আজ হতে বহুদিন পরে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
বহুদিন;
হয়তো আজ হতে বহুদিন পরে,
হঠাত্ মনে পড়ে যাবে -
এই আমায়।
এক চিলতে রাস্তা ধরে;
আরও এক দিন হেঁটে যেতে যেতে,
এক টুকরো আদর মাখা রোদ্দুরে।
ধুসর প্রান্তর - সবুজ দিগন্ত ভুলে,
মনে পড়ে যাবে কোন মেঘলা দিনের গান।
পথ চলবেই,
চলতেই থাকবে।
হঠাত্ মেঘ কেটে যাবে;
দেখবে আকাশজোড়া নীল,
ভালোবেসে লীন হয়ে যাওয়া নীল।
হয়তো একটু বসতে চাইবে তুমিও,
ঠিক আমারই মত;
ছায়াসঙ্গী কোন পুরাতন স্মৃতির মত -
পথের পাশে কোন নদীর ধারে।
হয়তো কোন একাকী কালভার্টে -
পা দুলিয়ে চুপচাপ;
একা বসে থাকবে তুমিও,
চোখের পাতা পর্যন্ত স্হির -
হঠাত্ থেমে যাওয়া সময়ের হাত ধরে।
কচি সবুজ পাতার ডাকে;
হয়তো শুয়ে থাকবে ঘাসজমিনে,
ঠিক আমারই মত।
তোমার চোখেও খেলা করে যাবে,
আলো আঁধারির কথকতা।
আনমনা মন হারিয়ে যাবে,
হাওয়ায় হাওয়ায়;
চেনা অচেনা গানে।
এভাবেই;
কিছু থেমে থাকা সময়ের পরে,
আবারও ফিরবে পথে।
তোমাকে যে ফিরতেই হবে,
এমনটাই যে কথা ছিল -
তোমার না বলা কথায়।
পথ চলবে - তুমিও।
অপেক্ষায়,
গোধূলির সুপ্রিয় বিষণ্ণ ক্ষণ।
হঠাত্ দিনের শেষে এসে,
অথবা ভোরের মুগ্ধতা ছোঁয়া;
আলো অন্ধকারে -
আলোর যাত্রীরা থামবে না
হতাশাবাদীর জিকির
হবে না হবে না ফল
আমরা বলি দেখ গ্লাসে
আরো অর্ধেক আছে জল।
নিরাশকারীর ফিকির
অনবরত উস্কে দেয়া ভয়
বলি তোমাতে নেই প্রয়োজন
আমরা করব জয়।
স্বাপদের গরম শ্বাস ঘারে
বর্ণচোরা গিরগিটি দৌঁড়ে
পথে যখন এঁকেছি পায়ের চিহ্ন
ভেবোনা মোরা যাব সরে।
বিভীষণ নামে একজন ছিল
ঘরের কথা পরকে বলে দিল
যে করে মিথ্যাচার সত্য গোপন
সে আদম বিভীষণের অধম।
ঈর্ষা এসিডসম করে জ্বালাতন
গলায় সম্ভাবনার দেহ ,
লড়ে যায় ঠোঁটে নিয়ে প্রাণ
আলোর দিশা পাবে বলে কেহ।

অমঙ্গলের মঙ্গলবার সাথে মামা কে নিয়ে কিছু কথা
আমার জন্মবার মঙ্গল বারে। সেই থেকে মঙ্গলবারটা আমার প্রিয়। যদিও মুরুব্বীরা বলে গেছে যে বার হিসেবে মঙ্গল ওতো শুভ নয়। ছোটবেলা থেকে সেই অশুভ ভাব আর কাজ কারবার করতে করতে যখন বড় হচ্ছি তখন থেকেই আম্মুর মনে ছিলো খুব শক্ত ধারনা ছিলো অশুভ কিছু আছে আমার সাথে তাই নেয়ামুল কোরান দেখে অনেক দোয়াই আমার জন্য করতেন। আমার এইসব নিয়ে কোনো ভাবনা ছিলো না। বার তো বারই। সব দিনই আল্লাহর। তবে এই ব্যাপারে আবীরের ছিলো দারুন এক্সপিরিয়েন্স। কোন এক বড় হুজুর তার মাকে বলছে আপনার ছেলের জ্বীনের সমস্যা আছে। তাই সেই আমলেই ১০-১৫ হাজার টাকা খরচা করে তাবিজ পানি পড়ার আয়োজন চলে। কোমড়ে গলায় বিশাল বিশাল তাবিজ কবজ বাধা এখনো। আমার এই সব তাবিজ কবজে মোটেও বিশ্বাস নাই, করিও না কোনোদিন। কামরুলের এক বন্ধু ছিলো সোহেল নাম তার। সেই ছেলেটাকে নাকি কে তাবিজ করছে অনেক রোগে শোকে ভুগবে তারপর মরবে। তাই নাকি সে ছোটোকাল থেকেই রোগে শোকে ভুগে এসএসসি এক্সামের আগেই মারা গেলো। আমার এই সবে তেমন কিছু যায় আসে না কারন তাবিজে যদি কাজই হতো তবে ইরাক আফগানিস্তান ফিলিস্তিনে এতো লোক মরতো না। এমেরিকাকে তাবিজ করে তাদের মেরিন সেনাদেরকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে রাখতো পীর আউল
টিস্যুর সাথে আলাপচারিতা
-আপনাকে কোন নামে ডাকব ? টয়লেট না কি ফেসিয়াল?
-ওটা মানুষের সমস্যা। আমার না।
-মানে কি ?
- আত্মপরিচয়হীনতায় ভোগে বলে ওরা সব সময় কোন না কোন ক্লাসিফিকেশনের মধ্যে নিজেকে ফেলতে চায়।এ কারণে মানুষের চেয়ে অন্যান্য পরিচয়ই ওদের কাছে বড় হয়ে ওঠে। কেউ কালা, ধলা,বাদামী; কেউ হিন্দু, মুসলমান,ইহুদী, নাসারা, বৌদ্ধ; কেউ বাঙালী,চাকমা,সাঁওতাল, মুরং। আছে আরো নানান কিসিম। শুধু মানুষই খুঁইজা পাওয়া যায় না।
-এবার বলুন কেমন এনজয় করছেন এমন লাইফ।
-আমি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্ট নয় শুধু মানুষ।
-মানুষের সাথে আপনার এত আড়ি কেন ?
-মানুষ ছাড়া সবাই সন্তুষ্ট হতে জানে। মানুষই শুধু সন্তুষ্ট হতে শেখে না। তাছাড়া ইদানীং কিছু কিছু মানুষ টিস্যুর জীবন যাপন করছে। এটা আমাদের আত্মসম্মানের ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত মানুষকে আমাদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে !
-বিষয়টা একটু খোলসা করবেন ?
একপিস গুলাবী
১.এক পিস গুলাবী
আহ বৈধব্য!জলপাই স্বামী যেদিন গেল মরে
প্রাণ ফিরে এলো আমার গোলাপবরণ ধড়ে।
ঘুটেকুড়ানী থেকে রাণী
কেন দেখায় না ডিসকভারী আমার কাহিনী!
সন্তানদের গড়তে করিনি আপোস
বাবা নেই এ অজুহাতে কেউ যেন দিতে না পারে দোষ ।
উইন্ডমিলের বরপুত্র কোকেনের আবর্ত
আর খাম্বার সমাহার,
আমার সন্তানেরা এনশাল্লাহ ঘি খেয়ে
করেনি কখনো ধার।
নিস্তরঙ্গ বাংলায় এনেছি গ্রেনেড নিনাদ - জঙ্গীবাদ
আহ বৈধব্য! গুলাবী মাত্রই জানে
সার্টিফিকেট না থাকার আশীর্বাদ।
২. কিশোরী আমি বেণী দুলিয়ে জামাতী স্কুলে যাই
ভাবের জগত টালমাতাল-
ওমা একদিন সফেদ দাঁড়িয়াল বলে -
আমাকে না কি ধর্ষণ করা জায়েয
যুদ্ধের সময় আমি গণিমাতের মাল!
সেই থেকে শুরু নিজেকে দেশকে ধর্মকে জানা
বেশভূষায় সুফী হলেও জানলাম
জামাত মানেই ইবলিসের ছানা।
৩. কি আশায় বেঁচে থাকা জানে না মন
মোবাইল পর্দায় রাত্রি জাগরণ
তুমি ঘুম সে ঘুম, সবাই নিদ্রাদেবীর কোলে
আমি জেগে যদি তুমি ডাকো মনের ভুলে
সীমানা পেরোনো সময় তোমার সূর্য
আমার আকাশে চাঁদ
ভালোবাসা মানে আমৃত্যু অজেয় ফাঁদ
৪. কে কে কে কে সে,
হঠাৎ নেতা বনে গেল শাহবাগে এসে!
ছোট্ট সানিমের চিকিতসার জন্য সাহায্যের আবেদনঃ আসুন দুঃখ বদলে দেই সুখের গল্পে।
ছোট্ট সানিম। কতই বা বয়স, এই মাত্র চার। চার বছরের একটা ছেলে কি রকম দুরন্ত হয় আমরা জানি। সারাদিন মান দৌড়াদৌড়ি, ছটফট করা, ঘরের ভেতর সব উলট-পালট করে বাবা-মা'র নাভিশ্বাস তোলার বয়স এটা। অথচ সানিম অত দৌড়াদৌড়ি-ছটফট করার সুযোগটাই পাচ্ছে না। সানিমের বাবা-মা'র তবুও নাভিশ্বাস উঠছে, তবে অন্য কারনে।
জন্মথেকেই সানিম হাসান একটি জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত। রোগটির নাম পালমনারি এট্রেসিয়া (Pulmonary Atresia)।
Pubmed Health এর বয়ানে রোগটার সম্বন্ধে কিছু এখানে তুলে ধরছি।
Pulmonary atresia is a form of heart disease that occurs from birth (congenital heart disease), in which the pulmonary valve does not form properly. The pulmonary valve is an opening on the right side of the heart that regulates blood flow from the right ventricle (right side pumping chamber) to the lungs.
'আম্মু'
এই জগতে 'আম্মু' যত আছে,
খুব চেনা আর এক্কেবারে কাছে-
এই পৃথিবীর সবটা ওরা জানে,
কত্ত নিয়ম রুটিন ধরে মানে,
যায় না ভুলে সবচে ছোট কাজে,
চোখ জ্বলে না লাল মরিচের ঝাঁঝে,
ফোস্কা হলেও হয় না ব্যথা হাতে,
ঘুম আসে না ঠিক সন্ধ্যা-রাতে,
পড়ায় ফাঁকি, মাস্টারিও চলে,
উকুন মরে আঙ্গুল বাছা কলে,
টিভির নাটক গান সিরিয়াল খাশা,
খিলখিলিয়ে ইত্যাদিতে হাসা,
নতুন কুঁড়ির হিসেব চলে খাতায়,
কার্টুনে আর বইয়ের পাতায় পাতায়,
দুপুর বেলায় গড়পড়তা ঘুমে,
ক্রিকেট বাসার বারান্দা আর রুমে,
শিবরামে ঐ শরীর কাঁপা হাসি,
সোলেমানি খাবনামা আর রাশি,
সাতসকালে ঘুম তাড়ানোর ডাক,
খুদ কুড়ানো পায়রাগুলোর ঝাঁক,
লেজ ছোঁয়ানো ছোট্ট বেড়াল ছানা,
ঘুমভাঙ্গা পায় রান্নাঘরে হানা,
খাওয়ার রুটিন দিন প্রতিদিন ছেঁকে,
ভাপার চাপে শীতের সকাল জেঁকে,
বর্ষাদিনে খিচুড়ি ডিম ঝোল,
হাতের কাছে হাসনাহেনার দোল,
বাইরে যেতেই রিকশা তাড়াতাড়ি,
"আস্তে চালাও, বড্ড বাড়াবাড়ি!",
বিকট জ্বরের হিসেব আদুর হাতে,
পায়ের ব্যথায় আকুল হয়ে সাথে,
আঙ্গুল বিলি চুলের কূলে কূলে,
শান্ত দু চোখ একটু লাল আর ফুলে,
অষুধ কীসের, জাদুর পরশ হাতে,
উধাও ব্যথা, পরম আরাম তাতে,
শিরোনামহীন...
আমার ছিলো ইচ্ছে ঘুমের দেশ
আনন্দেরই ঝলমলে লাল ডানা
তোমার ছিলো ঘুমের সাথে আড়ি
অশ্রু জমাট দিঘীর জলে নামা
আনন্দ আর ঘুমের বিনিময়ে
তোমার সাথে আমার জানাশোনা
প্রহরগুলো কাটছিলো সব ভালোই
সুর্য এবং চাঁদের যুগল আলোয়
এরই মাঝে কালো মেঘের ভেলা
সেই পুরোনো অশ্রু ছোঁয়া খেলা
হারিয়ে যাওয়ার একটু খানিক আগে
সীমারেখা আঁকলে কালো দাগে
তাকিয়ে আছি তোমার পথের পানে
হঠাৎ যদি ফেরো আমার টানে
অলস সময় সিগারেটের ধোঁয়ায়
মদির হয়ে খুঁজতে থাকে তোমায়
আসবেনা আর সত্য করেই জানি
কিন্তু সেটা কেমন করে মানি
অপেক্ষা আর প্রতীক্ষাতে রাত
তোমার হাতে অন্য কারোর হাত
একদিন নিমন্ত্রনের দিনে, একদিন না চাইতেই পাওয়ার দিনে...
নিমন্ত্রণ খেতে গেলাম। গৃহস্থ ম্যাডাম বললেন, "ঠিক আছে? আরো লাগবে? লাগলে আরো দিব। কি দিব নাকি আরো?"
আমার তো পেটের অবস্থা খারাপ, বহু কষ্টে বললাম, "না ম্যাডাম, এমনিতেই বায়ুর ঊর্ধচাপ তার উপর এত এত সুস্বাদু খাবারের চাপ সহ্য করা দায়। যদি বেঁচে যায় কিছু তবে প্যাকেট করে দেন। ছুটির দিনে খাওয়া যাবে।"
হাসলে ম্যাডামকে বড় করুণাময়ী মাতৃদেবী মনে হয়। দাঁতের মাঝখানে রোনালদোর মত সামান্য ফাঁক আছে। কোমল স্বরে বললেন, "এখনই তো বাবা খাওয়ার সময়। আরো নাও আরো নাও" এই বলেই একরকম জোর করেই পাতে ঢেলে দিলেন।
মায়ের কাছ থেকে শুনেছি খাবার নষ্ট করা ঠিক না। গরিব মানুষ, তাই নষ্ট করা সাঁজেও না। নিজেকেই গলাধকরণ করতে হল। পেট ভর্তি, নড়া চড়া করার উপায় নেই। ম্যাডামকে তাই একটু জিরোনোর আর্জি জানালাম। ম্যাডাম বললেন, "আমার ছেলে দুইটা তো বিদেশে। তুমি ওদের রুমে বিশ্রাম নিতে পার। সাবধান ওখানে কিন্তু পার্থ আছে। ও কথা বলার সময় কেবল শুনে যাবে।" ভাবলাম এ আর এমন কী! শুনে গেলাম আর কি, এই ভেবে গেলাম বিশ্রাম নিতে।
বোরিং মানডে
বোরিং কেনো লিখলাম জানি না। ভালোই তো গেলো দিনটা। তবে বোরিং কেনো?
পাকি গন্ধী গান...অনেকেই হবে বদনাম
১. তুই চিরকাল এড়িয়ে গেলি জীবনের সহজ দাবী
আমাকে রাখলি দূরে
নিজেও খেলি অনন্ত অস্থিরতায় খাবি
২.জানি তুমি বলবে জীবন মানে
এটা সেটা অনেক কিছুর জয়
আমার কাছে পুরোটাই অব্যর্থ ক্ষয়
৩. নিজেকে আদরে মায়ায় আজ রেখেছিলাম ভীষণ যতনে
কেমন করে ভাবো আসতে দেব তোমায় আমার একক ভুবনে
যতই করাঘাত করো দখিন দুয়ারে প্রতিক্ষণে
৪ বিয়াল্লিশবছর দেখেছি তোদের দুর্বলের ক্ষমা সুন্দর চোখে
পেছন থেকে ছোরা মারতি না যদি সাহস থাকতো বুকে
৫. পাকিস্তানী আর্মি আর রাজাকাররা করেছে যাদের ধর্ষণ
তাঁদের নাম বীরাঙ্গনা অথবা শহীদ বোন
পাক আর্মির প্রতি যার ভালোবাসা
পুরো একাত্তর জামশেদের নেশা
তাকে কি নামে ডাকি?
"ম" বর্গীয় শব্দের সাথে বাঁধা তার একজীবনের রাখি
৬. তুমি যখন সত্যের পথে তোমার হাজার বদনাম
যখন ভুল করছো শুধরে দেবে না
করবে প্রশংসার জপনাম
এরাই আসল শত্রু
অতএব সাধু সাবধান
৭. আমার কোন নাম ছিল না
দল ছিল না, মঞ্চ ছিল না
নই আমি টক শো কাঁপানো আন্দালিব
আমার কণ্ঠে জয় বাংলা
বুকে আমার শেখ মুজিব
৮. লুতুপুতু প্রেমের ছন্দ হয়ে যায় বন্ধ
তুমি পসরা সাজালে
তোমার প্রতি মুগ্ধতা সোনার বাংলা
রাখবো কেন আড়ালে!
সুপার সানডে!
রবিবার আমার খুব প্রিয়। কারন আগে যখন বাসায় থাকতাম রবি বারে ভালো মন্দ হিন্দি বাংলা সিনেমা টিভিতে দেখে দুপুর রাত কাটতো। চ্যানেল চেঞ্জের উপরে থেকে সব ছবিই টুকটাক দেখা যেতো। অখাদ্য হিন্দী ছবির এতো স্টার এতো ডিরেক্টর প্রডিউসারের নাম আমার সেই সুত্রেই জানা। আর সেই জানার আগ্রহে উস্কে দিছে পুলক। পুলক আর আমি এতো বেশি হিন্দি-তামিল-তেলেগু- বাংলা সিনেমা নিয়ে খোজ খবর রাখছি তা যেখানেই বলতাম সবাই অবাক হতো। তাই রবিবার ছিলো একান্তই টিভি দেখার দিন। টিভিতে কত আজাইরা মুভি যে হজম করছি একেকটা শনি রবিবার তা ভাবলে এখন চিন্তায় পড়ে যাই। কত আজাইরা ছিলাম আগে কত ছেলে মানুষ। আমার এই সারাদিন সারারাত টিভি দেখায় সব চাইতে বিরক্ত ছিলো আম্মু। বলতো আল্লাহর ওয়াস্তে আর কতো দেখবি তুই, সুলতানা তো ফেইল। এখন প্রশ্ন করবেন সুলতানা কে? সুলতানা আন্টি হলো আমাদের পাশের বাসায় থাকতো চিটাগাংয়ে। দিন রাতে ২৪ ঘন্টাই উনি টিভিতে হয় হিন্দি সিনেমা নয়তো সিরিয়াল দেখতো। যাই করুক বাসায় হোক রান্না নয়তো ঘুম সব সময় উচ্চ সাউন্ডে টিভি অন। আমার তখন ইন্টারমিডিয়েট এক্সাম তখন আমার পড়তে আর কতো ভালো লাগে!
বিপ্লবের ভেতর-বাহির ১
১৯৭২ সালের একদিন। ডিঙ্গি নৌকায় করে কামরাঙ্গির চরের পাশ দিয়ে বুড়িগঙ্গা পাড় হয়ে তারপর যেতে হয় জিঞ্জিরায়। সেখানেই ছোট্ট একটা বাড়ি। এই পার্টির নিজস্ব গোপন শেল্টার। এই শেল্টারে থাকেন চার জন। কমরেড আসাদ, কমরেড মুক্তা, কমরেড শিখা এবং কমরেড টিটো। ভুল হলো, আরো এক সদস্য আছে। সাত-আট মাসের এক শিশু, নাম বাবু। কমরেড মুক্তার ছেলে। সেও জন্মগত ভাবে বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এই পাঁচ জনের সঙ্গে থাকতে চলে এলেন কমরেড আরিফ, তাঁর স্ত্রী রানু এবং দেড় বছরের পুত্র শান্তনু। বিপ্লব করতে এরাও ঘর ছেড়ে গোপন আস্তানায় চলে এসেছেন। কমরেড টিটু তাদের নিয়ে এলো এই শেল্টারে।
ওরা সবাই পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সদস্য। তাদের নেতা সিরাজ সিকদার। সশস্ত্র বিপ্লব তাদের লক্ষ্য, স্বপ্ন শোষানমুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠা। সেই ইতিহাস কমবেশি অনেকেই জানেন। তবে আমাদের আজকের গল্পটি কমরেড মুক্তার। বলে রাখা ভাল, সবগুলোই রাজনৈতিক নাম, ছদ্মনাম। আসল পরিচয় গোপন রাখা পার্টির নির্দেশ। কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচয় জানার বিষয়টিও ছিল পার্টির সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত।
আরো একটি গফ
আমার আসলে নিজের কোনো প্রতিভা নেই। আশেপাশে ঘটনা যা দেখি, অন্যের মুখে শোনা গল্প, লিখি ধার করে। যাকে বলে ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ অথবা আমাদের গ্রামের ভাষায় বলতে হয় ‘মামুর ক্ষেতের ক্ষীরা দিয়া শাহীদারি’।
আজকেও আমি হাজির সেই টাইপ ক্ষীরা নিয়ে। আর আজকের গল্পে মামুর ক্ষেতটা হল আমার বড় ভাই, দুলাল ভাই, ওনার মুখেই শুনেছিলাম গল্পটা।
গ্রামের এক সাধারণ চাষী, তারচেয়েও সাদামাটা তার মেয়ে মর্জিনা। দেখতে শুনতে মোটামুটি সেই কিশোরী। পুকুর ঘাটে চোখে চোখে কথা হয়ে, মন দেয়া নেয়া হলো পাশের বাড়ির কুতুব মিয়ার সাথে। কিন্তু প্রেম তেমন গভীর হওয়ার সুযোগ হলো না। তার আগেই বাবা মা মর্জিনার বিয়ে দিয়ে দিলো পাশের গ্রামের আবুল মিয়ার সাথে।
বিয়ে হয়ে স্বামীর সংসারে আসে মর্জিনা। কিন্তু বাপের বাড়ির সেই কুতুব ভাইয়ের কথা সে আর ভুলতে পারে না। গৃহস্থালীর কাজের ফাঁকে, নতুন জায়গার নানান হাঙ্গামায় কিংবা অবসরে ঘুরে ফিরে শুধু মনে পড়ে কুতুব ভাইয়ের কথা। হাট-বাজারের দিনে কুতুব ভাই বাবা-মার চোখ ফাঁকি দিয়ে তেঁতুল-বরইয়ের আচার, কদমা-বাতাসা কত কিছুই না এনে দিতো মর্জিনাকে।
স্যাটডে স্যাটারডে!
পোষ্টটা লেখার মোটেও নিয়ত ছিলো না। তাও সাড়ে নয়টায় কিছু অংশ অনিচ্ছাতেই লিখছিলাম। কিন্তু কারেন্ট চলে গেলো মনে মনে শুকুরাল হামদুলিল্লাহ জানালাম। যাক পোস্টটা আর লিখতে হলো না। ঘন্টা খানেক পর কারেন্ট আসলো, ভাত খেলাম দেখি ফেসবুকে সময় কাটে না তাই লিখেই ফেলি। আর যাই লিখি তাই দেখি মানুষ পড়ে এ বড়ই আজব জায়গা ব্লগ। তার সাথে এবিতে পোষ্ট দেয় না কেউ। খালি আমি এই মশার কামড়, কারেন্ট যাওয়ার ঝক্কি, স্লো পিসির তান্ডবের ভিতরেও লিখে যাচ্ছি। ল্যাপটপের আশা এখনো ছাড়ি নাই কিন্তু সবাই আমার সাথে সহমত জানালো কিন্তু চেষ্টা তদবির করলো না। আপসোসের জিন্দেগী। কি আর করা এই জন্যই মুরুব্বীরা বলেছেন নিজের বুদ্ধিতে ফকির হওয়া ভালো। বুয়ার রান্না আজ অতি জঘন্য হইছে। তেল লবনের সাগরে তিনি ভাসিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কি কুদরত তাও পেট উপচিয়ে খেলাম। মুরুব্বীরা এই জন্য আরো বলে খিদে লাগলে নাকি বাঘে ধান খায়। তবে বাঘ কখনো সত্যি ধান খায় কিনা তা আমার জানা নাই। তবে খিদের জ্বালায় অস্থির মন আমার এখন সব খায়। আমার ব্লগের ভাইয়েরা ও ভগ্নীরা সব সময় বলে আমার যত্ন নিজের রাখতে। কিন্তু এই রান্না খায়া আর কোন যত্ন কাজে দিবে?