ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

ভাষা সংশয়

ভাষার গাঠনিক কাঠামোতে এক ধরণের সারল্য আছে। শব্দের পর শব্দ জুড়ে অর্থদ্যোতনা তৈরীর প্রক্রিয়াটিতে গাণিতিক ধাঁচ আছে কি না গত শতকের মাঝামাঝি এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ভাষাবিজ্ঞানীরা। শিশুরা যেই পরিবেশেই বেড়ে উঠুক না কেনো তাদের গঠিত বাক্যগুলো নির্দিষ্ট একটি অর্থবোধকতা তৈরী করে। "সবুজ রঙ এর স্বাদ চাঁদ" এমন বাক্য কাঠামো উত্তরাধুনিক কবি এবং ভাষাতত্ত্ববিদেরাই নির্মাণ করে, স্বাভাবিক শিশুরা এসব সংকট থেকে মুক্ত। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্রে রেখে নোয়াম চমস্কি ভাষার ভেতরের অন্তর্নিহিত ধাঁচের একটা সাধারণ সূত্র অনুমাণ করেছেন- সেটার পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য বিতর্ক আছে। এতসব বিতর্কের পরেও অস্বীকার করা যাবেনা মানুষের ভাষা ব্যবহারের ধাঁচে আঞ্চলিক পার্থক্য থাকলেও সেই ভাষাভাষী প্রতিটি শিশুই একই প্রকরণ মেনেই ভাষার ব্যবহার শিখে যায় শৈশবে।

দিনলিপি

বিশ্রী একটা সময় যাচ্ছে, সকল দরজার সামনে " অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন, আপনার কথাও আমরা শুনবো" সাইনবোর্ড ঝুলছে। খুব বেশী গভীর না হলেও আজকে দীর্ঘদিন পর তৃপ্তির ঘুম ভাঙলো যথারীতি ছেলে মেয়ের ঝগড়া শুনে। সেই ঝগড়া অগ্রাহ্য করে পাশ ফিরে শুয়ে থাকলাম। দুপুরে রোজার নিয়ম ভেঙে বাইরে বের হলাম। ঢাকা শহর মোটামুটি ফাঁকা। ব্যাংকের চাকুরীজীবী, গার্মেন্টস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ এবং যাদের গ্রামের ভিটার ঘুঘু চড়ছে তারা বাদ দিলে জীবিকা এবং শিক্ষাগত প্রয়োজন যারা ঢাকায় বসবাস করে তাদের অধিকাংশই দেশের বাড়ী চলে গিয়েছে।

পবিত্র মাস

রোজার সময় একান্ত বাধ্য না হলে বাসার বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। জীবন যাপন সংস্কৃতির উপরে গণমানুষের বিশ্বাসের আরোপ আমার ভেতরে যে মানসিক পীড়ন তৈরী করে তা প্রতিমুহূর্তেই উপলব্ধি করি। শুধুমাত্র এই একটি মাস আমাকে কোনো একটা সভ্য দেশের বাসিন্দা হিশেবে জীবনযাপন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করে তোলে।

পরধর্ম সহিষ্ণুতা, অপরের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা, অপরের ধর্মীয় অনুভুতিকে যতটা সম্ভব আহত না করে নিজের জীবনযাপন সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রাখবার কোনো সুযোগ থাকে না এই মাসটিতে। সকল নাগরিক সভ্যতাবোধ ঘাড়ের উপরে তার অনিবার্যতা সমেত চেপে বসে। এই একপাক্ষিক পরমত, পরসংস্কৃতি, পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার বোঝা বহন করতে ক্লান্ত লাগে এই বয়েসে।

ঈদ

বেঁচে থাকা মানে অবিরাম স্মৃতির কোলাজ তৈরী করা, হঠাৎ চলতি পথে কোনো একটা দৃশ্য দেখেথমকে দাঁড়ানো- হুবহু এমনই কোনো একটা দৃশ্য অতীতে তৈরী হয়েছিলো- সেটার পুনচিত্রায়ন ঘটলো এই মুহূর্তে- আমি একটা মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন একটি মুহুর্তে জেগে উঠলাম- সংলাপ থেমে যাওয়ার পর এক ধরণের শব্দহীন বিবশতা অদৃশ্য পর্দার মতো চারপাশে ঝুলে থাকে - তেমন শব্দহীনতার মূহুর্ত থেকে ধীরে ধীরে বর্তমানের শব্দমুখরতার ফিরে আসা- কেউ ডাকছে না তবু কোনো একটা পিছুডাকের জন্যে উৎকর্ণ হয়ে থাকা।

বিক্ষিপ্ত ভাবনা

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় কৌতুহল আর ভয়- আমাদের বর্তমান সভ্যতার প্রধানতম চালিকাশক্তি মানুষের এই দুটো অনুভুতি তবে এই দুটো অনুভুতির ভেতরে ভয়ের অনুভুতিটাই প্রবল। আমাদের ভাবনার জগতটা সম্পূর্ণ ভয় নিয়ন্ত্রন করে। কখনও কখনও ভয়টা ভীতির পর্যায় পার হয়ে আতংকে পরিণত হয়, কখনও ভয়টা আমাদের কৌতুহল নিবৃত করে।

আমাদের দৃশ্যমাণ, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পৃথিবীর বাইরের সবটুকুই আমাদের ভীতির জগত। অন্ধকার- অপরিচিত ভূখন্ড কিংবা অজানা গন্তব্য- সবই আমাদের ভেতরে এক ধরণের সংকেত- এক ধরণের সাবধানবার্তা তৈরী করে। যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকে মানুষ আগুণকে ভক্তি শ্রদ্ধা করতে শিখেছে, প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি এবং এত শত মারণাস্ত্র নির্মাণের পর সেই নিরাপত্তাহীনতার বোধ আরও তীব্র হয়েছে। যন্ত্রের যান্ত্রিক দক্ষতা, যন্ত্রগণকের সমস্যা সমাধানের অভাবনীয় গতি সবই এখন মানুষের ভয়ের কারণ।

ফিরে দেখা

২০১৩ সাল ছিলো নাগরিক অসন্তোষের বছর, বছরের শুরুতেই কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ে ক্ষুব্ধ তরুণেরা শাহবাগ মোড় দখল করে নেয় ফাঁসীর দাবীতে। শাহবাগ মোড় প্রজন্ম চত্ত্বরে পরিণত হওয়ার পর টানা ৩ সপ্তাহ সাধারণ মানুষ শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করে রাখে।
সাঈদীর ফাঁসীর আদেশে আদালত লিখেছিলো ধর্মবেত্তা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী নয় বরং আদালত একজন মানবতা বিরোধী অপরাধী দেইল্যা রাজাকারকে ফাঁসী দিচ্ছে- যদিও আদালতের রায়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ভিন্ন দুটো পরিচয় লিপিবদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না কিন্তু তারপরো গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এপ্রিলে হেফাজতে ইসলামী ইসলাম রক্ষার দাবীতে এবং বাংলাদেশে এক ধরণের ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের দাবীতে ঢাকা মার্চ শুরু করে- সরকার নিজেই ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং হেফাজতে ইসলামী ১৩ দফা ঘোষণা করে এক মাসের সময়সীমা বেধে দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে।

বেড়ে ওঠা

ঋক আর্ট এক্সিবিশনের জন্যে শহরের ছবি এঁকেছে, ব্যাস্ত রাস্তা, কয়েকটা গাড়ী, কিছু মানুষ হাঁটছে আর শহরে মাত্র ৩টা বাড়ী।বাড়ীর সামনে পরিচয় লেখা- একটা কিডজ এন্ড মম, একটা সিপি আর একটা এটিএম বুথ। যে ঢাকা শহরে আমরা থাকি সে শহরে বাড়ীর আড়ালে দিগন্ত লুকানো। এত এত বাড়ীর কংকাল দিন-রাত ঘাড়ে চেপে বসে আছে অথচ তার কল্পনার শহরে গুরুত্বপূর্ণ তিনটা স্থাপনা-
সে শহরে অন্য সব স্থাপনা তার জন্যে গুরুত্বহীন।

প্রতিবন্ধীত্ব

ধীরে ধীরে আমরা আধুনিক হয়ে উঠছি সম্ভবত, আমাদের ভাবনা বদলাচ্ছে ধীরে ধীরে। বাংলাদেশে একটা সময় পর্যন্ত পরিবারের মানসিক ও শাররীক প্রতিবন্ধী শিশুটা সামাজিক দায় হিসেবে স্থানীয় মসজিদের জিম্মায় চলে যেতো। মসজিদের দাতাদের অনুগ্রহে, দীর্ঘ শাররীক শাস্তির পর কোরান হেফজ করে, অনুগ্রহ এবং করুণা কামনার নানাবিধ কৌশল শিখে সমাজে তার অবস্থান তৈরী হতো। অনেক ক্ষেত্রেই মসজিদের আশেপাশের খাস জমিতে একটা ঘর উঠিয়ে সে বসবাস করতো। মানসিক কিংবা শাররীক প্রতিবন্ধীদের সমাজের উপর চাপিয়ে দিয়ে পরিবারের বোঝা হালকা করার প্রবনতাটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। পরিস্থিতিও অনেকটা বদলে গেছে। অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে তাল মেলানোর চাপ থেকে হোক কিংবা বিভিন্ন এনজিও এবং সমাজকর্মীদের অব্যহত লেখালেখি এবং সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ফলেই হোক শাররীক প্রতিবন্ধী মানুষদের এক ধরনের আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

জীবনযাপন

বিশ্রী একটা সময় যাচ্ছে। নিশ্চিত বুঝতে পারছি সামনে এমন কয়েকটা সিদ্ধান্তে সমর্থন দিতে হবে যা পরবর্তী সম্পূর্ণ সময়েই অনুশোচনার কারণ হবে কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেসব বাক্য ব্যবহার করতে হবে সেসব বাক্য ব্যবহারে এক ধরণের অনীহা আছে নিজের ভেতরে। ভালো সিদ্ধান্ত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এক ধরণের বৈরিতা আছে, ভালো লাগার সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময়ই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হয় না আর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলোতে হৃদয়ের সমর্থন থাকে না।

বিশ্বকাপের কল্যানে রাত জেগে খেলা দেখার পর যখন পৌঁছালাম ঋকেরবর্ষসমাপনি উৎসবে মনে হয়েছিলো সবগুলো প্রয়োজনীয় বিষয়ই দেখা হবে না, কিন্তুয়ামাদের সুভাষণপ্রীতি সেটুকু আশংকা দূর করে দিয়েছে।

জ্ঞ

আই এম সো আনলাকি দ্যাট আই হ্যাভ এ ফাদার লাইক ইয়্য্যু-
ইয়্যু আর এ গ্রাম্পি ওয়ান, অলওয়েজ সো গ্রাম্পি আই ডোন্ট নীড এনি গ্রাম্পি ওস্কার এরাউন্ড মি
ইয়্যু ডোন্ট স্মাইল। আমি যাই করতে চাই সেটাতেই বলো এইটা কোরো না, ঐটা কোরো না- এই হেট ইয়্যু

গত এক মাসে ঋকের অনুভুতির ধারাবাহিক বিবর্তনের ধরণটা এমন। আমরা অনেক কিছু প্রত্যাশা করি, ভাবি ও আর স্কুলে গিয়ে জিনিষ হারাবে না, ও কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখবে সময় মেপে, ও টেবিলের খাওয়া পরিস্কার করে ফেলবে, পানির গ্লাসটা গুছিয়ে রাখবে-

কপি বুক প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে এমনটা সম্ভব- সেখানে যৌথ পরিবারের বিলাসিতা নেই, বন্ধুদের হাতে ধরে, মাত্র ১ ঘন্টার জন্যে দেখে রাখো অনুরোধ আছে-

খোঁজ

চৈত্রের কাকের মতো আকাশে মেঘের রেখা খুঁজি, আমাদের পশ্চিমমুখী ঘর, সারাদিন সুর্যের আলো খেয়ে তেতে থাকে, মাঝরাতে বেড়ালের মতো বাচ্চার ঘাড়ে ধরে মায়ের ঘরে রেখে আসি, অন্তত ওদের রাতের ঘুমটা ভালো হোক। ১০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎপ্লাবনের সময়েও ঘড়ির কাঁটা ধরে লোড শেডিং মেপে পূর্বের চিলতে বারান্দায় বসি আর জাম গাছের ডালে বসা পাখীদের শুমারি করে দুপুর কাটাই। মুনিয়া, টুনটুনি, চড়ুই, দোয়েল, শালিক,বুলবুলি, মৌটুসী দেখি,মাঝেমাঝে হলদে ল্যাজ ঝোলা কোনো একটা পাখী দেখি যার নাম জানি না, কিন্তু ঢাকা শহরের সন্ধ্যার আকাশ ঢেকে দেওয়া তোতা পাখীর ঝাঁক দেখি না, তার সম্ভবত শহর ছেড়েছে দাবাদহের আগেই।

আমাদের ধর্মচর্চা

ধর্মীয় বয়ান শুধু আরবীতে দেওয়া যাবে না কি স্থানীয় ভাষায় ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইমাম আবু হানিফা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্থানীয় ভাষাতেও ধর্মীয় বয়ান দেওয়া শুদ্ধ। বাস্তববুদ্ধি, কান্ডজ্ঞান দিয়ে ব্যক্তির ধর্মবিষয়ক সংকটের সমাধান খোঁজা ইমাম আবু হানিফার কাছে ভাষা হিসেবে "আরবি"র আলাদা পবিত্রতা ছিলো না। প্রতিটি ভাষায় সমান পবিত্র, সমান গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে যতদুর বিস্তৃত হয়েছিলো ইসলাম ধর্ম প্রচারক এবং ব্যবসায়ীদের কল্যানে তারচেয়েও বেশী দূরে বিস্তৃত হয়েছিলো।

বৃষ্টিবিলাস

অসংখ্য অনুষঙ্গ না থাকলে শুধুমাত্র বৃষ্টি আমার কখনও ভালো লাগে না। আকাশে মেঘ জমলে হৃদয়ে উল্লাস জাগে না আমার। বৃষ্টির সৌন্দর্যের বদলে বৃষ্টিপরবর্তী ঝঞ্ঝাট মনে করে কিছুটা বিরক্তও হই। ছোটোবেলার বৃষ্টির আনন্দ ছিলো, সে আনন্দের সাথে অবধারিতভাবেই " আজকে স্কুলে যেতে হবে না" শর্ত ছিলো। হাফ ইয়ার্লির বৃষ্টির বিষ হজম করে কাদা প্যাঁচপ্যাঁচে মফঃস্বলের রাস্তা ডিঙিয়ে ভেজা ভেজা হাতে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে বিদ্যাদিগগজ হয়ে যেতে হবে পরিস্থিতির বাইরে ছোটোবেলার বৃষ্টি অনেকটাই সহনীয় ছিলো। এক টানা ৩-৪ দিন বৃষ্টির পরে যখন মহল্লার মাঠ আর হেড়িং বোন সড়কটা আলাদা করা কঠিন সে সময়ে আরও এক ঘন্টা বৃষ্টির অভিশাপ সহ্য করা সম্ভব হতো না কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিতে ভেজা হতো নিয়মকরেই, বৃষ্টিতে ভিজলে ঘামাচি মরে।

অযথা

আনন্দিতা কথা বলতে শেখার পর যখন কাকের ডাক নকল করে ক্বা আ আ ক্বা আ আ বলতে শিখলো আমরা সবাই খুব খুশী ছিলাম। আনন্দের পোঁটলা কাকের ডাক ডাকলে, বেড়ালের ডাক ডাকলে সে প্রতিভা পরিচিতজনদের দেখানোর ভেতরে এক ধরণের নির্ভেজাল আনন্দ ছিলো। বাচ্চারা খুব দ্রুত বদলে যায়, আগ্রহ বদলায়, উৎসাহ বদলায়, কয়েকমাস আমাদের আবদার মিটিয়ে ক্বা আআআ ক্বা আআ ডেকে নতুন আগ্রহে শিখলো দ্যা ডগ সেইজ বাও বাও দ্যা কাউ সেজ মু মু, তারপর ইন্টারনেটের নার্সারি রাইমকে নিজের মত আধাবাংলায় স্মরণ করতে শিখলো।

বাসা ভর্তি শিক্ষক, সবাই কোনো না কোনো সময় স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি যায় ছাত্র পড়াতে আর ছাত্র পড়ানোর কৌশল শিখতে। যন্ত্রযুগে কম্পিউটারের নার্সারি রাইম আর এত এত উৎসাহী শিক্ষকের চাপে দ্বিতীয় জন্মদিনের আগেই বড় হাতের ইংরেজী বর্ণমালা চিনে ফেললো। প্রতিভা নয় বরং ছবির সাথে উচ্চারণ মেলাতে পারার দক্ষতা অর্জন করে ফেললো।

ফেসবুকে জীবনযাপন

ফেসবুক ক্রমশঃ আমাদের অস্তিত্বের বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছে। ফেসবুকের বন্ধুদের কাছে আমাদের আনন্দ উল্লাস বেদনা দীর্ঘশ্বাস উন্মুক্ত করছি। মুহূর্ত যাপনের আনন্দগুলো যখন লাইক আর ফলোয়ারের পরিমাণের পরিসংখ্যানে নিরুপিত হয় তখন বর্তমানকে আড়াল করে এক ধরণের কল্পিত বর্তমান নির্মাণের ঝোঁক বাড়ে।

করুণা প্রত্যাশী কল্পনা বিলাসী প্রেমময় উক্তিসমগ্র নির্বাচন এবং বিভিন্ন ধরণের সময়সীমায় মন্তব্য এবং লাইকের সংখ্যা গুণে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত বক্তব্য সম্প্রচার করে জনপ্রিয় হতে চাওয়ার প্রবনতা ফেসবুকের আগে এতটা নগ্ন ভাবে প্রকাশিত হয় নি। ফেসবুক প্রজন্মের কাছে টয়লেটের দরজা ঘেরা আব্রুর বাইরে এখন একান্ত ব্যক্তিগত তেমন কিছুই নেই। ব্যক্তির প্রচারমুখীতা ব্যক্তির প্রাইভেসীবোধকে বদলে দিয়েছে।