ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

এবার দিনাজপুরে

অনেক অনেক দিন পর দিনাজপুর গেলাম এবার। প্রতিবারই শহরের চেহারা বদলায়, আশৈশবের পরিচিত শহরটাকে নতুন স্থাপত্যের চাকচিক্যে অচেনা লাগে, পরিচিত সকলের চেহারায় সময় তার আঁচড় রেখেছে, জানি আমার চেহারাতেও সময় তার ছাপ রাখছে তবু মনে মনে এখনও আমি সেই কৈশোরেই আটকে আছি। বন্ধুদের পরিবার বড় হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুল আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গল্পের ফাঁকে নিজেদের স্কুল কলেজের গল্পও উঠে আসে সময় সময়।

আমাদের ঐতিহ্যময় শিক্ষাব্যবস্থা

অ্যান জেরাল্ডাইন স্টক ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে যোগ দেন। তিনি যে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন সে সময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভবিষ্যত দার্শণিক সংকটগুলোর চারা জন্মাচ্ছে আমলাতন্ত্রে, সেই চারা পরবর্তীতে শেকড়ে বাকলে বেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাবনার সাথে এতটাই সাংঘর্ষিক হয়ে যায় পরিণতিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র মৃত্যুবরণ করে। এ জি স্টকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সময়কালীন স্মৃতিকথা মুলত গোরখননের দিনলিপি। মোবাশ্বেরা খানমের অনুবাদ যথার্থই অনুবাদ কখনও তিনি পাঠককে এ সত্য বিস্মৃত হতে দেন না। মূলানুগ আক্ষরিক অনুবাদ সম্ভবত তার প্রাক্তন শিক্ষিকার প্রতি তার নৈবদ্য কিন্তু তার শিক্ষিকার রচনায় যেটুকু কাব্যময়তা ছিলো তা সুনিপূন হাতে হত্যা করে তিনি সবটুকুই গদ্যায়িত করতে পেরেছেন। ফলে বর্ণনায় এক ধরণের আখের ছোবরা চোষার অনুভুতি পাওয়া যায়। তবে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, একজন পাঠ্যক্রম নির্দেশনার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এবং একই সাথে তার অতীত কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকে তিনি বাংলাদেশ কিংবা সার্বজনিন শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষা বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটার খোঁচা অস্বীকার করতে পারলাম না। ব

আমি ও আমরা

আমরা প্রত্যেকেই সময়ে অসময়ে আত্মহত্যা করতে চাই কিন্তু আত্মহত্যার সাহস আমাদের থাকে না। বিদ্যমান লড়াই এবং ক্রমাগত সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাড়ায় ক্লান্ত আমরা এক এক সময়ে চাই এইসব কিছু ভুলে নিরুদ্বেগ সময় কাটাতে- অপরিসীম সময়ের ক্ষত নিয়ে আমরা সব ভুলে যেতে চাই, ঘড়ির কাঁটার মতো দিশা ঠিক রেখে সময়ের কাঁটায় বিক্ষত হতে হতে আমরা মূলত স্মৃতিবিস্মৃত হতে চাই, চাই পাগল হয়ে যেতে।

তবে আমাদের সবাই পাগল হতে পারে না, আমাদের সবাই আত্মহত্যার সাহস পায় না। আশ্চর্য হলো কেউ পাগল হয়ে গেলে আমরা সহানুভুতি কিংবা করুনা অনুভব করি- আমরা জানি আমাদের এই টিক টিক কাঁটা মেনে চলা জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেলেও সে আসলে অনেকটা নিজের কারাগারেই বন্দী। তার এই নিরুদ্বেগ আসলে এক ধরণের ছদ্মমুক্তির আনন্দ, তার জন্য সহানুভুতিটুকুই বরাদ্দ কারন যে নিজের ভেতরেই বন্দী হয়ে আছে। টিটকারি, জনগণের ধাওয়া আর থুতুর জীবনের প্রতি ভীতি থেকে আমরা নিজের মানসিক অবসাদের সাথে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাই কিন্তু কেউ আত্মহত্যা করলে আমরা মনে মনে আফসোস করি, ভাবি তার মতো সাহস যদি আমাদের হতো। আমরা মুখে সমবেদনা নিয়ে তাকিয়ে থাকলেও মনে মনে ইর্ষা করি তাকে।

কাউন্সিলিং

শিক্ষকতা মোটামুটি একটা "থ্যাংকলেস জব", প্রায় অধিকাংশ সময়ই একজনের অবদানের স্বীকৃতি থাকে না। সাফল্যের কোনো অবদানে স্বীকৃতি না পেলেও ব্যর্থতার সবটুকু দায়ভার বহন করতে হয়। তবে সামান্য কিছু সময়ের জন্য মনে হয় শিক্ষকতা পেশা হিসেবে ততটা খারাপ না, যখন কেউ বাবা-মায়ের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য মনে করে এসে সহযোগিতা চায় নিজস্ব ব্যক্তগত সমস্যায় তখন সহযোগিতা করতে পারা কিংবা অনেক দিন পরে কেউ যখন এসে স্মৃতিচারণের ছলে বলে আমাদের প্রচেষ্টা তাদের উপকারে এসেছে তখন মনে হয় আসলেই " উই মেড দ্যাট ডিফারেন্স।" এইসব ক্ষণিক বিজয়ের অনুভুতি অবশ্য সার্বক্ষণিক বিরক্তি কাটাতে পারে না।

সহজসাধ্য নৈতিকতা

আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্ম সকল নৈতিকতার গ্রহনযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইশ্বরের সন্তুষ্টি- অসন্তুষ্টি ভালো এবং মন্দ আচরণের প্রভেদাত্মক সীমারেখা, যে সীমারেখার একপাশে সকল আচরণ যা ইশ্বরকে সন্তুষ্ট করে এবং অন্য পাশে সকল আচরণ যা ইশ্বরকে অসন্তুষ্ট করে। মাণদন্ড নির্ধারণের এই প্রথায় অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটাই মোটামুটি শিক্ষাব্যবস্থা আচরিত নৈতিকতাশিক্ষাসহায়।

স্মৃতি লুকানোর ব্যক্তিগত প্রয়োজন

তারেক মাসুদের সম্পাদিত মুক্তির গানে আমরা যে দলটিতে বিভিন্ন শরনার্থী শিবির আর মুক্তাঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করতে দেখেছি তারা সবাই বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সদস্য। ১৪৪ লেনিন সরণিতে বাংলাদেশ সহায়ক সমিতির আনুকূল্যে সেখানে এই সংস্থাটি গঠিত হয়। সে দলটির দায়িত্বে ছিলেন ওয়াহিদুল হক, সানজীদা খাতুন। মাহমুদুর রহমান বেনু, জিয়াউদ্দিন তারেক আলি,স্বপন বসু শাহীন সামাদ সহ আরও অনেকে।

বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচিত্র নির্মাতাদের বিভিন্ন ধরণের ভংচং থাকলেও তারা আদতে তেমন পরিশ্রম করতে অনাগ্রহী। এই যে মুক্তির গানের শিল্পীরা, তারা সবাই বিভিন্ন পথে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। এদের মুক্তির পথযাত্রা নিয়ে চমৎকার, হৃদয়ছোঁয়া চিত্রনাট্য হতে পারে।

আগুনের পরশমনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় নিয়ে নির্মিত সেরা চলচিত্র মনে হয় আমার কাছে। চিত্রনাট্য, উপস্থাপন, প্রত্যেকের অভিনয়, সংলাপের পরিমিতিবোধ আমাকে প্রথমবার যেমন নাড়া দিয়েছিলো অনেক দিন পর দেখে পুনরায় মনে হলো এমন ছিমছাম ছবি আসলেই খুব কম নির্মিত হয়েছে।

আমার দেশ আমার পরিচয়

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো এ লেখা মূলত রূম্পার দেশকে জানো দেশকে জানাও ব্লগের মন্তব্যের সম্প্রসারণ।

আমরা যে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করি সম্ভবত পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সে পরিমাণ বিদেশ চর্চা করে না। ছোটোবেলা জ্ঞান,মেধা প্রমাণের জন্য আমরা ১৪০ দেশের নাম, ভাষা, রাজধানী মুখস্ত করে বসে থাকি। সেটা আমাদের অক্লান্ত জ্ঞানতৃষ্ণার প্রমাণ না বরং এইসব জানলে ভবিষ্যত উজ্জল হলে হতেও পারে এমন একটা অবচেতন ধারণা আছে।

সমস্যাটা আরও বেশী কারণ আমাদের দেশে প্রায় বিনামূল্যেই বিদেশী সব চ্যানেল দেখা যায়, ৩০০ টাকায় ৮০টা স্যাটেলাইট চ্যানেল, রাস্তায় হিন্দি,উর্দু, ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ সিনেমা, গান, বিনোদনের জগত এবং একই সময়ে আমাদের বিনোদনের জগতে শূন্যতা কিংবা অপদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আমরা পার্থিব এবং মানসিক সকল প্রয়োজন পুরণে বিদেশমুখাপেক্ষী। । সুতরাং আমরা বিদেশীদের খরবাখবর বেশী রাখি।

সিলেটে হুদাই

নৈসর্গ , প্রাকৃতিক সৈন্দর্য আমাকে খুব বেশী টানে না, ক্যারিবিয়ানের গাঢ় নীল সমুদ্র টিভিতে দেখে ভালো লাগে, ট্রাভেল চ্যানেলে মাঝে মাঝে কোনো কোনো দ্বীপ দেখে মুগ্ধ হই কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয় স্মৃতি-মানুষ কিংবা ইতিহাসের বাইরে কোনো লোকালয় আমাকে আকর্ষণ করে না।

প্রথমবার কোলকাতায় গিয়ে ভালো লেগেছিলো, এর সাথে আমার অনেক ধরণের স্মৃতি জড়ানো, বইয়ে পড়া মাঠ-রাস্তাঘাট একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠেছিলো- তাই অবাঙালী অধ্যুষিত কোলকাতায় বাংলা ভাঙা হিন্দিতে কিংবা ইশারায় কথা বলতে বাধ্য হলেও শহরটাকে ভালো লেগেছিলো। মনে হয়েছিলো স্মৃতির বিস্মৃত কোনো অঞ্চল হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভ্রমণ সেভাবে ভাবলে আমার কাছে অনেকটাই মানসিক অভিজ্ঞতার সাথে বাস্তবকে মিলিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।

বাংলা ব্যান্ডের গান

I was born on the dawn of a new society
And I feel lucky that my eyes could see
People standing up and being who they want to be
People made the music and the music made them free
Now I was just a baby through the summer of love they say
But it still feels like it was today
And if the road gets rough I pick up my guitar and play
It's always been right by my side to help me on my way

Now I don't need to worry 'bout tomorrow
Ain't anticipating what's to come
And I don't need to worry 'bout the things I have not done
Long as I got rock and roll I'm forever young

Now we can't always understand this world
Farther along we'll understand it all
The seventies looked like we all were headed for a fall
But those who listened hard enough could hear the summer call
Now I was growing up through all of this
My first beer and love and my first kiss
You never learn the things in school
You learn by living and going through
You taught me how to be myself

সম্পর্ক

সম্পর্কগুলো ব্যক্তিগত না কি সামাজিক না কি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নটার মীমাংসা হওয়া জরুরী। কয়েক দিন আগে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের স্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করলেন তার স্বামীতারই ডিপার্টমেন্টের এক ছাত্রীর সাথে প্রেম করছে? ২২ বছরের দাম্পত্যজীবন- ২ কিংবা ততোধিক সন্তানের জন্মের পর একজন যদি নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যায় বিষয়টা পারিবারিক পরিমন্ডোলে থেকে পাবলিক স্ফীয়ারে এমন ঘটা করে উথাপনের প্রয়োজন কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব কি নিজের আবেগ অনুভুতিকে ধামাচাপা দিয়ে জীবনযাপন করা? বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জুনিয়র শিক্ষকই তো তাদের ছাত্রীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছেন-

প্রশ্ন অবশ্য নৈতিকতারও, একটি স্ত্রী বর্তমান থাকতে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা অনুচিত- ক্ষেত্রবিশেষে অনৈতিক, কিন্তু সেটা সম্পর্কের সাথে জড়িত ব্যক্তিগনের বিষয়- সেটা সংবাদ সম্মেলন করে জনতার রায় নেওয়ার বিষয় না।

অলিম্পিক ভাবনা

খেলা বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু পক্ষপাতিত্ব আছে, নৌকা বাইচ, অশ্বচালনা, জিমন্যাস্টিক কিংবা ডাইভিং আমি খেলা মনে করি না, সাঁতারও আমার কাছে ঠিক খেলা মনে হয় না যেমন মনে হয় না রেসিং। বর্শা , জ্যাভলিন, শটপুট, শ্যুটিং, তীরন্দাজী ব্যক্তিগত দক্ষতা, মনোসংযোগ কিংবা মানসিক দৃঢ়তার উদাহরণ হতে পারে কিন্তু সেসবকে আমার খেলা মনে হয় না কখনও।

আমি খেলা বিষয়ে রক্ষণশীল, দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের জায়গা থেকে টেবিল টেনিস, লন টেনিস, ফুটবল, বাস্কেটবল, ওয়াটারপোলো, ব্যডমিন্টন, এসবের বাইরে অলিম্পিকে তেমন খেলা হয় না। পৃথিবীর নামি-দামি- বিখ্যাত- বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া বাস্কেটবল খেলোয়ারেরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক বাস্কেটবলে সোনা পায় নি কখনও। একটা পর্যায়ে অবশ্য পেশাদার খেলোয়ারদের অলিম্পিকে অংশগ্রহন করার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিলো, সে সময়ের পর যখন পেশাদার খেলোয়ারদের জন্য অলিম্পিক উন্মুক্ত হলো সে সময়ের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খেলোয়ারেরা অলিম্পিকে আসতে নারাজ ছিলো, তারা ব্যক্তিগত অর্জনের জন্যে খেলে দলীয় অর্জন তাদের কাছে খুব বেশী গুরুত্ব পায় না সম্ভবত।

বেহুদা

বাংলা ব্লগের সাথে পরিচয় ২০০৫ এর ডিসেম্বরে, যখন কেবলমাত্র সামহোয়্যার ইন ব্লগ শুরু হলো- সে হিসেবে বাংলা ব্লগের একেবারে প্রথম দিক থেকেই এরসাথে পরিচয়, বসবাস,গত ৬ বছরে বিচিত্র বিষয়ে লেখা হয়েছে, প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, কখনও নিজের আগ্রহে কখনও নিতান্ত বাধ্য হয়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে, এভাবে ব্লগগুলোতে ধীরে ধীরে লেখার পর লেখা জমেছে। বাংলায় লেখার এমন সহজ সুযোগ পেয়ে সে সুযোগের যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেছি, এভাবেই মনে হয় গত ৬ বছর পনেরোশোরও বেশী লেখা লিখে ফেলেছি। অনুভুতি কেমন হওয়া উচিত সেটা নিয়ে চিন্তিত। বিষয়টা আনন্দিত হওয়ার না কি বিব্রত হওয়ার সেটাও বলা কঠিন

সাম্প্রতিক অনুভুতি

আমরা অধিকাংশ সময়ই অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করি, আমাদের মৃত্যু পারিবারিক অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মৃত্যুতে স্বজন শোকগ্রস্ত হওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ হয় এবং ইহজাগতিক বিভিন্ন বিষয়ের মতভিন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভাবনায় যুযুধ্যমাণ হয়। মৃত্যু নিয়ে আমাদের অনেক আকাঙ্খা থাকলেও আমাদের মৃত্যু অসুন্দরই হয় অধিকাংশ সময়।

আমরা বিভিন্ন রকম মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে মরে যাই, গ্রামের সম্পন্ন কৃষক মৃত্যুর আগে তার আবাদি জমি আর বসতবাটির ঘরগুলোও সন্তানদের ডেকে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়- উত্তরের চাতালের জমি ছোটোর, বড় ঘরটা আর পুকুরটা মেজোর, শিমুল গাছ তলার সাথের জমিটা বড়কে দিবা আর আমার ঘরটা তোমাদের মায়ের থাকবে- এই মৌখিক নির্দেশনার কোনো আইনীভিত্তি নেই- কৃষক মরলো তার সৎকার বাদ দিয়ে ছেলে মেয়েছুটলো জমির দখল বুঝে নিতে- মৃত্যুশয্যায় শুয়েও আমাদের ভাববিলাসিতা কমে না।

ধর্মবিশ্বাস

অন্য কিছু লিখবো ভেবে শুরু করেছিলাম, মাঝপথে একজনের সাথে ধারাবাহিক আলোচনার পর মনটা বিক্ষিপ্ত হলো, ও নিজস্ব জীবনে ধর্মপালন করে নি, অন্তত আমি তাকে নামাজ পড়তে দেখি নি, তাকে রোজাও রাখতে দেখি নি। ধর্ম বিশ্বাসে ও নাস্তিক কি না কখনও জিজ্ঞাসাও করি নি, তবে হালের প্রাকটিসিং মুসলিম ও না। ওর নাম ও বেছে নেয় নি, আমাদের অধিকাংশেরই নিজের নাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে না।

সকাল থেকে দেখছি কলোরেডো শ্যুটারের ছবি বিতরণ করছে মানুষজন, সেখানে লেখা যদি ও মুসলমান হতো তাহলে ওকে সন্ত্রাসী বলতো, যদি ও কালো হতো তাহলে দুবৃত্ব কিন্তু সাদা চামড়ার বলে ওকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হবে। অপরাপর স্বল্প পরিচিত মানুষেরা ছবিটা বিনিময় করছিলো, আমি তাদের সাথে আলোচনার আগ্রহ পাই নি, কিন্তু ওকে ছবিটা বিনিময় করতে দেখে অবাক হলাম।

ওর সাথে হঠাৎ আলোচনায় জড়িয়ে পড়াটা উচিত কি অনুচিত না বুঝেই ওকে বলেছিলাম তোকে আমার মানুষ হিসেবে দেখতেই বেশী ভালো লাগবে, তবে তুই যদি মুসলিম পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিস সেটাতেও আমার তেমন কোনো আপত্তি নেই।

পেডাগগি

বিল গেটস ডেস্কটপ কম্পিউটার সহজলভ্য করে তুলবার আগে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ গবেষকগণ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এ দক্ষ ছিলেন, তাদের গবেষণাগারের বাইরে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর আবেদন ততটা ছিলো না, শুধুমাত্র বিজ্ঞানের ছাত্রদের একাংশ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কে জানতো, ফোরট্যান শিখতো , অন্য সব কম্পিউটার প্রোগ্রাম তখনও সম্ভবত জন্ম নেয় নি, কিন্তু উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আসবার পর মূলত পরিস্থিতি বদলে যায়, আইসিটি ক্লাশরুমের ধারণাটা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠে, শিক্ষাগবেষণাক্ষেত্রে আইসিটি ক্লাশরুমের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো কতটা বাণিজ্যিক প্রয়োজনে, কতটা মূলত শিক্ষাবিস্তারের আন্তরিকতায় এ সংশয়টুকু রয়েই যাচ্ছে।