ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

পাঠ প্রতিক্রিয়া- সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে।

মোস্তাক শরীফের সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে পড়া শেষ করলাম, কিছু কিছু গল্প এক ঘন্টার নাটক হওয়ার সম্ভবনা রাখে- এ উপন্যাসটিও সে ধাঁচেরই। হালকা দু:খ, হালকা বিষাদ, হালকা প্রেম, হালকা জীবনবোধ, হালকা চটুলতা আর হালকা দার্শণিকতা, সব মিলিয়ে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবার সব গুণই এই উপন্যাসের আছে।

ক্ষ্যাপ ০১

জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে বিশ্বের অন্য কোথাও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাংলাদেশের আমজনতার কাছে জাতীয়তাবাদ গুরুত্বহীন। পরিজন, মহল্লা, গ্রামের সীমান্ত পার হলে বড় জোর জেলাপর্যায় পর্যন্ত এই জাতীয়তাবাদ টিকে থাকে, অনেকাংশেই আঞ্চলিকতাবাদের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেতে পারে নি। পীচ ঢাকা রাজপথ, রেললাইন, বিভিন্ন সেতু গ্রাম আর শহরের ব্যবধান ঘুঁচিয়ে ফেললেও আমাদের শৈশবে বাংলাদেশ নদীঅবরুদ্ধই ছিলো, সেই দুরে ইশ্বরদীতে পাকশী সেতু, সেখান দিয়ে যশোর খুলনা কুষ্টিয়া, ফুলবাড়ী স্টেশনে নেমে সেই মেইল ট্রেইন, এর বাইরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সবই অগম্য দুস্তর পারাবার।

ক্ষ্যাপ

ঢাকা শহরে আমার ক্রিকেটে হাতেখড়ি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চুড়ান্ত সময়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলন নিহত হওয়ার পর হুট করেই স্কুল বন্ধ, হোস্টেল থেকে হাটখোলায়, অভিসার সিনেমা হলের পাশের গলিতে, সেখানেই হরতালের দিন ক্রিকেটে হাতেখড়ি হলো। তখন বোলিং একশন ছিলো চুড়ান্ত রকমের বাজে, বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় মাটিতে পা লেগে থাকতো, খালি পায়ে ৩ ওভার বোলিং করে রক্তাক্ত পা নিয়ে ফিরে আসলাম। এক সপ্তাহের বেশী আনন্দ স্থায়ী হলো না, এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর হেঁটে হেঁটে প্রেসক্লাবে গিয়ে দেখলাম একটা বিল্ডিং খুলে নিয়ে চলে গেছে উন্মত্ত জনতা। স্কুল-কলেজ শেষ করে পুনরায় ঢাকা আসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষা দিতে, ধুপখোলা মাঠে, ততদিনে বোলিং একশন বদলেছে, পায়ে ঘষা লেগে লেগে বেশ কয়েকবার পা কাটবার পর আমি পপিং ক্রীজের আগেই লাফানো শুরু করেছি, পরে সেটাও বদলে ফেলেছি কোনো একভাবে।

এমনও হয় মাঝে মাঝে

আমি বেশ বিরক্ত হলাম
একটা লেখার জন্য প্রায় ২ ঘন্টা নষ্ট করে যখন শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করুন বাটনে চাপ দিলাম

এক্সেস ডিনাইড
লেখাটা পুনরায় আগের মতো লেখা সম্ভব না, অবশ্য সাইটে এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, বেশ আয়োজন করে সময় নিয়ে লিখলে দুটো সমস্যা হয়

অটো লগ আউট করে দেয় সিস্টেম- সিস্টেমের কোনো সমস্যা থাকতেই পারে

কিংবা লেখাটা ফাঁকে ফোঁকরে হারিয়ে যায়। কোনো অটো সেভ অপশন নাই- একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর লেখা নিজের মতো সংরক্ষণ হওয়ার সুবিধাটা নাই।

এইখানে ড্রাফটের সুযোগ নাই- লেখা অপ্রকাশিত রাখার সুবিধা আছে- প্রাইভেট করে রাখার সুবিধা আছে-

কিন্তু সেসব দিয়ে তেমন সমস্যার সমাধান হয় না।

হয়তো পরবর্তী কোনো দিন এই বিষয়ে লেখাটা আবার লিখবো- আজকে আবার সেই পরিশ্রম করার ক্ষমতা নাই আমার।

সোহেল ভাই ০১৮

আচমকাই মঙ্গলবার দুপুরে দেখলাম সোহেল ভাইকে গটগট করে হাঁটছেন গলিতে- এমন সময় তো সোহেল ভাইয়ের থাকবার কথা না, সোহেল ভাই অনেক কিছুই করেন কিন্তু তার পাঙ্কচুয়ালিটির কদর আছে, তিনি সময়ের কাজ সময়ে করেন, গাফিলতি করেন না তেমন। মঙ্গলবারের আশেপাশে কোনো সরকারী ছুটি নেই- হতে পারে সোহেল ভাইয়ের মতো অন্য কাউকে দেখলাম। তেমন পাত্তা না দিয়ে চলে গেলাম বাসায়।

ইদানিং বিকেলগুলোতে নিয়মিত আড্ডা হচ্ছে না, অফিসপাড়ায়- বিভিন্ন অফিসের রিসেপশনে, চাকুরি নিয়োগ পরীক্ষার পড়া পড়তে পড়তে দিন যাচ্ছে। সন্ধ্যায় গা ম্যাজম্যাজ করলে একটু ময়না ভাইয়ের দোকানে এসে এলাকার হাওয়া বুঝে ঘরের পাখী ঘরে ফিরে যাই। ময়না ভাইকে একটা চায়ের কথা বলে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সোহেল ভাইকে

আররে সোহেল ভাই আপনি এই সময়ে?

কবিতার আস্তাবল ০৩

এটাকে অনায়াসে বলা যায় একজন কবির চোখে বাংলাদেশ ২০০১ কিংবা বলতেও পারিস যদি কখনও অস্ত্র তুলে নেয় হাতে সে অস্ত্র গর্জাবে কোন বুকে-

প্রত্যেকেই জানে একজন কবির চোখ আর একজন রাজনৈতিকের চোখে পার্থক্য আছে, কবির চোখের আড়ালে থাকে স্বপ্নীল চশমা এবং যেকোনো দৃশ্যের গভীরে যায় তার চোখ, আর রাজনৈতিকের চোখে থাকে আদর্শের কবচ যা ভেদ করে কোনো দৃশ্যই নেতা দেখতে পারেন না। আর দু'জনের গন্তব্যেও আছে বিস্তর ফারাক।

একজন যা নিজের জন্য করেন তা হয়ে যায় সার্বজনীন আর অন্যজন তার সার্বজনীন তত্ত্বের বুলি কপচে যা করেন তা হয়ে যায় একান্তই ব্যক্তিবিলাস। কবি নামক লোকটা কখনও প্রতিষ্ঠা পান, কখনও পান না কিন্তু সকলেই তাকে চেনে আর এমন অনেকেই এদের মধ্যে আছে যাদের চেনে শুধুমাত্র ডাকপিওনের ঝুলির অসংখ্য হলুদ খাম

কবিতার আস্তাবল ০২

একুশ বছর বয়েস হয়তো আমাদের মাপে খুব বেশী সময় না কিন্তু এ বয়েসেই সুকান্ত তার কবিতাগুলো লিখে প্রকাশ করে যক্ষায় মরে গেছে একাকী, আরোগ্যনিকেতনে কিংবা গৃহকোণে কোথাও না কোথাও বসে বন্ধুকে লেখা সুকান্তের চিঠিতে সুকান্তের প্রেমের সংবাদ ছিলো। সুকান্ত বন্ধুকে লিখেছিলো প্রেমের পড়বার পর সে আর কখনও প্রেমের কবিতা লিখে নি। শুধু সমাজ বদলের কবিতাই লিখেছে সুকান্ত এমনটা হয়তো নয় কিন্তু তার কবিতাসমগ্র-রচনাসমগ্রের কোথাও প্রেম নেই, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ আর ভালোবাসা আছে, ভবিষ্যতের শিশুদের জন্য স্নেহ আছে, ব্যক্তিগত প্রেমের কবিতা তেমন নেই। হয়তো সেইসব কবিতার আড়ালে কোথাও প্রেম ছিলো, সেসব প্রেমময়তাকে তেমন প্রকাশযোগ্য বোধ করে নি সুকান্ত। বিখ্যাত হওয়ার অনেক সম্ভবনাই তৈরি হয়েছিলো কিন্তু নির্জনতার কবি হিসেবে পরিচিত জীবনানন্দের স্যুটকেস ঝেড়ে পুছে তার গল্প-কবিতা- উপন্যাস খুঁজে বের করতে যেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো সুকান্তের ক্ষে

কবিতার আস্তাবল -০১

এখন মনে নেই কোথায়, কোন কবির জবানীতে পড়েছিলাম কবিতা লেখা প্রাত্যকৃত্যের মতো নৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত করতে হয়, কবিতা হোক কিংবা না হোক নিয়ম করে প্রতিদিন স্কুলের হোমটাস্ক করার মতো কবিতা লিখতে বসতে হয়- এভাবে অভ্যস্ত হওয়ার পর দিব্যি কবিতা আসবে, আসতেই হবে। একটা সময় হোক কিংবা না হোক নিয়ম করে কবিতা লিখতে বসতাম, বিভিন্ন শব্দের আঁকিবুকি খেলতাম ডায়েরীর পাতায়। দৈনন্দিন জীবনে তেমন আশ্চর্যজনক কিছু ঘটতো না, সেই একই রকম জীবনযাপনের ফাঁকেফোঁকরে হয়তো হঠাৎ কারো প্রতি সামান্য প্রেমবোধ জাগ্রত হতো- কখনও অভিমান হতো, কখনও তীব্র আনন্দ- ক্ষুব্ধ হতাম, উচ্ছ্বসিত হতাম। ডায়েরীর পাতা সেসব অনুভবকে ধারণ করতো কোনো কোনো দিন, তবে অধিকাংশ ম্যারম্যারে দিনে নিছক শব্দজব্দ খেলবার মতো কবিতা লেখার প্রচেষ্টা-অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকতাম।

আমাদের সময়ের গান

জীবনমুখী গানের ধাক্কায় আমাদের গানের কাছে প্রত্যাশা বদলে গেলো, প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন ব্যান্ড আর তাদের এলবাম প্রকাশ নিয়ে চারু-পার্থ একটা র‌্যাপ গান করেছিলো , তবে সেটার প্রভাব শ্রোতাদের মানসিকতাকে তেমন পরিবর্তন করে নি সম্ভবত। আমাদের তারুণ্যে বাংলা গানের ধারাবাহিকতা বদলে দিলো সুমন-নচিকেতা-অঞ্জন।

রাধে শ্যাম

একদিন টিএসসির সামনে দাঁড়িয়ে আছি- বিকেল বেলা- এক অন্ধ গায়ক গান ধরলো দোতারা বাজিয়ে- তাতে সঙ্গত দিলো তার ছোটো ছেলে-একটা মিউজিক্যাল ফ্যামিলি বলা যায় তাদের সম্মিলনকে। স্ত্রী, কন্যা পূত্র এবং তিনি। এ চারজনের ব্যান্ড-

তিনি দোতারা বাজিয়ে গান ধরলেন
ও জীবন জীবন রে এ জীবন ছাড়িয়া রে গেলে আদর করবে কে জীবন রে।

পরিবেশের গুণে, কিংবা ছোটো ছেলেটার অত্যাধিক চড়া গলার স্কেলের কারণে গানটা মন স্পর্শ্ব করেছিলো- আমি গীটারে গান তুলতে পারতাম না, এখনও পারি না, কিন্তু চেষ্টা করে এই গানটা তুলতে পেরেছিলাম।

পরবর্তীতে অবশ্য নিজেও একটা লোকগীতি ধাঁচের গান লিখে সুর করে ফেললাম। লোকগীতির একটা ধুন আছে, গানের মাঝে কোথাও না কোথাও গায়কের কিংবা গীতিকারের পরিচিতি থাকে- এটা ছাড়াও হয়তো গান হয় কিন্তু ঐ পরিচিতিটা অনেকটা গানের উপরে নিজের জলছাপ বসানো।

বাজে বাঁশি বাজে বাঁশী দিবা নিশি সর্বনাশী

পুরোনো আক্ষেপ নতুন করে-

উত্তাল ১৯৭১, এপ্রিল থেকে জুলাই, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে শরনার্থী জীবনযাপন করছেন, ভারত যেকোনো মুহুর্তে হস্তক্ষেপ করবে, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু করবে- এই উচ্চাশাও ফিকে হয়ে গেছে ততদিনে। এ যুদ্ধ কতদিন চলবে তা কেউ তখনও বুঝতে পারছে না, সে সময় প্রবাসী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো শরনার্থী শিবিরে অসংখ্য শিশু আছে যাদের নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে গেলো যুদ্ধের কারণে, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা শরনার্থী শিবিরে শিক্ষার বন্দোবস্ত করা যায় কি না- মুস্তফা মনোয়ার সে সময় শরানার্থী শিবিরের শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।

গানের কথা

১৯৯৯ সালের দিকে কিংবা তার পর পরই হঠাৎ বৃষ্টি দেখানো হলো টেলিভিশনে, অবশ্য সে সময়ে হঠাৎ বৃষ্টি দেখার মতো ধৈর্য্য ছিলো না, দুপুরে কিংবা বিকেলের নির্ধারিত আড্ডা কিংবা খেলার কোনো একটাতে ব্যস্ত ছিলাম- এর পরের কোনো একদিন দুপুরে সোহেল বাসায় আসলো,
সোহেল কোনো এক অনির্ধারিত কারণে জিদ ধরেছিলো আমাকে গীটার শিখতে হবে, আমাকে দিয়ে না কি গীটার বাজানো হবে- ওর পরম উৎসাহেই আমি গুলশানের মেলোডি থেকে ২ হাজার টাকায় একটা গিভসন কিনে আনলাম, কিছু টুংটাংও করলাম, তবে উৎসাহে ভাটা পরতেও সময় লাগলো না। সোহেল উৎসাহ নিয়েই আমাকে গীটার লেসন দেয়, এসে রীতিমতো ঘাড়ে ধরে প্রাকটিস করায়- ঐদিনও ও আসছিলো গীটার লেসন বুঝে নিতে- বললো চল একটা ছবি দেখে আসি-

ঋকের প্রশ্নগুলো

১.
যে বয়েসে আমি একা একা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি ,মফ:স্বলে সে বয়েসে সম্ভবত সবাই বাসায়ই থাকতো, আমি গোঁ ধরেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ৪ পূর্ণ হওয়ার আগে, সে বয়েস থেকেই মহল্লার সব ছেলেদের সাথে হেলতে দুলতে স্কুলে চলে যেতাম, আমার বই প্রথম ভাগ, ইংরেজী প্রথম ভাগ আর গণিত ক্লাশের বাইরে তেমন কোনো ক্লাশ ছিলো না। সকাল ৮টায় ক্লাশ শুরু হওয়ার পর ১০টায় ছুটি, আবার হাঁটতে হাঁটতে দলবেধে বাসায় চলে আসা।

মফ:স্বলে সবকিছুই ছিলো ধীরগতির, মোটা আপা, শুকনা আপার ক্লাশের পর বাইরের তেঁতুলের চাটনি কিংবা চালতার আঁচার কাগজে নিয়ে চাটতে চাটতেই বাসার গেটে চলে আসতাম। রাস্তায় কয়েকটা রিকশা আর সাইকেল, স্কুলের পাশেই মসজিদ, মসজিদের সামনে লাইব্রেরী, সে জায়গাটুকু পার হলে পুলিশ সুপারের বাসভবন, সে বাসভবনের সামনে কয়েকটা কামারশালা আর ডাস্টবীন।

দেয়াল

বেশ কয়েক বছর আগে যখন প্রায় নি:সঙ্গ, সঙ্গী বলতে অন্তর্জালিক বন্ধু আর এলেমেলো ঘর, সে সময়ে হুট করে নিলামে কিনলাম গীটার। গীটার আর টিউনার কিনে মাঝে মাঝে গীটার বাজাই- পুরোনো আড্ডায় শোনা গানগুলো গাইতে চেষ্টা করি, একটা বিষয়ই বুঝলাম, আমাকে দিয়ে অন্য অনেক কিছুই হতে পারে কিন্তু গীটার বাজিয়ে গান গাওয়া সম্ভব হবে না, অতীতের কয়েকটা ছোটোখাটো গান বাজানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে গান গাওয়া হয় না, তবে বুকের ভেতর অনেক কথার বাক-বাকুম, সে সময়ে এক প্রিয় বন্ধুর বিবাহবিচ্ছেদের সংবাদ পেয়ে প্রথম গান লেখা আর সুর করা। সে গানের শেষের অংশটুকু এখন মনে আছে, মুখ মনে নেই, অবশ্য ৬ বছরের ব্যবধানে গানের সুরের কোনো কোনো অংশ বাদ দিলে অধিকাংশই বিস্মৃত।

ঋকের স্কুল

১.
বাংলাদেশের গণমাধ্যম বিশেষত ইলেকট্রনিক মিডিয়া অযথা নৃশংসতা প্রচার করে, ক্ষেত্রবিশেষে সেটার লাইভটেলিকাস্টও হয়। ২০০৯ এর ২৫শে ফেব্রুয়ারীর লাইভ টেলিকাস্টের প্রতিক্রিয়ায় অন্য সবার কি অবস্থা হয়েছিলো আমি জানি না, কিন্তু ঋকের ভেতরে ইউনিফর্ম ভীতি প্রবল হয়েছিলো। তখন রাস্তায় বন্দুক কাঁধে পুলিশ দেখলেও আমার টি-শার্টের নীচে মুখ লুকিয়ে রাখতো ও। পরবর্তী ২ বছরে ওর অবস্থার উন্নতি হয়েছে, এখন পুলিশ দেখলে আর ভয়ে নীল হয়ে যায় না, টি শার্টের নীচেও লুকায় না।