ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

উত্তরাধুনিক বিপ্লববটিকা বিতরণ -- সম্ভব কি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ গণপ্রতিরোধ মঞ্চ হয়ে ওঠা?

অবশেষে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা এসেছে আজ বিকাল ৪টায় শাহবাগ বিক্ষোভের সাথে সংহতি জানাতে ৩ মিনিটের কর্মবিরতি নিরবতা পালন করবে বাংলার মানুষ। উদ্যোগের ট্যাগ লাইন যদিও "সংহতি" তবে আদতে এটা কেন্দ্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ। জনগণের অবচেতনে এক ধরণের নির্দেশনা দেওয়া, রশি আমার হাতে সুতরাং আমার টানেই নাচতে হবে তোমাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা এসেছে আগামীকাল গণসংগীত আর বৃহঃস্পতিবার মোম বাতি ...জ্বালানো হবে।
এ ধরণের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধা খুব সহজেই এসবে একাত্ম হওয়া যায়। তেমন বেআইনীও না আবার নিজের মানসিক প্রশান্তিও টিকে থাকে, সংগ্রামের বিক্ষুব্ধ ক্লেশকর পথ শেষে আত্মসচেতনতার উপলব্ধি এখানে নেই বরং রেডিমেড ইন্সট্যান্ট নুডলস খাওয়া লোকজন এইসব ঘোষণার সাথে একাত্ম হয়ে খুব সহজেই রেডিমেড বিপ্লবাসক্ত হয়ে যায়।

বইমেলা সরগরম - ০৪

বাঙালীর জীবনে ষাট বছরের উর্ধ্বে বেঁচে থাকাই যেন একটা অভিশাপ। বাংলার আবহাওয়া-ভালো স্বাস্থ্য বহুদিন রক্ষার পক্ষে অনুপযোগী-তাই ষাটের উর্ধ্বে বাঙালীকে আমি চিরকালই দেশের উপর একটা বোঝা বলে মনে করেছি- আজো করি। ষাটের পরে আর বাঙালীর উৎপাদন শক্তি বা সৃষ্টিশীলতা থাকে না বলে আমার বিশ্বাস সে শুধু গিলিতচর্বন করে অতীতের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চায়।
তাই আমি সাটের পরেই লিখছি অতীতের কথা।
কামরুদ্দীন আহমদ- বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশ।

কামরুদ্দীন আহমেদের বইটি লেখা শুরু হয়েছিলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কারাগারে বন্দী অবস্থায়, সরদার ফজলুল করিম, আতাউর রহমান খাঁ এবং আরও অনেকেই জুলাই মাসের শেষের দিক গ্রেফতার হন, তারা কারাবন্দী ছিলেন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পনের পরদিন ১৭ই ডিসেম্বর তারা সবাই মুক্তি পান। সম্ভবত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের বিষয়টা নিয়ে এত মাতামাতি হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তাদের বন্দীজীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী সবাই মুক্তি পেয়েছেন পরের দিন সকালে।

বইমেলা সরগরম - ০৩

ভেবেছিলাম পুলিশ কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বলবো আপনারা যেভাবে বাংলা একাডেমীর গেটে মেটার ডিটেক্টর লাগাচ্ছেন তা দিয়ে হয়তো বই মেলার প্রথম সপ্তাহ কোন মতে পার হয়ে যাবে কিন্তু বই মেলার মূল ভীড়ের সময় আপনারা গাবতলী পর্যন্ত মানুষের লাইন তৈরি করে ফেলবেন। তবে গিয়ে দেখলাম বাংলাদেশের পুলিশকে যতটা নির্বোধ ভাবি তারা ততটা নির্বোধ না, তারা ঠিকই বেশ বড় পরিসর নিয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়েছেন। তাদের সুচিন্তিত পদক্ষেপের জন্য তাদের ধন্যবাদ।

বইমেলা সরগরম - ০২

ঢাকা আমার অবৈধ প্রণয়, শহরের বিশ্রী জ্যাম, ধুলো, নোংরা আবর্জনাভর্তি রাস্তা আর হকার পতিতায় বেদখল হয়ে যাওয়া পাবলিক প্লেস নিয়ে আক্ষেপ করে কাটিয়ে দিলাম দুই দশক, শহরটা মফস্বলের ছোঁয়াচ মুছে ধীরে ধীরে আরও জগদ্দল স্থবির মন্থর শহরে পরিণত হলো, রাস্তার দুপাশের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া ল্যান্ডস্কেপের সবুজহীনতার কষ্ট রুমালে মুছি আর মুছি ঠোঁটের ধুলোর দাগ, ঢাকা আমাকে মাটিতে টেনে নিয়ে প্রগাঢ় চুম্বন করে আর আমার ফুসফুস তার কালো নোংরা ধোঁয়া আর বীজাণুতে ভরে ওঠে প্রতিদিন।

এই শহরে নতুন কিছুই ঘটে না ইদানিং, আমাদের গল্পগুলো কেটে যাওয়া লংপ্লে রেকর্ড প্রতিবারই ঘ্যাচাং করে পুরোনো দাগের জায়গা থেকেই বেজে ওঠে নির্লিপ্ত, প্রতিবারই ভাবি বদলে নিতে হবে সবকিছু, বদলে যাওয়ার শ্লোগান দেখি রাস্তার বিলবোর্ডে কিন্তু আমার বদলে যাওয়া হয় না।

বইমেলা সরগরম - ০১

পড়াশোনা সীমিত হতে হতে এখন ইতিহাসমুখী, গত ১ বছর কিংবা ২ বছরে মূলত ইতিহাস আর আত্মজীবনি পড়েই সময় কাটলো। উপন্যাস গল্প পড়া হয় নি, এ বছরও বইমেলা মূলত এমন বইয়ের খোঁজেই কাটবে। এক ধরণের তালিকা তৈরি হয়েই আছে মাথার ভেতরে, বই খোঁজার সময় সে তালিকা ধরেই অসচেতন খোঁজটা অব্যহত থাকবে, তবে পুরোনো প্রকাশনীর সাথে পুরোনো বইগুলোও বইমেলার স্টল থেকে হারিয়ে যায় ব্যক্তিগত সংগ্রহে অনাদরে পরে থাকে, সেসবের গায়ে ধুলো জমে এবং কোনো একদিন পরবর্তী প্রজ্ম ঘরের ঝুল ঝেড়ে পরিস্কার করতে গিয়ে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রী করে দেয় কাগজের দোকানীর কাছে।
সেসব বই বাছাই হয়ে চলে আসে পুরোনো বইয়ের দোকানে ফুটপাতে, সেখানে হয়তো আগ্রহী মানুষ খুঁজে পায় সেসবের হদিশ এবং পুনরায় সেসব চলে যায় বইয়ের তাকের পেছনের সারিতে, অপেক্ষা করে প্রজন্ম বদলের।

শিরোণামহীন

অনেক দিন ব্লগ লেখা হয় না, অবশ্য তেমন বিখ্যাত লেখক না তাই গলা উঁচিয়ে বলতেও পারছি না " বুঝলে আসলে রাইটার্স ব্লক, লেখা আসছে না।" বেশ কয়েকবারই লেখা শুরু করতে গিয়ে মনে হয়েছে আসলে বিছানার উষ্ণতা মনোহর, রক্তচোষা মশা আর শীতের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তি না করে আরামদায়ক উষ্ণতায় নিজেকে সমর্পন করলেই ভালো। এলেমেলো ভাবনা মনে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েক দফায় কিন্তু সেসব গুছিয়ে লেখার আগ্রহ হয় নি।

যদিও ইংরেজী উপন্যাস কবিতা পড়া হয় না তারপরও একটানা ইংরেজী পড়ার কিছু সমস্যা আছে, ইংরেজী গদ্য বাংলা গদ্যের চেয়ে অনেক বেশী সাবলীল বলিষ্ঠ ঋজু এবং গোছানো, যদিও গত এক শতকে ইংরেজী গদ্য বিশেষত প্রবন্ধ নিবন্ধজাতীয় লেখায় গদ্যের ব্যবহারে ভিন্নতা এসেছে কিন্তু একটানা যতিচিহ্নবিহীন জটিল বাক্যের এক ধরণের মোহ আছে, কিছুটা সময় লাগে অভ্যস্ত হতে কিন্তু একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে গদ্যের মজাটা উপলব্ধি করা যায়।

বিশ্বজিতের লাশ মরেও রেহাই পাচ্ছে না।

বিশ্বজিতের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের উপরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাক এবং অন্যান্য কোনো পত্রিকাও হয়তো এই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারে।

দৈনিক মানবজমিনের প্রতিবেদনের শিরোণাম ছিলো " চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ"

দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনের শিরোণাম "ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মাত্র দুটি আঘাতের চিহ্ন!:

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের শিরোণাম " বিশ্বজিতের শরীরে কোপের চিহ্ন নেই!
ময়না তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন
"

দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদনের শিরোণাম " বিএনপিকর্মী ভেবে ভুলবশত বিশ্বজিৎকে হত্যা"

জয়নব

মাঝরাতে দরজায় কে ধাক্কা দিচ্ছে এমন জোরে জোরে? ফাগুনের মাঝামাঝি কিন্তু ঠিকই সন্ধ্যা নামলে জারের চাদর মোলায়েম বিছিয়ে থাকে চারপাশে আর ফিনফিনে মশারীর মতো কুয়াশা ঢেকে রাখে চারপাশে। কুপির আলো উসকে জয়নাব বিছানা ছাড়ে, মিলের চাদরটা জড়িয়ে বারান্দায় থামে, শব্দটা আবার পায়, ঠিকই কেউ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।

জয়নাব ত্রস্ত গলায় হাঁক দেয় কে?
আমি, দরজা খুল।
এই সময় তো তার আসবার কথা না, জয়নাব নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করে আপনি?
হ্যাঁ, এখন দরজাটা খুল।
জয়নাব পাখীর মতো উড়ে উড়ে দরজার দিকে গেলো যেনো। দরজা খুলে মানুষটাকে অবাক হয়ে দেখে জয়নাব, চোখে প্রশ্ন
শহরের অবস্থা খারাপ রে বৌ, সব বন্ধ, হাতে কাজ নাই তাই চলে আসলাম বাসায়
দাঁড়ান আপনাকে পানি গরম করে দেই, এত রাইতে আবার কলঘরে যান ক্যান? এই রাইতে ঠান্ডাপ ানিতে গোসল করে একটা জ্বর বাধান আর কি তারপর যমে মানুষে টানাটানি হউক। আপনি দাঁড়ান আমি চুলাটাতে এক হাঁড়ি পানি বসায় আসতেছি।

পতাকা

ছাদে ওঠার সিঁড়িটার মাঝপথে দাঁড়িয়ে আয়েশা বিষন্ন দৃষ্টিতে দেখছে পতাকাটাকে, দুরের আকাশে কালো ধোঁয়া তখনও পাঁক খেতে খেতে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তে আঁকা বাংলাদেশের আকাশে ঘরপোড়া কালো ধোঁয়া, কাল সারারাত গুলির শব্দ, মানুষের চিৎকার, কান্না বিলাপের শব্দে কারো ঘুম আসে নি ঠিকমতো, পুরোনো ঢাকার গলির ভেতরে উদভ্রান্ত মানুষের দৌড়ে পালানোর শব্দ আর দুরাগত বিলাপের ভেতরে না ঘুমানো চোখে আলোটা বালির মতো কিচকিচ করছে।
সাতটা থেকেই মাইকিং শুরু হয়েছে, ইংরেজী, উর্দু আর উর্দু উচ্চারণের বাংলায় ফরমান জারি হয়েছে, এখন থেকে কোনো বাসায় বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা গেলে সেটা সামরিক আইন বিধিভঙ্গ করবে। যার যার বাসার ছাদ থেকে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে, এমন কি কালো পতাকার জন্যেও একই নিয়ম। কোনো রাস্তায় ব্যারিকেড থাকতে পারবে না, যে মহল্লায় ব্যারিকেড দেখা যাবে ব্যারিকেডের আশেপাশের ১০০ গজ দুরত্বের সকল বাসার মানুষ সামরিক বিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবে।

জরায়ুর জখম

ব্যাক্তিগত অনুভব অধিকাংশ সময়ই আমাদের ভাবনা আর বিচার বিশ্লেষণকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, প্রাপ্য কিংবা উপযুক্ত পর্যালোচনা কিংবা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না বক্তব্যগুলো। সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন পিতার কর্মকান্ডে বিতর্কিত হওয়ার আগেই নিজগুণে বিতর্কিত হয়েছেন, তার পরিচালনায় নির্মিত মেহেরজান ছবির মাণের বিষয়ে অনেকের অনেক ধরণের বক্তব্য ছিলো, তিনি নিজের ছবি তৈরির বিষয়বস্তু নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাসে নিজের বুৎপত্তি প্রমাণের জন্য তার স্নাতকোত্তর গবেষণানিবন্ধও পেশ করেছিলেন বিজ্ঞজনের বিবেচনার জন্য।

আমার কিছুই মনে নাই, মনে থাকে না

মফস্বলের নিস্তব্ধ দুপুরে যখন মহল্লার মাঠে গাছের ছায়াগুলোও অলস ভাতঘুমে আচ্ছন্ন সে সময়ে দুপুরের নিস্তব্ধতা ছিন্ন করে শোনা যেতো মাইকের শব্দ

"ভাইসব ভাইসব"

আমরা জানতাম এই শব্দ দু:সংবাদ বয়ে নিয়ে আসে।
এভাবেই মফ:স্বলের নিস্তরঙ্গ একটানা জীবনে কারো না কারো মৃত্যু সংবাদ ঘোষিত হয়, বড়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতো বড় ভালো মানুষ ছিলেন, পরিবারের মহিলারা শাড়ী ঢাকা রিকশা চেপে মাইয়াত বাড়ী যেতেন সান্তনা দিতে, অনেক দিন পর একটা উপলক্ষ্য পেয়ে পুরোনো দিনের গল্পে মেতে উঠতে পারতেন তারা।

সে শহরে নতুন মানুষেরা আসতো না এমন না, প্রয়শ:ই নতুন কোনো সরকারী কর্মকর্তা আসতেন, তবে শহরের জীবনে তাদের উপস্থিতি ততটা দৃশ্যমান ছিলো না, সরকারী স্কুলের ছাত্ররা জানতো নতুন সহপাঠী এসেছে ,তাদের সাথে সামান্য বন্ধুতাও হয়ে যেতো কারো কারো, পুরোনো ছাত্রদের র‌্যাগিং এবং ক্ষমতার দাপট সামলে তারা কাটিয়ে দিতো আরও কয়েক বছর, তাদের বাবারা বদলি হয়ে গেলে তারাও হারিয়ে যেতো, কিন্তু মোটের উপরে শহরের গোটাকয় সরকারী যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত মানুষের বাইরে এদের উপস্থিতি ছিলোই না কোথাও

ভ্রান্ত নায়ক

"আমি তো আসল হিরো চিনি, আমি তো জানি কার শরীরে রক্ত ভাঙা ঘামের গন্ধ, কার চেহারায় ত্যাগ লেখা আছে, আমাকে ধুন-ফুন বুঝায়া তো লাভ নাই।"

এবার দিনাজপুরে

অনেক অনেক দিন পর দিনাজপুর গেলাম এবার। প্রতিবারই শহরের চেহারা বদলায়, আশৈশবের পরিচিত শহরটাকে নতুন স্থাপত্যের চাকচিক্যে অচেনা লাগে, পরিচিত সকলের চেহারায় সময় তার আঁচড় রেখেছে, জানি আমার চেহারাতেও সময় তার ছাপ রাখছে তবু মনে মনে এখনও আমি সেই কৈশোরেই আটকে আছি। বন্ধুদের পরিবার বড় হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুল আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গল্পের ফাঁকে নিজেদের স্কুল কলেজের গল্পও উঠে আসে সময় সময়।

আমাদের ঐতিহ্যময় শিক্ষাব্যবস্থা

অ্যান জেরাল্ডাইন স্টক ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে যোগ দেন। তিনি যে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন সে সময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভবিষ্যত দার্শণিক সংকটগুলোর চারা জন্মাচ্ছে আমলাতন্ত্রে, সেই চারা পরবর্তীতে শেকড়ে বাকলে বেড়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাবনার সাথে এতটাই সাংঘর্ষিক হয়ে যায় পরিণতিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র মৃত্যুবরণ করে। এ জি স্টকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সময়কালীন স্মৃতিকথা মুলত গোরখননের দিনলিপি। মোবাশ্বেরা খানমের অনুবাদ যথার্থই অনুবাদ কখনও তিনি পাঠককে এ সত্য বিস্মৃত হতে দেন না। মূলানুগ আক্ষরিক অনুবাদ সম্ভবত তার প্রাক্তন শিক্ষিকার প্রতি তার নৈবদ্য কিন্তু তার শিক্ষিকার রচনায় যেটুকু কাব্যময়তা ছিলো তা সুনিপূন হাতে হত্যা করে তিনি সবটুকুই গদ্যায়িত করতে পেরেছেন। ফলে বর্ণনায় এক ধরণের আখের ছোবরা চোষার অনুভুতি পাওয়া যায়। তবে একজন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, একজন পাঠ্যক্রম নির্দেশনার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এবং একই সাথে তার অতীত কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকে তিনি বাংলাদেশ কিংবা সার্বজনিন শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষা বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটার খোঁচা অস্বীকার করতে পারলাম না। ব

আমি ও আমরা

আমরা প্রত্যেকেই সময়ে অসময়ে আত্মহত্যা করতে চাই কিন্তু আত্মহত্যার সাহস আমাদের থাকে না। বিদ্যমান লড়াই এবং ক্রমাগত সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাড়ায় ক্লান্ত আমরা এক এক সময়ে চাই এইসব কিছু ভুলে নিরুদ্বেগ সময় কাটাতে- অপরিসীম সময়ের ক্ষত নিয়ে আমরা সব ভুলে যেতে চাই, ঘড়ির কাঁটার মতো দিশা ঠিক রেখে সময়ের কাঁটায় বিক্ষত হতে হতে আমরা মূলত স্মৃতিবিস্মৃত হতে চাই, চাই পাগল হয়ে যেতে।

তবে আমাদের সবাই পাগল হতে পারে না, আমাদের সবাই আত্মহত্যার সাহস পায় না। আশ্চর্য হলো কেউ পাগল হয়ে গেলে আমরা সহানুভুতি কিংবা করুনা অনুভব করি- আমরা জানি আমাদের এই টিক টিক কাঁটা মেনে চলা জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেলেও সে আসলে অনেকটা নিজের কারাগারেই বন্দী। তার এই নিরুদ্বেগ আসলে এক ধরণের ছদ্মমুক্তির আনন্দ, তার জন্য সহানুভুতিটুকুই বরাদ্দ কারন যে নিজের ভেতরেই বন্দী হয়ে আছে। টিটকারি, জনগণের ধাওয়া আর থুতুর জীবনের প্রতি ভীতি থেকে আমরা নিজের মানসিক অবসাদের সাথে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাই কিন্তু কেউ আত্মহত্যা করলে আমরা মনে মনে আফসোস করি, ভাবি তার মতো সাহস যদি আমাদের হতো। আমরা মুখে সমবেদনা নিয়ে তাকিয়ে থাকলেও মনে মনে ইর্ষা করি তাকে।