রাসেল'এর ব্লগ
রিপোষ্ট কবিতা প্রথম পর্ব
এইটা মুকুলের জন্য রিপোষ্ট করলাম, মুকুল কইলো অনেক দিন ধইরা সে আমার কবিতাওউবিতা পড়ে না, লিখা হয় নাই কইয়া পুরানা মাল গছায়া দিলাম
ভালোবাসা সর্বগ্রাসী
০১.
ভালোবাসা সর্বগ্রাসী, অস্তিত্ব গিলে খেতে চায়
ডাঙ্গার প্রাণী ডুবে অগাধ জলে ,প্রেমের বরশী গিলে বৃথা তড়পায়।
০২.
আমি কীটস হলে ভালো হতো, বলতাম "আমার নাম লেখা ছিলো জলে"
আমি হারিয়ে নিজের নাম ঘুরছি শহরে
তুমিহীনা এ নগর পোড়ে বিরহ অঙ্গারে ।
০৩.
তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?
নিছক আবেগ বক্ষে ধরে
নিকষ কালো অন্ধকারে
একলা একাই দাঁড়িয়ে আছি, আসবো?
উপড়ে নেওয়া শেকড়ে এখনও লেগে আছে রক্ত আর অশ্রুকণা
সারাদিনের সঞ্চিত খড়কুটোয় এলোমেলো ঘুমায়াছে ক্লান্ত চড়াই
কড়া নেড়ে নেড়ে নিস্তব্ধ মহল্লার সবকটা জানালায় জ্বলে উঠলো আলো,
অসময়ে চলে যাওয়া ভালো।
শিশির দু পায়ে পিষে আমি ফিরে যাই...
০৪.
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১৪
নিজের জন্য লেখা, পাঠকের জন্য লেখা
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১৩
বিশ্বকাপে নিজের দেশ প্রতিনিধিত্ব করলে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়, তখন অন্য সকল অগুরুত্বপূর্ণ খেলার বিষয়ে পরিপূর্ণ মনোযোগ থাকে না, এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাই হচ্ছে, আমার খেলা দেখবার আগ্রহে কমতি পড়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপ যতটা আগ্রহ নিয়ে দেখেছি, ক্রিকেট বিশ্বকাপের অন্যদলগুলোর খেলা নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ নেই। বন্ধুদের সাথে খেলা বাদ দিলে এমনি কোনো দলের হয়ে কিংবা নিজের ডিপার্টমেন্টের হয়ে যতদিন ক্রিকেট খেলতাম তখন এইসব ম্যাচগুলো ছিলো গুরুত্বপূর্ণ, আমি নিজে বোলার হওয়ার কারণে বোলারদের প্রতি নির্মম হয়ে উঠা টিটুয়েন্টি আর ওয়ান ডে ভালো লাগে না, কিন্তু এখন এইসব দেখে শিখবার কিছু নেই, স্লোয়ার দেওয়া, রিভার্স সুইং কিংবা ব্যাটসম্যানকে বুঝবার প্রয়োজন এখন আমার নেই, আমি সে পর্যায়ে খেলছি না, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবার আশায় পানি ঢেলে আমি অনেক আগেই প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছি, এখন সেটা তেমন গুরুত্ব বহন করে না।
পরবর্তী সময়ের জন্য
মাঝে মাঝে মনে হয় সংবাদপত্রের ফরমায়েশী লেখার ধাচে লিখতে শুরু করার আগে যা লিখতাম তেমন কিছু আর কখনও লেখা হবে না, সে ক্ষমতা কিংবা যোগ্যতা নেই এখন আমার। প্রতিদিন মনে হয় যদি এখন হঠাৎ করে কেউ বলে একটা বই প্রকাশ করতে চাই, তাহলে আদৌ কি প্রকাশযোগ্য কিছু লেখা দিতে পারবো।
মুকুল একদিন বললো কবিতার কোথা, সেদিন মনে পড়লো গত এক বছরে আমি একটাও কবিতা লিখি নি, লেখা হয়ে উঠে নি এমন না, বরং বিভিন্ন কারণেই ভেতরে কবিতার পোকা জন্মাতে পারে নি। মুকুলের জন্য গত দুই বছরে লেখা অকবিতাগুলোর লিংক দিবো ভাবছিলাম, নিজেই খুজে পেলাম না, এত আবর্জনা লিখেছি গত দুই বছরে, কাজের লেখা খুজতে হলে হয়রান হতে হয়।
এত টেনশন না দিলেও পারতো বাংলাদেশ দল
বিজয়ের উল্লাস চারপাশে, বাংলাদেশের বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মানুষেরা আজ ঢাকা শহর কাপিয়ে ফেলছে আনন্দ উল্লাসে, প্রায় প্রতিটি রাস্তার মোড়েই তারুণ্যের বাধ ভাঙা উল্লাস, মোটর সাইকেল, গাড়ী, খোলা পিক আপ ভ্যান, কিংবা খালি পায়ে মানুষ ছুটছে রাস্তায়, কোনো আওয়াজই এখন কর্কশ লাগছে না, সামান্য উপলক্ষ্য পেলে বাংলাদেশী তরুণদের এই লাগামছাড়া আনন্দ দেখে মনে হয় অতিসামান্যেই আমাদের তৃপ্তি আসে বলেই আমরা নিজেদের ক্ষমতাকে আরও বেশী পরিণত করতে ব্যর্থ হই।
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১২
বই মেলা শেষে টিএসসি থেকে শাহবাগের দিকে হেঁটে আসবার সময় বুঝি আমরা ত্যাগে বিশ্বাসী, রাস্তার দুপাশেই মানুষ সারি বেধে প্রসাব করে রেখেছে, তার গন্ধে মৌ মৌ করছে চা্রপাশ, সাবধানী পা ফেলে এই অব্যহত স্রোত এড়িয়ে শাহবাগ পর্যন্ত হেঁটে আসবার কৌশলের কাছে যেকোনো কমান্ডো ট্রেনিং শিশুতোষ মনে হবে।
বইমেলার ব্যারিকেড থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পথটাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহায়তা আর সহযোগিতার আহ্বান সম্বলিত বাক্স এবং ব্যানারের সামনে আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উপলব্ধি ভিন্ন রকম, তারা বেশ স্পষ্টই বুঝে মলমুত্র ব্যতিত বাঙালী অন্য কিছু এত সহজে ত্যাগ করে না।
যে লড়াই লড়ে যাই আমরা সবাই
এ বছর দিব্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে রুৎকার নোটবই, সুদীপ্ত সালামের অনুবাদে। রুৎকা বন্দীশিবিরের কিশোরী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বন্দীশিবিরে যার জীবনের শেষ বছর কেটেছে, সে বছরের প্রথম চার মাসে সে নোটবুকে তার জীবনের অভিজ্ঞতা লিখেছিলো। সুদীপ্ত সালামের অনুবাদের হাত চৌকষ না কিন্তু কিশোরীর সরল স্বীকারোক্তি এবং আন্তরিক উচ্চারণে অনুবাদের দুর্বলতার বদলে রক্তমাংসের একজন মানুষের বেচে থাকবার তৃষ্ণাটুকুই উজ্জ্বল হয়ে থাকে ভাবনায়।
ক্রিকেট জিতলো না, দুঃখ এটুকুই
বাংলাদেশ দল নিজেদের দিনে বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে কিন্তু যেকোনো দিনকে নিজেদের মতো করে নেওয়ার মতো দল বাংলাদেশ এখনও হয়ে উঠতে পারে নি, এই বা্স্তবতাটুকু উপলব্ধি করতে পারে নি আমাদের গণমাধ্যম, যেকোনো ভাবেই নিজেদর পণ্য গছাতে মরিয়া বহুজাতিক কোম্পানিও এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারে নি, সে কারণে গণমাধ্যমে বাংলাদেশ দলের প্রায় হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ দলের মানটা পরিস্কার বুঝা গেলো। বাংলাদেশ দল ক্রমাগত উন্নতি করছে, গত ১০ বছর ধরেই উন্নতি করছে বাংলাদেশ কিন্তু এখনও সমীহ জাগানো দল হয়ে উঠতে পারে নি।
মাসব্যাপী কার্নিভাল ১১
কারওয়ান বাজারে মানবজমিনের অফিসের সামনে বিশালাকৃতির একটা গরিলার ব্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্য কামনা করা হয়েছে, ঢাকা শহরের সৈন্দর্যবর্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে কে কিংবা কারা গরিলার ধারণাটা সামনে নিয়ে এসেছেন আমি জানি না, অবশ্য আফ্রিকার তিনটি দেশ এবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করছে, সে কারণে গরিলা বাংলাদেশে আসতেই পারে, কিন্তু সেই সাথে বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকদের কোনো ল্যাম্পপোষ্টে ঝুলিয়ে প্রদর্শন করলে আমাদের অংশগ্রহনটা আরও সুন্দর হতে পারতো।
মাসব্যাপী কার্ণিভাল ১০
উই হ্যাভ বলস:
মাসব্যাপী কার্নিভাল ০৯
ইদানিং বইমেলার চারপাশে রংতুলি আর রং এর ডিব্বা নিয়ে যারা আল্পনা আঁকতে ঘুরে তাদের সাথে বইমেলার সম্পর্ক নিছকই বাণিজ্যিক, আগে যখন বইমেলায় এই আল্পনার জমজমাট ব্যবসা ছিলো না তখন চারুকলার শিক্ষার্থীরা হাতে রং তুলি নিয়ে একুশের উৎসবে সামিল হতো, সবাইকে বইমেলা কিংবা জাতীয় উৎসবের আনন্দে সামিল করবার জন্য তারা নিজেরাও বইমেলার অবৈতনিক শুভেচ্ছাদুত ছিলো, তাদের অংশগ্রহন এখন অনুপ্রবেশকারীদের আগ্রাসনে বিলুপ্ত প্রায়। গতকাল বইমেলায় একজন আর্টিস্ট এসে দাঁড়ালো সামনে, ঋকের দিকে তাকিয়ে বললো এঁকে দেই?
আমার আপত্তি স্পষ্ট হয়ে উঠবার আগেই দেখলাম ঋক হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, বাড়ানো হাতে শুভ বসন্ত লিখে শেষ করবার পর বললাম কত নিবেন?
আপনারা যা ভালো মনে করেন, সবাই নিজের মতো দেয়।
মাসব্যাপী কার্নিভাল ০৮
বইমেলা ক্রমশঃ লিফলেটনির্ভর হয়ে উঠছে, প্রতিদিনই বইমেলায় ঢুকবার সময় কেউ না কেউ একটা না একটা লিফলেট এগিয়ে দেয়, সেসব লিফলেটে কোনো না কোনো বইয়ের বিজ্ঞাপন থাকে, অধিকাংশ বইই আমি শেষ পর্যন্ত কিনতে যাই না কিন্তু আমার ধারণা কেউ না কেউ অবশ্যই কিনে এমন লিফলেটে লেখা বই।
মাসব্যাপী কার্নিভাল ০৭
আজকে দুপুরে চকোলেট মিল্ক ফেলে পিচ্চি আমার ডেস্কটপের একমাত্র কি-বোর্ডের ১২টা বাজিয়েছে, কি-বোর্ডের কিগুলোর আচরণগত পরিবর্তন ঘটেছে ভয়াবহ রকমের এবং তাদের ভাবগতিক বুঝে উঠতে গিয়ে বেশ কয়েকবার বিরক্ত হলাম, নাম্বার প্যাড কাজ করছে না, স্পেস চাপলে সিস্টেম স্লীপ মোডে চলে যাচ্ছে, শিফট কি কাজ করছে না, এন্টার এখনও অক্ষত কিন্তু ক্যাপস লকের অবস্থা খারাপ। সেটা সামলে কবে নতুন কি-বোর্ড কেনা হবে আমি জানি না, এভাবে সামলে রয়েসয়ে বিভিন্ন ভাবে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস পুরোনো, সে কারণেই হয়তো নিছক আলস্যের কারণেই কি-বোর্ড কিনতে কিনতে একটা দীর্ঘ সময় চলে যাবে।
একটা নোবেল প্রাপ্তির সুখবর
যেকোনো দিন বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার পাতা খুলে পড়লেই আঁতকে উঠি, মনে হয় ক্রাইম থ্রিলার পড়ছি, গুমখুন, গুপ্তহত্যা, ষড়যন্ত্রের নীলনকশা, বিদেশী শক্তির উস্কানি আর বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার স্বদেশী এজেন্টদের পারস্পরিক সংঘর্ষ আর এদের মুখোশ উন্মোচনে নিবেদিতপ্রাণ সংবাদপত্রকর্মীদের দেশপ্রেম দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই।
দেশের দুটো গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদনের উপসংহারে বলেছে " দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করবার চক্রান্তে লিপ্ত আছে বিদেশী রাষ্ট্রের এজেন্টগণ।" তবে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন 'কোনো চক্রান্তেই এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করা সম্ভব হবে না।'
মাসব্যাপী কার্নিভাল ০৬
সপরিবারে ঢাকার রাস্তায় নামবার একটাই বিপদ, মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে হয়, সিগন্যালে গাড়ী থেমে আছে, ঠিক পেছনেই একটা ৯২ মডেলের টয়োটা বিশ্রীভাবে হর্ণ বাজাচ্ছে, মেজাজ তিরিক্ষি, মিশুকের পেছনের ফাঁক দিয়ে তাকালাম, যদি সত্যযুগ হতো তাহলে সে আগুণে বিস্ফোরিত হতো গাড়ীটা কিন্তু কলিকালে এইসব ঘটে না। ভীষণ ইচ্ছা করতেছে নীচে নেমে ড্রাইভারের কলার চেপে নামিয়ে বলি ' বাঞ্চোত তোমার হোগা দিয়া হর্ণ ভইরা তার পর বাজাবো, এই সিগন্যালে হর্ণ বাজায়া উইড়া যাইবা তুমি?' কোলে ছেলেকে নিয়ে এই স্বরস্বতী পূজার দিন এইসব বলা হয়ে উঠে না। পেছনে টয়োটার হর্ণ বাজতে থাকে