অনুসন্ধান

ইউজার লগইন

অনলাইনে

এখন ১ জন সদস্য ও ২৬ জন অতিথি অনলাইনে

অনলাইন সদস্য

যাপিত জীবনের অজানা ইতিহাস

নর্দমা থেকে উঠে আসা মাছিটা প্লেটের ভাতের উপর পড়লো। খুবই বিরক্তিকর। এই আকাল সময়ে, অভাবের ভেতর যখন একপ্লেট ভাতের মূল্য অনেক, তখন হারামজাদা মাছি পাশের নর্দমা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো। তার পায়ে নিশ্চয়ই পাশের বাড়ির দারোয়ানের পেশাপ লেগে আছে। পাশের বাড়ির দারোয়ান শেখ মতিন প্রায়ই এ নর্দমায় তার কাজ সারে। হলদে পেশাপের গন্ধে টিকা মুশকিল। তবুও এ নর্দমা ঘেষা টিনের ঘরেই আমাকে বাস করতে হয়।

কংক্রিটের অবহেলার মিথ্যামাখা শহরে নর্দমার পাশে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়ার গল্প এ দেশের ইতিহাসে লেখা হবে না। রাষ্ট্র তো যুদ্ধের কথা পুঁথিবদ্ধ করে কিংবা রাজনৈতিক চোরদের কথাও লিখে রাখে। কিন্তু আমার মতো গ্রাম থেকে উঠে আসা গরীব সংসারের ছেলেরা প্রতিনিয়ত নিজের ভাগ্য ফেরাবার চেষ্টায় যে সংগ্রাম, যে যুদ্ধ করে চলে তাদের কথা কোথাও কখনও লেখা হয় না।

হতে পারে, যদি আমি মহান কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হই। তখন আমার কষ্টের গল্প মানুষ শুনতে চাবে, পড়তে চাবে। তারপরও এ কষ্ট, এ বঞ্চনা, এ গ্লানিবোধ কেউ কখনও অনুভব করবে না।

অমসৃণ আঁধার

ভয়ংকর রকম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শীতের আগুণখানা
ওখানে তপ্ত ঘি ঢেলে দিও না
পুড়ে যাবে শরীরের শান্ত টলোমলো ধাম

যেভাবে ছড়িয়েছে কার্বন বাতাসে
সহসা পাকিয়ে পাকিয়ে কুন্ডলী
- তেজোস্ক্রিয়তায় মৌণ নিথর হবে
পোড়া দেহের মাংস
কী যে এক বিন্দু বিন্দু জলীয় রসের নিঃসরণ
প্রলেপ মাখাতে চাইবে ফুটন্ত সময়
চেতনহীন রাজপথের অমসৃণ আঁধারে।

মাশরুম জন্ম

সব সৌন্দর্য নিয়ে ইতি-উতি উঁকি দেয় সে
রাতজাগা আকাশ
তার পায়ের কাছে বেজে চলে নীরব সমুদ্র ঝুমঝুম
যদিও ভস্মিভূত সে চিতার অনলে
দগ্ধ বুকের বাহাদুরি
কোথাও বাজিয়ে তুলে সতর্ক সাইরেন

তখন বৃষ্টি মেঘের স্পর্শ বাড়িয়ে এনে
গজিয়ে তোলে দু'চারটা ব্যাঙের ছাতা - মাশরুম।

ধূসর গোধূলিঃ সবুজ জমিনে বর্গী...

dhusor godhuli-17.jpg

সেদিন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায় বিভার। ঘরে ঢুকে দেখে মন খারাপ করে বসে আছে প্রভা। কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করে-
-কি হইছে প্রভা? মুখটা এত কালা কইরা বইসা আছস ক্যান?
মাকে দেখে সারাদিনের জমিয়ে রাখা কষ্টগুলো বুকের ভিতর থেকে যেন বেরিয়ে আসে এক নিমেষেই, কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রভা বলে,
-আমি আর ইশকুলে যামু না মা
-ক্যান, কি অইছে?
তালুকদারের হাটখোলার ঘটনা মায়ের কাছে খুলে বলে প্রভা।
-তুই এতদিন আমারে কস নাই ক্যান?
-তুমি চিন্তা করবা হেইলইগ্যা এতদিন তোমারে কইনাই।

ভুলের ভাণ্ডার

ভুল বানানটি সঠিক বটে
লিখবেন না কেউ ভূল
তুল লিখেন টুল লিখেন
লিখবেন না বানান মুল।

মূল কিন্তু মুল নয়
রাখবেন মনে সবে
মুল যদি লিখে কেউ
ভুল জানবেন তবে।

কুল যদি বরই হয়
কূল নদীর পাড়
ভুল বানানে অভ্যস্ত
লজ্জা দেবে স্যার।

তুলা লিখেন কুলা লিখেন
লিখবেন না কেউ মূলা
মুলা বানান সঠিক তবে
লিখবেন না ফরমূলা।

ফরমূলা নয়, ফরমুলা
জেনো নিশ্চয়
ইংরেজি উচ্চারণে
(ূ) ঊ-কার নাহি হয়।

কারণ বারণ মরণ লিখেন
ধরণ লিখবেন না
ধরণ যেন ধরন হয়
লিখতে ভুলবেন না।

গুণ লিখেন ঘুণ লিখেন
গুন লিখবেন না
গুণিতকের মর্মকথা
এতে পাবেন না।

কাঁটা-বোঁটা সবই লিখেন
ফাঁটা লিখবেন না
ফ-এর ওপর চাঁদ বসালে
ফাটা থাকবে না।

হাসি লিখেন কাশি লিখেন
হাস লিখবেন না
চাঁদ ছাড়া হাঁস-ফাঁস
কিছুই হবে না।

বাড়ি-গাড়ি সবই লিখেন
হাড়ি লিখবেন না
হাঁড়ির ওপর চাঁদের টিপ
দিতে ভুলবেন না।

আসন বাসন নয়নে
‘ন’ হবে নির্ভুল
প্রান ঘ্রান ত্রান লিখে
করবেন না তাই ভুল।

প্রাণ ঘ্রাণ ত্রাণ বানানে
লিখবেন মূর্ধন্য- (ণ)
এ নিয়মে লিখে যান
বর্ণ বর্ষণ আর কার্পণ্য।

অনুরোধে হবে করুন
অবস্থাতে করুণ
তোরণ বানিয়ে তারুণ্য

তবুও আঁখিজলে হলুদ স্বপ্ন

শুনেছি কেউ কারো পিছু নিলে ভিকটিম বিষয়টি বুঝতে পারে এবং বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে।কেউ কোনদিন আমার পিছু নিয়েছিল কিনা মনে করতে পারছিনা,তবে এই মুহূর্তে যে কেউ আমার পিছু নিয়েছে সেটা বুঝতে পারছি।লোকটা বেশ লম্বা,পেছনে না ঘুরেও সেটা বোঝা যাচ্ছে।এখন পড়ন্ত দুপুর,সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়তে শুরু করেছে,আর আমি হাঁটছি পূর্ব দিকে।আমাকে ফলো করা লোকটা নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও একটু পর পর আমার পাশে তার ছায়া এসে পড়ছে।পরক্ষণেই সীমাহীন ব্যস্ততায় ছায়াটি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

সবার পড়া বনফুলের গল্প!

'শ্রেষ্ঠ' এই শব্দটার ব্যাবহার আমার ভালো লাগে না। ভালো কিংবা সেরা বলা যায় কিন্তু কোনো জিনিসকে এত সহজে শ্রেষ্ঠ বলতে ইচ্ছা করে না। কারন শ্রেষ্ঠ বলার সাথে সাথেই বাকী সব গুলোকে তুচ্ছ ঘোষনা করতে হয়। আর সাহিত্য, নাচ, গান, সিনেমা যাই হোক আর্টফর্মের কোনোকিছুই শ্রেষ্ট বলে রায় দেয়া যায় না। কারন সব কিছু সময় নির্ধারন করে, আজ যা শ্রেষ্ঠ কাল সেটা অতি সাধারণ ব্যাপার বলে হয়ে যেতে পারে। তবুও আমরা শ্রেষ্ঠ বলি, রায় দেই অমুক জিনিসটা সবার সেরা। ঠিক তেমন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রেরও চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা সিরিজের অসংখ্য বই আছে যা পাঠকদের সুবিধার জন্য ঘোষনা দেয়া যে অমুক লেখকের শ্রেষ্ঠ গল্প বা কবিতা সুলভ সংস্করণে। পাঠকদের জন্য সুবিধা যে তারা বিখ্যাত সব লেখকদের কিছু ভালো লেখা এক বইতেই পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু ছিল নাম মাইনুল। ওর কাছে আমি খুব থ্যাঙ্কফুল কারন ওর বড় বোনের এইসব বইয়ের ছিল আড়ত, আমি নিয়ে নিয়ে পড়তাম আর তাতে ক্লাস টেন এলিভেনেই আমার প্রচুর বাংলা ক্লাসিক জিনিস পড়া শেষ না হলেও কিছুটা পড়ে ফেলা হয়েছিল।

ধূসর গোধূলিঃ স্বপ্নের অপমৃত্যু...

dhusor godhuli-16.jpg

দুই হারামি মিলিয়া

আর কত জ্বালাবি তোরা দুই হারামি মিলিয়া ?
পালাবার ও পথ পাবিনে মানুষ গেলে ক্ষ্যাপিয়া ।
আর কত....।

মুখে তোদের গণের কথা,
অন্তরে সব শয়তানী,
হিজাব পরে, হ্বজ করে পাপ রাখতে চা'স ঢাকিয়া ।
তোরা দুই শয়তানী মিলিয়া ।
আর কত ...............

দুজনইতো ছোটলোক,
কথা দিয়ে রাখিসনা ।
ষন্ডা-পান্ডা-গুন্ডা দিয়ে
দল চালাতে ভাবিসনা ।
প্রতিটা দিন মরছে মানুষ, মারছিস দুজন মিলিয়া ।
বাপ-স্বামী কেন্ উপরে গেছে, পারলে দেখিস ভাবিয়া ।
তোরা দুই নষ্টেতে মিলিয়া ।
আর কত............।

পিঠ যখন দে'য়ালে ঠেকে,
পিছুবার আর জায়গা নাই
মানুষ তখন রুখে দাঁড়ায়
হাতের কাছে যা'ই পায় ।
মানুষ আর মরবে ক'বার তোরা দুই ডাইনীর লাগিয়া ?
তোরা দুই বেজন্মার লাগিয়া ?
আর কত ..........

প্রিয় জাফর ইকবাল স্যার স্মরণে....

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।

অনেক আগে লিখিত এই কবিতাটা কতটা সত্যি হয়ে ফিরে আসলো আমাদের মাঝে। সময় বদলায়... দুনিয়া এগিয়ে যায়... আমরা থেমে থাকি সেই আগের জায়গায়... বরং পেছনে হাটা আমাদের অনেক পছন্দের। আমরা ধুয়ে ফেলি মেয়রেকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে... কিন্তু কথা বলতে শরমিন্দ হই শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে... দলান্ধ এই সময় আমার হাসফাস লাগে... নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সব কিছু সত্যি নষ্টদের অধিকারে আজ...

মস্তিষ্কে বাসা বাঁধছে ঘূণপোকা

বুকে হাত দিয়ে বলো সূর্যের আলো রুখিতে কি পারে কেউ? আমাদের ধরে ঠেকানো যাবে না গণজোয়ারের ঢেউ। ডাকসুর দেয়ালে ঝুলে থাকা কালো হয়ে আসা চিকাটা মলয়দা'র লেখা। আর কয়দিন টিকবে কে জানে। যে রাতে মলয়দা' চিকাটা লিখেছিলেন সে রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে চিকাটা দেখে সারা দিন মনের ভেতর অজানা উচ্ছ্বাস অনুভব করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম তখন। আমরা নিয়ম করে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের দেয়ালে চিকা মারতাম। ভালো চিকা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কথাটা যত ভালোভাবে লিখতে পারতাম, তত বেশি সুখ পেতাম। তখনও গ্রাফিতির চল ঘটে নি সেভাবে। এখন ক্যাম্পাসে অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাফিতি দেখা যায়। আইএমএল-এর দেয়ালে একটা চমৎকার গ্রাফিতি দেখেছি সেদিন। আমাদের ঘাঁটিটায় একটা বড় গ্রাফিতি আঁকবার শখ জেগেছে সেটা দেখে। আর আফসোস জেগেছে যখন আমার সময় ছিলো, তখন এ বিষয়ে কেন কোনো জ্ঞান ছিলো না ভেবে।

ফেইসবুকের সাম্প্রতিক স্টেটাসমালা

এক.
যাহা লাউ, তাহাই কদু; যাহা ১৫ ফেব্রুয়ারি, তাহাই ৫ জানুয়ারি...

দুই.
যেনতেন ভাবে ক্ষমতায় যাওয়াটাই বিপ্লব, এই তত্ত্ব মেনন সাহেব আর ইনু সাহেব আগে বুঝেছেন; নিজেদের পার্টি ভেঙে জাসদ কিংবা ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেয়াটাই এখন সকল বিপ্লবী বামদের জন্য যথাযথ সিদ্ধান্ত হবে...

তিন.
প্রত্যাশারে বলি এইবেলা দূরে থাকো,
দরোজায় দাড়িয়ে না থেকে রাস্তা মাপো...

চার.
যতোদিন তোমাদের হাতে দেশ;
পথ খুঁজে পাবে না বাংলাদেশ!

পাঁচ.
I called you silently at dawn,
There were waves
But failed to reach your realm...

ছয়.
Spending day and night with the people I really like; the friends whom I really adore...
Enjoying every moment of life, whether I'm awake or travelling through the dreams...

সাত.
যেই অবস্থা চলছে তাতে মনে হচ্ছে দেশ জলে ভাসিয়ে কেবল নৌকা চলবে দেশজুড়ে পিতার ছবি আঁকা পাল তুলে...কিন্তু ডাঙায় অভ্যস্ত ব্যাঘ্র সম্প্রদায় এমন অযাচার মেনে নিবে কতোকাল?

ধূসর গোধূলিঃ আলোর নীচের অন্ধকার...

dhusor godhuli-15_0.jpg
প্রতিদিন সকালে, সুর্য্য ওঠার পর পরই মসজিদের সাথে লাগোয়া ছোট একটি ঘরে ছেলেমেয়েরা উচ্চস্বরে আরবি পড়ে। শ্যামলপুর গ্রামে এটাই একমাত্র মসজিদ। মসজিদের পাশে একটি আলাদা ঘর, বাঁশের খুঁটির উপরে গোলপাতার ছাউনি দেয়া ঘরটার চারপাশে কোন বেড়া নেই। সেই ঘরের মেঝেতে খেজুর পাতার পাটিতে বসে সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী ছেলেমেয়েরা আরবি পড়ছে। অয়নও প্রতিদিন আসে এখানে। বয়সে বড় ছেলেমেয়েরা কোরাণ আর অপেক্ষাকৃত ছোটরা পড়ছে আমপারা। অগ্রহায়নের হাড় কাঁপানো শীতে কিংবা গ্রীষ্মের মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হওয়া গরমে, কখনই বন্ধ হয়না মাদ্রাসা। সবাই এতটাই উচ্চস্বরে পড়ছে যে কারো উচ্চারণই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা। লম্বা একটা বেত নিয়ে মৌলভীসাব মাঝখানে বসে সবার পড়া দেখছেন, মাঝে মাঝে ওটার ব্যবহারও করছেন।

নিজেরে করিতে গৌরব দান...!

কবিকে দিও না দুঃখ, তাহলে সে তার দুঃখ ছড়িয়ে দেবে জলে স্থলে অন্তরীক্ষে...
কবিকে আমরা দুঃখ দিতে চাই না। তারপরও অজান্তেই কবি দুঃখ পান, কষ্ট পান—আমরা ব্যথিত হই, কিন্তু কিছুই করার থাকে না।
কে কবি আর কে কবি নয়—কোনো মানদণ্ড নেই।
কে ছোট কবি আর কে বড় কবি—তারও কোনো মানদণ্ড নেই।
তবুও কবিরা কষ্ট পান, হয়তো কষ্ট পেতে ভালোবাসেন। তাদের এই কষ্টবিলাসটা যখন আমাদের মতো গোবেচারা, নির্বিরোধী মানুষকেও আক্রান্ত করে—পীড়িত না হয়ে উপায় থাকে না!
মাসিক পত্রিকায় ছেপেছিলাম একজন 'শক্তিশালী' কবির কবিতা। তিনি ক্ষুব্ধ, তার কবিতা অনেক পেছনে ছাপা হয়েছে। যোগ্যতা বিবেচনায় তার কবিতাই আগে থাকার কথা ছিলো! বয়সেও তিনি অনেক বড়। হাঁটুর বয়সী কবির কবিতার নিচে কবিতা ছেপে তাকে অপমান করা হয়েছে। তিনি বিদায় নিলেন; এই পত্রিকায় আর লিখবেন না। আমরাও সসম্মানে তাঁকে বিদায় দিলাম। এমন মহান কবির মর্যাদা আসলেই আমরা করতে পারবো না। তিক্ততা বাড়িয়ে লাভ কী!

বন্ধু মাসুদ হাসানের ঘরে ফেরা

তোমার নষ্টালজিয়া
এখন
তোমাকে পীড়ন করছে
নিষ্পেষন করছে
বাকী ২৪ ঘণ্টা তোমার কাছে
২৪ বর্ষ যেন।
তোমায় বহন কারী হাওয়াই জাহাজ
বাংলার মাটি স্পর্শ করার আগে
প্রতিটি মুহুর্ত হবে বর্ষ সম।
এ মাটি সেই মাটি
যার কল্যাণে তুমি দেখেছ
এ ধরাকে,
যার স্তরে স্তরে
নদীর ডেউ এর পড়তে পড়তে
বায়ুর প্রাবল্য ও মৃদুময়তায়
তুমি বেড়ে উঠেছ
যার, ফুল ফল লতা পাতা
গুল্মরাজি তোমাকে শেফা দিয়েছে।
আর
এ সকল কিছুর কল্যাণে
আজ তোমার হাসান
নামের স্বার্থকতা বাস্তবতায় মূর্ত।
তাই তো তুমি বিশ্বের শ্রেষ্টতম
শহরে থেকেও তোমার
দরিদ্র মাতার ভাংগা ডেরার
ফাঁক গলিয়ে চাঁদের কিরন
দৃশ্যময় ঘরটিকেই
বলেছ,
Sweet Home.
এসো বন্ধু
ঘরে এসো।
টুটে যাক
সকল অকল্যাণ
সকল তিমির
সার্থক হউক
তোমার ঘরে ফেরা।
জীবন,
নভেম্বর, ২৫,২০১৩খ্রীঃ
সিরাজগঞ্জ, পাওয়ার প্লান্ট।

অজানা পরিচয়ে

“বেবুন পিঠা খাবি?”
“না”
“সিংগারা খাবি?”
“না।”
“আচার খাবি?”
“বলছি তো, খাবো না!!! আর আমাকে বেবুন বেবুন করছেন কেন? আমার নাম বেবুন না।”
“বাবা রাগ করছস? তোর বাপের উপর রাগ করছস?। কতদিন বাদ তোরে দেখতাছি।”

আমি লোকটার চোখে দিকে তাকালাম। তাতে পানি এসে গেছে। বুঝতে পারছি না কি করবো। আমি নিশাদের বাড়ির প্রাচীরে বসে আছি, নিশা জানলার কাছে এলেই গান ধরবো। এই উটকো ঝামেলার জন্য পারছি না। মাথা ঘুরিয়ে নিশার জানালার দিকে তাকালাম। মেয়েটা চলে এসেছে। আমি গলা ঝেড়ে গান শুরু করলাম, “মাই নেম ইস শিলাআআআ”...”বেবুন, জানিস তোরে আমি কত খুজছি। কোনঠেও পাই নাই।”
মেজাজ চড়ে গেল। নিশা দেখছে তাই আবার চেষ্টা করলাম, “শিলা কি জাবানীইইই...” “ তোর জইন্য আমার অনেক মন পুড়ায় বাপ।”
“তেরে পাস না আউউউউউ...” “পান খাবি বাপ? খয়ের দিয়া পানা বানাই দি?”
“বললাম তো পান খাবো না!!! কথা কানে যায় না???”
দড়াম করে নিশার জানালা লাগানোর শব্দ পাওয়া গেল। মাথায় আগুন ধরে গেছে। প্রাচীর থেকে লাফ দিয়ে নামলাম।
লোকটা রাস্তায় বসে কাঁদছে। সাদা টুপি মাথা থেকে পড়ে গেছে, ধুলো লাগছে সাদা পাঞ্জাবীতে । শুভ্র দাড়ি বেয়ে টুপ টুপ করে চোখের পানি পড়ছে।

ব্যানার

আমরা বন্ধু ব্লগের জন্য যে কেউ ব্যানার করতে পারেন। ব্যানার প্রদর্শনের ব্যাপারে নির্বাচকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আকার ১০০০ x ১৫০ পিক্সেল। ইমেইল করে দিন zogazog এট আমরাবন্ধু ডট com এবং সেই সাথে ফ্লিকার থ্রেডে আপলোড করুন ফ্লিকার থ্রেড।

● আজকের ব্যানার শিল্পী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

● ব্যানারালোচনা

সপ্তাহের সেরা পাঁচ