ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

যুদ্ধপরিস্থিতি

আক্রান্ত সিরিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী সীমান্তের কাঁটাতার অবজ্ঞা করে ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে, সমুদ্রে ভাসাচ্ছে ভেলা, রাতের অন্ধকারে অনিশ্চিত পথ পারি দিচ্ছে, ভীষণ অমানবিক জীবনের গল্পগুলো প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, ভাইরাল ভিডিও, মীম, অবজ্ঞা, আশংকা, ঘৃণা, সমবেদনা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে এক হাত দেখে নেওয়ার সুযোগ কেউ হেলায় ছাড়তে নারাজ।

সিরিয়ার শরণার্থী সংকট টক ওফ দ্যা ইউনিভার্স হয়ে ওঠার পর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গোত্রগত, জাতিগত সহিংসতার বলি আক্রান্ত মানুষেরা, যারা একই রকম অসহায়ত্ব নিয়ে বন্ধুর প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় খুঁজছে কিছুটা উদ্বিগ্ন, হয়তো তাদের দুঃখ দুর্দশা অসহায়ত্ব প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাবে না। শরনার্থীর রাজনীতিতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সিরিয়ার আক্রান্ত মানুষ। এই টানা-পোড়েন আশংকা উদ্বেগ স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া।

এলেমেলো ভাবনা

বিজ্ঞানচর্চার জন্যে বিজ্ঞানের দার্শণিক ভিত্তি জানার প্রয়োজন সামান্যই। " বিজ্ঞান কি?" প্রশ্নের উত্তর না জেনেও বিজ্ঞানচর্চা করা সম্ভব। সবাই মেনেই নিয়েছে সকল জ্ঞানচর্চা প্রক্রিয়ার ভেতরে বিজ্ঞান শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কেনো বিজ্ঞান জ্ঞান উৎপাদনী প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সেরা এ প্রশ্নের কোনো মীমাংসা হয় নি।

আমাদের দ্বিধা

যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখি, জনপরিসরে বিজ্ঞানের উপস্থিতি কতটুকু? রাষ্ট্রের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে কিংবা বেসরকারী উদ্যোগে বিজ্ঞানচর্চা কতটুকু উৎসাহিত হচ্ছে? প্রযুক্তি প্রায়োগিক ক্ষেত্র, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা কোনোভাবেই বিজ্ঞানমনস্কতার নিদর্শন নয়- এই তথ্যটা প্রথমে মনে রাখতে হবে। শত সহস্র যন্ত্র কিংবা যন্ত্রাংশের মাধ্যমে প্রযুক্তি যেভাবে প্রতিনিয়ত জনপরিসরে উপস্থিত থাকে, সমাজের কোথাও কি বিজ্ঞানের এমন সদম্ভ উপস্থিতি আছে?

ডটকম সাংবাদিকতা

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মত সম্প্রচারের স্বাধীনতা কতটা পীড়াদায়ক হতে পারে ক্যামেরাম্যান সাথে নিয়ে মাইক্রোফোন হাতে সংবাদ ধাওয়া করা স্যাটেলাইট টিভির বাংলাদেশী সাংবাদিকদের দেখে উপলব্ধি করতে পারি। মুন্নী সাহার আপনার অনুভুতি!!! প্রশ্নটাও বাকী সবার অমানবিক, অশোভন আচরণের তুলনায় অনেক বেশী সহনীয়, অনেক বেশী শোভন। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কল্যানে স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল কাঁপিয়ে সংবাদ উদ্ধারে যাওয়া সাংবাদিকদের বোধ-বুদ্ধি-বিবেচনাহীনতার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডটকমসংবাদপত্র বিস্ফোরণ। পকেটে সাড়ে তিন হাজার টাকা থাকলেই একটা গণমাধ্যম খুলে ফেলা যায়, ১৬ ফুট ১২ ফুট ব্যানার আর নীলক্ষেত থেকে ৫০০ রঙ্গীন ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে নেওয়ার পর যেকেউ মহাসাংবাদিক হয়ে যেকোনো ব্যাক্তিকে হয়রানি করতে পারে। আমাদের বর্তমান সাংবাদিকতা মোটা দাগে জনহয়রানি।

সাম্প্রতিক ভাবনা

স্টিফেন হকিং বলেছেন ঈশ্বর নেই-
হকিং বললেন ঈশ্বর নেই- কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো।

জিয়াউর রহমান

১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র প্রকাশিত হয়েছিলো। ৯ম খন্ডে স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের সাক্ষাৎকারভিত্তিক বর্ণনা আছে। চট্টগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহন করা শমসের মুবিন চৌধুরী এবং হারুন আহমেদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার আছে সেখানে। কি প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হলো তার কিছুটা বর্ণনা সেখানে পাওয়া যায়। শমসের মুবিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিলো ২০শে অক্টোবর ১৯৭৩ এবং হারুন আহমেদ চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিলো ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭৫ এ।

২৩শে মার্চ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, অলি আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, শমসের মুবিন চৌধুরী এবং হারুন আহমেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের বাসায় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তাদের জানান " আমরা আপনাদের সাথে আছি। আপনাদের পক্ষ থেকে যদি ঠিক সময়ে কোনো সাড়া বা আভাস পাই আমরা কিছু করতে পারি।"

রাষ্ট্র ২

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিবছর ইংল্যান্ডে তাদের শেয়ার মালিকদের বাৎসরিক প্রতিবেদন এবং লভ্যাংশের হিসেবে বুঝিয়ে দিতো। সামুদ্রিক বাণিজ্য লেনদেন নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা অর্জন করে ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে নিজের উপনিবেশসীমানা বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং মানবতাবাদী ধ্যান ধারণার বিকাশের ফলে ইংল্যান্ডে ঈশ্বরবিমূখ শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিলো। খ্রীষ্টান ধর্মযাজকেরা এইসব ঈশ্বরবিমুখ মানুষদের ঈশ্বর অভিমুখী করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কেম্ব্রীজ- অক্সফোর্ড শিক্ষিত ধর্মযাজকেরা নিজস্ব ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে বন্দর এলাকায় চার্চ প্রতিষ্ঠা করে এইসব হৈ-হুল্লুড়ে বেহদ্দ মাতালদের যীশুর ভালোবাসার পথে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন।

আমাদের ভবিষ্যত

শেখার সাথে মেধার সম্পর্কহীন শিক্ষাচর্চায় বিদ্যালয় নেহায়েত একটা যন্ত্র যার সদর দরজা দিয়ে উজ্জ্বল, উচ্ছ্বল শিক্ষার্থী প্রবেশ করে বিদ্যায়াতনে আর খিড়কি দুয়ার দিয়ে সার্টিফিকেটধারী মুর্খ জীবিকার সন্ধানে শ্রমবাজারে নেমে যায়। মুখস্তবিদ্যার উপরে অধিকতর নির্ভরতা বিদ্যার্জনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকেই যান্ত্রিক করে ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা না বুঝে মুখস্ত করে নিজেদের বিদ্যা উগড়ে দিচ্ছে পরীক্ষায় খাতায়। এই প্রবনতা কি খুবই সাম্প্রতিক কোনো প্রবনতা?

রাষ্ট্র

আমাদের মাথার উপরে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার খাঁড়া ঝুলছে। ২০১৩ সালের সংশোধনীর পর হীরক রাজার দেশের এই অদ্ভুতুরে আইন আরও বেশী নির্মম, আরো বেশী কণ্ঠরোধী। নতুন সংশোধনীর পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ব্যবহার কিংবা অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপনের প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনী যদি মনে করে অন্তর্জালিক পরিসরে কোনো ব্যক্তি " রাষ্ট্রের ভাবমুর্তি ধ্বংসের চক্রান্ত করছে", " মিথ্যা তথ্য উত্থাপন করছে", মানী ব্যক্তির মানহানী করছে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড করছে- আদালত কিংবা কতৃপক্ষের লিখিত আদেশ ছাড়াই তারা সে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে।

বসন্ত

শীতের সম্পূর্ণ সময়টা উষ্ণ সূর্যের প্রতীক্ষায় ছিলা। স্যাঁতস্যাঁতে শীত রাতের বিছানায় সরীসৃপের মতো শরীর আকড়ে ধরে । ঘরের দরজা খুললেই দুরের সাদা পাহাড় দেখার প্রথম উত্তেজনা ক্রমাগত ফিকে হয়ে যায়। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলের মতো কবে আটপৌরে শীতল দৃশ্যপট চোখের আড়াল হবে- অপেক্ষায় ছিলাম। এই ভয়াবহ শীতের ভেতরেও ফুল ফুটেছে। রাস্তায়, এপার্টমেন্টের সামনে ফুলের কেয়ারী সাজানো শুরু হয়েছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে। জলবায়ু প্রতিবেদন বলছে মার্চে ৮ দিন তুষার পরবে, ৭ দিন পরেছে সব মিলিয়ে। বাতাসের উষ্ণতা বেড়েছে। ফুটপাতের ফুলের কেয়ারীগুলোতে নানা রঙ এর ফুল ফুটেছে। ততটা চমক ছিলো না দৃশ্যগুলোতে।

মাইনক্যা চিপা

বছর দশেক আগে যখন শহরের কেন্দ্র থেকে শহরের পরিধিতে জায়গা বদলের সিদ্ধান্ত নিলো শহর কতৃপক্ষ তখন এখানে ছোটো ছোটো টিলা আর জঙ্গলের বাইরে কোনো জনবসতি ছিলো না। জঙ্গল পরিস্কার করে টিলা ছেঁটে বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা বদলে করে এখানে স্থিতু হলেও শহরের কেন্দ্রে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে। জনবসতিবিহীন এই জঙ্গলের কোনো নাম ছিলো না, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ জায়গার নাম ঠিক করেছে "কোণার মাঝখানে বসতি" আমি কিছুটা বদল বদল করে খাঁটি বাংলায় ডাকছি " মাইনক্যা চিপায়"। জায়গাটা দুটো আলাদা শাসনাঞ্চলের সংযোগস্থলে। সম্ভবত দুটো আলাদা শাসনাঞ্চলকে সংযুক্ত করা সড়কের বাইরে এখানে দীর্ঘদিন তেমন জনসমাগম ছিলো না। টিলা ছেঁটে বানানো বিশ্ববিদ্যালইয়ের ভবনগুলো বিভিন্ন মাপের ওভারব্রীজে সংযুক্ত। উত্তর ক্যাম্পাসে কলা ভবন, দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বিজ্ঞান ভবন আর দুটোর মাঝের পাহাড়গুলোতে এডমিনিস্ট্রেশন ভবন। পাহাড়ের গা ঘেষে যাওয়া রাস্তা দ

সৌরকেন্দ্রীক মহাবিশ্ব

বিজ্ঞান মোটা দাগে সভ্যতার সামষ্টিক অর্জন। যোগাযোগের দুর্গমতায় দুই হাজার বছর আগের ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতার মানুষের নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণের সংবাদগুলো পরস্পরের অজানাই রয়ে যেতো অধিকাংশ সময় কিন্তু যন্ত্রযুগে ছাপাখানা এবং ইন্টারনেটের কল্যানে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেশী সাবলীল। মধ্যযুগের ইউরোপে অনুবাদকদের কল্যানে গ্রীক সভ্যতার দার্শণিক বিজ্ঞানিদের অবদানের কথা সবাই জানতো, সে তুলনায় মিশরীয়, ব্যাবিলনীয় কিংবা অসীরিয় সভ্যতার অবদান খুব বেশী প্রকাশিত কিংবা প্রচারিত নয়। The Adaptation of Babylonian Methods in Greek Numerical Astronomy নিবন্ধটা দুটো ভিন্ন সভ্যতার দার্শণিক পর্যবেক্ষকদের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়ের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। নিবন্ধটা অন্য একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ, পরস্পরবিচ্ছিন্ন দুটো ভিন্ন সভ্যতার দার্শণিক বিজ্

hudai 2

শিক্ষার প্রায়োগিক উপযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় গত এক শতাব্দীতে পৃথিবীতে পেশাদার গবেষকের পরিমাণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগারে প্রচুর জ্ঞান উৎপাদিত হচ্ছে, প্রতিদিনই আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। গত এক শতাব্দীর পরিসরে পৃথিবীর জ্ঞানের ভান্ডারে এত বেশী বৈচিত্র এসেছে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির পক্ষে সেসবের মর্ম অনুধাবন করার কোনো প্রশ্নই নেই বরং সকল জ্ঞানের সন্ধান তার জন্যে নিতান্তই অসম্ভব। শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে প্রফেশন্যাল সায়েন্টিস্ট এর যুগে বিজ্ঞানের যেকোনো একটি শাখায় কাজ করছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশী হাজারখানেক হবে। তবে এমন পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত শাখার সংখ্যা এবং নিজের অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারণ করে একাডেমিশিয়ান এবং প্রফেশন্যাল সায়েন্টিস্টদের গবেষণাক্ষেত্র খুবই সুনির্দিষ্ট। তারা একই সময়ে একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় ৫ থেকে ৬টি ক্ষেত্রে গবেষণা করতে পারেন। তারা যে জ্ঞান উৎপাদন করছে

hudai 1

দেশের সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকৌশল বিষয়ের শিক্ষার্থীর পরিমাণ বাড়ছে, প্রচুর মেধাবী শিক্ষার্থী জিপিএ ৫, গোল্ডেন জিপিএ ৫ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়ছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিজ্ঞান বিষয়ে বিভ্রান্ত। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের বিজ্ঞান মানসিকতার অপরিনত অপুষ্ট বিকাশের কারণে এখানে ধর্ম এবং বিজ্ঞানের লড়াইটা কদর্য কলহে পরিণত হয়েছে।

ধারাবাহিক নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের ফলাফলের পরিশীলিত বিশ্লেষণের পথ ধরে তাত্ত্বিক বিমূর্তায়নের পর্যায় অতিক্রম করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলগুলো খুব সীমিত সংখ্যক মানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানের বিজ্ঞানের কোনো একটি বিকাশমান ধারায় গবেষকের সংখ্যা ১০০ থেকে ১০০০ জন। এই সীমিত সংখ্য পাঠকের জন্যে লেখা কোনো গবেষণাপত্র বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা অধিকাংশ ব্যক্তির জন্যেই অনুধাবন করা কঠিন।

গ্যালিলিও

ছোটো বেলা স্টেশনের মজমার ভীড় দেখলে ভীড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখতাম কি হচ্ছে। তখনও ঘরে ঘরে টেপ-রেকর্ডার আর ক্যাসেট আসে নি, মজমার কেন্দ্রে যে যুবক, তার হাতে মাইক্রোফোন, সে কথা বলছে আর টেপ রেকর্ডারে সে কথা শোনা যাচ্ছে- অবাক করা বিষয়। শহরের এ রাস্তা সে রাস্তায় সিনেমার বিজ্ঞাপনের রিকশায় লাগানো মাইকের চোঙা, মাইক্রোফোন আর তার দেখে খুব বেশী অবাক লাগতো না, অনুমান করে নিয়েছিলাম টেলিফোন যেভাবে কাজ করে এইসব মাইক- মাইক্রোফোন আর তার সেভাবেই কাজ করে, কিন্তু তার-ছাড়া মাইক্রোফোন তখনো খুব বেশী পরিচিত কোনো দৃশ্য ছিলো না।