ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

ফেমিন

অনেক আগে সেক্স ট্রাফিকিং এর উপরে একটা ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম, কিভাবে নারী পাচার হচ্ছে, কিভাবে তারা প্রলোভনে উন্নত জীবনযাপনের প্রত্যাশায় বৈধ কিংবা চোরাই পথে রাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করে যৌনসেবাদাসীতে পরিণত হচ্ছে, তাদের দেশে ফেরার পথ নেই, কয়েকবার হাত বদল হয়ে তারা চলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কিংবা ভারতে কিংবা ইউরোপের অন্যান্য দেশে এবং সেখানেই দেহের বিনিময়ে নিজের মুক্তিপন পেতে মরীয়া নারীরা মৃত্যু বরণ করছে।

Our God is woman, our mission is protest, our weapons are bare breasts!

euro-2012-countdown-clock-protest-reuters.jpg

ঋকের জন্মদিন

ঘড়ি ধরে দেখবে, যদি দুইটা ব্যাথার মাঝের সময়ের ব্যবধানটা ৫ মিনিটের কম হয় আর যদি চাপটা ১ মিনিটের বেশী সময় থাকে তাহলে সোজা হাসপাতালে চলে আসবে- ডাক্তার ফোন নাম্বারও দিয়েছিলো, যেকোনো জরুরী মুহূর্তে ফোন করার জন্য, প্রথম বার যারা বাবা-মা হবেন তাদের জন্য উপদেশ হাসপাতালে যাওয়ার ব্যাগটা আগেই গুছিয়ে রাখবেন-

মোবাইলের ঘড়ি ধরে ব্যাথার সময়সূচি মাপছি, ব্যাগ গুছিয়ে রাখা হয় নি, যেকোনো সময় গাড়ী লাগবে, পরিচিত সবাইকেই বলে রেখেছি, দিনে-রাতে যেকোনো সময় গাড়ীর দরকার হলে ফোন করবে বন্ধুরা সবাই এমনই নিশ্চয়তা দিয়েছে।
আমাদের প্রতিবেশী নেপালের ছেলে মেঘ নিরুলাকে রাত ৪টায় ফোন দিয়ে দিনটা শুরু করেছিলাম।

বেবী ইজ রেডী টু কাম? আই এম কামিং
মেঘের গাড়ীতে চড়ে কয়েক মাইল দুরের হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকেই অপেক্ষার শুরু,

বিধি-বন্দোবস্ত চমৎকার, সাথে সাথেইএকটা লেবার রুম পাওয়া গেলো, সেখানে বিছানা, মনিটর, মনিটরের সাথে অনেকগুলো তার- দুইটা মনিটরের একটাতে বাচ্চার হার্টবীট, মায়ের ব্লাড প্রেশার, মায়ের হার্ট বীট আর তামপাত্রা দেখাচ্ছে অন্য মনিটরে ব্যাথার পরিমাণ মাপছে

জীবনযাপন

মাঝে মাঝে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না, কোনো কারণ ছাড়াই মনটা উদাস হয়ে থাকে, বিশেষ করে একটু রাতে যখন রাস্তায় একা, বিস্তর জ্যাম ঠেলে,বিভিন্ন মানুষের ধাক্কা খেয়ে বাসায় ফিরতে হয়, মনে হয় কি প্রয়োজন এই হুজ্জতি করে বাসা ফেরার, এরচেয়ে বরং কোনো অজানা বাসে চড়ে কোথাও চলে যাই,একটু নির্জন একটু কম ঝঞ্ঝাট যেখানে- কয়েকটা দিন কোলাহলবিহীন কাটিয়ে আসতে পারলে মন্দ হয় না।

বাসা যাওয়ার সিএনজি খুঁজছি, হাতে সিগারেট, বাসটা দেখেই সিগারেট ছুড়ে হুট করেই চলন্ত বাসের হাতল ধরে ঝুলে পরলাম, পাদানিতে একপা আর হাতলে এক হাত, বাকী শরীরটা শূণ্যে ভাসছে, বাসের ড্রাইভার কড়া চোখে তাকিয়ে আছে,কন্ডাকটরও দাঁড়িয়ে আছে, নিজেকে সামলে দুটো পা'ই পাদানিতে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ড্রাইভার বললো কই যাইবেন আপনে?

আমি বাসের পাশে লেখা গন্তব্যের নাম দেখে বললাম ধানমন্ডি-
এইটা ধানমন্ডি যাইবো না, যাইবো রায়েরবাগ, না জিগায়া এমন উঠলেন ক্যান?

স্মৃতিচারণ

একটা সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আলাদা কদর ছিলো, এইচএসসিতে পাশের হার ছিলো ৩৩ এর আশেপাশে, অসংখ্য ছাত্র একবারে এইসএসসি পাস করতে পারলেই আনন্দ আটখানা হয়ে যেতো, সে সময়ে গ্রামে-গঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামটা শুনলেই লোকজন একটু আলাদা চোখে দেখতো- যদিও আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পেছনে এসব কোনো কারণই ছিলো না। পরিচিত বিভিন্ন ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা যেহেতু মেডিক্যাল বুয়েটে ঢুকে গেছে সুতরাং তাদের সাথে আজীবন তুল্য হওয়ার যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে চাওয়ার তাড়নাটা একটা বড় অনুপ্রেরণা ছিলো।

বিভিন্ন রকম হিসাব কষে অতীত উদাহরণ ঘেঁটে বুঝলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হতে হলে আমাকে ভর্তিপরীক্ষায় ৬০ এর কাছাকাছি নাম্বার পেতে হবে- সেটাই আমার বেঞ্চমার্ক- এর বেশী পেলে যেকোনো সাব্জেক্টে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবো, তবে কম পেলে টানাটানি পরে যাবে। সুতরাং কোচিং এর বাদলে কিভাবে ১০০তে ৬০ পাওয়া যাবে সেটা নির্ধারণ করাটা এক ধরণের কর্তব্যে পরিণত হলো।

রান্না রান্না

সম্ভবত ৩ বছরের বেশী সময় পরে আজকে রান্না করলাম, শেষ বার কোন এক ঈদে অনেক যত্ন করে মুরগীর হাড় রান্না করেছিলাম, যদিও এরপরে আর আম্মাকে জিজ্ঞাসা করা হয় নি, কেনো এত যত্ন করে মাংস কেটে হাড় সাজিয়ে রেখে দিয়েছিলো ফ্রিজে? প্রায় ১ ঘন্টা পরিশ্রম করে রান্না করা মুরগীর হাড় খেতে পারি নি, ঈদের দিন ডিনার করেছিলাম বিএফসির চিকেন আর বান দিয়ে।

আমার রান্না ঘরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় বাসার লোকজন চলে গেলে, একা বাসায় ফ্রিজে রাখা রান্না খেয়ে চমৎকার চলে যায়, কিন্তু বসে বসে খেলে রাজার ভান্ডারও শেষ হয়ে যায় একদিন, ফ্রিজের জমানো রান্নাও শেষ হয়, সব চিল ঘরে ফিরে আর আমি ঘর থেকে রান্না ঘরে যাই। আমার রান্না করতে খুব একটা খারাপ লাগে না, শুধু যদি কেউ কেটে-বেছে দেয় আমি আগ্রহের সাথে রান্না করতে রাজী- শুধু এই পিয়াজ মরিচ কাটা, সবজি কাটা- মাংসা কাটা কুটা আমার পছন্দ না।

আধুনিক জীবনযাপ্ন ০১

এভাবেই চক্র পূর্ণ হয়, তুমি সন্তান হিসেবে জন্মেছিলে, পৃথিবীর রং-রূপ-রসআস্বাদন করে তুমিও যুবক হবে- তোমার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য বহন করছো তুমি, তোমারও সন্তান হবে- আবারও নতুন চক্রের শুরু হবে- এ চক্রের শেষ নেই।

এই কথাগুলো অতীতে কেউ না কেউ বলে গেছে আমি নিশ্চিত- যেকোনো ধর্মগ্রন্থে কিংবা তার ব্যাখ্যায় কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণের চক্রের বর্ণনায় এটা উদ্ধৃত হয়েছে নিশ্চিত ভাবেই- পৃথিবীতে নতুন কিছুই ঘটে না, অতীত পুনরাবৃত হয়। কোথায় পড়েছি, শুনেছি মনে নেই বলে উদ্ধৃতি হিসেবে দেওয়া সম্ভব হলো না।

আমরাও অতীতে ফিরে যাচ্ছি, আহারে- আভুষণে- অলংকারে আমাদের অতীতচারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদিন। অনেক দিন পরে বিজ্ঞান আবিস্কার করছে অতীতের জীবনযাপনপদ্ধতি অনেক বেশী স্বাস্থ্যসম্মত ছিলো, অতীতে নিতান্ত বাধ্য হয়েই মানুষেরা যেমন জীবনযাপন করতো সে জীবনযাপনে ফিরে যেতে আমাদের দিস্তা দিস্তা কাগজ ক্ষয় করতে হয়েছে- কাউকে না কাউকে গবেষণা করে বলতে হয়েছে আমাদের জীবনযাপন অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।

দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর

সময়, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলায়, আমাদের অনুভুতি অসার হয়ে যায়, বিশেষত আমরা যারা বড় হয়ে গেছি, যাদের নিয়মিত নিজের ধান্দায় ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন পথে অন্য অসংখ্য মানুষের সাথে বিভিন্ন ধরণের লেনদেন করতে হয়, তাদের অনুভুতি ভোঁতা হয়ে যায় সময়ের সাথে।

পথের কোনো দৃশ্যই আকৃষ্ট করে না, পথের কোনো মুখই খেয়াল থাকে না, সকালে ঘরের দরজা খুলে বের হওয়ার পর মাথায় একটাই চিন্তা থাকে, কখন জেলখানায় পৌঁছে নিজের ধান্দাবাজি শুরু হবে- গতরাতে বৃষ্ট হয়েছে, আজ রাস্তায় পানি জমে থাকবে- সাবধানে হাঁটতে হবে- গলিতে পানি জমলে বড় রাস্তায় যেতে বাড়তি রিকশা ভাড়া গুণতে হবে- সকল অনুভুতি একেবারে মানিব্যাগের ভেতরে ঢুকানো। হঠাৎ বাতাসে গন্ধ ভেসে আসলে আর হঠাৎ গাছের পাতা খসে পরলে বুঝি ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে গেছে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ- কোনো ঋতুই আসলে আলাদা কোনো তাৎপর্য বহন করে না, শুক্রবার সকালের ঘুমের বাইরে কোন বিনোদন নেই- এ জীবন নতুন কিছুকে জায়গা করে দেয় সহজেই, নিজের জায়গাটুকু সংকুচিত হলে একটু ভাঁজ খেয়ে নতুন করে আত্মসমাধিত হয়, এবং নিজের ভেতরেই ডুবে থাকে দিবানিশি।

ইতিহাসবোধ

ইতিহাসবিদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা তিনি তথ্যকে পূর্বানুমান এবং যুক্তিকে আবেগের আগে স্থান দিবেন- বাংলাদেশে সে প্রত্যাশা অধিকাংশ সময়ই পূর্ণ হয় নি, হয়তো বাঙালি অত্যাধিক আবেগী কিংবা নিরাবেগ যৌক্তিকতায় অভ্যস্ত নয় তারা। দীর্ঘ গবেষণার ঐতিহ্য না থাকলেও ভাববাদী বিশ্লেষণের দীর্ঘ অতীত এ সভ্যতার অংশ।

ব্যক্তিগত অহং এখানে প্রকাশিত সত্যের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, ইতিহাস অধিকাংশ সময়ই আবেগ, অহং, পূর্বানুমানের পিচ্ছিল পথে পথ হারিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ান হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত উপলব্ধির সাথে তথ্যের সুষম সংমিশ্রন হয়তো স্বচ্ছ ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়ক হতে পারতো কিন্তু আবেগে ঘোলা চোখ অধিকাংশ সময়ই সেইসব দিকচহ্নকে পাঠ করতে পারে না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত-ভবিষ্যত-বর্তমান

ইংরেজগণ আমাদের সভ্য করেছে না কি আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে কেরানী তৈরির উপযুক্ত শিক্ষানীতি চাপিয়ে দিয়েছে আমাদের উপরে সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়তো সম্ভব হবে না, অন্তত আমার পক্ষে এ বিষয়ে তেমন সিদ্ধান্তমূলক কিছু ব্যক্ত করা সম্ভব না।

রাষ্ট্রের শিক্ষাবিস্তারের নিজস্ব তাগিদ থাকে- নিজস্ব প্রয়োজনেই এক ধরণের অলিখিত শিক্ষানীতি তারা অনুসরণ করেন- প্রাগৈতিহাসিক বিবরণ দেওয়ার অক্ষমতা মেনে নিয়েই বলছি হয়তো এখন থেকে দুই হাজার বছর আগেও উপমহাদেশে বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব ছিলো । মুনি-ঋষি- স্মার্ত-বৈয়াকরণিক-নৈয়ায়িক-বেদি-দ্বিবেদী-ত্রিবেদী-চতুর্বেদী-ভট্টাচার্য-শংকরাচার্য বিভিন্ন উপাধি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মাণ হয় একদা শিক্ষাদান এক ধরণের সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত ছিলো-

ক্ষ্যাপ ০২

ব্যাক টু দি প্যাভেলিয়ন বলা যায় এটাকে কিংবা এক ধরণের পরাজয়ও, দিনাজপুরে কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় কিছুটা অসস্তি ছিলো, মহল্লার খেলার মাঠ সংকুচিত হতে হতে এমন একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে প্লাস্টিকের বলে ক্রিকেট খেলা সম্ভব, মোটামুটি সবাই নিজের নিজের ধান্দায় ব্যস্ত, এর ভেতরে একেবারে নতুন করে নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার ধাক্কাটা তেমন লাগে নি, কলেজে পরিচিত মানুষ কম নেই কিন্তু তাদেরও নিজস্ব পরিচিত গন্ডী আছে আর আমার অন্তর্মুখীতা বন্ধুত্বউপযোগী তেমন কিছু না। কলেজের পেছনের বেঞ্চে বসি, ক্লাশ শেষ হয়, হেঁটে হেঁটে দুরের ক্যান্টিনে গিয়ে সিগারেট টানি কিংবা শহরের উপকণ্ঠে যেটুকু গ্রাম্য আবহাওয়া সেখানে সময় কাটাই। রাতে বাসায় থাকি না, গভীর রাতে দিনাজপুর শহরের রাস্তায় হাঁটতে যাই, স্টেশন, হাসপাতাল মোড়, স্টেশন, রেললাইন, বাসা এভাবে ফিরতে ফিরতে রাত ২টা ,৩টা।

ক্ষ্যাপ ০২

উন্নত মানের শিক্ষা প্রদানের পারিবারিক চাপের কারণে ঢাকায় চলে না আসলে হয়তো দিনাজপুরের অলিতে গলিতে ক্রিকেট ফুটবল খেলে কোনোমতে জীবনটা আনন্দে কেটে যেতো- মহল্লার প্রথা মেনে প্রায় পারিবারিক হয়ে ওঠা রাজবাড়ী ক্রিকেট ক্লাবের হয়েও দিনাজপুরের লীগ ম্যাচও খেলা হতো- কিন্তু গুরুজনদের আগ্রহে ঢাকা চলে আসলাম। রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ এখন পর্যন্ত সার্বিক সুবিধা বিবেচনায় ঢাকা শহরের সেরা স্কুল আর কলেজ, ১৩টা ফুটলব মাঠ, একটা ক্রিকেট মাঠ, দুটো বাস্কেট বল কোর্ট, অডিটোরিয়াম সব মিলিয়ে বেশ চমৎকার জায়গা। হোস্টেলের নিয়ম কানুন এবং প্রায় অপরিচিত মানুষজনকে বাদ দিলে হয়তো খুব চমৎকার সময় কাটতো ওখানে।

পাঠ প্রতিক্রিয়া- সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে।

মোস্তাক শরীফের সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে পড়া শেষ করলাম, কিছু কিছু গল্প এক ঘন্টার নাটক হওয়ার সম্ভবনা রাখে- এ উপন্যাসটিও সে ধাঁচেরই। হালকা দু:খ, হালকা বিষাদ, হালকা প্রেম, হালকা জীবনবোধ, হালকা চটুলতা আর হালকা দার্শণিকতা, সব মিলিয়ে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবার সব গুণই এই উপন্যাসের আছে।

ক্ষ্যাপ ০১

জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে বিশ্বের অন্য কোথাও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাংলাদেশের আমজনতার কাছে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বহীন। পরিজন, মহল্লা, গ্রামের সীমান্ত পার হলে বড় জোর জেলাপর্যায় পর্যন্ত এই জাতীয়তাবাদ টিকে থাকে, অনেকাংশেই আঞ্চলিকতাবাদের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেতে পারে নি। পীচ ঢাকা রাজপথ, রেললাইন, বিভিন্ন সেতু গ্রাম আর শহরের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে ফেললেও আমাদের শৈশবে বাংলাদেশ নদীঅবরুদ্ধই ছিলো, সেই দুরে ইশ্বরদীতে পাকশী সেতু, সেখান দিয়ে যশোর খুলনা কুষ্টিয়া, ফুলবাড়ী স্টেশনে নেমে সেই মেইল ট্রেইন, এর বাইরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সবই অগম্য দুস্তর পারাবার।

ক্ষ্যাপ

ঢাকা শহরে আমার ক্রিকেটে হাতেখড়ি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চুড়ান্ত সময়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলন নিহত হওয়ার পর হুট করেই স্কুল বন্ধ, হোস্টেল থেকে হাটখোলায়, অভিসার সিনেমা হলের পাশের গলিতে, সেখানেই হরতালের দিন ক্রিকেটে হাতেখড়ি হলো। তখন বোলিং একশন ছিলো চুড়ান্ত রকমের বাজে, বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় মাটিতে পা লেগে থাকতো, খালি পায়ে ৩ ওভার বোলিং করে রক্তাক্ত পা নিয়ে ফিরে আসলাম। এক সপ্তাহের বেশী আনন্দ স্থায়ী হলো না, এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর হেঁটে হেঁটে প্রেসক্লাবে গিয়ে দেখলাম একটা বিল্ডিং খুলে নিয়ে চলে গেছে উন্মত্ত জনতা। স্কুল-কলেজ শেষ করে পুনরায় ঢাকা আসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষা দিতে, ধুপখোলা মাঠে, ততদিনে বোলিং একশন বদলেছে, পায়ে ঘষা লেগে লেগে বেশ কয়েকবার পা কাটবার পর আমি পপিং ক্রীজের আগেই লাফানো শুরু করেছি, পরে সেটাও বদলে ফেলেছি কোনো একভাবে।

এমনও হয় মাঝে মাঝে

আমি বেশ বিরক্ত হলাম
একটা লেখার জন্য প্রায় ২ ঘন্টা নষ্ট করে যখন শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করুন বাটনে চাপ দিলাম

এক্সেস ডিনাইড
লেখাটা পুনরায় আগের মতো লেখা সম্ভব না, অবশ্য সাইটে এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, বেশ আয়োজন করে সময় নিয়ে লিখলে দুটো সমস্যা হয়

অটো লগ আউট করে দেয় সিস্টেম- সিস্টেমের কোনো সমস্যা থাকতেই পারে

কিংবা লেখাটা ফাঁকে ফোঁকরে হারিয়ে যায়। কোনো অটো সেভ অপশন নাই- একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর লেখা নিজের মতো সংরক্ষণ হওয়ার সুবিধাটা নাই।

এইখানে ড্রাফটের সুযোগ নাই- লেখা অপ্রকাশিত রাখার সুবিধা আছে- প্রাইভেট করে রাখার সুবিধা আছে-

কিন্তু সেসব দিয়ে তেমন সমস্যার সমাধান হয় না।

হয়তো পরবর্তী কোনো দিন এই বিষয়ে লেখাটা আবার লিখবো- আজকে আবার সেই পরিশ্রম করার ক্ষমতা নাই আমার।