ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

জীবনযাপন

বিশ্রী একটা সময় যাচ্ছে। নিশ্চিত বুঝতে পারছি সামনে এমন কয়েকটা সিদ্ধান্তে সমর্থন দিতে হবে যা পরবর্তী সম্পূর্ণ সময়েই অনুশোচনার কারণ হবে কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেসব বাক্য ব্যবহার করতে হবে সেসব বাক্য ব্যবহারে এক ধরণের অনীহা আছে নিজের ভেতরে। ভালো সিদ্ধান্ত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এক ধরণের বৈরিতা আছে, ভালো লাগার সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময়ই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হয় না আর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলোতে হৃদয়ের সমর্থন থাকে না।

বিশ্বকাপের কল্যানে রাত জেগে খেলা দেখার পর যখন পৌঁছালাম ঋকেরবর্ষসমাপনি উৎসবে মনে হয়েছিলো সবগুলো প্রয়োজনীয় বিষয়ই দেখা হবে না, কিন্তুয়ামাদের সুভাষণপ্রীতি সেটুকু আশংকা দূর করে দিয়েছে।

জ্ঞ

আই এম সো আনলাকি দ্যাট আই হ্যাভ এ ফাদার লাইক ইয়্য্যু-
ইয়্যু আর এ গ্রাম্পি ওয়ান, অলওয়েজ সো গ্রাম্পি আই ডোন্ট নীড এনি গ্রাম্পি ওস্কার এরাউন্ড মি
ইয়্যু ডোন্ট স্মাইল। আমি যাই করতে চাই সেটাতেই বলো এইটা কোরো না, ঐটা কোরো না- এই হেট ইয়্যু

গত এক মাসে ঋকের অনুভুতির ধারাবাহিক বিবর্তনের ধরণটা এমন। আমরা অনেক কিছু প্রত্যাশা করি, ভাবি ও আর স্কুলে গিয়ে জিনিষ হারাবে না, ও কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখবে সময় মেপে, ও টেবিলের খাওয়া পরিস্কার করে ফেলবে, পানির গ্লাসটা গুছিয়ে রাখবে-

কপি বুক প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে এমনটা সম্ভব- সেখানে যৌথ পরিবারের বিলাসিতা নেই, বন্ধুদের হাতে ধরে, মাত্র ১ ঘন্টার জন্যে দেখে রাখো অনুরোধ আছে-

গত ১ বছরে জীবনযাপনের ধরণ বদলে গেছে। পরিবর্তন কাঙ্খিত ছিলো কি না তা যাচাই করার অবসর তৈরী হয় নি। একটি রাজনৈতিক গোলোযোগ থেকে অপরাপর গোলোযোগের মুখে কোনোমতে টিকে থাকা,একটু নাক উঁচিয়ে সামান্য শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার গল্পের ভেতরে তেমন মহত্ব নেই। গতানুগতিক আক্ষেপ কিছু আছে। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মাঝে, ক্ষোভ-বিক্ষোভ-আক্ষেপের ভেতরেও বেঁচে থাকতে হয়। মানুষ বেঁচে থাকে, ক্যালেন্ডারের পাতার দিনগুলো, ঘড়ির কাঁটা ক্রমাগত ঘর বদলায়, উদ্বেগ- অনিশ্চয়তা- নিরাশা- হতাশা যখন ক্লান্ত করে ফেলে তখনও বেঁচে থাকার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।

কয়েকদিন আগে রিকশা করে সপরিবারে বাসায় আসছি। ঋতকে বললাম মা মনি ঘুমাও, তোমার চোখে ঘুম দৌঁড়াচ্ছে।
না ঘুম দৌড়াচ্ছে না। বাবা টোনাটুনি কোথায়?
রাত হয়ে গেছে, সবাই ঘুমাতে গেছে, তুমিও ঘুমাও
না ঘুমাবো না। বাবা প্লেন কোথায়?
প্লেনও ঘুমাতে গেছে।

খোঁজ

চৈত্রের কাকের মতো আকাশে মেঘের রেখা খুঁজি, আমাদের পশ্চিমমুখী ঘর, সারাদিন সুর্যের আলো খেয়ে তেতে থাকে, মাঝরাতে বেড়ালের মতো বাচ্চার ঘাড়ে ধরে মায়ের ঘরে রেখে আসি, অন্তত ওদের রাতের ঘুমটা ভালো হোক। ১০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎপ্লাবনের সময়েও ঘড়ির কাঁটা ধরে লোড শেডিং মেপে পূর্বের চিলতে বারান্দায় বসি আর জাম গাছের ডালে বসা পাখীদের শুমারি করে দুপুর কাটাই। মুনিয়া, টুনটুনি, চড়ুই, দোয়েল, শালিক,বুলবুলি, মৌটুসী দেখি,মাঝেমাঝে হলদে ল্যাজ ঝোলা কোনো একটা পাখী দেখি যার নাম জানি না, কিন্তু ঢাকা শহরের সন্ধ্যার আকাশ ঢেকে দেওয়া তোতা পাখীর ঝাঁক দেখি না, তার সম্ভবত শহর ছেড়েছে দাবাদহের আগেই।

আমাদের ধর্মচর্চা

ধর্মীয় বয়ান শুধু আরবীতে দেওয়া যাবে না কি স্থানীয় ভাষায় ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইমাম আবু হানিফা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্থানীয় ভাষাতেও ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ। বাস্তববুদ্ধি, কান্ডজ্ঞান দিয়ে ব্যক্তির ধর্মবিষয়ক সংকটের সমাধান খোঁজা ইমাম আবু হানিফার কাছে ভাষা হিসেবে "আরবি"র আলাদা পবিত্রতা ছিলো না। প্রতিটি ভাষায় সমান পবিত্র, সমান গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে যতদুর বিস্তৃত হয়েছিলো ইসলাম ধর্ম প্রচারক এবং ব্যবসায়ীদের কল্যানে তারচেয়েও বেশী দূরে বিস্তৃত হয়েছিলো।

বৃষ্টিবিলাস

অসংখ্য অনুষঙ্গ না থাকলে শুধুমাত্র বৃষ্টি আমার কখনও ভালো লাগে না। আকাশে মেঘ জমলে হৃদয়ে উল্লাস জাগে না আমার। বৃষ্টির সৌন্দর্যের বদলে বৃষ্টিপরবর্তী ঝঞ্ঝাট মনে করে কিছুটা বিরক্তও হই। ছোটোবেলার বৃষ্টির আনন্দ ছিলো, সে আনন্দের সাথে অবধারিতভাবেই " আজকে স্কুলে যেতে হবে না" শর্ত ছিলো। হাফ ইয়ার্লির বৃষ্টির বিষ হজম করে কাদা প্যাঁচপ্যাঁচে মফঃস্বলের রাস্তা ডিঙিয়ে ভেজা ভেজা হাতে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে বিদ্যাদিগগজ হয়ে যেতে হবে পরিস্থিতির বাইরে ছোটোবেলার বৃষ্টি অনেকটাই সহনীয় ছিলো। এক টানা ৩-৪ দিন বৃষ্টির পরে যখন মহল্লার মাঠ আর হেড়িং বোন সড়কটা আলাদা করা কঠিন সে সময়ে আরও এক ঘন্টা বৃষ্টির অভিশাপ সহ্য করা সম্ভব হতো না কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিতে ভেজা হতো নিয়মকরেই, বৃষ্টিতে ভিজলে ঘামাচি মরে।

অযথা

আনন্দিতা কথা বলতে শেখার পর যখন কাকের ডাক নকল করে ক্বা আ আ ক্বা আ আ বলতে শিখলো আমরা সবাই খুব খুশী ছিলাম। আনন্দের পোঁটলা কাকের ডাক ডাকলে, বেড়ালের ডাক ডাকলে সে প্রতিভা পরিচিতজনদের দেখানোর ভেতরে এক ধরণের নির্ভেজাল আনন্দ ছিলো। বাচ্চারা খুব দ্রুত বদলে যায়, আগ্রহ বদলায়, উৎসাহ বদলায়, কয়েকমাস আমাদের আবদার মিটিয়ে ক্বা আআআ ক্বা আআ ডেকে নতুন আগ্রহে শিখলো দ্যা ডগ সেইজ বাও বাও দ্যা কাউ সেজ মু মু, তারপর ইন্টারনেটের নার্সারি রাইমকে নিজের মত আধাবাংলায় স্মরণ করতে শিখলো।

বাসা ভর্তি শিক্ষক, সবাই কোনো না কোনো সময় স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি যায় ছাত্র পড়াতে আর ছাত্র পড়ানোর কৌশল শিখতে। যন্ত্রযুগে কম্পিউটারের নার্সারি রাইম আর এত এত উৎসাহী শিক্ষকের চাপে দ্বিতীয় জন্মদিনের আগেই বড় হাতের ইংরেজী বর্ণমালা চিনে ফেললো। প্রতিভা নয় বরং ছবির সাথে উচ্চারণ মেলাতে পারার দক্ষতা অর্জন করে ফেললো।

বিপ্লব কতদুর?

প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ সম্পর্কিত কোনো জ্ঞান আমার নেই। যদিও আমার স্ত্রী একমত হবে না আমার সাথে তারপরও আমার ধারণা সামান্য হলেও কান্ডজ্ঞান আমার আছে। রাশিয়া, চীন, কিউবা বলিভিয়া আর্জেন্টিনার বিপ্লবের ইতিহাস পড়ে অনেক জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ কখনও হয় নি। তাই দেশ বিপ্লবের জন্যে প্রস্তুত হয়েছে কি না, কিংবা কোন পথে বিপ্লব সংঘটিত হবে এই সংক্রান্ত আলোচনাগুলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বিশেষজ্ঞ পক্ককেশ এবং অপক্ককেশী বিপ্লব বিশেষজ্ঞদের জন্যেই বরাদ্দ রাখা ভালো। তারা হিসেব কষে, রাস্তা মেপে যখন বলবেন এই পথ থেকে সামনে সামান্য বাঁয়ে গেলেই বিপ্লবের শুরু হবে, তাদের মতামতের প্রতি আমি যতই আস্থাহীনতায় ভুগি না কেনো তাদের বিশেষজ্ঞতাকে সম্মান জানাবো।

ফেসবুকে জীবনযাপন

ফেসবুক ক্রমশঃ আমাদের অস্তিত্বের বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছে। ফেসবুকের বন্ধুদের কাছে আমাদের আনন্দ উল্লাস বেদনা দীর্ঘশ্বাস উন্মুক্ত করছি। মুহূর্ত যাপনের আনন্দগুলো যখন লাইক আর ফলোয়ারের পরিমাণের পরিসংখ্যানে নিরুপিত হয় তখন বর্তমানকে আড়াল করে এক ধরণের কল্পিত বর্তমান নির্মাণের ঝোঁক বাড়ে।

করুণা প্রত্যাশী কল্পনা বিলাসী প্রেমময় উক্তিসমগ্র নির্বাচন এবং বিভিন্ন ধরণের সময়সীমায় মন্তব্য এবং লাইকের সংখ্যা গুণে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত বক্তব্য সম্প্রচার করে জনপ্রিয় হতে চাওয়ার প্রবনতা ফেসবুকের আগে এতটা নগ্ন ভাবে প্রকাশিত হয় নি। ফেসবুক প্রজন্মের কাছে টয়লেটের দরজা ঘেরা আব্রুর বাইরে এখন একান্ত ব্যক্তিগত তেমন কিছুই নেই। ব্যক্তির প্রচারমুখীতা ব্যক্তির প্রাইভেসীবোধকে বদলে দিয়েছে।

অন্ধকার বর্তমান

২০০৯ সালে বাংলাদেশের পুলিশ ১২৯০৬টি নারী নির্যাতনের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছিলো, ২০১০ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২১২।

২০১১ সালে পুলিশী হেফাজতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিলো ৪টি, ২০১২ সালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের হাতে ধর্ষিত এবং নির্যাতিত হন ১৩ জন নারী।

২০১১ সালে ৭১২টি নারী ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছিলো, ২০১২ সালে ৮০৬ জন নারী ধর্ষণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছে থানায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধ

স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে অনেকটা নির্মোহভাবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ সময়কালীন ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা সম্ভব। অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ এবং প্রায় বিরল কিছু তাত্ত্বিক বিশ্লেষন প্রচেষ্টায় সীমিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধচর্চা।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন সংক্ষিপ্ততার কারণে প্রতিরোধ যুদ্ধের ধরণ ও কার্যকারিতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ হয়তো সম্ভব নয় কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাসের অনুসারী মানুষদের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে স্বাধীকার আন্দোলনের পর্যায় পেড়িয়ে রাতারাতি একটি জনগোষ্ঠী স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত হলো , সেই রাজনৈতিক উদ্যোগগুলো কিভাবে স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলো সেটার বিশ্লেষণ সম্ভব ছিলো

বেস্ট অফ ব্লগস প্রতিযোগিতা

অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী দেশগুলো প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় সেসব প্রযুক্তি নিত্যদিনের ব্যবহার্য পণ্যগুলো নির্মাণে ব্যবহৃত হয় এবং খুব দ্রুতই প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের জন্যে সহজলভ্য হয়ে যায়। উন্নত বিশ্ব এবং অনুন্নত বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মাণের ভিন্নতা মূলত প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য ব্যবহারের সক্ষমতার ব্যবধান।প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যগুলো উন্নত বিশ্বের সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি নির্মাণ করছে অন্য দিকে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পরা দেশগুলোর সাধারণ মানুষেরা প্রকৃতিনির্ভর সংস্কৃতিযাপন করছে।

lplpl

প্রতিটি প্রযুক্তই মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। নির্মাণের জটিলতা নয় বরং প্রযুক্তির প্রভাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত এটা কতগুলো মানুষকে সরাসরি উপকৃত করতে পারে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি যেভাবে বিশ্বকে অদৃশ্য সুতোয় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করতে পেরেছে, যেভাবে সময় এবং স্থানের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পেরেছে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাযুক্তিক উদ্ভাবন ততটা স্পর্শ্ব করতে পারে নি।

গাঠনিক ও নির্মাণগত জটিলতা বিবেচনা করলে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল, সুক্ষ্ণ উদ্ভাবনগুলোর সাথে পদার্থবিজ্ঞানীরা সরাসরি যুক্ত হয়ে আছেন। সেই প্রেক্ষাপট থেকে সার্নের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারকে কিংবা মহাশুণ্যে মহাবিশ্বের সুচনালগ্নের সংকেত খুঁজে পেতে পাঠানো বিভিন্ন যন্ত্রগুলোকে তালিকার উপর দিকে রাখা উচিত ছিলো।

ক্লোনিং সাইকোলজি

১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্লোন তৈরী হলো, ডলি। অমেরুদন্ডী সরল প্রাণী নয় বরং স্তন্যপায়ী মেরুদন্ডী একটি প্রাণীর অবিকল প্রতিরূপ তৈরীর সংবাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। সে সময়ে অবশ্য আমরা রাষ্ট্র, অর্থনীতি সমাজ বিষয়ে খুব বেশী সচেতন ছিলাম এমনটা বলা যাবে না, বরং আমাদের মনে হয়েছিলো পৃথিবীতে ক্লোনিং পদ্ধতির সুচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হতে পারে মনোবিজ্ঞানে। মনোবিজ্ঞান আদৌ বিজ্ঞান কি না, মানুষের বেড়ে ওঠায়, তার আচরণে স্মৃতি এবং সামাজিকতার প্রভাবগুলো চমৎকার পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ক্লোন মানব আমাদের এমন অনেকগুলো শিশু দিবে যাদের শাররীক গঠন থেকে শুরু করে মস্তিস্কের কোষের গঠন অবিকল একই রকম। সুতরাং আমরা এমন অনেকগুলো স্যাম্পল নিয়ে কাজ শুরু করবো যেগুলোকে অনায়াসে " আইডেন্টিক্যাল" বলা যাবে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে রেখে তাদের পরিণতি পর্যবেক

দিনলিপি

সকাল বেলা সূর্য তাতিয়ে ওঠার আগেই কানের পাশে শিশ্নকাতর এক প্রেমিকের প্রেমের আঁচ হজম করলাম। অফিসগামী মানুষের ভীড়ে বাস আগাচ্ছে এক পা দুই পা করে, কানের পাশে প্রেমের উত্তাপ। কানে জীপার থাকলে ভালো হতো, ঠিকমতও লাগিয়ে দিলেবাইরের কোলাহল, উত্তেজনা এবং নানাবিধ শব্দঝঞ্ঝাট এড়িয়ে নিজের মতো অফিসের জ্যাম ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হতো। অভিযোগে পর্যুদস্ত করে, অনুযোগ অভিমানজর্জর মেকী প্রেমালাপের ফাঁকে যতটুকু স্পষ্ট হলো আমার গন্তব্যের তিনটা স্টপেজ আগে প্রেমিক নামবে। রাস্তায় এলেমেলো ছড়িয়ে থাকা গাড়ী, ট্রাফিকের তুলে রাখা হাত, লাঠি আর বাতিতে সাজানো আমাদের বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় যাত্রীর মানসিক উত্তেজনার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রৌদ্রের তাপ। অল্পতেই বিক্ষুব্ধ, সহিংস হয়ে উঠতে চাওয়া যাত্রীর সাথে কন্ডাক্টরের বচসা। পাশে মৌলানা ধাঁচের একজন বসেছে, সেও ক্রুদ্ধ।