ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

অবদমন

"এমন সুন্দর মেয়েটাকে এইভাবে কেউ মারে" কান্না শুনে পাশের মসজিদ থেকে হেঁটে এসে মৌলভিসাহেব বললেন : বাবা, কাউকে মুখে মারতে হয় না, মুখটা আল্লাহ নিজের হাতে তৈরি করেন।" ঘাড়গোঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষের রোষ তখনও কাটে নি, হাতের কঞ্চি এলোমেলো পাশের পুঁইলতার উপর চালিয়ে মাথানিচু করে ঘরের দাওয়ায় গিয়ে বসে।

শৈশব

মানুষ বদলায় না, ঘোর নিঃসঙ্গ ব্যস্ত শহরের মানুষের ভেতরেও নিস্তব্ধ অবসর থাকে, তারাও উত্তেজনার খোরাক চায়, এই যে বয়স্ক মানুষটা হুট করে চিৎকার করে উঠলো, ফ্ল্যাটবাড়ীর গ্যারেজের দরজায়, অমনি আশেপাশের চায়ের দোকান-মুদির দোকান থেকে ছেলে বুড়ো সবাই হই হই হাজির হয়ে গেলো মজা দেখতে। এর ভেতরেও নিখাদ গ্রাম্যতা যে যে গ্রাম্যতায় পোষা গরু ছাগলের মতো গ্রামের পোষা পাগলকে দেখে ভয় ভয় উত্তেজনায় চলে আসে। এইসব মানুষদের ভেতরের ক্ষোভ কাউকে ক্ষুব্ধ করে না বরং এক ধরণের কৌতুকের জন্ম দেয়।
গ্রামের নিস্তরঙ্গ আলুনি জীবনে উত্তেজনা বয়ে নিয়ে আসতো এইসব বায়ুচড়া মানুষেরা, হঠাৎ চৈত মাসের দুপুরে লোকটা মাঠ থেকে ফিরে কিরম হয়ে গেল, বললো বৌ ভালো লাগে না- আমি তো বুঝি নি বু, আমার কি যে সর্বনাশ হয়ে গেলো, মানুষটা হাসুয়া নিয়ে দৌড় দেয়, লোকজন আতংকে চিৎকার করে, আবার একটু দূরে দাঁড়িয়ে টিপটিপ হাসে। পরস্পরের গা টিপে, কাঁধ ঝাকিয়ে মৃদু উল্লাসে ফেটে পরা মানুষেরা আসলে সার্কাস দেখে। সার্কাসের জন্তুদের বলের উপরে বসে পরা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো এই বায়ুচড়া মানুষটার হাসুয়া চালানোও এক ধরণের মাংনার উত্তেজনা তাদের জীবনে।

অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি

"অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি" হয়তো কোথাও না কোথাও বৈধ ও অবৈধ উপার্জনের অর্থনৈতিক চক্রকে উপস্থাপনের জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে, কিংবা হতে পারে এই শব্দগুচ্ছ একান্তই আমার উদ্ভাবন( সেটা হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম)।
পণ্য উৎপাদন এবং বিপণনে রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং নিস্ক্রিয় অংশগ্রহনের মাত্রাভেদে বাজারে পণ্যের ক্রয়মূল্যের উত্থানপতন অনেকাংশেই নির্ভরশীল। রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে সব সময়ই সীমিত করছে, সীমিত পর্যায়ের মূল্যস্ফ্রীতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শর্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হলেও " অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি" চর্চা আসলে ভোক্তা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে কোনো ভুমিকা রাখে না।

"অনৈতিক" কারণ এভাবে উপার্জিত কালো টাকা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করলেও রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ে সেটা কোনো ভুমিকা রাখে না। চাঁদাবাজী এবং মজুতদারী ধাঁচের পণ্যমুল্য স্ফ্রীতি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে ধারাবাহিক শোষণ করতে করতে ভোক্তাকে নিঃস্ব করে ফেলে। ভোক্তা অধিকার পরিপন্থী এই প্রক্রিয়া বেআইনী বিবেচনায় অনৈতিক।

ভাবনার অবদমন

একা রিকশায় ফিরছি সন্ধ্যার পর, প্রায় অন্ধকার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটা রিকশা যাচ্ছে, বিকেলে বৃষ্টি হয়েছিলো তার ছাপ লেগে আছে গাছেদের গায়ে, সম্ভবত ছুটির দিন বলেই ফাঁকা রাস্তায় মাত্র কয়েকটা রিকশা আর অন্ধকার পাশাপাশি ছুটে যাচ্ছে।
আমার ননদ বুঝলেন চাচা আমাকে একদম পছন্দ করে না। আমার স্বামী ওর মা বোনের কথাই বিশ্বাস করে, .........
পাশের রিকশার দিকে তাকিয়ে দেখলাম এক যুবতি বসে আছে, রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে। খুব অন্তরঙ্গ পারিবারিক গল্প, তার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির গল্প।
অন্য আরেকদিন অন্য কোনো রাস্তায় এভাবেই কানে আসলো আমার ছেলে আর আমার কথা ভাবে না। বৌটা ওকে যাদু করে রাখছে........।
তাকিয়ে দেখলাম এক মাঝবয়েসী মহিলা রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে

বিলবোর্ডের উন্নয়ন সম্প্রচার

আওয়ামী লীগের প্রচারণা বিলবোর্ড সবগুলো দেখেছি এমনটা বলবো না, আমার চলতি পথের দুইপাশে সামান্য যে কয়েকটা নজরে এসেছে সেগুলোর বিশ্রী লাল রঙ, কম রেজুলেশনের বিবর্ধিত ফেটে যাওয়া ছবিগুলোর পাশে অনেকগুলো সংখ্যা লেখা, যে সংখ্যাগুলো আওয়ামী লীগের সাফল্যসূচক।

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, জিডিপিতে স্থিতিশীলতা , দারিদ্রবিমোচনে দক্ষতা এবং আরও অনেকগুলো সংখ্যাই সেখানে আছে, সংখ্যাগুলো চমৎকার কিন্তু যারা ভোক্তা- এইক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ, যারা মাথাটা ১৫ ডিগ্রী উপরে উঠিয়ে বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে বিশাল বিশাল সংখ্যা গোনা সাফল্য যাচাই করে, আওয়ামী লীগের আশা, পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে দিবে, তাদের কাছে এই সংখ্যাগুলোর অর্থ অচেনা।

এই সংখ্যাগুলোর সাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের যোগাযোগ কোথায়? কিভাবে এই সংখ্যাগুলো তার জীবনযাপনে এক ধরণের উন্নয়ন বয়ে এনেছে? কেনো এই উন্নয়ন তার জীবনমানকে কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে, এসব প্রশ্নের উত্তর সেখানে নেই। ১৮ ফুট বাই ৩০ ফুট ক্যানভাসের লাল রঙএর পোস্টারের কোণে লেপ্টে থাকা সংখ্যাগুলো কেনো সাধারণ মানুষকে স্পর্শ্ব করবে?

নিষিদ্ধ না নিষিদ্ধ নিবন্ধিত অনিবন্ধিত জামায়াত

আদালতের নির্দেশের জামায়াত ই ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। নিবন্ধনের অবৈধতা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, এবং জামায়াত আগামী ১২ এবং ১৩ তারিখে হরতাল ডেকেছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হরতাল কেনো ১২ দিন পরে আহ্বান করা হলো? জামায়াতে ইসলামীও জানে এই ভরা ঈদের কেনাকাটার মৌসুমে হরতাল দিলে তার হরতাল মান্য করার মতো মানসিকতা এই ক্রয়উন্মাদ মানুষদের নেই। চাঁদের হিসেব মতে ঈদ হবে ৮ কিংবা ৯ই আগস্ট, ঈদ ফেরত মানুষদের ভোগান্তির বাইরে এ হরতাল নতুন কিছু যুক্ত করতে পারবে না। জামায়াত এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনে নির্বাচন কমিশন। সে সময় ৩৮টি দলের সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতে ইসলামীও নিবন্ধিত হয়। আইন অনুযায়ী শুধু নিবন্ধিত দলগুলোই বিগত নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়।

প্রথম প্রেম, প্রথম স্পর্শ্ব প্রথম চুম্বন

''একটি কথার দ্বিধা থরথর চুড়ায় সাত সাতটি অমরাবতীর সুখ '' মুহুর্তের আগে ভীষণ অস্থির মুহুর্তগুলো নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখার সময়। সুমনের একটা গান ছিলো প্রথম সব কিছু
" প্রথম প্রেমে পরার পরে সবাই পস্তায়,
ক্লাশ পালিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেছি রাস্তায়"

নিয়মিত দেখছি যে মেয়েটাকে তাকে হঠাৎ কোনো একদিন একটু আলাদা করে দেখা, তার চোখ, তার হাসি, তার চোখের সামনে নুয়ে থাকা এক গুচ্ছ চুলে আলগোছে সরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য আর কানের পাশে কুন্ডলিত চুলের ভেতরে নিজের অসহায় আত্মসমর্পনের মুহূর্ত। আমি তাকে, শুধু তাকেই ভালোবাসি, তার কাছে যেতে চাই, তাকে নিজের অনুভব জানাতে চাই, এই অনুভুতি প্রকাশের আগে নিজের ভেতরে এক ধরণের দ্বিধাদ্বন্দ্ব অস্থিরতা থাকে।

লীগপন্থী ডানেরা কিংবা পিকিংপন্থী বামেরা

বাংলাদেশে মোটা দাগে জাতীয়তাবাদী পরিকাঠামোতে স্বাধীনতার ইতিহাস চর্চা হয়, দেশের বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবী এবং ইতিহাসবিদদের প্রিয় এই জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চা প্রকল্প অনেকটাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তাবিত ইতিহাস অনুসরণ করে।

আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে । জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষিত ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ভুমিকা, স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় তার দলীয় নেতাদের দক্ষতা এবং সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়মিত নিপীড়নের বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চায় আওয়ামী লীগের অবদান ও অবস্থান আওয়ামী লীগের বর্তমানের নেতা কর্মীদের কাছেও স্বস্তিকর। তাদের সংগঠনের ঐতিহ্য এবং অর্জনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন, নেতৃত্ব প্রদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পালক। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের এমন ঐতিহ্য নেই।

রমজানের নিয়মিত উৎপাত

সদাপরিবর্তনশীল পলিবিধৌত এই ব-দ্বীপাঞ্চল কখনও আর্যাবর্তের অংশভুক্ত ছিলো না। শাস্ত্রার্থে এই ব-দ্বীপাঞ্চল ছিলো নাস্তিক অধ্যুষিত, এ অঞ্চলের অধিবাসীরা বেদে বিশ্বাসী ছিলো না। আর্যের রথ নদীর পরিবর্তনশীল তীরে এসে থেমে গিয়েছিলো, প্রকৃতি ধর্মানুসারী এই অঞ্চলের মানুষকে গৌরবর্ণ আর্যেরা কখনও বিশ্বাস করতে পারে নি, এদের ভাষাকে শ্রদ্ধা করতে শিখে নি। বেদ উপনিষদ বর্ণাশ্রম এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কের ভেতরে বাধা হয়ে উঠতে পারে নি।

হেফাজতের উত্থান পতন

লেখাটা ৭ই মে লিখেছিলাম সামান্য কিছু অদল বদল করে ব্লগে টুকলাম আজকে

৫ই মে গভীর রাত থেকে শুরু করে ৬ই মে সারাদিন অব্যহত পুলিশ অভিযান, সহিংসতা , অগ্নিসংযোগ শেষে অবশেষে হেফাজতে ইসলাম পিছু হটেছে। বাংলাদেশের চলমান বাঙালী জাতিয়তাবাদী সাংস্কৃতিক উত্থানের বিপরীতে হেফাজতে ইসলামীর পশ্চাতমুখী বদ্ধ সংস্কৃতির ধারণা সাধারণের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও এর সাম্ভাব্য সমর্থকদের সার্বিক সংখ্যা সাধারণ মানুষদের আতংকিত করেছিলো। মিডিয়ায় তাদের নেতা ও কর্মীদের "গণতওবা", এবং 'কানে ধরা' ছবি তাদের বশ্যতা মেনে নেওয়ার, তাদের পরাজিত হওয়ার এবং মনোবল ভেঙে যাওয়ার প্রতীকি উপস্থাপনে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে , আনন্দিত হয়েছে।

ফুল বঊ - আবুল বাশার

মানবীয় সকল প্রচেষ্টা ও উদ্যমকে ব্যর্থ করে দিয়ে পরাজয়ের অনিবার্যতা স্বার্থক ট্রাজেডীর বৈশিষ্ঠ্য। মানুষ স্বভাবতই প্রতিকূলতার বিপক্ষে লড়াই করে, আশাকে সম্বল করে টিকে থাকে বিরুদ্ধ পরিবেশে কিন্তু প্রকৃতি সমাজ বাস্তবতা তার বিপক্ষে চলে যেতে পারে, সকল সম্ভবনা সত্ত্বেও বিজয়ী মানুষের সামগ্রিক পরাজয় আমাদের নতুন করে বিমর্ষ করে, আমরা হতাশ হয়ে ভাবি লেখক আরও একটু উদার হতে ভালো হতো, এভাবে হারিয়ে দেওয়াটা তার ঠিক হয় নি মোটেও, আমরা আসলে সুন্দর সমাপ্তির প্রত্যাশা করি, কিছুটা নিয়তিবাদী আমরা অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশায় বসে থাকি আর লেখক আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন সব সময় সব প্রত্যাশা সামাজিক দাবি পুরণ করতে পারে না, লেখক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সমাজের বিদ্যমান শর্তগুলোকে সামনে রেখে চরিত্রের পরিণতি নির্ধারণ করেন, তাই পাঠকের প্রত্যাশাপুরণে ব্যগ্র না হয়ে লেখককে সামাজিক বাস্তবতার প্রতি সৎ থাকতে হয়, সে পরিণতি আমাদের সব সময় ভালো লাগবে এমনটা আশা করা অনুচিত।

পরাজিত মানুষের ইতিহাস থাকে না

পরাজিত মানুষদের ইতিহাস থাকে না, তারা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে প্রতিনিয়ত আত্মাহুতি দেয়, প্রচন্ড নির্যাতন সহ্য করে, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, গণমাধ্যমের সহানুভুতি -ঘৃণা পায়, তাদের মানবেতর জীবনযাপন ও লড়াই মানবাধিকার সংস্থার স্বীকৃতি পায় কিন্তু বিজয়ের আস্বাদ তারা পায় না।

পূর্বপুরুষের পাপের জের টানা এবং নিত্যনির্যাতিত হওয়ার গল্পগুলোর একপেশে উপস্থাপন থাকে বিজয়ীর গাঁথায় কিন্তু পরাজিতের জবানীতে তার আত্মঅধিকার এবং স্বীকৃতির লড়াইয়ের গল্প ততটা প্রচারিত হয় না।

যেমন ধরা যাক রোহিঙ্গাদের কথা, আমাদের সীমান্তবর্তী রোসাঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা তারা, রোসাঙ্গ রাজাদের রাজসভা আলোকিত করেছে চট্টগ্রামের কবিরা, তারা সেখানে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিলো, চট্টগ্রামের আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ তার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এইসব কবিদের সাহিত্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে অতিবাহিত করেছেন।

সিরাজউদদৌলা যখন কোলকাতা অবরোধ করলেন তখন একজন ইংরেজ সেনাপতির চট্টগ্রাম অভিমুখে আরকান রাজ্য দখল করতে যান, তাদের ধারাবাহিক আক্রমণে অবশেষে আরকান রাজ্য ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশভুক্ত হয়।

বর্ষার গান

অনেক অনেক দিন পর আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরলো এই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে, দুরের আকাশে ধীরে ধীরে মেঘ জমছে, বাতাসে বুনো মোষের মতো ক্ষ্যাপা কালো মেঘ দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে আকাশের নীল সামিয়ানা। ওক সাভানায় যতদুর দেখা যায় বুনো ঘাসের উপরে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুড়ো ওক, নীলচে সবুজ উঁচু নীচু মাঠ থেকে দূরে ছোটো টিলা, আর সেই পাহাড়ের ওপাশ থেকে বুনো মোষের মতো ছুটে আসছে কালো মেঘ, বাতাসে কেঁপে ওঠা এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা দেখে মনে হলো সারি নদীর কথা। সারি নদীর পানি এতটা হলদে সবুজ কিন্তু বর্ষায় আকাশের রঙ এর সাথে বদলে যেতো নদীটার রঙ। হলদে সবুজ থেকে কালচে সবুজ একটা জলের চাদর কেঁপে উঠতো বাতাসে, আমাদের কোষা নৌকা কাঁপতো সেই ঢেউয়ের সাথে। এখানে এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা কাঁপচে সারি নদীর ঢেউয়ের মতো আর সেই ঢেউয়ের মাঝখানে একাকী দাঁড়িয়ে আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরছে

আমাদের যন্ত্রযুগে

রোমান সম্রাজ্য কিংবা গ্রীক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ সময়েও " দাস" কখনই স্বাভাবিক মানুষের মর্যাদা পায় নি। মানুষের অধিকার সম্পর্কিত কোনও ভাবনায় 'দাস' আলাদা মানবিক অস্তিত্বসমেত দৃশ্যমান হয়ে উঠে নি। পরবর্তী দেড় হাজার বছরেও কোনো মহামানবই 'দাস' প্রথার বিরুদ্ধাচারণ করেন নি, দাসদের প্রতি আরও একটু মানবিক হয়ে ওঠার উপদেশ প্রদানের বাইরে 'দাস'দের স্বাধীনতা প্রশ্নে নিস্পৃহ থেকেছেন। তাদের এই সচেতন নির্লিপ্ততা তাদের ব্যক্তিগত অমানবিকতার চেয়েও বরং তাদের সময়ের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কে দাস শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতিস্বরুপ।

সভ্যতায় যন্ত্রযুগের আবির্ভাবের আগে 'দাস' উৎপাদক হিসেবে পেটচুক্তি শ্রমিক, এমন এক উপকারী জীব যাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করা যায় এবং যাদের প্রতি মানবতাবাদী মনোযোগ কোন না কোন ভাবে উৎপাদন সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করবে। যদিও সাধারণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন " স্বাধীন মানুষের" উৎপাদনের যাঁতাকলে কলুর বদলের মতো জুড়ে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু এই মনোভাব অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সভ্যতার ইতিহাসে বিদ্যমান ছিলো।

অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোসহ ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নজরদারিতে (ফিল্টারিং) ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোতে(আইআইজি) বিশেষ প্রযুক্তি বসানোর জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে সরকার।

বিটিআরসির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে এমন ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করে দিতে হবে যাতে মূল সাইট চালু রেখেই সহজে আপত্তিকর বিষয়গুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলা যায়।

“রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলো থেকে এমন বিষয় সনাক্ত করে তা বন্ধ করে দেয়া হবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।”

ফিল্টার চালু হলে সামাজিক যোগযোগের ওয়েবসাইট ব্যবকারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে কি না জানতে চাইলে মোস্তফা জব্বার বলেন, “বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে হবে। কেউ যদি অন্য কাউকে সরাসরি কটাক্ষ বা ক্ষতির কারণ তৈরি করে, তা নিয়ন্ত্রণ বা ফিল্টার করা উচিত। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।”

উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন দেশে এ ধরণের নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে বলেও মোস্তফা জব্বার জানান।