ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

ঐতিহ্য

বিউটি বোর্ডিংএর আড্ডার টেবিলের শেষ চায়ের কাপটাও অনেক আগেই তুলে নিয়ে গেছে কেউ, অন্তত আমি যখন প্রথম বিউটি বোর্ডিং দেখি তার আগেই এখানকার লেখক আড্ডার ঐতিহ্য শেষ। ক্যাফে কর্নারের উল্টোপাশে বিউটি বোর্ডিং এর ছোটো জায়গায় অবহেলায় পরে থাকা কয়েকটা টেবিল আর প্লাস্টিকের চেয়ার একটি সত্য জানিয়ে গেলো পৃথিবীতে সবকিছুই প্লাস্টিকের মতো অবিনশ্বর নয়, সময়ের প্রয়োজনে সাহিত্যিক আড্ডাটা বাংলাবাজার থেকে দুরে সরে কিছুদিন শাহবাগের আজিজ মার্কেটে স্থিতু হয়ে এখন জায়গা পরিবর্তন করে কনকর্ড টাওয়ারের গ্যারেজে ঢুকে পরেছে। বিউটি বোর্ডিং এর মতো আজিজেরও সাহিত্যিক মৃত্যু ঘটেছে

ব্লগ দিবস বিষয়ে

বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপনের রাজনীতিতে একটা প্রাথমিক ধারণা ছিলো ব্লগিং বিষয়ে আম-জনতার উৎসাহ বাড়ানো, ব্লগের বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি করিয়ে দেওয়া। ব্লগারদের আড্ডা ব্যতীত সেমিনার ঘরে উদযাপিত ব্লগ দিবসে সাধারণ মানুষের নগন্য উপস্থিতিতে সে লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হয় সেটা বিবেচনা করে দেখতে হবে।

যদি বাংলা ব্লগ বিষয়ে সাধারণকে উৎসাহী করতে হয় তবে সেমিনার রুমের আবদ্ধতা থেকে ব্লগি দিবসকে বিচ্যুত করতে হবে। বইমেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ১লা ফেব্রুয়ারী ব্লগ দিবস উদযাপন না করে বইমেলার প্রথম সপ্তাহে সেটাকে উদযাপন করতে হবে।

সেমিনার, গণমাধ্যমের রথি-মহারথীদের শুভেচ্ছাবানী আর কেক কাটাকাটি বাদ দিয়ে ব্লগকে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে বরং বই মেলা চত্ত্বরকেই ব্যবহার করা যায়।

ভবিষ্যতের সমাজ কাঠামো

জীবের স্বাভাবিক প্রেষণা নিজের "জেনেটিক কোড" পুনরুৎপাদন, কাঙ্খিত সঙ্গীর সাথে বলিষ্ট পরবর্তী প্রজন্ম পুনরুৎপাদনের নিশ্চয়তায় জীব সহিংস হতে পারে, কৌশলী হতে পারে, নির্মম হতে পারে, বিভিন্ন ছলা-কলায় সঙ্গীকে আকর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, ময়ুরের পেখম মেলা, পায়রার গলার পালক ফুলিয়ে বাকবাকুম আর কোকিলের সুমধুর সঙ্গীত সবই সেই পুনরুৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রকাশমাত্র।

সময়ের ফাঁদ

এটাও এক ধরণের গল্প বলার চেষ্টা, চিত্রনাট্য তৈরির সময় এইসব দৃশ্যগুলো মাথায় ছিলো, সেই অলিখিত চিত্রনাট্যের অন্য একটা অংশের নেপথ্যে ---

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান এবং বুদ্ধিজীবিগণ

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান সংবাদের বিষয়বস্তু হিসেবে নিতান্তই গৌন, গতকালের সাম্ভাব্য সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়টি তারচেয়েও কম গুরুত্ব পেয়েছে। বিশাল সংবাদ সম্মেলন করে পঁচা ইঁদুরের বিবর্ধিত ছবি দেখানোর আয়োজনটুকু চমৎকার হলেও ইঁদুর শেষ পর্যন্ত ইঁদুরই, তার ছুঁচালো মুখ কখনই মাংসাশী আকার পায় না।

পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বিডিআর বিদ্রোহপরবর্তী সেনা অসন্তোষ এর চেয়ে গুরুতর ছিলো, সে সময়ের সেনা বিক্ষোভ দক্ষ হাতে সামলানোর কৃতিত্বটুকু দিতে হবে মইন উ আহমেদকে। সে পরিস্থিতির তুলনায় জনৈক মেজর জিয়ার ই মেইল এবং বক্তব্য যতটা আয়োজন করে প্রকাশ হলো সেটা নিতান্তই হাস্যকর।

হায় আমাদের চৈতন্যের দীনতা

বাংলাদেশে যুদ্ধাহত নারীদের বিষয়টি কোনো আলোচনায় উত্থাপিত হলে তাদের প্রতি শাররীক আগ্রাসনের বিষয়টির পুরুষতান্ত্রিক আহাজারি শুরু হয়, আজ একটি আলোচনা সভায় নাসির উদ্দীন ইউসুফ বেশ আবেগমথিত ভাষায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, বিষয়টির পুরুষতান্ত্রিকতা ক্ষণে ক্ষণে বিব্রত করছিলো।

তিনি যখন বিবৃত করেন সম্ভ্রমহানির যন্ত্রনাটুকু প্রতিদিন একজন যুদ্ধবিক্ষত নারীকে মৃত্যুর আস্বাদ দেয় তখন তার পেছনে একজন পুরুষের উদ্যত থাবা দৃশ্যমান থাকে যে থাবায় নারীর সতীত্বের প্রতি সম্মান ও সম্ভ্রম বিদ্যমান। তার বক্তব্যে প্রকাশিত হয় যুদ্ধবিক্ষত নারীর গ্লানিবোধ করবার প্রয়োজন আছে। এ বিষয়টি হারানোর শোক-সন্তাপ এবং হাহাকার তার পুরুষতান্ত্রিক মানসকে তৃপ্ত করে হয়তো।

দাম্পত্য

নারী এবং পুরুষের পারস্পরিক যৌনাকর্ষণের বিষয়ে অনেক বেশী সচেতন ধর্ম। ধর্ম যেহেতু সামাজিক স্থিরতার লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুশাসন তৈরি করে সুতরাং ধর্ম যৌনাচার বিধি তৈরি করে দিয়েছে, একই সাথে কিছুটা খোলা জানালাও তৈরি করেছে। ধর্ম নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বহুগামীতার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলো একটা সময়, উপমহাদেশের পৌরাণিক ইতিহাসের ভিত্তি হিসেবে রামায়ন মহাভারতের কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে সেখানেও এক একজন নৃপতি সাহসী পুরুষের একাধিক প্রনয়ী, স্ত্রী বিদ্যমান, তাদের ভেতরে মেয়েলী ক্ষমতার সংঘাত বিদ্যমান। প্রয়োজনে তারা মিত্রের বাসায় গিয়ে সুন্দরী দাসীর সাথেও শাররীক চাহিদা পুরণ করছে। তেমন যৌনতা বিষয়ক বাধ্যবাধকতা সেখানে নেই।

পরকীয়া

একটা সময়ে চলচিত্রে পরকীয়া প্রমের চরম আগ্রাসন ছিলো, বিবাহিত নায়কের সুন্দরী প্রেয়সী, বিবাহিত নায়ক আর সুন্দরী প্রেয়সীর রোমান্টিক আলোচনা, বৌয়ের সন্দেহ আর নায়কের আশ্বাস, আবেগ উথলে পরা গান, শেষ দৃশ্যে ভিলেনের হাত থেকে নায়ককে বাঁচাতে গিয়ে প্রেয়সীর মৃত্যু, অপরাধবোধে দগ্ধ হওয়া বৌয়ের আরও কিছু আবেগী সংলাপ, বিবাহিত প্রেমের প্রতি অটল আস্থা, সুন্দরী প্রেয়সী ছেড়ে চলে যেতেও পারে কিন্তু পতিব্রতা স্ত্রী কখনও স্বামীর দুর্দিনে স্বামীর সঙ্গ ত্যাগ করে না, বিভিন্ন রমকের ভাবনা উস্কে দেওয়া চলচিত্রগুলো এখন অতীত।

শাড়ী

মাঝে মাঝে একটা দৃশ্যেই আটকে যায় জীবন, একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে কল্পনায়, ইদানিং একটা শিশুর চোখে জলন্ত আগুণের প্রতিবিম্ব দেখি, সে আগুণে পুড়ে যাচ্ছে একটা পুতুল, আর আকাশ অন্ধকার করে নামছে বৃষ্টি, আগুণের আঁচ মরে যাওয়া রান্না ঘরের পাশ থেকে শিশুটা সন্তর্পনে ঢুকছে সেখানে, ভেঙে যাওয়া মাটির সানকির নীচে আধবলগ দেওয়া ভাত পরে আছে, কয়েকটা মুরগিছানা আর শিশুটা খুঁটে খাচ্ছে সে ভাত।

শৈশব

করোতোয়া থেকে আত্রাই হয়ে দিনাজপুরে ঢুকতে না ঢুকতেই নদীটাকে আদর করে সবাই ডাকে কাঞ্চন, পোশাকী নাম পূনর্ভবা নদ, সে নদীতে শৈশবে প্রচন্ড গরমে মাঝে মাঝে দাপাদাপি করতে যেতাম। তখনও কাঞ্চনের এ পার আর ওপারের মাঝের পুরো রেল ব্রীজের নীচেই বয়ে যেতো নদী। শীতে গতরে শীর্ণতা এলে হঠাৎ করেই যুবতী থেকে চঞ্চল কিশোরী হয়ে যেতো কাঞ্চন।

সেইসব শীতের জবুথুবু বিকেলের ম্লান আলোয় বিষন্ন হলে আমি একা সেই কিশোরীর সাথে একক প্রণয়ে মেতে হেঁটে হেঁটে চলে যেতাম অনেকটা পথ। এক হাঁটু পানির ভেতরে প্যান্ট গুটিয়ে নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে দু চারটা গ্রাম, গ্রামের হাট ভাঙা আলো পেরিয়ে আরও দুরের কোনো ন্যাড়া মাঠের ধানের গোছায় বসে সিগারেটের ধোঁয়া আর কুয়াশার মাঝে লুকিয়ে থাকতাম কিছুক্ষণ।

সামাজিক সংস্কার

মানস গঠন যেমনই হোক না কেনো, চুড়ান্ত বিবেচনায় শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হয়ে উঠবে কি না তা নির্ধারণ করে সামাজিক বাস্তবতা। উদারনৈতিক যৌক্তিক মানুষেরাও সামাজিক বাস্তবতায় প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠতে পারে

প্যারিচাঁদ মিত্রের ''আলালের ঘরের দুলাল'' আমার উপন্যাস মনে হয় নি, যদিও উপন্যাসের কোনো নির্ধারিত কাঠামো নেই, বিষয়বস্তু নেই, কিন্তু তারপরও " আলালের ঘরের দুলালকে ঠিক উপন্যাস বলা যাচ্ছে না, বরং এই ধারাবাহিক লেখাটিতে এক ধরণের সামাজিক সংকটকে চিহ্নিত করে সে বিষয়ে কিঞ্চিৎ শ্লেষ আছে।

উপন্যাস হিসেবে " আলালের ঘরের দুলাল" বিশ্লেষণ কিংবা ঔপন্যাসিক হিসেবে "প্যারিচাঁদ মিত্র''কে যাচাই করতে যাওয়ার মতো বোদ্ধা হয়ে উঠি নি, আমি বরং আমার অনুধাবনটুকুই বলি, ডি রোজারিও'র শিষ্যদের ভেতরে অনেকেই উত্তাল ত্রিশে( এ ক্ষেত্রে উনবিংশ শতাব্দীর তিন ও চার এর দশক) প্রচলিত সমাজকাঠামোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।

অন্তর্জালিক যোগাযোগ

আবেগ নিয়ন্ত্রন করার অক্ষমতা কিংবা হঠাৎ সাময়িক উত্তেজনার বশে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মহত্যার সংবাদ শুনে বিষয়টা দু:খজনক কিংবা অগ্রহনযোগ্য এর বাইরে আদতে বলার কিছুই থাকে না অনেক সময়। আমাদের মানসিক অনুভুতিগুলো নিয়ন্ত্রনের কোনো কার্যকরী প্রশিক্ষণ আমরা পাই না, আমাদের অনুভুতিগুলো কাউকে না কাউকে জানাতে হয়, নিজের ভেতরের অনুভুতির দহন যখন দগ্ধ করে তখন বন্ধুর কাঁধে হাত-মাথা- রেখে তার কাছে উন্মুক্ত হয়ে নিজের দগ্ধাবশেষ রেখে আসতে হয়। দু:খজনক, লজ্জাস্কর, অপমানের কিংবা আনন্দের অনুভুতিগুলো নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখা সব সময় সম্ভব হয় না।

অনুভুতির ব্যবচ্ছেদ

অনুভবের সামষ্টিকতা কি আছে? সামষ্টিক অনুভবের বিভিন্ন প্রকাশ দেখি হরহামেশাই, কিন্তু প্রতিবারই একই রকম সংশয় রয়ে যায়, ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা থেকে ব্যক্তি যতটুকু অনুভব করে একই রকম প্রতিক্রিয়াব্যক্ত করা সবাই কি ঠিক একই অনুভবে উদ্দীপ্ত কিংবা আক্রান্ত বোধ করে? সামষ্টিক অনুভব অনেকাংশেই সম্ভবত সামাজিক-রাজনৈতিক অনুভব, সেখানে ব্যক্তির ব্যক্তিসত্ত্বা, ব্যক্তিগত অনুভব সামষ্টিকতায় বিলীন হয়ে যায় এবং গণের স্বর ধারণ করতে উন্মুখ ব্যক্তি নিজের একান্ত অনুভবকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে সামাজিক -রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াকে নিজের অনুভব হিসেবে অনুভুত করতে শিখে। এই ব্যক্তিসত্ত্বার বিলীয়মান অবস্থা কিংবা স্বকীয় ভাবনাকে বিসর্জন দেওয়ার অভ্যাসটুকুই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আর কাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে?

কাল উৎসবের আলো মলিন হবে না, সকালে থেকেই ব্যানারে-ফেস্টুনে-শোভাযাত্রামুখরিত ৪০তম বিজয় দিবসের উদযাপনে বিন্দুমাত্র মলিনতা থাকবে না। উৎসবের রং লাল-সবুজ, আর কাপড়ের সাথে সাথে হৃদয়ে লাল-সবুজ নিয়ে উৎসবের আমেজে বয়ে যাওয়া প্রাণে গতকাল সকালের সংবাদপত্রের বিষন্ন গল্পগুলো কোনো আদ্রতা আনবে না। বিভিন্ন মাপের-ছাটের ক্রোরপত্র, বিভিন্ন প্রবীন নবীন বুদ্ধিজীবীদের ভাবনার বুদ্বুদ আর বুদ্ধিজীবীয় আক্ষেপের ভার বহন করবে বাংলা বর্ণমালার ৫০টি অক্ষর।

ভালোবাসা

প্রৌঢ়ের সাদা পাঞ্জাবি মৃদু বাতাসে উড়ছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার উদ্বিগ্ন স্ত্রী, তিনি তার মেয়ের হাত ধরে কথা বলছেন, কথা বলবি না মা? অভিমান হয়েছে?

ঘরের মৃদু ফিসফাসের ভেতরে তার ভারি খসখসে গলার শব্দগুলো মিলিয়ে যায়।

কথা বল মা। এতদিন পর দেখা হলো, একটা কথাও বলবি না তুই? কি এত অভিমান তোর?

উদ্বিগ্ন স্ত্রী হাত বাড়িয়ে প্রৌঢ়ের হাত ধরতে চান

কষ্ট কি আমার ছিলো না মা? আমারও কি অভিমান নেই? এত অভিমান পুষে রাখতে নেই।

প্রৌঢ়ের কণ্ঠস্বর আরও গম্ভীর হয়ে যায়।