ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা

আদালতের কাগজপত্রে তাকালে প্রতিবার চোখে পরে রাষ্ট্র বনাম রাসেল পারভেজ কিন্তু কখন কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র নামের এই প্রতিষ্ঠান আমার প্রতি বৈরী হয়ে উঠলো, কেনো রাষ্ট্র তার সমস্ত দম্ভ নিয়ে ব্যক্তি "আমি"র মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ শুরু করলো?

বাংলাদেশের আদিবাসি পরিস্থিতি

পাহাড়ে কিংবা সমতলে কোথায় আদিবাসীরা নিরাপদ নয়। রাজনৈতিক দুবৃত্বরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জোরে তাদের উ্চ্ছেদ করছে, তাদের বাপ-দাদার ভিটা দখল হয়ে যাচ্ছে। বড় পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হলে অধিকাংশ ঘটনাই সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসে না। অন লাইন সংবাদপত্র-ব্লগ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদিবাসীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সম্পাদকের সচেতন উপেক্ষায় লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা অমানবিকতার ইতিহাস প্রত্যক্ষ না করলেও একটি জনগোষ্ঠীর উপরে এর পরোক্ষ প্রভাব ঠিকই অনুভব করতে পারছি।

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৩য় শ্রেণী।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাপাঠ্যক্রম অদ্ভুত রহস্যময় নৈরাজ্যে পরিপূর্ণ। সমাজের মান্য-গন্য-বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মানুষেরা পাঠ্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, অসংখ্য আলোচনার পর প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের নামে কয়েকটি অশ্বডিম্ব প্রসব করেছেন। অবশ্য পাঠ্যপুস্তকের গায়ে লেখা আছে পরীক্ষামূলক সংস্করণ। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ন্যুনতম ৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহন করছে। দুর্বল- পরস্পরের সাথে সম্পর্কহীন আত্মজ্ঞানের চুড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে যে পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়েছে তা শুধুমাত্র কয়েকটি পাইলট প্রজেক্টে ব্যবহার করে, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার মাণ শিক্ষাগবেষকদের দিয়ে যাচাই না করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সবাইকে নিয়ে নিরীক্ষা করার গুরুত্বপূরণ কর্মকান্ড একেবারে কান্ডজ্ঞানবিবর্জিত আচরণ মনে হয়েছে।

keno

বিয়ে শুধুমাত্র অঙ্গীকারপত্রে সাক্ষর করে নতুন জীবনধারার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া নয় বরং একটা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। প্রাক-কৈশোরে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই যে পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়। শাররীক আগ্রহের বদলেকৈশোরকাল শুরু হওয়ার আগেই সামাজিক প্রেষণাতে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়। তারপর সময়ের সাথে সেই পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট, আরও সংবদ্ধ হয়। বিবাহ উদযাপনের প্রতিটি সামাজিক উৎসব এই পরিকল্পনায় নতুন নতুন অনুসঙ্গ যোগ করে। সুতরাং যৌবনকাল শুরু হওয়ার আগেই নিজের জীবনসঙ্গী এবং বিবাহ উৎসবের খসরা ছবিটা মোটামুটি আঁকা থাকে কল্পনায়।

আমাদের পাঠশালা

আমাদের চোখের সামনে লাইব্রেরীর তাকগুলো থেকে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের বইগুলোকে হটিয়ে ক্যারিয়ার গাইড আর "৩০ দিনে সহজে শিখুন" জায়গা করে নিলো। সাফল্যের সহজ পথ খুঁজতে খুঁজতে আমরা পাঠ্যবই বাদ দিয়ে গাইড আর কোচিং এর সাজেশনের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেলাম। স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরামর্শক হয়ে ওঠার তাড়নায় তাদের মৌলিক গবেষণার আগ্রহ কমে গেলো । এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্বাদু পানিতে তেলাপিয়ার প্রজননের ১০টি নিয়ম আর জীববিজ্ঞানের গবেষক উপসম্পাদকীয় পাতায় দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত লিখে পদোন্নতির সুযোগ পেয়ে যান।

যাদের যা করার কথা ছিলো তারা সে দায়িত্ব পালন করছেন না। অন্তর্বর্তী মেধাশূণ্যতার আঁচর লাগছে শিক্ষায়াতনে, পদলেহী আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন বুদ্ধিজীবী সমাজ কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চায় মননের উন্নয়নের পথ না খুঁজে নৈতিকতা খুঁজছেন ধর্মগ্রন্থে। সাহিত্য-ইতিহাস-ভাষাবিজ্ঞানের ভালো বইগুলোর তালিকা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার পরবর্তী ৪ দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা একাডেমী থেকে হাতে তোলার মতো গবেষণাগ্রন্থ খুব বেশী প্রকাশিত হয় নি।

rape as genocide

This is not rape out of control. It is rape under control. It is also rape unto death, rape as massacre, rape to kill and to make the victims wish they were dead. It is rape as an instrument of forced exile, rape to make you leave your home and never want to go back. It is rape to be seen and heard and watched and told to others; rape as spectacle. It is rape to drive a wedge through a community, to shatter a society, to destroy a people. It is rape as genocide. In this genocide through war, mass rape is a tool, a tactic, a policy, a plan, a strategy, and an instrumentality, as well as a practice.
Catharine A. MacKinnon, Rape, Genocide, and Women's Human Rights, 17 HARV. WOMEN'S L. J. 5, 11-12 (1994).

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি

গৌতম গতকাল লিখেছে "জগতের কোনো বিষয়ে তোমার কোনো ক্ষোভ আছে বন্ধু? এসো, তাহলে, আমাকে মেরে যাও; পুড়িয়ে দিয়ে যাও আমার ঘরখানি। আমরা জ্বালানি শুধু তোমার উল্লাসের আগুনের, বাকি পরিচয়টুকু না হয় চিতার আগুনেই ধ্বংস হোক!"

৬ বছরের বেশী সময় ধরে গৌতমকে আমি চিনি। নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট দীর্ঘ সময় পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশের এই জোড়াতালি দেওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে করনীয় বিষয়গুলো নিয়ে ভেবেছে, লিখছে, গবেষণা করছে ও। দীর্ঘ দিনের পরিচিত একজন মানুষ যখন হুট করে এমন একটা কিছু লিখে, সেখানে লুকিয়ে থাকা খেদ আর শ্লেষ আমাকে আহত করে।

আমাদের রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী সমাজে "বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবোধ" এর ভ্রান্তিবিলাস আমাদের গণমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবেদন প্রকাশে অন্তরায় ছিলো। নিতান্ত অবহেলায় সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোর সংবাদ প্রকাশিত হতো ভেতরের পাতায়।

বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন

রাষ্ট্রভাষা হিশেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পূর্ব বাংলায় ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি শক্ত করেছে কিন্তু পূর্ব বাংলার মুসলমানেরা তাদের বাঙালি মুসলিম পরিচয়ে গর্বিত ছিলো এবং শিল্পী সাহিত্যিকদের ভেতরেও পশ্চিম বাংলার অধিবাসীদের সাথে নিজেদের পৃথক করার তীব্র আগ্রহও ছিলো। বাঙালী মুসলমানদের পৃথক বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে যা বিকশিত হচ্ছিলো। ১৯৫৬ সালে রাষ্ট্র ভাষা হিশেবে বাংলার স্বীকৃতি পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের ভেতরে ভাষাভিত্তিক বঞ্চনাবোধ কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছিলো। তাই শুধুমাত্র উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিভাজন ঘটেছে এমনটা বলা যাবে না। পাকিস্তান রাষ্ট্র হিশেবে তার নাগরিকের প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ হয়েছিলো, পাঞ্জাবী শাসিতকেন্দ্রে অপরাপর ভাষাভাষি নাগরিকদের দুর্দশা অনুধাবনের আগ্রহ ছিলো না, ফলে সিন্ধে কিংবা বেলুচস্তানে আঞ্চলিক বঞ্চনাজনিত বিক্ষোভ বাড়ছিলো। জয় হিন্দ, জয় সিন্ধ ঘুরে জয় বাংলা শ্লোগান এসেছে পূর্ব বাংলায়।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ পর্ব

তাদের ১০ জনের ৮ জন বিশ্বাস করে নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পুরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তারা বিশ্বাস করে সকল নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহন করার রাষ্ট্রের কর্তব্য। তারা মনে করে রাষ্ট্রের খাস জমি দরিদ্রদের সমবন্টন করতে হবে। তাদের ১০ জনের ৯জন বিশ্বাস করেন ভোট দেওয়া নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাদের ১০ জনের ৫ জন বিশ্বাস করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশী যোগ্য, দক্ষ।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ৩য় পর্ব

বাংলাদেশে মাদ্রাসা সম্প্রসারণের হার বাড়ছে। এমপিওভুক্তির তুলনা করলে দেখা যাবে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হচ্ছে অন্যান্য পাবলিক স্কুলের এমপিওভুক্তির পরিমাণ তার তুলনায় নগন্য। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ অনেকদিন পর অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে কিন্তু প্রতিবছরই কোনো না কোনো মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি পাবলিক স্কুল নির্মানের বদলে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মাদ্রাসা নির্মাণ এবং মাদ্রাসা অর্থায়নে আগ্রহী। এই নবগঠিত আলীয়া মাদ্রাসাগুলো দ্রুতই এমপিওভুক্ত হয়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্প্রসারণের ঘটনাকে "রাষ্ট্রের অর্থায়নে জঙ্গীবাদ সম্প্রসারণ উদ্যোগ" না কি রাষ্ট্রের অনীহায় বর্ধিত শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ২য় পর্ব

ঘোড়ায় চেপে যতদুর যাওয়া যায়, খ্রীষ্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী শাসকেরা ততটুকু ভূখন্ডই দখল করে ফেলেছিলেন এমন কি সমুদ্র অভিযান চাপিয়ে তারা স্পেনও দখল করে নেন। দখলকৃত ভূখন্ডগুলোর ভেতরে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যধারী ইরাক এবং ইরান। রোমান সম্রাজ্যের অধীনস্ত সিরিয়া, মিশর, প্যালেস্টাইন, মরোক্কোর মতো দেশগুলোও ছিলো। নববিজিত রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখলে সমর্থ হলেও এই বিপূল সম্রাজ্যের সবাইকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করানোর সামর্থ্য কিংবা উদ্যোগ মুসলিম শাসকদের ছিলো না। আসমানী কেতাবধারী নাগরিকদের সাথে সাথে বিজিত দেশে মুর্তি ও অগ্নিপূজারী নাগরিকদের অস্তিত্বও মেনে নিতে হয়েছে মুসলিম শাসকদের। ধর্মের ভিত্তিতে শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ এই প্রশ্নে ইসলামী চিন্তাবিদদের ভেতরে মতপার্থক্য এমন কি বৈরিতাও ছিলো। এমন মত পার্থক্য শাস্ত্রনিষ্ট বিতর্ক থেকে অস্ত্রনির্ভর সংঘাতে সমাপ্ত হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ১ম পর্ব

চার ধারায় বিভক্ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশের এক চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশে সরকার স্বীকৃত আলীয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং রয়েছে ক্বাওমী মাদ্রাসা ব্যবস্থা। এ দুই ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা প্রতি ছাত্র সংখ্যার ব্যবধান থাকলেও মোটা দাগে বলা যায় ক্বাওমী মাদ্রাসা এবং আলীয়া মাদ্রাসায় মোটামুটি সমান সংখ্যাক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। যেহেতু ক্বাওমী মাদ্রাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি নেই, সুতরাং আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আট ভাগের একভাগ নিজেকে শিক্ষিত মনে করলেও এদের শিক্ষার কোনো স্বীকৃতি নেই। এরা শিক্ষিত বেকার এমনও বলা যাবে না কারণ এদের সরকারী কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনের যোগ্যতা নেই।

বিশ্বাস করা কঠিন সম্রাট আকবরের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে, সকল ধর্মের সকল শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা উন্মুক্ত করে দেওয়ার সাথে সাথে মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন গৃহীত হয়। ফলে সংস্কৃত, ফার্সী এবং আরবী ভাষা শিক্ষার সাথে সাথে মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিটি শিক্ষার্থীই সংস্কৃত কাব্যের রস আস্বাদন করতে শিখতো।

দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকদের নিত্য দিনের জীবন

দু:খজনক বাস্তবতা হলো সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতিনিয়ত দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হয়। নিম্নবর্ণের হিন্দু যাদের সহায়-সম্বল ভিটে মাটিটুকুই , এই মাটিতে জন্ম এ মাটিতে দাহ হওয়ার পরও প্রতিনিয়ত ভারতপ্রেমের গঞ্জনা শুনতে হয় যাদের, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট নয় এমন দেশগুলোর মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশী মুসলমান বসবাস করলেও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় ভারত এখনও আমাদের কাছে হিন্দু রাষ্ট্র এবং একই সাম্প্রদায়িক কারণে এই দেশের প্রতিটি হিন্দুই ভারতপ্রেমিক দেশদ্রোহী।

ক্রমাগত অবমাননা, লাঞ্ছনার এই ইতিহাস মনে রেখেই এই দেশে একজন হিন্দু বসবাস করে। সংখ্যালঘুদের ভেতরে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন বাস্তবতার ছবিতে বাংলাদেশের অপরাপর সংখ্যালঘুদের জীবনযাপনের বাস্তবতা মূর্ত প্রতিনিয়তই। বৌদ্ধ অধ্যুষিত বার্মা কিংবা শ্রীলংকা কিংবা চীন কিংবা জাপানের স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচে পূড়ে যেতে পারে রামু যেভাবে ভারতের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে পুড়ে যায় এই দেশের হিন্দুবাড়ীগুলো। আমরা সাম্প্রদায়িক দানবপূজা করছি, ধর্মের আড়ালে মানুষ পোড়ানোর নৃশংসতায় সমঝোতা করছি।

kkkkkk

বনগ্রাম বাজারে সাম্প্রদায়িক হামলার দুই সপ্তাহ পরেও হামলার দাগ মুছে যায় নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ত্রানের টিনের দেয়ালের পাশে এখনও হামলায় ভেঙে চুড়ে যাওয়া টিনের দেয়াল সাক্ষ্য দিচ্ছে কালীপূজার দিনে সংঘবদ্ধ আক্রমণে কিভাবে আক্রান্ত হয়েছিলো বনগ্রাম বাজারের সামান্য দুরের এই বসতি।

পুড়ে যাওয়া মন্দিরের অগ্নিদগ্ধ মুর্তি , পূজার প্রসাদ আর ফুল পায়ে মারিয়ে যারা প্রায় ৩ ঘন্টা নারকীয় উল্লাসে বনগ্রমের এইসব মানুষদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভ্রান্তি ভাঙালো, তারা একই সাথে সরস্বতি মুর্তি, হারমোনিয়াম, মাদল ভেঙেছে। আলাদা করে দেখলে তেমন কিছুই নয় কিন্তু আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক উপাদানে শিক্ষা-সৈন্দর্য্য -প্রেম ও ভক্তির এসব উপকরণ ভেঙে আমাদের সাংস্কৃতিক দীনতাটুকুই প্রকাশ করলো এইসব দুবৃত্তরা।

এবং আমরা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি

অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা খুব দ্রুতই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেলো, পূঁজিবাদী ব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় ভোক্তা-ব্যবসায়ী-রাষ্ট্র- আইন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মাণ অক্ষুন্ন রাখার ন্যুনতম নিশ্চয়তা নেই, অর্থের পরিমাপে মানুষের মূল্য নির্ধারিত হলে, প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর প্রাপ্যতা এবং মাণ অর্থে নির্ধারিত হলে শুধুমাত্র গুটিকয়েক মানুষ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা কিনে ফেলতে পারে এবং গণমাধ্যম অশ্লীল ভাবে সেগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে সবার ভেতরে তেমন জীবনযাপনের স্বপ্ন তৈরি করতে পারলেও সে পথে সবার সহজ গতায়ত নেই। অর্থনীতি এবং প্রোডাক্টিভিটির ইঁদুর দৌড়ে শুধুমাত্র কয়েকজন সফল হবে, বাকীরা সেই সাফল্যের আশায় পূঁজিবাদী অর্থনীতের যাতাকলে পিষ্ট হবে। তবে অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা এই সহজ প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার বিরুদ্ধে ছিলো না বরং বিদ্যমান ব্যবস্থায় ন্যায্যতার অভাবে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিলো।