেরঙীন

হয়তো একটি মুহূর্তের স্কেচ এসব কিছুই, সে মুহূর্তে সবাই পরবাসী, গৃহের অন্তরালে, পলাতক জীবনযাপনে সবাই কোনো না কোনো পক্ষ বাছাইয়ের লড়াইয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন, প্রতেকের ভেতরেই বিভিন্ন রকমের সংশয় ছিলো, কিন্তু দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ আর সামনে আগুণ, দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আগুণে ঝাপিয়ে পড়ার এই ভাবনার দ্বৈরথে অনেকেই আগপাশ বিবেচনা না করেই আগুণে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমি সে সময়ের পরের প্রজন্ম, আমার যাবতীয় রসদ আত্মজীবনির পাতা থেকে খুঁজে নেওয়া, এর সাথে ১৪ আনা কল্পনা মিশিয়ে একটি সময়ের ভাবনা লিখছি সে সময় আমার অপরিচিত এবং আমার বেড়ে ওঠা শৈশবের সাথে যে সময়ের কোনো মিলমিশ নেই।

------------------------------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------------------------------

প্রমিত বাংলা ব্যকরণ আর ভাষিক আগ্রাসন বিষয়ে কয়েক প্যারাগ্রাফ

উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করতে চাওয়া কিংবা শব্দের ভেতরে অনেকগুলো আলাদা উচ্চারণকে শনাক্ত করে সেসব আলাদা আলাদা উচ্চারণকে চিহ্নে ধারণ করা ভাষাবিকৃতি কিংবা ভাষার বিচ্যুতি রোধে অনেক বেশী কার্যকর হয়ে উঠেছিলো, ছাপাখানার আবিস্কার সেসব চিহ্নকে এক ধরণের স্থিরতা এনে দিয়েছে। বর্তমানের কম্পিউটার যুগে সেসব চিহ্নে নানা ধরণের শৈল্পিকতা এবং বাক্যের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন ফর্মায় সেসব সংবদ্ধ উচ্চারণচিহ্নকে সাজানোর সুবিধাটুকু এসেছে। কিন্তু যখন কোনো উচ্চারণের কোনো চিহ্নই ছিলো না তখন ভাষা কিভাবে প্রবাহিত হয়েছে ভবিষ্যতে?

বিশ্বাস

হয়তো একটি মুহূর্তের স্কেচ এসব কিছুই, সে মুহূর্তে সবাই পরবাসী, গৃহের অন্তরালে, পলাতক জীবনযাপনে সবাই কোনো না কোনো পক্ষ বাছাইয়ের লড়াইয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন, প্রতেকের ভেতরেই বিভিন্ন রকমের সংশয় ছিলো, কিন্তু দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ আর সামনে আগুণ, দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আগুণে ঝাপিয়ে পড়ার এই ভাবনার দ্বৈরথে অনেকেই আগপাশ বিবেচনা না করেই আগুণে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আমি সে সময়ের পরের প্রজন্ম, আমার যাবতীয় রসদ আত্মজীবনির পাতা থেকে খুঁজে নেওয়া, এর সাথে ১৪ আনা কল্পনা মিশিয়ে একটি সময়ের ভাবনা লিখছি সে সময় আমার অপরিচিত এবং আমার বেড়ে ওঠা শৈশবের সাথে যে সময়ের কোনো মিলমিশ নেই।

------------------------------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------------------------------

হুমায়ুন ফরিদীর মৃত্যুতে

কয়েক বছর আগে ঈদের অবকাশেই সম্ভবত হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী চরিত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটক হয়েছিলো, মিসির আলী আমার পছন্দের চরিত্রগুলোর একটি, এত প্রিয় চরিত্র নিয়ে একটি টিভি নাটক চলছে আর আমি পরিচালককে গালাগাল দিচ্ছি মনে মনে। মিসির আলী চরিত্রে যে অভিনেতা অভিনয় করেছিলেন তাকে ঠিক আমার কল্পনার মিসির আলীর সাথে কোনোভাবেই মেলাতে পারছিলাম না।

গণমাধ্যমে হত্যাকান্ডের উল্লাস

মানুষ কার্যকরণ খুঁজে, আমাদের সামাজিক অভ্যাসেই বিষয়টি প্রবিষ্ট। হাস্যকর, খেলো, একেবারে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় ছল-ছুঁতোও আসলে আমাদের আচরণকে কোনো না কোনো গ্রহনযোগ্যতা প্রদানের প্রয়োজন পুরণ করে। অতীতসূত্র খুঁজে পাওয়ার প্রয়োজন নেই যদিও তবুও মানুষ কোনো না কোনো ভাবে বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যেখানে থমকে দাঁড়ায় সেখানে কল্পনার আশ্রয় গ্রহন করে। এই কল্পনাপ্রবন মানুষ বিষয়গুলোকে নিজের মতো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সত্যবিচ্যুত হয় কিংবা যা সে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে সেখানে তার কল্পনার বাস্তবতা এবং ঘটে যাওয়া বাস্তবতার ভেতরে কিছুটা ব্যবধান রয়ে যায়। এটাকে সচেতন স্মৃতিনির্মাণ বলা যায় না, বরং বলা যায় এক ধরণের সাচ্ছন্দ্যতার খোঁজ।

প্রবাহমানতা

অনুভব ভীষণ রকম ব্যক্তিকেন্দ্রীক, যদিও সাড়ে ছয় শো কোটি মানুষের পৃথিবীতে একক, অনন্য, অসাধারণ, অভূতপূর্ব কোনো অনুভব গাণিতিক বিবেচনায় অসম্ভব এরপরও প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুভবটুকু তার কাছে এমনই অনন্যঅসাধারণ।

একটি সামষ্টিক ক্ষেত্রে নিশ্চিত বলা যায় প্রতিটি অনুভবই অসংখ্য মানুষ উপলব্ধি করেছে, একটি নির্দিষ্ট সমাজে ভাষিক সীমাবদ্ধতায় সেইসব অনুভুতি, উপলব্ধির একান্ত উচ্চারণগুলোও প্রায় ক্ষেত্রেই একই রকম শব্দগুচ্ছ দিয়েই প্রকাশিত হয়েছে, একই রকমের সসীম বাক্য দিয়েই সেসব অনুভব সংজ্ঞায়িত হয়েছে কিন্তু এটুকু মেনে নেওয়ার কষ্টও ব্যক্তি স্বীকার করতে নারাজ।

যেসব অনুভব বাক্যে প্রকাশ অযোগ্য, শুধুমাত্র নিখাদ শাররীক , কিংবা ভাষিক সীমাবদ্ধতায় ব্যক্তি সেসব প্রকাশ করতে অক্ষম সেসব অনুভুতিও কেউ কেউ নিজের মতো বাক্যে প্রকাশ করেছে, পরিপার্শ্বিক থেকে এমন ভাবেই আমাদের অনুভব উপলব্ধিগুলোকে আমরা সংজ্ঞায়িত করতে শিখেছি।

বইমেলা চত্ত্বরে

গতবারই দেখেছিলাম, এবার দেখলাম সাজানো গোছানো মেলা তৈরিতে বদ্ধপরিকর বাংলা একাডেমী কতৃপক্ষ লেখকদের জন্য বর্ধমান হাউসের উল্টোপাশে একটা খাঁচা বানিয়েছেন, চিড়িয়াখানার গেট দিয়ে ঢুকলেই সবার প্রথমে চোখে পড়ে বাঁদরের খাঁচা আর বইমেলা চত্ত্বরে বাংলা একাডেমীর স্টল পার হয়ে সামনে এগুলেই চোখে পড়ে লেখকদের খাঁচা। অবশ্য তাদের যুথবদ্ধতা এবং সংঘবদ্ধ দাঁতখিঁচানি দেখে মনে হয় কতৃপক্ষ খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন নি।

কামরুদ্দীন আহমেদ তার "পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি" গ্রন্থে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা বিষয়ে লিখেছিলেন

ঐতিহ্য

বিউটি বোর্ডিংএর আড্ডার টেবিলের শেষ চায়ের কাপটাও অনেক আগেই তুলে নিয়ে গেছে কেউ, অন্তত আমি যখন প্রথম বিউটি বোর্ডিং দেখি তার আগেই এখানকার লেখক আড্ডার ঐতিহ্য শেষ। ক্যাফে কর্নারের উল্টোপাশে বিউটি বোর্ডিং এর ছোটো জায়গায় অবহেলায় পরে থাকা কয়েকটা টেবিল আর প্লাস্টিকের চেয়ার একটি সত্য জানিয়ে গেলো পৃথিবীতে সবকিছুই প্লাস্টিকের মতো অবিনশ্বর নয়, সময়ের প্রয়োজনে সাহিত্যিক আড্ডাটা বাংলাবাজার থেকে দুরে সরে কিছুদিন শাহবাগের আজিজ মার্কেটে স্থিতু হয়ে এখন জায়গা পরিবর্তন করে কনকর্ড টাওয়ারের গ্যারেজে ঢুকে পরেছে। বিউটি বোর্ডিং এর মতো আজিজেরও সাহিত্যিক মৃত্যু ঘটেছে

ব্লগ দিবস বিষয়ে

বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপনের রাজনীতিতে একটা প্রাথমিক ধারণা ছিলো ব্লগিং বিষয়ে আম-জনতার উৎসাহ বাড়ানো, ব্লগের বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি করিয়ে দেওয়া। ব্লগারদের আড্ডা ব্যতীত সেমিনার ঘরে উদযাপিত ব্লগ দিবসে সাধারণ মানুষের নগন্য উপস্থিতিতে সে লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হয় সেটা বিবেচনা করে দেখতে হবে।

যদি বাংলা ব্লগ বিষয়ে সাধারণকে উৎসাহী করতে হয় তবে সেমিনার রুমের আবদ্ধতা থেকে ব্লগি দিবসকে বিচ্যুত করতে হবে। বইমেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ১লা ফেব্রুয়ারী ব্লগ দিবস উদযাপন না করে বইমেলার প্রথম সপ্তাহে সেটাকে উদযাপন করতে হবে।

সেমিনার, গণমাধ্যমের রথি-মহারথীদের শুভেচ্ছাবানী আর কেক কাটাকাটি বাদ দিয়ে ব্লগকে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে বরং বই মেলা চত্ত্বরকেই ব্যবহার করা যায়।

ভবিষ্যতের সমাজ কাঠামো

জীবের স্বাভাবিক প্রেষণা নিজের "জেনেটিক কোড" পুনরুৎপাদন, কাঙ্খিত সঙ্গীর সাথে বলিষ্ট পরবর্তী প্রজন্ম পুনরুৎপাদনের নিশ্চয়তায় জীব সহিংস হতে পারে, কৌশলী হতে পারে, নির্মম হতে পারে, বিভিন্ন ছলা-কলায় সঙ্গীকে আকর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, ময়ুরের পেখম মেলা, পায়রার গলার পালক ফুলিয়ে বাকবাকুম আর কোকিলের সুমধুর সঙ্গীত সবই সেই পুনরুৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।

সময়ের ফাঁদ

এটাও এক ধরণের গল্প বলার চেষ্টা, চিত্রনাট্য তৈরির সময় এইসব দৃশ্যগুলো মাথায় ছিলো, সেই অলিখিত চিত্রনাট্যের অন্য একটা অংশের নেপথ্যে ---

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান এবং বুদ্ধিজীবিগণ

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান সংবাদের বিষয়বস্তু হিসেবে নিতান্তই গৌন, গতকালের সাম্ভাব্য সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়টি তারচেয়েও কম গুরুত্ব পেয়েছে। বিশাল সংবাদ সম্মেলন করে পঁচা ইঁদুরের বিবর্ধিত ছবি দেখানোর আয়োজনটুকু চমৎকার হলেও ইঁদুর শেষ পর্যন্ত ইঁদুরই, তার ছুঁচালো মুখ কখনই মাংসাশী আকার পায় না।

পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বিডিআর বিদ্রোহপরবর্তী সেনা অসন্তোষ এর চেয়ে গুরুতর ছিলো, সে সময়ের সেনা বিক্ষোভ দক্ষ হাতে সামলানোর কৃতিত্বটুকু দিতে হবে মইন উ আহমেদকে। সে পরিস্থিতির তুলনায় জনৈক মেজর জিয়ার ই মেইল এবং বক্তব্য যতটা আয়োজন করে প্রকাশ হলো সেটা নিতান্তই হাস্যকর।

হায় আমাদের চৈতন্যের দীনতা

বাংলাদেশে যুদ্ধাহত নারীদের বিষয়টি কোনো আলোচনায় উত্থাপিত হলে তাদের প্রতি শাররীক আগ্রাসনের বিষয়টির পুরুষতান্ত্রিক আহাজারি শুরু হয়, আজ একটি আলোচনা সভায় নাসির উদ্দীন ইউসুফ বেশ আবেগমথিত ভাষায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, বিষয়টির পুরুষতান্ত্রিকতা ক্ষণে ক্ষণে বিব্রত করছিলো।

তিনি যখন বিবৃত করেন সম্ভ্রমহানির যন্ত্রনাটুকু প্রতিদিন একজন যুদ্ধবিক্ষত নারীকে মৃত্যুর আস্বাদ দেয় তখন তার পেছনে একজন পুরুষের উদ্যত থাবা দৃশ্যমান থাকে যে থাবায় নারীর সতীত্বের প্রতি সম্মান ও সম্ভ্রম বিদ্যমান। তার বক্তব্যে প্রকাশিত হয় যুদ্ধবিক্ষত নারীর গ্লানিবোধ করবার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়টি হারানোর শোক-সন্তাপ এবং হাহাকার তার পুরুষতান্ত্রিক মানসকে তৃপ্ত করে হয়তো।