ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

হালচাল

বছরের এই সময়টা বই মেলার মৌসুম। ঢাকায় বসবাসের গত দুই যুগে বই কেনা হোক আর নাই হোক নিয়মিতই বই মেলায় হানা দিয়েছি, কখনও একা কখনও বন্ধুদের সাথে। সময়ের সাথে পছন্দের বইয়ের ধরণ বদলেছে, গত কয়েক বছরে খুব বেশী উপন্যাস কবিতার বই কেনা হয় নি। ফেসবুকে দেখলাম একজনের বই প্রকাশিত হয়েছে, খুব উৎসাহ নিয়ে তাকে বললাম
ভাই তোর বই প্রকাশিত হইলো, বইয়ের একটা সফট কপি মেইলে না পাঠায় বই প্রকাশ করে ফেললি এইটা কোনো কথা হইলো

বইয়ের সফট কপি পাঠানোর কোনো কথা ছিলো না কি? এমন পালটা প্রশ্ন দেখে আর কথা বাড়ানোর সাহস পাইলাম না।

বই মেলার প্রথম সপ্তাহ শেষ। হরতাল অবরোধে পর্যুদস্ত শহরে বই মেলার ভীড় কমবে না, কিন্তু যেকোনো প্রকাশককে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেই বলবে গত বইমেলার চেয়েও বিক্রী এখনও ডাউন-

ভাঙাচোরা দিনকাল ৩

নিয়মতান্ত্রিক জটিলতায় ঋক কিংবা ঋত কেউই আসে নি আমাদের সাথে, তারা বাংলাদেশে ছিলো। বাংলাদেশের জাপান এম্বেসী জানালো তারা সার্টিফিকেট ওফ এলিজিবিলিটি ছাড়া কোনো ভিসাই দিবে না আর সার্টিফিকেট ওফ এলিজিবিটির আবেদন করতে হবে জাপানে এসে। এলিজিবিটি এপ্লিকেশন করার পর একদিন ছেলে মেয়ের স্কুল খুঁজতে বের হলাম বিকেল বেলা। গুগল ম্যাপে কাছে পিঠে একটা এলিমেন্টারি স্কুলের অস্তিত্ব দেখে সেদিকে হাঁটা দিলাম। মরিনোসাতো এলিমেন্টারি স্কুল দেখে মরিনোসাতো নার্সারী এবং ডে কেয়ার সেন্টার খোঁজার পালা। রাস্তায় মাঝে মাঝে ইংরেজী লেখা কিছু সাইনবোর্ড চোখে পরলেও অধিকাংশ সাইনবোর্ডই জাপানী ভাষায় লেখা। কানজি লেখার ধাঁচটা কম্পিউটার স্ক্রীনে যতটা সহজ মনে হয় খালি চোখে ততটা সহজ লাগে না। চারকোনা বাক্সে রাজ্যের আঁকিবুকি, কাটাকুটির প্রতিটা দাগই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাক্সগুলো জোরা দিয়ে দিয়ে একটা বাক্য লেখা, যেটার মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, শুরু

ভাঙাচোড়া দিনকাল ২

জাপানে আসার পর বুঝলাম ভদ্রতা এবং বিনয় পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। বিনয়পীড়িত বাঙালী হিসেবে অসস্তিবোধ করি সময় সময়। আমার সুপারভাইজার অতিশয় বিনয়ী কিন্তু কাজপাগল। তার বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে সময়ে-অসময়ে উপস্থিত হয়ে ভিন্ন জাতির মাতৃভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করে, আমিও ভিন্ন একটা ভাষায় সে আইডিয়া বোঝার চেষ্টা করি, সময়ে-অসময়ে নিজের দুর্বল ইংরেজীতে শব্দ সরবরাহের চেষ্টা করি।

সন্ধ্যায় পরবর্তী সপ্তাহের কাজের তালিকা নিয়ে ফিরে এসে, খোশমেজাজে সিনেমা দেখে সকাল বেলা ইলেক্ট্রনিক চিঠি পেলে প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগতো, এখন সয়ে গেছে। রাত ২টায় পাঠানো চিঠিতে নতুন কাজের ফরমায়েশ দেখলে হতাশ লাগে না এখন।

ভাঙাচোড়া দিনকাল

গত শুক্রবার যখন সুর্য মেঘের আড়ালে ঢাকলো সেদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৬ ডিগ্রী, বাংলাদেশের শীতে এমন রোদ্দুরদিনে গায়ে হালকা চাদর জড়িয়ে তরিয়ে তরিয়ে সুর্যালোক উপভোগ করা যায়, অবশ্য এখানে এখন তেমন সুযোগ নেই। দরিদ্র দেশ থেকে আসা শিক্ষাশ্রমিক আমরা, শ্রমের বিনিময়ে সনদ অর্জন করি, কেউ দেশের নানাবিধ অস্থিরতায় আড় অন্য অধিকাংশ সবাই কিছুটা স্বচ্ছলতা এবং ভালো কাজের পরিবেশের জন্যে বেশ লম্বা একটা জীবন শিক্ষাশ্রমে কাটিয়ে দেন।

গবেষণার আলাদা আনন্দ আছে, যৌক্তিক কল্পনার সাথে কিছুটা উচ্চাশা নিয়ে কোনো একটা পরিকল্পনা তৈরী করা এবং যন্ত্রপাতি হাতিয়ে সে পরিকল্পনা মূর্ত হতে দেখে যেমন তৃপ্তি পাওয়া যায়, প্রায় নিয়মিত ব্যর্থ প্রচেষ্টাগুলোর কষ্ট আর দুর্ভোগ ভুলিয়ে দেয় সেটুকু।

টুকিটাকি ১

ক্ষমতা আদতে তথ্য নিয়ন্ত্রনের অধিকার। সম্রাট তার শক্তিশালী সেনাবাহিনী দিয়ে সম্রাজ্য বিস্তার করতে পেরেছেন কারণ তার রণযাত্রার রসদখরচ জোগাতে গিয়ে নিজের জীবনস্পৃহা হারিয়ে ফেলা সাধারণ মানুষগুলো যে যুদ্ধযাত্রার জন্যে বাড়তি কর দিতে অনাগ্রহী, তারা যে যুদ্ধবিগ্রহের হয়রানি এড়িয়ে শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায় এই সত্যটা তিনি তার সেনাপতি আর সৈনিকদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে পারেন। এত বিশাল সম্রাটও তার খুনে সেনাবাহিনীকে ভয় পান, তাদের ভেতরে গোপনে গোয়েন্দা অনুচর লুকিয়ে রাখেন- সেনা কর্মকর্তা আর সৈনিকদের অসন্তোষের তথ্য সংগ্রহ করেন, এবং নিজের ক্ষমতায় সেই তথ্যের ব্যবহার করেন। তথ্য ব্যবহারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি জানেন কখন কোন তথ্যের জন্যে প্রকাশ্যে প্রাণ সংহার করতে হবে আর কোন তথ্যটা শুধু একান্তে বলতে হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সেনাবাহিনীর প্রতিটা সদস্য বুঝে যায় নিজের নিঃশ্বাসের শব্দেও যদি কোনো অমান্যত

না লেখার মতো লেখা

অনেক দিন ধরেই লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু লেখা হচ্ছে না। প্রায় ঘন্টাখানেক সময় লাগিয়ে একটা কিছু লিখেছিলাম, লেখাটা শেষ হওয়ার আগেই উবে গেলো, ব্যাকস্পেস, ফ্রন্টপেজ সব কিছু ঘুরে দেখলাম এক ঘন্টার মানসিক পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত বৃথা গেলো। ল্যাপটপে যারা দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে লিখতে পারে তারা ভীষণ দক্ষ মানুষ, আমার মোটা মোটা আঙ্গুল তার থ্যাবড়ানো তালুতে কষে থাপ্পর দেওয়া যায় হয়তো কিন্তু ল্যাপটপের কোমল স্পর্শ্বকাতর পরিসরে দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে কিছু লেখা সম্ভব না। ল্যাপটপে লেখাটা অনেকটা অফিসটাইমে ভুল করে ভীড় লেডিস বাসে বিশাল ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে উঠে পরার মতো, একটা অঘটন ঘটবেই- সেই অঘটনের সময় গুণে সময় কাটানো।

জাপান ডায়েরী ১

নতুন দেশে,নতুন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হলে মানুষের "কালচারাল শক" হয়, আমার মনে হচ্ছে আমি "কালচারাল সাইক্লোন" কিংবা "কালচারাল টাইফুন" এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। ভাষা মানুষের অন্যতম সহায়, ভাষা মানুষের সাথে অন্য মানুষের সেতুবন্ধন, কিন্তু যখন সেই ভাষিক যোগাযোগের পথ আচমকা বন্ধ হয়ে যায় প্রতিনিয়ত ডাঙায় তোলা মাছের মতো হাঁসফাস করতে হয়।
গত এক দেড় বছর একটা ঝড়ের ভেতর দিয়ে গেলাম, ফেব্রুয়ারীর ৫ তারিখের আগেও আমার ধারনা ছিলো না সামনে এমন দিন আসতে পারে, নিজের জীবন আর ভবিষ্যত গুছিয়ে তোলার আগ্রহ ছিলো, ভাবছিলাম বিলম্বিত হলেও নতুন করে জীবন শুরু করে ফেলতে হবে, কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের ধাক্কা দেশের পরিস্থিতি অনেকটা বদলে দিলো আর আমিও সেই স্রতে ভেসে গেলাম।

একে খন্দকারের বই

এ কে খন্দকারের ১৯৭১ ভেতর বাহিরের প্রথমাংশ পড়লাম। এ কে খন্দকারের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য দেখানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত লোকজনদের ভেতরে এক ধরণের তীব্র আলোড়ন তৈরী করেছে, অনানুষ্ঠানিক ভাবে হলেও সংসদে বইটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বর্তমানের মহান জাতীয় সংসদের অনির্বাচিত সদস্য, যাদের পড়ার আগ্রহ এবং রুচি নিয়ে আমার ব্যপক সন্দেহ, তারা পড়ে এবং অধিকাংশই না পড়ে বঙ্গবন্ধু অবমাননার অভিযোগে বইটি নিষিদ্ধ করার এবং এ কে খন্দকারকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আটকের দাবী জানিয়েছেন। ব্যপক সমালোচনার মুখে প্রথম আলো এবং একে খন্দকার বইটির সংশোধিত দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছেন সেখানে উল্লেখযোগ্য সংশোধনী হলো শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষনে জয় বাংলা জয় পাকিস্তান/জিয়ে পাকিস্তান বলেছেন পূর্বের সংস্করণে ছিলো শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণটি জয় পাকিস্তান বলে শেষ করেছিলেন।

সিদ্ধান্ত

প্রতি মুহূর্তের প্রতিটা সিদ্ধান্তের সম্মিলিত ফলাফল জীবন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটামাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্তে স্থির থেকেই পরবর্তী ঘটনাগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ভেতরেই জীবনের আনন্দ-বিভ্রম-সংশয়- জটিলতা। এরপরও আমরা প্রতি মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেই। পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে দুপুর-রাতের খাওয়ার মেন্যু আমাদের সারাদিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তের ফলাফল এবং যতই হালকা করে দেখি না কেনো এই প্রতিটা সিদ্ধান্ত কোনো না কোনোভাবে ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে। সময়ের সাথে প্রতিটা সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়ে, পরিণামের ভয়াবহতা বাড়ে, অর্থমূল্য এবং ধকলের পরিমাণও বাড়ে, ফলে একটা নির্দিষ্ট বয়েসের পর শুধুমাত্র শার্টের রঙ আর খাওয়ার মেন্যুর বাইরে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না।

গণমাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭৫এর ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করার আগ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে ব্রাত্য ছিলেন এই সত্য অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। কিন্তু শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেই শেখ মুজিবুর রহমানের অস্তিত্ব স্বীকারে বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনাগ্রহী ছিলো কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলার জন্যে লোকজনকে সরকারি রোষের মুখোমুখি হতে হয়েছে এটা সচেতন রাজনৈতিক মিথ্যাচার। শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ২১ বছর গণমাধ্যম থেকে নির্বাসিত ছিলেন এটার অন্যতম কারণ সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম যে কাঠামো মেনে গড়ে উঠেছে এবং যে কাঠামো ও নীতিমালা অনুসরণ করে সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম সম্প্রচারিত হয় সেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রন কাঠামো সব সময়ই রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের চেহারা দেখাতেই ব্যস্ত ছিলো এবং এই গঠনকাঠামোতে সম্ভবত এক ধরণের অলিখিত বিধি আছে- যে বিধি অনুসারে সরকারের বিরোধী মতবাদকে সম্

টু ডু লিস্ট

আমাদের বাসায় অনেক পুরোনো একটা হারকিউলিস কিংবা হার্ভে সাইকেল ছিলো, সেটার সামনের হেডলাইট জ্বালানোর জন্যে আলাদা একটা ডাইনেমো ছিলো, সাইকেলের চাকার সাথে কোনো একটা প্রক্রিয়ায় সেই ডাইনেমো জুড়ে দেওয়া যেতো আর হেড লাইটের আলোর উজ্জ্বলতা নির্ভর করতো সাইকেলের গতির উপরে। যত দ্রুত চাকা ঘুরতো তত বেশী উজ্জ্বল হতো হেডলাইটের আলো। তবে আমি যখন কিছুটা বড় তখন সাইকেলটা প্রায় বাতিল, কোম্পানীর নামের ঐতিহ্যের বাইরে সেখানে আর বিশেষ কোনো সম্বল ছিলো না। কিছুদিন আমার আগ্রহের বিষয় ছিলো ডায়ানেমো লাগানো হেডলাইটটা- ডায়ানেমো সম্পর্কে অল্প-স্বল্প পড়াও হয়েছিলো বাবার কল্যানে- যদিও এর পেছনের তাত্ত্বিক কারণ জানতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও এক যুগ। তবে ডায়ানেমোর সরল গঠন, সেটা কারা তৈরী করলো এইসব সাধারণ জ্ঞান আমার ছিলো। শৈশবের আগ্রহে ডায়ানেমোটা ভেঙে ফেলতে খুব বেশী সময় লাগে নি। অযান্ত্রিক হলেও এই হার্ভে হারকিউলিস টাইপ সাইকেলগুলোতে

ভাষা সংশয়

ভাষার গাঠনিক কাঠামোতে এক ধরণের সারল্য আছে। শব্দের পর শব্দ জুড়ে অর্থদ্যোতনা তৈরীর প্রক্রিয়াটিতে গাণিতিক ধাঁচ আছে কি না গত শতকের মাঝামাঝি এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ভাষাবিজ্ঞানীরা। শিশুরা যেই পরিবেশেই বেড়ে উঠুক না কেনো তাদের গঠিত বাক্যগুলো নির্দিষ্ট একটি অর্থবোধকতা তৈরী করে। "সবুজ রঙ এর স্বাদ চাঁদ" এমন বাক্য কাঠামো উত্তরাধুনিক কবি এবং ভাষাতত্ত্ববিদেরাই নির্মাণ করে, স্বাভাবিক শিশুরা এসব সংকট থেকে মুক্ত। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্রে রেখে নোয়াম চমস্কি ভাষার ভেতরের অন্তর্নিহিত ধাঁচের একটা সাধারণ সূত্র অনুমাণ করেছেন- সেটার পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য বিতর্ক আছে। এতসব বিতর্কের পরেও অস্বীকার করা যাবেনা মানুষের ভাষা ব্যবহারের ধাঁচে আঞ্চলিক পার্থক্য থাকলেও সেই ভাষাভাষী প্রতিটি শিশুই একই প্রকরণ মেনেই ভাষার ব্যবহার শিখে যায় শৈশবে।

দিনলিপি

বিশ্রী একটা সময় যাচ্ছে, সকল দরজার সামনে " অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন, আপনার কথাও আমরা শুনবো" সাইনবোর্ড ঝুলছে। খুব বেশী গভীর না হলেও আজকে দীর্ঘদিন পর তৃপ্তির ঘুম ভাঙলো যথারীতি ছেলে মেয়ের ঝগড়া শুনে। সেই ঝগড়া অগ্রাহ্য করে পাশ ফিরে শুয়ে থাকলাম। দুপুরে রোজার নিয়ম ভেঙে বাইরে বের হলাম। ঢাকা শহর মোটামুটি ফাঁকা। ব্যাংকের চাকুরীজীবী, গার্মেন্টস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ এবং যাদের গ্রামের ভিটার ঘুঘু চড়ছে তারা বাদ দিলে জীবিকা এবং শিক্ষাগত প্রয়োজন যারা ঢাকায় বসবাস করে তাদের অধিকাংশই দেশের বাড়ী চলে গিয়েছে।

পবিত্র মাস

রোজার সময় একান্ত বাধ্য না হলে বাসার বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না। জীবন যাপন সংস্কৃতির উপরে গণমানুষের বিশ্বাসের আরোপ আমার ভেতরে যে মানসিক পীড়ন তৈরী করে তা প্রতিমুহূর্তেই উপলব্ধি করি। শুধুমাত্র এই একটি মাস আমাকে কোনো একটা সভ্য দেশের বাসিন্দা হিশেবে জীবনযাপন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করে তোলে।

পরধর্ম সহিষ্ণুতা, অপরের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা, অপরের ধর্মীয় অনুভুতিকে যতটা সম্ভব আহত না করে নিজের জীবনযাপন সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রাখবার কোনো সুযোগ থাকে না এই মাসটিতে। সকল নাগরিক সভ্যতাবোধ ঘাড়ের উপরে তার অনিবার্যতা সমেত চেপে বসে। এই একপাক্ষিক পরমত, পরসংস্কৃতি, পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার বোঝা বহন করতে ক্লান্ত লাগে এই বয়েসে।

ঈদ

বেঁচে থাকা মানে অবিরাম স্মৃতির কোলাজ তৈরী করা, হঠাৎ চলতি পথে কোনো একটা দৃশ্য দেখেথমকে দাঁড়ানো- হুবহু এমনই কোনো একটা দৃশ্য অতীতে তৈরী হয়েছিলো- সেটার পুনচিত্রায়ন ঘটলো এই মুহূর্তে- আমি একটা মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন একটি মুহুর্তে জেগে উঠলাম- সংলাপ থেমে যাওয়ার পর এক ধরণের শব্দহীন বিবশতা অদৃশ্য পর্দার মতো চারপাশে ঝুলে থাকে - তেমন শব্দহীনতার মূহুর্ত থেকে ধীরে ধীরে বর্তমানের শব্দমুখরতার ফিরে আসা- কেউ ডাকছে না তবু কোনো একটা পিছুডাকের জন্যে উৎকর্ণ হয়ে থাকা।