ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

আধুনিক জীবনযাপ্ন ০১

এভাবেই চক্র পূর্ণ হয়, তুমি সন্তান হিসেবে জন্মেছিলে, পৃথিবীর রং-রূপ-রসআস্বাদন করে তুমিও যুবক হবে- তোমার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য বহন করছো তুমি, তোমারও সন্তান হবে- আবারও নতুন চক্রের শুরু হবে- এ চক্রের শেষ নেই।

এই কথাগুলো অতীতে কেউ না কেউ বলে গেছে আমি নিশ্চিত- যেকোনো ধর্মগ্রন্থে কিংবা তার ব্যাখ্যায় কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণের চক্রের বর্ণনায় এটা উদ্ধৃত হয়েছে নিশ্চিত ভাবেই- পৃথিবীতে নতুন কিছুই ঘটে না, অতীত পুনরাবৃত হয়। কোথায় পড়েছি, শুনেছি মনে নেই বলে উদ্ধৃতি হিসেবে দেওয়া সম্ভব হলো না।

আমরাও অতীতে ফিরে যাচ্ছি, আহারে- আভুষণে- অলংকারে আমাদের অতীতচারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদিন। অনেক দিন পরে বিজ্ঞান আবিস্কার করছে অতীতের জীবনযাপনপদ্ধতি অনেক বেশী স্বাস্থ্যসম্মত ছিলো, অতীতে নিতান্ত বাধ্য হয়েই মানুষেরা যেমন জীবনযাপন করতো সে জীবনযাপনে ফিরে যেতে আমাদের দিস্তা দিস্তা কাগজ ক্ষয় করতে হয়েছে- কাউকে না কাউকে গবেষণা করে বলতে হয়েছে আমাদের জীবনযাপন অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।

দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর

সময়, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলায়, আমাদের অনুভুতি অসার হয়ে যায়, বিশেষত আমরা যারা বড় হয়ে গেছি, যাদের নিয়মিত নিজের ধান্দায় ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন পথে অন্য অসংখ্য মানুষের সাথে বিভিন্ন ধরণের লেনদেন করতে হয়, তাদের অনুভুতি ভোঁতা হয়ে যায় সময়ের সাথে।

পথের কোনো দৃশ্যই আকৃষ্ট করে না, পথের কোনো মুখই খেয়াল থাকে না, সকালে ঘরের দরজা খুলে বের হওয়ার পর মাথায় একটাই চিন্তা থাকে, কখন জেলখানায় পৌঁছে নিজের ধান্দাবাজি শুরু হবে- গতরাতে বৃষ্ট হয়েছে, আজ রাস্তায় পানি জমে থাকবে- সাবধানে হাঁটতে হবে- গলিতে পানি জমলে বড় রাস্তায় যেতে বাড়তি রিকশা ভাড়া গুণতে হবে- সকল অনুভুতি একেবারে মানিব্যাগের ভেতরে ঢুকানো। হঠাৎ বাতাসে গন্ধ ভেসে আসলে আর হঠাৎ গাছের পাতা খসে পরলে বুঝি ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে গেছে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ- কোনো ঋতুই আসলে আলাদা কোনো তাৎপর্য বহন করে না, শুক্রবার সকালের ঘুমের বাইরে কোন বিনোদন নেই- এ জীবন নতুন কিছুকে জায়গা করে দেয় সহজেই, নিজের জায়গাটুকু সংকুচিত হলে একটু ভাঁজ খেয়ে নতুন করে আত্মসমাধিত হয়, এবং নিজের ভেতরেই ডুবে থাকে দিবানিশি।

ইতিহাসবোধ

ইতিহাসবিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা তিনি তথ্যকে পূর্বানুমান এবং যুক্তিকে আবেগের আগে স্থান দিবেন- বাংলাদেশে সে প্রত্যাশা অধিকাংশ সময়ই পূর্ণ হয় নি, হয়তো বাঙালি অত্যাধিক আবেগী কিংবা নিরাবেগ যৌক্তিকতায় অভ্যস্ত নয় তারা। দীর্ঘ গবেষণার ঐতিহ্য না থাকলেও ভাববাদী বিশ্লেষণের দীর্ঘ অতীত এ সভ্যতার অংশ।

ব্যক্তিগত অহং এখানে প্রকাশিত সত্যের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস অধিকাংশ সময়ই আবেগ, অহং, পূর্বানুমানের পিচ্ছিল পথে পথ হারিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ান হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত উপলব্ধির সাথে তথ্যের সুষম সংমিশ্রন হয়তো স্বচ্ছ ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়ক হতে পারতো কিন্তু আবেগে ঘোলা চোখ অধিকাংশ সময়ই সেইসব দিকচহ্নকে পাঠ করতে পারে না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত-ভবিষ্যত-বর্তমান

ইংরেজগণ আমাদের সভ্য করেছে না কি আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে কেরানী তৈরির উপযুক্ত শিক্ষানীতি চাপিয়ে দিয়েছে আমাদের উপরে সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়তো সম্ভব হবে না, অন্তত আমার পক্ষে এ বিষয়ে তেমন সিদ্ধান্তমূলক কিছু ব্যক্ত করা সম্ভব না।

রাষ্ট্রের শিক্ষাবিস্তারের নিজস্ব তাগিদ থাকে- নিজস্ব প্রয়োজনেই এক ধরণের অলিখিত শিক্ষানীতি তারা অনুসরণ করেন- প্রাগৈতিহাসিক বিবরণ দেওয়ার অক্ষমতা মেনে নিয়েই বলছি হয়তো এখন থেকে দুই হাজার বছর আগেও উপমহাদেশে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব ছিলো । মুনি-ঋষি- স্মার্ত-বৈয়াকরণিক-নৈয়ায়িক-বেদি-দ্বিবেদী-ত্রিবেদী-চতুর্বেদী-ভট্টাচার্য-শংকরাচার্য বিভিন্ন উপাধি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মাণ হয় একদা শিক্ষাদান এক ধরণের সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত ছিলো-

গসধ

অনেক আগে সেলিনার মায়ের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলাম- আমরাবন্ধুর বন্ধুরা সাধ্যমতো চেষ্টাও করেছিলেন- যদিও শেষ পর্যন্ত আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা তেমন ফলপ্রসু হয় নি, আমাদের সবার প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন-

দেশের স্বাস্থ্যসেবার সরকারী উদ্যোগ বিভিন্ন শ্রেণীর দালালের হাতে জিম্মি হয়ে আছে, বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে কর্মচারীদের দাপট এবং ঘুষের জন্য বাড়ানো হাত দেখে আমার ধারণা এমনটাই- সরকারী স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেক কম কিন্তু এইসব দালালের খপ্পরে পরে যাওয়া দরিদ্র মানুষেরা সেসব ধারণাও করতে পারেন না, ১৬ কোটি মানুষের একটি দরিদ্র দেশে সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জনগণের সকল চাহিদা পুরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেই দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে যায় মানুষ-

ক্ষ্যাপ ০২

ব্যাক টু দি প্যাভেলিয়ন বলা যায় এটাকে কিংবা এক ধরণের পরাজয়ও, দিনাজপুরে কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় কিছুটা অসস্তি ছিলো, মহল্লার খেলার মাঠ সংকুচিত হতে হতে এমন একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে প্লাস্টিকের বলে ক্রিকেট খেলা সম্ভব, মোটামুটি সবাই নিজের নিজের ধান্দায় ব্যস্ত, এর ভেতরে একেবারে নতুন করে নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার ধাক্কাটা তেমন লাগে নি, কলেজে পরিচিত মানুষ কম নেই কিন্তু তাদেরও নিজস্ব পরিচিত গন্ডী আছে আর আমার অন্তর্মুখীতা বন্ধুত্বউপযোগী তেমন কিছু না। কলেজের পেছনের বেঞ্চে বসি, ক্লাশ শেষ হয়, হেঁটে হেঁটে দুরের ক্যান্টিনে গিয়ে সিগারেট টানি কিংবা শহরের উপকণ্ঠে যেটুকু গ্রাম্য আবহাওয়া সেখানে সময় কাটাই। রাতে বাসায় থাকি না, গভীর রাতে দিনাজপুর শহরের রাস্তায় হাঁটতে যাই, স্টেশন, হাসপাতাল মোড়, স্টেশন, রেললাইন, বাসা এভাবে ফিরতে ফিরতে রাত ২টা ,৩টা।

ক্ষ্যাপ ০২

উন্নত মানের শিক্ষা প্রদানের পারিবারিক চাপের কারণে ঢাকায় চলে না আসলে হয়তো দিনাজপুরের অলিতে গলিতে ক্রিকেট ফুটবল খেলে কোনোমতে জীবনটা আনন্দে কেটে যেতো- মহল্লার প্রথা মেনে প্রায় পারিবারিক হয়ে ওঠা রাজবাড়ী ক্রিকেট ক্লাবের হয়েও দিনাজপুরের লীগ ম্যাচও খেলা হতো- কিন্তু গুরুজনদের আগ্রহে ঢাকা চলে আসলাম। রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ এখন পর্যন্ত সার্বিক সুবিধা বিবেচনায় ঢাকা শহরের সেরা স্কুল আর কলেজ, ১৩টা ফুটলব মাঠ, একটা ক্রিকেট মাঠ, দুটো বাস্কেট বল কোর্ট, অডিটোরিয়াম সব মিলিয়ে বেশ চমৎকার জায়গা। হোস্টেলের নিয়ম কানুন এবং প্রায় অপরিচিত মানুষজনকে বাদ দিলে হয়তো খুব চমৎকার সময় কাটতো ওখানে।

পাঠ প্রতিক্রিয়া- সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে।

মোস্তাক শরীফের সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে পড়া শেষ করলাম, কিছু কিছু গল্প এক ঘন্টার নাটক হওয়ার সম্ভবনা রাখে- এ উপন্যাসটিও সে ধাঁচেরই। হালকা দু:খ, হালকা বিষাদ, হালকা প্রেম, হালকা জীবনবোধ, হালকা চটুলতা আর হালকা দার্শণিকতা, সব মিলিয়ে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবার সব গুণই এই উপন্যাসের আছে।

ক্ষ্যাপ ০১

জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে বিশ্বের অন্য কোথাও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাংলাদেশের আমজনতার কাছে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বহীন। পরিজন, মহল্লা, গ্রামের সীমান্ত পার হলে বড় জোর জেলাপর্যায় পর্যন্ত এই জাতীয়তাবাদ টিকে থাকে, অনেকাংশেই আঞ্চলিকতাবাদের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেতে পারে নি। পীচ ঢাকা রাজপথ, রেললাইন, বিভিন্ন সেতু গ্রাম আর শহরের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে ফেললেও আমাদের শৈশবে বাংলাদেশ নদীঅবরুদ্ধই ছিলো, সেই দুরে ইশ্বরদীতে পাকশী সেতু, সেখান দিয়ে যশোর খুলনা কুষ্টিয়া, ফুলবাড়ী স্টেশনে নেমে সেই মেইল ট্রেইন, এর বাইরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সবই অগম্য দুস্তর পারাবার।

ক্ষ্যাপ

ঢাকা শহরে আমার ক্রিকেটে হাতেখড়ি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চুড়ান্ত সময়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলন নিহত হওয়ার পর হুট করেই স্কুল বন্ধ, হোস্টেল থেকে হাটখোলায়, অভিসার সিনেমা হলের পাশের গলিতে, সেখানেই হরতালের দিন ক্রিকেটে হাতেখড়ি হলো। তখন বোলিং একশন ছিলো চুড়ান্ত রকমের বাজে, বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় মাটিতে পা লেগে থাকতো, খালি পায়ে ৩ ওভার বোলিং করে রক্তাক্ত পা নিয়ে ফিরে আসলাম। এক সপ্তাহের বেশী আনন্দ স্থায়ী হলো না, এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর হেঁটে হেঁটে প্রেসক্লাবে গিয়ে দেখলাম একটা বিল্ডিং খুলে নিয়ে চলে গেছে উন্মত্ত জনতা। স্কুল-কলেজ শেষ করে পুনরায় ঢাকা আসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষা দিতে, ধুপখোলা মাঠে, ততদিনে বোলিং একশন বদলেছে, পায়ে ঘষা লেগে লেগে বেশ কয়েকবার পা কাটবার পর আমি পপিং ক্রীজের আগেই লাফানো শুরু করেছি, পরে সেটাও বদলে ফেলেছি কোনো একভাবে।

এমনও হয় মাঝে মাঝে

আমি বেশ বিরক্ত হলাম
একটা লেখার জন্য প্রায় ২ ঘন্টা নষ্ট করে যখন শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করুন বাটনে চাপ দিলাম

এক্সেস ডিনাইড
লেখাটা পুনরায় আগের মতো লেখা সম্ভব না, অবশ্য সাইটে এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, বেশ আয়োজন করে সময় নিয়ে লিখলে দুটো সমস্যা হয়

অটো লগ আউট করে দেয় সিস্টেম- সিস্টেমের কোনো সমস্যা থাকতেই পারে

কিংবা লেখাটা ফাঁকে ফোঁকরে হারিয়ে যায়। কোনো অটো সেভ অপশন নাই- একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর লেখা নিজের মতো সংরক্ষণ হওয়ার সুবিধাটা নাই।

এইখানে ড্রাফটের সুযোগ নাই- লেখা অপ্রকাশিত রাখার সুবিধা আছে- প্রাইভেট করে রাখার সুবিধা আছে-

কিন্তু সেসব দিয়ে তেমন সমস্যার সমাধান হয় না।

হয়তো পরবর্তী কোনো দিন এই বিষয়ে লেখাটা আবার লিখবো- আজকে আবার সেই পরিশ্রম করার ক্ষমতা নাই আমার।

সোহেল ভাই ০১৮

আচমকাই মঙ্গলবার দুপুরে দেখলাম সোহেল ভাইকে গটগট করে হাঁটছেন গলিতে- এমন সময় তো সোহেল ভাইয়ের থাকবার কথা না, সোহেল ভাই অনেক কিছুই করেন কিন্তু তার পাঙ্কচুয়ালিটির কদর আছে, তিনি সময়ের কাজ সময়ে করেন, গাফিলতি করেন না তেমন। মঙ্গলবারের আশেপাশে কোনো সরকারী ছুটি নেই- হতে পারে সোহেল ভাইয়ের মতো অন্য কাউকে দেখলাম। তেমন পাত্তা না দিয়ে চলে গেলাম বাসায়।

ইদানিং বিকেলগুলোতে নিয়মিত আড্ডা হচ্ছে না, অফিসপাড়ায়- বিভিন্ন অফিসের রিসেপশনে, চাকুরি নিয়োগ পরীক্ষার পড়া পড়তে পড়তে দিন যাচ্ছে। সন্ধ্যায় গা ম্যাজম্যাজ করলে একটু ময়না ভাইয়ের দোকানে এসে এলাকার হাওয়া বুঝে ঘরের পাখী ঘরে ফিরে যাই। ময়না ভাইকে একটা চায়ের কথা বলে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সোহেল ভাইকে

আররে সোহেল ভাই আপনি এই সময়ে?

কবিতার আস্তাবল ০৩

এটাকে অনায়াসে বলা যায় একজন কবির চোখে বাংলাদেশ ২০০১ কিংবা বলতেও পারিস যদি কখনও অস্ত্র তুলে নেয় হাতে সে অস্ত্র গর্জাবে কোন বুকে-

প্রত্যেকেই জানে একজন কবির চোখ আর একজন রাজনৈতিকের চোখে পার্থক্য আছে, কবির চোখের আড়ালে থাকে স্বপ্নীল চশমা এবং যেকোনো দৃশ্যের গভীরে যায় তার চোখ, আর রাজনৈতিকের চোখে থাকে আদর্শের কবচ যা ভেদ করে কোনো দৃশ্যই নেতা দেখতে পারেন না। আর দু'জনের গন্তব্যেও আছে বিস্তর ফারাক।

একজন যা নিজের জন্য করেন তা হয়ে যায় সার্বজনীন আর অন্যজন তার সার্বজনীন তত্ত্বের বুলি কপচে যা করেন তা হয়ে যায় একান্তই ব্যক্তিবিলাস। কবি নামক লোকটা কখনও প্রতিষ্ঠা পান, কখনও পান না কিন্তু সকলেই তাকে চেনে আর এমন অনেকেই এদের মধ্যে আছে যাদের চেনে শুধুমাত্র ডাকপিওনের ঝুলির অসংখ্য হলুদ খাম

ক্ষ্যাপ

যে সময়ের কথা সে সময়ে দিনাজপুর নেহায়েত একটা ছোট মফ:স্বল শহর, আশেপাশের থানা থেকে গ্রামের লোকজন দিনাজপুর টাউনে আসতো সাইকেল চেপে, তাদের বাচনভঙ্গি শহরের মানুষের থেকে আলাদা, সরল-সোজা মানুষদের নিয়ে দিনাজপুর টাউনের ছেলেরা মজাও করতো বিস্তর রকমের আর ছেলে-পেলেদের আড্ডার একটা অংশ বরাদ্দ থাকতো গ্রামের মফিজদের কান্ডকীর্তি বর্ণনায়।

শহরটা তখনও বহরে গতরে বেড়ে উঠে নি এখনকার মতো, সুইহারি তখনও দিনাজপুরের বাসস্ট্যান্ড আর নাইটকোচের যাত্রা কেবল শুরু হচ্ছে। তিস্তা পার্ব্বতিপূর- রংপুর-কাউনিয়া- জামালপুর ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা যাত্রা শুরু করার আগে দিনাজপুরের মেইল ট্রেনই ছিলো ভরসা। সেভেন আপ সম্ভবত ঢাকায় যেতো- একেবারে ছোটো বেলায় প্রথমবার ঢাকায় আসবার সময় এমনই কোনো মেইল ট্রেনে করেই আমাদের নিয়ে আসা হয়েছিলো, তবে পরবর্তীতে অধিকাংশ সময়ই তিস্তাই ছিলো পছন্দের বাহন।

কবিতার আস্তাবল ০২

একুশ বছর বয়েস হয়তো আমাদের মাপে খুব বেশী সময় না কিন্তু এ বয়েসেই সুকান্ত তার কবিতাগুলো লিখে প্রকাশ করে যক্ষায় মরে গেছে একাকী, আরোগ্যনিকেতনে কিংবা গৃহকোণে কোথাও না কোথাও বসে বন্ধুকে লেখা সুকান্তের চিঠিতে সুকান্তের প্রেমের সংবাদ ছিলো। সুকান্ত বন্ধুকে লিখেছিলো প্রেমের পড়বার পর সে আর কখনও প্রেমের কবিতা লিখে নি। শুধু সমাজ বদলের কবিতাই লিখেছে সুকান্ত এমনটা হয়তো নয় কিন্তু তার কবিতাসমগ্র-রচনাসমগ্রের কোথাও প্রেম নেই, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ আর ভালোবাসা আছে, ভবিষ্যতের শিশুদের জন্য স্নেহ আছে, ব্যক্তিগত প্রেমের কবিতা তেমন নেই। হয়তো সেইসব কবিতার আড়ালে কোথাও প্রেম ছিলো, সেসব প্রেমময়তাকে তেমন প্রকাশযোগ্য বোধ করে নি সুকান্ত। বিখ্যাত হওয়ার অনেক সম্ভবনাই তৈরি হয়েছিলো কিন্তু নির্জনতার কবি হিসেবে পরিচিত জীবনানন্দের স্যুটকেস ঝেড়ে পুছে তার গল্প-কবিতা- উপন্যাস খুঁজে বের করতে যেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো সুকান্তের ক্ষে